জেনে নিন, রাসূল সা.-এর সুন্নাতের ফযীলত

মানব জীবনের ইহকালীন ও পরকালীন সাফল্য রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুকরণ ও অনুসরণের মধ্যে নিহিত রয়েছে। তাই আমরা যাদি সকলেই সকল কাজে রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুকরণ অনুসরণ করি, তাহলে আমাদের ইহকাল ও পরকালে সফলতা আসবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফে এরশাদ করেন-

হে নবী! আপনি বলুন, “তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। যাতে আল্লাহ তোমাদিগকে ভালোবাসেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ তাআলা হলেন ক্ষমাশীল, অতিদয়ালু। [সুরা আলে ইমরান : ৩১]
ফায়দা : উল্লেখিত আয়াত থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুসরণের দ্বারা দু’টি লাভ, একটি আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন অপরটি গুনাহ মাফ হওয়া।
তাহলে আমরা রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুকরণ আর অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহকে পেলাম এবং আমাদের গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারলাম।

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন-
হে নবী! আপনি বলুন, আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর। তারপরও যদি তোমার মুখ ফিরিয়ে নাও, তার ন্যাস্ত দায়িত্বের জন্য সে দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যাস্ত দায়িত্বের জন্য তোমরা দায়ী। তোমরা যদি তার অনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে। রাসূলের দায়িত্ব কেবল সুস্পষ্ট রুপে পৌঁছে দেওয়া। [সূরা নুর : ৫৪]
ফায়দা : উল্লেখিত আয়াত থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুকরণ অনুসরণের মাঝে হেদায়েত নিহিত রয়েছে। যে যত বেশি সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করবে, যে তত বেশি হেদায়েত পাবে।

তাই আমরা কাফির, মুশরিক, অমুসলিমদের অনুসরণ ছেড়ে বিশ্ব নবী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুকরণ ও অনুসরণ করি, তাহলে আমরা হেদায়েতপ্রাপ্ত হতে পারব এবং আমাদের জীবন সুন্দর হবে। আর আল্লাহর রহমতও বেশি পাব। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একদিন রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে বললেন, তুমি যদি এরূপে সকাল সন্ধ্যা কাটাতে পার যে, তোমার অন্তরে কারো প্রতি হিংসা বিদ্বেষ নেই; তবে তাই কর। এরপর বললেন, হে বৎস! এটা আমার সুন্নাতের অর্ন্তভূক্ত, আর যে আমার সুন্নাতের অনুসরণ করবে সে আমাকে ভালোবাসবে, আর যে আমাকে ভালবাসবে সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। [তিরমিযী, মেশকাত- পৃ. ৩০]

ফায়দা : মোল্লা আলী কারী রহ. বলেছেন, প্রকৃত সৌভাগ্য অর্জন করা সুন্নাতের অনুসরণের উপর নির্ভরশীল, বুযুর্গানে দ্বীন সুন্নাতের অনুসরণের বরকতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন।
বিশ্রে হাফী নামক বুযুর্গের স্বপ্ন যোগে রাসূলুল্লাহ সা. এর যিয়ারত নসীব হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. তাকে সম্বোধন করে বললেন, হে বিশর! তুমি কি জান যে, আল্লাহ তাআলা তোমাকে তোমার সকল সাথী ও সমকালীন লোকদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন কেন? উত্তরে বললেন না। রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, “এই মর্যাদা এবং শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হল যে, তুমি আমার সুন্নাতের অনুসরণ কর এবং নেককার লোকদের সম্মান কর ও মুসলমান ভাইদের কল্যাণ কামনা কর।

হযরত বিলাল ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন- রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতসমূহ থেকে কোন সুন্নাতকে জিন্দা করেছে, যার আমলের প্রচলন আমার পরে ছিল না, তার জন্য ঐ সমস্ত লোকদের সওয়াবের পরিমান সাওয়াব রয়েছে যারা এই সুন্নাতের উপর আমল করবে। কিন্তু তাতে তাদের সাওয়াবের কোন অংশ কম করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি যে গোমরাহীর কোন পথ (বিদআত) চালু করেছে যাতে আল্লাহ ও তার রাসূল সা. সন্তুষ্ট না, তার জন্য সে সমস্ত লোকদের গুনাহের সমপরিমান গুনাহ রয়েছে, যার উপর তারা আমল করবে। এতে তাদের গুনাহের কোন অংশ কম করা হবে না। [তিরমিযী, ইবনে মাযাহ- ১৯]

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “আমার উম্মতের বিশৃঙ্খলার সময় বা তাদের পদস্খলনের সময় যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়িয়ে ধরবে, তার জন্য শহীদের সাওয়াব রয়েছে। অপর রেওয়ায়েতে একশ শহীদের কথা উল্লেখ আছে। [বায়হাকী]

বর্তমান যামানা ফিতনা ফাসাদের যামানা, তাই আমাদের খুব দৃঢ়ভাবে সুন্নাতের উপর আমল করা উচিত। রাসূল সা. বলেন, আমার পরে অতি সত্ত্বর তোমরা কঠিন ইখতেলাফ (মতভেদ) দেখবে। সুতরাং তোমাদের জন্য উচিত, আমার ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আকড়িয়ে ধরা।

হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেছেন, মুসলমানদের প্রত্যেকটা আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত। ১. আকীদা সহীহ হওয়া, ২. এখলাস ঠিক থাকা, ৩. সকল কাজ সুন্নাত মোতাবেক হওয়া।

সুন্নাত অনুসরণ আসল এবাদত, সুন্নাতের অনুসরণ ব্যতীত কোন ইবাদত কবুল হবে না।
তাই আসুন আমরা পাশ্চাত্যের অনুসরণ ছেড়ে বিশ্ব নবী আখিরী নবী হযরত মোহাম্মদ সা. এর আদর্শে জীবন যাপন করি, তাহলেই আমাদের জীবনে বয়ে আসবে অনাবিল সুখ শান্তি। আল্লাহ তাআলা যেন আমাকেসহ আমাদের সকলকে সুন্নাতের উপর আমল করার তাওফীক দান করেন। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *