সাভারে এমপির বাড়িতে আলীগের নেতার উপর হামলা।

সাভারের সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমানের তালবাগ এলাকার বাড়িতে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।সুধু মাত্র অধিপত্য বিস্তার নিয়ে ক্ষমতাসীন দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধ আলী হায়দারসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলার মদদে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংঘর্ষে তিনিও আহত হয়েছেন। সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমানের সামনে সংঘর্ষ চললেও তিনি থামানোর চেষ্টা করেননি বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানিয়েছেন। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শুক্রবার দুপুরে এমপির বাড়িতে এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। এ সভায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার। সভা শুরুর এক পর্যায়ে আলী হায়দার তার বক্তব্য শুরু করলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলার মদদে সাভার থানা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হায়দারের বক্তব্য ব্যঙ্গ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীবের নেতাকর্মীরা চেয়ার ভাংচুর শুরু করে ও আলী হায়দারের ওপর হামলা করে। এ সময় কিল-ঘুষি ও চেয়ারের আঘাতে রক্তাক্ত জখম হন আলী হায়দার। এ পরিস্থিতিতে আলী হায়দার সমর্থকরা পাল্টা হামলা চালালে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলাও আহত হন।
জানা যায়, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজুরুল আলম রাজীব বর্তমান কমিটি হওয়ার আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য জোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আলী হায়দার সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর রাজীবের সঙ্গে তার রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল। এছাড়া ১১ বছর আগে মঞ্জুরুল আলম রাজীবের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করে আলী হায়দারের কাছে পরাজিত হন। আলী হায়দার ১৯৭৫ সালের পর সাভার থানা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের আহ্বায়ক, দুই দফায় সাভার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসভাপতি থাকার পর ১৩ বছর ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অন্যদিকে মঞ্জুরুল আলম রাজীব সাভার কলেজের ভিপি, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। মঞ্জুরুল আলম রাজীব উপজেলার ছাত্রলীগের রাজনীতির নিয়ন্ত্রক এবং বর্তমান এমপি ডা. এনামুর রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে আলী হায়দার সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জংয়ের আস্থাভাজন নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত। আর এসব কারণেই শুক্রবার দুপুরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
হামলার বিষয়ে সাভার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার বলেন, আমি দলের সভাপতি হাসিনা দৌলাকে না জানিয়ে সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাদের আসতে বলেছি এমন অজুহাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা, উপজেলার প্যানেল চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান এবং পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবদুল গনির ছেলে ফারুখ হোসেন তুহিনের প্রত্যক্ষ মদদে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে। এদিকে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুই গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মারামারির কোনো নমুনা পাইনি। মারামারির সময়ে চেয়ার ছোড়াছুড়ির ছবি যুগান্তরের কাছে আছে এমন দাবি করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি আর ফোন ধরেননি।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে তার বাড়িতে গিয়েও সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

দেশ-বিদেশের সকল খবর,
ব্রেকিং নিউজ ও সমসাময়িক
ইসলামিক আলোচনা পেতে : রিপোর্ট 24 বিডি তে লাইক দিন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *