আমার জাঙ্গিয়াটা গেলো কোথায়

আমার আন্ডারওয়ারটা কোথাও খুঁজে পাচ্ছিনা, ঘরের বেলকনির শীতল হাওয়ায় শার্ট, প্যান্ট এবং আন্ডারওয়ারটা শুকাতে দিয়েছিলাম। খুব ভালোভাবে দুইপাশে ক্লিপ ও লাগিয়েছি কিন্তু এখন কোথাও খুঁজে পাচ্ছিনা।

-একটা বিষয় আমার মাথায় কিছুতেই আসছেনা। যত ঝড়তুফান আমার আন্ডারওয়ার এর উপরে প্রবাহিত হয় কেন? গত মাসে নতুন একখানা জাঙ্গিয়া কিনে শুধু একবার পরিধান করে, ধৌত করি। বাইরে বৃষ্টি ছিলো বলে, ঘরেই চুলার উপরে শুকাতে দিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পরে এসে দেখি আমার জাঙ্গিয়ার দফারফা। চুলার উপর জাঙ্গিয়ায় কেকা আপার কালা ভুনার সুন্দর রেসিপি তৈরি হয়েছে। সেখানেই শেষ হলো আমার সেই আন্ডারওয়ারের জীবনী৷ সেটার শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আজ আবার একটা খুঁজেই পাচ্ছিনা। ঘরে যে আমার এই একটাই ছিলো।

-ভার্সিটি তে যাবো কিন্তু ওটা খুঁজে পাচ্ছিনা। গোসল করে একটা তোয়ালে পেঁচিয়ে সারা ঘর খুঁজছি। কি হবে এখন? তবে মনে হয় বাতাসে নিচের তলায় পড়েছে। নিচতলায় তো নতুন ভাড়াটে উঠেছে যাদের সাথে কখনো কথাই বলিনি তাদের কাছে কিভাবে আন্ডারওয়ারের কথা জিজ্ঞেস করবো৷ আর মাত্র পনেরো মিনিট বাকি। যদি কোনো ক্রমে ক্লাসে ঢুকতে দেরি হয় তবে পাঁচ মিনিট বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখবে। তার থেকে নিচে গিয়ে দেখে আসি। যদি সোনার হরিণ মেলে।

নিচে গিয়ে দুবার কলিং বেল চাপতেই এক ভদ্র মহিলা বেড়িয়ে এলেন। দরজা খুলেই আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখলেন। সম্ভবত মনে মনে ভাবছেন
“এতো সকালে এভাবে খালি গাঁয়ে তোয়ালে পরে তার ঘরের কলিং বেল কেনো বাজালেন?”
হয়তো পাগল ভাবছে। আচ্ছা যাই হোক আমার তাতে কিছু যায় আসেনা।

-আসসালামু আলাইকুম ভাবি…..আমি উপরের ফ্লাটে থাকি। এসেছিলাম একটা সমস্যায় পড়ে… যদি কিছু মনে না করেন তবে বলি..?
-‎হ্যাঁ বলুন..!!
-‎আচ্ছা…. আমার একটা নীল কালারের আ…ন..ডা। কিভাবে বলবো ভেবে পাচ্ছিনা। ভাবি।
-‎হা ভাইয়া বলুন ব্লু কালারের কি..?
-‎হুম নীল কালারের একটা… … আমার লজ্জা করছে।
-‎আরে বলুন না…!!
আমি এবার আর সংকোচ না করে বলেই দিলাম।
-‎আচ্ছা ভাবি… আমার একটা নীল কালারের জাঙ্গিয়া আপনি নিয়েছেন..?
হা করে, ভ্রু কুচকে প্রতি উত্তরে বললো মানে…কি..?

-আমি..সরি বলে,, আবার বলালাম… আপনি দেখেছেন।
-‎আমার কথা বলা শেষ হতে না হতেই দরজা আটকে ঘরে চলে গেলেন ভদ্র মহিলা।
-‎
-‎আমি হা করে তাকিয়ে আছি আর নিজেকে নিজে গালি দিতে লাগলাম। আমি মনে হয় একটু বেশী বলে ফেলেছি। লজ্জায়, ঘৃণায়, অপমানে হয়তো দরজা বন্ধ করে চলে গিয়েছেন। তাই নিজেই আফসোস করতে করতে চলে আসছিলাম৷

-পিছন থেকে আবার সেই ভদ্রমহিলার ডাক।
-‎আচ্ছা ভাই দেখুন তো এটা নাকি..?
-আরে এইতো এটাই, এইতো সেই কালার, সেই দুটো ফুটো সবই ঠিক আগের মতো। হ্যাঁ হ্যাঁ এটাই আমার।

-সকালে আমাদের বেলকনিতে পড়েছিলো। ভাবলাম আমার হাজবেন্ডের হবে। তাই ঘরে নিয়ে রেখে ছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি এটা আপনার। এই যে নেন ধরুন। আর হা এতো সংকোচ করে বলার কি আছে যেটা তোমার সেটা তোমারি আর পরের বার থেকে যদি নিচে পরে তবে কিন্তু আর ফেরত পাবেনা। সোজা ঘড় মোছার ত্যানা বানিয়ে দেবো। বলেই টোল পড়া গাল দিয়ে হা হা করা হাসি দেয়।

“প্রথমেতো সে বেশ আপনি করেই বলছিলেন। তবে এখন কেনো তুমি করে বলছেন? হয় তো আন্ডারওয়ারটাই এভাবেই আপনি থেকে তুমিতে নামিয়ে আনে। যাই হোক অবশেষে পেলাম তো!!”

-‎আচ্ছা ভাবি ধন্যবাদ, এবার থেকে সামলিয়ে রাখবো। আর হা, আপনিও নিজের হাজবেন্ড আর অন্যের জিনিসের মধ্যে তফাৎ টা শিখুন। সময় নেই তাই চলে চলে আসলাম সাথে আন্ডার ওয়ারটা নিয়ে।

আন্ডারওয়ার_বিভ্রাট
লেখকঃ শাওন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *