ঈদের দিনে দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে কাঁদছে মানবতা, আরো ২৬ রোহিঙ্গার লাশ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে হত্যা-নির্যাতনে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর বৌদ্ধদের নির্যাতনের স্টিমরোলার যেন কোনো মতেই থামছে না। মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসার সময় নৌকাডুবিতে নিহত রোহিঙ্গাদের লাশের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত মোট ২৬ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েক দিনে নৌপথে আসার সময় নৌকাডুবিতে প্রাণ হারাল ৪৯ জন। মৃত্যুর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, সঙ্গে বাড়ছে বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গাদের ঢল।

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা স্বজন হারানো এসব রোহিঙ্গাদের আর্তচিৎকারে সেখানকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ফলে ঈদের দিনেও দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে কাঁদছে মানবতা।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় টেকনাফ পুলিশ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া, খারাংখালী, শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং ও খানকারপাড়া থেকে ২৬ লাশ উদ্ধার করে। এর আগে বৃহস্পতিবার শাহপরীর দ্বীপে সাগর উপকূল থেকে ১৯ রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আর মঙ্গলবার নাফ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ৪ জনের মৃতদেহ। সবমিলে গত কয়েকদিনে ৪৯জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে প্রতিদিনই বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে শত শত রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা গত ২৪ আগস্ট থেকে পরবর্তী ৬ দিনে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের কথা জানিয়েছিল। এ পর্যন্ত কতজন রোহিঙ্গা বাংলাদেশ অনুপ্রবেশ করেছে, তার তথ্য সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও প্রশাসন জানাতে পারেনি। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা অন্তত ৪০ হাজার। এর আগের ৮ দিনে এসেছে আরো ৪০ হাজার।

টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও রোহিঙ্গারা দলে দলে ঢুকে পড়ছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সাধ্যমতো চেষ্টা চালাচ্ছে। নাফ নদীতে নৌকাডুবির সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে নাফ নদী থেকে ১৮ রোহিঙ্গার লাশ পাওয়া গেছে। এগুলো মায়ানমার থেকে ভেসে আসে বলে খবর পাওয়া গেছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, শুক্রবার ভোরে ইউনিয়নের উনচিপ্রাং ও লম্বাবিল সীমান্ত দিয়ে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা ঢুকে পড়েছে। তাদের অনেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইন উদ্দিন খান বলেন, গত দুই দিনে ব্যাপক হারে রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। রোহিঙ্গাদের আটক করে এক সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠালে অন্য সীমান্ত দিয়ে তারা আবার ঢুকছে। সড়ক, পথঘাট, অলিগলি সবখানে এখন রোহিঙ্গা আর রোহিঙ্গা। তিনি জানান, আজ উদ্ধার করা ১৮ মৃতদেহের মধ্যে ১১ জন পুরুষ, পাঁচজন নারী ও দুটি শিশু।

পালিয়ে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গা বলেন, ঈদের দিন রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে ‘গণহত্যা’ চালানো হবে—এমন গুজবের পর রোহিঙ্গারা দলে দলে সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন।

শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম সৈকতে দেখা গেছে, অসংখ্য রোহিঙ্গা নৌকা থেকে নেমে টেকনাফ শহরের দিকে রওনা দিয়েছেন। কেউ রিকশা, আবার কেউ ইজিবাইকে উঠেছেন। সেখানে কথা হয় আমেনা খাতুন (৬০) নামের এক নারীর সঙ্গে। তার ভাষ্য, রাখাইন রাজ্যে গত দুই দিন ধরে সেনা ও পুলিশের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালাচ্ছেন। আজ ভোরে তারা রাখাইন রাজ্যের ফাদনচা গ্রাম থেকে নৌকা নিয়ে এখানে নেমেছেন। এখন টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গাশিবিরে যাচ্ছেন। সেখানে তাদের আত্মীয়স্বজন আছেন।

এছাড়াও গত কয়েকদিনে টেকনাফের নয়াপাড়া, সাবরাং, নাইটংপাড়া, জাদিমুরা, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, উখিয়ার বালুখালী, রহমতেরবিল, ধামনখালী, আঞ্জুমানপাড়া, নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, তুমব্রু, চাকঢালাসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছেই। এত দিন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড ও পুলিশের কড়াকড়ির কারণে ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটেনি। তবে বৃহস্পতিবার থেকে রোহিঙ্গা স্রোত আটকানো যাচ্ছে না।

উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের বলেন, রাখাইন রাজ্যে দমন-পীড়নের মুখে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি হিন্দুরাও বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন। উখিয়ার একটি পরিত্যক্ত মুরগির খামারে আশ্রয় নিয়েছে রাখাইন রাজ্যের ফবিরাবাজার থেকে পালিয়ে আসা ৪১২ জন হিন্দু নারী, পুরুষ ও শিশু।

মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে থেকে  উদ্ধার হল বিজিবি লাশ । এবার কি করবে বাংলাদেশ?

যেভাবে বর্বর মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে থেকে
উদ্ধার হল বিজিবি নায়েক সুবেদার মো. মিজানুর রহমানের লাশ
শনিবার সন্ধ্যা ৬ টায় দোছড়ি সীমান্তের ৫২ নং পিলার এলাকা দিয়ে কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আলীর হাতে লাশ হস্তান্তর করে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি দল।

এ সময় বিজিবি লাশ গ্রহণ করে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা মোড়ানো কফিনে ভরে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির ব্যাটালিয়ান হেডকোয়াটারের দিকে নিয়ে আসে। লাশ পাবার পর উপস্থিত বিজিবি সদস্যদের আহাজারিতে আকাশ ভারী হয়ে ওঠে।

বৃত্তের বাইরে গেলেই সব শেষ। তাহলে কোথায় থাকার চেষ্টা করতে হবে?

কেন্দ্রে থাকতে পারাটা খুব কষ্টের। বৃত্তের পুরো সেন্টার অফ গ্র্যাভিটি তো রয়েছে বৃত্তের কেন্দ্রেই। আমাদের দ্বীন অনেকটা বৃত্তের মতোই। আমরা যতো বেশী কুর’আন আর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরতে পারবো, কেন্দ্রের ততো নিকটে থাকবো। আর যতো বেশী কুর’আন-সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাবো, কেন্দ্র থেকেও ততো বেশী দূরে চলে যাবো। একসময় পরিধির কাছে চলে যাবো। এ পরিধির প্রান্ত পার হলেই কিন্তু মহা বিপদ। এ প্রান্তের এক পাশে বৃত্তের মধ্যে আছে ইসলাম। আর অন্যপাশে?
কুফর।
.
কিছু মানুষ এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে, কুফর আর ইসলামের সীমান্তে দাঁড়িয়ে ইবাদত করে। অনেকটা সেনাবাহিনীর এক সৈনিকের মতো। যে একদম পিছনে থেকে যুদ্ধ করে। যদি দেখে তার দল জিতে যাচ্ছে, তাহলে দলের সাথে মিলে যায়। আর যদি দেখে দল হেরে যাচ্ছে, তাহলে আস্তে আস্তে কেটে পড়ে। একইভাবে কিছু মানুষের মনের অবস্থা অপরিপক্ক, আকীদা-বিশ্বাস নড়বড়ে। তারা নিজের প্রবৃত্তির পূজা করে।
.
তারা ইসলাম পালন করে দুনিয়ার লাভের জন্যে। যদি দেখে ইসলামের কোনো বিধান পালন করলে তাদের লাভ হচ্ছে, দুনিয়া ভোগ করতে কোনো কষ্ট হচ্ছে না, তখন তারা এ দ্বীনের উপর খুব খুশী হয়। আর যদি দেখে ইসলাম পালন করতে গিয়ে তাদের জীবনে দুঃখ-কষ্ট আসছে, অনেক কিছু থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে, তখন সে আর মন থেকে ইসলামকে মেনে নিতে পারে না। সে আবার নিজের প্রবৃত্তির পূজায় ফিরে যায়। কতো মানুষ আছে যখন তারা দেখে ইসলামে “জাস্ট ফ্রেণ্ড” রাখা যায় না, ইন্টারেস্ট খাওয়া যায় না, গান শোনা যায় না, তখন তারা চোখ-মুখ বাকিয়ে নিজের মতো সব কিছু ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করে। অথচ তারা নিজেরাও জানে তারা ভুল করছে।
.
কতো মানুষ আছে যারা সারাজীবন আল্লাহ্‌র নেয়ামত ভোগ করে যায়, আর হুট করে কোনো বিপদ আসলে দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে “হোয়াই অলওয়েজ মি” বলে উঠে। আল্লাহ্‌র উপর তখন তাদের সংশয় চলে আসে। বলে “আল্লাহ্‌ থাকলে আমার জীবনে এতো কষ্ট থাকবে কেন?”
.
আমাদের অনেকের অবস্থা অনেকটা আরব বেদুঈনদের মতো। যারা রাসূল (সা.) এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করে বাড়ী ফিরে যেতো। এরপর মেঘ-বৃষ্টি পেলে, স্ত্রী সন্তান দিলে তারা বলতো- “আরে! এই দ্বীন তো অনেক ভালো।” কিন্তু যদি তাদের জীবনে কোনো কল্যাণ না আসতো, তখন তারা বলতো – “এই দ্বীনে ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই নেই।”
সাহাবাদের আচরণ কিন্তু ছিল একদম উল্টো। তারা যদি দেখতেন তাদের জীবনে দু:খ-কষ্ট আসছে না, বরং প্রাচুর্য আসছে, তখন তারা আতঙ্কিত হয়ে যেতেন। বলতেন, “দুনিয়াতেই তো সব পেয়ে যাচ্ছি। হায়! আখিরাতে কি পাবো!”
.
“মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধা – দ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে। যদি সে কল্যাণ প্রাপ্ত হয়, তবে ইবাদতের উপর কায়েম থাকে এবং যদি কোন পরীক্ষায় পড়ে, তবে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে দুনিয়াতে ক্ষতিগ্রস্ত, আখিরাতেও ক্ষতিগ্রস্ত। এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।” [সূরা হাজ্জ্ব, আয়াত ১১]

‘বাংলাদেশে যাও, জান্নাতে দেখা হবে’: ২৫ বছর বয়সী গর্ভবতী রোহিঙ্গা নারীকে তার স্বামী

২৫ বছর বয়সী আয়েশা বেগমকে গর্ভবতী অবস্থায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে হয়েছে। এখানে তার ঠিকানা হয়েছে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে। সন্তান জন্মদানের সময় স্বামী কাছে থাকবে না বলে কোনো দুঃখ নেই তার। কেননা তার স্বামী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে। অত্যাচার-নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা পেতে আয়েশার স্বামীর মতো অনেকেই এখন বিদ্রোহে নামছে।

নাফ নদীর এক পাড়ে প্রাণের স্পন্দন থাকলেও অপর পাশে চলছে মানুষ হত্যার মাতম। একদিকে অস্ত্রের ঝলকানী। অন্যদিকে জীবন রক্ষার্থে বেঁচে আসা রোহিঙ্গাদের আর্তনাদে ভারী হচ্ছে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্ত। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পাড়ি জমাচ্ছে রোহিঙ্গারা। তাদেরই একজন এই আয়েশা বেগম। তিনি জানান, ‘আমার স্বামী আমাদের সীমান্ত পার করিয়ে দিয়েছেন। যাওয়ার সময় বলেছেন, ‘বেঁচে থাকলে শিগগিরই স্বাধীন আরাকানে (রোহিঙ্গা রাজ্য) আর মারা গেলে জান্নাতে আমাদের দেখা হবে।’

রাখাইন সম্প্রদায়ের আরসা নেতা শাহ আলম বলেন, রাখাইনের তিনটি গ্রাম থেকে প্রায় ৩০ জন আরসা গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন। তাদের জীবনের অন্য কোনো চাওয়া নেই। হয় লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, নয়তো মরতে হবে।’

 

এদিকে গত সোমবার সকালের দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাল্যামিয়া নামের এক পিতার মেয়েকে ধরে নিয়ে যায় দেশটির সেনাবাহিনীর একটি দল। এরপর ৩৫ বছর বয়সী ঐ নারীকে পানিতে ডুবিয়ে মারতে চায় সেনাবাহিনীর ঐ দলটি। তখন খবর পেয়ে ঐ নারীকে বাঁচাতে এগিয়ে যায় আরকান সলভেনশন আর্মি ‘আরসা’র (রোহিঙ্গাদের একটি সংঘটন) ১০ জনের একটি দল।

এসময় তারা দা, ছুরিসহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর। এসময় সেনাবাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারায় ‘আরসা’ (রোহিঙ্গাদের একটি সংঘটন) দলের ২ জন সদস্য। আর হাত হারিয়েছে ২০ বছরের যুবক আব্দুল্লাহ। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ২ জনকে নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে আব্দুল্লাহ।

 

‘আরসা’ দলের বাকি আট জন কোথায় আছে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ তাদের সঠিক অবস্থান বলতে পারেননি। তিনি জানান, বাকি আটজন এখন ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছে।

দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ জানান, সুস্থ হয়ে তিনি আবার তার কওম(রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী) ভাই বোনদের বাঁচাতে মিয়ানমার ফিরে যাবেন।

‘আরসা’দের শক্তি অনেকটাই দুর্বল হয়ে আসছে বলে জানান হাত হারানো রোহিঙ্গা যুবক আব্দুল্লাহ। তাদের সংঘটনের যুবকরা এখন ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি।

আব্দুল্লাহর মায়ের নাম দিলবাহার ও তার বাবার নাম জাহিদ আলম। বাবা মায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ জানান, তার বাবা মা তাদেরকে কওম(রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী) ভাই বোনদের রক্ষার জন্য প্রাণ দিতে বলেছেন।

 

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে চলা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর তাণ্ডব থামছে না।হেলিকপ্টার থেকে ফেলা হচ্ছে বোমা-মর্টালশেল। প্রতিদিনই নিপীড়ন চলছে একের পর এক গ্রামে। পাখির মতোই গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে সাধারণ রোহিঙ্গাদের। জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে ঘর-বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

আর এ কারণে নিরীহ রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে বংলাদেশের দিকে ছুটছেন। কিন্তু সীমান্তে কড়াকড়ি থাকায় তারা সহজেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছেন না। তারপরও বিভিন্ন কৌশলে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছেন রোহিঙ্গার।

 

এছাড়া টেকনাফ পৌর এলাকার ট্রানজিট জেটি থেকে রাখাইনের বিভিন্ন গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। এদিকে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া ছবি দেখে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে। সংস্থাটি এহেন নির্যাতন বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এছাড়া সীমান্তের একাধিক পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আকাশে কিছুক্ষণ পরপর একটি হেলিকপ্টার চক্কর দিয়ে পুনরায় মংডু শহরের দিকে চলে যাচ্ছে। রাখাইনে সহিংসতার পর থেকেই এভাবে হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখা যায়। মঙ্গলবার দুপুরে একটি হেলিকপ্টার চক্কর দেয়ার পরপরই সীমান্তের কাছাকাছি রাখাইনের বিভিন্ন জায়গায় আগুনের ধোঁয়া দেখা যায়। শোনা যায় বিকট শব্দের গুলি ও মর্টারশেলের আওয়াজ।

এদিকে নিজ দেশে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টেও নিষ্পেষিত হচ্ছেন। তাদের গরু-ছাগলসহ নগদ টাকা-পয়সা দুর্বৃত্তরা লুট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) লে. কর্নেল আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘মঙ্গলবার রাখাইনের আকাশে একটি হেলিকপ্টার দেখা গেছে। এটি অবস্থান করে চলে যাওয়ার পর তাণ্ডবের বেশ কিছু আওয়াজ সীমান্তের এপারে এসেছে। এসব কারণে রোহিঙ্গারা সীমান্তের দিকে আসছেনই।’

এদের ৪৬৮ জনকে মঙ্গলবার ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই কড়াকড়ির কারণে সীমান্তের ‘জিরো পয়েন্টে’ রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বাড়ছেই। অনাহারী-অর্ধাহারী ওই মানুষগুলো খোলা আকাশের নিচে এখন মানবেতর জীবন পার করছেন। মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়া ও বান্দরবানের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ঘর-বাড়ি জ্বলছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া ছবিতে তার সত্যতা মিলেছে। মঙ্গলবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় নিউইয়র্কভিত্তিক এ সংস্থাটি।

এইচআরডব্লিউর বিবৃতিতে বলা হয়, স্যাটেলাইটে ধরা পড়া ছবি থেকে রাখাইনের অন্তত ১০টি জায়গায় অগ্নিসংযোগ করার প্রমাণ মিলেছে। যেসব জায়গায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে তা প্রায় ১০০ কিলোমিটারব্যাপী বিস্তৃত, এটা গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের চেয়েও পাঁচগুণ বড়। ওই সময় স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে দেড় হাজার বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, ২৫ আগস্ট দুপুরে রাতেডং টাউনশিপের জেইডি পিন এবং কোয়ে তান কাউক গ্রামে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এরপর ২৮ আগস্ট সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মংডু শহর এবং মংডু টাউনশিপের আটটি গ্রামে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

রাখাইনের আরও বহু জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও স্যাটেলাইটে তার দৃশ্য ধরা পড়েনি।

 

এ পরিস্থিতিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা স্বাধীনভাবে পর্যবেক্ষণ এবং মানবাধিকার হরণের অভিযোগ যাচাই করতে অবরুদ্ধ রাখাইনে প্রবেশাধিকার দিতে মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, ‘নতুন স্যাটেলাইট তথ্যের আলোকে দাতা ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়া এবং মিয়ানমার সরকার যেন রাখাইন রাজ্যে চলমান ধ্বংসের মাত্রা প্রকাশ করে তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’

এদিকে রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে মিয়ানমার সেনা সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করলেও আতঙ্কের মধ্যে আছে সেখানে বসবাসকারী বৌদ্ধরাও।

এবিসি নিউজ জানায়, রাখাইনে উত্তেজনার মধ্যে বৌদ্ধরাও বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। রাখাইনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা থেকে পালিয়ে তারা রাজ্যের রাজধানী সিত্তের দিকে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলায় আহত জিউ পিয়ো অং নামে একজন বলেন, ‘আমি নিজেকে নিয়ে শঙ্কিত নই। তবে আমি আমার পরিবার নিয়ে বেশ শঙ্কিত।’ ৭০ বছর বয়সী সান খিনে পিউ আরও বলেন, ‘এ সংঘাতে আমার পুলিশ কর্মকর্তা ছেলেকে হারিয়েছি। আমি বৌদ্ধ হওয়ায় এর জন্য কাকে দোষারোপ করব?’

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন থেকে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা রোহিঙ্গা মুসলমানদের পরিকল্পিতভাবে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে জাতিগতভাবে নির্মূল করে আসছে যা গণতন্ত্রপন্থী ও শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সাং সুচি অব্যাহত রেখেছেন। এর ফলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী পুরুষকে হত্যার পর তাদের অনেকে পালিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭ টি দেশে। এদিকে বর্তমানে মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে যে ১০ লাখ রোহিঙ্গা আছে তাদের অধিকাংশ ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম রোহিঙ্গা শূণ্য করে তা দখলে নিচ্ছে বৌদ্ধরা। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হয়ে চাষাবাস করে জীবন যাপন করে আসছিল।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোররাতে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি রাখাইনের কয়েকটি পুলিশ চৌকিতে হামলা চালায় এবং ওই হামলায় ১১ পুলিশ সদস্য নিহত হয় বলে দাবি করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই দেশটির সেনাবাহিনী পশ্চিম অঞ্চলের মংডু, বুতিডং এবং রাতেডং জেলাকে ঘিরে ফেলে কথিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এতে কয়েক হাজার ’ নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে বলে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সংগঠন দাবি করেছে।

বুকে আয় ভাই, কোরবানির ঈদ আত্মত্যাগের ঈদ

চাচ্চুদের সাথে গরুর হাট দেখতে যাওয়া, কোন হাটে কয়টা বড় গরু দেখা গেছে ভালভাবে মনে রাখা খুবই দরকার ছিল । ঈদের ছুটির পর যখন স্কুলে যাবো তখন গল্পের ঝুড়িতে আমার শাসন চলবে। বন্ধুরা অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে গরুর গল্প শুনবে। ভাবই আলাদা। যদিও গরুর হাটে যেতে বেশ ভয় পেতাম তবুও বন্ধুদের কাছে নিজেকে বড় বানানোর ইচ্ছা আমাকে একেবারে অস্থির করে রাখত।

স্কুলে গরুর রচনা কিন্তু আমিই সবচেয়ে ভালো লিখতাম। পরীক্ষায় বেশি মার্কস পেলে সবাইকে ভাব নিয়ে বলতাম দেখেছিস বেশি জানি তো, তাই! আমাদের সকলেরই ছোটবেলা অনেক মজার মজার গল্প আছে। আসলে শৈশবে আমাদের আত্মত্যাগের চিন্তা থেকে মজার চিন্তাটাই বেশি থাকতো।

কোরবানির ঈদে নামাজ শেষে বাসায় এসে গরু কোরবানি বা কাটাকাটি নিয়ে সবার মাঝে অনেক উত্তেজনা ছিল। আমি শুধু বসে থাকতাম আর দেখতাম যেন পরে গিয়ে স্কুলে বন্ধুদের গল্প বলতে পারতাম। বন্ধুরা বলতো তুই তো বেশ একটিভ রে দোস্ত। আমি তো তখন মনে মনে গরুকে থ্যাংক ইউ বলতাম।

আব্বার সাথে ঈদগায়ে যাওয়ার জন্য মনটা অস্থির হয়ে থাকতো। নামাজের পর একে অপরের সাথে কোলাকোলি করার মুহূর্তটাতে নিজেকে মনে হতো ইশ কেন যে ছোট হলাম না! আমি আব্বার সাথে দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে দেখতাম আর ভাবতাম যদি আমার সাথে কেউ যদি কোলাকোলি করতো!   অনেক সময় বলেই ফেলতাম আঙ্কেল ঈদ মোবারাক, এইবার আমার সাথে কোলাকোলি না করে তো উপায় নাই !

আর একটা সময় ছিল উদ্ভট কাহিনী করতাম । ঈদগায়ে সবাই যখন সেজদায় আমি তখন দাঁড়িয়ে দেখতাম হাজার হাজার মানুষ একসাথে সেজদায় ! যদিও এই কাজ করা মোটেও উচিত না, তবুও  বুঝতে হবে ছোট ছিলাম তো ।

যাক গুরু কোরবানির সময় । কিন্তু অনেক রক্ত একসাথে দেখলে ভয় লাগতো। আর আমার মাথায় বোকার মত একটা ব্যাপার-ই ঘুরপাক করতো যে যেই গুরুটাকে নিয়ে সকালেও মজা করেছি সেইটাকে এখন সবাই মিলে জবাই করে ফেলেছে আবার এটাকে খাবো? যদিও পরে ভাবতাম দেখা-দেখির দরকার নাই সময় মত আরাম করে গোস্ত খেতে পারলেই হল।

কোরবানি মানেই আত্মত্যাগ সেটা আব্বা-আম্মার কাছ থেকে শুনে শুনেই মুখস্ত করা ছিল, কিন্তু তখন তার প্রকৃত ফজিলত তখন জানা ছিল না । এখন আর রক্ত ভয় পাই না অনেক বড় হয়ে গেছি ! জবাই করার সময় গুরুর দমে ধরাও শিখে গেছি । আল্লাহ্‌র জন্য কোরবানি করতে আবার ভয় কিসের ।

শেষ করার আগে একটা রিকোয়েস্ট সবার কাছে । এই ছোট্ট ঢাকা শহরটাকে পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার । এইবার ঈদে ঢাকার প্রত্যেকটা ওয়ার্ডের জন্য তিনটি করে জায়গা নির্ধারন করা হয়েছে এবং আবর্জনা বহনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে ব্যাগের ব্যাবস্থা করা আছে । বৃষ্টিতে যেন আপনার কোরবানির কোনো ঝামেলা না হয় তাই প্রতিটি নির্ধারিত জায়গার উপরে সামিয়ানা টানানো থাকবে। আমরা সবাই যদি এবার একটু সতর্ক হয়ে নিয়ম মেনে তাহলে চলি তাহলে অন্যান্য বছরের মত অপরিচ্ছন্ন ঢাকা এবার আর দেখা যাবে না।

সবার ঈদ ভাল কাটুক।
হাম্বা মোবারক ! ঈদ মোবারক

ঈদের আগে, আবার তুই প্রেম করে ছ্যাঁকা খেয়েছিস!

অনেকদিন কোথাও বেড়াতে যাই না। পড়াশোনার যে চাপ তাতে বেড়াতে যাওয়ার সময় কোথায়। পড়াশোনার চাপে বেড়াতে যেতে পারি না, কথাটা বলার সাথে সাথে সজিব বেঁকে বসল। ওর মুখে তাচ্ছিল্যের সুর। ‘কী আমার বিদ্যাসাগর! পড়াশোনার চাপে ঘুরতে যেতে পারেন না। বল ঘুরতে গেলে পকেটের টাকা খসবে তাই ঘুরতে যাস না। তুই যে কতটা কৃপণ গত ঈদে আমি টের পেয়েছি।’ পাশ থেকে শিশির বলে উঠল, ‘ও যে কৃপণ তা কমবেশি জানি, কোনো দিন এক কাপ চা পর্যন্ত খাওয়ায়নি। গত ঈদে কী ঘটেছিল সেটা বল।’ অন্যরাও ওকে সমর্থন দিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, বল বল।’ শিশির তখন এমন কিছু কথা বলল, যা শোনার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। ‘ঈদের দিন বিকেলে দুজন ঘুরতে বেরিয়েছি। শিলাইদহ কুঠিবাড়ি আসার পর ওর ভীষণ পিপাসা লাগল। আমি বললাম, যা ওই দোকান থেকে খেয়ে আয়। আমার তৃষ্ণা পায়নি সুতরাং আমি খেতেও চাই না। ও করল কি দোকান থেকে হাফ লিটারের একটা সেভেনাপ নিয়ে ঢকঢক করে সবটুকু খেয়ে ফেলল। খাওয়ার মাঝে আমার দিকে একটু তাকালও না পর্যন্ত। শেষে টাকা না দিয়ে হাঁটা শুরু করল। দোকানদার টাকা চাইতেই আমাকে দেখিয়ে বলল, টাকাটা ও দেবে। দোকানদার আমার খুব পরিচিত। আমাকে দেখে সে আর জোরাজুরি করল না। ফিরে এসে একগাল হাসি দিয়ে বলে কিনা ধন্যবাদ আমাকে খাওয়ানোর জন্য। আমি কিন্তু ওকে খাওয়াতে চাইনি। নিজে খাওয়ার পর টাকাটা আমাকে দিতে বলতে ওর একটু লজ্জাও করল না। ছিঃ!’ অন্যরাও সবাই বলল, ‘ছিঃ।’

 

একটু আধটু কৃপণ আমি একথা নিজেও স্বীকার করি, কিন্তু সত্যি বলছি ওই দিন আমি এমন কিছুই করিনি। সবাই

 

 যেহেতু ওর পক্ষে তাই ও নিয়ে আমি আর কথা বাড়ালাম না। এবার মহুয়া বলে উঠল, ‘শুধু টাকা খরচ হবে সেজন্যই নয়, ওর তো কোনো বান্ধবী নেই তাই ঘুরতে যেতেও ইচ্ছে করে না।’ ওর কথার সুর ধরে রাজিব বলে উঠল, ‘বান্ধবী থাকবে কী করে? পকেটের টাকাকড়ি না খসালে মেয়েরা ওর পিছে সময় দেবে কেন? ও জানে না আমি চাঁদনীর পিছনে কত টাকা খরচ করি? সেই ক্লাস থ্রিতে পড়া থেকে চাঁদনীকে আমি খাওয়াচ্ছি।’ সবাই এক সুরে বলে উঠল, ‘ঠিক ঠিক।’ আমাকে ওরা কোণঠাসা করে ছাড়ছে। যে করেই হোক তাড়াতাড়ি এখান থেকে কেটে পড়তে হবে। কিন্তু আমি ওদের হাত থেকে নিস্তার পেলাম না। ওখানে সৌরভও ছিল, যে বেশি কথা বলে। অন্যের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে সে বলতে শুরু করল। এবার আমি নির্ঘাত দশ হাত মাটির নিচে চাপা পড়ব। ও বলতে শুরু করল, ‘পকেট থেকে একটা সিকি আধুলিও খসাবে না আবার বান্ধবীর আশা করবে—এ তো ভালো কথা নয়। তোরা সব শোন—একবার কী ঘটল।’ সবাই ওর কথায় উত্সাহ পেয়ে চিত্কার করে বলল, ‘বল বল কী ঘটেছিল? ও কি কাউকে ‘আই লাভ ইউ’ বলে সেই মেয়ের হাতে চড় খেয়েছিল?’ ওরা কি বলছে এসব? আর তো সহ্য করা যায় না। কিছু একটা আমাকে করতেই হবে। এরা বানিয়ে বানিয়ে কী সব যা-তা বলছে। সৌরভ আবার বলা শুরু করল, ‘মেয়ে হলেও একটা কথা ছিল!’ আবার সবাই চিত্কার করে উঠল, ‘বলিস কীরে তবে কি কোনো ছেলেকে প্রেম নিবেদন করেছিল নাকি? হি হি হি! হিজড়াকে?’ বলেই সে কি হাসি সবার। আর আমার পিত্তি জ্বলে যাচ্ছিল। সৌরভ থেমে থেমে বলল, ‘কৃপণ বলে ক্যাম্পাসে কোনো মেয়েই ওকে পাত্তা দেয় না। প্রেম করার অনেক চেষ্টা করেও ও ব্যর্থ। একদিনকার ঘটনা, ও এক গোছা ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কলাভবনের উত্তর গেটে। মনে মনে ভেবে রেখেছে, যে মেয়েটা প্রথম আসবে তাকেই ও ‘আই লাভ ইউ’ বলবে। এক গণকঠাকুর নাকি ওকে এ কথা বলেছে। যা ভাবা সেই কাজ, গাড়ি থেকে একটা মেয়ে বের হলো আর সাথে সাথে মিষ্টি মিষ্টি হাসি দিয়ে তার হাতে ফুলের তোড়া ধরিয়ে দিয়ে বলল, ওগো ললনা আই লাভ ইউ। মেয়েটা কিছু বলল না, শুধু দাঁড়িয়ে থাকল। এর মাঝে গাড়ি থেকে সতেরো-আঠার বছরের আরেকটা মেয়ে বেরিয়ে এসে বলল, আম্মু এই লোকটা তোমাকে ফুল দিল কেন? ও যাকে ফুল দিয়েছিল তিনি এই মেয়েটির মা। তিনি বললেন, ছেলেটা আমাকে আই লাভ ইউ বলেছে। উনার ওই মেয়েটা মার্শাল আর্টে ব্ল্যাকবেল্ট। সে সাথে সাথে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে ওকে একটা ফ্লাইংকিক মারল। ও ছিটকে গিয়ে নিচের সিঁড়িতে পড়ে কপাল ফাটিয়ে ফেলল। এখনো ওর কপালে সেই দাগ আছে।’

 

ওর কথা শেষ হতেই সবাই ভিড় করে বলল, ‘দেখি তো কোথায় সেই দাগটা?’ আমি চিত্কার করে বললাম, ‘সৌরভ সব মিথ্যা বলছে। আমি কখনোই এরকম কিছু করিনি।’ বলতে না বলতেই পাশ থেকে ফাহিম কথা বলে উঠল। ফাহিম আমার ভালো বন্ধু। ভাবলাম বাঁচা গেল। ফাহিম নিশ্চয় আমার পক্ষে কথা বলবে! কিন্তু কীসের কী উল্টো ও আরো বেশি আঘাত করল। ও বলল, ‘আচ্ছা সবাই না হয় মিথ্যা বলছে। বিশ্বাস করলাম—তুই খালাম্মার বয়সী ওই মহিলাকে আই লাভ ইউ বলে তার মেয়ের পায়ের ফ্লাইং কিক খাসনি। তাহলে তোর কপালে কাটা দাগ কেন?’ আমি প্রাণপণে বোঝাতে চেষ্টা করলাম, কিন্তু ওরা শুনল না।

 

আমি রাগে ফুলতে ফুলতে বাসায় ফিরলাম। আমার এ অবস্থা দেখে আমার একমাত্র ছোট বোন মাইশা বলল, ‘কীরে ভাইয়া, তোকে এত রাগান্বিত দেখাচ্ছে কেন?’ আমি বললাম, ‘কিছু না।’ মাইশা বলল, ‘ও বুঝেছি আবার তুই প্রেম করে ছ্যাঁকা খেয়েছিস!’

আহ মেহমান, উহ মেহমান

ঈদ মানে যেমন আনন্দ, তেমনি ঈদ মানে মেহমান। আপনি ‘মান’ দেন বা না দেন, মেহমান আসবেই। আপনি বিরক্ত হলেন না হাউমাউ করে কাঁদলেন, মেহমানদের ওইসব দেখার টাইম নেই। তারা আসবে, গলা পর্যন্ত ভরে খানাপিনা করবে, তারপর দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে চলে যাবে। আবার কেউ কেউ এমন আছেন, যারা সহসাই চলে যাওয়ার নাম মুখে নেবেন না। খানাপিনার পর বিছানায় গড়াগড়ি দেবেন, ঘুম দেবেন, ঘুম থেকে উঠে আবার খাবেন, রাতটা থাকবেন, পরদিন চলে যাওয়ার নাম মুখে নিতেও পারেন, অথবা আরো দুয়েকদিন থাকতেও পারেন। সে এক বিরক্তিকর কাণ্ড। প্রতি ঈদেই এই কাণ্ড কাছ থেকে দেখতে হয়, সহ্য করতে হয় আমাকে আপনাকে।

 

গত বছরের ঘটনা। ঈদের পরদিন আমার এক বন্ধু ফোন করে বলল, ‘তুই তো ফান ম্যাগাজিনে লিখিস টিখিস। মেহমান তাড়ানোর ভালো ভালো বুদ্ধি আছে তোর মাথায়। আমাকে একটা বুদ্ধি দে না। আমাকে এখনই আমার বাসার মেহমানগুলো তাড়াতে হবে। তাদের যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে গেছি। আমার ছোট ছেলেটা একটু পরপর কেঁদে উঠছে ভয়ে।’ আমি বললাম, ‘বাড়িতে মেহমান এলে তো বাচ্চারা আরো খুশি হয়। তোর বাচ্চা ভয় পাচ্ছে কেন? মেহমানরা তোর বাচ্চার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে নাকি?’ বন্ধু বলল, ‘খারাপ ব্যবহার বলতে যা বোঝায়, সেটা হয়তো করছে না, তবে এটাই ঠিক যে তাদের কারণে বাচ্চাটা ভয় পাচ্ছে। এত খাবার খেলে ভয় পাবে না?’ আমি বললাম, ‘তোর কথার আগামাথা তো কিছুই বুঝতে পারছি না। মেহমানরা বেশি খাবার খেলে বাচ্চা ভয় পাবে কেন?’ বন্ধু বলল, ‘মেহমানরা সামনে যত খাবার পেয়েছে, সব খেয়েছে। খাওয়ার পর থেকে কী করছে জানিস? গড়ড়ড়ড়ড় গড়ড়ড়ড় শব্দ করে ঢেঁকুর তুলছে। ঢেঁকুর তোলার এই বিকট শব্দ যতবারই বাচ্চাটার কানে আসছে, সে ভয়ে চিত্কার করে উঠছে। একটু আগে তো ভয়ে হাফপ্যান্টই ভিজিয়ে ফেলল।’

 

গত বছরের ঈদের সময়কার আরেকটা ঘটনা। আমার এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে রাস্তায় দেখা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেমন আছেন?’ বড় ভাই আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ডানে বামে তাকালেন চোরের মতো। তার ভাবভঙ্গি দেখেই বুঝলাম, তিনি আশপাশে লোকজন আছে কি না দেখছেন। হয়তো গোপন কোনো কথা বলবেন। বড় ভাই যখন দেখলেন আশপাশ ফাঁকা, তিনি গলার স্বর মিহি করে বললেন, ‘তুই তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিস। তোর কি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের কোনো ছোট ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় আছে?’ আমি বললাম, ‘পরিচয় তো আছে অনেকের সঙ্গেই। কিন্তু কেন বলেন তো?’ বড় ভাই বললেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের রুমগুলোতে বিপুল পরিমাণে ছারপোকা আছে, এটা সবাই জানে। আমিও জানি। যদি তোর পরিচিত কেউ থেকে থাকে, তাহলে তার রুম থেকে কিছু ছারপোকা আনতাম আরকি।’ আমি চোখ কপালে তুলে বললাম, ‘ছারপোকা আনতেন মানে? ছারপোকা আনার জিনিস নাকি?’ বড় ভাই বললেন, ‘অবশ্যই আনার জিনিস। আমি ছারপোকাগুলো এনে আমার বাসার গেস্টরুমে ছেড়ে দেবো। একদম মেহমান সেই যে বাসায় এসে আস্তানা গেড়েছে, আর যাওয়ার নাম নেই। ছারপোকার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে যদি বিদায় নেয় আর কি।’

 

একবার ঈদের পরদিন আমার এক চাচার বাসা থেকে একটা দুঃসংবাদ এলো। চাচার নাকি হাড় ভেঙে গেছে। আমি ছুটে গেলাম চাচার বাসায়। গিয়ে দেখি চাচা শুয়ে আছেন বিছানায়। তার হাতে ব্যান্ডেজ। আমি তার বিছানার কোণায় বসে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কীভাবে অ্যাক্সিডেন্ট হলো?’ চাচা কিছু বললেন না। চাচি বলতে চাইলে চোখের ইশারায় তাকেও তিনি থামিয়ে দিলেন। আমি বললাম, ‘আমাকে আপনারা বাইরের মানুষ মনে করছেন কেন? আমি তো আপনাদের আপন মানুষই। আমার কাছে ঘটনা খুলে বলতে পারেন নির্দ্বিধায়।’ এবার চাচি বললেন, ‘প্রতিবছরই ঈদে এক পাল মেহমান আসে। এইবারও আসবে, এমন একটা আলামত পাওয়া যাচ্ছিল। তাই তোমার চাচা একটা উপায় বের করল। বাসার দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে রাখবে। যাতে

 

 

মেহমান এসে তালা দেখে বোঝে বাসায় কেউ নেই। ব্যস, এই কাজটা করতে গিয়েই তোমার চাচা দুর্ঘটনার শিকার হলো।’ আমি বললাম, ‘দরজায় তালা ঝোলানো তো খুব কঠিন কাজ না। তাহলে দুর্ঘটনার শিকার হবে কেন?’ চাচি বললেন, ‘দরজার বাইরের দিকে তালা ঝুলিয়ে রুমে আসা-যাওয়া করছিল বারান্দার দিক দিয়ে দড়ি ঝুলিয়ে। দড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে হঠাত্ দড়ি ছিঁড়ে চিত্পটাং।’

 

আমার এক প্রতিবেশীকে খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মনে হলো। জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে। প্রতিবেশী বললেন, ‘খুব টেনশনে আছি ভাই। বছর দুয়েক আগে আমার বাসায় একটা বুয়া ছিল না? ওই বুয়াটাকে খুব দরকার। কিন্তু তার নম্বর খুঁজে পাচ্ছি না। কোথায় যে পাই! ঈদ আসছে, রান্নাবান্না করতে হবে, তাকে ছাড়া আমাদের চলবে না।’ আমি বললাম, ‘বুঝতে পেরেছি, বুয়াটা নিশ্চয়ই খুব ভালো রান্না করত!’ প্রতিবেশী বললেন, ‘আপনি কিছুই বুঝতে পারেননি। বুয়াটাকে খোঁজার একটাই কারণ, সে খুবই জঘন্য রান্না করত। আমি নিশ্চিত, এই বুয়ার হাতের রান্না খেতে হবে, এটা জানার পর আমার বাসায় কেউ বেড়াতে আসবে না। আমি রক্ষা পাব মেহমানের উত্পাত থেকে। আহ শান্তি! আগাম শান্তি!

বিয়ের পরে প্রথম ঈদ

বিয়ের পর প্রথম ঈদটা শ্বশুরবাড়িতেই করবে, তবে বিশেষ শর্তে। বউকে ডেকে তার শর্তের কথা বলে দিল বেসিক আলী। স্বামীর শর্ত শুনে বউ বাপের কাছে কল দিল, ‘হ্যালো আব্বা, তোমাগো জামাই ঈদ করার জন্য রাজি হইছে। তয় উনার নাকি দুম্বার গোস্ত খাওয়ার ইচ্ছে হইছে। তুমি যেভাবেই পার বাজার থাইক্যা একটা বড় সাইজের দুম্বা…’ টুট টুট টুট করে কেটে গেল মোবাইল কল। বেসিক আলীর বউ আরো দুইবার কল দিল। কিন্তু মোবাইল বন্ধ দেখাচ্ছে। পাশে বসা বেসিক আলী বলল, ‘কী হইছে? পুরো কথাটা তো বলতে পারনি। আবার কল দাও।’ বউ বলল, ‘দিলাম তো তিনবার। ওইপাশ থাইক্যা একজন মহিলা দুঃখিত হইয়া বলে ‘আপনার ডায়ালকৃত নম্বরটি এই মুহূর্তে বন্ধ রয়েছে’ এবং পরে কল দিতে বলতাছে।’ বেসিক আলী বলল, ‘আরে ধুর! দাও তো আবার। অন্তত দুম্বার কথাটা ক্লিয়ার কর।’ বউ বলল, ‘আমি তো সেটাই চাইছিলাম, কিন্তু বারবার কল দিয়ে ভদ্রমহিলাকে বিরক্ত করা কি ঠিক হবে? উনি যদি আবার রাগ করে মোবাইল ব্লক করে দেয়!’

 

বউয়ের সহজ-সরল কথা শুনে একগাল হেসে আপাতত দুম্বার কথা ভুলে গেল বেসিক আলী। এবারের ঈদে বউয়ের ঈদ সেলামি থেকে মোবাইলের ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে গুনে গুনে ৪৯% হারে ভ্যাট সংগ্রহ করে বেসিক আলী বেশ চামে আছে। বলতে গেলে তার ঈদের খুশি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সেই খুশিতে বেসিক আলী বাথরুমে দরজা আটকিয়ে বগল বাজায়। আর বাঁশফাটা গলা দিয়ে গাইতে শুরু করল, ‘আমার সাধ না মিটিল, আশা না পুরিল…।’ কখনো কখনো অতি খুশিতে মানুষ দুঃখের এক্সপ্রেশন দিয়ে ফেলে। বেসিক আলীর ক্ষেত্রেও তাই ঘটল। বেসিক আলী মনে মনে বলে, আগে যা শুনেছিলাম সেটাই তো ঠিক। বিয়া কত্ত মজা! সে কথা আগে জানলে কি আর এত্ত দেরি করি?

 

ওয়াসরুম থেকে আসার পর বউ জিজ্ঞেস করল, ‘আচ্ছা কও ত হুনি, তোমার কোন সাধটা মিটে নাই? আশাও পূর্ণ হয় নাই?’

 

‘ইয়ে মানে!’

 

‘মানে কী? তুমি আরো সুন্দরী বউ বিয়া করবা তো সেটা আগেভাগেই বলে ফেলতা। ভাবছ আমি কানে তুলা দিয়ে রাখি? কখন কী কর সবই বুঝি।’ একথা বলতে বলতে হু-হু করে কেঁদে দিল বেসিক আলীর বউ।

 

‘তুমি যে কি বলো না! আমি কি অমন ছেলে? আমি বলছিলাম তোমার সাথে বিয়েটা কেন আরো আগে হইল না!’

 

বউ কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল, ‘তখন কি আমার বাবা তোমার কাছে বিয়ে দিত?’

 

‘দিত না কেন?’

 

‘বারে, আমি যে তখন ছোট আছিলাম। বাল্যবিবাহের কেলেংকারি ঘইট্যা যাইত নাহ!’

 

‘ও ও আচ্ছা এখন কান্না থামাও। চল ঈদের শপিং কইরা আসি।’

 

‘জি না, আমি শপিং করতে যাইতাম না।’

 

‘কেন?’

 

‘ঈদের বাজারে নাকি জাল টাকার ছড়াছড়ি হয়।’

 

‘হুমম… কিন্তু তাতে কী? ’

 

‘পুলিশে ধইরা থানায় নিয়ে গেলে? বাপের বাড়ি ঈদ করার সাধ খতম হইয়া যাইব।’
‘আরে ধুর! লেনাদেনার সময় নিজে একটু সতর্ক থাকলেই হইব। আর যদি ভুলের কারণে দুজনে জাল টাকার চক্করে পইড়াই যাই তাহলে অবশ্য একটা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটবে।’

 

বেসিক আলীর বউ বেশ উত্সাহ নিয়া জানতে চাইল, ‘কী ঘটনা, কী ঘটনা?’
মুচকি হেসে বেসিক আলী বলল, ‘বিয়ের পরে প্রথম ঈদটা লাল দালানের শ্বশুরবাড়িতে করা হবে!’

হঠাৎ ন্যাড়া হয়ে গেলেন ঐশ্বরিয়া? অনলাইনে ভাইরাল!

বলিউড সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে গড়েছেন শক্ত অবস্থান। বয়সের ঘরে ৪৪ বছর যোগ হয়েছে। তবুও তিনি সমান লাস্যময়ী। তার ঘোলাটে চোখ, গোলাপি ঠোঁট কিংবা ঝলমলে চুল, ভক্তদের হৃদয়ে শিহরণ জাগায়। বলছি সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের কথা।

হঠাৎ এই সুন্দরী নায়িকা ন্যাড়া হয়ে গেলেন! কথাটা শুনে চমকে যাওয়াই স্বাভাবিক। এতো সুন্দর রূপের মাঝে ন্যাড়া মাথা, বড্ড বেশি বেমানান। তবে অনলাইনে ঠিকই ছড়িয়ে পড়েছে ঐশ্বরিয়ার একটি ন্যাড়া মাথার ছবি। রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেছে সেই ছবি। এতে দেখা যায় পূজার সাজে ন্যাড়া মাথায় ঐশ্বরিয়া।পরে জানা যায়, আসলে ছবিটি নকল।

এটা এডিট করা হয়েছে। উঠে এসেছে আসল তথ্য। এক ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, অনুপমা পাণ্ডে নামে এক নারী নিজের টুইটারে ঐশ্বরিয়ার একটি ছবি এডিট করে পোস্ট করেছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘তিরুপতি মন্দিরে নিজের চুল দান করেছেন ঐশ্বরিয়া রাই’।

এরপরই ছবিটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ঐশ্বরিয়ার এক ভক্ত ওই নকল ছবিটির আসল ছবি খুঁজে বের করেন। এবং ছবিটি পোস্ট করে সমস্ত গুজবে পানি ঢালেন।

এর আগেও তাঁকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ভুয়া খবর ছড়িয়েছে। যদিও এর কোনো কিছুকেই বিশেষ আমল দিতে নারাজ রাই সুন্দরী। গণেশ পূজাতেই তাঁর রূপের ঝলকানি নজর কেড়েছে সকলের।