৫ মিনিটে মাত্র ৫টি গল্প যা আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেবে

৫ মিনিটে মাত্র ৫টি গল্প যা আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেবে

৫ মিনিটে মাত্র ৫টি গল্প যা আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেবে। আসুন গল্পগুলো পড়ে দেখি-

গল্প-১
বাবা গোসলে, মা রান্না ঘরে আর ছেলে টিভি দেখছিল। এমন সময় দরজায় ঘণ্টা বাজল। ছেলে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখল, পাশের বাসার করিম সাহেব দাঁড়িয়ে।

ছেলে কিছু বলার আগেই করিম সাহেব বললেন, ‘আমি তোমাকে ৫০০ টাকা  দেব, যদি তুমি ১০ বার কান ধরে উঠবস কর।’

বুদ্ধিমান ছেলে অল্প কিছুক্ষণ চিন্তা করেই কান ধরে উঠবস শুরু করল, প্রতিবার উঠবসে ৫০ টাকা বলে কথা।

শেষ হতেই করিম সাহেব ৫০০ টাকার নোট ছেলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।

বাবা বাথরুম থেকে বের হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে ছিল দরজায়?’

‘পাশের বাসার করিম সাহেব’, উত্তর দিল ছেলে।

‘ও’, বললেন বাবা, ‘আমার ৫০০ টাকা কি দিয়ে গেছেন?’

শিক্ষণীয়বিষয়

আপনার ধারদেনার তথ্য শেয়ারহোল্ডারদের থেকে গোপন করবেন না। এতে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে রক্ষা পাবেন।

 

গল্প-২

সেলসম্যান, অফিস ক্লার্ক ও ম্যানেজার দুপুরে খেতে যাচ্ছিলেন। পথে তাঁরা একটি পুরোনো প্রদীপ পেলেন।

তাঁরা ওটাতে ঘষা দিতেই দৈত্য বের হয়ে এল।

দৈত্য বলল, ‘আমি তোমাদের একটি করে ইচ্ছা পূরণ করব।’

‘আমি আগে! আমি আগে!’ বললেন অফিস ক্লার্ক, ‘আমি বাহামা সমুদ্রপারে যেতে চাই, যেখানে অন্য কোনো ভাবনা থাকবে না, কাজ থাকবে না।’

‘ফুঃ…!!’ তিনি চলে গেলেন।

‘এরপর আমি! এরপর আমি!’ বললেন সেলসম্যান, ‘আমি মায়ামি বিচে যেতে চাই, যেখানে শুধু আরাম করব।’

‘ফুঃ…!!’ তিনিও চলে গেলেন।

‘এখন তোমার পালা’, দৈত্য ম্যানেজারকে বলল।

ম্যানেজার বললেন, ‘আমি ওই দুজনকে আমার অফিসে দেখতে চাই।’

 

শিক্ষণীয়বিষয়

সব সময় বসকে আগে কথা বলতে দেবেন। তা না হলে নিজের কথার কোন মূল্য থাকবে না।

 

গল্প-৩

একটি ইগল গাছের ডালে বসে আরাম করছিল।

এমন সময় একটি ছোট খরগোশ ইগলটিকে দেখে জিজ্ঞেস করল, ‘আমিও কি তোমার মতো কিছু না করে এভাবে বসে আরাম করতে পারি?’

ইগল উত্তর দিল, ‘অবশ্যই, কেন পারবে না।’

তারপর খরগোশটি মাটিতে এক জায়গায় বসে আরাম করতে থাকল। হঠাত্ একটি শিয়াল এসে হাজির, আর লাফ দিয়ে খরগোশকে ধরে খেয়ে ফেলল।

 

শিক্ষণীয়বিষয়

যদি কোনো কাজ না করে বসে বসে আরাম করতে চান, তাহলে আপনাকে অনেক ওপরে থাকতে হবে।

 

গল্প-৪

একটি মুরগি ও একটি ষাঁড় আলাপ করছিল।

‘আমার খুব শখ ওই গাছের আগায় উঠব, কিন্তু আমার এত শক্তি নেই’, মুরগিটি আফসোস করল।

উত্তরে ষাঁড়টি বলল, ‘আচ্ছা, তুমি আমার গোবর খেয়ে দেখতে পার, এতে অনেক পুষ্টি আছে।’

কথামতো মুরগি পেট পুরে গোবর খেয়ে নিল এবং আসলেই দেখল সে বেশ শক্তি পাচ্ছে। চেষ্টা করে সে গাছের নিচের শাখায় উঠে পড়ল।

দ্বিতীয় দিন আবার খেল, সে তখন এর ওপরের শাখায় উঠে গেল।

অবশেষে চার দিন পর মুরগিটি গাছের আগায় উঠতে সক্ষম হলো।

কিন্তু খামারের মালিক যখন দেখলেন মুরগি গাছের আগায়, সঙ্গে সঙ্গে তিনি গুলি করে তাকে গাছ থেকে নামালেন।

 

শিক্ষণীয়বিষয়

ফাঁকা বুলি (বুল শিট) হয়তো আপনাকে অনেক ওপরে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু আপনি বেশিক্ষণ ওখানে টিকে থাকতে পারবেন না।

 

গল্প-৫

একটি পাখি শীতের জন্য দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু এত ঠান্ডা ছিল যে পাখিটি শীতে জমে যাচ্ছিল এবং সে একটি বড় মাঠে এসে পড়ল।

যখন সে মাঠে পড়ে ছিল, একটি গরু তার অবস্থা দেখে তাকে গোবর দিয়ে ঢেকে দিল। কিছুক্ষণ পর পাখিটি বেশ উষ্ণ অনুভব করল। যখন গোবরের গরমে সে খুব ঝরঝরে হয়ে উঠল, আনন্দে গান গেয়ে উঠল।

এমন সময় একটি বিড়াল পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, পাখির গান শুনে খুঁজতে লাগল কোথা থেকে শব্দ আসে। একটু পরই সে গোবরের কাছে আসে এবং সঙ্গে সঙ্গে গোবর খুঁড়ে পাখিটিকে বের করে তার আহার সারে।

 

শিক্ষণীয়বিষয়

১. যারা আপনার ওপর কাদা ছোড়ে, তারা সবাই-ই আপনার শত্রু নয়।

২. যারা আপনাকে পঙ্কিলতা থেকে বের করে আনে, তারা সবাই-ই আপনার বন্ধু নয়।

৩. এবং যখন আপনি গভীর পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত, তখন মুখ বেশি না খোলাই শ্রেয়।

ঝালকাঠিতে ছেলের হতে মা খুন

ঝালকাঠিতে ছেলের হতে মা খুন

ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় নিজ ছেলের হাতে জীবন গেলে মায়ের। উপজেলার দক্ষিণ আউরা গ্রামের মৃত শাহজাহান মল্লিকের কাঠালিয়া সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য স্ত্রী রাশেদা মল্লিককে (৫৫) তার ছেলে বাদশা মল্লিক (৩০) পিটিয়ে হত্যা করে। আজ দেড়টায় নিজ ঘরে রাশেদা মল্লিককে ভারী কাঠের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। ঘটনার পর থেকেই বাদশা মল্লিক পলাতক রয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।  

কাঠালিয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেন শওকত বলেন, বাদশা মল্লিককে তার মা রাশেদা মল্লিককে প্রায়ই মারধর করেন। আজ দুপুরে বাদশা মল্লিক তার মা রাশেদা মল্লিকের মাথায় ভারী কাঠের লাঠি দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সুরতহাল রির্পোট করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত করে তার পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে। বাদশা মল্লিকের মানসিক সমস্যা আছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।

সবার সামনে অভিনেত্রী সানা খানের সাথে একি করলেন সালমান খান

সালমান খান

বলিউডের ‘ভাইজান’ খ্যাত তারকা অভিনেতা সালমান খানের বয়স ৫১ বছর চলছে। তবুও নায়িকাদের কাঙ্ক্ষিত নায়ক তিনি। তার ছবিতে অভিনয় করতে মুখিয়ে থাকেন নায়িকারা। কারণ অনেক নায়িকা সালমান খানের হাত

ধরেই তারকা হয়েছেন। তেমনি একজন সানা খান। যদিও জি এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাওয়ার্ডসের রেড কার্পেটে তাকে স্পর্শ করলেন না সালমান খান।  

কালো, রুপোলি গাউন পড়ে ক্যামেরার সামনে সানা যখন পোজ দিচ্ছিলেন, সেই সময় সেখানে আসেন সালমান। সালমানকে দেখা মাত্র ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন সানা খান। আর সেই ছবি এবং ভিডিওই এখন ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

কারণ সালমান খানকে জড়িয়ে ধরলেও, তিনি কিন্তু সানার পিঠের ওপরে হাত মুঠো করে রাখেন। ছুয়েও দেখলেন না সানার খোলা পিঠ! 

সাবেক বিগ বস-এর প্রতিযোগীর পিঠ স্পর্শ না করে, কেন হাত মুঠো করে রাখলেন সালমান, তা নিয়ে সালমান ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। ভক্তদের একাংশের কথায়, সালমান খান দারুণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। সেই কারণেই নাকি সুন্দরীর খোলা পিঠ স্পর্শ করেননি তিনি। 

এবার বাংলা ছবিতে সানি লিওন

এবার বাংলা ছবিতে সানি লিওন

বাংলা ছবিতে এবার সানি লিওন। তার অভিনয় দেখতে পাবেন স্বপন সাহার নতুন ছবি ‘সেরা বাঙালি’তে। তবে সানি এই ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় নয়, আইটেম ড্যান্স করবেন, যার শুটিং মুম্বাইয়ে চলছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে স্বপন সাহার ছবি ‘সেরা বাঙালি’র শুটিং। তবে তাতে কী, নায়িকার চেহারায় বিন্দুমাত্র ক্লান্তি নেই। আর হবেই বা কী করে, এই ছবি নাচের জন্য কত নিয়েছেন জানেন? এক কোটি টাকা।

এখনো বেশ কিছু বাংলা ছবির সম্পূর্ণ বাজেট হয় ১ কোটি, সেখানে শুধু আইটেম ড্যান্সেই এই পরিমাণ অর্থ দিলেন প্রযোজক?

ছবির নায়ক-নায়িকা নতুন, তাই শুধু সানির ওপরই চোখ রাখছেন সমগ্র টিম। তার লাস্যময়ী তন্বীর জাদুতে একাই ঘায়েল করতে পারেন সকলকে।

গানটি গেয়েছেন আরমান মালিক ও মমতা শর্মা। দিনভর নাচের শুটিং শেষে ব্যাক আপ ড্যান্সাররা যখন ক্লান্ত, তখনো ইউনিটের সকলের সঙ্গে খোশমেজাজেই সানি। অবশেষে ধরা দিলেন ক্যামেরায়।

সাংবাদিকদের সামনে মেলে ধরলেন তার সদ্য সন্তান দত্তক নেওয়ার অনুভূতির কথা।

ভারতের জিনিউজ পত্রিকার খবরে বলা হয়, এখানে একজন ব্যবসায়ীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন রজতাভ দত্ত।

ন্যায়বিচার সম্পর্কে উমর (রাঃ) এর একটি অসাধারণ কাহিনী

ন্যায়বিচার সম্পর্কে উমর (রাঃ) এর একটি অসাধারণ কাহিনী

উমর রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুর শাসন আমল, একদিন ২ জন লোক এক বালককে টেনে ধরে নিয়ে আসল তাঁর দরবারে । উমর রাঃ তাদের কাছে জানতে চাইলেন যে, ‘ব্যাপার কি, কেন তোমরা একে এভাবে টেনে এনেছ ?’ তারা বলল ’এই বালক আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে ।’

উমর রাঃ বালকটিকে বললেন ‘তুমি কি সত্যিই তাদের পিতাকে হত্যা করেছ ?’ বালকটি বলল’ হ্যা আমি হত্যা করেছি তবে তা ছিল দূর্ঘটনাবশত, আমার উট তাদের বাগানে ঢুকে পড়েছিল তা দেখে তাদের পিতা একটি পাথর ছুড়ে মারল,যা উটের চোখে লাগে । আমি দেখতে পাই যে উটটি খুবই কষ্ট পাচ্ছিল । যা দেখে আমি রাগান্বিত হই এবং একটি পাথর নিয়ে তার দিকে মারি, পাথরটি তার মাথায় লাগে এবং সে মারা যায় ।’

উমর (রাঃ) ২ভাইকে বলেলন ‘তোমরা কি এ বালককে ক্ষমা করবে ?’ তারা বলল ‘না, আমরা তার মৃত্যূদন্ড চাই ।’ উমর রাঃ বালকটির কাছে জানতে চাইলেন ‘তোমার কি কোন শেষ ইচ্ছা আছে?

বালকটি বলল ‘আমার আব্বা মারা যাওয়ার সময় আমার ছোট ভাইয়ের জন্য কিছু সম্পদ রেখে যান, যা আমি এক যায়গায় লুকিয়ে রেখেছি ।
আমি তিন দিন সময় চাই, যা আমি সেই জিনিস গুলো আমার ভাইকে দিয়ে আসতে পারি । আমার কথা বিশ্বাস করুন ।’

উমর রাঃ বললেন ‘আমি তোমাকে বিশ্বাস করতে পারি যদি তুমি এক জন জামিন জোগাড় করতে পার যে নিশ্চয়তা দেবে যে তুমি ফিরে আসবে ?’ বালকটি দরবারের চারদিকে তাকাল এত মানুষের মধ্যে কেউই তার জামিন হল না ।সবাই নিচের দিকে তাকিয়ে রইল।

হঠাত্‍ দরবারের পেছন থেকে একটি হাত উঠল । কার হাত ছিল এটি? প্রখ্যাত সাহাবী আবু যর গিফারী (রাঃ) , তিনি বললেন ‘আমি তার জামিন হব’ চিন্তা করুন জামিন মানে হল, যদি বালকটি ফিরে না আসে তবে আবু যর গিফারী রাঃ এর শিরচ্ছেদ করা হবে। সুতরাং, বালকটিকে ছেড়ে দেওয়া হল । এক দিন গেল, দ্বিতীয় দিনেও বালকটি আসল না, তৃতীয় দিনে ২ভাই আবু যর গিফারীরাঃ এর কাছে গেল ।

আবু যর রাঃ বললেন ‘আমি মাগরিব পর্যন্ত অপেক্ষা করব’ মাগরিবের কিছুক্ষণ আগে আবু যর গিফারী রাঃ দরবারের দিকে রওনা হলেন । মদিনার লেকজন তাঁর পেছন পেছন যেতে লাগল । সবাই দেখতে চায় কি ঘটে। আবু যর রাঃ একটি বালকের ভুলের কারণে আজ জীবন দিচ্ছেন । হঠাত্‍ আজানের কিছুক্ষণ আগে বালকটি দৌড়ে আসল । লোকেরা সবাই অবাক হল ।

উমর রাঃ বললেন ‘হে বালক তুমি কেন ফিরে এসেছ? আমিতো তোমার পিছনে কোন লোক পাঠাইনি । কোন জিনিসটা তোমাকে ফিরিয়ে আনল?’

বালকটি বলল ‘আমি চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলিম কথা দিয়েছিন কিন্তু সে তা রাখে নি তাই আমি ফিরে এসেছি’ উমর রাঃ আবু যর রাঃ কে বললেন ‘হে আবু যর তুমি কেন এই বালকের জামিন হলে?’

আবু যর রাঃ বললেন ‘আমি দেখলাম একজন মুসলমানের সাহায্য প্রয়োজন, আমি চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলমানের সাহায্য প্রয়োজন ছিল কিন্তু কোন মুসলমান তাকে সাহায্য করেনি।’

এ কথা শুনে দুই ভাই বলল ‘আমরাও চাই না যে কেউ বলুক একজন মুসলমান ক্ষমা চেয়েছিল কিন্তু অন্য মুসলমান তাকে ক্ষমা করেনি’ তারপর বালকটি মুক্তি পেল ।

বর্তমান সমাজে কি পাওয়া যাবে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের এই অপরূপ দৃষ্টান্ত?? যারা ইসলামকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে তারা যেন দেখে নেয় ইসলামের সৌন্দর্য !
আলহামদুলিল্লাহ

হযরত খাব্বাব (রা.) এর একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা

হযরত খাব্বাব (রা.) এর একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা

রাসুলুল্লাহর (সা.) সাহাবীদের মধ্যে যাঁরা আল্লাহর রাস্তায় জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা কাফিরদের নির্যাতনের অগ্নিপরীক্ষায় নিজেদের পেশ করেছেন, হযরত খাব্বাব (রা.) তাঁদের অন্যতম। পাঁচ-ছয় জন লোক মুসলমান হওয়ার পরেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন; সেজন্য সুদীর্ঘ সময় তাকে কাফিরদের নির্যাতন ভোগ করতে হয়।

লৌহবর্ম পরিয়ে তাকে রোদে ফেলে রাখা হত; ফলে তার শরীর থেকে ঘাম বের হতে থাকতো। অধিকাংশ সময় তাকে নগ্ন দেহে তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে রাখা হত। যার ফলে প্রচণ্ড তাপে তার কোমরের মাংস গলে পড়ে গিয়েছিল।

তিনি এক কাফের স্ত্রীলোকের ক্রীতদাস ছিলেন। তার মনিব যখন জানতে পারলো যে, তিনি নবী করীম (সা.) এর নিকট আসা-যাওয়া করেন, তখন ঐ নারী লোহা গরম করে তার মাথায় দাগ দিতো।

হযরত ওমর (রা.) তার কাছ থেকে নির্যাতন ভোগের বিস্তারিত বিবরণ জানতে চান। তখন হযরত খাব্বাব (রা.)বলেন, “আমার কোমর দেখুন!”

হযরত ওমর (রা.)তার কোমর দেখে বলেন, এমন কোমর তো আমি কোথাও দেখি নাই।

তখন হযরত খাব্বাব (রা.) বললেন, আমাকে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর রেখে চেপে ধরতো ফলে আমার চর্বি এবং রক্তে গলে আগুন নিভে যেত।

হযরত খাব্বাব (রা.) এর একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা
হযরত খাব্বাব (রা.) এর একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা

এমন নির্মম শাস্তি ভোগ করা সত্তে¡ও ইসলামের যখন শক্তি বৃদ্ধি হলো এবং মুসলমানদের বিজয় আসতে লাগলো তখন তিনি উচ্চ কণ্ঠে কেঁদে কেঁদে বলতেন, আল্লাহ না করুন! আমার কষ্টের পুরস্কার দুনিয়াতেই যেন লাভ না হয়ে যায়।

মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে হযরত খাব্বাবের মৃত্যু হয় এবং সাহাবাদের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনিই কুফায় কবরস্থ হন। তার মৃত্যুর পর হযরত আলী (রা.) তার কবরের পাশ দিয়া যাওয়ার সময় বলেছিলেন, আল্লাহ খাব্বাবের উপর রহম করুন! তিনি নিজের ইচ্ছায় মুসলমান হয়েছিলেন, নিজের ইচ্ছায় হিজরত করেছিলেন।

খলীফা হারুনুর রশীদ ও এক পাগলের গল্প, জানলে চমকে উঠবেন

খলীফা হারুনুর রশীদ ও এক পাগলের গল্প

আব্বাসী খলীফা হারুনুর রশীদ (৭৬৩-৮০৯খ্রি.) এর শাসন আমলে (৭৮৬-৮০৯খ্রি.) বাহলুল নামে এক পাগল ছিল। যে অধিকাংশ সময় কবরস্থানে কাটাতো। কবরস্থানে থাকা অবস্থায় একদিন বাদশাহ হারুনুর রশীদ তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।
বাদশাহ তাকে ডাক দিলেন: বাহলুল! ওই পাগল! তোর কি আর জ্ঞান ফিরবে না? বাহলুল বাদশাহর এ কথা শুনে নাচতে নাচতে গাছের উপরের ডালে চড়লেন এবং সেখান থেকে ডাক দিল- হারুন! ওই পাগল! তোর কি কোনদিন জ্ঞান ফিরবে না? বাদশাহ গাছের নিচে এসে বাহলুলকে বললেন, আমি পাগল নাকি তুই, যে সারা দিন কবরস্থানে বসে থাকে? বাহলুল বলল, আমিই বুদ্ধিমান।

বাদশাহ: কীভাবে?

বাহলুল: রাজপ্রাসাদের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বললেন, আমি জানি এই রঙ্গীলা দালান ক্ষণিকের আবাসস্থল, এবং এটি (কবরস্থান) স্থায়ী নিবাস; এজন্য আমি মরার পূর্বেই এখানে বসবাস শুরু করেছি। অথচ তুই গ্রহণ করেছিস ঐ রঙ্গশালাকে আর এই স্থায়ীনিবাসকে (কবর) এড়িয়ে চলছিস। রাজপ্রসাদ থেকে এখানে আসাকে অপছন্দ করছিস যদিও তুই জানিস এটাই তোর শেষ গন্তব্য। এবার বল, আমাদের মধ্যে কে পাগল?

বাহলুলের মুখে এ কথা শোনার পর বাদশাহর অন্তর কেঁপে উঠল, তিনি কেঁদে ফেললেন। তাঁর দাড়ি ভিজে গেল।

তিনি বললেন: খোদার কসম! তুমিই সত্যবাদী। আমাকে আরও কিছু উপদেশ দাও!

বাহলুল: তোমার উপদেশের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট। তাকে যথার্থভাবে আকড়ে ধর।

বাদশাহ: তোমার কোন কিছুর অভাব থাকলে আমাকে বল, আমি তা পূরণ করব।

বাহলুল: হ্যা, আমার তিনটি অভাব আছে, এগুলো যদি তুমি পূরণ করতে পার তবে সারা জীবন তোমার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করব।

বাদশাহ: তুমি নিঃসঙ্কচে চাইতে পার।

বাহলুল: মরণের সময় হলে আমার আয়ূ বৃদ্ধি করতে হবে।

বাদশাহ: আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

বাহলুল: আমাকে মৃত্যুর ফেরেশতা থেকে রক্ষা করতে হবে।

বাদশাহ: আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

বাহলুল: আমাকে জান্নাতে স্থান করে দিতে হবে এবং জাহান্নাম থেকে আমাকে দূরে রাখতে হবে।

বাদশাহ: আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

বাহলুল: তবে জেন রাখ, তুমি বাদশাহ নও বরং তুমি অন্য কারও অধীনস্থ। অতএব তোমার কাছে আমার কোন চাওয়া বা প্রার্থনা নেই।”

সুবহান- আল্লাহ! আল্লাহ আমাদের সকলের ঈমান কে মজবুত করে দিন। -আমিন

জেনে নিন | জান্নাতে আল্লাহ যাদের মেহমানদারি করবেন

জান্নাতে আল্লাহ যাদের মেহমানদারি করবেন

আল্লাহ তাআলার সঙ্গে বান্দার মধুর সম্পর্ক তৈরি হয় নামাজের মাধ্যমে। এ কারণেই নামাজকে মুমিনের মেরাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর নামাজে পরিপূর্ণ এতমিনান তথা প্রশান্তি লাভ হয় মসজিদে জামাআতে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে।

ব্যস্ততম সময় সন্ধ্যা এবং আরামের সময় সকালে জামাআতে নামাজ আদায় করা সবার জন্যই কষ্টকর। এ কষ্টকর ও গুরুত্বপূর্ণ সময় সকাল এবং সন্ধ্যায় যারা মসজিদে গিয়ে জামাআতে সঙ্গে নামাজ আদায় করবেন, তাদের জন্য প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতে মেহমান হওয়ার সুসংবাদ প্রদান করেছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা মসজিদে যাবে; আল্লাহ তাআলা তার (ওই বান্দার) প্রতিবারের (মসজিদে যাওয়ার) জন্য জান্নাতের মেহমানদারির ব্যবস্থা করবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

একজন বান্দার জন্য জান্নাতের মেহমান হওয়ার চেয়ে সৌভাগ্য আর কি হতে পারে! এ হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য সে সুসংবাদই প্রদান করেছেন।

তাছাড়া যারা সকাল এবং সন্ধ্যায় নিয়মিত মসজিদে গিয়ে জামাআতে নামাজ আদায় করবে; এক সময় তাদের মাঝে ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতে আদায়ের অভ্যাস গড়ে ওঠবে।

জান্নাতে আল্লাহ যাদের মেহমানদারি করবেন
জান্নাতে আল্লাহ যাদের মেহমানদারি করবেন

যারা নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতে আদায় করবেন। হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী ওই ব্যক্তির প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত হবে জান্নাতে। সে হবে জান্নাতের স্থায়ী মেহমান। যার ঘোষণা দিয়েছেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

পরিশেষে…
প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য অন্য হাদিসে জামাআতে নামাজ পড়ার ২৭গুণ ছাওয়াব লাভের সুসংবাদ বর্ণনা করেছেন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জামাআতে সঙ্গে নামাজ আদায় করা একাকি নামাজ আদায়ের চেয়ে ২৭গুন বেশি ছাওয়াব।’ (বুখারি ও মুসলিম) তাই প্রিয়নবি ঘোষিত সুসংবাদ গ্রহণ করা তাঁর উম্মতের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সকাল-সন্ধ্যায় মসজিদে গমনের মাধ্যমে ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে হাদিসে ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত ও মর্যাদা দান করুন। চিরস্থায়ী শান্তির স্থান জান্নাতের সার্বক্ষণিক মেহমান হওয়ার সৌভাগ্য নসিব করুন। আমিন।