রাত ১১টার পর ফেসবুক বন্ধ চান রওশন

রাত ১১টার পর ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপসহ সব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ। জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন বলেন, এবারের অর্থবাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ টাকা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে হবে। ইয়ং জেনারেশন সারারাত ধরে মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ভাইবার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। রাত ১১টার পর এগুলো বন্ধ করতে হবে। অনেক দেশেই এসব রাতে বন্ধ থাকে।

বুধবার জাতীয় সংসদে ২০১৭- ২০১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ভ্যাট আদায় করা সমীচীন হবে না মন্তব্য করে রওশন এরশাদ বলেন, গত অর্থবছরের বাজেটে চিন্তা ছিল রাজস্ব আদায়। এবার অর্থমন্ত্রী ভাবছেন ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধরা হয়েছে, সম্পূরক শুল্ক আছে, করপোরেটের ট্যাক্স আছে। কাজেই এবার রাজস্ব আদায় হবে।

এভাবে মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ভ্যাট আদায় করা ঠিক সমীচীন হবে না। এটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে, বলেন জাতীয় পার্টির এই সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান।

এডিবির বিষয়ে রওশন বলেন, অর্থমন্ত্রী ভালো করেই জানেন এডিবির অর্থায়নে যেসব প্রকল্প নেয়া হয় তা কিন্তু পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় না। প্রথম ১০ মাসে ৫৮ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়। পরের ২ মাসে তাড়াহুড়ো করে বরাদ্দটা নেয়, কিন্তু প্রকল্প শেষ হয় না। বড় প্রকল্প মানেই বড় লুটপাট।

এডিবিতে যা বরাদ্ধ দেয়া হয় তা যেন বাস্তবায়ন হয়, সে বিষয়ে নজর দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেন, পহেলা জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে। জনগণের ভ্যাটটা যদি কাটা হয় শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ভ্যাট আইন গ্রহণযোগ্য নয়। আবারও মাননীয় অর্থমন্ত্রী চিন্তাভাবনা করবেন বলে মনে করি।

তিনি বলেন, জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৭.২ শতাংশ, আগামীতে ৭.৪ শতাংশ করার লক্ষ্যমাত্রা। মাত্র ০.২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা। এভাবে হবে না।

রওশন এরশাদ বলেন, বিনিয়োগের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন, যা এখনও আমাদের দেশে গড়ে ওঠেনি। বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে সে পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এখনো গ্রাম-গঞ্জে বিদ্যুৎ নেই। বেসরকারিখাতে বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান হবে না। সেজন্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার (অবকাঠামো) গড়ে তুলতে হবে। নইলে বিনিয়োগ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবছর ২৪-২৫ লাখ ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শেষ করে বের হয়। কর্মক্ষম ১০ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ৫ কোটির কাজ আছে। বাকি লোকের কর্মসংস্থান নেই। এলাকাভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কর্মসংস্থান না হলে ছেলেমেয়েরা নেশাগ্রস্ত হবে, না হয় জঙ্গি হবে।

তিনি খাদ্যে ভেজাল রোধে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, খাদ্যে ভেজাল ঠেকানো না গেলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।

যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই ঢাকা শহর তলিয়ে যায়। ঢাকাকে বাঁচাতে হবে।

অসামাজিক কার্যকলাপ, হোটেলে ৪০ তরুণ-তরুণী আটক

গাজীপুর থেকে: অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে টঙ্গীর কয়েকটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৪০ জন তরুণ-তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার রাত ৮টার দিকে টঙ্গীর আবাসিক হোটেল বন্ধু, সুন্দরবন, অনামিকাসহ কয়েকটি হোটেলে অভিযান পরিচালনা করার সময় অনেকে দুই তলা তিন তলা থেকে লাফ দিয়ে পালানোর সময় এলাকার সাধারণ জনগণ তাদেরকে ধরে উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

টঙ্গী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. হাসানুজ্জামান জানান, ঈদের ছুটিতে মহানগরীর টঙ্গীতে আবাসিক হোটেলগুলোতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে এমন খবরের ভিত্তিতে বুধবার রাতে টঙ্গী এলাকায় বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ঐ তরুণ-তরুণীদের আটক করা হয়।

কুয়েতে তিন বাংলাদেশী নিহত

কুয়েতে সড়ক দূর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশী নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। গত সোমবার বিকেল চারটার দিকে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে ৮০ নং রোডে (আবদালী-জাহারা) একটি ভারী গাড়ীর সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে একজন এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো দু’জনসহ মোট তিন বাংলাদেশি নিহত হন।

দুর্ঘটনায় নিহত তিনজন হলেন গাড়ীর ড্রাইভার আলা উদ্দিন (৩০) বাড়ী চট্টগ্রাম-মিরসরাই, আবু বক্কর সিদ্দিক (৫০) কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের শ্রিপুর ইউনিয়ন সাতঘরিয়া গ্রাম এবং মাহমুদুল আলম (৩৮) কুমিল্লা।

জানা গেছে, গাড়ীটিতে ড্রাইভারসহ মোট ১৯ জন প্রবাসী ছিলো যারা সবাই বাংলাদেশি মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির শ্রমিক। বর্তমানে আরো দু’জন আইসিইউ তে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এবং সাতজন আহত জাহারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাবতলীর গরুর হাটের আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর গাবতলীর গুরুর হাটের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরের ডিউটি অফিসার এনায়েত হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তবে কীভাব আগুন লেগেছে এ তথ্য এখনও জানা যায়নি। তাছাড় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনও জানা সম্ভব হয়নি।

জর্ডানে ১৫ বাংলাদেশী নিহত হবার খবর, সত্যতা মিলছেনা

বুধবার সকাল থেকেই একটি নিউজ বিভিন্ন অনলাইনে প্রকাশ পাচ্ছে। আর তা হল জর্ডানে আল হাসান শহরে ক্লাসিক ফ্যাশন নামে একটি পোশাক কারখানার বয়লার বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সিএনআই নিউজ নামে উদ্বৃতি নিয়ে এসব খবর প্রকাশ করা হয়।

দেশের একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের অনলাইন ভার্সনেও এই খবর প্রকাশ করে। তবে মূল ধারার কোন অনলাইন গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশ পায়নি।

বিডি২৪লাইভ বিভিন্ন সূত্র থেকে খোজার চেষ্টা করে সংবাদটির সত্যতা। এতে দেখা যায় বয়লার বিস্ফোরনের ঘটনা সত্য তবে এতে একজন ভারতীয় নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এবং আহত হয়েছে অন্তত ৩৩ জন। আহতদের মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশী রয়েছে।

খবরে প্রকাশ, র্জডানের আল হাসান ইন্ড্রাস্ট্রয়িাল এলাকায় অবস্থতি র্সববৃহত গার্মন্টেস ফ্যাক্টরী ক্লাসকি ফ্যাশনরে ক্লাসকি ২ শাখায় গতকাল ২৮ জুন সকাল আনুমানকি ৭.৩০ মিনিটে ফ্যাক্টরীর বাহিরে অবস্থতি একটি বয়লার বষ্ফিোরতি হয়। এতে পোশাক কারখানার বাহিরে কর্মরত একজন ভারতীয় ক্লিনার নিহত হয় এবং পার্শ্ববর্তী কারখানার ভিতরে কর্মরত বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলংকাসহ মোট ৩৩ জন কর্মচারী আহত হয়। আহতদেরকে দ্রুত স্থানীয় কিংস আব্দুল্লাহ হসপাতালে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয় এবং জরুরী ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়।

প্রাথমকি চিকিৎসা শেষে তাদরেকে নিজ নিজ আবাসস্থলে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দূতাবাস সূত্রে জানা যায়। বর্তমানে ৪ জন বাংলাদেশী কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে এবং তারা সকলইে আশঙ্কামুক্ত বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দূতাবাসকে জানায়।

বাংলাদশে দূতাবাস, আম্মানে কর্মরত কর্মকর্তাগন সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাস সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

ভারতের যৌনপল্লিতে বাড়ছে বাংলাদেশি নারী-শিশু

রাহীদ এজাজ: দুই প্রতিবেশী দেশের পাচারকারী চক্র বাংলাদেশের ভাগ্য বিড়ম্বিত নারী ও শিশুদের সরলতা ও অসচেতনতাকে পুঁজি করে তাদের বিক্রি করে দিচ্ছে যৌনপল্লিতে। ফলে ভারতের যৌনপল্লিগুলোতে শিশু, কিশোরী ও নারীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ও কুষ্টিয়ার লোকজন এই প্রতারণার শিকার হচ্ছে।

ভারতে মানব পাচার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে লেখা এক চিঠিতে এমন অভিমত দিয়েছেন দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটির আগে দিল্লি থেকে চিঠিটি ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মে মাসে মুম্বাইতে সরেজমিনে বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে জনা পঞ্চাশেক বাংলাদেশি নারী ও শিশুর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে ঢাকার কাছে পর্যবেক্ষণ পাঠানো হয়েছে।

দিল্লি ও মুম্বাইয়ের কূটনীতিক সূত্রে সম্প্রতি যোগাযোগ করে জানা গেছে, ভারতের পতিতালয়গুলোতে বাংলাদেশের শিশু, কিশোরী ও নারীর সংখ্যা যথেষ্ট বাড়ছে। বেশ কয়েক মাস ধরে এমন তথ্য পাওয়ার পর গত মে মাসে দিল্লি ও মুম্বাইতে কর্মরত বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা মুম্বাইয়ের বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া শিশু, কিশোরী ও নারীর সঙ্গে কথা বলেন। এদের সঙ্গে কথা বলে ভারতে পৌঁছানোর রহস্য জানতে পারেন কূটনীতিকেরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক এই প্রতিবেদককে বলেন, একটি আশ্রয়কেন্দ্রের ৪০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, এদের ২৯ জনই এসেছে বাংলাদেশ থেকে। পরিস্থিতি যে কতটা খারাপ এ থেকে একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

সরেজমিনে পরিদর্শনের পর পাওয়া পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠান হাইকমিশনার। চিঠিতে বলা হয়েছে, দরিদ্র মা-বাবা অভাবের কারণে সন্তানকে অপরিচিত লোকের হাতে তুলে দিচ্ছেন। আবার কেউ বিয়ে বা বিদেশে চাকরির ফাঁদে পা দিয়ে মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ছেন। আবার উন্নত জীবনের আশায় নিম্নবিত্ত নারীরা পাচারকারীদের শিকারে পরিণত হচ্ছেন। চূড়ান্তভাবে তাঁদের ঠাঁই হচ্ছে ভারতের যৌনপল্লিগুলোতে। একই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে থাকার পরও ভারতের যৌনপল্লিগুলোতে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর নারী ও শিশুর সংখ্যা যথেষ্ট কম।

ভারতের গণমাধ্যমে মানব পাচার নিয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের প্রচার এবং মানব পাচার রোধের আইনের কঠোর প্রয়োগ বড় ভূমিকা রাখছে বলে মত দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে মানব পাচার রোধের আইন প্রয়োগের শিথিলতা ও সচেতনতার অভাবে ভারতে মানব পাচারের পথ করে দিচ্ছে। তাই আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সীমান্তে পাহারা জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া মানব পাচার রোধে জনসচেতনতার জন্য গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রামাণ্যচিত্র, নাটক ও বিজ্ঞাপন প্রচারের কথাও চিঠিতে বলা হয়েছে।

এদিকে মুম্বাইয়ের আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে আসা একাধিক কূটনীতিক জানান, মুম্বাই ছাড়াও গোয়া, পুনে এই শহরগুলোর যৌনপল্লিগুলোতে উদ্বেগজনক হারে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বাড়ছে।

জানতে চাইলে মুম্বাইতে বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার সামিনা নাজ বলেন, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালে ডিসেম্বর পর্যন্ত মুম্বাই, গোয়া, পুনে, কেরালা, দামান ও তামিলনাড়ু থেকে উদ্ধারের পর অন্তত ৩৭০ জন নারী ও শিশুকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সূত্র: প্রথম আলো

২০১৭-১৮ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাস

আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়েছে। এটি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এটি টানা নবম বাজেট। এর আগে তিনি আরো দুটি বাজেট দিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নেতৃত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০ টায়। এরপর বাজেটের ওপর আলোনায় বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ৫৯টি ছাটাই প্রস্তাব এবং ৩২৫টি দাবি উত্থাপন করেন।

এরমধ্যে আলোচনার জন্য ৭টি দাবি গৃহীত হয়। দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাজেট পাস করার জন্য অর্থমন্ত্রী তা উপস্থাপন করেন। পরে সংসদে কণ্ঠভোটে বাজেট পাস করা হয়।

এ সময় সরকার দলীয় সংসদ্যরা টেবিল চাপড়ে অর্থমন্ত্রীকে সমর্থনক ও স্বাগত জানান। কাল ১ জুলাই থেকে নতুন এ বাজেট কার্যকর হবে। নতুন ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য সংযুক্ত তহবিল থেকে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ২১৪ কোটি ১৫ লাখ ৯২ হাজার টাকার নির্দিষ্টকরণ বিল পাস করা হয়।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনের শুরুতেই মঞ্জুরি দাবিতে আলোচনা করার কথা জানান। বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা এসব দাবিতে আলোচনা করেন। পাস হওয়া বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এনবিআরের টার্গেট ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৩ হজার ১৫২ কোটি টাকা।

এ ছাড়া এনবিআর-বহির্ভূত খাত থেকে কর রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৬২২ কোটি টাকা। করবহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বাজেটে জিডিপির লক্ষ্য ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। পরিকল্পনা কমিশন ইতিমধ্যে আভাস দিয়েছে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে। আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা বিগত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

এ ছাড়া বাজেটে মূল্যস্ফীতির চাপকে ৫ দশিমক ৫ শতাংশে ধরে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। নতুন এই বাজেটে অনুন্নয়নমূলক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। তবে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর অর্থায়নে আরও ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সে হিসেবে মোট এডিপির আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে; যা জিডিপির ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এই বাজেটে সার্বিক ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা।

এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক উৎস থেকে ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা জোগান দেওয়া হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি, সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ৩২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। নির্দিষ্টকরণ বিল পাস : আগামী অর্থবছরের বাজেট ব্যয়ের বাইরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের সংযুক্ত দাড়ায় মিলিয়ে সংযুক্ত তহবিল থেকে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ২১৪ কোটি ১৫ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকার নির্দিষ্টকরণ বিল কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।

মঞ্জুরি দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাব: আগামী অর্থবছরের বাজেটের ওপর সংসদে উত্থাপিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ খাতের ৩২৫টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সাংসদরা ৫৯টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন। এরমধ্যে ৭টি দাবি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়। এবং বাকি ছাটাই প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বাজেট পাস হওয়ার পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত স্পিকারের অনুমতি নিয়ে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্যদের সবাইকে বাজেটোত্তর নৈশভোজে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

খাতওয়ারি বরাদ্দ: সংযুক্ত বিল ৫ লাখ ৩৫ হাজার ২১৪ কোটি ১৫ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয় অর্থ বিভাগে। এ বিভাগের ব্যয় ২ লাখ ৬ হাজার ৫৩০ কোটি ৮৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ব্যয়ের দিক থেকে সবচেয়ে কম হচ্ছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে। এ খাতে ব্যয় ২১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অনুমোদিত ব্যয় পর্যায়ক্রমে হচ্ছে প্রতিরক্ষায় ২৫ হাজার ৭৪০ কোটি ৭৫ লাখ ৮ হাজার টাকা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগে ২৪ হাজার ৬৭৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। অন্য খাতের ব্যয়ের মধ্যে জাতীয় সংসদ খাতে ৩১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় খাতে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ৯৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ১ হাজার ৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ২ হাজার ৪৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা, সরকারি কম-কমিসন খাতে ৭৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। অর্থ বিভাগ মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয় খাতে ১৯৬ কোটি ৫ লাখ টাকা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে ২ হাজার ২০৬ কোটি ৩ লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে ২ হাজার ৫৪০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ খাতে ১০ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি পরিকল্পনা বিভাগে ১ হাজার ৩৩২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে ১০০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে ৫১৮ কোটি ৭ লাখ টাকা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ৬১১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ১ হাজার ১৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ৩০ কোটি ৪১ লাখ টাকা, আইন ও বিচার বিভাগ ১ হাজার ৪২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ধরা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ১৮ হাজার ২৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে ২১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ২২ হাজার ২৩ কোটি ২৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা, মাদমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিবাগে ২৩ হাজার ১৪৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় খাতে ১১ হাজার ৩৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সেবা খাতে ১৬ হাজার ২০৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ৩ হাজার ৯৭৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ৪ হাজার ৮৩৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ২ হাজার ৫৭৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় খাতে ২৬২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় খাতে ৩ হাজার ৭৩৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, তথ্য মন্ত্রণালয় খাতে ১ হাজার ১৪৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪১৭ কোটি ৭৭ হাজার টাকা।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬৫৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় খাতে ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে ১ হাজার ৮৮৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, শিল্প মন্ত্রণালয়ে ১ হাজার ৮২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে ৮৯৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে ২ হাজার ২২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, কৃষি মন্ত্রণালয়ে ১৩ হাজার ৬০৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় খাতে ১ হাজার ৯২৯ কোটি ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় খাতে ১ হাজার ১২০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, ভূমি মন্ত্রণালয় খাতে ১ হাজার ৮৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৫ হাজার ৯২৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ১৪ হাজার ৪০২ কোটি ৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৮ হাজার ৮৫৩ কোটি ১২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

এছাড়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ১৯ হাজার ৬৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৬ হাজার ১৩৫ কোটি ৯ লাখ টাকা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ২ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ৬৮৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে ২ হাজার ৫২২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ১ হাজার ১৫০ কোটি ১৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ ১৮ হাজার ৮৯৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা, সুপ্রিমকোর্ট ১৬৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ৩ হাজার ৯৮৬ কোটি ৩৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ৬৮৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, দুর্নীতি দমন কমিশন খাতে ১০১ কোটি ৭১ লাখ টাকা ও সেতু বিভাগে ৮ হাজার ৪২৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৫ হাজার ২৭০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, সুরক্ষা সেবা খাত ২ হাজার ৮৮২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ খাতে বরাদ্দ ৪ হাজার ৪৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর আগে বুধবার সংসদে অর্থবিল-২০১৭ পাস হয়। যে বিলে করসংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আমরা হারালাম ‘ইত্যাদি’র একজন বটবৃক্ষকে

গত ২৮ জুন বুধবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চলচ্চিত্র ও নাটকের প্রবীণ অভিনেতা নাজমুল হুদা বাচ্চু। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে মিডিয়ায় শোকের ছায়া পড়েছে। বিভিন্ন টিভি ব্যক্তিত্বসহ মিডিয়া জগতের অনেকেই তার মৃত্যুতে গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। অনেকে স্মৃতিচারণ করে নিজেদের ফেসবুক ওয়ালে পোষ্টও দিচ্ছেন।

জনপ্রিয় উপস্থাপক, পরিচালক, লেখক ও প্রযোজক হানিফ সংকেত প্রিয় এই অভিনেতাকে স্মরন করে নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্ট করেছেন। তিনি তার পোষ্টে লিখেছেন, নাজমুল হুদা বাচ্চু-আমাদের প্রিয় বাচ্চু ভাই, ‘ইত্যাদি’র সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রায় ২৫ বছরের। ‘ইত্যাদি’ ছাড়াও ফাগুন অডিও ভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও সবসময় বাচ্চু ভাইকে স্মরণ করতাম।

বাচ্চু ভাইয়ের মত আরো অনেক বর্ষীয়ান অভিনেতা ‘ইত্যাদি’র সঙ্গে জড়িত। যারা আমাদের কাছে বটবৃক্ষের মত। ‘ইত্যাদি’র বিভিন্ন নাট্যাংশে তাকে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ দিতে চেষ্টা করতাম। গতকাল ভোরবেলা একটি মেসেজ পেলাম আমাদের সেই প্রিয় বাচ্চু ভাই আর নেই। তখন সকাল ০৬:৩০ মিনিট। ‘ইত্যাদি’র আরেকজন নিয়মিত শিল্পী সুভাশিষ ভৌমিককে নিয়ে ছুটে গেলাম তার বাড়িতে। দেখলাম বাচ্চু ভাইয়ের নিষ্প্রাণ দেহ। স্বভাবতই মনটা খারাপ হয়ে গেলো। আমরা হারালাম ‘ইত্যাদি’র একজন বটবৃক্ষকে। বাচ্চু ভাইয়ের আত্মার শান্তি কামনা করছি।

উল্লেখ্য, রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৮।

ঈদের দু’দিন আগে শুটিং থেকে ফিরে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন এই অভিনেতা। একইসঙ্গে রক্তচাপ মাত্রাতিরিক্ত কমে যাওয়ায় ঈদের দিন দুপুরে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। এর মধ্যে বেশ কিছু টেস্ট দিয়েছিলেন চিকিৎসক। ২৭ জুন সকালে একটি রিপোর্টে বাচ্চুর হার্টে সমস্যা ধরা পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই দিন দিবাগত রাতের শেষভাগে মৃত্যু হলো তার।

নাজমুল হুদা বাচ্চু জীবদ্দশায় অসংখ্য চলচ্চিত্র ও নাটকে অভিনয় করেছেন। তার হাত ধরে অভিনয় শুরু করেছিলেন বুলবুল আহমেদ, নায়ক উজ্জ্বলসহ অনেকেই।

মন্ত্রীর প্রকাশ্যে প্রস্রাবের ছবি ভাইরাল; অতঃপর…

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযানকেই তোয়াক্কা করেন না দেশটির কৃষি মন্ত্রী রাধামোহন সিং। ফলে প্রকাশ্যে প্রস্রাব করতেও তার কোনও আপত্তি নেই। তাই কোন এক দেওয়ালের ধারে দাড়িয়েই প্রস্রাব করলেন তিনি। আর এ ঘটনার ছবি এখন ভাইরাল। মন্ত্রীসহ সোশাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচিত হচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।

ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা গেছে, দেওয়ালের ধারে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী প্রস্রাব করছেন। তাকে পাহারা দিচ্ছেন রক্ষীরা। তবে ছবিটি কোথায় তোলা হয়েছে তা জানা যায়নি। এইটুকু জানা গেছে যে, কোথায় যাওয়ার পথে কৃষিমন্ত্রী গাড়ি থামিয়ে প্রকাশ্যে প্রস্রাব করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে ভারতে শুরু হয়েছে ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযান৷ এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ার বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। দিকে দিকে চলছে তারই প্রচার। কিছু ক্ষেত্রে এসেছে সুফল। কিন্তু কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী এসবের ধার ধারেন না৷ তিনি তাই এই কাজ করলেন।

বিহারের পূর্ব চম্পারণ লোকসভা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন কৃষি মন্ত্রী রাধামোহন সিং। তিনি বিহার বিজেপির অন্যতম নেতা। ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবকের সদস্য। সূত্র: কলকাতা২৪