নেয়ামত আছে যার মধ্যে অধিকাংশ মানুষ প্রতারিত , কিন্তু কেন?

আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ﻧِﻌْﻤَﺘَﺎﻥِ ﻣَﻐْﺒُﻮﻥٌ ﻓِﻴﻬِﻤَﺎ ﻛَﺜِﻴﺮٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ، ﺍﻟﺼِّﺤَّﺔُ ﻭَﺍﻟْﻔَﺮَﺍﻍُ

নেয়ামত আছে যার মধ্যে অধিকাংশ মানুষ প্রতারিত হয়; সুস্থতা আর অবসর। বুখারী: ৬৪১২ সুস্থতা আল্লাহর বড় নেয়ামত, সুস্থতার মর্যাদা মানুষ তখনই বুঝে যখন সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। যৌবনের মর্যাদা মানুষ তখনই বুঝে যখন সে বার্ধক্যে উপনীত হয়। হায়াতের মর্যাদা মানুষ তখনই বুঝে যখন তার সামনে মৃত্যু এসে হাজির হয়। কুফরীতে নিমজ্জিত হতে তখনই সে ভয় পায় যখন সে ঈমানের স্বাদ পায়। আল্লাহর নেয়ামতের মর্যাদা মানুষ তখনই বুঝে যখন বান্দার কাছ থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻋَﺎﻓِﻨِﻲْ ﻓِﻲْ ﺑَﺪَﻧِﻲْ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻋَﺎﻓِﻨِﻲْ ﻓِﻲْ ﺳَﻤْﻌِﻲْ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻋَﺎﻓِﻨِﻲْ ﻓِﻲْ ﺑَﺼْﺮِﻱْ ﻻ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲْ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻜُﻔْﺮِ ﻭَﺍﻟْﻔَﻘْﺮِ ﻭَﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﻋَﺬَﺍﺏِ ﺍﻟْﻘَﺒْﺮِ ﻻ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻ াম্মুহ-াল্লআ ﺃَﻧْﺖ ‘আ-ফেনি- ফি- বাদানি-, আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফেনি- ফি- সাম্‘ই-, আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফেনি- ফি- বাসারি-, লা— ইলাহা ইল্লা আন্তা, আল্লা-হুম্মা ইন্নি- আউ’যুবিকা মিনাল্ কুফরী ওয়াল্ ফাকর্, ওয়া আউযুবিকা মিন্ আযাবিল্ কাবর্, লা- ইলাহা ইল্লা আন্ত হে আল্লাহ!

তুমি আমার শরীরে নিরাপত্তা দান কর, হে আল্লাহ! তুমি আমার শ্রবণশক্তিতে নিরাপত্তা দান কর, হে আল্লাহ! তুমি আমার দৃষ্টিশক্তিতে নিরাপত্তা দান কর, তুমি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কুফরী ও দারিদ্রতা থেকে এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি ক্ববরের শাস্তি থেকে, তুমি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নাই। (আবূ দাউদ)

পকেটে টিকিট, ব্যাগে কাফনের কাপড় রেখে বৃদ্ধ ঝুললেন দড়িতে

বুকপকেটে ট্রেনের টিকিট। ব্যাগে রাখা কাফনের কাপড়, আগরবাতি, গোলাপজল ও আতর রেখে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধ মসজিদের বারান্দায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট চা বাগান জামে মসজিদের বারান্দা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।
শ্রীমঙ্গল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক অনিক বড়ুয়া আরটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন, শনিবার সকালে মসজিদের বারান্দায় ৫৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মসজিদের বারান্দায় নাইলনের সাদা রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে থানা কম্পাউন্ডে নিয়ে আসে।

দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মরদেহের কোনো দাবিদার পাওয়া যায়নি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ নিয়ে পুলিশ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল আরটিভি অনলাইনকে বলেন, মরদেহের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। মসজিদের ইমাম জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তির বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় মসজিদে নামাজ আদায় করতে এসেছিলেন।

মজার জোকস , মেয়েদের লজ্জা

মেয়েদের লজ্জা বেশি
শিক্ষক : বলতো রিপন মেয়েদের লজ্জা বেশি না, ছেলেদের বেশি?
রিপন : ছেলেদের।
শিক্ষক : কীভাবে?
রিপন : স্যার, সব ফিল্মে মেয়েরা হাফ প্যান্ট পরে আর ছেলেরা পরে ফুল প্যান্ট।

****

মায়ের সাথে ঘুমায়
শিক্ষক : বলতো স্বপন তুমি বড় না তোমার বাবা বড়?
স্বপন : আমি স্যার।
শিক্ষক : কীভাবে?
স্বপন : স্যার, আমি এখন আর আমার মায়ের সাথে ঘুমাই না, কিন্তু বাবা এখনো মায়ের সাথে ঘুমায়।

****

আকবরের ফোন নম্বর
শিক্ষক : বলতো মফিজ, আকবর জন্মেছিলেন কবে?
মফিজ : স্যার, এটা তো বইয়ে নেই।
শিক্ষক : কে বলেছে বইয়ে নেই। এই যে আকবরের নামের পাশে লেখা আছে ১৫৪২-১৬০৫।
মফিজ : ও! ওটা জন্ম-মৃত্যুর তারিখ, আমি তো ভেবেছিলাম ওটা আকবরের ফোন নম্বর। তাই তো বলি, এতবার ট্রাই করলাম, রং নম্বর বলে কেন?

****

নিজেকে বোকা ভাব
শিক্ষক : যারা নিজেকে বোকা ভাব তারা উঠে দাঁড়াও!
কিন্তু কেউ উঠে দাঁড়াল না। কিছুক্ষণ পর মুখে একটা মজার হাসি নিয়ে উঠল ক্লাসের সবচেয়ে পাজি ছাত্র রবি।
শিক্ষক : ও… তাহলে তুই নিজেকে বোকা ভাবিস?
রবি : স্যার, ঠিক তা নয়। আসলে আপনি একাই দাঁড়িয়ে আছেন, ব্যাপারটা কেমন দেখা যায় না!

তরুণীর গোপনাঙ্গ থেকে ইয়াবা উদ্ধার

মাদক পাচারকারী এক নারীর
গোপনাঙ্গে কনডমের ভেতর বিশেষ
অবস্থায় রাখা ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন
থেকে শনিবার সকাল ১০টার দিকে ৭শ পিস
ইয়াবাসহ মুক্তা বেগম (২৮) নামে ওই
তরুণীকে আটক করে জিআরপি।

জিআরপি থানার ওসি আব্দুল মজিদ
জানান, মুক্তা বেগম চট্টগ্রাম
মেইলে চট্টগ্রাম থেকে কমলাপুরে আসেন।
তার গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ
তাকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ
করে। পরে নারী পুলিশ দিয়ে তার দেহ
তল্লাশি করে তার গোপনাঙ্গের
ভেতরে কনডম দিয়ে মোড়ানো অবস্থায়
সাতশ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক

জিজ্ঞাসাবাদে মুক্তা জানিয়েছেন, এর
আগেও তিনি একাধিকবার এভাবে ইয়াবার
চালান নিয়ে ঢাকায় এসেছেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও কমলাপুর
রেলস্টেশনে এক মাদক পাচারকারীর
পায়ুপথ এবং আরেক মাদক পাচারকারীরর
আন্ডার ওয়্যারের ভেতর
থেকে ইয়াবা উদ্ধার করে জিআরপি।

জোক্স: তোমার কাছে ৪০০ টাকা হবে?

(১)
বস: নারী যদি শক্তির প্রতীক হয় তবে পুরুষ কীসের প্রতীক?
মন্টুর বাপ: সহ্যশক্তি, স্যার!

(২)
অনলাইন চ্যাটিং অভিসারে গদগদ প্রেমিক: তো তোমার বাবার সঙ্গে দেখাটা কখন করলে ভাল হয়?
প্রেমিকা: যখন বাবা খালি পায়ে থাকেন মানে পায়ে জুতো থাকে না।

(৩)
ডাক্তারের সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন মন্টুর মা: ডাক্তার সাব, শরীরের কোনোখানে ছুলেই ব্যথা করছে!

ডাক্তার: তার মানে আপনি মারাত্মক অ্যাকসিডেন্ট করেছেন? রাস্তা পার হওয়ার সময়…

মন্টুর মা: না ডাক্তার সাব!

ডাক্তার: তবে কি আপনি অসুস্থ মানে জ্বর হয়েছে? ডেঙ্গু!

মন্টুর মা: দরজায় চাপা খেয়ে ডান হাতের একটা আঙুল ভেঙে গেছে।

সেই আঙুল যেখানেই ছোঁয়াই ব্যথায় পাগল হওয়ার দশা হয়…
ডাক্তার: আমার এখন মাথা ব্যথা করছে… এই কে আছিস! আমাদের ওষুধের বাক্সটা নিয়া আয় জলদি।

(৪)
এক চতুর ভিখারি রাস্তার মোড়ে অচেনা এক পুলিশ অফিসারকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো। ভাবলো বোকাসোকা নয়া অফিসার আসছে এলাকায়, যাই একটু ‘মামু’ বানায়া আসি!

ভিক্ষুক: স্যার, দশটা ট্যাকা দেন…

পুলিশ: কেন?

ভিক্ষুক: স্যার, একটা রুটি কিন্যা খামু! কিচ্ছু খাই নাই সেই সকাল থাইক্যা। এখন তো বিকাল হয়া গেল… স্যার, একটু দয়া করেন!

কপালে কষ্টের ভাঁজ ফেলে পুলিশ বললো: আহহা! তুমি সকাল থেকে না খেয়ে আছো! খুবই আফসোস হচ্ছে… এই বলে অফিসার পকেট থেকে একটা ৫০০টাকার নোট বের করে বললো: তোমার কাছে ৪০০ টাকা হবে?

ভিক্ষুক: স্যার হইবো মনে হয়! খুচরা-খাচরা মিলায়া-টিলায়া দিতে পারমু… ভিক্ষুক খুব দ্রুতই চারশ টাকা বের করে পুলিশের হাতে দিল।

এবার পুলিশ তার ৫০০টাকার নোটটি পকেটে রেখে ভিখারির ৪০০টাকা থেকে তাকে ২০০টাকা ফেরত দিয়ে বললো: যাও, ১০০ টাকায় এখনি কিছু কিনে খাও আর ১০০টাকা নিজের কাছে রেখে দাও। বাকি ২০০টাকা জরিমানা রাখলাম- পকেটে টাকা থাকতেও দুই বেলা না খেয়ে থাকার জন্য।

ভিখারি: হায় হায়! কী ভাবলাম আর কী হইলো! আইজকা কার মুখ দেখছিলাম ঘুম ভাইঙ্গা! নিশ্চয়ই গেদির মার। আইজকা তোর ঠ্যাং ভাঙমু বেটির ঘরের বেটি, আমি ঘরে ফিরা লই…

পুলিশ অফিসার ফিরে এসে ভিখারির কাছ থেকে আরও একশ টাকা নিয়ে বললো: এটা গেদির মার ঠ্যাং ভাঙতে চাওয়ার জরিমানা…উনার ঠ্যাং ভাঙলে তোমার ঘাড় ভেঙে দেব আমি!

ভিখারি এবার চিৎকার দিয়ে উঠলো: এইটা কিমুন পুলিশরে বাবা! খারাপ না ভাল- কিছুই বুঝলাম না!

স্বপ্ন দেখা প্রসঙ্গে বিশ্বনবী (সঃ) যে মূল্যবান বক্তব্যটি দিয়েছেন। জেনে নিন

সব স্বপ্নই মানুষের মনের নিছক কোনো কল্পনা নয়। অনেক স্বপ্ন মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ ও ক্ষতির ইঙ্গিত বহন করে। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানের স্বপ্ন নবুয়তের ৪৫ ভাগের একভাগ। তাই স্বপ্নকে নিছক কোনো কল্পনা প্রসুত বিষয় বলে উড়িয়ে দেয়া ঠিক নয়।

তাছাড়া সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখার বাসনাও মানুষের কাছে একটা স্বপ্ন। মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। কিন্তু স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। কিছু কিছু স্বপ্ন আছে, মানুষ যা ঘুমের ঘোরে দেখে, তা আবার বাস্তবে ফলে যায়।

আবার কিছু কিছু স্বপ্ন আছে মানুষকে আনন্দ-বেদনার ঈঙ্গিত দেয়। স্বপ্ন দেখার সুফল, কুফল সম্পর্কে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন কিয়ামত সন্নিকটে হবে তখন মুসলিম ব্যক্তির স্বপ্ন মিথ্যা হবে না। তোমাদের মাঝে সবচেয়ে যে সত্যবাদী তার স্বপ্ন সবচেয়ে বেশি সত্য হবে।
আর মুসলিমদের স্বপ্ন নবুয়তের ৪৫ ভাগের একভাগ।

স্বপ্ন তিন প্রকার-

নেক স্বপ্ন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ স্বরূপ;
> শয়তানের পক্ষ হতে স্বপ্ন, (মানুষকে) দুশ্চিন্তায় ফেলানোর জন্য;
> মানুষ মনে মনে যা জল্পনা-কল্পনা করে, সে স্বপ্ন।

অতএব তোমাদের কেউ অপছন্দ করে, এমন স্বপ্ন দেখলে ওঠে নামাজ আদায় করবে এবং তা মানুষকে বলবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

 

হাদিস অনুযায়ী ভালো স্বপ্নের জন্য আল্লাহ শুকরিয়া এবং অপছন্দনীয় স্বপ্নের জন্য দান-খয়রাত ও আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগি করা উত্তম।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে স্বপ্নের করণীয় রক্ষায় হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জেনে নিন, বিশ্বনবী (সা.)’র শ্রেষ্ঠত্ব ও জন্মলগ্নের অলৌকিক নানা ঘটনা

১৪৮৯ চন্দ্র বছর আগে হিজরি-পূর্ব ৫৩ সনের বা ৫৭০ খ্রিস্টিয় সনের এ দিন ছিল (আজ ১৭ ই রবিউল আউয়াল) মহান আল্লাহর সর্বশেষ অথচ সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল ও নবী বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র পবিত্র জন্মদিন। আর ৮৩ হিজরির ১৭ ই রবিউল আউয়াল তাঁর পবিত্র বংশধর বা আহলে বাইতের সদস্য ইমাম জাফর আস সাদিক (আ.)’র শুভ জন্মদিন।

তাই এ উপলক্ষে সবাইকে জানাচ্ছি মুবারকবাদ এবং বিশ্বনবী (সা.) ও এই মহান ইমামের প্রতি পেশ করছি অসংখ্য দরুদ ও সালাম।

(অবশ্য মতান্তরে বিশ্বনবী-সা. জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ১২ ই রবিউল আউয়াল। ওই বছরই অর্থাত হিজরি-পূর্ব ৫৩ সালে ইয়েমেনের আবরাহা পবিত্র মক্কার কাবা ঘরে হামলা চালাতে গিয়ে নিজের হস্তী বাহিনীসহ ধ্বংস হয়ে যায়।)

বিশ্বনবী (সা.) ছিলেন হযরত ইব্রাহিম (আ.)’র পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)’র বংশধর। হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে মুহাম্মাদ (সা.) পর্যন্ত বংশধারায় কেউ কাফির বা মুশরিক ছিলেন না। অর্থাত মুহাম্মাদ (সা.)’র পূর্বপূরুষদের কেউ কাফির বা মুশরিক ছিলেন না (তাঁর বাবা ও দাদা থেকে শুরু করে প্রথম মানব আদম-আ. ও হাওয়া পর্যন্ত সবাই ছিলেন এক আল্লাহয় বিশ্বাসী তথা একত্ববাদী)। (তবে এই বংশধারারই প্রশাখা বা অন্য শাখাগুলোর ক্ষেত্রে এই সত্য সব সময় প্রযোজ্য নয়।)

বিশ্বনবী (সা.) ছিলেন কুরাইশ বংশের হাশিমি শাখার সদস্য।

তিনি ছিলেন গোটা বিশ্ব জগতের জন্য রহমত বা আল্লাহর অশেষ করুণার মাধ্যম (কুরআনে উল্লেখিত রাহমাতুললিল আলামিন)। তিনি ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী (কুরআনে উল্লেখিত খুলক্বুন আজিম) ও নিষ্পাপ। মানব জাতিকে সর্বোত্তম চরিত্রের সুষমায় মহিমান্বিত করার খোদায়ী ইচ্ছা বাস্তবায়নই ছিল তাঁর মিশন বা ইসলামের মূল লক্ষ্য। কারণ, মানুষ যদি সব ক্ষেত্রে সঠিক পথে থেকে সর্বোত্তম আচর-আচরণের অধিকারী হয় তাহলে তখনই তারা হবে মহান আল্লাহর প্রকৃত বান্দা তথা পৃথিবীর বুকে আল্লাহর প্রতিনিধি ও তখন তারা হবে ফেরেশতাদের চেয়েও উত্তম।

তিনি কখনও কোনো বিষয়ে (দুনিয়াবি বা বৈষয়িক ও ধর্মীয়সহ অন্য যে কোনো বিষয়ে) কোনো পাপ তো দূরের কথা সামান্য ভুলও করেননি। তবুও তিনি আল্লাহর ভয়ে সবচেয়ে বেশি কাঁদতেন ও সবচেয়ে বেশি ইবাদত করতেন এবং মহান আল্লাহর সর্বোত্তম দাস হিসেবেই তিনি ছিলেন সবচেয়ে স্বাধীন ও সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তিনি সবচেয়ে গরিব বা দাস-শ্রেণীর সঙ্গে বসতে বা তাদের সঙ্গে খেতে লজ্জাবোধ করতেন না। তিনি ছিলেন সবচেয়ে নিরহংকার ও বিনম্র। জুতা সেলাই ও কাপড় সেলাই, কাপড় ধোয়া, ঘরদোর ঝাড়ু দেয়া, দুধ দোহন এবং প্রাত্যহিক অন্যান্য কাজ নিজেই করতেন, অন্য কারো ওপর চাপিয়ে দিতেন না। তিনি সব বিষয়ে শ্রেষ্ঠ বা সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হলেও কখনও কখনও সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যাতে পরামর্শের এবং অন্যদের বা মজলিশে উপস্থিত বেশিরভাগ সদস্যের (যৌক্তিক) মতামতের প্রতি সম্মানের গুরুত্ব ফুটে উঠে ও স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা সৃষ্টি না হয় মানুষের মধ্যে।

তিনি সব সময় হাসিমুখে থাকতেন এবং কারো সঙ্গে দেখা হলে নিজেই আগে সালাম দিতেন এবং এমনকি শিশুদেরও সালাম দেয়ার সুযোগ না দিয়ে তিনি নিজেই তাদের আগে সালাম দিতেন। শিশুদের সঙ্গে তাদের মতো করে কোমল স্বরে কথা বলতেন এবং তাদের সঙ্গে তাদের পোষা পাখি ও খেলনার বিষয় নিয়েও কথা বলতেন।

মিষ্টভাষী আল্লাহর সর্বশেষ নবী (সা.)’র বাহ্যিক চেহারা ছিল অত্যন্ত লাবণ্যময় এবং হযরত ইউসুফ (আ.)’র চেয়েও তিনি ছিলেন বেশি সুদর্শন। সুঠাম দেহের অধিকারী বিশ্বনবী (সা.) যুদ্ধ-বিদ্যায় ও সাহসিকতায়ও ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বীর। তিনি যুদ্ধ করতেন রণক্ষেত্রের সম্মুখ কাতারে। (যুদ্ধের প্রচণ্ডতায় বা তীব্রতায় অন্য সবাই দিশেহারা হয়ে পড়লেও তিনি বীর বিক্রমে যুদ্ধ চালিয়ে যেতেন এবং এতে সাহাবিরা সাহস ফিরে পেতেন ও তাঁর আশ্রয়ে থেকে আবারও যুদ্ধ শুরু করতেন।)

মহান আল্লাহই তাঁর শিক্ষক ছিলেন বলে তিনি ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী। নবুওত লাভের আগে পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন রাখাল ও পরবর্তীকালে অত্যন্ত সফল ব্যবসায়ী।

তিনি সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি হয়ে থাকতেন এবং সব সময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। তিনি কখনও কোনো ক্ষেত্রে অপব্যয় করতেন না, আবার কৃপণতাও করতেন না।

বিশ্বনবী (সা.) উচ্চ কোনো আসনে বসতেন না বা মজলিসের সবচেয়ে ভালো জায়গাটি নিজের জন্য নির্ধারিত করতেন না। ফলে বিদেশ থেকে কোনো প্রতিনিধি বা অপরিচিত কোনো ব্যক্তি আসলে সাহাবিদের মধ্যে একাকার হয়ে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে আল্লাহর নবী (সা.) কে তা বুঝতেই পারত না।

তিনি ছিলেন অসহায়, ইয়াতিম, দরিদ্র ও মজলুমের বন্ধু এবং জালিমদের ঘোর শত্রু । অন্যদিকে তাঁর মত ক্ষমাশীল ও সহনশীল ব্যক্তির দৃষ্টান্ত ইতিহাসে আর নেই।

পবিত্র কুরআনের ভাষায় তথা মহান আল্লাহর ভাষায় ‘যারা আল্লাহ ও শেষ দিবস তথা বিচার-দিবসে বিশ্বাসী এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে, তাদের জন্যে রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম নমুনা বা আদর্শ।’ (সুরা আহজাব-২১)

এই উত্তম আদর্শ শুধু ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় বিষয়েই সীমিত নয়। রাষ্ট্রনীতি, রাজনীতি বা সমাজনীতি কিংবা সাংস্কৃতিক বিষয় থেকে শুরু করে জীবনের সব বিষয়ে মুহাম্মাদ (সা.)’র আদর্শকেই সর্বোত্তম আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে কেউ ব্যর্থ হলে সে আসলে পবিত্র কুরআনের এই আয়াতকেই অমান্য করল। তাই কেউ যদি বলে, আমি মুসলমান অথচ ধর্মনিরপেক্ষতা আমার আদর্শ, কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের কথিত গণতন্ত্র আমার আদর্শ তাহলে সে প্রকৃতপক্ষে রাসূল (সা.)-কে জীবনের সব ক্ষেত্রে উত্তম আদর্শ হিসেবে মেনে নিল না। আর এক্ষেত্রে আল্লাহ ও বিচার-দিবসের প্রতি তার বিশ্বাস এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করার দাবি বা চেষ্টা মুনাফেকি ও কুফরি ছাড়া অন্য কিছু বলে গ্রহণযোগ্য হবে না।

তাওরাতসহ অতীতের কোনো কোনো ধর্মগ্রন্থে বিশ্বনবী (সা.)’র নাম ‘আহমাদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াহাব নন্দিনী মা আমিনা নবজাতক মুহাম্মাদ (সা.)’র নাম রেখেছিলেন আহমাদ। দাদা আবদুল মুত্তালিব মহান আল্লাহর ইশারায় তার এই প্রিয় নাতির নাম রেখেছিলেন ‘মুহাম্মাদ’ (সা.) তথা ব্যাপক প্রশংসিত বা প্রশংসার যোগ্য। আহমাদ নামের অর্থও প্রশংসিত। তাঁর অন্য কয়েকটি উপাধি ও প্রসিদ্ধ নাম হল: আবুল কাসিম (কাসিমের পিতা), আবু ইব্রাহিম (ইব্রাহিমের পিতা), রাসূলুল্লাহ বা আল্লাহর রাসূল, নবীউল্লাহ বা আল্লাহর নবী, মুস্তাফা বা নির্বাচিত, মাহমুদ, আমিন (বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী), উম্মি (নিরক্ষর), খাতাম (শেষ বা সিল), মুজাম্মিল (কাপড়ে আবৃত), মুদাসসির (চাদরে আবৃত), নাজির বা সতর্ককারী, বাশির বা সুসংবাদদাতা, মুবিন (ব্যাখ্যাকারী), কারিম বা দয়ালু, নুর বা আলো, রহমত বা আশীর্বাদ, … নেয়ামত, শাহেদ বা সাক্ষ্য, মুবাশশির (সুখবরদাতা), মুজাক্কির, ইয়াসিন, তাহা ইত্যাদি।

শহরের দূষণমুক্ত পরিবেশে ও প্রকৃতির খোলামেলা কোলে রাখার জন্য ধাত্রী হালিমার কাছে রাখা হয়েছিল শিশু মুহাম্মাদ (সা.)-কে। হালিমা ছিল অত্যন্ত পবিত্র ও দয়ালু নারী।

বিশ্বনবী (সা.) ছয় বছর বয়সে মাতা আমিনাকে হারিয়েছিলেন। (মদীনার কাছে আবওয়া এলাকার তাঁর কবর রয়েছে।) ফলে তার অভিভাবক হন দাদা আবদুল মুত্তালিব। কিন্তু নবীজি (সা.) আট বছর বয়সে দাদাকেও হারান। এরপর অভিভাবক হন চাচা আবু তালিব। তিনি ভাতিজার সর্বোত্তম যত্ন নেয়ার ও দেখাশুনার দায়িত্ব পালনের যথাসাধ্য চেষ্টা করতেন। সিরিয়ায় বাণিজ্য সফরে নিজের সঙ্গে ভাতিজাকে নিয়ে গেলে ‘বাহিরা’ নামের এক সন্ন্যাসী তার মধ্যে নবুওতের নানা লক্ষণ দেখতে পান এবং ভাতিজার নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে চাচা আবু তালিবকে উপদেশ দেন।

বিশ্বনবী (সা.)’র প্রথম স্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন খোয়ালিদের কন্যা হযরত খাদিজা (সালামুল্লাহি আলাইহা)। এই বিয়ের সময় বিশ্বনবী (সা.)’র বয়স ছিল ২৫। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নারী হযরত ফাতিমা (সা.) ছিলেন এই বিয়ের ফসল।

যে কোনো নবীর জন্মের সময় ও তার কিছু আগে এবং পরে অলৌকিক নানা ঘটনা ঘটে থাকে যাতে জনগণ আল্লাহর নবীকে মেনে নেয়ার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

যেমন, আল্লাহর নির্দেশে মায়ের হাতে নবজাতক মুসা নবী (আ.)-কে কাঠের বাক্সে চড়িয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া ও ফেরাউনের ঘরেই তাঁর আশ্রয় লাভ। অথচ ফেরাউন মুসা (আ.)’র জন্ম ঠেকানোর জন্য হাজার হাজার শিশু হত্যা করেছিল।

এ ছাড়াও পিতা ছাড়া হযরত ঈসা (আ.)’র জন্মগ্রহণ এবং দোলনায় বসে নিজের নবুওত সম্পর্কে বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলার ঘটনা এ প্রসঙ্গে স্মরণ করা যায়।

অবশ্য অন্য যে কোনো নবীর চেয়ে এ ধরনের অলৌকিক ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে বিশ্বনবী (সা.)’র ক্ষেত্রে এবং এইসব ঘটনা ছিল অনেক বেশি বিস্ময়কর। এর কারণ, বিশ্বনবী (সা.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং তাঁর ওপর নাজিল হওয়া ধর্ম বা শরিয়তও সবচেয়ে পরিপূর্ণ বা পূর্ণাঙ্গ। আর এই ধর্ম কিয়ামত পর্যন্ত বা বিশ্বের শেষ দিন পর্যন্ত টিকে থাকবে ও শক্তিশালী হয়ে থাকবে। অন্য নবী-রাসূলরা এসেছিলেন বিশেষ জাতি ও বিশেষ সময়ের জন্য। কিন্তু ইসলাম এসেছে সব মানুষ ও জিনের জন্য এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা আল্লাহর মনোনীত শ্রেষ্ঠ ধর্ম।

এবারে আমরা বিশ্বনবী (সা.)’র জন্মের প্রাক্কালে ও জন্মের পরে সংঘটিত কিছু অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরছি:

১. সততা ও সত্যবাদীতার জন্য সাদিক্ব উপাধি পাওয়া নবী-বংশে জন্ম-নেয়া ইমাম হযরত ইমাম সাদিক্ব (আ.) বলেছেন, শয়তান বা ইবলিস অতীতে সপ্তম আকাশ পর্যন্ত যেতে পারত। অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য সে সপ্তম আকাশ পর্যন্ত যেত। কিন্তু হযরত ঈসা (আ.)’র জন্মের পর থেকে চতুর্থ আকাশের ওপরে ওঠা তার জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এরপর যখন বিশ্বনবী (সা.) জন্ম নেন তখন তারা জন্য সব আকাশই নিষিদ্ধ হয়ে যায়। শয়তানকে আকাশের দরজাগুলো থেকে ধূমকেতু দিয়ে বিতাড়ন করা হয়।
২. যেই ভোর বেলায় মহানবী (সা.) জন্ম নেন, সেদিন বিশ্বের সবগুলো মূর্তি মাটির দিকে নত হয়ে পড়ে।
৩. সেদিনই ইরানের রাজার বিশাল প্রাসাদের বারান্দা কেঁপে ওঠে এবং ছাদের ১৪টি প্রাচীর ধ্বসে পড়ে।
৪. সেদিনই ইরানের সভে অঞ্চলর হ্রদটি তলিয়ে শুকিয়ে যায়। বহু বছর ধরে এই হ্রদের পূজা করা হত।
৫. সামাভে অঞ্চলে ( কুফা ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী) পানির প্রবাহ সৃষ্টি হওয়া। অথচ বহু বছর ধরে সেখানে কেউ পানি দেখেনি।
৬. ইরানের ফার্স অঞ্চলের ( বর্তমান যুগের শিরাজ শহর সংলগ্ন) অগ্নি উপাসনালয়ের আগুন সেই রাতে নিভে যায়। অথচ ওই আগুন এক হাজার বছর পর্যন্ত প্রজ্বলিত ছিল।
৭. ইরানি সম্রাটের প্রাসাদের খিলান আকৃতির তোরণ ভেঙ্গে যায় মাঝখান দিয়ে। ফলে তা দুই টুকরো হয়ে যায়।
৮. সেই রাতে বেলায় হিজাজ বা বর্তমান সৌদি আরব থেকে একটি আলো দৃশ্যমান হয় এবং তা পূর্বাঞ্চলসহ সারা বিশ্বের ছড়িয়ে পড়ে।
৯. সেই ভোরে বিশ্বের সব সম্রাটের সিংহাসন উল্টে পড়েছিল।
১০. সেই দিন বিশ্বের সব রাজা বোবা হয়ে পড়েছিলেন। অর্থাত তারা কথা বলতে পারছিলেন না।
১১. সেই দিন গণকদের সব জ্ঞান লুপ্ত হয় এবং জাদুকরদের জাদুগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে।

বিশ্বনবীর মাতা মা আমিনা (সা. আ.) বলেছেন: আল্লাহর কসম, আমার পুত্র জন্ম নিয়েই তাঁর হাতগুলোকে মাটিতে রেখে মাথা আকাশের দিকে তোলে এবং চারদিকে তাকায়। এরপর তাঁর থেকে একটি নূর বা আলো ছড়িয়ে পড়ে ও সে আলোয় সব কিছু দৃশ্যমান হয়। সেই আলোয় সিরিয়ার (রোমানদের) প্রাসাদগুলো দেখলাম এবং সেই আলোর মধ্যে একটি শব্দ শুনলাম যে বলছিল: সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষকে জন্ম দিয়েছ, তাই তাঁর নাম রাখ ‘মুহাম্মাদ’।

বর্ণনায় এসেছে, বিশ্বনবী (সা.)’র জন্মের সময় (বড় ও মূল) শয়তান তার সন্তানদের মধ্যে আর্তনাদ করে ওঠে। ফলে সবগুলো শয়তান তার কাছে এসে বলে: কেন এত পেরেশান বা উদ্বিগ্ন হয়েছ? সে বলল: তোমাদের প্রতি আক্ষেপ! রাতের প্রথম থেকে এ পর্যন্ত দেখছি যে আকাশ ও জমিনের অবস্থা বদলে গেছে। ভূপৃষ্ঠে ঘটে গেছে এক বিরাট ঘটনা। ঈসা (আ.) ঊর্ধ্ব আকাশে চলে যাওয়ার পর আর কখনও এত বড় ঘটনা ঘটেনি। সবাই গিয়ে খোঁজ-খবর নাও যে কি ঘটেছে।

শয়তানরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ও ফিরে এসে বলে: তারা বলে কিছুই তো দেখলাম না।
বড় শয়তান বা শয়তানদের নেতা তখন বলল: এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া আমারই কাজ।

এরপর সে পবিত্র মক্কার কাবাঘর সংলগ্ন অঞ্চলে আসল। সে দেখল যে ফেরেশতারা কাবাঘরের চারদিক ঘিরে রেখেছেন। শয়তান সেখানে ঢুকতে চাইলে ফেরেশতারা হুংকার দিলেন। ফলে সে ফিরে আসে ও চড়ুই পাখির মত ছোট হয়ে হেরা পর্বতের দিক থেকে সেখানে প্রবেশ করে। জিবরাইল (আ.) বললেন: ফিরে যা ওরে অভিশপ্ত! সে বলল: হে জিবরাইল (ফেরেশতা), আমার একটা প্রশ্ন আছে, বলতো আজ রাতে কি ঘটেছে।

জিবরাইল (আ.) বললেন: সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ (সা.) আজ রাতে জন্ম নিয়েছেন।
শয়তান প্রশ্ন করল: তার মধ্যে কি আমার কোনো (কর্তৃত্বের) অংশ আছে?
জিবরাইল (আ.) বললেন: না।
সে তথা ইবলিস বা শয়তান আবার প্রশ্ন করল: তাঁর উম্মতের মধ্যে কি আমার কোনো (কর্তৃত্বের) অংশ আছে?
জিবরাইল (আ.) বললেন: হ্যাঁ।
ইবলিস বলল: আমি সন্তুষ্ট হলাম।

আমিরুল মু’মিনিনি আলী (আ.) বলেছেন, সে রাতে তথা রাসূলে খোদার (সা.)’র জন্মের রাতে পুরো দুনিয়া আলোকিত হয়। প্রতিটি পাথর ও মাটির টুকরো এবং বৃক্ষ বা গাছ হেসেছে। আর আকাশ ও জমিনের সব কিছু আল্লাহর তাসবিহ বা প্রশংসা জ্ঞাপন করেছে।

একইসঙ্গে মূর্তিপূজা ও কোরআন পড়ায় স্বামী-স্ত্রী আটক

একইসঙ্গে মূর্তিপূজা ও কোরআন পড়ার অভিযোগে সোলেমান (৬১) ও তার স্ত্রী নূরজাহানকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ। হিন্দু সম্প্রদায়ের মূর্তি ও পবিত্র কোরআনসহ শুক্রবার  সকালে শাহপাড়ার নিজবাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে থেকে গাইবান্ধার সদর থানা এলাকার বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি সোলেমান ও তার স্ত্রী নূরজাহান তাদের বাড়ির একটি ঘরের চারদিকে লাল-সাদা কাপড় ঝুলিয়ে দেয়। এরপর ঘরের মাঝখানে একটি কালী প্রতিমা বসিয়ে মাঝে মাঝে পূজা অর্চনা ও কোরআন তেলাওয়াতসহ জিকির করে আসছিল।

সূত্র আরো জানায়, তাদের এ আচরণ প্রতিবেশীদের কাছে রহস্যময় মনে হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি এলাকায় আলোচনার ঝড় তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে সোলেমানের বাড়ি ঘেরাও করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।

সূত্র জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় সোলেমান ও নূরজাহানকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে।

নূরজাহান নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “ধনসম্পদ প্রাপ্তিসহ সন্তানের মঙ্গলের আশায় দীর্ঘদিন থেকেই আমরা সাধনা করছি। কিছুদিন আগে স্বপ্নে বাড়িতে কালীপূজা ও কোরআন তেলাওয়াতসহ জিকির-আসকার করার নির্দেশনা পাই।”

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “একটি মানুষ কখনোই দুটি ধর্মের অনুসারী হতে পারে না। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “এরপর তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে