ওসির দালালিতে গণধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা!

ওসির দালালিতে গণধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার ওসি চাঁন মিয়ার দালালিতে গণধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার ধর্ষিতার পিতা গফরগাঁও প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

গণধর্ষনের শিকার হওয়া নবম শ্রেণির ছাত্রীর পিতা জানান, থানায় ধর্ষণ মামলা করতে গেলে ওসি তাকে ধর্ষণচেষ্টা মামলা করার ‘উপদেশ’ দেন।

ধর্ষিতার পিতা অভিযোগ করে বলেন, মামলা না নিয়ে সালিশ বৈঠকে মীমাংসার কথা বলে আমাদেরকে থানা থেকে বিদায় করে দেন ওসি।

‘ওসির নির্দেশমত আমরা সালিশ বৈঠকে যাই। সালিশ বৈঠকে ধর্ষক রুবেলের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে ও অপর ধর্ষক ওয়াহেদ আলীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

‘ধর্ষকের পক্ষের লোকজন বিয়ের সওদা করতে বকুলতলা বাজারে গেলে মেয়েসহ আমি এলাকার কয়েকজন লোক ও আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় কৌশলে সালিশ বৈঠক থেকে পালিয়ে গিয়ে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ের হাত থেকে আমার মেয়েকে রক্ষা করি।’

‘এসব ঘটনার সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলে গত রোববার দুপুরে পাগলা থানার ওসি চাঁন মিয়া আমাদেরকে থানায় ডেকে নেন।’

‘এসময় ওসি চান মিয়া আমাকে বলে, ধর্ষণ মামলা করলে অনেক খরচ হবে, সন্ত্রাসীরা মেরে ফেলবে, মেডিকেল করতে হবে এতে মেয়ের ইজ্জত আরও যাবে। মেয়ের সঙ্গেও ওসি আলাদা করে কথা বলে।’

‘তিনি আমাকে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করার জন্য বলেন এবং ওসির ফরমায়েশমত থানার কস্টেবল মামুনের লিখিত ‘আমার মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার’ এজাহারে আমাকে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে।

ধর্ষিতা পিতা জানান, আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু ঘটনার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোনো আসামিকে ধরছে না। উল্টো আমাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে আমাকে ও আমার ছেলেকে গুম করার হুমকি দিচ্ছে।

গণধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা
গণধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা

এ ব্যাপারে পাগলা থানার ওসি চাঁন মিয়া বলেন, মেয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। মেয়ের স্বীকারোক্তি ভিডিও করা আছে। আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, পার্শ্ববর্তী বেলদিয়া গ্রামের ওয়াহেদ আলী (৪৬),রুবেল (২০) এর নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা দিকে উপজেলার চাকুয়া গ্রামে স্থানীয় কুরচাই এমকেএম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে তার বাড়ির উঠান থেকে মুখ ও হাত-পা বেঁধে অপহরণ করে। পরে বকুলতলা-কদমতলী রাস্তায় পাশের কডরবিল এলাকায় নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *