পবিত্র কাবা শরিফ সম্পর্কে ১০ টি অজানা তথ্য জেনে নিন ?

পবিত্র কাবা। আল্লাহর ঘর। প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়রাজ্যে বাস করে বাইতুল্লাহ জিয়ারতের স্বপ্ন। কাবার পরিচিতি বিশ্বজোড়া। কিন্তু এই কাবাঘর সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা অনেকই জানেন না। কাবা শরিফ সম্পর্কে অজানা ১০টি তথ্য।

১. কাবা ঘর কয়েকবার নির্মিত হয়েছে: নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধাবস্থার কারণে কাবা ঘর কয়েকবার নির্মাণ করা হয়েছে। অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে কাবা শরিফ মোট ১২ বার নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমান ডিজাইনের নির্মাতা মুসলিম শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ নিজে এই ডিজাইনটি করেননি।

বরং তিনিও ইসলাম পূর্ববর্তী কুরাইশদের ডিজাইন অনুসরণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার কাবা শরিফের সংস্কারের কাজ করা হলেও মূল ডিজাইনে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। সর্বশেষ কাবা শরিফের সংস্কার কাজ করা হয় ১৯৯৬ সালে। তখন বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাবা শরিফের দেয়াল ও প্রাঙ্গনকে দৃঢ় ও মজবুত করা হয়।

২. কাবার গিলাফের রং পরিবর্তন: কাবা শরীফকে গিলাফে আবৃত করার প্রচলন শুরু হয় প্রাচীন জুরহুম গোত্রের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে এ ধারা চলমান থাকে। মহানবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাবা ঘরকে একটি সাদা ইয়েমেনি চাদরে আবৃত করেন।

পরবর্তী খলিফারা কাবা ঘরের গিলাফের ক্ষেত্রে সাদা, লাল এবং সবুজ রং ব্যবহার করেছেন। আব্বাসি খলিফারা কালো গিলাফের প্রচলন করেন। এখনো তা সেই কালো রংয়েই বহাল আছে।

৩. ডিজাইন পরিবর্তন: পবিত্র কাবা ঘর বর্তমানে ঘনকাকৃতির অবয়বে আছে। পূর্বে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এটিকে এই আকৃতিতে তৈরি করেননি। ইসলাম পূর্বযুগে কুরাইশরা কাবা পুনঃনির্মাণ করে। তখন অর্থ সংকটের কারণে কাবার কিছু অংশ নির্মাণের বাইরে থাকে।

এটি মূলত কাবার আভ্যন্তরীণ অংশ। বর্তমানে এটিকে একটি ছোট দেয়াল দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। একে হাতিম হিসেবে অভিহিত করা হয়।

৪. কাবার দরজা মূলত কয়টি? কাবার মূল দরজা ছিল দুটি এবং একটি জানালাও ছিল। বর্তমানে দরজা আছে একটি। জানালা নেই। তবে কাবার অভ্যন্তরে আরেকটি দরজা আছে। যা ছাদে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।

৫. কাবা ঘরের অভ্যন্তর: কাবা ঘরের অভ্যন্তরে কী আছে? এ নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন জাগে। কাবার অভ্যন্তরে তিনটি পিলার মূল ছাদটিকে ধরে রেখেছে। দুই পিলারের মাঝে একটি টেবিলে সুগন্ধি রাখা আছে। দেয়ালের উপরাংশকে একটি সবুজ কাপড়াবৃত করে রেখেছে। কাপড়টিতে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ক্যালিগ্রাফি খচিত।

৬. হাজরে আসওয়াদ ভেঙ্গেছিল: হাজরে আসওয়াদ মূলত একটি বড় পাথর ছিল। তবে বর্তমানে এটি মোট আটটি পাথরখন্ডের সমষ্টি। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাথরটি ভেঙ্গে গেছে। সর্বপ্রথম এর উপর রৌপ্যের ফ্রেম বাঁধাই করেন আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর।

৭. কাবার রক্ষক পরিবার কারা? অবাক করা ব্যাপার হলো- ইসলাম পূর্বযুগ হতে এখন পর্যন্ত একটি গোত্রই কাবার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। গোত্রটির নাম বনু শাইবাহ। বিগত প্রায় ১৫ শতাব্দী ধরে এই গোত্রের হাতেই আছে কাবা ঘরের চাবি।

৮. কাবা ঘর পরিষ্কার কার্যক্রম: কাবা ঘরের রক্ষকগোত্র বনু শাইবাহর তত্ত্বাবধানে বছরে দুইবার কাবা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জমজম কুয়ার পানি, গোলাপজল এবং আরবের বিখ্যাত সুগন্ধি উদের তেলের সমন্বয়ে একটি বিশেষ ক্লিনিং লিকুইড তৈরি করা হয় এবং তা দিয়েই কাবা ঘর পরিষ্কার করা হয়।

৯. উন্মুক্ত দরজা: কাবার দরজা একসময় সবার জন্যই উন্মুক্ত ছিল। পরবর্তীতে লোক সমাগম বেড়ে যাওয়ার কারণে কাবার দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানেও এটি বিশেষ সময়ে খোলা হয়ে থাকে।

১০. বিরতিহীন তাওয়াফ: কাবার আরেকটি অবিশ্বাস্য দিক হলো- সবসময়ই এর চারপাশে তাওয়াফ চলতে থাকে। শুধু নামাজের জামাত যে সময়টুকুতে হয়, তা ছাড়া বাকি পুরো সময় ধরে কাবার চারধারে চলতে থাকে অবিরাম তাওয়াফ।

দেখুন কোন সূরাগুলো পড়লে মিলবে কোরআন খতমের সওয়াব

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করাকে কোরআন খতম বলা হয় । আমাদের দেশে সাধারনত দু‘ভাবে কোরআন খতম করা হয় ।(১)নিজে নিজে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পবিত্র কোরআন খতম (তেলাওয়াত) করা ।(২)অপর লোকের দ্বারা কোরআন পড়ায়ে নেয়া ।

((১)) নিজে নিজে কোরআন খতম করা – কোরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তেলাওয়াত করা উৎকৃষ্ট ইবাদত।হাদিস শরীফে আসছে – আফজালুল ইবাদাতে — অর্থাৎ কোরআন তেলাওয়াত উৎকৃষ্ট ইবাদত । মান কারা‘আ হরফাম– অর্থাৎ কোরআনের এক অক্ষর পড়লে দশ নেকী (তিরমিযী-২/১১৫)।রসুল(সঃ) বলেছেন ,কোরআন পাঠ করলে ক্বলবের মরিচা দুর হয় (বায়হাকী)

বলা হয় পবিত্র রমযান মাসে এক খতম এবং বাকী এগার মাসে আরও এক খতম কোরআন তেলাওয়াত করা পবিত্র কোরআনের হক।রসুলের হাদিস থেকে বুঝা যায় সাধারন মুসলমানদের জন্যে তিনদিনের কমে কোরআন খতম করা ঠিক নয় । ওছমান ইবনে আফ্‌ফান (রাঃ) প্রতি সাতদিনে কোরআন খতম করতেন , মুসলমানদের জন্যে এক্ষেত্রে ওছমান (রাঃ) এর অনুকরন করা উত্তম ।

((২)) অপরের দ্বারা খতম করায়ে নেয়া – অপরের দ্বারা কোরআন পড়ায়ে নেয়া আবার দু‘কারনে করা হয় ।(ক) রোগমুক্তি,বালা-মছিবত দূর ও বরকত হাছিলের জন্যে,(খ) ইছালে ছওয়াব অর্থাৎ মৃত্যু ব্যক্তিদের ছওয়াব পাঠানোর ও মাগফেরাতের জন্যে ।

((ক)) রোগমুক্তি ও বালা-মছিবত দূর করার জন্যে আমাদের সমাজে খতম পড়ানোর ব্যপক প্রচলন রয়েছে ।এই খতম এলাকা ও অবস্থা ভেদে বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে ।কোথাও পুরা কোরআন খতম করানো হয় ,কোথাও কোরআনের বিশেষ বিশেষ সুরা বা আয়াত তেলাওয়াত করা হয় ।কোথাওবা বিশেষ কিছু দু‘আ-জিকের ,তাছবিহ-তাহলীল নির্দিষ্ট একটা সংখ্যা পরিমান পাঠ করা হয় । অনেক সময় এসকল খতমের বিভিন্ন নাম দেয়া হয় যেমন, খতমে কোরআন, খতমে আম্বিয়া ,খতমে জালালী ,খতমে খাজেগান ইত্যাদি ।বর্তমান কালের অধিকাংশ আলেম এই প্রকারের খতম পড়ে বিনিময় (খাওয়া বা টাকা নেয়া) গ্রহন করা বৈধ মনে করে থাকেন ।তাদের যুক্তি হলো ,ইসলামী শরীআতে ইবাদতের বিনিময় গ্রহন করা নিষেধ, যেহেতু এই প্রকার খতম ইবাদত নয় তাই এর বিনিময় গ্রহন করা নিষেধের আওতায় পড়েনা । বাস্তব সত্য হলো এই সকল খতমের প্রচলন নবীযুগে ,সাহাবাদের সময়ে ,এমনকি কোন মুজতাহীদ ইমামদের যুগেও ছিল না ।পরবর্তী কালে কে বা কারা এটা আবিষ্কার করেছে তারও হদিস মেলেনা । তাই এই নতুন আবিষ্কৃত পন্থাটিকে সন্দেহাতিত ভাবে বৈধ মনে করার কোন সুযোগ নাই । তাকওয়া ও পরহেজগারী হলো এই সকল বেদাত থেকেও দূরে থাকা ।

((খ))ইসালে ছওয়াবের জন্যে কোরআন খতমের অনুষ্ঠান করা ,এবং এর ছওয়াব মৃত্যু ব্যক্তিদের মাগফেরাতের জন্যে পাঠানোর যে রীতি আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে এতে কোন ছওয়াবনেই ।এটা ভিত্তিহীন,প্রমানহীন বেদাত যা অবশ্য পরিতাজ্য ।রসুল ও সাহাবাদের জামানায় এই জাতীয় খতমের প্রচলন ছিলনা ।

মৃত্যু ব্যক্তিদের জন্যে কোরআন খতমের কথা কোরআন-হাদিসে নাই ।কোরআন-হাদিসে তাদের জন্যে দু‘আ করার কথা আছে ।সন্তানদেরকে মৃত্যু পিতা-মাতার জন্যে দু‘আ করার ,দান-ছদকা,হজ্জ-ওমরা করে ছওয়াব পাঠানোর নির্দেশ করা হয়েছে ।এই র্নিদেশকে সামনে রেখে অনেক আলেম মনে করেন যেহেতু মৃত্যু ব্যক্তিরা তাদের সন্তানদের দান-ছদকা, নফল নামাজ-রোজা, হজ্জ-ওমরার দ্বারা উপকৃত হবে ,তাদের কোরআন তেলাওয়াতের ছওয়াব দ্বারাও উপকৃত হবে ,যদি সন্তানেরা নিজেরা ব্যক্তি পর্যায়ে কোরআন তেলাওয়াত করে ।যতটুকু পড়বে অতটুকুর ছওয়াব পাবে ।

মনে রাখতে হবে আমাদের দেশের প্রচলিত খতম ছওয়াবের কাজ নয় ,এই খতমে কোন ছওয়াব নেই ,বরং এই প্রকার খতম পড়নেওয়ালা,পড়ানেওয়ালা উভয়ি গুনাহগার হবে ।কারন কোরআন,হাদিস ও নির্ভরযোগ্য ফিকার কিতাবের দৃষ্টিতে ঐ সকল খতমে কোন প্রকার ছওয়াব নাই ,যে সকল খতম অপর লোকের দ্বারা খাওয়া ও টাকার বিনিময়ে পড়ানো হয় ।

হানাফি মাজহাবের নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার কিতাব ,“রদ্দুল মোহতারে ”বলা হয়েছে,“ লা ইউছাবু লা লিল কারী ,ওয়া লা লিল মু‘তি ,ওয়াল কারী ওয়াল মু‘তি আছেমানে ” অর্থাৎ প্রচলিত খতম পড়াতে কোন প্রকার ছওয়াব হবেনা , পড়নেওয়ালারও হবেনা ,পড়ানেওয়লারও হবেনা ,বরং উভয়ে গুনাহগার হবে ।

প্রচলিত খতম যে খানেই পড়ানো হোক ,যে ভাবেই পড়া হোক এতে কোন ছওয়াব নাই ,পড়নেওয়ালা-পড়ানেওয়ালা সকলেই গুনাহগার হবে ,প্রমানের জন্যে দেখুন — সুরা বাকারা -৪১ আয়াত/১৭৪ আয়াত,সুরা মায়েদা-৪৪ আয়াত ।আবু দাউদ, তিরমিযী,বায়হাকী ও মাসনাদে আহমাদে রয়েছে এ বিষয়ে একাধিক হাদিস । ফতোয়া শামী ,কাজিখান সহ প্রায় সকল ফতোয়ার কিতাবে রয়েছে এসম্পর্কে বিস্তরিত আলোচনা । প্রচলিত খতম নাজায়েজ ও হরাম হওয়া সম্পর্কে হাটহাজারী মাদ্রসার মুফতি ,মুফতি ফয়জুল্লাহ মরহুম “ রাফেউল ইশ‘কালাত” নামের একটি সতন্ত্র কিতাব লিখেছেন এবং একে প্রচলিত খতম হারাম হওয়ার ৫৫ টি প্রমান উল্লেখ করেছেন ।

শেষ কথা- আমাদের দেশে (এলাকায়) মৃত্যুব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত ও তাদের জন্যে ছওয়াব পাঠানোর জন্যে যত প্রকার খতম পড়ানোর প্রচলন আছে তা সবই নাজায়েজ ,অবৈধ ।এগুলি কোন ছওয়াবের কাজ নয় ,নিসন্দেহে এসব গুনার কাজ ।

মুফতি আব্দুল্লাহ খান ফয়েজী

জেনে নিন, কারা বা কোন শ্রেণিভুক্তরা রাসুল [সা.]-এর উম্মত নয়!

ইসলাম একটি আদর্শ ধর্ম। ভালো, কল্যাণকর এবং উপকারধর্মী কাজের প্রতি ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মানুষকে উৎসাহ প্রদান করেছে। ইসলাম শিখিয়েছে ভালো পথে মানুষকে চলার কথা, শিখিয়েছে মানুষকে সম্মান করা কথা। ছোটদের প্রতি বড়দের এবং বড়দের প্রতি ছোটদের ধর্মীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আল্লাহর রাসুল [সা.] বলেন, যে ছোটদের হে করে না আর বড়দের সম্মান করে না সে আমার উম্মত নয়। ছোটরা বড়দের সম্মান করবে, শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে আর বড়রা ছোটদের হে করবে, পথ দেখাবে মানুষের কাছে এই প্রত্যাশা সব ধর্মের। ইসলাম এ ব্যাপারটিকে আরো বেশি গুরুত্ব প্রদান করেছে। ইসলামের নবির এই সতর্কীকরণ একটি বাণীর দ্বারাই এ বিষয়টির প্রকৃত গুরুত্ব অনুধাবন করা সম্ভব। সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবিক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা প্রাধান্য পাবে। বড়দেরই ছোটদের হে ও ভালোবাসার দিকে প্রথম এগিয়ে আসতে হবে। কারণ ছোটরা বড়দের কাছ থেকেই শিখবে, তাদের শিক্ষা ও দীক্ষার উৎকৃষ্ট মাধ্যম হলো বড়রা।

ছোটদের সঙ্গে বড়দের দূরত্ব কমিয়ে আনতে বেশি বেশি সালামের অভ্যাস করা যেতে পারে। সালাম খুব দ্রুত সম্প্রীতি অর্জনে সহযোগিতা করে। ইসলামের নবি হজরত মোহাম্মদ [সা.] ছোট বড় সবাইকে আগে সালাম দিতেন। ছোট বাচ্চাদেরও তিনি সালাম দিতেন এবং বলতেন, আমাদের কাছ থেকেই তো ওরা শিখবে। তুমি যদি একজন বাচ্চাকে আগে সালাম প্রদান করো তাহলে সেও তোমাকে একদিন আগে সালাম প্রদান করবে। সালামের প্রচলন কমে গেছে বলে এমন একটি অনাকাক্সিক্ষত পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেই মনে করেন বিজ্ঞ ইসলামী পণ্ডিতরা। মহানবি [সা.] বলেছেন, তোমরা ছোট-বড়, পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম কর। নিশ্চয়ই সালাম হৃদ্যতা বাড়িয়ে দেয়।

আমাদের অনেকের ধারণা সালাম বুঝি কেবল ছোটরাই বড়দের করবে। কিন্তু ইসলাম ছোটদের যেমনি বড়দের সালাম করার নির্দেশ দিয়েছে, সমভাবে বড়দেরও ছোটদের প্রতি সালাম বলার নির্দেশ দিয়েছে। যা উপরিউক্ত হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুল [সা.] স্বয়ং সালাম প্রদানে কখনো ছোট বড় ভেদ করতেন না। হজরত আবু বকর [রা.] বলেন, রাসুল [সা.] সবসময় আগে সালাম দিতেন। তিনি ছোট-বড় ভেদ করতেন না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইসলামের আদেশ ও নিষেধ মেনে, ইসলামের আদর্শে আদর্শিত হয়ে ছোটদের হে করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

করুন_কাহিনী ……….

★আমার মেয়ের কাছে আজও আমি নিষ্পাপ পিতা★
আমি একজন রিকসা চালক রিক্সা চালিয়েই দিনআনি দিন খাই, হটাৎ একদিন এক গার্মেন্টস কর্মি রাবেয়ার সাথে পরিচয় হয় আমার,,

প্রতিদিন রাত ১০ টায় গার্মেন্টস ছুটি হলে ওকে আমি ওর বাসায় পৌছে দেই এভাবে কেটে যায় ৬ মাস তারপর আমি তাকে একদিন বিয়ের পস্তাব দিলে ও মুচকি হেসে ওর বড় আপুর সাথে আমাকে কথা বলতে বলে, তাই একদিন ছুটির দিন আমি ওর বড় আপুর সাথে কথা বল্লে তিনিও আমাকে পছন্দ করেন এবং আগামি শুক্রবার বিয়ের দিন ঠিক করেন,

আমিও ব্যাস্ত হয়ে পরি বিয়ের আয়োজন করতে, মহাজনের কাছে গিয়ে ৫০০০ টাকা ধার করে মটামুটি ছোটখাটো
ধুমধাম করেই শেষ হয় আমাদের বিয়ে, রাবেয়া বউ হয়ে আসে আমার কুড়ে ঘরে, তারপর থেকে টেনে টুনে মোটামুটি সুখেই কাটছিলো আমাদের দিনগুলো,, একদিন আমার রিক্সা চালিয়ে ঘরে ফিরতে একটু রাত হয়ে গেলো, ফিরতেই রাবেয়া দৌড়ে এসে আমাকে জাপটে ধরলো, কি ব্যাপার? কি হইছে রাবু?

রাবেয়া আমার কানে কানে বল্লো সে মা হতে চলেছে, আমি খুশিতে আত্ব্যহারা হয়ে ওকে কোলে তুলে নাচতে লাগলাম পাসের ঘরের ভাবি আমার পাগলামো দেখে হাসতে শুরু করলেন তা দেখে আমি আর রাবেয়া দুজনেই লজ্জা পেয়ে গেলাম,, তারপর রাবেয়ার ডেলিভারির সময় ঘনিয়ে এলে আমি চিন্তিত হয়ে পরি অনেক টাকার দরকার,

আমি দিনরাত রিক্সা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরি টাকা যোগানোর জন্যো,আজকে রাবেয়ার ডেলিভারি হবে ডাক্তার বলেছে সিজার করতে হবে অনেক টাকা লাগবে তাই ভোরের আযানের সাথেই রিকিসা নিয়ে ভের হই, টাকা যোগারের জন্যো, এক পথিক আমায় ডাকলো এই রিক্সা যাবে? কোথায় জাবেন সার? ধনমন্ডি? যাবো ১০০ টাকা লাগবে, কেনো এতো কেনো? আজকে আমার বউয়ের ডেরিভারি হবে টাকা লাগবে অনেক স্যার, তাই???

আচ্ছা আমি তোমাকে ২০০ টাকাই দেবো তবে তারাতারি যেতে হবে বলেই ভদ্রলোক আমার রিক্সায় উঠে বসলেন, কিছুদুর যাওয়ার পর ঠটাৎ ভদ্রলোকটি লাফিয়ে রিকসা থেকে নেমে পালিয়ে গেলেন, পেছনে ঘুরে তাকাতেই পুলিশ এসে আমাকে বেধড়ক পেটাতে লাগলেন,

কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার হাতে হাত কড়া লাগিয়ে থানায় নিয়ে বল্লেন আমার রিক্সায় অবৈধ অস্র পাওয়া গেছে তাই আমাকে চালান করে দিল কোর্টে আমার চিৎকার আর আকুতি কেউ শুনলো না, আজ পাচ বছর হলো আমি জেলখানায় নিরঅপরাধ হয়ে বিনা বিচারে জেল খাটছি ৭ বছরের সাজা হলো আমার,

শুনেছি আমার এ কথা শুনে কষ্টে রাবেয়ার ডেলিভারির সময় রাবেয়া আমাকে ছেড়ে চিরদিনের মতো চলেগেছে ওপারে শান্তির নিবাশে, আল্লার কাছে, তবে স্মৃতি হিসাবে রেখেগিয়েছিলো একটি কন্যা সন্তান, পাশের বাড়ির ভাবিই তাকে পাচটি বছর লালন পালন করেছে, আজ আমার মেয়েটি আমাকে জেলখানায় দেখতে এসেছিল ওর নিজের হাতে আমাকে খাইয়ে দিচ্ছিল তখন আমি চিৎকার করে বলেছিলাম আমার মেয়ের কাছে আমি আজো সেই নিষ্পাপ পিতা।

এত পরিমাণে শেয়ার করুন যাতে করে প্রশাসনের নজরে আসে। আর কোনো রাবেয়াকে যাতে অকালে প্রাণ হারাতে না হয়, এতিম হতে না হয় আর কোনো অবুজ শিশুকে।

জেনে নিন, জান্নাত সম্পর্কে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর চল্লিশ কথা…

১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর উম্মতের মধ্য মধ্য থেকে ৭০ হাজার ব্যক্তি বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে।- [আহমদ, তিরমিজী, ইবনে মাজাহ- আবু ওমামা (রা.)]

২) যারা রাতে আরামের বিছানা থেকে নিজেদের পার্শ্বদেশকে দূরে রেখেছিল, এমন অল্প সংখ্যক লোক বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অবশিষ্ট সকল মানুষ হতে হিসেব নেয়ার নির্দেশ করা হবে। [বায়হাকি- আসমা (রা.)]

৩) জান্নাতে জান্নাতবাসীরা প্রতি জুমাবারে বাজারে মিলিত হবে এবং জান্নাতে জান্নাতবাসীদের রূপ-সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। [মুসলিম- আনাস রা.)]

৪) জান্নাতের স্তর হবে ১০০টি এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর জান্নাতুল ফেরদাউস। যখন তোমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইবে তখন জান্নাতুল ফেরদাউস চাইবে। [তিরমিজী ওবাই ইবনে সামেত (রা.)]

৫) জান্নাত সমস্ত পৃথিবী থেকে উত্তম। (মুয়াত্তা- আবু হুরাইরা (রা.)

৬) জান্নাতবাসীনী কোন নারী (হুর) যদি পৃথিবীর দিকে উঁকি দেয়, তবে গোটা জগত আলোকিত হয়ে যাবে এবং আসমান জমীনের মধ্যবর্তী স্থান সুগন্ধিতে মোহিত হয়ে যাবে। তাদের মাথার উরনাও গোটা দুনিয়া ও তার সম্পদরাশি থেকে উত্তম। [বুখারী- আনাস (রা.)]

 

৭) জান্নাতে একটি চাবুক রাখার পরিমাণ জায়গা গোটা দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তা থেকে উত্তম। [মুয়াত্তা- আবু হুরাইরা (রা.)]

৮) জান্নাতের একটি গাছের নিচের ছায়ায় কোন সাওয়ারী যদি ১০০ বছরও সাওয়ার করে তবুও তার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। [বুখারী, মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]

৯) জান্নাতে মুক্তা দিয়ে তৈরী ৬০ মাইল লম্বা একটি তাঁবু থাকবে। জান্নাতের পাত্র ও সামগ্রী হবে সোনা ও রুপার। [বুখারী, মুসলিম আবু মুসা (রা.)]

১০) পূর্ণিমা চাঁদের মতো রূপ ধারণ করে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ক) তাদের অন্তরে কোন্দল ও হিংসা বিদ্বেষ থাকবে না। (খ) তারা কখনো রোগাক্রান্ত হবে না। (গ) তাদের পেশাব পায়খানা হবে না। (ঘ) তারা থুথু ফেলবে না। (ঙ) তাদের নাক দিয়ে ময়লা ঝরবে না। (চ) তাদের চিরুনী হবে সোনার চিরুনী। (ছ) তাদের ধুনীর জ্বালানী হবে আগরের। (জ) তাদের গায়ের গন্ধ হবে কস্তুরির মতো সুগন্ধি। (ঝ) তাদের স্বভাব হবে এক ব্যক্তির ন্যায়। (ঞ) তাদের শাররীক গঠন হবে (আদী পিতা) আদম (আ:) এর ন্যয়। [বুখারী, মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]

১১) জান্নাতীদের খাবারগুলো ঢেকুর এবং মিশকঘ্রাণযুক্ত ঘর্ম দ্বারা নি:শেষ হয়ে যাবে। [বুখারী, মুসলিমযাবির (রা.)]

১২) জান্নাতীরা সুখে শান্তিতে স্বাচ্ছন্দ্যে ডুবে থাকবে। হতাসা দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা থাকবে না। পোশাক পরিচ্ছেদ ময়লা হবে না, পুরাতন হবে না। তাদের যৌবনও নিঃশেষ হবে না। [মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]

১৩) জান্নাতবাসীরা সব সময় জীবিত থাকবে। কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। সব সময় যুবক থাকবে বৃদ্ধ হবে না। [মুসলিম আবু সাঈদ (রা.)]

১৪) জান্নাতে (এমন) এক দল প্রবেশ করবে, যাদের অন্তর হবে পাখিদের অন্তরের মতো। [মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]

১৫) জান্নাতবাসীদের প্রতি আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদের উপর সন্তুষ্টি দান করেছি, তোমাদের উপর আর কখনো অসন্তুষ্ট হবো না। [বুখারী, মুসলিমআবু সাঈদ (রা.)]

১৬) জান্নাতের নহরে পরিণত হবে- সায়হান, জায়হান, ফোরাত ও নীল নদী। [মুসলিম – আবু হুরায়রা (রা.)]

১৭) জান্নাতে বান্দার আশা আকাঙ্খার দ্বিগুণ দেয়া হবে। [মুসলিম – আবু হুরায়রা (রা.)]

১৮) জান্নাতের দরওয়াজা ৪০ বছরের দুরত্বে সমান, এমন এক দিন আসবে যে তাও ভরপুর হয়ে যাবে। [মুসলিম-উতবা ইবনে খাজওয়ান (রা.)]

১৯) জান্নাতের ইট স্বর্ণ ও রোপ্য দ্বারা তৈরী। কঙ্কর হলো মনি মুক্তা, আর মসল্লা হলো সুগন্ধীময় কস্তুরী। [তিরমিজী – আবু হুরায়রা (রা.)]

২০) জান্নাতের সকল গাছের কা- হবে সোনার। [তিরমিজী – আবু হুরায়রা (রা.)]

২১) জান্নাতের ১০০ টি স্তর আছে, দু’স্তরের মধ্যে ব্যবধান শত বছরের। [(তিরমিজী – আবু হুরায়রা (রা.)]

২২) জান্নাতের ১০০ স্তরের যে কো এক স্তরে সারা বিশ্বের সকল লোক একত্রিত হলেও তা যথেষ্ট হবে। [তিরমিজী আবু সাঈদ (রা.)]

২৩) জান্নাতের উচ্চ বিছানা (সুরুরুম মারফুআ) আসমান জমীনর মধ্যবর্তী ব্যবধানের পরিমাণ- ৫০০ শত বছরের পথ। [তিরমিজী আবু সাঈদ (রা.)]

২৪) জান্নাত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১০০ পুরুষের শক্তি দান করা হবে। [(তিরমিজ – আবু হুরায়রা (রা.)]

২৫) জান্নাতবাসীগণ কেশবিহীন দাড়িবিহীন হবে। তাদের চোক সুরমায়িত হবে। [তিরমিজ – আবু হুরায়রা (রা.)]

২৬) জান্নাতবাসীগণ ৩০ বা ৩৩ বছর বয়সীর মতো জান্নাতে প্রবেশ করবে। [তিরমিজী, ময়াজ ইবনে জাবাল (রা.)]

২৭) জান্নাতে অবস্থিত কাওসার এর পানি দুধ অপেক্ষা অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে। [তিরমিজীআসান (রা.)]

২৮) জান্নাতবাসী উট ও ঘোড়া চাইলে দুটোই পাবে এবং তা ইচ্ছেমতো দ্রুত উড়িয়ে নিয়ে যাবে। তাতে তুমি সে সব জিনিস পাবে যা কিছু তোমার মন চাইবে এবং তোমার নয়ন জুড়াবে। [তিরমিজী-আবু বুরাইদা (রা.)]

২৯) জান্নাতবাসীদের ১২০ কাতার হবে। তার মধ্যে ৮০ কাতার হবে এ উম্মতের। অবশিষ্ট ৪০ কাতার হবে অন্যান্য উম্মতের। [তিরমিজী- বুরাইদা (রা.)]

৩০) জান্নাতে একটি বাজার আছে সেখানে ক্রয়-বিক্রয় নেই। সেখানে নারী-পুরুষের আকৃতিসমূহ থাকবে। সুতরাং যখনই কেউ কোন আকৃতিকে পছন্দ করবে তখন সে সেই আকৃেিত রূপান্তরিত হবে। [(তিরমিজী- আলী (রা.)]

৩১) জান্নাতবাসীদের উপর এক খণ্ড মেঘ আচ্ছন্ন করে ফেলবে। তাদের উপর এমন সুগন্ধি বর্ষণ করবে যে, অনুরূপ সুগন্ধি তারা আর কখনো পায়নি। জান্নাতের বাজারে একজন আরেকজনের সাথে সাক্ষাত করবে এবং তার পোশাক পরিচ্ছদ দেখে আশ্চার্যান্নিত হবে। কিন্তু তার কথা শেষ হতে না হতেই সে অনুভব করবে যে, তার পোশাক তার চেয়ে আরো উত্তম হয়ে গেছে। এটা এ জন্য যে, জান্নাতে দুশ্চিন্তার কোন স্থান নেই। তাদের স্ত্রীদের কাছে ফিরে আসলে তারা বলবে তুমি আগের চেয়ে সুন্দর হয়ে ফিরে এসেছ। [তিরমিজী, ইবনে মাজাহ- সাইধ ইবনে মুসায়েব (রা.)]

৩২) নিম্নমানের জান্নাতবাসীর জন্যে ৮০ হাজার খাদেম ও ৭২ জন স্ত্রী হবে। ছোট্ট বয়সী বা বৃদ্ধ বয়সী লোক মারা গেলে জান্নাতে প্রবেশের সময় ৩০ বছর বয়সী হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ বয়স কখনো বৃদ্ধি হবে না। জান্নাতবাসীগণ যখন সন্তান কামনা করবে, তখন গর্ভ, প্রসব ও তার বয়স চাহিদা অনুযায়ী মুহূর্তের মধ্যে সংঘটিত হয়ে যাবে। [তিরমিজী, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ- আবু সাঈদ (রা.)]

৩৩) জান্নাতে হুরদের সমবেত সংগীত শুনা যাবে। এমন সুরে যা আগে কখনো শুনা যায় নি। তারা বলবে-
আমরা চিরদিন থাকবো, কখনো ধ্বংস হবো না।
আমরা সুখে আনন্দে থাকবো, কখনো দুঃখ দুশ্চিন্তা হবে না।
আমরা সব সময় সন্তুষ্ট থাকবো, কখনো নাখোশ হবো না।
সুতরাং তাকে ধন্যবাদ যার জন্যে আমরা এবং আমাদের জন্য যিনি। [তিরমিজী- আলী (রা.]

৩৪) জান্নাতে রয়েছে, ১. পানির সমূদ্র ২. মধুর সমুদ্র ৩. দুধের সমুদ্র ৪. শরাবের সমুদ্র। তার পর তা থেকে আরো বহু নদী প্রবাহিত হবে।- [তিরমিজী- হাকিম ইবনে মুয়াবিয়া (রা.)]

৩৫) জান্নাতে একজন কৃষি কাজ করতে চাইবে। তার পর সে বীজ বপণ করবে এবং চোখের পলকে অংকুরিত হবে, পোক্ত হবে এবং ফসল কাটা হবে। এমন কি পাহাড় পরিমাণ স্তুপ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান! নিয়ে যাও, কোন কিছুতেই তোমার তৃপ্তি হয়না। [বুখারী – আবু হুরায়রা (রা.)]

৩৬) জান্নাতে এক ব্যক্তি ৭০টি তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসবে। এ শুধু তারই স্থান নির্ধারিত থাকবে। একজন মহিলা এসে সালাম দিয়ে বলবে, “আমি অতিরিক্তের অন্তর্ভুক্ত” তার পরনে রং বেরং এর ৭০ খানা শাড়ী পরিহিত থাকবে এবং তার ভিতর দিয়েই তার পায়ের নলার মজা দেখা যাবে। তার মাথার মুকুটের আলো পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থান রৌশনী করে দিবে। [আহমদ- আবু সাঈদ (রা.)]

৩৭) জান্নাতবাসীগণ নিদ্রা যাবে না। নিদ্রাতো মৃত্যুর সহোদর আর জান্নাতবাসী মরবে না। [বায়হাকী- যাবের (রা.)]

৩৮) আল্লাহ তায়ালা হিজাব বা পর্দা তোলে ফেলবেন, তখন জান্নাতবাসীরা আল্লাহর দিদার বা দর্শন লাভ করবে। আল্লাহর দর্শন লাভ ও তার দিকে তাকিয়ে থাকার চেয়ে অধিকতর প্রিয় কোন বস্তুই এযাবত তাদেরকে প্রদান করা হয়নি। [মুসলিম- সুহায়ব (রা.)]

৩৯) বারা বিন আযেব (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন: কবরে মুমিন বান্দার কাছে দু‘জন ফেরেশতা আসে তাকে উঠিয়ে বসাবেন। তার পর তাকে জিজ্ঞেস করবেন: তোমার রব কে? সে উত্তর দেয় আমার রব ‘আল্লাহ’। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তোমার দ্বীন কি? সে উত্তর দেয়, আমার দ্বীন ‘ইসলাম’। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তোমাদের মাঝে যিনি প্রেরিত হয়েছিলেন তিনি কে? সে উত্তর দেয়, তারা উত্তর দেয়, তিনি হলেন ‘আল্লাহর রাসূল’। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তুমি এসব কিভাবে জানলে? সে উত্তর দেয়, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, তাঁর উপর ঈমান এনেছি ও তাঁকে সমর্থন করেছি। তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন- আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমার বান্দার জন্য জান্নাতের একটি বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দাও। তখন তা খুলে দেওয়া হয়। রাসূল (সা.) বলেন: ফলে তার দিকে জান্নাতের স্নিগ্ধ বাতাস এবং সুগন্ধি আসতে থাকে। তার জন্য কবরের স্থানকে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়। (আহমদ আবু দাউদ)

৪০) যে ব্যক্তি কুরআন পড়েছে, তাকে (সমাজে কুরআনের বিধান) প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, কুরআনে বর্ণিত হালালসমূহকে হালাল জেনে মেনেছে, হারামগুলোকে হারাম মনে করেছে। আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের জাহান্নামযোগ্য ১০ জনে বিষয়ে সুপারিশ করতে পারবেন। (তিরমিযী হযরত আলী হতে)

জেনে নিন, মহানবী (সা:) কে খুন করতে এসে যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিলো এক খুনি…

মহানবী (সা) একদিন একটি গাছের তলায় ঘুমিয়েছিলেন। এই সুযোগে দাসুর নামের একজন শত্রু তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। শোরগোল করে সে মহানবী (সা) কে ঘুম থেকে জাগাল। মহানবী (সা) ঘুম ভাঙলে চোখ খুলে দেখলেন, একটা উন্মুক্ত তরবারি তাঁর উপর উদ্যত। ভয়ানক শত্রু দাসুর চিৎকার করে উঠলো, ‘এখন আপনাকে কে রক্ষা করবে?’

মহানবী(সা) ধীর শান্ত কণ্ঠে বললেন, ‘আল্লাহ’। শত্রু দাসুর মহানবী (সা) এর এই শান্ত গম্ভীর কণ্ঠের আল্লাহ শব্দে কেঁপে উঠল। তার কম্পমান হাত থেকে খসে পড়ল তরবারি।

মহানবী (সা) তার তরবারি তুলে নিয়ে বললেন, ‘এখন তোমাকে কে রক্ষা করবে, দাসুর? সে উত্তর দিল কেই নেই রক্ষা করার।’ মহানবী (সা) বললেন, ‘না, তোমাকেও আল্লাহই রক্ষা করবেন।’ এই বলে মহানবী (সা) তাঁকে তার তরবারি ফেরত দিলেন এবং চলে যেতে বললেন।

বিস্মিত দাসুর তরবারি হাতে চলে যেতে গিয়েও পারল না। ফিরে এসে মহানবীর হাতে হাত রেখে পাঠ করলঃ ‘লা- ইলাহ ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় শাহজালালে ব্লগার গ্রেফতার

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এক ব্লগারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম আসাদুজ্জামান নূর ওরফে আসাদ নূর। সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, আসাদ নূরের বিরুদ্ধে এ বছরের ১১ জানুয়ারি বরগুনার আমতলী থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা (নম্বর ১৪) দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমতলী শাখার সভাপতি মুফতি ওমর ফারুক। মামলায় আসাদের বিরুদ্ধে মহানবী হজরত মুহম্মদের (সা.) বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগ আনা হয়েছে। ঢাকার ইমিগ্রেশন পুলিশ ও আমতলী থানার ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বরগুনার আমতলী থানার ওসি শহীদ উল্লাহ বলেন, ‘ব্লগার আসাদ নূর ও তার এক সহযোগী লিমন ফকিরের বিরুদ্ধে মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। মামলার পরপরই লিমন ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু আসাদ নূর পলাতক ছিলেন। সোমবার তিনি বিমানবন্দর দিয়ে নেপালে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। আমাদের টিম তাকে আনার জন্য ঢাকায় রওয়ানা হয়েছে।’

ওসি বলেন, ‘এর আগে আসাদ নূর কিছু দিন ভারতে গিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। আমরা তার বিষয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশকে জানিয়ে রেখেছিলাম।’

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, আসাদ নূর নেপালের কাঠমাণ্ডু যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন চ্যানেল পার হচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই রেড নোটিশ থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আমতলী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক মাধব চন্দ্র দে বলেন, ‘আসাদ নূরের বাড়ি আমতলীর উত্তর টিয়াখালী। তার বাবার নাম তোফাজ্জল হোসেন।’

শিক্ষণীয় একটি গল্পঃ….চোখের পানি ধরে রাখা যায় না …

এক বিবাহিত যুবক, কঠিন রোগে মৃত্যু শয্যায় তার স্ত্রীকে ডাকলেন।তার চোখ দিয়ে অনুশোচনার অশ্রু ঝরছে।যুবকের স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন,এবং এটিই তাদের প্রথম সন্তান!
সে স্ত্রী কে বললো: দেখো,আমি সারা জীবনে নামাজ-রোজা করিনি!আজ মৃত্যু সময়ে ভুল ভেঙ্গে গেছে,কিন্তু আমি নিরুপায় আমার আর কিছু করার সময় সুযোগ হলো না। যদি তোমার গর্ভের সন্তান বেঁচে থাকে,বড় হয় তাহলে তুমি তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিও।শুনেছি সন্তানের উসিলায়ও বাবা মা বেহেশতে যেতে পারে!
স্ত্রী তাকে শান্তনা দিয়ে বললেন,তোমার কথাই রাখবো!
দু দিন পর যুবক মারা গেলেন।এর কয়েক দিন পর তার স্ত্রীর একটি ছেলে জন্ম নিলো!অনেক কষ্টের মাঝে যখন
ছেলেটির বয়স ছয় বছর পুর্ণ হলো তার মা তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিলেন!
প্রথম দিন মাদ্রাসায় শিক্ষক তাকে একটি আয়াত শিখালেন।

আয়াতটি হলো: ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম!
(পরম করুনাময় মহান আল্লাহ্ তায়ালার নামে শুরু করছি! )
মাদ্রাসা থেকে বাড়ীতে যাওয়ার পর ছেলেকে নিয়ে স্ত্রী স্বামীর কবরের কাছে জিয়ারতে গেলেন!
ছেলেকে কবরের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে মা বললেন,ঐ তোমার বাবার কবর।ওখানে গিয়ে তোমার বাবার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবে!
(মাদ্রাসায় পড়া শিশুরা প্রায় সব সময় তাদের শিখিয়ে দেয়া আয়াত বা কালাম এমনি এমনি পড়তে থাকে)
এত ছোট্ট শিশু কিভাবে দোয়া করতে হয়,কিছুই জানে না।কিন্তু মাদ্রাসায় শিখানো জীবনের প্রথম আয়াতখানা বার বার কবরের সামনে তিলাওয়াত করতে লাগলো।

ওই ছোট্ট মুখের তিলাওয়াতের এমন শক্তি,আমার আল্লাহর দরবারে বিনা বাধায় পৌঁছে গেলো।মালিকের রহমতের দরিয়ায় বাঁধভাঙা জোয়ারের ডাক এসে গেলো!
মহান আল্লাহ্ তায়ালা আজাবের ফেরেশতাদের
বললেন,এই মুহুর্তে ওই কবরবাসীর কবর আজাব বন্ধ করে দাও!
ফেরেশতারা বললোঃ হে দয়াময় পরোয়ারদিগার এই লোকটির আমলনামায় এমন কী পুণ্য পাওয়া গেলো?
যে তার জন্য নির্ধারিত কঠিন কবরের আজাব ক্ষমা করে দেয়া হলো?
ফেরেশতারা শোনো:
কবরের উপরে একটা অবুঝ শিশু বার বার তিলাওয়াত করছে,”বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”!
তিলাওয়াতকারী এই কবরবাসীর ওয়ারিশ,তার অবুঝ সন্তান।সে স্বাক্ষী দিচ্ছে আল্লাহ্ রাহমানির রাহিম!
-আল্লাহ্ পরম দয়ালু।
আমি যদি কবরবাসীকে ক্ষমা না করি,তাহলে আমি কেমন দয়ালু?
(সুবহানাল্লাহ)
আল্লাহ আমাদেরকে বোঝার ও আমল করার তৌফিক দান করুন…
বাবা মার জন্য বেশি বেশি দোয়া করুন।

যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করবেন
আপনাদের লাইক কমেন্ট শেয়ারই আমাদের নতুন
একটি পোস্ট করার অনুপ্রেরণা যোগায়…

মুখ দিয়ে যৌনকর্ম : ইসলাম ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান কি বলে জানতে পড়ুন

দয়া করে এড়িয়ে যাবেন না। সচেতনতা জরূরী। আপনি মুখে ও গলায় ক্যান্সারাক্রান্ত হতে চান না নিশ্চয়ই।

আমার এই পোস্টের জন্য আমার কন্যা, বোন ও মায়েদের কাছে শুরুতে ওজর পেশ করছি। কিন্তু জরূরী বলে লিখতে বাধ্য হচ্ছি। এছাড়াও আমার লিস্টের একজন ভাই [সম্ভবত এমদাদুল্লাহ] এ বিষয়ে পোস্ট করেছিলেন। সেখানে কমেন্টে লিখার পরিবর্তে আমি একটা পূর্নাঙ্গ পোস্ট লিখাকে সঙ্গত মনে করেছি।
বিষয়টা হল ওরাল_সেক্স বা মুখ দিয়ে যৌন কর্ম। পশ্চিমা অপঃসংস্কৃতির প্রসারের শিকার আমাদের মুসলিম সংস্কৃতিগুলোও। এমন কিছু বিষয় যা আগে মুসলিম সমাজে প্রচলিত ছিল না এবং সেগুলো নিয়ে কেউ প্রশ্নও উঠাত না তা এখন মহামারী আকারে আমাদের সমাজগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। পর্নোগ্রাফি এ ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা পালন করছে।

আমাদের মুসলিম শুয়ূখগণ পশ্চিমে অবস্থানকারী মুসলিমদের কাছ থেকে প্রথম এ বিষয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হন। এ কথা কিছু কিছু শুয়ুখ ক্লিয়ারলী বলেছেনও যে তাঁরা পশ্চিমে আসার আগে এ ধরণের প্রশ্নের সম্মুখীন হন নি। বিগত শতাব্দীর ৮০-৯০ এর দশক থেকে তারা এই প্রশ্নের মুক্বাবিলা করছেন। আমি নিজে আমার ১০ ও ১১ শ্রেণির ছাত্রদের কাছ থেকে প্রায়ই এ প্রশ্নের মুখোমুখি হই। তাদেরকে এড়িয়ে যাওয়ারও কোন উপায় দেখি না।

তাঁরা যে প্রশ্নের মুক্বাবিলা করছিলেন তা হল, ওরাল সেক্স হালাল কিনা?। এ ক্ষেত্রে কিছু শুয়ুখদের মতামত হল এটা মাকরূহ। আরেক দলের মত হল যদি হারাম এড়ানো যায় তাহলে এটা হালাল, কারণ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর হারাম হবার পক্ষে কোন প্রমান নেই।

আমি বিষয়টা নিয়ে ভেবেছি এবং নিম্নলিখিত ব্যাপারগুলো লক্ষ্য করেছিঃ
1. যৌন উত্তেজনার সময় যৌনাঙ্গ থেকে দু’ধরণের পদার্থ নিসৃত হয়। একটা হল প্রিসেমিনাল ফ্লুইড বা মজ়ী; এটা সর্বসম্মতভাবে নাপাক। আরেকটা হল সিমেন বা মনি; এটা একদল উলামাদের মতে পাক এবং আরেকদলের মতে নাপাক। আরেকটা বিষয় হল মজ়ি ব্যতিরেকে কখনো খালি মনি নির্গত হয় না। এখন কেউ যদি স্ত্রীর মুখে যৌনাঙ্গ প্রবেশ করায় তাহলে সেখানে সে নাপাকি প্রবেশ করাবেই। আর এটা শরীয়ত অনুমোদিত নয়।

2. স্ত্রীর মুখ যৌনাঙ্গ নয়। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, তোমাদের নারীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রের ন্যায়; সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো এবং নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রেরণ কর; আর আল্লাহর অসন্তোষ থেকে বেঁচে থাকো। [২: ২২৩] শস্যক্ষেত্রে বীজ বপন করা হয় যাতে ফসল উৎপাদিত হয় ভবিষ্যতে। আর বীজ বপনের দ্বার হচ্ছে যোনি। সুতরাং বীজ সেখানে বপন করতে হবে; মুখে নয়।

3. স্ত্রীর যৌনাঙ্গে স্বামীর মুখ দিয়ে উত্তেজনা দান করার বিষয়ে কথা হচ্ছে, এটা একটা জঘন্য রুচির বিষয়। আমি একজন ডাক্তারের সেমিনারে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন স্ত্রীর যোনি দ্বার ও পায়ুপথ খুব কাছাকাছি হওয়ায় এখানে নানান ধরণের ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার সমাগম ঘটে। STD এর বিভিন্ন ধরণের জীবাণুর জমা হওয়ার স্থান এটা। আর এটা এখন প্রমাণিত হয়েছে যে পুরুষের মুখের ও গলার ক্যান্সার হওয়ার বড় একটা কারণ হল পুরুষ কর্তৃক নারীর যোনিতে মুখ দিয়ে যৌনকর্ম। HPV ভাইরাসের কারণে এই ক্যান্সার হয় এবং এটা ওরাল সেক্সের কারণে হয় যা এখন প্রমাণিত। এছাড়াও সব ধরণের সেক্সুয়ালী ট্রান্সমিটেড ডিজ়িস (STD) এ কর্মের মাধ্যমে হতে পারে, এইডস সহ। মন্তব্যে এ বিষয়ে গবেষণার লিঙ্ক দেব, ইনশা’আল্লাহ্‌। রোগ জীবানু ছাড়াও স্ত্রীর মজ়ি পুরুষের মুখে ও পেটে যেতে পারে; আর মজ়ি নাপাক তা আমরা আগেই উল্লেখ করেছি।

4. কুরআনে সঙ্গম কোথায় করতে হবে তার নির্দেশনা আমরা ২:২২৩ আয়াত থেকে পাই। হাদীসে ওরাল সেক্স সম্পর্কে কিছু বলা হয় নি এ কারণে যে রসূলুল্লাহর সময়ে এই প্রশ্নই উঠেনি। মুসলিমরা এধরণের কোন চিন্তাই তখন করেন নি। আমরা আগেই দেখেছি যে এই প্রশ্ন মুসলিম সমাজগুলো থেকেও উত্থিত হয় নি; বরং পশ্চিমে বসবাসরত মুসলিমদের কাছ থেকেই প্রথম উত্থিত হয়েছে। তাই বুঝা যায় এটা ছিল আউট অফ কোয়েশ্চেন।

এই সবগুলো বিষয় চিন্তা করলে আমি যা দেখতে পাই তা হল, এই ধরণের কর্ম শরীয়ত অনুমোদিত হবার মত নয়। আমাদের জন্য শরীয়তের মূলনীতি হলঃ “ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।“ আমি বিষয়টাকে এখানেই রেখে দিতে চাই।