জেনে নিন, কারা বা কোন শ্রেণিভুক্তরা রাসুল [সা.]-এর উম্মত নয়!

ইসলাম একটি আদর্শ ধর্ম। ভালো, কল্যাণকর এবং উপকারধর্মী কাজের প্রতি ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মানুষকে উৎসাহ প্রদান করেছে। ইসলাম শিখিয়েছে ভালো পথে মানুষকে চলার কথা, শিখিয়েছে মানুষকে সম্মান করা কথা। ছোটদের প্রতি বড়দের এবং বড়দের প্রতি ছোটদের ধর্মীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আল্লাহর রাসুল [সা.] বলেন, যে ছোটদের হে করে না আর বড়দের সম্মান করে না সে আমার উম্মত নয়। ছোটরা বড়দের সম্মান করবে, শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে আর বড়রা ছোটদের হে করবে, পথ দেখাবে মানুষের কাছে এই প্রত্যাশা সব ধর্মের। ইসলাম এ ব্যাপারটিকে আরো বেশি গুরুত্ব প্রদান করেছে। ইসলামের নবির এই সতর্কীকরণ একটি বাণীর দ্বারাই এ বিষয়টির প্রকৃত গুরুত্ব অনুধাবন করা সম্ভব। সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবিক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা প্রাধান্য পাবে। বড়দেরই ছোটদের হে ও ভালোবাসার দিকে প্রথম এগিয়ে আসতে হবে। কারণ ছোটরা বড়দের কাছ থেকেই শিখবে, তাদের শিক্ষা ও দীক্ষার উৎকৃষ্ট মাধ্যম হলো বড়রা।

ছোটদের সঙ্গে বড়দের দূরত্ব কমিয়ে আনতে বেশি বেশি সালামের অভ্যাস করা যেতে পারে। সালাম খুব দ্রুত সম্প্রীতি অর্জনে সহযোগিতা করে। ইসলামের নবি হজরত মোহাম্মদ [সা.] ছোট বড় সবাইকে আগে সালাম দিতেন। ছোট বাচ্চাদেরও তিনি সালাম দিতেন এবং বলতেন, আমাদের কাছ থেকেই তো ওরা শিখবে। তুমি যদি একজন বাচ্চাকে আগে সালাম প্রদান করো তাহলে সেও তোমাকে একদিন আগে সালাম প্রদান করবে। সালামের প্রচলন কমে গেছে বলে এমন একটি অনাকাক্সিক্ষত পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেই মনে করেন বিজ্ঞ ইসলামী পণ্ডিতরা। মহানবি [সা.] বলেছেন, তোমরা ছোট-বড়, পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম কর। নিশ্চয়ই সালাম হৃদ্যতা বাড়িয়ে দেয়।

আমাদের অনেকের ধারণা সালাম বুঝি কেবল ছোটরাই বড়দের করবে। কিন্তু ইসলাম ছোটদের যেমনি বড়দের সালাম করার নির্দেশ দিয়েছে, সমভাবে বড়দেরও ছোটদের প্রতি সালাম বলার নির্দেশ দিয়েছে। যা উপরিউক্ত হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুল [সা.] স্বয়ং সালাম প্রদানে কখনো ছোট বড় ভেদ করতেন না। হজরত আবু বকর [রা.] বলেন, রাসুল [সা.] সবসময় আগে সালাম দিতেন। তিনি ছোট-বড় ভেদ করতেন না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইসলামের আদেশ ও নিষেধ মেনে, ইসলামের আদর্শে আদর্শিত হয়ে ছোটদের হে করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *