হারিয়ে যাওয়া ৫টি রহস্যময় শহর যার খোঁজ মেলেনি আজও

চলুন আজকে জেনে নিই এমনই ৫টি হারিয়ে যাওয়া রহস্যময় শহর সম্পর্কে যার খোঁজ আজও কেউ পায়নি।
১. ‘Z’ এর হারানো শহর

১৯২৫ সালে তিনজনের একটি দল, ব্রিটিশ সার্ভেয়ার কর্নেল পার্সি হ্যারিসন ফাউসেটের নেতৃত্বে ব্রাজিলের ‘মাতো গ্রোসো’ এলাকার দুর্গম জঙ্গলে প্রবেশ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটি প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করা। ফাউসেট এই প্রাচীন শহরের নাম দিয়েছিলেন ‘Z এর হারানো শহর’।
২. আটলান্টিস

সর্বপ্রথম ৩৬০ খ্রিস্টপূর্বে গ্রীক দার্শনিক প্লেটোর লেখায় আটলান্টিসের উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রায় দুই সহস্রাব্দ ধরে এই রহস্যময় হারিয়ে যাওয়া শহরটি বহু অভিযাত্রী, গবেষক, ইতিহাসবিদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।

৩. হারানো লায়োনিস রাজ্য

কিংবদন্তী অনুসারে, লায়োনিস রাজ্য ছিল ব্রিটেনের সিসিলি দ্বীপে অবস্থিত বিশাল এক রাজ্য। কোনো একদিন বিশাল এই রাজ্যকে গিলে নেয় উত্তাল সমুদ্র। কেউ কেউ মনে করেন বর্তমানে সেখানে অবস্থিত ১৪০টি দ্বীপ আসলে সেই ডুবে যাওয়া রাজ্যের পাহাড়চূড়া!
চতুর্দশ শতাব্দীর উইলিয়াম ওরচেস্টারের লেখা ভ্রমণবৃত্তান্ততে সর্বপ্রথম কর্নওয়াল উপকূলে হারিয়ে যাওয়া এক সভ্যতার কথা দেখতে পাওয়া যায়। লেখকের বর্ণনামতে, প্লাবনের পূর্বে সমুদ্র থেকে ৪০ মাইল দূরে বিস্তৃত এক অচেনা স্থান ছিল। তিনি বলেন, “বহু বন, মাঠ সহ ১৪০টি গির্জা, সবই আজ ডুবে আছে পর্বত ও সিসিলি দ্বীপের মধ্যবর্তী স্থানে।”
৪. এল ডোরাডো

র্ণ নগরী এল ডোরাডোর কিংবদন্তীর উৎপত্তি হয় ষোড়শ শতাব্দীতে, যখন ইউরোপিয়ানরা নতুন বিশ্বে গুপ্তধন খোঁজার নেশায় মেতে ছিল। বিশেষ করে স্পেন তৎকালীন সময়ে বাঘা বাঘা সব দখলদার ও অভিযাত্রীদের দক্ষিণ আমেরিকায় পাঠিয়েছিল যাতে তারা সেখান থেকে সকল দামী জিনিস খুঁজে দখল করে নিয়ে আসতে পারে। এমন সময় গুজব ওঠে আদ্রিজ পর্বতচূড়ায় রয়েছে এক শহর যেখানে স্বর্ণের কোনো অভাব নেই। যেখানের রাজা সোনার গুঁড়ায় নিজের দেহ আবৃত করে রাখে। এই গল্প থেকেই সেই শহরের নামকরণ করা হয় এল ডোরাডো বা স্বর্ণমোড়া শহর।
৫. কালাহারির হারানো শহর

১৮৮৫ সালে কানাডিয়ান অভিযাত্রী ও বিনোদন তারকা গুইল্লারমো ফারিনি পশ্চিমাদের মধ্যে থেকে প্রথম উত্তর আমেরিকার অনাবিষ্কৃত ও দুর্গম মরুভূমি কালাহারি অতিক্রম করেন। অভিযান শেষে ফিরে এসে তিনি মরুভূমির বালির নিচে চাপা পড়া এক হারানো সভ্যতার ধ্বংসাবশেষের কিছু ছবি সবার সামনে তুলে ধরেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *