ছেলেটি আমাকে মাল বলছে

মেয়েটি এগিয়ে গিয়ে ছেলেটিকে থাপ্পড়
মারলো!
.
ছেলেটির অপরাধ সে ঐ মেয়েটিকে ‘মাল’
বলছে!
★★ তাই দেখে এগিয়ে গেলাম, মেয়েটিকে
ডাকলাম,,,
– এই যে আপু, হ্যা আপনাকেই বলছি।
ওকে থাপ্পড় মারলেন কেন?
-এই অসভ্য ছেলেটি আমাকে মাল বলছে!
-আচ্ছা,আপনার সাথে তো আরো মেয়ে আছে,
তাদের কাউকে বললো না, আপনাকে কেন
মাল বললো?
-মেয়েটি চুপ!
-আচ্ছা আপনে ঠোঁট রাঙ্গাইছেন কেন?
-মেয়েটি চুপপ!
-চোখের ভ্রু কেটে ডিজাইন করছেন কেন?
-মেয়েটি চুপপ!
-এইযে থ্রি-পিচ পড়ছেন, আপনার দুপাশ থেকেই
কমড় দেখা যাচ্ছে। এটার দুই সাইডের ফাঁড়া এত
বড় কেন?
-মেয়েটি চুপপ!
-কাপড়ের নিচে ছোট কাপড়সহ শরীর দেখা
যাচ্ছে, এরকম কেন?
-মেয়েটি চুপপ!
.
এইযে আপু এইবার আপনাদের বলছি।কখনো
দেখেছে, বোরকা পরা, মুখ ঢাকা, পরিপাটি
কোনো মেয়েকে কোনো ছেলে ‘মাল’ বলে
সম্বোধন করছে দেখেছে?
হ্যা তাও বলেছে। কারণ আপনি এমন বোরকা
পড়েছেন যার অর্ধেক নাই,এমন টাইট তাতে
আপনার শরীরের গঠন বুঝা যাচ্ছে। শরীর দেখা
যাচ্ছে!
আপনাদের এই উগ্র ভাব আর ফ্যাশন আপনাকে
‘মাল’ বানাইছে!
★★একটা কসমেটিক সেন্টারে এত
ডেকোরেশন করে তাদের সমস্ত ‘মাল’ সুন্দর করে
গুছিয়ে রাখে কেন জানেন?
যাতে মানুষের নজর কাড়ে। ঠিক একই ভাবে
কিছু আপুরা বাড়ি থেকে স্কুল, কলেজ বা
আদার্স কোথাও যাওয়ার আগে
কয়েক ঘন্টা ভরে তাদের দেহ ডেকোরেশন
করে। কেন?
উত্তরটা কোনো আপু দিয়ে যাবেন!
★★”মাল” মানে কি জানেন?
→সম্পদ!


.
মহানবী (সাঃ) প্রত্যেকটা মানুষকে তাদের
সম্পদ
রক্ষা করতে বলেছেন।
→আচ্ছা আপু আপনার সম্পদ কি?
আপনার দেহ এবং দেহের পবিত্রতা, এই সম্পদের
রক্ষা করছেন তো?
→যদি সত্যি আপনার মাল বা সম্পদের রক্ষা
করতে
জানেন, তাহলে কোনো ছেলে আপনাকে আর
কখনোই মাল বলবে না! কখনোই না।
.
(কিছু খারাপ ছেলে আছে। তারা খারাপই
তাদের অসভ্য ফালতু ভাবুন আর ওই কাতারেই
রাখুন!)

আমি প্রতিটি জিনিসই জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে করে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর”। [আয যারিয়াতঃ ৪৯]

“পবিত্র নিখুঁত সেই মহান স্রস্টা, যিনি জুড়ি সৃষ্টি করেছেন সবকিছুর__উদ্ভিদের, স্বয়ং তাদের (মানুষের) এবং এমন সব কিছুরও যাদের তারা জানেনা”। (ইয়াসিনঃ ৩৬]

“হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে”। [আল হুজুরাতঃ১৩]

“হে মানুষ! তোমরা সতর্ক হও তোমাদের সেই মহান প্রভুর ব্যাপারে, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একজন মাত্র ব্যক্তি থেকে এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে, আর তাদের থেকেই সৃষ্টি করেছেন বিপুল সংখ্যায় পুরুষ আর নারী” [সূরা নিসাঃ ১]
পর্দার বিধান হাদীস শরীফে

১. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

নারী হল সতর তথা আবৃত থাকার বস্ত্ত। নিশ্চয়ই সে যখন ঘর থেকে বের হয় তখন শয়তান তাকে মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকে। আর সে যখন গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করে তখন সে আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বেশি নিকটে থাকে।-আলমুজামুল আওসাত, তবারানী

এই হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া উচিত নয়।

২. আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

ইহরাম গ্রহণকারী নারী যেন নেকাব ও হাতমোজা পরিধান না করে। (সহীহ বুখারী ৪/৬৩, হাদীস : ১৮৩৮)

কাযী আবু বকর ইবনে আরাবী বলেন, নারীর জন্য বোরকা দ্বারা মুখমন্ডল আবৃত রাখা ফরয। তবে হজ্বের সময়টুকু এর ব্যতিক্রম। কেননা, এই সময় তারা ওড়নাটা চেহারার উপর ঝুলিয়ে দিবে, চেহারার সাথে মিলিয়ে রাখবে না। পরপুরুষ থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখবে এবং পুরুষরাও তাদের থেকে দূরে থাকবে। (আরিযাতুল আহওয়াযী ৪/৫৬)

৩. আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশত কাপড় ঝুলিয়ে রাখে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না। তখন উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা. জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে মহিলারা তাদের কাপড়ের ঝুল কীভাবে রাখবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এক বিঘত ঝুলিয়ে রাখবে। উম্মে সালামা বললেন, এতে তো তাদের পা অনাবৃত থাকবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে এক হাত ঝুলিয়ে রাখবে, এর বেশি নয়। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪১১৭; জামে তিরমিযী ৪/২২৩; সুনানে নাসাঈ ৮/২০৯; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ১১/৮২

ইমাম তিরমিযী বলেন, এই হাদীসে নারীর জন্য কাপড় ঝুলিয়ে রাখার অবকাশ দেওয়া হয়েছে। কারণ এটিই তাদের জন্য অধিক আবৃতকারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *