জোকসঃ বললে বিশ্বাস করবেন না…

ডাক্তারের চেম্বারে এসই রোগী বেশ চেঁচামেচি জুড়ে দিলেন। কথা বলছেন বেশ জোড় দিয়ে।

ডাক্তার সাহেব, অবস্থা তেমন ভাল না আমার!

কী হয়েছে ম্যাডাম? বলুন দেখি…

বিষয়টি একটু অন্যরকম। মানে গত কয়দিন যাবৎ আমার প্রচুর বায়ূত্যাগ হচ্ছে…

হুম… সে তো বুঝতে পারছি। কিন্তু…

না, ডাক্তার সাহেব, আপনি বুঝতে পারছেন না। কারণ, বড় সমস্যা হচ্ছে- এটা যখন ঘটছে তখন কোনো শব্দ হচ্ছে না এবং দুর্গন্ধও পাওয়া যাচ্ছে না। এটা অস্বাভাবিক না!

হুম…

বললে বিশ্বাস করবেন না- আপনার চেম্বারে আসার পর থেকে আমি এ পর্যন্ত দশবার… কিন্তু আপনি টেরও পান নাই- কারণ, দুর্গন্ধও নাই, আওয়াজও নাই…

ডাক্তার ওষুধ লিখে দিয়ে বললেন: নিয়মিত ওষুধ খাবেন আর একসপ্তাহ বাড়ি থেকে বের হবেন না।

এক সপ্তাহ পর রোগী ফের এল: ডাক্তার সাহেব, কী ওষুধ দিলেন! এখন তো বায়ুত্যাগ করলে মনে হচ্ছে বাথরুম করে দিয়েছি- এত দুর্গন্ধ হয়… যে মনে হয়…

আর শব্দ?

না, শব্দ হচ্ছে না।

ভেরি গুড! তার মানে আপনার নাকের সমস্যা দূর হয়েছে। এরপর আজ দেব কানের ওষুধ। দু’দিনেই আশপাশের সব শব্দ শুনতে পাবেন…

অ্যাঁ! তার মানে…

জ্বী, আপনার সমস্যা হচ্ছে নাকে ও কানে, অন্য কোথাও নয় ম্যাডাম…

(২)
মাঝে-মধ্যে স্মার্টনেসে মন্টু তার বাপকেও ছাড়িয়ে যায়। যেমন, সেদিন সকালের ঘটনা-

মন্টু: বাবা বাবা! ফেসবুকে আমার ৫টা ফেক আইডি আছে!

মন্টুর বাপ: চুপ বেয়াদ্দপ! এই কথা আমারে শুনাইতে আইছস ক্যান।

দু’দিনেই আশপাশের সব শব্দ শুনতে পাবেন…
অ্যাঁ! তার মানে…

জ্বী, আপনার সমস্যা হচ্ছে নাকে ও কানে, অন্য কোথাও নয় ম্যাডাম…

(২)
মাঝে-মধ্যে স্মার্টনেসে মন্টু তার বাপকেও ছাড়িয়ে যায়। যেমন, সেদিন সকালের ঘটনা-

মন্টু: বাবা বাবা! ফেসবুকে আমার ৫টা ফেক আইডি আছে!

মন্টুর বাপ: চুপ বেয়াদ্দপ! এই কথা আমারে শুনাইতে আইছস ক্যান। পড়াশোনা নাই নাকি?

মন্টু: আছে বাবা, কিন্তু বলতে চাইছিলাম…

মন্টুর বাপ: আবার বলতে চাইছিলাম কী! বল, বইলা দূর হ তাড়াতাড়ি…

মন্টু: যে রিয়াকে গত এক মাসে দশবার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আর ইনবক্স কইরা পেরেশান করতেছো- হেইটা কইলাম আমি…

মন্টুর বাপ: বাপ আমার! এইদিকে আয়। তুই না ক্রিকেট ব্যাট কিনতে চাইছিলি একটা… কত দাম জানি ওইটার… কালকেই ব্যাট পায়া যাবি…

মন্টু: বাবা, তুমি এত ভাল কেন!

(৩)
মন্টুর বাপ: স্যার, বৌ আমাকে নিয়ে তাজমহল দেখতে যাইতে চায়। এক সপ্তাহের ছুটি মঞ্জুর করতে হইবো।

বস: এক বছরের আগে কোনো ছুটি নাই। কাজে মন দিন গিয়ে।

মন্টুর বাপ: অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা, স্যার। আমি জানতাম- এই মুসিবতের কবল থেইকা একমাত্র আপনিই আমারে বাঁচাইতে পারেন!

☞ একটি শিক্ষনীয় ইসলামীক গল্প প্লিজ পড়ুন………

<<আল্লাহর উপর ভরসার গুরুত্ব>>
জনৈক দরিদ্র ব্যক্তি মক্কা শহরে
বসবাস করত। তার ঘরে সতী-
সাধ্বী স্ত্রী ছিল। একদিন স্ত্রী
তাকে বলল, হে সম্মানিত স্বামী!
আজ আমাদের ঘরে কোন খাবার
নেই। আমরা এখন কি করব? একথা
শুনে লোকটি বাজারের দিকে
কাজ খুঁজতে বেরিয়ে গেল। অনেক
খোঁজাখুঁজির পরও সে কোন কাজ
পেল না। একসময় ক্লান্ত-শ্রান্ত
হয়ে সে মসজিদে গমন করল।
সেখানে সে দু’রাক‘আত ছালাত
আদায় করে স্বীয় কষ্ট দূর হওয়ার
জন্য আল্লাহর নিকটে দো‘আ
করল। দো‘আ শেষে মসজিদ চত্তরে
এসে একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে
দেখল এবং সেটা খুলে এক হাজার
দিরহাম পেয়ে গেল। ফলে তা
নিয়ে লোকটি আনন্দচিত্তে গৃহে
প্রবেশ করল। কিন্তু স্ত্রী উক্ত
দিরহাম গ্রহণে অস্বীকৃতি
জানিয়ে বলল, অবশ্যই আপনাকে এ
সম্পদ তার মালিককে ফেরৎ দিয়ে
আসতে হবে। ফলে সে পুনরায়
মসজিদে ফিরে গিয়ে দেখতে
পেল যে, এক ব্যক্তি বলছে ‘কে
একটি থলি পেয়েছে যেখানে এক
হাজার দিরহাম ছিল?’ একথা শুনে
সে এগিয়ে গিয়ে বলল, আমি
পেয়েছি। এই নিন আপনার
থলিটি। আমি এটা এখানে
কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। একথা শুনে
লোকটি তার দিকে দীর্ঘক্ষণ
তাকিয়ে থেকে বলল, ঠিক আছে
ব্যগটি আপনিই নিন। আর সাথে
আরো নয় হাজার দিরহাম নিন।
একথা শুনে দরিদ্র লোকটি
বিস্মিত হয়ে তার দিকে
তাকিয়ে রইল। তখন লোকটি বলল,
সিরিয়ার জনৈক ব্যক্তি আমাকে
দশ হাজার দিরহাম দিয়ে
বলেছিল যে, এর মধ্য থেকে এক
হাজার দিরহাম আপনি মসজিদে
ফেলে রাখবেন এবং কেউ তা তুলে
নেওয়ার পর আহবান করতে
থাকবেন। তখন যে আপনার
আহবানে সাড়া দিবে, আপনি
তাকে সম্পূর্ণ টাকা প্রদান
করবেন। কেননা সেই হ’ল প্রকৃত সৎ
ব্যক্তি।

উপদেশ : যে আল্লাহকে ভয়
করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।
আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি
আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার
জন্য পথ খুলে দেন এবং এমন উৎস
থেকে রিযিক দান করেন, যা সে
কল্পনাও করেনি’ (তালাক ৬৫/৩)
==========================
“হে আল্লাহ্ আপনি আমাদেরকে
আপনার
উপর ভরসা করার যোগ্যতা দান করুন”।

দুপুরের জোকসঃ খুব ঢিলা দেখছি

খুব ঢিলা দেখছি
মেয়েদের হাসপাতালে তার মা আর সদ্যপ্রসূত বোনকে দেখতে গেছে ছয় বছরের রবি। এ সময় সে পাশের বিছানায় এক বৃদ্ধা রোগিনীকে জিজ্ঞেস করল-
রবি : তুমি এখানে কতদিন আছ ?
বৃদ্ধা : তিন মাস ।
রবি : তোমার বাচ্চা কই ?
বৃদ্ধা : আমার বাচ্চা নেই।
রবি : কী বলছ, আমার মা এখানে মাত্র দুদিন হল এসেছে, একটা বাচ্চা হয়েছে, তুমি তো খুব ঢিলা দেখছি।

আদর করতে ইচ্ছে করছে
এক বৃদ্ধ তার সাত মাসের নাতিটিকে কোলে নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। এ সময় এক তরুণী এগিয়ে এসে বলল, ‘ওমা, কী সুন্দর! আদর করতে ইচ্ছে করছে। বয়স কত?’
বৃদ্ধ জবাব দিলেন, ‘এবার পঁচাশিতে পড়লাম।’

শরীরের উপকার
সমুদ্র তীরে বিকিনি পরে সুন্দরী এক মেয়ে বুক ডন দিচ্ছে।
সেটা দেখে একজন এক বৃদ্ধকে অন্য বৃদ্ধকে বলল, আপনার কি মনে হয় এতে শরীরের কোনো উপকার হয়?
২য় বৃদ্ধ : অবশ্যই! রোজ তিন মাইল হেঁটে আমি এই মেয়েটির ব্যায়াম দেখতে আসি।

জেনে নিন, কোন নামাজ শেষে রাসুল (সা.) ঘুরে বসতেন?

প্রশ্ন : রাসুল (সা.) কি সব ফরজ সালাতের পর মুসল্লিদের দিকে ঘুরে বসতেন? নাকি শুধু ফজর ও আসর সালাতের পর?

উত্তর : রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সালাতের পরই মুসল্লিদের দিকে ঘুরে বসতেন। এ মর্মে রাসুল (সা.)-এর সহিহ বর্ণনা পাওয়া যায়, ‘ইজান ছরাফান হারফ’। যখন রাসুল (সা.) সালাতের সালাম ফেরাতেন, তারপর রাসুল (সা.) ফিরে বসতেন। অন্য হাদিসের মধ্যে এসেছে, রাসুল (সা.) যখন সালাম ফেরাতেন, তখন তিনি আমাদের দিকে মুখ করে বসতেন। এটি শুধুমাত্র ফজর অথবা আসর সালাতের পর নয়।

শুধুমাত্র ফজর এবং আসরের সালাতের পর ইমামের ঘুরে বসাটা আমাদের নিজস্ব ইজতেহাদ। রাসুল (সা.) প্রতিটি সালাতেই মূলত সালাম ফেরানোর পরে মুসল্লিদের দিক মুখ করে বসতেন। তারপরে আসকার যেগুলো আছে সেগুলো রাসুল (সা.) পড়েছেন। সাহাবিদের রেওয়াতের মাধ্যমে তা সাব্যস্ত হয়েছে।

আমরা অনেকে এ সুন্নাহ সম্পর্কে জানি না। ফলে দেখা যায় যে, ইমাম সাহেব যেভাবে সালাম ফিরিয়েছেন, সেভাবে বসে থাকলেন। এ ক্ষেত্রে রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ লঙ্ঘন করলেন। আবার দেখা যায় যে, তিনি মোনাজাত করতেছেন। আসলে তিনি রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞ।

রাসুল (সা.) এখানে কিছু আসকার দিয়েছেন। এখানে রাসুল (সা.) এমন কোনো দোয়া করেননি বা দেননি যে ইমাম সাহেব সেখানে হাত তুলে দোয়া করতে হবে। এটা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। আবার দেখা গেল যে তিনি কিবলামুখী হয়ে দোয়া করতেছেন। এটা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। এর কারণ হচ্ছে মূলত আমরা সুন্নাহর অনুশীলন করি না, সুন্নাহ সম্পর্কে জানি না। বরঞ্চ আমরা নিজেরা নেজেদের ইচ্ছামতো দ্বীন তৈরি করে নিয়ে চেষ্টা করি আমাদের দ্বীন পালন করার জন্য। আমাদের বানানো দ্বীনের মধ্যে কোনো ফায়দা নেই। এর মধ্যে সওয়াব নেই। বরং বেদাত হওয়ার কারণে এটি আল্লাহতায়ালার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। এ এবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

রাসুল (সা.)-এর একাধিক সহিহ হাদিস দ্বারা এটি সাব্যস্ত হয়েছে। এমনকি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসের মধ্যে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এতটুকু দেরি করতেন না যে, আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম … ওয়াল ইকরম, পড়া পর্যন্ত এতটুকু দেরি করতেন, এর বেশি দেরি করতেন না। এর পর তিনি মুসল্লিদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন।’

জোকসঃ সন্তানের বাবা বয়ফ্রেন্ড

টেস্ট
এক মহিলা স্বামীকে নিয়ে সাইকিয়াটিস্টের কাছে গিয়েছে।
মহিলাঃ আমার স্বামী রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে খাবারের সঙ্গে কাগজের ন্যাপকিনগুলোও খেয়ে ফেলে।
সাইকিয়াটিস্টঃ সেকি! কাগজের ন্যাপকিনের চাইতে তো কাপড়েরটাই বেশি টেস্টি।

সন্তানের বাবা বয়ফ্রেন্ড
মহিলা ডাক্তার তার রোগিনীকে বলছেন, তুমি মা হতে যাচ্ছ, অথচ বিয়ে করোনি! তবে জলদি এই সন্তানের বাবা মানে তোমার বয়ফ্রেন্ডকে বিয়ে করে লোকলজ্জা থেকে নিজেকে বাঁচাও।
রোগিনীর জবাব, আমি বললেই আমার বয়ফ্রেন্ড আমাকে বিয়ে করতে রাজি হবে, কিন্তু কোন বয়ফ্রেন্ড যে এই সন্তানের বাবা তা ঠিক বুঝতে পারছি না।

স্ত্রীকে ফেরত দিতে
মিনিট দশেক তাড়া করে গতিবিধি লঙ্ঘন করা এক ড্রাইভারকে থামাল ট্রাফিক পুলিশ, বলল, আমি থামতে বলা সত্ত্বেও কেন আপনি থামেননি?
এক মুহূর্ত ভেবে নিয়ে ড্রাইভার বলল, আসলে হয়েছে কি, গত সপ্তাহে আমার স্ত্রী এক ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। তাই আপনাকে ছুটতে দেখে ভাবলাম, আমার স্ত্রীকে বুঝি ফেরত দিতে এসেছেন।

জেনে নিন, ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শেষ উচ্চারণ

কারবালার প্রান্তরে যখন সবাই শাহাদাত বরণ করছেন এবং ইমাম হোসাইন (রা.) কেবল একা দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন তাঁর শেষ কয়টি কথার কিছু অংশের অনুবাদ :

‘কেন আমাকে হত্যা করতে চাও?
আমি কি কোনো পাপ অথবা অপরাধ করেছি?’

এজিদের সৈন্য বাহিনী বোবার মতো দাঁড়িয়ে রইল। পুনরায় ইমাম হোসাইন(রা.) বললেন,

‘আমাকে হত্যা করলে আল্লাহর কাছে কী জবাব দেবে?
কী জবাব দেবে বিচার দিবসে মহানবীর কাছে?’

এজিদের সৈন্য বাহিনী পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে। আবার ইমাম হোসাইন (রা.) বললেন,

‘হাল্ মিন্ নাস্রিন ইয়ানসুরুনা?’
‘আমাদের সাহায্য করার মতো কি তোমাদের মাঝে একজনও নাই?’

তারপরের আহ্বানটি সাংঘাতিক মারাত্মক। ঐতিহাসিকদের মতে এটাই ইমাম হোসাইন(রা.) শেষ আহ্বান ছিল।

‘আলাম তাস্মাও? আলাইসা ফিকুম মুসলিমু?’
‘আমার কথা কি শুনতে পাও না? তোমাদের মাঝে কি মাত্র একটি মুসলমানও নাই?’

কেউই এই পবিত্র আত্মার কথার কোনো জবাব দিতে পারল না। সমস্ত কারবালা নীরব-নিস্তব্ধ হয়ে গেল । এবার যারা ইমাম হোসাইন (রা.) কে চিঠি লিখে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তাদের কয়েকজনের নাম ধরে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন-

‘হে শাবস ইবনে রাবয়ী! হে হাজর ইবনে আবজার!
হে কায়েস বিন আশআস! হে ইয়াজিদ ইবনে হারেস!
হে জায়েদ ইবনে হারেস! হে আমর ইবনে হাজ্জাজ!
… তোমরা কি চিঠি লিখে আমাকে আমন্ত্রণ জানাও নি?
তোমরা কি আমাকে কুফায় আসার জন্য বারবার চিঠি লিখে অনুরোধ করোনি?
তোমরা কি চিঠিপত্র ও দূত পাঠিয়ে বলোনি যে, আমাদের কোনো ইমাম নেই, আপনি আমাদের মাঝে তাশরিফ আনুন এবং আপনার মাধ্যমেই আল্লাহ তায়ালা হয়তো আমাদের সঠিক নির্দেশনা দেবেন। তোমরা এও লিখেছিলে যে, যাদের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতা দাবি করে এবং অন্যায় আচরণ করে, তাদের চাইতে ইসলামী শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে আহলে বাইত-ই অধিকযোগ্য (বেশি হক্বদার)।’

তথ্যসূত্র :

১. ইবনে আসীর, ৪খণ্ড, পৃ. ২৫ ।

২. ত্বাবারি, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ২৪৩।

৩. হাসান ও হুসাইনের কারবালার কাহিনী ও এজিদ বধ পর্ব, পৃষ্ঠা-৬৭-৭০ ।

৪. দুই ইমাম দুই ফুল, পৃ.১২৩-১২৫ ।

৫. শামে কারবালা, পৃ. ১২৫-১২৭।

৬. আহলে বাইত ও কারবালা, পৃ. ৪৪-৪৫ ।

৭. কিতাবুল ইরশাদ : শেখ মুফিদ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৯৭ ।

৮. মাকতালুল হুসাইন : খারাজমী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৬।

ধাঁধা প্রশ্নঃ ছেলেরা বছরে প্রতিদিন করে, মেয়েরা বছরে একবার করে? জিনিস টি?

উত্তরঃ এটি একটি জেন্ডার (লিঙ্গ) বৈষম্য প্রশ্ন। মেয়েদেরকে খাটো করার জন্য একটি অহেতুক প্রশ্ন সমাজে উত্থাপন করা হয়েছে। আসলে বাঙ্গালীদের মতো অলস মস্তিঙ্ক পৃথিবীর দ্বিতীয় কোন দেশে নেই। তাই এরকম অহেতুক চিন্তা-ভাবনা। নয়তো ছেলেদের এমন কি বিষয় বস্তু আছে যা ছেলেদের নিত্য দিন ব্যবহার করতে হয় এবং মেয়েদের বছরে একবার ব্যবহার করলেই তাঁদের জীবন অতিবাহিত হয়ে যায়? আপনি খোঁজে পেয়েছেন? সম্ভত যে এমন প্রশ্নের উদ্ভাবক সে নিজেও জানে না। তবে আমি একটি বিষয় খোঁজে পেয়েছি যা নিচের লাইনে আছে।

দ্বিতীয়ত্বঃ এই ধাঁধা প্রশ্নটি ভুল। যদি ধাঁধা প্রশ্নটি এরকম ভাবে হতো যে ছেলেরা করে প্রতিদিন আর মেয়ে ৩,৫,৭, কিংবা ১০ দিনে করে একবার তাহলে এই ধাঁধার প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়ঃ গোসল। কেননা মেয়েদের মতো ছেলেদের গোসল না করার মতো বাধ্যকতা বা স্বাস্থ্যগত সাময়িক সমস্যা নেই। তাই ছেলেরা প্রতিদিন গোসল করতে পারলে মেয়েরা মাসের সব সময় সব দিন গোসল করে যেতে পারে না।

তৃতীয়ত্বঃ এই ধাঁধার প্রশ্নের উত্তরটি এভাবেও দেওয়া যায়। আর তা হচ্ছে, সহবাস। ছেলেরা সন্তান লাভের প্রক্রিয়াটি হয়তো অনেকে প্রতিদিন করেন আর মেয়েরা সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে বছরে এক বার সম্পন্ন করেন।ত্ত্ব

চতুর্থঃ ছেলেরা প্রতিদিনই শুক্রাণু উৎপাদন করতে পারে কিন্তু মেয়েরা বছরে একবারই সন্তান গর্ভ ধারণ করতে পারে।

পঞ্চমঃ ছেলেরা প্রতিদিনই কবর স্থানে প্রবেশ করতে পারে কিন্তু মেয়েরা বছরে একবারই কবর স্থানে প্রবেশ করতে পারে আর তা হচ্ছে মৃত্যুর সময়।

এই প্রশ্নের সূত্রপাত…

“এই ধাঁধাটির সূত্রপাত হয়েছিলো মধ্যপ্রাচ্যে, আরবি ভাষায়। আর সঠিক অনুবাদে প্রশ্নটি ছিলো- “কোন জিনিস ছেলেরা প্রতিদিন করতে পারে কিন্তু মেয়েরা আজীবনে মাত্র একবার করতে পারে?” আরবি ভাষায় বানান কিংবা উচ্চারণে সামান্য হেরফের হলেই তার অর্থ পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দুর্ভাগ্যবশত এর ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই, ইংরেজিতে অনুবাদের সময় কিংবা পরবর্তীতে কোনোভাবে প্রশ্নটি মূলধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে অযৌক্তিক একটি প্রশ্নে রুপ নেয়। আরবি ভাষায় থাকা মূল প্রশ্নটির উত্তর “কবরস্থানে যাতায়াত”, ছেলেরা প্রতিদিন কবরস্থানে যাতায়াত করতে পারে কিন্তু মেয়েদের কবরস্থানে যাওয়া নিষিদ্ধ। শুধু মৃত্যুর পরই তারা সেখানে যেতে পারে। আরবদের প্রেক্ষাপটে এই উত্তর সঠিক কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য জাতির ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। প্রশ্নটি বিতর্কিত হওয়ার পিছনে এটাও আরেকটি কারন। শুধু এই প্রশ্নটিই নয়, এরকম আরও কিছু প্রশ্ন আছে যা কিনা নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাইরে গেলে গাঁজাখুরি টাইপের মনে হবে। উদাহরণস্বরুপ, মধ্যপ্রাচ্যেরই আরেকটি ধাঁধা- “What is brighter than the ice and darker than the night?” উত্তরটা হলো কাফনের কাপড়, যা কি না ধবধবে সাদা আবার কবরের ভেতর নিকষ কালো। কিন্তু এই প্রশ্ন যখন ইংরেজিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন জিজ্ঞাসিত প্রশ্নটির মতো এটিও একটি অবান্তর প্রশ্নে পরিণত হয়। প্রশ্নটিকে এর বর্তমান অরিজিন থেকে কল্পনা করলে এর সঠিক উত্তর পাওয়া যাবেনা, তবে সবচেয়ে কাছাকাছি উত্তর হলো Gamete Generating System, এই সিস্টেমটি মেয়েদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একবার ডিম্বাণু তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে সিস্টেমটি বিরামহীনভাবে প্রায় সারাজীবন ধরে শুক্রাণু উৎপাদন করতে থাকে।” লাল কালারের এই অংশটি ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা।

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা, আমরা বিষয়টির উপরে আপনার মনের কৌতুহল মেটানোর চেষ্টা করেছি এবং বিষয়টি উপরে ভিত্তি করে আমাদের সামনে যা এসেছে তা শালীন ভাষার মাধ্যমে আপনার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এসম্পর্কে আপনার যদি কোন ভালো জানা বা ধারণা থাকে, তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে তুলে ধরুন।

জোকসঃ বন্ধু বৌ তো ধরা খাইছে !!

বউটার বিশ্বাস নাই………
১ম বন্ধুঃ দোস্ত আমার বউটারে আর বিশ্বাস নাই।খালি মিথ্যা কথা কয়।কি যে করি!
২য় বন্ধুঃ কেন কি হইছে দোস্ত?
১ম বন্ধুঃ আর কইস না।কাল রাতে আমি বাড়ি ছিলাম না। সকালে আইসা দেখি বউ বাড়িতে নাই।দুপুরে ফিরতেই জিগাইলাম কই গেছিলা? কয় বোনের বাড়ি বেড়াতে গেছিলাম।
২য় বন্ধুম হুমম, তয় বিশ্বাস না করার কি হইল?
১ম বন্ধুঃ আরে তার বোনতো রাতে আমার সাথে ছিল।

গরীব মেয়ে……
আরাম খান রাতের বেলা FTV তে ফ্যাশন শো দেখছিলো…
হঠাৎ ছেলে বল্টু মিয়া এসে রুমে ঢুকল…
অপ্রস্তুত আরাম খান বলল, “বেচারা গরীব মেয়েরা, কাপড় চোপড় কেনার পয়সা নাই…”
বল্টু মিয়াঃ “এর চেয়ে গরীব মেয়ে দেখতে চাইলে,আমার কাছে সিডি আছে,নিয়ে দেখতে পারো…..”

ডাক্তার সাহেব……
এক লোক মানসিক রোগের হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার কে বলছে
“ডাক্তার সাহেব, আমার বৌ খুবই খারাপ একটা মেয়ে। প্রত্যেক রাতে সে আবুলের মদের বারে যায় এবং একটা পুরুষ ধরে আনে।
আসল ব্যাপার আরও খারাপ, যে পুরুষই তাকে অফার করে সে সাথে সাথে রাজি হয়ে যায়। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি… আমি এখন কি করব বলেন আমাকে প্লিজ…”
ডাক্তার নিজে ভিতরে ভিতরে চরম উত্তেজিত হয়ে বলে-
“শান্ত হন শান্ত হন…একটা গভীর নিঃশ্বাস নেন… হ্যাঁ এবার আমাকে বলেন মদের বার টা যেন ঠিক কোন জায়গায়??.

পরীক্ষা চলার সময়……
বায়োলজির পরীক্ষা চলছে। প্রশ্ন এসেছে “মেয়েদের প্রজননতন্ত্র আঁকাও এবং তা বর্ণনা করো”

পরীক্ষা চলার সময় এক মেয়ে হঠাৎ তার দুই পায়ের মাঝে তাকাল

সাথে সাথে এক ছেলে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো
“স্যার ওই মেয়েটা নকল করছে, আমি নিজের চোখে দেখেছি!!!”

কে কে বুঝছেন গো???

দুই কিশোর (আবু জাহেলের মৃত্যু ও বদর যুদ্ধের গল্প)

বদরের ময়দান।

একদিকে মুসলমান। আরেক দিকে কাফের। মুসলমানদের দলে আছেন স্বয়ং রাসূলে করীম (সাঃ)। আরো আছেন সাহাবীগণ। কাফেরদের দলে রয়েছে মক্কার বড় বড় কাফের সর্দার। বহুদিন পর্যন্ত যেসব কাফের মক্কায় মুসলমানদের কষ্ট দিয়েছে, নির্যাতন করেছে, রাসূল (সাঃ)-কে হত্যার চেষ্টা করেছে, তাঁদের অনেকেই এই যুদ্ধে এসেছে। বদর যুদ্ধ হলো কাফেরদের সাথে মুসলমানদের প্রথম প্রকাশ্য #জিহাদ।

তুমুল যুদ্ধ চলছে। চারিদিকে শত্রুকে খুঁজে চলেছে সবাই। কেউ কারো দিকে নজর দিতে পারছেনা। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আ’উফ (রাঃ) এক জায়গায় দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করেছিলেন, শত্রুকে কিভাবে ঘায়েল করা যায়। হঠাৎ দেখলেন, তার দু’পাশে এসে দাঁড়ালো দুটি বালক। দু’জনই মুসলিম।

আব্দুর রহমান ইবনে আ’উফ (রাঃ) বালক দু’জনের দিকে তাকালেন। মনে মনে তিনি হতাশ। এরা তো নিতান্তই বালক! এরা যুদ্ধ করবে কিভাবে! তিনি ভাবছিলেন, যদি তার আশে-পাশে আরো শক্তসমর্থ মুসলমান থাকতেন, তাহলে কাফেরদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর সময় একজন আরেকজনকে সহযোগিতা করতে পারতেন; কিন্তু সেই কাজ কি এই বালক দু’জনকে দিয়ে সম্ভব?

বালক দু’জন সম্পর্কে তিনি যখন এ ধরনের ভাবনা ভাবছিলেন, তখনই এক বালক এসে তার হাত জড়িয়ে ধরলো। তারপর বল—চাচাজান! আপনি আবু জেহেল কে চিনেন?

আব্দুর রহমান ইবনে আ’উফ জবাবে বললেন—হ্যাঁ, চিনি। কিন্তু আবু জেহেলকে তোমার কী প্রয়োজন?’

সেই বালক বললো—“আমরা শুনেছি, আবু জেহেল আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ)-কে গালা গালি করে। নবীজীর নামে আজে-বাজে কথাবার্তা বলে বেড়ায়। আল্লাহর কসম! যদি আবু জেহেলকে দেখতে পাই, তবে তার জীবন খতম করার আগে আমি ক্ষ্যান্ত হবো না। যদি তাঁকে খতম করতে না পারি তবে নিজেই শহীদ যাবো।”

বালকের কথা শুনে আব্দুর রহমান ইবনে আ’উফ (রাঃ) অবাক হয়ে গেলেন। অল্প বয়সী বালক! অথচ কী অসামান্য সাহস!

এসময়ের অপর বালকটিও তাঁকে জিজ্ঞাসা করল—আবু জেহেল কে, কোথায় পাওয়া যাবে, জানতে চাইলো। আব্দুর রহমান ইবনে আ’উফ (রাঃ) তাঁকেও প্রশ্ন করলেন—“আবু জেহেলকে তোমার কী প্রয়োজন?”—এই বালকটিও আগের বালকের মতই জবাব দিল। আবু জেহেলকে যেখানেই পাওয়া যাবে, তাঁকে হত্যা করবোই, এই প্রত্যয় ব্যক্ত করল।

পাশে দাঁড়ানো দুই কিশোরের কথায় আব্দুর রহমান ইবনে আ’উফ (রাঃ) যখন বিস্মিত হচ্ছিলেন; অবাক হয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই দেখলেন, যুদ্ধের ময়দানে ঘোড়ায় চড়ে ছূটে বেড়াচ্ছে আবু জেহেল। কিশোর দু’জনকে দেখিয়ে দিলেন তিনি। বললেন-“তোমরা আমার কাছে যার পরিচয় জানতে চাচ্ছ, ঐ যে সেই লোকটা যাচ্ছে।”

আব্দুর রহমান ইবনে আ’উফ (রাঃ)-এর মুখের কথা শেষ হতে না হতেই বালক দু’জন ছুটলো। তীরের মত ছুটতে ছুটতে গিয়ে আবু জেহেলের সামনে হাজির হলো দু’জনই।

আবু জেহেল ঘোড়ায় চড়ে ছুটছিল। বালক দু’জনের পক্ষে ঘোড়ায় চড়ে থাকা আবু জেহেলের শরীরে সরাসরি আঘাত করা ছিল অসম্ভব। একজন আক্রমণ করল আবু জেহেলের ঘোড়ায়। আরেকজন আবু জেহেলের পায়ে খোলা তলোয়ার দিয়ে আঘাত করল।

মুহূর্তের মধ্যেই কাফের সর্দার আবু জেহেল মাটিতে গড়িয়ে পড়ল। মাটিতে পড়েই ছটফট করতে লাগল আবু জেহেল। বালক দু’জন সমানতালে তাঁকে আঘাত করে চলল।

আবু জেহেলের পাশে পাশে যুদ্ধ করছিল এক ছেলে। হঠাৎ করেই বাবার এই করুণ দশা হতে দেখে সে থমকে গিয়েছিল প্রথমে। এরপর সে বালক দু’জনের একজনের উপর তরবারী চালিয়ে দিল। বালকের মাথা লক্ষ্য করে তরবারীর আঘাত করেছিল আবু জেহেলের ছেলে। কিন্তু সেই আঘাত এসে লাগল বালকের হাতে। হাতটি শরীর থেকে আলাদা হয়ে একটি চামড়ায় ঝুলে রইল।

আবু জেহেলের ছেলে ভেবেছিল আক্রমণ করে সে বালকের হাত যখন কেটে ফেলতে পেরেছে, তখন আর বালক দু’জনকে ধরাশায়ী করা কোন ব্যাপারই নয়। কিন্তু তার এই ভাবনার মৃত্যু হলো সামান্য সময়েই।

যেই বালকের হাত কেটে ঝুলে গেছে, যুদ্ধ করতে অসুবিধা হচ্ছে বলে সে পায়ের নিচে হাত রেখে একটানে নিজের হাতটা ছিঁড়ে ফেললো। তারপর ছিঁড়ে ফেলা হাত দূরে নিক্ষেপ করে আবারো যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লো।

এই অবাক করা কাণ্ড দেখে আবু জেহেলের ছেলে দ্রুত সেখন থেকে সটকে পড়ল।

বালক দু’জন আবারো আবু জেহেলের শরীরের উপর চড়ে বসলো। এখনো আবু জেহেল মরেনি। দূরথেকে বালকদের অভাবনীয় আক্রমণে আবু জেহেলের এই মরণ দশা দেখে আব্দুর রহমান ইবনে আ’উফ (রাঃ) এগিয়ে এলেন। এক কোপে আবু জেহেলের শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ফেললেন।

রাসূলের এক ভয়ানক দুশমনকে খতম করল দুই কিশোর। সাহসী কিশোর দু’জনের একজনের নাম মা’আয। এর হাত কাটা গিয়েছিলো। অপর জনের নাম মুআ’ও ওয়ায।

রাসূল (সাঃ)-এর কিশোর সাহাবী এরা। এদের সাহস ও বীরত্ব দেখে শেষ পর্যন্ত বদর প্রান্তরের সবাই অবাক হয়ে গেলো।

আপনি পড়ছেনঃ সাহাবায়ে কেরামের গল্প বই থেকে।