কারাগারে সাফাতের হাত খরচ কতো | জানলে চমকে উঠবেন আপনিও

কারাগারে সাফাতের হাত খরচ

কারাগারে সাফাতের হাত খরচ কতো? জানলে চমকে উঠবেন আপনিও ।  আপন জুয়েলার্সের মালিক ও সম্ভ্রমহানীর অভিযোগে গ্রেফতার সাফাত আহমেদের বাবা দিলদার আহমেদ বলেছেন, আমার সন্তান যদি অপরাধ করে, তাহলে অবশ্যই আমি তার শাস্তি চাই।  আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই মাথা পেতে নেব। 

কিন্তু দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আমি সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছি।  আমার স্বর্ণ অবৈধ হলে দেশে কারো স্বর্ণই বৈধ নয়।  তবে তিনি প্রতি সপ্তাহে খরচের জন্য কারাগারে ৩০ হাজার করে টাকা পাঠাচ্ছেন সাফাতকে। 

কারাগারে সাফাতের হাত খরচ
কারাগারে সাফাতের হাত খরচ

সেই টাকা দিয়ে সাফাত কারাগারের ক্যান্টিন থেকে ভালো মানের খাবার কিনে খাচ্ছেন বলেও জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ সূত্র।  এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে কাকরাইলের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরুর আগে তিনি গণমাধ্যমে দিলদার আহমেদ এসব কথা বলেন। 

কাগজপত্র কেন দেখাতে পারছেন না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছরের ব্যবসা।  সব কাগজপত্র তো সংগ্রহ করে রাখতে পারিনি।  তাছাড়া পুরনো কিছু কারিগর ছিল, যারা চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন।  তাই তাৎক্ষণিকভাবে তো সব কাগজপত্র দেখানো সম্ভব না, একটু সময় লাগবে।  এ জন্য সরকারের ও শুল্ক গোয়েন্দাদের সহযোগিতা দরকার। 

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, অবৈধভাবে স্বর্ণ ও হীরা মজুদ রাখার ব্যাখ্যা দিতেই তাদের শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল।  সে সময় শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন আপন জুয়েলার্সের তিন মালিক দিলদার আহমেদ, গুলজার আহমেদ, আজাদ আহমেদ ও তাদের আইনজীবী আক্তার ফরজাদ জামান। 

আপনি জানেন কি | রোজাদারের জন্য যে ৬টি কাজ করা নিষিদ্ধ

রোজাদারের জন্য ৬টি কাজ করা নিষিদ্ধ

কোন ব্যক্তি যদি রোজা রেখে নিচের ৬টি কাজ করে, তাহলে তার রোজা নিশ্চিত ভাবে উপোশের মতো হয়ে যাবে। অর্থ্যাৎ রোজাদার ব্যক্তিকে শুধু না খেয়ে থাকলেই হবে না, বরং সকল অনৈতিক বিষয়ে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। রমাজান মাসে রোজাদার ব্যক্তিকে কোন ছয়টি জিনিস করা একেবারেই নিষিদ্ধ চলুন তা জেনে আসি।

রোজাদারের জন্য ৬টি কাজ করা নিষিদ্ধ
রোজাদারের জন্য ৬টি কাজ করা নিষিদ্ধ

১) দৃষ্টি সংযত রাখতে হবে।  তাই বেগানা মেয়েদের দেখা থেকে চোখকে হেফাজত করুন।  তা সরাসরি দেখা হোক বা টিভি-সিনেমায় দেখা হোক বা ম্যাগাজিন ও পত্রিকার ছবি হোক। অনেকে রোজা রেখে অবসর সময় নাটক-সিনেমা দেখে কাটায়। এতে তাদের রোজা হালকা হয়ে যায়।

২) জবানের হেফাজত করা। অর্থা‍ৎ মিথ্যা, গীবত, পরনিন্দা, অশ্লীল কথাবার্তা ও ঝগড়া থেকে রিবত থাকা। হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় মিথ্যাচার ও মন্দ কাজ ত্যাগ করেনি তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। -সহিহ বুখারি: ১/২৫৫, হাদিস- ১৯০৩

অন্য এক হাদিসে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, রোজা অবস্থায় তোমাদের কেউ যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং শোরগোল, হট্টগোলে লিপ্ত না হয়। যদি কেউ তার সঙ্গে গালিগালাজ বা মারামারি-কাটাকাটিতে লিপ্ত হতে চায় তবে সে (অনুরূপ আচরণ না করে) বলবে, আমি রোজাদার। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রোজা অবস্থায় মারামারি ও ঝগড়াঝাটি তো দূরের কথা, শোরগোল করাও রোজার আদব পরিপন্থী। অতএব জবানকে এসব থেকে বিরত রেখে সর্বদা জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে তরতাজা রাখবে।

৩) কানের হেফাজত।  যেমন- গান শোনা, গীবত, পরনিন্দা ও অশ্লীল কথাবার্তা শোনা থেকে বিরত থাকা।

৪) অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, যেমন হাত-পা ইত্যাদিকেও গোনাহ ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখা।

৫) অন্তরকেও সব রকমের গোনাহ থেকে বিরত রাখা। যেমন- গোনাহের কল্পনা করা, পেছনের গোনাহ স্মরণ করে স্বাদ গ্রহণ করা, অহঙ্কার, হিংসা, কু-ধারণা ইত্যাদি থেকে অন্তরকে হেফাজত করা।

৬) সেহরি ও ইফতারে হারাম আহার পরিহার করা। ইমাম গাজ্জালী (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি সারাদিন রোজা রেখে হারাম খাবার দ্বারা ইফতার করে সে যেন একটি অট্টালিকা নির্মাণ করে আর একটি শহর ধ্বংস করে।

জেনে নিন | জ্বর চিনবেন কীভাবে?

এ যেন জ্বরের মৌসুম। আশপাশে পরিচিত কারও না কারও জ্বর লেগেই আছে। কারও সাধারণ ফ্লু, কারও ডেঙ্গু, কারও আবার চিকুনগুনিয়া। জ্বর শরীরের যেকোনো সংক্রমণ বা প্রদাহের বিপরীতে প্রথম প্রতিরোধব্যবস্থা। তবে অতিরিক্ত জ্বর শরীরকে দুর্বল করে ফেলে। জ্বরের কারণ অনেক। তবে সাধারণ ভাইরাস জ্বরই বেশি হয়ে থাকে। বিশেষ করে ঋতু বা আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে। আবার কিছু কিছু কারণ আছে, যার কারণে যেকোনো সময় জ্বর হতে পারে। যেমন কিছু জটিল রোগে র‌্যাশসহ জ্বর হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার, মস্তিষ্কের প্রদাহ, টাইফয়েড, রক্তনালির প্রদাহ, একজিমা, সেলুলাইটিস, এসএলই, আইটিপি ইত্যাদি।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, এই সময়ে ভাইরাস জীবাণুর সংক্রমণ বেশি হয়, বিশেষ করে ডেঙ্গু বা ইদানীং চিকুনগুনিয়া বেশি হচ্ছে। ভাইরাস জ্বর সাধারণত ৭-১৪ দিন স্থায়ী হতে পারে। ওষুধ ও পুষ্টিকর খাবার খেলে এই সময়ের মধ্যে জ্বর ভালো হয়ে যায়। সাধারণ ভাইরাল জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, অরুচি, হালকা সর্দি-কাশি ইত্যদি এসব জ্বরের প্রধান উপসর্গ। কিন্তু জ্বরের সঙ্গে যদি শরীরে র‌্যাশ বা ত্বকে ছোট লাল দানা দেখা দেয়, তবে তা ভীতির কারণ হতে পারে।

জ্বরের ধরন-ইতিহাস, অন্যান্য উপসর্গ-লক্ষণ বিশ্লেষণ, বিশেষ করে র‌্যাশের প্রকৃতি সঠিকভাবে চিহ্নিত করে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। র‌্যাশ বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন রঙের হতে পারে। রোগ অনুযায়ী জ্বরের সঙ্গে র‌্যাশ দেখা দেওয়ার সময় এবং স্থানে ভিন্নতা থাকতে পারে।

জ্বর বাড়লে জলপট্টি দেওয়া জরুরি
জ্বর বাড়লে জলপট্টি দেওয়া জরুরি

 ডেঙ্গু, নাকি চিকুনগুনিয়া

বর্ষা মৌসুমে আমাদের দেশে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ইত্যাদি ভাইরাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া দুটোই ভাইরাস জ্বর। এদের জীবাণুবাহী মশাও একই প্রজাতির, এডিস। রোগের লক্ষণ ও উপসর্গেও নানা মিল আছে। ইদানীং জ্বর, গায়ে ব্যথা, র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে অনেকেরই মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে এটা ডেঙ্গু, নাকি চিকুনগুনিয়া? পাশাপাশি থাকে তীব্র শরীর ব্যথা। তবে পার্থক্য হলো, ডেঙ্গুজ্বরে চোখ ও মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা হয়, মাংসপেশি ও হাড়ে ব্যথাও হয়। তবে গিরা তেমন ফুলে না বা ব্যথাও কম থাকে। কিন্তু চিকুনগুনিয়ার বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে গিরায় ব্যথা। কেউ কেউ খুঁড়িয়ে হাঁটতে বাধ্য হন।

সাধারণ চিকুনগুনিয়ায় জ্বর, ত্বকে র‍্যাশ, সন্ধি বা হাড়ের জোড়ায় ব্যথা ও গায়ে ব্যথা করে। এর চেয়ে তীব্র হলে সন্ধি ফুলে যায়, গায়ে তীব্র ব্যথা, চোখে ব্যথা, রক্তচাপ ও প্রস্রাব হ্রাস প্রভৃতি সমস্যা হতে পারে। রোগটি সবচেয়ে জটিল রূপ নিলে উচ্চমাত্রার জ্বর, সন্ধি ব্যথা ও ফোলা, বমি এবং ডায়রিয়ায় রোগী অচেতনও হয়ে যেতে পারে। তবে চিকুনগুনিয়ায় ডেঙ্গুর চেয়ে মৃত্যুঝুঁকি কিছুটা কম। ডেঙ্গু সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে চিকুনগুনিয়ার রোগী ৭ থেকে ১০ দিনে সেরে উঠলেও ব্যথা কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এমনকি জ্বরটা সেরে গিয়ে আবারও হতে পারে।

 টাইফয়েড জ্বর

দূষিত পানি ও খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে একধরনের ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে প্রবেশ করে টাইফয়েড রোগটি ঘটায়। একমাত্র খাওয়ার পানি ও খাদ্যদ্রব্য ছাড়া এই জীবাণু অন্য কোনো মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করার সুযোগ পায় না। রোগ-জীবাণু দেহে প্রবেশের সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিন পর রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। জ্বরই হলো এ রোগের প্রধান লক্ষণ। প্রথম চার-পাঁচ দিন জ্বর বৃদ্ধি পেতে থাকে। জ্বর কখনো বাড়ে, কখনো কমে; তবে কোনো সময় সম্পূর্ণ ছেড়ে যায় না। জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। কারও কারও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া ও বমি হয়। দ্বিতীয় সপ্তাহে রোগীর পেটে ও পিঠে গোলাপি রঙের দানা দেখা দিতে পারে। কারও কারও জ্বরের সঙ্গে কাশি হয়।

 বাতজ্বর

সাধারণত গলায় ব্যথা হলে তা যদি যথাযথ ও সম্পূর্ণরূপে চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এর সংক্রমণের ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে থেকে বাতজ্বর দেখা দিতে পারে। বাতজ্বরের উপসর্গগুলোর মধ্যে কিছু মুখ্য আর কিছু গৌণ উপসর্গ আছে। এসব উপসর্গ যাচাই-বাছাই করে রোগ নির্ণয় করা হয়। সাধারণত মনে করা হয় গিরায় গিরায় কিংবা হাড়ে হাড়ে ব্যথা হলে সেটা বাতজ্বরের লক্ষণ। তবে সবক্ষেত্রেই তা সঠিক নয়। বাতজ্বরের কিছু মুখ্য ও কিছু গৌণ লক্ষণ রয়েছে। দুটি কিংবা একটি মুখ্য লক্ষণের সঙ্গে দুটি গৌণ লক্ষণ নিশ্চিতভাবে মিলে গেলে বাতজ্বর নির্ণয় করা যায়। তার সঙ্গে বিটা হিমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাসজনিত সংক্রমণের ইতিহাস বা প্রমাণও থাকতে হবে।

 হাম ও রুবেলায় জ্বর

শিশু ছাড়াও যেকোনো বয়সে হাম হয়। কাশি, চোখের লালচে ভাব, সর্দি ইত্যাদি উপসর্গের পাশাপাশি জ্বর শুরুর তিন-চার দিন পর লালচে ছোপ বা লালচে ছোপ-দানাদার মিশ্র র‌্যাশ দেখা দেয়, যা মাথা ও গলা থেকে শুরু হয়ে শরীর-হাতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চার থেকে ছয় দিন স্থায়ী হতে পারে। আর রুবেলার লক্ষণগুলো হামের মতোই। তবে তীব্রতা মৃদু এবং র‌্যাশ দু-তিন দিন স্থায়ী হয়। সাধারণত এতে লসিকা গ্রন্থিও ফুলে যায়।

 আরও কিছু জ্বরজারি

ওষুধজনিত কারণে জ্বর

বিভিন্ন ওষুধের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় জ্বরসহ দেহে দানা বা র‌্যাশ দেখা দিতে পারে।

 স্কারলেট জ্বর

জ্বর, গলাব্যথা, বমি এবং স্ট্রেপটোকক্কাস জীবাণুজনিত গলার প্রদাহ পরবর্তী টক্সিন-সৃষ্ট একটি রোগ স্কারলেট জ্বর। এতে সারা দেহে উজ্জ্বল লালচে বর্ণের র‌্যাশ দেখা দেয়। সাধারণত জ্বর শুরুর দু-তিন দিন পর মুখে ও শরীরে দেখা দেয়। কম বয়সীরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়।

 ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস

ভাইরাসজনিত এ রোগ লালা, হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। সব বয়সে দেখা দেয় এবং জ্বরের সঙ্গে বিভিন্ন আকারের লালচে-ছোপ সারা শরীরে পাওয়া যায়।

 জলবসন্ত

জ্বর, গলাব্যথা, মাথা-শরীরব্যথা শুরুর দু-তিন দিন পর লালচে আভার ওপর ফুসকুড়ি দেখা যায়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে আসে।

 হারপেস জসটার

বয়স্কদের বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ভেরিসেলা জসটার নামক ভাইরাস সুপ্তাবস্থা থেকে পুনরায় আক্রমণ করে। শুরুতে স্নায়ুর বিস্তৃতি বরাবর এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বুকে ও মুখের এক পাশে তীব্র জ্বালাপোড়া ও লালচে র‌্যাশ হয়, পরে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।

বেশির ভাগ র‌্যাশ জ্বর সেরে যায় সঙ্গে সঙ্গে। এ জন্য আলাদা চিকিৎসার দরকার হয় না। তবে অতিরিক্ত চুলকানি থাকলে অ্যান্টি-হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যায়। এই সব দানা কখনোই নখ দিয়ে চুলকানো বা আঁচড়ানো উচিত নয়, এতে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। ত্বক পরিচ্ছন্ন ও আর্দ্র রাখতে হবে।

 জ্বরে করণীয়

জ্বর হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়ে। তাই বাড়তি ক্যালরির প্রয়োজন হয়। অনেকে জ্বর হলে কিছু খাবেন না বলে ঠিক করেন। এতে নিজেরই ক্ষতি। জ্বরে সাধারণত শরীরের তাপমাত্রাকে ১০০-এর নিচে নামিয়ে আনা, তাপমাত্রাকে কমানো, গা মোছা ছাড়াও চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করা হয়। জ্বরের সময় বেশির ভাগ মানুষেরই রুচি কমে যায়। তাই এই সময় রোগীর খাবারের প্রতি অনীহা থাকলেও পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণে রোগীকে সঠিক খাবার-দাবার চালিয়ে যেতে হয়।

১. তরল: জ্বরের সময় যেই খাবারটির চাহিদা সবচেয়ে বৃদ্ধি পায়, সেটি হলো তরলজাতীয় খাবার। রোগীর বিপাকের হার বৃদ্ধি, শরীরের তাপমাত্রাকে স্বাভাবিকে আনা, হজমে ব্যাঘাত না ঘটানো ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখে তরল খাবার নির্ধারণ করা হয়। তরল হিসেবে ফলের রস, স্যুপ, লাল চা ইত্যাদি খেতে পারেন। বিশেষ করে ভিটামিন সি-যুক্ত ফল, যেমন কমলা, মাল্টা, লেবু, জাম্বুরা, আনারস ইত্যাদি। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে।

২. নরম পথ্য: তরলের পাশাপাশি রোগীকে নরম বা অর্ধতরল খাবার দেওয়া গেলে ভালো। রোগীকে যেন বেশি চাবাতে না হয়, সহজে গেলা যায় এবং সহজে হজম হয়, সে জন্য নরম পথ্য নির্বাচন করতে হবে। যেহেতু তরল খাবারে ক্যালরি কম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান কম পাওয়া যায়, তাই তরল খাবারের পাশাপাশি রোগীকে নরম খাবারও দিতে হবে। নরম পাতলা মুগ ডালের খিচুরি, জাউভাত, সুজি, সাগু, পুডিং, নরম কাঁটা ছাড়া মাছ ইত্যাদি খাবার রোগীকে দিতে পারলে ভালো।

 কী কী খাবার এড়িয়ে চলা ভালো

ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া খাবার, অতিরিক্ত শক্ত খাবার ইত্যাদি। কড়া দুধ চা ও কফি, কোল্ড ড্রিংকস এসব খাবার শুধু হজমেই অসুবিধা করে না, জ্বরে দ্রুত আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে। তাই এ সময়টায় এ ধরনের খাবার এড়িয়ে গেলেই ভালো হয়।

অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন শাহরুখ খান

অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন শাহরুখ খান

শুটিং সেটে আঘাতের বিষয়টি শাহরুখের নতুন নয়। এর আগে অনেকবারই শুটিং করতে গিয়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এ অভিনেতা। তবে এবার অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেলেন তিনি।

বর্তমানে আনন্দ এল রাইয়ের সিনেমার শুটিং করছেন শাহরুখ। সেই শুটিং সেটেই ঘটেছে দুর্ঘটনা। শুটিং সেটে শাহরুখ যেখানে বসে ছিলেন ঠিক তার অপর পাশের ছাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। শাহরুখ রক্ষা পেলেও আহত হয়েছে শুটিংয়ের দুজন সদস্য। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম।

অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন শাহরুখ খান
অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন শাহরুখ খান

এ প্রসঙ্গে একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘অস্থায়ীভাবে তৈরি একটি ছাদ মইয়ের ওপর ভর দেয়া অবস্থায় ছিল। যা হঠাৎ ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় আহত সদস্যদের সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে কারণ আঘাত গুরুতর ছিল না। সবাই অনেকটা হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন কারণ শাহরুখ অপর প্রান্তেই বসে ছিলেন। দুই দিনের জন্য শুটিং বন্ধ করা হয়েছে। এই সপ্তাহের শেষে আবার শুটিং শুরু হবে।’

সিনেমাটি শাহরুখ ছাড়া আরো অভিনয় করছেন আনুশকা শর্মা এবং ক্যাটরিনা কাইফ। এতে বামন চরিত্রে অভিনয় করছেন শাহরুখ। অন্যদিকে আনুশকাকে দেখা যাবে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মেয়ের চরিত্রে। সিনেমাটিতে নিজের ভূমিকাতেই অভিনয় করবেন ক্যাটরিনা। জাব তাক হ্যায় জান সিনেমার পর আবারো একসঙ্গে পর্দায় হাজির হচ্ছেন এ তিনজন।

এবার বাংলাদেশে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা গ্রেফতার

এবার বাংলাদেশে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা গ্রেফতার

ধর্ষণ, গণধর্ষণ। বাবা কর্তৃক মেয়েকে ধর্ষণ কিংবা ভাই তার আপন বোনকে ধর্ষণ যেন ভারতের নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা। এবার তেমনই এক ঘটনা ঘটলো বাংলাদেশের মদারীপুরে।

মাদারীপুর সদর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে মেয়েটির মা বাদী হয়ে মামলাও করেছেন।

এবার বাংলাদেশে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা গ্রেফতার
এবার বাংলাদেশে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা গ্রেফতার

মাদারীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক মেহেদি হাসান জানান, মেয়েটির ওপর একাধিকবার তার বাবা নির্যাতন চালিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির মাতুব্বর এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি জানান, মেয়েটিকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হচ্ছিল। তার স্ত্রী বাধা দিয়েও পারেননি; বরং নির্যাতনের মাত্রা বেড়েছিল।

কুনিয়া ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জিয়াউল ইসলাম বাপ্পী বলেন, এ ঘটনা ন্যক্কারজনক। ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। নির্যাতনকারীর শাস্তি দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, নির্যাতনের ঘটনাটি জানাজানি হলে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় ওই ব্যক্তি। গতকাল বাড়িতে ফিরে এলে লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

জেনে নিন | ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্য

ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্য

কোনো প্রাণীর-মূর্তি নির্মাণ করা ইসলামী শরীয়তে কঠিন কবীরা গুনাহ ও হারাম । মূর্তি সংগ্রহ, মূর্তি সংরক্ষণ এবং মূর্তির বেচাকেনা ইত্যাদি সকল বিষয় কঠিনভাবে নিষিদ্ধ। মূর্তিপূজার কথা তো বলাই বাহুল্য, মূর্তি নির্মাণেরও কিছু কিছু পর্যায় এমন রয়েছে যা কুফরী।

কেউ কেউ মূর্তি ও ভাস্কর্যের মধ্যে বিধানগত পার্থক্য দেখাতে চান। এটা চরম ভুল। ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্য দুটোই  পরিত্যাজ্য। কুরআন মজীদ ও হাদীস শরীফে এ প্রসঙ্গে যে শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলো মূর্তি ও ভাস্কর্য দুটোকেই নির্দেশ করে। এ প্রসঙ্গে কুরআন মজীদের স্পষ্ট নির্দেশ-

فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْاَوْثَانِ وَ اجْتَنِبُوْا قَوْلَ الزُّوْرِۙ۝۳۰

‘তোমরা পরিহার কর অপবিত্র বস্ত্ত অর্থাৎ মূর্তিসমূহ এবং পরিহার কর মিথ্যাকথন।’ -সূরা হজ্জ : ৩০

এই আয়াতে পরিস্কারভাবে সবধরনের মূর্তি পরিত্যাগ করার এবং মূর্তিকেন্দ্রিক সকল কর্মকান্ড  বর্জন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আরো লক্ষণীয় বিষয় এই যে. উপরের আয়াতে সকল ধরনের মূর্তিকে ‘রিজস’ শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘রিজ্স’ অর্থ নোংরা ও অপবিত্র বস্ত্ত। বোঝা যাচ্ছে যে, মূর্তির সংশ্রব পরিহার করা পরিচ্ছন্ন ও পরিশীলিত রুচিবোধের পরিচায়ক।

দ্বিতীয় আয়াত

অন্য আয়াতে কাফের সম্প্রদায়ের অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে এভাবে-

وَ قَالُوْا لَا تَذَرُنَّ اٰلِهَتَكُمْ وَ لَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَّ لَا سُوَاعًا ۙ۬ وَّ لَا یَغُوْثَ وَ یَعُوْقَ وَ نَسْرًاۚ۝۲۳

‘এবং তারা বলেছিল, তোমরা কখনো পরিত্যাগ করো না তোমাদের উপাস্যদেরকে এবং কখনো পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ, সুওয়া, ইয়াগূছ, ইয়াঊক ও নাসরকে।’ -সূরা নূহ : ২৩

এখানে কাফের সম্প্রদায়ের দুটো বৈশিষ্ট্য উল্লেখিত হয়েছে : ১. মিথ্যা উপাস্যদের পরিত্যাগ না করা। ২. মূর্তি ও ভাস্কর্য পরিহার না করা। তাহলে মিথ্যা উপাস্যের উপাসনার মতো ভাস্কর্যপ্রীতিও কুরআন মজীদে কাফেরদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত। অতএব এটা যে ইসলামে গর্হিত ও পরিত্যাজ্য তা তো বলাই বাহুল্য।

উপরের আয়াতে উল্লেখিত মূর্তিগুলো সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, এগুলো হচ্ছে নূহ আ.-এর সম্প্রদায়ের কিছু পুণ্যবান লোকের নাম। তারা যখন মৃত্যুবরণ করেছে তখন শয়তান তাদের সম্প্রদায়কে এই কুমন্ত্রনা দিয়েছে যে, তাদের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলোতে মূর্তি স্থাপন করা হোক এবং তাদের নামে সেগুলোকে নামকরণ করা হোক। লোকেরা এমনই করল। ওই প্রজন্ম যদিও এই সব মূর্তির পূজা করেনি কিন্তু ধীরে ধীরে প্রকৃত বিষয় অস্পষ্ট হয়ে গেল এবং পরবর্তী প্রজন্ম তাদের পূজায় লিপ্ত হল। -সহীহ বুখারী হাদীস : ৪৯২০

তৃতীয় আয়াত

কুরআন মজীদে মূর্তি ও ভাস্কর্যকে পথভ্রষ্টতার কারণ হিসেবে চিহ্ণিত করা হয়েছে। এক আয়াতে এসেছে-

رَبِّ اِنَّهُنَّ اَضْلَلْنَ كَثِیْرًا مِّنَ النَّاسِ ۚ

‘ইয়া রব, এরা (মূর্তি ও ভাস্কর্য) অসংখ্য মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে!’ -সূরা ইবরাহীম : ৩৬

অন্য আয়াতে এসেছে-

وَ قَالُوْا لَا تَذَرُنَّ اٰلِهَتَكُمْ وَ لَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَّ لَا سُوَاعًا ۙ۬ وَّ لَا یَغُوْثَ وَ یَعُوْقَ وَ نَسْرًاۚ۝۲۳ وَ قَدْ اَضَلُّوْا كَثِیْرًا ۚ۬

‘আর তারা বলেছিল, তোমরা পরিত্যাগ করো না তোমাদের উপাস্যদের এবং পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ সুওয়াকে, ইয়াগূছ, ইয়াঊক ও নাসরকে। অথচ এগুলো অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে।’ -সূরা নূহ : ২৩-২৪

কুরআন মজীদে একটি বস্ত্তকে ভ্রষ্টতার কারণ হিসেবে  চিহ্ণিত করা হবে এরপর ইসলামী শরীয়তে তা বৈধ ও গ্রহণযোগ্য থাকবে-এর চেয়ে হাস্যকর কথা আর কী হতে পারে।

চতুর্থ আয়াত

কুরআনের ভাষায় মূর্তি ও ভাস্কর্য হল বহুবিধ মিথ্যার উৎস। ইরশাদ হয়েছে-

اِنَّمَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اَوْثَانًا وَّ تَخْلُقُوْنَ اِفْكًا ؕ

তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে উপাসনা কর (অসার) মূর্তির এবং তোমরা নির্মাণ কর ‘মিথ্যা’। -সূরা আনকাবুত : ১৭

মূর্তি ও ভাস্কর্য যেহেতু অসংখ্য মিথ্যার উদ্ভব ও বিকাশের উৎস তাই উপরের আয়াতে একে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই আয়াতগুলো থেকে পরিষ্কার জানা যাচ্ছে যে, মূর্তি ও ভাস্কর্য দুটোই সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য।

ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্য
ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্য

হাদীস শরীফেও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূর্তি ও ভাস্কর্য সম্পর্কে পরিষ্কার বিধান দান করেছেন।

১. হযরত আমর ইবনে আবাসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ‘আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রেরণ করেছেন আত্মীয়তার সর্ম্পক বজায় রাখার, মূর্তিসমূহ ভেঙ্গে ফেলার, এবং এক আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো কিছুকে শরীক না করার বিধান দিয়ে। -সহীহ মুসলিম হা. ৮৩২

২. আবুল হাইয়াজ আসাদী বলেন, আলী ইবনে আবী তালেব রা. আমাকে বললেন, ‘আমি কি তোমাকে ওই কাজের দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করব না, যে কাজের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রেরণ করেছিলেন? তা এই যে, তুমি সকল প্রাণীর মূর্তি বিলুপ্ত করবে এবং সকল সমাধি-সৌধ ভূমিসাৎ করে দিবে।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে,… এবং সকল চিত্র মুছে ফেলবে।’ -সহীহ মুসলিম হা. ৯৬৯

৩. আলী ইবনে আবী তালেব রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে মদীনায় যাবে এবং যেখানেই কোনো প্রাণীর মূর্তি পাবে তা ভেঙ্গে ফেলবে, যেখানেই কোনো সমাধি-সৌধ পাবে তা ভূমিসাৎ করে দিবে এবং যেখানেই কোনো চিত্র পাবে তা মুছে দিবে?’ আলী রা. এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্ত্তত হলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কেউ পুনরায় উপরোক্ত কোনো কিছু তৈরী করতে প্রবৃত্ত হবে সে মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি নাযিলকৃত দ্বীনকে অস্বীকারকারী।’ -মুসনাদে আহমাদ হা. ৬৫৭

এই হাদীসগুলো থেকে স্পষ্ট জানা যাচ্ছে যে, যে কোনো প্রাণী মূর্তিই ইসলামে পরিত্যাজ্য এবং তা বিলুপ্ত করাই হল ইসলামের বিধান। আর এগুলো নির্মাণ করা ইসলামকে অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্য।

৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

إِنَّ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُوْنَ.

প্রতিকৃতি তৈরিকারী (ভাস্কর, চিত্রকর) শ্রেণী হল ওইসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে কিয়ামত-দিবসে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে।’ -সহীহ বুখারী হা. ৫৯৫০

৫. আবু হুরায়রা রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন-

إِنَّ أَصْحَابَ هَذِهِ الصُّوَرِ يُعَذَّبُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَيُقَالُ لَهُمْ : أَحْيُوْا مَا خَلَقْتُمْ.

ওই লোকের চেয়ে বড় জালেম আর কে যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করার ইচ্ছা করে। তাদের যদি সামর্থ্য থাকে তবে তারা সৃজন করুক একটি কণা এবং একটি শষ্য কিংবা একটি যব! -সহীহ বুখারী হা. ৫৯৫৩

এই হাদীসটি বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যখন ভাস্কর-চিত্রকর, এমনকি গল্পকার ও ঔপন্যাসিকদেরকে পর্যন্ত ‘স্রষ্টা’ বলতে এবং তাদের কর্মকান্ডকে ‘সৃষ্টি’ বলতে সামান্যতমও দ্বিধাবোধ করা হয় না। কোনো কোনো আলোচকের আলোচনা থেকে এতটা ঔদ্ধত্যও প্রকাশিত হয় যে, যেন তারা সত্যি সত্যিই স্রষ্টার আসনে আসীন হয়ে গিয়েছেন!

সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার হাফেয ইবনে হাজার আসকানী রাহ. লেখেন- এই ভাস্কর ও চিত্রকর সর্বাবস্থাতেই হারাম কাজের মধ্যে লিপ্ত। আর যে এমন কিছু নির্মাণ করে যার পূজা করা হয় তার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। আর যে স্রষ্টার সামঞ্জস্য গ্রহণের মানসিকতা পোষণ করে সে কাফের ।’ -ফতহুল বারী ১০/৩৯৭

৬. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. ও আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ خَلْقًا كَخَلْقِيْ؟ فَلْيَخْلُقُوْا ذَرَّةً وَلْيَخْلُقُوْا حَبَّةً أَوْ لِيَخْلُقُوْا شَعِيْرَةً.

এই প্রতিকৃতি নির্মাতাদের (ভাস্কর, চিত্রকরদের) কিয়ামত-দিবসে আযাবে নিক্ষেপ করা হবে এবং তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, যা তোমরা ‘সৃষ্টি’ করেছিলে তাতে প্রাণসঞ্চার কর!’

-সহীহ বুখারী হা. ৭৫৫৭, ৭৫৫৮;

৭. আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে কেউ দুনিয়াতে কোনো প্রতিকৃতি তৈরি করে কিয়ামত-দিবসে তাকে আদেশ করা হবে সে যেন তাতে প্রাণসঞ্চার করে অথচ সে তা করতে সক্ষম হবে না।’ -সহীহ বুখারী হা. ৫৯৬৩

৮. আউন ইবনে আবু জুহাইফা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদ ভক্ষণকারী ও সুদ প্রদানকারী, উল্কি অঙ্কণকারী ও উল্কি গ্রহণকারী এবং প্রতিকৃতি প্রস্ত্ততকারীদের (ভাস্কর, চিত্রকরদের) উপর লানত করেছেন। -সহীহ বুখারী হা. ৫৯৬২

এই হাদীসগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে,ভাস্কর্য নির্মাণ অত্যন্ত কঠিন কবীরা গুনাহ। আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কুফরীরও পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

মূর্তি ও ভাস্কর্যের বেচাকেনাও হাদীস শরীফে সম্পূর্ণ হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে।

৯. হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় মক্কায় থাকা অবস্থায় এই ঘোষণা দিয়েছেন যে, আল্লাহ ও তার রাসূল মদ ও মূর্তি এবং শুকর ও মৃত প্রাণী বিক্রি করা হারাম করেছেন।’ -সহীহ বুখারী হা. ২২৩৬

১০. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতার সময় তাঁর জনৈকা স্ত্রী একটি গির্জার কথা উল্লেখ করলেন। গির্জাটির নাম ছিল মারিয়া। উম্মে সালামা ও উম্মে হাবীবা ইতোপূর্বে হাবাশায় গিয়েছিলেন। তারা গির্জাটির কারুকাজ ও তাতে বিদ্যমান প্রতিকৃতিসমূহের কথা আলোচনা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শয্যা থেকে মাথা তুলে বললেন, ওই জাতির কোনো পুণ্যবান লোক যখন মারা যেত তখন তারা তার কবরের উপর ইবাদতখানা নির্মাণ করত এবং তাতে প্রতিকৃতি স্থাপন করত। এরা হচ্ছে আল্লাহর নিকৃষ্টতম সৃষ্টি।’-সহীহ বুখারী  হা. ১৩৪১ সহীহ মুসলিম হা. ৫২৮ নাসায়ী হা. ৭০৪

১১. আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, ‘(ফতহে মক্কার সময়) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বায়তুল্লাহয় বিভিন্ন প্রতিকৃতি দেখলেন তখন তা মুছে ফেলার আদেশ দিলেন। প্রতিকৃতিগুলো মুছে ফেলার আগ পর্যন্ত তিনি তাতে প্রবেশ করেননি।’ -সহীহ বুখারী হা. ৩৩৫২

দৃষ্টান্তস্বরূপ এগারোটি হাদীস পেশ করা হল। আলোচিত প্রসঙ্গে ইসলামী বিধান বোঝার জন্য এটুকুই যথেষ্ট। কুরআন মজীদে যে কোনো ধরনের মূর্তির সংশ্রব ও সংশ্লিষ্টতা পরিহারের যে আদেশ মুমিনদেরকে করা হয়েছে সে সম্পর্কে একটা বিস্তারিত ধারণাও উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে জানা গেল।

কুরআন ও সুন্নাহর এই সুস্পষ্ট বিধানের কারণে মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ইত্যাদি সকল বিষয়ের অবৈধতার উপর গোটা মুসলিম উম্মাহর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জেনে নিন | সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার করতে এলে আপনি কি করবেন

সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার করতে এলে আপনার করনীয়

হঠাৎ করে সাদাপোশাকধারী কিছু লোক এসে যদি আপনাকে বলে যে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। আপনাকে তাদের সঙ্গে যেতে হবে, আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। আপনি কিছু না বুঝে ওঠার আগেই তারা আপনাকে গ্রেপ্তার করে বসল। অথচ আপনি কোনো অপরাধই করেননি। কিংবা ঘটনাটি আপনার সঙ্গে না ঘটে কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে ঘটল। এ অবস্থায় কী করার আছে আপনার? আপনার কি কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাওয়া সম্ভব কিংবা কীভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন?

সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার করতে এলে আপনার করনীয়
সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার করতে এলে আপনার করনীয়

এমন পরিস্থিতির শিকার হলে
প্রথমেই মনে রাখতে হবে দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানার অধিকার রয়েছে কেন, কী কারণে আপনাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাই প্রথমেই জানতে চাইতে হবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগটি কী? অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তাদের পরিচয় জানতে চাইবেন এবং তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইবেন। একা একা কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে সঙ্গে খবর দিন। প্রয়োজনে আশপাশের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীদের খবর দিন এবং যত পারা যায় লোকজন জড়ো করার চেষ্টা করুন। আপনার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না, তা দেখতে চাইবেন। যদি তারা আপনাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে আপনি একা তাদের সঙ্গে যাবেন না বলে তাদের জানিয়ে দেন এবং পরিবারের দু-একজনকে সঙ্গে নেবেন বলে তাদের জানান। প্রয়োজনে নিকটস্থ থানায় ফোন করে আপনার গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান। এবং থানা এ সম্পর্কে অবগত অছে কি না, তা জানার চেষ্টা করুন। আপনার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ দেখাতে না পারলে আপনাকে হয়তো ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের কথা বলতে পারে। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার নিয়ে ২০১৬ সালের ২৪ মে আপিল বিভাগ রায় দিয়েছেন এবং কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যা ১০ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে পূর্ণাঙ্গ রায় হিসেবে প্রকাশিত হয়।

আপিল বিভাগের নির্দেশনা
আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে বাধ্য থাকবে এবং পুলিশের পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে। গ্রেপ্তারের স্থান ও সময় ব্যক্তির স্বাক্ষরসহ গ্রেপ্তারের পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ বিষয়ে একটি মেমোরেন্ডাম তৈরি করবেন। গ্রেপ্তারের সময় ও স্থান এবং আটক রাখার জায়গা গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির আত্মীয়কে জানাতে হবে। আত্মীয়স্বজন না পেলে ব্যক্তির নির্দেশনা মেনে তাঁর বন্ধুকে জানাতে হবে। এ জন্য সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা সময় পাওয়া যাবে। কোন যুক্তিতে, কার তথ্যে বা অভিযোগে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ঠিকানাসহ তা কেস ডায়েরিতে লিখতে হবে, আটক ব্যক্তি কোন কর্মকর্তার তদারকিতে রয়েছেন, তাও উল্লেখ করতে হবে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা যাবে না। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাত থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে তা রেকর্ড করে চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছ থেকে সনদ নিতে হবে।

জামিনের জন্য চেষ্টা করতে হবে
গ্রেপ্তার হলে গ্রেপ্তারের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চালান দেবেন। ২৪ ঘণ্টা সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো অবস্থাতেই (ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়া) পুলিশ আপনাকে আটক রাখতে পারবে না। এ সময় পুলিশ আপনাকে গুরুতর কোনো অভিযোগে রিমান্ডের আবেদন করতে পারে। আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ডায়েরির অনুলিপি ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে আদালতে হাজির করে আটকাদেশ চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট, আদালত, ট্রাইব্যুনাল একটি বন্ড গ্রহণ করে তাঁকে মুক্তি দেবেন। আটক থাকা কোনো ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট মামলায় যদি গ্রেপ্তার দেখাতে চায়, সে ক্ষেত্রে যদি ডায়েরির অনুলিপিসহ তাঁকে হাজির না করা হয়, তাহলে আদালত তা মঞ্জুর করবেন না। কোনো কারণে নিম্ন আদালতে জামিন না হলে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে।

হযরত উসমান রা. এর ওয়াকফকৃত কুয়ার পানি এখনো বহমান

হযরত উসমান রা. এর ওয়াকফকৃত কুয়ার পানি এখনো বহমান

হযরত উসমান রা. এর পক্ষ থেকে ওয়াকফকৃত কুয়ার পানি এখন পর্যন্ত শুকায়নি। আরবের একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থার টিম মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত ‘বাহরে রুমা’ এর পরীক্ষা করে দেখেছেন কুয়া থেকে এখনো পানি বহমান।

১৪০০ বছর পূর্বে ইসলামের ৩য় খলীফা ও রাসুল সা এর জামাতা হযরত উসমান রা. এই কুয়া কিনে কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দেন। এই কুয়ার পানি দ্বারা আজও ‘বাগে উসমান’ নামক বাগানে পানি দেয়া হয়। এই বাগান সৌদি কৃষি মন্ত্রণালয়ের নেগরানিতে আছে, যে কারণে সেখানে প্রবেশ করা নিষেধ।

‘বাহরে রুমা’ নামক এই কুয়া একজন সাহাবীর মালিকানাধীন ছিল। যার নাম রুমা আল গিফারি। তিনি এই কুয়ার পানি বিক্রি করতেন।

একবার হযরত রাসুলে আকরাম সা তাকে বললেন, “তুমি কি এই কুয়া জান্নাতের ঝরনার বিনিময় বিক্রি করবে?” সাহাবি রুমা আল গিফারি বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল আমার কাছে এই একটি মাত্র কুয়া ব্যাতিত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই তাই আমি এই কুয়া বিক্রি করতে পারব না”।

তারপর, হযরত উসমান রা. ৩৫ হাজার দিরহামের বিনিময় কুয়াটি ক্রয় করে নেন এবং রাসুল সা এর দরবারে এসে উপস্থিত হয়ে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল আমি যদি ওই কুয়া কিনি তাহলে রুমার জন্য জান্নাতে যে ঝরনার পুরস্কার ছিল আমার জন্যেও কি তাই থাকবে? রাসুল সা বললেন, “অবশ্যই থাকবে”।

হযরত উসমান রা. বললেন, আমি কুয়াটি কিনে নিয়েছি এবং আজ থেকে এই কুয়ার পানি কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত মুসলমানের জন্য উন্মুক্ত করে দিলাম। আল্লাহ তায়ালার কি মহিমা! তিনি আজও সেই কুয়ার পানি বহমান রেখেছেন!

মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব চেয়েছেন জাকির নায়েক

মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব চেয়েছেন জাকির নায়েক

ডা. জাকির নায়েক মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব চেয়েছেন। এনআইএ-এর বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা পিটিআই এই খবর জানিয়েছে।

গ্রেফতারি এড়াতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে ভারতের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সেক্ষেত্রে জাকির নায়েক মালয়েশিয়াতে গিয়ে কী করে গ্রেফতার এড়াবেন, সে বিষয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব চেয়েছেন জাকির নায়েক
মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব চেয়েছেন জাকির নায়েক

গত বছর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলশান এলাকায় হোলি আর্টিজান ক্যাফেতে জঙ্গি হানা হয়। সেই হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গিরা বিতর্কিত ভারতীয় ধর্মীয় প্রবক্তা জাকির নায়েকের অনুষ্ঠান ‘পিস টিভি’তে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে কাশ্মীরে হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি কমান্ডার বুরহান ওয়ানিকে হত্যা করে সেনাবাহিনী। জানা যায় তিনিও জাকির নায়েকের অনুষ্ঠাণের ভক্ত ছিলেন। ইতিমধ্যে জঙ্গি কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠছে জাকির নায়েকের সংস্থার বিরুদ্ধে। মুম্বাইতে সেই সংস্থায় তালা ঝুলিয়েছে পুলিশ। বন্ধ করা হয়েছে তার ‘পিসি টিভি’র অনুষ্ঠান সম্প্রচার।

ঢাকার গুলশানে হামলার পরই মুম্বাই ছেড়ে সৌদি আরবে চলে গিয়েছেন জাকির নায়েক। তিনি এখন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর দুবাইতে রয়েছেন।