ধর্ষিতা হওয়ার আগের রাতের কথা

৪ বছরের মেয়ে আমি সুমাইয়া..
ধর্ষিতা হওয়ার আগের রাতের কথা।
বাবার দেয়া পুতুল গুলো নিয়ে খেলে ঘুমিয়ে পড়েছি তখন। রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে আমার ছোট্ট চোখ জুড়ে স্বপ্নরা চেপে বসলো। এগুলি কি স্বপ্ন ছিল?
সরি দু:স্বপ্ন হয়তো..
মায়ের কাছে বলে পাশের বাসার আন্টির কাছে গেলাম দেখা করতে । উনি মাঝে মাঝে আমাকে চকলেট দিতেন। আচার দিতেন। আমি দৌড়ে হাঁটছি..
মাঝপথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো পাশের বাসার আরেক চাচ্চু। তিনি আমার হাত টেনে ধরে বললেন।
-তোমার জন্য চিপ্স এনে রেখেছি। খাবে?
‘হুম খাবো।
এবার উনি আমাকে নিয়ে গেলেন আঁধার সরু একটা গলির ভেতর। এই গলিটা তে আমি কখনোই আসেনি।
-আমার চিপ্স কই?
‘আরেকটু আসো। দিবো।
চাচ্চু আচমকা আমাকে মারতে শুরু করলো।
এভাবে আমাকে এর আগে কেউ মারেনি।
ব্যাথায় যে আমি চিতকার করতে যাবো তখন উনি সমস্ত শক্তি দিয়ে আমার মুখ চেপে ধরেছেন।
আমি আমাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরাতে ক্ষুদ্র শক্তির সবটুকু ব্যায় করে যাচ্ছি…
স্বপ্নের ভেতরেই আমি আরেক স্বপ্নে ডুব দিলাম।
যদি তাতেও বাঁচা যায়..
দৌড়ে গেলাম সংসদ ভবনে।
মাননীয় স্পিকার!
আমি সুমাইয়া..
বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান।
আমার পাশের বাসার চাচ্চুটি আমাকে একা পেয়ে মেরে ফেলতেসে.. আপনি কি আমাকে বাঁচাবেন?
মাননীয় স্পিকার!
কেউ কথা বলেনি..
হয়তো সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষনা করে সবাই বাসায় গিয়ে ঘুমাচ্ছে… 🙁
তারপর দৌড়ে গেলাম গণভবনে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী..
আমি বাঁচতে চাই।
আবার পুতুল খেলতে চাই।
আমাকে কি একটু বাঁচাবেন?
আমার আওয়াজ গেটের ভেতর পর্যন্ত যেতে পারেনি।
হয়তো গেট পাশ নেই বলে… 🙁
সবশেষে ভাবলাম গুলশানে যাই।
ওখানে নাকি বাংলাদেশের আরেক প্রভাবশালী নারী থাকেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী!
গিয়ে দেখি পুরো বাড়ির আলো নিভানো।
উনি চলে গিয়েছেন লন্ডনে..
কবে আসবেন জানা নেই কারো। 🙁
আমার স্বপ্নের ভেতরের স্বপ্ন ভাংগলো।
রক্তে রক্তাক্ত আমি।
আচ্ছা রক্ত কি এত লাল হয়?
চাচ্চু কে আগের চেয়ে অনেক শান্ত দেখাচ্ছে।
উনি শান্ত চোখে আমার গলা টিপে ধরেছেন।
হাত ঝেড়ে ফেলে দেয়ার শক্তি আমার শরীরে নেই।
আমার বয়স ৪..
আমিও শান্ত ভাবে আস্তে আস্তে মরে যাচ্ছি..
চাচ্চু আমাকে এখন উঠিয়ে কমডে ছুঁড়ে ফেললেন।
আঁধার আরো অন্ধকার হলো।
তার মাঝেও ঝাপসা চোখে আমি আমার ‘ড্রাইভার বাবা’ টাকে দেখতে পাচ্ছি। বাবা হাসিমুখে আমাকে ডাকছেন।
তার হাতে সবুজ রঙের ২টা চিপসের প্যাকেট।
গলা বেয়ে ঘাম ঝরছে..
বাবা আমাকে দেখতে চাচ্ছেন।
আমি খুব চেষ্টা করেও বাবার দিকে ফিরতে পারছিনা। মুখ গুঁজে পড়ে আছি কমডে।
শেষ বারের মত বাবা কে দেখার খুব ইচ্ছে ছিলো আমার।
এই উন্নয়নশীল দেশে হয়তো সুমাইয়াদের শেষ ইচ্ছে গুলো পুরণ হয়না!! আমারও হয়নি।

2 Replies to “ধর্ষিতা হওয়ার আগের রাতের কথা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *