এক মহিলা হাজীর আরাফাতের ময়দানে অলৌকিকভাবে সন্তান প্রসব

পবিত্র আরাফাতের ময়দানে এখন ৩০ লাখেরও বেশি হাজী অবস্থান করছেন। তবে একজন মহিলা হাজী মহান আল্লাহ পাকের অশেষ রহমাত লাভ করে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেছেন।

অথচ এই নারীর এই সময়ে মা হওয়ার কোন কথায় ছিল না। গর্ভবতী হাজী আরো বেশ কয়েকদিন পরে মা হওয়ার দিন ছিল। তবে আল্লাহ পাকের রহমতে কিছুটা অলৌকিকভাবে পবিত্র হজ পালন করতে এসে পাকিস্তানী ওই নারী সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

পবিত্র হজের প্রথম দিন মঙ্গলবার মিনা আল-ওয়াদি হাসপাতালে শিশুটির জন্ম হয় বলে হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ মালাইবারি জানিয়েছেন। মা ও শিশু সুস্থ আছে বলেও জানান তিনি।

এবারের হজে এই প্রথম মিনায় কোনো হাজি সন্তানের জন্ম দিলেন। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে মোহাম্মদ আলী।

শিশুটির বাবা জানান, মিনায় পৌঁছানোর পরপরই তার স্ত্রীর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মিনা আল-ওয়াদি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পবিত্র স্থানে সন্তানের জন্ম হওয়ায় খুশি ওই ব্যক্তি।

তিনি হাসপাতালের কর্মীদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে মিনায় অবস্থানের মধ্যদিয়ে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

মিনা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে বুধবার ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন হজব্রতে অংশগ্রহণকারীরা। বৃহস্পতিবার কোরবানির মাধ্যমে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।

মুসা(আ) এর সময়কালে ফিরআউনের সহচর হামান(Haman): কুরআনের ঐতিহাসিক বর্ণনায় কি ভুল আছে?

আল কুরআনে মুসা(আ) এর ঘটনায় মিসরের ফিরআউনের(Pharaoh) সাথে সাথে আরো একজন মন্দ ব্যক্তির কথা উল্লেখ আছে। আর সে হচ্ছে হামান(Haman)।সে ছিল ফিরআউনের সহযোগী। কুরআনের ৩টি সুরায়{কাসাস ২৮:৬-৮, আনকাবুত ২৯:৩৯, মু’মিন(গাফির) ৪০:২৪,৩৬} হামানের কথা উল্লেখ আছে। সুরা মু’মিনের ৩৬ ও ৩৭ নং আয়াতে উল্লেখ আছে যে ফিরআউন তামাশাচ্ছলে হামানকে এক সুউচ্চ ইমারত(tower) নির্মাণের নির্দেশ দেয় যাতে করে সে আকাশে উঁকি দিয়ে মুসা(আ) এর উপাস্য প্রভুকে দেখতে পায় [আয়াতের লিঙ্কঃ www.quran.com/40/36-37]।

খ্রিষ্টান মিশনারী ও নাস্তিক মুক্তমনাদের দাবি—কুরআনের এই বিবরণে ভুল আছে।
কেন?
কারণ বাইবেলে মুসা(আ) এর ঘটনায় হামান নামে ফিরআউনের কোন সহচরের বিবরণ নেই।তা ছাড়া বাইবেলেও একজন হামানের কথা উল্লেখ আছে, সেও একটি tower নির্মাণ করে [বাইবেলের সংশ্লিষ্ট অংশের লিঙ্কঃ https://goo.gl/noM3q7 ]। কিন্তু বাইবেলের এই হামান মুসা(আ) ও ফিরআউনের সময়ে বাস করত না বরং এর থেকে প্রায় হাজার বছর পরে পারস্যের রাজা অহশ্বেরশ(Xerxes) এর সময়ে বাস করত। এ কারণে তাদের দাবি হচ্ছে কুরআন হামান বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়েছে, মুসা(আ) ও ফিরআউনের সময়ে কোন হামান মিসরে ছিল না এবং হামান মুসা(আ) এর হাজার বছর পরের মানুষ।
.
প্রথম কথাঃ খ্রিষ্টান মিশনারীদের দাবির না হয় একটা হেতু পাওয়া গেল, তাদের ধর্মগ্রন্থের ঘটনার সাথে সাংঘর্ষিক তথ্য কুরআনে আছে।
কিন্তু নাস্তিক মুক্তমনারা কি কোন ধর্মগ্রন্থে বিশ্বাস করে? তারা কেন সব সময়ে বাইবেলের ঘটনাকেই সঠিক ধরে নিয়ে কুরআনকে বিবেচনা করে? সাধারণ যুক্তি তো এটাই বলে যে—দু’টি গ্রন্থে যদি বিপরীত তথ্য থাকে, তাহলে এর যে কোন একটি সঠিক ও অন্যটি ভুল হতে পারে। যে কোন নিরপেক্ষ ব্যক্তির এভাবেই বিষয়টা দেখা উচিত। কিন্তু নাস্তিক-মুক্তমনারা কেন ইহুদি-খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থকে প্রথমে সঠিক ধরে নেয় আর কুরআনের তথ্যে বৈপরিত্য থাকলে সেটাকে ভুল বলে ধরে নেয়? এর উল্টোটা হবারও তো সম্ভাবনা থাকে। নাস্তিক-মুক্তমনাদের এই একচোখা দৃষ্টিভঙ্গী প্রমাণ করে যে তারা আসলে ধর্ম নিরপেক্ষ না, তারা আসলে ইসলামবিদ্বেষী।
.
দ্বিতীয় কথাঃ কুরআন আর বাইবেলের কোন তথ্যে মিল থাকলেই খ্রিষ্টান মিশনারী আর নাস্তিক-মুক্তমনারা হৈচৈ করে বলতে থাকে যেঃ কুরআন বাইবেল থেকে কপি করা।হামান বিষয়ক এই ঘটনায় যেহেতু বাইবেলের তথ্যের সাথে কুরআনের ঘটনার কোন মিল নেই, কাজেই এখানে তাদের এই অভিযোগ আনবার কোন সুযোগ নেই।
কাজেই এখানে হয় বাইবেল সত্য, নাহলে কুরআন সত্য। অথবা উভয় গ্রন্থই ভুল।

চলুন এবার আমরা ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণাদির আলোকে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করে দেখি এখানে কোন গ্রন্থ সঠিক তথ্য দিয়েছে—বাইবেল নাকি কুরআন।
.
বাইবেলের Esther(বাংলা বাইবেলে ‘ইষ্টেরের বিবরণ’) নামক গ্রন্থে হামানের কথা উল্লেখ আছে। এটি বাইবেলের পুরাতন নিয়ম(Old testament) অংশের একটি গ্রন্থ।ইহুদিদের যে সকল কিতাবকে খ্রিষ্টানরা ঈশ্বরের বাণী হিসাবে বিশ্বাস করে, সেগুলোকে তারা বাইবেলের Old testament অংশে রেখেছে।এই অংশের গ্রন্থগুলো মূলত প্রাচীন ইহুদিদের লেখা। ইহুদিরা তাদের নিজেদের এ কিতাবকে কতটুকু বিশুদ্ধ বলে মনে করে? Jewish Encyclopediaতে Esther গ্রন্থবিষয়ক আলোচনায় Critical View অংশে বলা হয়েছেঃ “The vast majority of modern expositors have reached the conclusion that the book is a piece of pure fiction, although some writers qualify their criticism by an attempt to treat it as a historical romance. The following are the chief arguments showing the impossibility of the story of Esther”
অর্থাৎ:– বেশীরভাগ আধুনিক ব্যাখ্যাকার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, এই বইটি নিখাদভাবে একটি কল্পিত গল্প(fiction)। …
শুধু তাই না, এ আর্টিকেলের Improbabilities of the Story অংশে দেখানো হয়েছে বাইবেলের অন্য বইগুলোর তথ্যের সাথে Esther গ্রন্থের তথ্য কতটা সাংঘর্ষিক।
আর্টিকেলের Probable Date অংশে বলা হয়েছেঃ In view of all the evidence the authority of the Book of Esther as a historical record must be definitely rejected. Its position in the canon among the Hagiographa or “Ketubim” is the only thing which has induced Orthodox scholars to defend its historical character at all. Even the Jews of the first and second centuries of the common era questioned its right to be included among the canonical books of the Bible (compare Meg. 7a).
অর্থাৎ:– সকল প্রমাণের আলোকে আমরা বলতে পারি যে, ঐতিহাসিক রেকর্ড হিসাবে Esther এর গ্রহণযোগ্যতা বাতিল হিসাবে গণ্য হবে।…এমনকি ১ম ও ২য় শতাব্দীর ইহুদিরাও বাইবেলের অনুমোদিত বই হিসাবে Esther এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতো।
[১]
.
খোদ Jewish Encyclopediaতে বাইবেলের গ্রন্থ Esther এর ঐতিহাসিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এইসব মন্তব্য করা হয়েছে। যে ইহুদিরা এই গ্রন্থের লেখক, ধারক ও বাহক, তারাই এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে এ রকম প্রশ্ন তুলেছে। এ তো গেল ইহুদি গবেষকদের কথা। সেকুলার গবেষকগণও এই গ্রন্থ নিয়ে অনেক যৌক্তিক অভিযোগ এনেছেন যেগুলো আর এখানে উল্লেখ করলাম না। এমনই একটি “নির্ভরযোগ্য”(!!!) ঐতিহাসিক ডকুমেন্টের সহায়তা নিয়ে ইসলামবিরোধিরা কুরআনের ঐতিহাসিক তথ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। সুবহানাল্লাহ!
.
এবারে আমরা বিশ্লেষণ করে দেখি কুরআনে উল্লেখিত তথ্য কতটা সঠিক বা নির্ভরযোগ্য।
১৭৯৯ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মিসর অভিযানের সময়ে তার একজন সৈন্য Rosetta Stone আবিষ্কার করে। Rosetta Stoneএ প্রাচীন মিসরীয় লিপি( hieroglyphics) এবং তার তুলনামূলক গ্রীক বর্ণমালার বিবরণ ছিল যার সাহায্যে গবেষকগণ প্রাচীন মিসরীয় লিপির পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হন। [২] প্রাচীন মিসরীয় লিপি( hieroglyphics) পাঠোদ্ধারের পর জানা গেছে যেঃ প্রাচীন মিসরে যারা পাথর দ্বারা নির্মাণকাজ করত তাদের নেতাকে বলা হত ‘হামান’। অর্থাৎ ফিরআউন(pharaoh) এর মত ‘হামান’ও একটা টাইটেল। [৩]
.
এই ব্যাপারটি অনুসন্ধান করার জন্য ড. মরিস বুকাইলি ফ্রান্সের একজন মিসরবিদদের দ্বারস্ত হয়েছিলেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেন যে, হামান বলে কোন নাম তিনি তার প্রাচীন মিসরবিষয়ক রেকর্ডে দেখেছেন কিনা। তিনি তাঁর কাছে জানতে চান তিনি কোথায় এই নাম পেলেন। তিনি তাকে রাসুল(ﷺ) এর কথা বলেন। মিসরবিদ তাঁকে বলেন যে এমন নামের সন্ধান পাওয়া তো তাঁর পক্ষে অসম্ভব কেননা রাসুল(ﷺ) এর যুগের অনেক কাল আগে প্রাচীন মিসরীয় ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তিনি তাঁকে আরো বলেন যে এইসব নামের রেকর্ডের জন্য তাঁকে জার্মানী যেতে হবে। তিনি সে অনুযায়ী জার্মানী যান এবং সেখানে গিয়ে প্রাচীন মিসরে মুসা(আ) এর সময়কালে ফিরআউনদের অধীনে নির্মাতা এবং স্থপতিদের ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে থাকেন। এবং সুবহানাল্লাহ, তিনি ‘হামান’ নামটি পেয়ে যান! যারা পাথর দ্বারা নির্মাণকাজ করত তাদের নেতার উপাধী এটা। তিনি ফ্রান্সে ফিরে সেই মিসরবিদকে ডিকশনারীটির ফটোকপি দেখান যাতে তিনি ‘হামান’ এর সন্ধান পেয়েছেন। এরপর তিনি তাকে কুরআন থেকে হামানের আয়াত দেখান। এটা দেখে সেই ফরাসী মিসরবিদ বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। ১৯৮৯ সালে প্যারিস থেকে প্রকশিত ‘Réflexions sur le Coran’ বইতে মরিস বুকাইলি তাঁর এ ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। [৪]
.
পবিত্র কুরআনের বিবরণে আমরা দেখছি যেঃ মিসরের ফিরআউন ‘হামান’ বলে একজনকে ডেকে সুউচ্চ ইমারত বানাবার আদেশ দিচ্ছে; আর প্রাচীন মিসরীয় ভাষায় পাথরের নির্মান শ্রমিকদের নেতাকে ডাকা হত হামান বলে। সুরা কাসাসের ৩৮নং আয়াতে [লিঙ্ক: www.quran.com/28/38] এটাও বলা আছে ফিরআউন হামানকে ইট পুড়িয়ে ইমারত বানাতে বলেছিল। একেবারে সাম্প্রতিক সময়ে মিসরবিদগণ(Egyptologists) জানতে পেরেছেন যে, প্রাচীন মিসরে কাদা পুড়িয়ে ইট বানানোর প্রচলন ছিল। কাদা পুড়িয়ে মজবুত ইট বানানোর জ্ঞান—প্রাচীন একটি সভ্যতার জন্য এটা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য একটা ব্যাপার। [৫] আর এই তথ্যটি আল কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।
.
যে কুরআনকে খ্রিষ্টান মিশনারী আর নাস্তিকরা অভিযুক্ত করে “বাইবেল থেকে কপি” করা বলে, সেই কুরআনেই আমরা দেখছি এমন ঐতিহাসিক তথ্য আছে যা কোন ইহুদি বা খ্রিষ্টান পণ্ডিতের সেই যুগে জানা ছিল না। ঐতিহাসিক তথ্যে ভুল থাকা তো দূরের কথা, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ দ্বারা আমরা দেখতে পাচ্ছি যে কুরআনে বিস্ময়করভাবে সঠিক ঐতিহাসিক তথ্য আছে। ইসলামবিদ্বেষীদের অভিযোগ আর সত্যের মাঝে সবসময়েই বিশাল ব্যবধান লক্ষ্য করা যায়।
.
প্রাচীন মিসরীয় ভাষা তো মুহাম্মাদ(ﷺ) এর শত শত বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।মুহাম্মাদ(ﷺ) এর যুগ ৭ম শতাব্দীতে পৃথিবীতে কেউ প্রাচীন মিসরীয় ভাষা জানতো না, কোন মিসরবিদও(Egyptologist) সে যুগে ছিল না। প্রাচীন মিসরীয় ভাষার পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয় মুহাম্মাদ(ﷺ) এর সময় থেকে এক সহস্রাব্দেরও বেশি সময় পরে, ১৮ শতকে। আজ থেকে ১৪শ বছর আগে এমন কে ছিল যে জানতো যে প্রাচীন মিসরে পাথরের নির্মাণশ্রমিকদের নেতার টাইটেল ছিল ‘হামান’ কিংবা প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার মানুষেরা পোড়ানো ইট দিয়ে ইমারত নির্মাণ করত? ৭ম শতাব্দীতে কে মুহাম্মাদ(ﷺ)কে বলে দিল প্রাচীন মিসরীয় লিপির মর্ম? কে তাঁকে নিখুঁতভাবে ঐতিহাসিক তথ্য বলে দিল? একমাত্র মহান স্রষ্টা আল্লাহ ছাড়া?
.
“ তুমি[মুহাম্মাদ(ﷺ)] তো এর পূর্বে কোন কিতাব পাঠ করোনি এবং স্বহস্তে কোনদিন কিতাব লিখনি। এরূপ হলে মিথ্যাবাদীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত।
বরং যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তাদের অন্তরে এটা (কুরআন) তো স্পষ্ট নিদর্শন। একমাত্র জালিম ছাড়া আমার নিদর্শন কেউ অস্বীকার করে না।“
(কুরআন, আনকাবুত ২৯:৪৮-৪৯)
.
“ তারা কেন কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? আর যদি ওটা আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো নিকট হতে হতো তবে তারা ওতে বহু গরমিল পেতো। ”
(কুরআন, নিসা ৪:৮২)

পাঁচ স্ত্রীর গণধর্ষণে মৃত স্বামী

বর্তমান সমাজে নারী নির্যাতনের ঘটনা যখন তুঙ্গে তখন নির্যাতিত হচ্ছেন পুরুষরাও৷ এতদিন মহিলারাই কেবল গণধর্ষণের শিকার হতেন৷ এবার গণধর্ষণের শিকার হলেন এক পুরুষ৷ চরম শারীরিক নির্যাতনের ফলে মৃত্যুবরণ করতে হল তাকে৷

নাইজেরিয়াতেই ঘটেছে এমন ঘটনা৷ এক ব্যবসায়ী তার পাঁচ বউয়ের ধর্ষণে মৃত্যবরণ করলেন৷ মৃত ব্যক্তির নাম ইউরোকো ওনোজো৷ তার মোট ছয় স্ত্রী৷ সারারাত পার্টিতে ব্যস্ত থাকার পর ভোর রাতে বাড়ি ফিরেছিলেন ওনোজো৷ অন্যদিকে সারারাত তার স্ত্রীয়েরা তার সঙ্গ পেতে প্রহর গুণছিলেন৷ ভোররাতে বাড়ি ফিরে কনিষ্ঠা স্ত্রীয়ের ঘরেই যান ওনোজো৷ এই কারণেই অপর পাঁচ স্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে চড়াও হয় ওনোজোর উপর৷ এরপর পর পর চার স্ত্রীয়ের সঙ্গে যৌন মিলনে বাধ্য হয় ওনোজো৷ পঞ্চম স্ত্রীয়ের সঙ্গে সহবাসের সময় হঠাৎও স্ট্রোক হয়ে মারা যায় ওনোজো৷ ঘটনাপ পর পাঁচ স্ত্রী পালিয়ে যায়৷ তবে তাদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করে নাইজেরিয় পুলিশ৷ অভিযুক্ত পাঁচ স্ত্রীয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার মামলা দায়ের করেছে পুলিশ৷

আসছে ট্রাম্প টয়লেট পেপার!

 

মধ্য আমেরিকার দেশ মেক্সিকো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে টয়লেট পেপার বাজারে আনছে। এ প্রসঙ্গে দেশটির এক আইনজীবী জানান, ট্রাম্পের সমালোচনার মাধ্যম হিসেবে দেশটিতে ট্রাম্পের নামে টয়লেট পেপার বিক্রি হবে।

এন্তোনিও বাটাগলিয়া নামের এই আইনজীবী ২০১৫ সালে ট্রাম্প নামে টয়লেট পেপার বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেন। সে সময়েই মার্কিন ধনকুবের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রচারকালে মেক্সিকোর অভিবাসীদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন।

প্রচারের সময় ট্রাম্প বলেন, মেক্সিকো যখন এদেশে লোক পাঠায়, তখন তাদের সেরা লোককে পাঠায় না। তাদেরই পাঠায় যাদের নিয়ে খোদ মেক্সিকো সমস্যায় থাকে। সেসব মানুষ এদেশে এসে মাদক, সন্ত্রাসের মতো অপরাধে জড়িত হয়।

এই বছরের শেষ দিকে ট্রাম্প টয়লেট পেপার মেক্সিকোর বাজারে আসার কথা। পণ্যটির স্লোগান হবে, ‘সীমানা ছাড়াই নরম’ (Softness without borders).. পণ্যটির গায়ে ট্রাম্পের ব্যঙ্গাত্মক ছবিও থাকবে।

টয়লেট পেপারটি বাজারে ছাড়া প্রসঙ্গে এন্তোনিও বলেন, আমি মজা করেই পণ্যটি বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করি। যদিও আমি অন্য যে কোনো পণ্যই বের করতে পারতাম। ট্রাম্প যখন আমাদের নিয়ে কটাক্ষ করতে থাকলেন তখন থেকেই চিন্তাটা মাথায় আসে।

তবে ট্রাম্প টয়লেট পেপার ঠাট্টার থেকেও বেশি কিছু বলে জানাচ্ছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম Anadolu Agency. পণ্যটিকে শক্তিশালী সামাজিক উপকরণ হিসেবেই মেক্সিকোয় দেখা হচ্ছে। এই টয়লেট পেপার উৎপাদনের পেছনে বাটাগলিয়া বেশ অর্থ খরচও করছেন। প্রায় ২১ হাজার ৫শ’ ডলার।

এই প্রসঙ্গে বাটাগলিয়া বলেন, যারা ট্রাম্পের কথায় অপমানিত ও কষ্ট পেয়েছেন তারা পণ্যটি ব্যবহার করে শান্তি পাবেন। বিশেষ করে অভিবাসী মানুষেরা, যারা কষ্ট করে যুক্তরাষ্ট্রকে উন্নতির এই অবস্থায় নিয়ে এসেছেন।

পণ্যটিতে লাভ ভালোই হবে বলে মনে করছেন উৎপাদক এই আইনজীবী। তিনি ২০১৫ সালেই ট্রাম্পের নামে পণ্য বিক্রির ছাড়পত্র বের করেন। আগামী ১০ বছর পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন থাকায় টয়লেট পেপারটি বিক্রিতে কোনো বাধা থাকবে না।

খুঁজে বের করুন DOG শব্দটি

মস্তিষ্কের ব্যায়ামের জন্য সবার পছন্দের বিষয় হলো ধাঁধা। সম্প্রতি সোশ্যাল সাইটে এমন একটি ধাঁধা সর্বত্র দেখা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে এটি সব থেকে কঠিন ধাঁধা।

এই ধাঁধায় DOG শব্দটি খুঁজে বের করতে মানুষের ঘাম বেরিয়ে গেছে। এবার দেখা যাক, আপনি কি সেই DOG শব্দটি খুঁজে বের করতে পারেন কি না।

কোরবানির হাটে গরুর সঙ্গে সুন্দরী নারী! (ভিডিও)

ঈদকে কেন্দ্র করে কত রকম উৎসবই তো হয়! ঈদের কেনাকাটা কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো আয়োজন করে রকমারি ফ্যাশন শো। তবে পাকিস্তানে চলছে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি শো।

সম্প্রতি পাকিস্তানের সামা টিভির একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেখানকার একটি গরুর হাটে চলছে মনোরম শো। সেখানে এক অভিনেত্রীকে হাতে গরুর দড়ি নিয়ে ক্যাটওয়াক করতে দেখা যায়।

গরুটিকেও সাজানো হয়েছে ঝলমল সাজে। এক পর্যায়ে গানের তালে মৃদু নাচতেও দেখা যায় মডেলকে। উপস্থিত দর্শকদের করতালিই বলে দেয়, বিষয়টি ইতোমধ্যেই ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে।

ভিডিও দেখুন>>>

আজ থেকে লাখো কণ্ঠে উচ্চারিত হবে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) ৯ জিলহজ্ব পবিত্র হজ্ব। ৮ জীলহজ্ব মক্কার ও মদিনা থেকে আগত হাজীরা মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে সূর্যাস্তের আগেই মিনায় তাঁবুতে অবস্থান হওয়ার পর থেকেই শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী পবিত্র হজ্বের আনু-ষ্ঠানিকতা। মিনায় আল্লাহর জিকির আর ইবাদতে মগ্ন থাকবেন সাথীরা।

বৃহস্পতিবার ৯ জিলহজ্ব ৩১ আগষ্ট থেকে সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন সারাবিশ্ব থেকে সমবেত হওয়া লাখ লাখ হাজী। ইহরাম পরিহিত অবস্থায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় লাখ লাখ হাজীর কণ্ঠে উচ্চারিত হবে, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি মাতা লাকা ওয়ালকুম।’ এর বাংলা অর্থ হচ্ছে, ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সব সাম্রাজ্য তোমার।’

আরাফাত ময়দানের মসজিদে জোহরের নামাজের আগে খুতবা পাঠ করবেন মক্কার গ্র্যান্ড ইমাম। খুতবা পাঠ শেষে জোহর ও আছরের ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে হাজীরা জামায়াতের সাথে কছর নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির-আসকারে মশগুল থাকবেন। সূর্যাস্তের পর হাজীদের গন্তব্য মুজদালিফার দিকে। সেখানে উপস্থিত হয়ে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় শেষে সবাই বিশ্রাম নেবেন। মুজদালিফা থেকে পাথর সংগ্রহ করে আগামী ১০ জিলহজ্ব পহেলা সেপ্টেম্বর শুক্রবার মিনায় ফিরে যাবেন।

হজ্বের তৃতীয় দিন ১০ জিলহজ্ব শুক্রবার মিনায় পৌঁছার পর হাজীদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডানদিকে রেখে হাজীরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। হাজীরা মক্কায় ফিরে কাবা শরীফ ‘তাওয়াফ’ ও ‘সাঈ’ (কাবার চারদিকে সাতবার ঘোরা ও সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাতবার দৌড়ানো) করে আবার মিনায় ফিরে যাবেন।

জিলহজ্বের ১১ তারিখ (২ সেপ্টেম্বর) শনিবার মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজীরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের উপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত। পরদিন ১২ জিলহজ্ব (৩ সেপ্টেম্বর) রবিবার মিনায় অবস্থান করে পুনরায় একইভাবে হাজীরা তিনটি শয়তানের উপর পাথর নিক্ষেপ করবেন। শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা শেষ হলে অনেকে সূর্যাস্তের আগেই মিনা ছেড়ে মক্কায় চলে যান। আর মক্কায় পৌঁছার পর হাজীদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরীফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ী তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ী তাওয়াফ অর্থাৎ কাবা শরীফে পুনরায় সাতবার চক্কর দেয়ার মাধ্যমে হাজীরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজ্জব্রত পালন।

বিদায় তাওয়াফ সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে, ‘রসুলুল্লাহ (সা.) ১৩ জিলহজ্ব মিনা থেকে অবসর হয়ে বিদায়ী তাওয়াফের জন্য সরাসরি বায়তুল্লাহ শরীফে যাননি। তিনি মক্কা নগরীর উপকণ্ঠে অবস্থিত আবতাহা নামক স্থানে অবতরণ করেন। এর বর্তমান নাম হচ্ছে খায়েক বনি কেনানা। এখানে তিনি জোহর, আছর, মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে অল্প সময়ের জন্য ঘুমিয়েছিলেন। এরপর তিনি বায়তুল্লাহ শরীফে গিয়ে বিদায়ী তাওয়াফ করে মদিনার উদ্দেশে যাত্রা করেন।’

ছবির গোপন রহস্যটি দেখতে পাচ্ছেন!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হরহামেশাই বিভিন্ন রকমের ছবি আপলোড হয়। যেটা প্রথমবার দেখলে সাধারণ ছবি মনে হয়।

আসলে সেই ছবিতে এমন কিছু লুকিয়ে থাকে যা প্রথমবার খুব কম জনই দেখতে পান!

সম্প্রতি টুইটারে তেমনি একটি ছবি শেয়ার করেন ইংল্যান্ডের এক ছাত্রী এলানোর ক্লার্ক। সেই ছবিতে ক্লার্কের সঙ্গে তার চার বন্ধুকেও দেখা যাচ্ছে। প্রথমে সবাই এই ছবিটি দেখে প্রশংসা করতে থাকে। কিন্তু তখনই ক্লার্কের এক বন্ধুর নজর পড়ে ছবির অদ্ভুত বিষয়ের ওপর। ছবিতে কমেন্ট করার পর সবার নজর পড়ে সেই দিকে। আপনার নজর যদি ভালো হয় তাহলে আপনি খুঁজে বার করুন সেই ভুল।

ক্লার্ক তার বন্ধুর সাথে যে ছবিটি তুলেছিলেন সেখানে প্রত্যেকের হাতে রয়েছে একটি ছোট ব্যাগ। কিন্তু মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি রূপালী রঙের ধাতুর ফ্লাস্ককে ব্যাগ বানিয়েছিল।

নিজেদের রক্ত চুষেই সুখ খুঁজে পাচ্ছেন ‘ভ্যাম্পায়ার দম্পতি’!

সম্প্রতি নিজেদের ‘ভ্যাম্পায়ার দম্পতি’ হিসেবে দাবি করেছেন এক দম্পতি। তারা নিজেদের ভালোবাসার বন্ধন আরও অটুট রাখতে একে অন্যের রক্ত খেয়ে জীবনযাপন করছেন। সম্পর্ক আরও সুন্দরও মধুময় করতে একে অপরের হাত কেটে নিজেদের রক্ত চুষে খান তারা। আর তা কিনা যৌনতার থেকেও আরও নাকি সুখকর।

জানা যায়, দুই বছর আগে এক ভ্যাম্পায়ার ফেস্টিভ্যালে আলাপ হয় লি এবং টিমের। সেখানে ভয়ঙ্কর প্রেমাসক্ত হয়ে পড়ে এই দম্পতি। সম্পর্ককে উপভোগ করতে ভ্যাম্পায়ারের মতো একে অন্যের রক্ত পান করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। ব্যাপারটি হবে একে অন্যের ঘাড় কামড় দিয়ে, আবার কখনও হাত কেটে। আর এভাবেই দিনের পর দিন একে অপরের রক্ত চুষে খাচ্ছেন এই ভ্যাম্পায়ার দম্পতি। আর তাতেই নাকি তারা খুব সুখী। যৌনতা নয়, রক্ত চুষে খেয়েই তারা নাকি নিজেদের সুখ খুঁজে পাচ্ছেন।