জেনে নিন, কে ছিলেন নবীজির জানাজার ইমাম?

অন্তিম সময়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম!
জগতের প্রকৃত নিতান্ত সত্য কথাটি হল মৃত্যুনামক সৃষ্টি। জন্মিলে মরিতে হবেই। তবে সব মৃত্যু একই নহে। প্রকৃতির চিরাচরিত নিয়মের ভিতরে কিছু ব্যতিক্রমী হয় বিভিন্ন সময়ে এবংবিভিন্নভাবে। এ নশ্বর জগতের প্রথম মানুষ ও নবী হযরত আদম (আ.) হতে সর্বশেষ ও সর্বশেষ নবীও রাসুল বিশ্ব জগতের মুক্তির দিশারী হুজুর পুরনুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসল্লামসহ সকল নবী-রাসুল ইহজগত হতে পর্দা করেছেন। আহলে সুন্নাতের বিশ্বাস প্রত্যেক নবী রাসুলগন পরজগতে জীবিত আছেন। শুধুমাত্র লোকচক্ষুর অন্তরাল হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আমাদের প্রিয় নবীজি বলেছেন, আমার জীবিত ও আমার মৃত্যুর আমার উম্মতের জন্য কল্যাণকর। তোমাদের আমলসমূহ আমার নিকট পেশ করা হয় যদি তা সুন্দর হয় আমি আল্লাহর প্রশংসা করি। আর তা যদি হয় অসুন্দর ও মন্দ আমি আল্লাহর দরবারে তোমাদের গুনাহ সমূহ মার্জনা চাহি। (হাছায়েছে কুবরা)।

বুখারী ও মুসলিম শরীফে আছে, হযরত আয়শা (রা.) হতে বর্নিত,তিনি বলেন প্রায়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলতেন, যতক্ষন জান্নাতের কোন কক্ষে অবস্থান হবে তা নাদেখা পর্যন্ত আল্লাহপাক তাদের পবিত্র রূহ মোবারক কবজ করেননা।হযরত আবদুল্লাহ (রা.) বলেন,রাসুলের অন্তিম শয্যায় আমি হুজরায় প্রবেশ করলাম এবংআমি আমার নবী প্রচন্ড জড়ের বেগে কাতরাতে দেখলাম।আমি বললাম,হে আল্লাহর রাসুল আপনি খুব কাতরাচ্ছেন রাসুল (সা.) বললেন হা দুজন লোক যেভাবে কাতরায় আমিও সেভাবে কাতরাচ্ছি।আমি বললাম তাহলেতো আপনার জন্য প্রতিদান দুটি। রাসুল (সা.) বললেল দুটি।রাসুল আরো বললেন, কোন মুসলিম কোন জড়া,জীর্নতা ও অসুস্থ হয় অথবা এরছেয়ে বেশী কিছু তখন তদ্বারা আল্লাহ পাক সমস্ত পাপ মার্জনা করে দেন। যেভাবে গাছ হতে পাতা ঝড়ে পড়ে।(বুখারী শরীফ)। হযরত আয়শা (রা.) বর্ননা করেন,রাসুল (সা.) অসুস্থতা যখন বৃদ্ধি পেল ফাতেমো (রা.) ডাকার জন্য ডাকলেন। অত:পর ডাকা হল।

আমার নবীজি ফাতেমার কানে কিছু একটা বলার সাথেই ফাতেমা কেদে উঠলেন। আবার কাছে ডেকে কানে কিছু বললেন ফাতেমা হেসে উঠলেন। আমি ফাতেমার কাছ থেকে এ ঘঠনার রহস্য জানতে চাহিলাম। মা ফাতেমা বললেন, প্রথমে আমার কানে নবীজি বলেছেন তিনি এজগত ছেড়ে চলে যাবেন তাই আমি কেদেছি। পরক্ষনে তিনি আমাকে বললেন, আমার পরিবার বর্গ হতে সর্বপ্রথম তুমিই আমার সাথে সাক্ষাত করবে তাই আমি হাসলাম। (বুখারী) । বায়হাকী শরীফে রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর ওফাতের তিনদিন পূর্ব পর্যন্ত হযরত জিব্রাইল (আ.) এসেছেন। অতপর বলেন, হে মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহ পাক আমাদের প্রেরণ করেছেন আপনার তাজীম ও বিশেষ সন্মানার্থে বিশেষত: কীভাবে আপনাকে অন্তিম সময়ে পাব? রাসুল (সা.) বললেন, আমাকে তুমি খুবই উম্মতের চিন্তিত অবস্থায় পাবে। এভাবে পরপর দুদিন জিব্রাইল (আ.) এসেছেন এবং এরূপ প্রশ্নোত্তর হল।তৃতীয় দিবসে জিব্রাইল (আ.) মউতের ফেরেস্তাসহ আসল। উভয়ের সাথে একজন ফেরেস্তা আসল নাম ইসমাঈল। এ ফেরেস্তা শুন্যতে বসবাস করে এবং আসমানে-পৃথিবীতে কখনো আরোহন করেনি।

উক্ত ফেরেস্তাটি আয়ত্বে সত্তর হাজার ফেরেস্তা আর প্রতিফেরেস্তার সাথে সত্তর হাজার ফেরেস্তা ছিল। সবার অগ্রভাগে জিব্রাইল (আ.) ছিল। অতপর মউতের ফেরেস্তা রাসুলের ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইল। জিব্রাইল আ. বললেন, এ হল মউতের ফেরেস্তা আপনার কাছে অনুমতি চাচ্ছে যা আর কোন মানুষের নিকট চাহে নাই। পরবর্তীতেও কারো নিকট চাইবেনা। রাসুলে পাক (সা.) তাকে অনুমতি দাও এবং তিনি রাসুলের সামনে বসে বললেন, আমাকে আমার প্রতিপালক আপনার নিকট প্রেরণ করেছেন এবং আমাকে আদেশ দিয়েছেন যে, আমি যেন আপনার আদেশের অনুসরণ করি। আপনি যদি আমাকে আদেশ দেন আমি আপনার রূহ মোবারক কবজ করব নাহলে নয়। রাসুল পাক (সা.) বললেন হে মালাকুল মাউত তুমি কি এভাবে কাজটি করবে? ফেরেস্তা বলল, হা আমাকে এভাবেই আদেশ প্রদান করা হয়েছে। জিব্রাইল (আ.) বললেন, আপনার রব আপনার অপেক্ষাতে রয়েছেন। রাসুল বললেন, হে মালাকুল মউত তোমাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন কর। জিব্রাইল (আ.) এ সাক্ষাত. পৃথিবীতে আপনার সাথে আমার শেষ দেখা।অত:পর রাসুল (সা.) ওফাত বরণ করলেন।যখন রাসুল (সা.) ক্ষেত্রে তা ঘঠল উনার ছের মোবারক আমার ক্রোড়ে ছিল। হঠাৰ দেখলাম নবীজির চক্ষুদয় ঘরের ছাদের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করে বলতে লাগলেন সুমহান বন্ধু,সুমহান বন্ধু। হযরত আনাস (রা.) হতে ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন তিনি বলেন, যখন রাসুলে পাক (সা.)এর শেষ সময় উপনীত হল সর্বশেষ নসীহত হল সালাতবা নামাজ । হযরত আয়শা (রা.) বর্ননা করেন, রাসুল (সা.) দিবা-রাত্রির মিলন স্থলে ওফাত বরণ করেন। যখন রূহ মোবারক বের হল, এমন এক সুগন্ধ পেলাম যা পৃথিবীতে আগে কখনো পাইনি।হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্নিত, হযরত আবু বকর (রা.) রাসুলের ইন্তেকালের পর বের হলেন এদিকে হযরত উমর ফারুক (রা.) জনসাধারণের সাথে কথা বলছেন। হযরত আবু বকর (রা.) বললেন ওহে উমর আপনি বসুন। হযরত উমর (রা.) বসতে অপরগতা প্রকাশ করলেন। লোকেরা হযরত উমর কে ছেড়ে হযরত আবু বকর (রা.)এর কাছে আসল এবং হযরত আবু বকর (রা.) বললেন, আপনারা যদি আপনারা কে নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ইবাদত করেন নিশ্চয় তিনি ইন্তেকাল করেছেন।

আর কে আল্লাহর ইবাদত করেন নিশ্চয় আল্লাহ চিরঞ্জীব ইন্তেকাল করেন না। ইবনে মাজা শরীফে আবু নাঈম থেকে বায়হাকী শরীফে বরীদাহ থেকে বর্ণনা করেন, যখন রাসুল পাক(সা.) কে গোসল শরীফ দেয়ার জন্য নিলেন আসমান হতে আওয়াজ আসল তোমরা রাসুল (সা.) এর জামা মোবারক গোসল দেয়ার সময় খুলনা। হযরত আলী (রা.) বলেন, আমি রাসুলে পাক (সা.) গোসল মোবরক দেয়ার সময় কোন মৃত মানুষের মত আমার নবীজিকে দেখিনি। হযরত ইবনে আববাস (রা.) বর্ননা করেন তিনি বলেন, যখন রাসুল (সা.) ইন্তেকাল করেন সর্বপ্রথম পুরুষেরা ঘরে প্রবেশ করে জানাযার নামাজ আদায় করেন। কোন ইমাম ব্যতীত প্রত্যেকে স্ব স্ব নামাজ পড়েন। পুরুষের পরেমহিলারা ঘরে প্রবেশ করে নামাজ পড়েন অতপর শিশুরা এবং ক্রীতদাসরা।

কেউ রাসুল (সা.) এর নামাজে জানাযায় ইমামতি করেনি। বায়হাকী শরীফে আছে, হযরত ইবনে আববাস (রা.) হতে বর্ননাকরেন, প্রথমে রাসুলের (সা.) দাফন মোবরক সম্পর্কে মতপার্থক্য হয়। কেউ বলল মাসজিদে নববীতে দাফন কর আবার কেউ বলল জান্নাতুল বাকীতে কর। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) বললেন, আমি রাসুল (সা.) হতে বলতে শুনেছি প্রত্যেক নবী যে জায়গায় ইন্তেকাল করেন এতেইদাফন করা হয়েছে অতপর উক্ত জায়গাতেই কবর শরীফ খনন করা হয়। হযরত আয়শা (রা) বর্ণনা করেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম তিনটি চাদ আমার ঘরে পড়ল অতপর আমি হযরত আবু বকর (রা.) হতে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বললেন,তোমার ঘরে তিনজন দাফন হবে যারা যমীনবাসীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। যখন রাসুল (সা.) দাফন হলেন হযরত আবু বকর (রা.) বললেন, এই হল তোমার শ্রেষ্ঠ চন্দ্র। বর্তমানে আমার নবীজি রওজা শরীফ হযরত আয়শা সিদ্দীকা (রা.) ঘরে যেখানে আমার নবি আল্লাহ পাকের অনন্ত দীদারে লিপ্ত হলেন। রেখে বিশাল কর্মময় বর্ণাঢ্য জীবন । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে আমার নবীর আদর্শ, পথ ও মতে চলার তওফিক দান করুন আমিন।লেখক: সিনিয়র শিক্ষক:বিনাজুরী নবীন স্কুল এণ্ড কলেজ,খতিব: বদুমুন্সিপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *