জেনে নিন | ইয়াজুজ মাজুজ জাতির আগমন সম্পর্কে

[quads id=”2″]

এ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে নানা মতবিরোধ রয়েছে। এই প্রাচীরটির সঠিক অবস্থান নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। একদল গবেষক মনে করেন, কোরানের বর্ণনা অনুযায়ী এই দেয়ালটি অরুণাচলে। চীনের মহাপ্রাচীরের কথা বলেন অনেকে। তবে চীনের মহাপ্রাচীর ইট দিয়ে তৈরি, শীশা দিয়ে নয়। অনেকে মনে করেন, যেখান থেকে সূর্য উদিত হয় সেখানে ইয়াজুজ-মাজুজের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করার জন্য দেয়াল তুলেছিলেন জুলকারনাইন। আর সে স্থানটি পাহাড়ের প্রাচীরের মাঝখানে। এই বর্ণনার সাথে মিলে যায় এমন একটি দেয়াল রয়েছে কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলে। ইতিহাসবিদরা স্বীকৃতি দেন যে এই দেয়াল তৈরি করেছিলেন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট। এটা তৈরিতে লোহা ও তামা ব্যবহৃত হয়েছে। সেখানে একটি তোরণও রয়েছে, যা ‘কাস্পিয়ান গেট’ বা আলেকজান্ডারের গেট নামে পরিচিত।

দারিয়াল এবং দারবেন্ত নামে দুটি শহরে এর ব্যাপ্তি। দারিয়াল রাশিয়া এবং জর্জিয়ার সীমান্তে অবস্থিত। এটিকে বলা হয় কাজবেক পাহাড়ের পূর্ব প্রান্ত। দারবেন্ত রাশিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত একটি শহর। কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে নির্মিত এই দেয়ালটি তোলা হয়েছে দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে। এ পাহাড় দুটিকে বলা হয়, ‘পৃথিবীর উঠান’। আলেকজান্ডার নির্মিত এ দেয়ালের উচ্চতা ২০ মিটার এবং এটি ৩ মিটার (১০ ফুট) পুরু।

এখন পর্যন্ত এই দেয়ালটিকেই জুলকার নাইনের প্রাচীর হিসেবে সম্ভাব্য ধরা হয়। এই প্রাচীরটি এতোটা শক্ত যে ইয়াজুজ-মাজুজের মতো কোনো জাতির পক্ষে এটি ভেঙে ফেলা সম্ভব ছিলনা। তবে প্রতিশ্রুতি অনুসারে আল্লাহ একদিন এই দেয়াল ভেঙে দেবেন। কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ঘটবে এই ঘটনা। তখন ইয়াজুজ-মাজুজ আবার ছড়িয়ে পড়বে পৃথিবীতে।

ইয়াজুজ-মাজুজের ধ্বংস

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর হাদিস মতে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘প্রতিদিন তারা প্রাচীর ছিদ্র করার কাজে লিপ্ত হয়। ছিদ্র করতে করতে যখন পুরোটা উন্মোচনের উপক্রম হয় তখনই তাদের একজন বলে, আজ তো অনেক করলাম। চল! বাকিটা আগামীকাল করব। পরদিন আল্লাহ সেই প্রাচীরকে আগের চেয়েও শক্ত করে দেন। অতঃপর যখন সেই সময় আসবে এবং আল্লাহ তাদের বের হওয়ার অনুমতি দেবেন তখন তাদের একজন বলে উঠবে, আজ চল! আল্লাহ চাইলে আগামীকাল পূর্ণ ছিদ্র করে ফেলব। পরদিন তারা প্রাচীর ভেঙে বেরিয়ে আসবে। এসে তারা মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট করবে, সমুদ্রের পানি পান করে নিঃশেষ করে ফেলবে। ভয়ে, আতঙ্কে মানুষ দূরে-দূরান্তে পালাবে। অতঃপর আকাশের দিকে তারা তীর ছুড়বে। তীর রক্তাক্ত হয়ে ফিরে আসবে…।’

এই সময়টা থাকবে হযরত ইসা (আ.) এর সময়। এই সময়েই আল্লাহ তাকে আবার পৃথিবীতে পাঠাবেন। ইসাকে (আ.) আল্লাহ আদেশ করবেন লোকজনকে রক্ষা করার জন্য। এ সময় ঈসা (আ.) তাদের জন্য বদদোয়া করবেন, যেন কোনো মহামারীতে ইয়াজুজ-মাজুজ ধ্বংস হয়। ফলে তাদের কাঁধে এক প্রকার পোকা সৃষ্টি করে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দেবেন। তারা সবাই মারা যাবে ও পঁচে দুর্গন্ধ হবে। সারা পৃথিবী জুড়ে তাদের লাশ থাকবে। আল্লাহ এক ধরনের পাখি পাঠাবেন, যার ঘাড় হবে উটের ঘাড়ের সমান। লাশগুলো তারা ‘নাহবাল’ নামক স্থানে নিক্ষেপ করবে। এরপর একটি বৃষ্টি এসে পুরো পৃথিবীকে ধুয়েমুছে দেবে এবং পৃথিবী আবার উর্বর ভূমিতে পরিণত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *