বরিশালে চলছে মেয়েদের মার্বেল খেলার প্রতিযোগিতা

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে ২৩৮ বছর ধরে বরিশালের আগৈলঝাড়ার রামানন্দেরআঁক গ্রামে পূজা ও মেলার আয়োজন করা হয়। যা ‘মার্বেল মেলা’ নামে পরিচিত। রবিবার থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত। শীত উপেক্ষা করে খেলা ও মেলা চলছে গভীর রাত পর্যন্ত|

মেলায় মার্বেল খেলতে আশেপাশের কোটালীপাড়া, উজিরপুর, কালকীনি, গৌরনদীসহ বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার লোকজন আসছেন রামানন্দেরআঁক গ্রামে। গ্রামবাসীরা মেয়ে জামাইসহ অন্যান্য নিকট আত্মীয়দের মার্বেল খেলার আমন্ত্রণ জানায়। তাই মার্বেল খেলা ও মেলাকে ঘিরে রামানন্দেরআঁক গ্রাম ও তার আশেপাশের এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। বাড়িতে বাড়িতে চিড়া-মুড়ি, খেঁজুর গুড়ের পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নও চলে।
মেলায় মার্বেল খেলার প্রচলন সম্পর্কে স্থানীয় হরবিলাস মিস্ত্রী (৮০)সহ প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, বছরের এ সময়টা মাঠ-ঘাট শুকিয়ে যায়। এজন্যই তাদের পূর্ব পুরুষরা মেলা শুরুর দিনে মার্বেল খেলার প্রচলন করেন। তারাও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মার্বেল খেলার আসর বসে। বাড়ির আঙিনা, অনাবাদী জমি, বাগান, রাস্তাঘাট সবখানে চলে মার্বেল খেলা। খেলা ছাড়াও মেলায় পাওয়া যায় বাঁশ ও বেতের শৌখিন শিল্প সামগ্রী, খেলনা, মিষ্টি, ফল, চটপটি, ফুচকাসহ হরেক রকমের খাদ্যদ্রব্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে আসা সমীর বিশ্বাস জানান, তারা মার্বেল খেলার কথা শুনে মেলায় এসেছেন। ব্যতিক্রমধর্মী এই মেলা তাদের ভীষণ ভালো লেগেছে।

সপ্তম শ্রেণির ছাত্র দিগন্ত বাগচী জানায়, সে মার্বেল মেলায় আসতে সারা বছর টাকা জমিয়েছে। সেই টাকা দিয়ে মার্বেল কিনে মেলায় খেলতে এসেছে ।

মেলা কমিটির সভাপতি দিগ্বীজয় বিশ্বাস মেলার ইতিহাস সম্পর্কে বলেন, ছয় বছর বয়সে সোনাই চাঁদ নামে এক মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের এক বছর পেরোতেই সোনাইয়ের স্বামী মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুর বাড়িতে একটি নিম গাছের নিচে সোনাই মহাদেবের আরাধনা ও পূজা শুরু করেন। আনুমানিক ১৭৮০ সালে সেখানে সোনাই চাঁদ নামে একটি মন্দির স্থাপন করা হয়। এখান সেখানে মেলা বসে। ২০১২ সালে ওই মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।
মেলা আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য ডা. বিসি বিশ্বাস বিধান জানান, মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২৩৮ বছর ধরে প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তির দিনে বাস্তু পূজা (মাটির পূজা) ও নবান্ন মহোৎসবের মাধ্যমে ধুমধামের সঙ্গে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

প্রতিবছর এই দিনে বৈষ্ণব সেবা, হরি নাম সংকীর্ত্তন শেষে তৈরি করা হয় নবান্ন। মেলায় আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের এই নবান্ন প্রসাদ হিসেবে পরিবেশন করা হয়।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানান, মেলা ও মার্বেল খেলার পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *