করুন_কাহিনী ……….

★আমার মেয়ের কাছে আজও আমি নিষ্পাপ পিতা★
আমি একজন রিকসা চালক রিক্সা চালিয়েই দিনআনি দিন খাই, হটাৎ একদিন এক গার্মেন্টস কর্মি রাবেয়ার সাথে পরিচয় হয় আমার,,

প্রতিদিন রাত ১০ টায় গার্মেন্টস ছুটি হলে ওকে আমি ওর বাসায় পৌছে দেই এভাবে কেটে যায় ৬ মাস তারপর আমি তাকে একদিন বিয়ের পস্তাব দিলে ও মুচকি হেসে ওর বড় আপুর সাথে আমাকে কথা বলতে বলে, তাই একদিন ছুটির দিন আমি ওর বড় আপুর সাথে কথা বল্লে তিনিও আমাকে পছন্দ করেন এবং আগামি শুক্রবার বিয়ের দিন ঠিক করেন,

আমিও ব্যাস্ত হয়ে পরি বিয়ের আয়োজন করতে, মহাজনের কাছে গিয়ে ৫০০০ টাকা ধার করে মটামুটি ছোটখাটো
ধুমধাম করেই শেষ হয় আমাদের বিয়ে, রাবেয়া বউ হয়ে আসে আমার কুড়ে ঘরে, তারপর থেকে টেনে টুনে মোটামুটি সুখেই কাটছিলো আমাদের দিনগুলো,, একদিন আমার রিক্সা চালিয়ে ঘরে ফিরতে একটু রাত হয়ে গেলো, ফিরতেই রাবেয়া দৌড়ে এসে আমাকে জাপটে ধরলো, কি ব্যাপার? কি হইছে রাবু?

রাবেয়া আমার কানে কানে বল্লো সে মা হতে চলেছে, আমি খুশিতে আত্ব্যহারা হয়ে ওকে কোলে তুলে নাচতে লাগলাম পাসের ঘরের ভাবি আমার পাগলামো দেখে হাসতে শুরু করলেন তা দেখে আমি আর রাবেয়া দুজনেই লজ্জা পেয়ে গেলাম,, তারপর রাবেয়ার ডেলিভারির সময় ঘনিয়ে এলে আমি চিন্তিত হয়ে পরি অনেক টাকার দরকার,

আমি দিনরাত রিক্সা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরি টাকা যোগানোর জন্যো,আজকে রাবেয়ার ডেলিভারি হবে ডাক্তার বলেছে সিজার করতে হবে অনেক টাকা লাগবে তাই ভোরের আযানের সাথেই রিকিসা নিয়ে ভের হই, টাকা যোগারের জন্যো, এক পথিক আমায় ডাকলো এই রিক্সা যাবে? কোথায় জাবেন সার? ধনমন্ডি? যাবো ১০০ টাকা লাগবে, কেনো এতো কেনো? আজকে আমার বউয়ের ডেরিভারি হবে টাকা লাগবে অনেক স্যার, তাই???

আচ্ছা আমি তোমাকে ২০০ টাকাই দেবো তবে তারাতারি যেতে হবে বলেই ভদ্রলোক আমার রিক্সায় উঠে বসলেন, কিছুদুর যাওয়ার পর ঠটাৎ ভদ্রলোকটি লাফিয়ে রিকসা থেকে নেমে পালিয়ে গেলেন, পেছনে ঘুরে তাকাতেই পুলিশ এসে আমাকে বেধড়ক পেটাতে লাগলেন,

কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার হাতে হাত কড়া লাগিয়ে থানায় নিয়ে বল্লেন আমার রিক্সায় অবৈধ অস্র পাওয়া গেছে তাই আমাকে চালান করে দিল কোর্টে আমার চিৎকার আর আকুতি কেউ শুনলো না, আজ পাচ বছর হলো আমি জেলখানায় নিরঅপরাধ হয়ে বিনা বিচারে জেল খাটছি ৭ বছরের সাজা হলো আমার,

শুনেছি আমার এ কথা শুনে কষ্টে রাবেয়ার ডেলিভারির সময় রাবেয়া আমাকে ছেড়ে চিরদিনের মতো চলেগেছে ওপারে শান্তির নিবাশে, আল্লার কাছে, তবে স্মৃতি হিসাবে রেখেগিয়েছিলো একটি কন্যা সন্তান, পাশের বাড়ির ভাবিই তাকে পাচটি বছর লালন পালন করেছে, আজ আমার মেয়েটি আমাকে জেলখানায় দেখতে এসেছিল ওর নিজের হাতে আমাকে খাইয়ে দিচ্ছিল তখন আমি চিৎকার করে বলেছিলাম আমার মেয়ের কাছে আমি আজো সেই নিষ্পাপ পিতা।

এত পরিমাণে শেয়ার করুন যাতে করে প্রশাসনের নজরে আসে। আর কোনো রাবেয়াকে যাতে অকালে প্রাণ হারাতে না হয়, এতিম হতে না হয় আর কোনো অবুজ শিশুকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *