প্রশ্নঃ তাবিজ কি শিরক ? ( হাদিসের আলোকে )

এক ভাই প্রশ্ন করেছেন, আমার মা এক বড় হুজুরের নিকট থেকে (বড় হুজেরের নিকট থেকে!) খুব দামী দুটি তাবিজ এনে দিয়েছে। কিন্তু এখানে সৌদি আরবে কিছু লোক বলে তাবিজ নাকি শিরক। তাদের কথায় আমি তাবিজ খুলেছি, কিন্তু এখন মন খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে, ভয় করছে। আপনি কিছু বলুন।

উত্তরঃ দেখুন নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, “আত-তামায়িমু শিরকুন” – তাবিজ হচ্ছে শিরক। এটা আল্লাহর নবীর কথা (হাদীস), কোনো আলেমের ফতোয়া না! ফতোয়া হলে ভাবতেন মানুষের মত, ভুল-ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু এটি কার কথা? নবী (সাঃ) এর কথা।

আচ্ছা কেউ যদি বলে, তাবিজ যার মধ্যে শিরক থাকবে সেটা শিরক, আর যেটা কুরানের দুয়া দিয়ে করবো, কুরানের সুরা বা নবীর হাদীসের দুয়া দিয়ে করবো সেগুলোতে কোনো সমস্যা নেই।

নবী (সাঃ) এগুলোর মাঝে কোনো পার্থক্য করেননি, যদি পার্থক্য করতেন তাহলে তিনি অবশ্যই বলে দিতেন, দেখো তোমরা কুরআন হাদীসের দুয়া দিয়ে তাবিজ করিও কোনো অসুবিধা নেই। আর শিরকি কথা দিয়ে বা বুঝা যায়না এমন কথা বার্তা দিয়ে তাবিজ করিওনা। এভাবে তিনি ভেঙ্গে দুইটাকে আলাদা করে বলতেন, কারণ তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে শরীয়ত স্পষ্ট করে মানুষের কাছে পোঁছে দেওয়ার জন্যই এসেছিলেন। কিন্তু তিনি এইরকম কোনো পার্থক্য করেন নি, সব তাবিজকেই শিরক বলেছেন। সুতরাং, তাবিজ তা যেকোনো রকমেরই হোকনা কেনো, আল্লাহর নবী বলেছেন – তাবিজ হচ্ছে শিরক সুতরাং শিরক।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাবিজ শিরক হয় কিভাবে? তাবিজ পূজার শিরক নয়, সেজদা করার শিরক না কারণ তাবিজকে কেউ পূজা বা সেজদা করেনা। কিন্তু এটা হচ্ছে ভরসা করার শিরক। আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে, আস্থা রাখতে হবে আর আস্থা ও ভরসা পুরোপুরি হয়ে গেছে তাবিজের উপরে। এইজন্য যারা তাবিজ ঝুলায় তারা গর্বের সাথে বলে, তাবিজ আছে, কোনো যাদু আমার ক্ষতি করতে পারবেনা, তাবিজ আছে কোনো পরোয়া নেই – কোনো জিন আমাকে স্পর্শ করতে পারবেনা। তাদের মনে বল কিজন্য? তাদের মনের বল পুরোপুরি এই তাবিজের উপরে। এইযে প্রশ্নকারীর মন খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে ভয় লাগছে, কেনো? তার আস্থা ছিলো এই তাবিজের উপরে। আল্লাহর উপর ভরসা না করে তাবিজের উপর ভরসা করা সেটা কি? সেটা হচ্ছে শিরক – সেটা কুরানের দুয়া দিয়েই তাবিজ করুক না কেনো আর শিরকি কথা বা গাছ-গাছড়া দিয়ে তাবিজ করা হোকনা কেনো।

এ সম্পর্কে কুরআনে অনেক আয়াত আছে, “যদি তুমি মুমিন হয়ে থাকে তাহলে শুধুমাত্র আল্লাহর উপরেই ভরসা করো” তাহলে তাবিজের উপর যে ভরসা করবে সে মুমিন না মুশরেক? সে মুশরকে হয়ে যাবে।

আবার অনেকে বলে, কুরআন হাদীস দিয়ে তাবিজ করবো এটা এমন কি খারাপ কথা? হ্যা আরেকটি খারাপ কথা আছে। বাথরুমে প্রস্রাব-পায়খানা করতে গিয়ে আলাহর আয়াতের কত অবমাননা করা হচ্ছে। এটা কি হারাম নয় আপনার জন্য? আপনি দিনে কতবার গুনাহগার হচ্ছেন, আল্লাহর আয়াত বা নবীর দুয়া দিয়ে তাবিজ ঝুলিয়ে টয়লেটে বা গোসল খানায় গিয়ে, স্বামী বা স্ত্রীর কাছে গিয়ে। সুবহা’ন আল্লাহ! আপনি কি একবারের জন্যও চিন্তা করেন না? তাহলে এই তাবিজে শিরকও আছে আবার কুরআন হাদীস বা আল্লাহর আয়াত ও নবীর দুয়ায় অবমাননা বা মানহানির অপরাধও আছে যা আপনার জন্য কুফুরী হওয়ার আশংকা আছে।

সুতরাং, খবরদার তাবিজের উপর ভরসা না করে আল্লাহর উপর ভরসা করেন। আমরা যারা তাবিজ করিনা বা লিখিনা তাদের কি এমন ক্ষতি হয়ে গেছে বলুন দেখি? আল্লাহ না চাইলে কারো কোনো ক্ষতি হবেনা, আর আল্লাহ যদি চান কারো বালা-মুসিবত তাহলে ভালো মানুষের উপরেও বালা মুসিবত আসতে পারে। খারাপ লোকের উপর বালা মুসিবত খারাপ কাজের আজাব হিসেবে আসতে পারে আর ভালো লোক বা সৎ লোকের উপরে পরীক্ষা হিসেবে বিপদ-আপদ বা বালা মুসিবত আসতে পারে। আল্লাহ ইব্রাহিম (আঃ) কে আগুনে ফেলে, ইউসুফ (আঃ) কে দীর্ঘদিন জেলে রেখে, আইয়ুব (আঃ) কে কঠিন অসুস্থতা দিয়ে, ইউনুস (আঃ) কে মাছের পেটে রেখে পরীক্ষা করেছিলেন। সুতরাং তাবিজ না করে আল্লাহর উপরে ভরসা করুন।

দলিল হচ্ছে-

০১). নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ (من علق شيئا وكل إليه) “যে ব্যক্তি কোন জিনিষ লটকাবে, তাকে ঐ জিনিষের দিকেই সোপর্দ করে দেয়া হবে”।-তিরমিযী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্‌ তিব্ব।-( দেখুনঃ সহীহুত্‌ তিরমিযী হা নং- ২০৭২ )

০২). আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ আমি রসূল (সঃ)-কে বলতে শুনেছি ঝাড়-ফুঁক, তাবীজ এবং যাদুটোনা করা শির্ক। (আবু দাউদ ২য় খন্ড ৫৪২ পৃষ্ঠা, আহমাদ)

০৩). কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন লোক পাঠিয়ে বলে দিলেন যেঃ أَنْ لاَ يَبْقَيَنَّ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلاَدَةٌ مِنْ وَتَرٍ أَوْ قِلاَدَةٌ إِلاَّ قُطِعَتْ “কোন উটের গলায় ধনুকের রশি বা গাছের ছাল দিয়ে তৈরী হার ঝুলানো থাকলে অথবা যে কোন মালা থাকলে সেটি যেন অবশ্যই কেটে ফেলা হয়।”(বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্‌ তিব্ব)।

০৪). নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ) “ঝাড়-ফুঁক করা, তাবীজ লটকানো এবং স্বামী বা স্ত্রীর মাঝে ভালবাসা সৃষ্টির জন্যে যাদুমন্ত্রের আশ্রয় নেয়া শির্ক”। (আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্‌ তিব্ব। দেখুনঃ সিলসিলায়ে সহীহা হাদীছ নং- (৬/১১৬১)) এখানে যে ঝাড়ফুঁক করাকে শির্ক বলা হয়েছে, তা দ্বারা শির্কী কালামের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক উদ্দেশ্য। তবে ঝাড়ফুঁক যদি আল্লাহর কালাম, আল্লাহর সিফাত বা সহীহ হাদীছে বর্ণিত কোন বাক্যের মাধ্যমে হয়, তাতে কোন অসুবিধা নেই।

০৬). নবী (সাঃ) এক ব্যক্তির হাতে পিতলের একটি আংটা দেখে বললেনঃ এটি কী? সে বললঃ এটি দুর্বলতা দূর করার জন্যে পরিধান করেছি। তিনি বললেনঃ (انْزِعْهَا فَإِنَّهَا لَا تَزِيدُكَ إِلَّا وَهْنًا فَإِنَّكَ لَوْ مِتَّ وَهِيَ عَلَيْكَ مَا أَفْلَحْتَ أَبَدًا) “তুমি এটি খুলে ফেল। কারণ এটি তোমার দুর্বলতা আরো বাড়িয়ে দিবে। আর তুমি যদি এটি পরিহিত অবস্থায় মৃত্যু বরণ কর, তাহলে তুমি কখনই সফলতা অর্জন করতে পারবে না”। (মুসনাদে আহমাদ, দেখুনঃ আহমাদ শাকেরের তাহকীক, (১৭/৪৩৫) তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)

০৭). হুজায়ফা (রাঃ) দেখলেন এক ব্যক্তির হাতে একটি সুতা বাঁধা আছে। তিনি তা কেটে ফেললেন এবং কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করলেনঃ )وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إلاَّ وَهُمْ مُشْرِكُونَ (“তাদের অধিকাংশই আল্লাহকে বিশ্বাস করে; কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে”। (সূরা ইউসুফঃ ১০৬)

০৮). সাঈদ বিন জুবায়ের (রাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মানুষের শরীর থেকে একটি তাবীজ কেটে ফেলল, সে একটি গোলাম আযাদ করার ছাওয়াব পেল। সাঈদ বিন জুবায়েরের এই কথাটি নবী (সাঃ) হতে বর্ণিত মারফু হাদীছের পর্যায়র্ভূক্ত।

০৯). উকবা বিন আমের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি: من تعلق تميمة فلا أتم الله له ومن تعلق ودعة فلا ودع الله له. (أحمد وحاكم) ‘যে ব্যক্তি তাবিজ লটকালো, আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দেবেন না, আর যে কড়ি বহার করবে, আল্লাহ তাকে মঙ্গল দান করবেন না।’ আহমদ, হাকেম।

১০). উকবা বিন আমের আল-জোহানি রাদিআল্লাহু আনহু বলেন : أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أقبل إليه رهط فبايع تسعة وأمسك عن واحد فقالوا يا رسول الله بايعت تسعة وتركت هذا قال: إن عليه تميمة فادخل يده فقطعها فبايعه وقال من علق تميمة فقد أشرك. (أحمد وحاكم) ‘একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে একদল লোক উপস্থিত হল। তিনি দলটির নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার সাথে তাবিজ রয়েছে। অতঃপর তিনি স্বহস্তে তা ছিড়ে ফেললেন এবং তাকে বায়আত করলেন, আর বললেন, যে ব্যক্তি তাবিজ ব্যবহার করল সে শিরক করল।’ সহিহ মুসনাদে আহমদ, হাকেম।
.
❑ কুরআন-হাদিসের তাবিজ
.
কুরআন-হাদিসের তাবিজ সম্পর্কে আলেমগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন। পূর্বোক্ত দলিলের ভিত্তিতে একদল আলেম বলেন, কুরআন-গায়রে কুরআন সর্বপ্রকার তাবিজ শিরক। কতক আলেম বলেন, কুরআন-হাদিসের তাবিজ বৈধ। তারা দলিল হিসেবে আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর ব্যক্তিগত আমল পেশ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন ঘুমে ঘাবড়ে যায়, তার বলা উচিত:
«أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ، فَإِنَّهَا لَنْ تَضُرَّهُ»
“আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহ দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তাঁর গজব ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানসমূহের কুমন্ত্রণা ও তাদের উপস্থিতি থেকে”।[14]
ইমাম তিরমিযি রহ. বলেন: “হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর সম্পর্কে আছে, তিনি তার সাবালক বাচ্চাদের দোয়াটি শিক্ষা দিতেন, আর যারা সাবালিগ হয়নি কাগজে লিখে তাদের গলায় দোয়াটি ঝুলিয়ে দিতেন”।[15]
ইমাম আবু দাউদ রহ. বলেন, “আব্দুল্লাহ বিন আমের বর্ণিত হাদিসের সনদ মুহাদ্দিসদের নিকট বিশুদ্ধ নয়। বিশুদ্ধ মানলেও এটা তার ব্যক্তিগত আমল, অসংখ্য সাহাবির বিপরীত তার ব্যক্তিগত আমল দলিল যোগ্য নয়।
ইমাম শাওকানি রহ. বলেন: এ হাদিসের সনদে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক রয়েছে, তার সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের অভিযোগ প্রসিদ্ধ।
আলবানি রহ. বলেন, হাদিসের শেষাংশ: আব্দুল্লাহর ঘটনা ব্যতীত অবশিষ্টাংশ সহি”।[16]
অতএব আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নিজের নাবালিগ বাচ্চাদের গলায় দোয়াটি লিখে ঝুলাতেন কথাটি সঠিক নয়।
____________
.
.
❑ তাবিজ কোন প্রকার শিরক

উক্ত আলোচনার পর তাবিজ ত্যাগ করার জন্য কারো ফতোয়ার প্রয়োজন হয় না, তাবিজ ব্যবহার করা ছোট-শিরক, না বড় শিরক। কুরআনুল কারিমের তাবিজ ব্যবহার করা কারো নিকট শিরক, কারো নিকট শিরক নয়, কুরআন ব্যতীত অন্যান্য তাবিজ সবার নিকট শিরক। যারা বলেন কুরআনের তাবিজ শিরক নয়, তাদের নিকট তাবিজ ত্যাগ করার কারণে কেউ গুনাগার হবে না, কিন্তু যারা শিরক বলেন, যদি তাদের ফতোয়া ঠিক হয়, তাহলে তাবিজ ব্যবহারকারীর পরিণতি কী হবে!?
.
অতএব তাবিজে কোনো কল্যাণ নেই। বর্তমান মুসলিমদের শরীরে যে, তাবিজ-কবচ, মাদুলি-কড়ি, শামুক-ঝিনুক, প্রাণীর হাড়, গাছের ছাল, তামা-লোহা-সুতা-রাবার-তাগা ও অন্যান্য ধাতব বস্তু দেখা যায়, আবার কখনো জীব-জন্তুর শরীরে, ঘরের খুঁটি ও গাছের ডালে; মাটির ভিতর ও বিছানার নিচে এসব বস্তু পুঁতে রাখতে দেখা যায়, তার অধিকাংশই তাবিজের রূপে মুসলিম সমাজে প্রবেশ করেছে,এতে সন্দেহ নেই। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মাদুলি, তাবিজ ও তাগা ইত্যাদি কতক অমুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতীক ছিল। আল্লাহ মুসলিম সমাজকে এসব বস্তু থেকে পবিত্র করুন।
____________
.
.
❑ চিকিৎসা পদ্ধতি, শরয়ী ঝাড়-ফুঁক ও তাবিজের পার্থক্য
.
আল্লাহ তা‘আলা রোগ নাযিল করেছেন, রোগের সাথে ওষুধও নাযিল করেছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«مَا أَنْزَلَ اللَّهُ دَاءً إِلَّا أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً »
“আল্লাহ কোনো রোগ নাযিল করেননি, তবে অবশ্যই তার জন্য আরোগ্য নাযিল করেছেন”।[17]
.
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ فَإِذَا أُصِيبَ دَوَاءُ الدَّاءِ بَرَأَ بِإِذْنِ اللَّهِ »
“প্রত্যেক রোগের জন্য ওষুধ রয়েছে, যখন রোগের সাথে ওষুধের মিল হয়, আল্লাহর ইচ্ছায় আরোগ্য লাভ হয়”।[18]
.
ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«إِنَّ اللَّهَ لَمْ يُنْزِلْ دَاءً إِلا أَنَزَلَ مَعَهُ دَوَاءٌ، جَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ، وَعَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ»
“নিশ্চয় আল্লাহ কোনো রোগ নাযিল করেননি, তবে অবশ্যই তার সাথে ওষুধ নাযিল করেছেন, যে জানতে পারেনি সে জানেনি, আর যে জানতে পেরেছে সে জেনেছে”।[19]
.
উসামাহ ইবনে শারিক বলেন, গ্রামের লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা চিকিৎসা গ্রহণ করব না? তিনি বললেন:
«نَعَمْ يَا عِبَادَ اللَّهِ، تَدَاوَوْا، فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلَّا وَضَعَ لَهُ شِفَاءً، أَوْ قَالَ: دَوَاءً، إِلَّا دَاءً وَاحِدًا، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا هُوَ؟ قَالَ: الْهَرَمُ»
“অবশ্যই হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর, কারণ আল্লাহ কোনো রোগ রাখেননি, তবে অবশ্যই তার জন্য নিরাময় রেখেছেন, অথবা বলেছেন: ওষুধ রেখেছেন, তবে একটি রোগ ব্যতীত, তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, সে রোগটি কী? তিনি বললেন: বার্ধক্য”।[20]
.
অবশ্য কোনো হারাম বস্তুতে আল্লাহ্‌ তার বান্দাদের জন্য আরোগ্য রাখেননি। উম্মে সালামাহ বলেন, আমার এক মেয়ে অসুস্থ হয়েছিল, আমি একটি পাত্রে তার জন্য ‘নাবিজ’[21] তৈরি করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন পাতিলটি উতরাতে ছিল, তিনি বললেন: এটা কী? উম্মে সালামাহ উত্তর দিলেন: আমার মেয়েটা অসুস্থ, আমি তার জন্য ইহা তৈরি করছি। তিনি বললেন:
«إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَجْعَلْ شِفَاءَكُمْ فِي حَرَامٍ»
“নিশ্চয় আল্লাহ হারাম বস্তুতে তোমাদের আরোগ্য রাখেননি”।[22]
.
অতএব আল্লাহ তা‘আলা রোগের জন্য আরোগ্য রেখেছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই, তবে আরোগ্য লাভের জন্য অবশ্যই হালাল বস্তু ও বৈধ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।
____________
.
.
● বৈধ চিকিৎসা দু’প্রকার:

১. কুরআনুল কারিম বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস দ্বারা প্রমাণিত বিভিন্ন বস্তুর গুণাগুণের ভিত্তিতে চিকিৎসা করা; অনুরূপ কুরআন বা হাদিসের দোয়া দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা, এ জাতীয় তদবিরকে নববী চিকিৎসা ও শরয়ী ঝাড়-ফুঁক বলা হয়; যার বর্ণনা হাদিসের কিতাবে রয়েছে। এ জাতীয় চিকিৎসা দ্বারা আল্লাহর ইচ্ছায় বান্দা আরোগ্য লাভ করে।
.
২. জেনারেল চিকিৎসা তথা বস্তুর গুণাগুণ ও তার প্রভাবের উপর পরিচালিত গবেষণার ভিত্তিতে চিকিৎসা করা। বস্তুর প্রভাব স্পষ্ট ও উপলব্ধি করা যায়, যেমন কেমিক্যাল দ্বারা তৈরি ওষুধের প্রভাব। এ জাতীয় চিকিৎসা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ। কারণ, এ চিকিৎসা গ্রহণ করার অর্থ আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া, তিনি এতে কিছু গুণাগুণ রেখেছেন, তবে আল্লাহ যখন ইচ্ছা তা বাতিলও করতে পারেন, যেমন ইব্রাহিম ‘আলাইহিস সালামের জন্য প্রজ্বলিত অগ্নির দাহন ক্রিয়া বাতিল করেছিলেন।
.
পক্ষান্তরে তাবিজ-কবচ ও অন্যান্য জড়-বস্তু শরীরে ঝুলানোর ফলে কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না, গবেষণার দ্বারা তার ক্রিয়া প্রমাণিত হয়নি এবং কুরআন-হাদিসে তার স্বীকৃতি নেই। যেমন ভাত খেলে খিদে নিবারণ হয়, কিন্তু পেটের উপর ভাত রেখে খিদে নিবারণের আশা করা মিথ্যা। শরয়ী ঝাড়-ফুঁক ও ওষুধের চিকিৎসা ভাত খাওয়ার ন্যায়, আর তাবিজের চিকিৎসা পেটের উপর ভাত রেখে খিদে নিবারণের চেষ্টা করার ন্যায়।
.
তাবিজ-কবচ ও এ জাতীয় জড়-বস্তুকে আল্লাহ তা‘আলা রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তির উপায় করেননি, আবার তার উপকারিতা মানুষের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত নয়। বাহ্যিকভাবে তার প্রভাব দেখা যায় না, অনুভবও করা যায় না। তাই অনেকে বলেন, এসব বস্তুর ওপর ভরসা করার অর্থ মুশরিকদের ন্যায় মৃত ব্যক্তি ও মূর্তির ওপর ভরসা করা; যা শুনে না-দেখে না, উপকার বা অপকারের ক্ষমতা রাখে না, অথচ তারা ভাবে এগুলো তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে, অথবা তাদের থেকে অকল্যাণ প্রতিহত করবে।
____________
.
.
ফুটনোটঃ
.
[1] অহেনা অর্থ এক প্রকার হাড়, যার অংশ বিশেষ তাবিজে ব্যবহার করা হয়।
[2] মুসনাদে আহমদ: (১৯৫৪৯), নাসায়ী: (৯/৩৪৯), ইবনে মাজাহ: (৩৫৩১), ইবনে হিব্বান: (৬২২২), হাদিসটি সহিহ্।
[3] তামিমার সংজ্ঞা: রোগ-ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ অথবা বদ-নজর প্রতিরোধ অথবা সম্ভাব্য কোনো অনিষ্ট দূর করার জন্য শরীরে ঝুলানো বস্তুকে তামিমাহ বলা হয়, হোক সেটা কড়ি, অথবা লাকড়ি, অথবা তাগা, অথবা কাগজ কিংবা কোনো বস্তু। ইসলাম পূর্বযুগে বদ-নজর থেকে সুরক্ষা এবং গৃহ-পালিত পশু-পাখী ও দুষ্ট প্রাণীকে বশ করার জন্য, কখনো আত্মরক্ষার জন্য মুশরিকরা তামিমাহ গলায় বা শরীরের কোনো অংশে ঝুলাত। তাদের বিশ্বাস ছিল, তাকদির প্রতিরোধ ও অনাগত অনিষ্ট দূর করার ক্ষমতা রাখে তামিমাহ। তারা কখনো তামিমাহ দ্বারা গায়রুল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করত, যা ছিল সরাসরি শিরক ও তাওহীদ পরিপন্থী। ইসলাম তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
[4] আহমদ: (১৬৯৫১), হাকেম: (৪/২১২), মুসনাদে আবি ইয়ালা আল-মুসিলি: (১৭৫৯)
[5] সহি মুসনাদে আহমদ: (১৬৯৬৯), সহি হাদিস সমগ্র : (৪৯২), হাকেম।
[6] ইউসুফ: (১০৬) তাফসিরে ইবনে কাসির।
[7] বুখারি: (৩০০৫), মুসলিম: (২১১৮)
[8] সুনানে নাসায়ী সুগরা: (৩৫৬৫), মুসনাদে আহমদ: (১৮৫৫২)
[9] রুকা অর্থ নিষিদ্ধ ঝাড়-ফুঁক, আউনুল মাবুদ, হাদিস নং: (৩২৭২)
[10] আসমায়ি বলেন: তিওয়ালাহ: একপ্রকার যাদু, স্বামীর নিকট স্ত্রীকে প্রিয় করার জন্য যার ব্যবহার করা হয়। মোল্লা আলি কারি বলেন: ‘তিওয়ালাহ’ একপ্রকার যাদু, অথবা যাদুর মন্ত্র পাঠ করা তাগা, অথবা কাগজ, তাতে মহব্বত সৃষ্টির মন্ত্র পাঠ করা হয়। আউনুল মাবুদ, হাদিস নং: (৩২৭২)
[11] আবু দাউদ: (৩৮৮৩), আহমদ: (৩৬০৪), ইবনে হিব্বান: (৬০৯০), ইবনে মাজাহ: (৩৫৩০), সহি হাদিস সমগ্র: (১৩১)
[12] মুসলিম : (২২০২), ইবনে হিব্বান: (৬০৯৪)
[13] ফতহুল মজিদ।
[14] আহমদ : (১৬১৩৭), তিরমিযি : (৩৫২৮), আবু দাউদ: (৩৮৯৩)
[15] তিরমিযি: (৩৫২৮), আহমদ: (৬৬৫৭) এ হাদিস সহি হলে সাবালিগ বাচ্চা কিংবা বড়দের গলায় তাবিজ ঝুলানো বৈধ প্রমাণ হয় না, শুধু বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বৈধ বলা যায় তাও যারা দোয়া পড়তে পারে না।
[16] সহি তিরমিযি: (৩৫২৮), সহি হাদিস সমগ্র: (১/৫২৯), আত-তালিক আলা-মুসনাদি আহমদ: (১১/২৯৬), ‘আন-নাহজুজ সাদিদ’ লিদ-দুসারি: (১১১)
[17] বুখারি: (৫৬৭৮),
[18] মুসলিম: (২২০৬)
[19] সহি ইবনে হিব্বান: (১৩/৪২৭)
[20] তিরমিযি: (২০৩৮)
[21] আঙ্গুরের রস দ্বারা তৈরি নেশা জাতীয় পানীয়।
[22] সহি ইবনে হিব্বান: (১৩৯১), আস-সুনানুস সাগির লিল-বায়হাকি: (৪৩২৪), হাকিম: (৪/৪০৭)
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
:
সংকলন: সানাউল্লাহ নজির আহমদ
সূত্র: ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব
:
:
সুন্নাহ্
অতএব যে সকল নামধারী আলেম তাবিজ দিয়ে থাকেন তাদের থেকে নিরাপদ দূরততে থাকুন।

সন্তানকে নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলার ১০টি কার্যকরী উপায় -জেনে নিন !

আমরা মুসলিম। আর এই কারণেই নামাজ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এই নামাজের মাধ্যমেই আমরা নিজেদেরকে আল্লাহর সামনে পেশ করতে পারি। তাছাড়াও নামাজ হচ্ছে ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মাঝে দ্বিতীয় স্তম্ভ।

ইসলামের প্রথম স্তম্ভ হচ্ছে কালেমা শাহাদাত। সুতরাং আমারা আমাদের সন্তানদেরকে এই গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভটি আদায়ের প্রতি অনুপ্রেরণা দিতে পারি এবং তাদেরকে নামাজ পড়তে অভ্যস্ত করে তুলতে পারি। আমরা সবাই চাই তারা নিজেরাই নামাজ পড়তে শিখুক এবং দোয়া করতে শিখুক।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন…
এগুলো তারা বাবা-মার জন্য বাধ্য হয়ে করুক এটা কেউই চায় না। একজন সন্তানকে আগে বুঝতে হবে যে ‘ইবাদাত’ হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আরোপিত একটি বিষয় এটা ইচ্ছা বা স্বাধীনভাবে পালন করার কোন বিষয় নয়। নিম্নে এমন কিছু পথ উল্লেখ করছি যার মাধ্যমে আপনি আপনার সন্তানকে নামাজ পড়ার প্রতি উৎসাহিত করতে পারবেন।

১. উদাহরণের মাধ্যমে শেখানো : শিশু সন্তানরা সাধারণত মা-বাবার অনুকরণ করে থাকে। সুতরাং তাদেরকে দেখান যে আজান শুনার সাথে সাথে আপনি অজু করে নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মুসলিম মা-বাবা হিসেবে আপনি আপনার সন্তানের কাছে প্রথম উদাহরণ। আপনি যদি সারা দিন ইবাদত-বন্দেগীকে অগ্রাধিকার দেন এবং এই ক্ষেত্রে কোন অলসতা বা অবহেলা না করেন তাহলেই আপনার সন্তান নামাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। আপনি তাদেরকে বলতে পারেন, নামাজের সময় হয়ে গেছে এখন আমি আর দেরি করতে পারবো না।

২. ছোট থেকেই শুরু করুন : আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে নামাজ শিক্ষা দাও, যখন তাদের বয়স থাকে সাত। আর যখন তারা দশ বছরে পৌঁছে যাবে তখন তোমারা তোমাদের সন্তানদেরকে নামাজের জন্য প্রহার করো। এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও (আবু দাউদ) যদিও সাত বছর বয়সে শিশুরা নামাজ আদায় করতে বাধ্য নয় কিন্তু তারা সাত বছর থেকে নামাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে, তরুণ হওয়ার পরেও নামাজের বিষয়ে অনাগ্রহী হবে না।

৩. সন্তানের জন্য নামাজের জায়গা নির্ধারণ করে দিন : আপনার বাসায় যদি জায়গা থাকে তাহলে নামাজের জন্য একটি রুমকে নির্দিষ্ট করে রাখুন। আর যদি অতিরিক্ত জায়গা না থাকে তাহলে অন্তত একটি রুমের এক কোণায় সামান্য জায়গা নামাজের জন্য নির্ধারণ করে রাখুন। যাতে করে আপনার সন্তান বুঝতে পারে নামাজ পড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। যার কারণে একটা নির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছে। আপনার সন্তানদেরকে শিক্ষা দিন যে, এটা শুধু নামাজের জন্য নির্ধারিত জায়গা। এই জায়গাকে সব সময় পরিষ্কার ও পবিত্র রাখতে হবে।

৪. সন্তানদের চাক্ষুষ বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিন : ছোটরা চক্ষুষ বিষয় ও পুরস্কারের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে থাকে। আপনার বাসায় ইসলামী ক্যালেন্ডার ঝুলিয়ে রাখুন। এটা আপনার সন্তানদের প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করবে। কেননা ইসলামী ক্যালেন্ডারটি আপনার সন্তানের চাক্ষুষ অনুস্মারক হিসাবে কাজ করবে। আর প্রতিটি শুক্রবার তাকে স্মরণ করিয়ে দিন।

৫. টাইম ম্যানটেইন : যখন আপনার সন্তানের বয়স সাত হয়ে যাবে তখন তাদেরকে নামাজের সময় শিক্ষা দিন। তাদের জীবনের এই নতুন অধ্যায়কে উৎসাহিত করার জন্য আপনার সন্তানের বন্ধুদের বাসায় আমন্ত্রণ জানান এবং তাদেরকে হিজাব, তাজবিহ অথবা আজান দেয় এমন এলার্ম ঘড়ি প্রদান করুন যাতে করে তারা নামাজ আদায় করতে পারে।

৬. আল্লাহ সম্পর্কে তাদেরকে শিক্ষা দিন : আল্লাহর বিষয়টি বোঝা ছাড়া, প্রার্থনা শুধু একটি অনুষ্ঠান হয়ে উঠবে এবং পালনকর্তার সাথে আধ্যাত্মিক এবং মানসিক সংযোগের অভাব হয়ে পরবে। শৈশব থেকে, আপনার সন্তানদের আল্লাহর বিষয়ে শিক্ষা দিন। আল্লাহ কীভাবে কীভাবে সবকিছু তৈরি করেছেন। তাদেরকে কি কি দিয়েছেন এবং তাদেরকে কীভাবে রক্ষা করবেন ইত্যাদি বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলুন। এর মাধ্যমে আপনার সন্তানদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি এক গভীর ভালোবাসা তৈরি হবে।

৭. নবীদেরকে তাদের জন্য মডেল হিসাবে তুলে ধরুন : নবীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাসায় কথা বলুন। তাদের জীবনী পাঠ করুন এবং তাদের সিরাত নিয়ে কথা বলুন। এটা আপনার জীবনে দৈনিক একটা রুটিন বানিয়ে নিন। নবীদেরকে তাদের সামনে মডেল হিসেবে তুলে ধরুন। তাহলে তারা তার মতো হতে চেষ্টা করবে। এবং তাদের মতো ইবাদত করতে চেষ্টা করবে।

৮. ছোট ধাপ : এটা একটা নাটকীয় পরিবর্তন হতে পারে, যে একদমই নামাজ পরে না সে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে। তো শুরু হোক এই ছোট পরিবর্তন দিয়ে।

৯. অটুট থাকুক : আমরা সব সময়ই চাই আমাদের সন্তানরা নামাজকে ভালোবাসুক। কিন্তু এমন সময়ও আসবে যে, তারা অলসতা করবে এবং নামাজ পড়তে চাইবে না। মা-বাবা হিসেবে তাদের দায়িত্ব হবে তারা যেন সব সময়ই নামাজ পড়ে সেই ব্যবস্থা করা। বিশেষত তাদের বয়স যখন দশ বছর হয়ে যায়। তখন নামাজ ছেড়ে দেওয়া কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। নামাজ পড়ার বিষয়টা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেলে কঠিন কিছু নয়।

১০. পারিবারিক সময় : নামাজ একটি ইতিবাচক মনোভাব, এটাকে উৎসাহিত করার একটি উপায় হচ্ছে এটি নিয়ে একটি যৌথ অনুশীলন করতে হবে। প্রতিদিন পরিবারিকভাবে কমপক্ষে একবার নামাজ পড়ার চেষ্টা করুন। আপনার সন্তান যদি আজান দিতে সক্ষম হয় তাহলে তাকে আজান দেওয়ার দায়িত্ব দিন। যদি সম্ভব হয় তাহলে শুক্রবারের নামাজে এবং ঈদের নামাজে আপনার সন্তানদের নিয়ে এক সাথে যান। একসঙ্গে নামাজ পড়ার বিষয়টা একটু ভিন্ন বিষয়। এতে নিজেদের মনোবল বৃদ্ধি পায়।

শীতের রাতে ১ চামচ মধু!

আমরা জানি, মধু এমন একটি উপকারী জিনিস যার গুনাগুন বর্ননা করে শেষ করে যাবে না। বিশেষ করে শীতের দিনে মধু আরো বেশি উপকারী। সাধারণত শীতকালে সর্দি-কাশি বেশি হয়। এ সময় গলা খুসখুস, ব্যথাসহ আরও অনেক রকম অসুখ-বিসুখে মধু খেলে উপকার পাওয়া যায়। শত শত বছর আগে থেকেই এই প্রাকৃতিক ওষুধের গুণ মানুষ জানে। প্রাচীন গ্রিক ও মিসরীয়রা ওষুধ হিসেবে মধু খেত। ভারতের আয়ুর্বেদ ও চীনের প্রাচীন চিকিত্সাশাস্ত্রে মধুর ব্যবহার দেখা যায়। মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি, অ্যামিনো অ্যাসিড ও খনিজ পদার্থ। এটা ঘন বলে গলা ফোলা ও ব্যথায় আরামদায়ক একটি প্রলেপের মতো কাজ করে। মধু ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, পেটের আলসার ভালো করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। জেনে নিন মধুর কিছু ব্যবহার:

১. সামান্য সর্দি-কাশিতে আমরা সাধারণত তুলসীপাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাই। এতে উপকার পাওয়া যায়। কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে কাশির প্রকোপ কমে। তবে এক বছরের কম বয়সী ছোট বাচ্চাদের মধু খাওয়াবেন না। কারণ, মধুতে ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামের রেণু থাকে। বয়স্কদের অন্ত্রে এগুলো বংশবিস্তার করতে পারে না, কিন্তু খুব ছোট বাচ্চাদের পেটে বেড়ে উঠে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

২. শরীরের কোথাও সামান্য কাটাছেঁড়া থাকলে মধুর প্রলেপ দেওয়া যায়। মধুতে উঁচু মাত্রার জীবাণুনাশক উপাদান থাকায় সহজে সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হয়। মৌমাছি ফুল থেকে যে মধু সংগ্রহ করে তাতে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পানি থাকে। ওরা নিজেরা কিছু রস খেয়ে বাকিটা মৌচাকে জমা করে। সূর্যতাপে পরিশোধিত হয়ে মধু বিভিন্ন গুণ অর্জন করে। এর জলীয় অংশও অনেক কমে যায়। ফলে কাটাছেঁড়া স্থানে মধুর প্রলেপ দিলে প্রথমে সেখান থেকে জলীয় অংশ শুষে নেয় ও বাইরের জলীয় পদার্থ ঢুকতে দেয় না। জলীয় অংশ না থাকলে ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু বাঁচতে পারে না। এভাবে মধু ক্ষত সারাতে সাহায্য করে।

৩. রাতে শোয়ার ঘণ্টা দুয়েক আগে কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে ভালো ঘুম হয়।

৪. তবে একটানা বেশি দিন মধু খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। মাঝে বিরতি দিয়ে বছরের বিভিন্ন সময় মধু খাওয়া যেতে পারে।

৫. গ্যাস্ট্রিক-আলসারে মধু উপকারে আসে। ১০০ গ্রাম কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল-চামচ মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৬. মধু ঠোঁটের ওপরের শুষ্ক ত্বক ও কালচে ভাব দূর করে ঠোঁটকে নরম ও গোলাপি করে তুলতে সহায়তা করে। রাতে ঘুমের পূর্বে নিয়মিত ঠোঁটে মধু লাগান। ঠোঁট হয়ে উঠবে নজর কাড়া সুন্দর।

এছাড়া মধু একটি সুন্নতি খাবার। রাসূল (সাঃ) এর কাছে মধু খুব পছন্দের জিনিস ছিল।

দেখুন জাহান্নামী নারীদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ( বিস্তারিত ভিডিওতে )

দেখুন জাহান্নামী নারীদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
নিজেরা সতর্ক হোন এবং আমাদের বিপদগামী মা-বোনদের বাঁচাতে শেয়ার করুন

আপনার কি হাত ঘামে, তাহলে সমাধান জেনে নিন

এই সমস্যা বেশ অস্বস্তিকর আর বিরক্তিকরও বটে।

কারও সঙ্গে হাত মেলাতে গেলে, টাইপ করার সময় বা বিভিন্ন কাজে অনেকেরই হাত ঘামার সমস্যা আছে। বার বার হাতের তালু ঘেমে ভিজে পিচ্ছিল হয়ে কাজ করতেও সমস্যা হয়।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে ঘরোয়া পদ্ধতিতে হাতের তালুর ঘাম নিয়ন্ত্রণের উপায় সম্পর্কে জানানো হয়।বেকিং সোডা ও বেবি পাউডার

হাতের তালুতে ঘাম হওয়া কমাতে বেকিং সোডা ও বেবি পাউডার বেশ কার্যকর। এক্ষেত্রে কুসুম গরম পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে ১০ মিনিট হাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। বেকিং সোডার ক্ষারীয় উপাদান তালুর ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে হাত শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বেবি পাউডার দুর্গন্ধ দূর করতে কাজ করে।

টমেটোর রস

টমেটোর রস ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। এটি ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে আর ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন একবার টমেটোর রস পান করুন। এক সপ্তাহ পর খেয়াল করবেন তালুতে ঘাম হওয়া কমে গেছে। সাধারণত খনিজ বা ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে ঘাম বেশি হয়। আর টমেটোতে আছে পটাশিয়াম ও ম্যাগনিসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান। তাই নিয়মিত টমেটোর রস পান করলে হাতের তালু থাকবে সতেজ ও শুষ্ক।

জিঙ্ক

জিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ যা স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া ঘাম এবং দুর্গন্ধ রোধ করতে জিঙ্ক বেশ কার্যকার। এক্ষেত্রে সহায়ক খাবার হিসেবে ডাক্তারের পরামর্শে দিনে ৩০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম জিঙ্ক ট্যাবলেট খেতে পারেন। অথবা প্রতিদিন সকালে জিঙ্ক অক্সাইড পাউডার হাতের তালু ঘষলেও উপকার পাওয়া যাবে।

পাশাপাশি কপার সমৃদ্ধ খাবার খেতে ভুললে চলবে না কারণ জিঙ্ক শরীরে কপারের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

রোজমেরি

রোজমেরি একটি ভেষজ উপাদান। যা স্নায়ুতন্ত্রের উপর কার্যকর‌ভাবে প্রভাব ফেলে। আর স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণে থাকলে ঘামের পরিমাণও কম হয়। তাছাড়া রোজমেরি হালকা সেডাটিভ হিসেবেও পরিচিত। সাধারণত উত্তেজিত হলেই ঘাম বেশি হয়। তাই ঘামের সমস্যা কমাতে শান্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।

সাধারনত অ্যারোমাথেরাপির তেল, মোমবাতি, শ্যাম্পু ইত্যাদি পণ্যে রোজমেরি ব্যবহার করা হয়। রোজমেরি ইসেনশল অয়েল সঙ্গে রাখতে পারেন, হাত ঘামা শুরু হলেই এই তেলের গন্ধ নিন, কাজে দেবে।

জেনে নিন ইসুবগুলের ভুষির ১১টি উপকারিতা?

ইসুবগুলের ভুষি তৈরি হয় Plantago Ovate গাছের বীজ থেকে। এটি একটি প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ। প্রতি ১০০ গ্রাম ইসুবগুলের ভুষিতে রয়েছে ৭১ গ্রাম দ্রবণীয় ডাইটারি ফাইবার।
১। কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করেঃ ইসুবগুলের ভুষি পাকস্থলীতে পানির সংস্পর্শে আসা মাত্র জেল তৈরি করে ও স্টুলের ভলিউম বৃদ্ধি করে কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করে।
২। পেটের সমস্যা দূর করেঃ পাকস্থলী ঠাণ্ডা বা শীতল রাখতে ও হজমের সমস্যা দূর করতে ইসুবগুলের তুলনা নেই। পেটব্যথার উপশম করে ইসুবগুলের ভুশির শরবত। এছাড়াও আই বি এস এর সমস্যা সমাধানে ভাল ফল দেয় ইসুবগুলের ভুষি। যারা আমাশয়ে ভুগছেন, তাদের জন্যও ইসবগুল ভালো। যারা আমাশয়ে ভুগছেন, তাদের জন্যও ইসবগুল ভালো।
৩। ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ আহার গ্রহণের ৩০ মিনিট পূর্বে ১০ গ্রাম ইসুবগুলের ভুষি এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খেলে, খাওয়ার সময় অতিরিক্ত খদ্য গ্রহণের ইচ্ছা প্রশমিত করে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রনে থাকে।
৪। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ ইসুবগুলের ভুষি একটি হাইপোকোলেস্টেরলিক ফুড, যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের (HDL) পরিমাণ কমায় ও ভাল কোলেস্টেরলের (HDL) পরিমাণ বাড়ায়। এছাড়াও এটি রক্তে ট্রাই-গ্লিসারাইডের পরিমাণ কমায়। ফলে হৃদরোগ ঝুঁকি কমে।
৬। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখেঃ ইসুবগুলের মাত্রাধিক দ্রবণীয় ডাইটারি ফাইবার আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্রের খাদ্য শোষণ ভিলাইয়ের উপর এক জালকের সৃষ্টি করে ফলে ধীরে ধীরে রক্তে গ্লুকোজ শোষিত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে থাকে।
৭। ডাইরিয়া কমাতেঃ ডাইরিয়ার সময় ইসুবগুলের ভুষি ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে অতিরিক্ত পানি শুষে নেয় ও স্টুলকে ঘন করে ও বারা বার টয়লেটে যাওয়া থেকে বিরত রাখে।
৮। অর্শরোগেঃ কোষ্ঠবদ্ধতা অর্শরোগের প্রধান কারণ। তাই অর্শরোগীরা নিয়মিত ইসুবগুলের ভুষি খেলে ভাল উপকার পাবেন।
৯। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়াঃ যেকোনো কারণে প্রস্রাব হলুদ হয়ে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হলে, ইসবগুলের ভুসি তা সারাতে সাহায্য করে।
১০। যৌনতা বৃদ্ধি করতেঃ প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধের সাথে মধু ও ইসুবগুলের ভুষি মিশিয়ে শরবত তৈরি করে খেলে যৌনতা বৃদ্ধি পায়।
১১। হাত পা জ্বালাপোড়াঃ মাথা ঘোরা বা হাত- পা জ্বালাপোড়া হলে এক গ্লাস আখের গুড়ের শরবতের সাথে ইসবগুলের ভুসি মিশিয়ে খেলে ভাল উপকার পাওয়া যায়।

রাসুল (সাঃ) এর সাথে একসঙ্গে জান্নাতে যেতে চান,তাহলে আমল করুন এই দোয়াটি !!

হজরত মুনজির [রা.] বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে এ দোয়াটি পড়বে আমি তার দায়িত্ব নিলাম, কেয়ামতের দিন আমি তাকে তার হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাব। [মুজামে কাবির-৮৩৮ মুজামুস সাহাবাহ-১৬৯৬]

বাংলা উচ্চারণ
রদিতু বিল্লাহি রববাও ওয়া বিল ইসলামি দিনাও ওয়া বিমুহাম্মাদিন [সা.] নাবিইয়াও।

বাংলা অর্থ
আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট আমার প্রতিপালক হিসেবে এবং ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট আমার দীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সন্তুষ্ট আমার নবী হিসেবে।

মূল- হজরত মাওলানা ইউনুস বিন উমর পালনপূরী
অনুবাদ- মাওলানা মিরাজ রহমান

বাংলাদেশ ক্রিকেটের মধ্যমনি তিনি। বিশ্বের যারা ক্রিকেট বোঝেন তাদের কাছে পরিচিত নাম জাতীয় ওয়ানডে দলের এই অধিনায়ক। ইতোমধ্যে শেষ করেছেন ক্যারিয়ারের ১৬ টি বছর।যার প্রতিটি ক্ষণ ছিল স্মরণীয়।

এই ১৬ বছর ক্যারিয়ারে মাশরাফির ওয়ানডেতে সেরা বোলিং ফিগার ৬/২৬। অন্যদিকে টেস্টে ৪/৬০। দীর্ঘ এই ক্যারিয়ার জুড়ে কাঁচি-ছুরির নিচে গেছেন অন্তত সতবার। তবুও তিনি লড়ছেন আপন মনে। এ যেন জীবন্ত কিংবদন্তী, জীবন্ত যোদ্ধা।

এই মাশরাফিকে যারা চেনেন তাদের নিশ্চত মনে আছে ২০১১ বিশ্বকাপের কথা। বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০১১ বিশ্বকাপে মাশরাফিকে দলের বাইরে রেখেই স্কোয়াড় গড়েছিল নির্বাচক ও কোচ। টিম ম্যানেজম্যান্টের এমন সিদ্ধান্তে কেঁদেছিলেন জাতীয় দলের এই অধিনায়ক।

এ বিষয়ে দেশের প্রথম সারির একটি বেসরকারি টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মাশরাফি বলেছেন, ‘এটা আসলে ঠিক হয়নি। আমি সেদিন কেঁদেছিলাম। ভাবতেও পারিনি আমার সাথে এমনটা করবে। কারণ আমি সারাক্ষণই দলের সঙ্গে ছিলাম। প্যাকটিসেও এসেছিলাম নিয়মিত। বুঝতেই পারিনি কোচ ও টিম ম্যানেজম্যান্ট আমার সাথে এমনটা করবে।’

অদ্ভুত ব্যাপার হলো, বোর্ড কিংবা কোচের কাছ থেকে আগে থেকে বিষয়টা শুনেননি মাশরাফি। তাই তো তার কষ্টের মাত্রাটা কয়েন গুণ বেশিই। আসরটিতে পুরো সময় জুড়ে দলের বাইরে ছিলেন তিনি। কিন্তু তার আশা ছিল কোন না কোন ম্যাচে ফিরবেন। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।

সেসময় মাশরাফির বিরুদ্ধে কথা উঠেছিল তিনি ইনজুরিতে ভুগছেন, আনফিট। কিন্তু দল গঠনের আগেও মোহামেডানের হয়ে দুর্দান্ত খেলেছিলেন এবং ভালো বোলিং করেছিলেন। এ ব্যাপারে মাশরাফি বলেন, এই ঘটনা যাতে আর কোন প্লেয়ারের বেলায় না ঘটে। অন্তত তাকে খেলার আগে জানানো উচিত। শুধু আমি কেন, সে সময় এমন ঘটনা ঘটেছে অনেকের সঙ্গে।

জেনে নিনর পবিত্র কুরআনে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর গুণবাচক নামগুলো?

পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে অদ্যাবধি যে ব্যক্তিত্বের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে, যাকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে অসংখ্য ইতিহাস, রচনা, প্রবন্ধ, কবিতা ও গান,তিনি হলেন¬ মানবতার মহান পরম বন্ধু মহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাঃ। স্বয়ং আল্লাহরাব্বুল আলামিন তাঁর নামকে সুউচ্চ মিনারের সর্বোচ্চ চূড়ায় স্থান দিয়েছেন। আল কুরআনে তাঁর বিভিন্ন গুণবাচক নাম উল্লেখ করে তাঁকে মর্যাদার আরো উচ্চশিখরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি তোমার জন্য তোমার খ্যাতির কথা বুলন্দ করেদিয়েছি।” (সূরা আলাম নাশরাহঃ ৪) এমনকি আল্লাহ তায়ালা তাঁর অসীম ক্ষমতা বলে কাফেরদেরমাধ্যমে তাঁর আলোচনাকে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন।

নিম্নেআল কুরআনে আলোচিতবিভিন্ন গুণবাচক নাম আলোচনা করা হলোঃ

১. মুহাম্মদঃ আল কুরআনে এনামটি চার বার এসেছে। যথাঃ সূরা আলে ইমরানঃ ১৪৪, সূরা আহজাবঃ ৪০, সূরা মুহাম্মদঃ ২,সূরা আল ফাতাহঃ ২৯। মুহাম্মদ অর্থ প্রশংসিত।

২. আহমাদঃ আহমাদ নামটি আল কুরআনে শুধু একবার সূরা সফে এসেছে।আহমাদ শব্দের দু’টি অর্থ। এক. ‘অধিক প্রশংসিত’, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যিনিসবচেয়ে বেশি প্রশংসার যোগ্য। দুই. আল্লাহর সর্বাধিক প্রশংসাকারী। ‘আর স্মরণ করোঈসা ইবনে মারিয়ামের সেই কথা যা তিনি বলেছিলেনঃ ‘হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছেআল্লাহর প্রেরিত রাসূল। আমি সেই তাওরাতের সত্যতা প্রতিপাদনকারী যা আমার আগে এসেছেএবং একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম ‘আহমাদ’। (সূরা সফ)

৩. নবীঃ ‘নাবা’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ সংবাদ। রাসূল সাঃ আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর বাণী পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। কোন পথেমানুষের মুক্তি এবং কোন পথে শয়তান ফাঁদ পেতে বসে আছে তার সংবাদবাহক রাসূল সাঃঅসংখ্য পথ ও মতের মধ্যে তিনি সঠ িক পথের সংবাদবাহক।

৪. রাসূলঃ দূত বা বার্তাবাহক। (হে নবী) ‘আমি তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (সূরা নিসাঃ ৭৯) মানুষের শিক্ষা ও হিদায়াতের জন্য তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন বার্তাবাহক ছাড়া আর কিছু নহেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘(হে নবী) তুমি বলে দাও, আমি তোমাদেরই মতো মানুষ। আমি তো মানুষরাসূল ছাড়া কিছুই নই।’

৫. মুয্‌যাম্মিলঃ চাঁদর আবৃতব্যক্তি। ‘হে চাদর আবৃতকারী, রাত্রির কিয়দংশ জাগো, অর্ধেক রাত্রি অথবা তার চেয়েকিছু কম অথবা কিছু বেশি এবং তারতিলের সাথে কুরআন তেলাওয়াত করো। নিশ্চয় আমি তোমারওপর গুরুভার দায়িত্ব অর্পণ করেছি।’ (সূরা মুয্‌যাম্মিলঃ ১)

৬. মুদ্দাসসিরঃ বস্ত্র মুড়িদিয়ে শয়নকারী। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে বস্ত্র মুড়ি দিয়ে শয়নকারী, ওঠো এবং সাবধানকরে দাও, তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো, তোমার পোশাক পবিত্র রাখো,অপবিত্রতা থেকে দূরে থাক।’ (সূরা মুদ্দাস্‌সিরঃ ১-৫)

৭. শাহিদঃ সাক্ষ্যদানকারী। ‘হে নবী নিশ্চয়ই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা।’ (সূরা আহজাবঃ৪৫) অর্থাৎ আল্লাহর শিক্ষা ও হিদায়াতের সাক্ষ্যদানকারী, ইসলামের রূপরেখা বা চিত্রেরজ্বলন্ত নমুনা।

৮. বাশির ও মুবাশ্বিরঃ সুসংবাদদানকারী। তিনি সৎকর্মশীলদের কল্যাণ ও সৌভাগ্যের সুসংবাদদানকারী। ‘হে নবীনিশ্চয়ই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সুসংবাদদানকারী হিসেবে।’ (সূরা আহজাবঃ ৪৫) প্রকৃতইরাসূলুল্লাহ সাঃ-এর পয়গাম ছিল মানবজাতির জন্য অনেক বড় সুসংবাদ।

৯. মুনজির ও নাজিরঃ ভীতি প্রদর্শনকারী। অর্থাৎ এখনো যারা সত্যসম্পর্কে অজ্ঞ, রাসূল সাঃ ছিলেন তাদের সতর্ক ও সাবধানকারী। ‘হে নবী আমি আপনাকেপাঠিয়েছি ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে।’ (সূরা আহজাবঃ ৪৫)

১০. আমিনঃ বিশ্বস্ত। নবী আকরাম সাঃ তাঁর উন্নত চরিত্র ওমাধুর্যমণ্ডিত স্বভাবের কারণে স্বতন্ত্র এবং বিশিষ্ট ছিলেন। তিনি ছিলেন সবার চেয়েঅধিক বক্তিত্ব সম্পন্ন, সবার জন্য নিরাপদ ও বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল। আরো ছিলেন একজন সম্মানিত প্রতিবেশী, বন্ধুভাবাপন্ন মানুষ, সর্বাধিক দূরদর্শিতাসম্পন্ন জ্ঞানী, সত্যবাদী, কোমল প্রাণ ও পবিত্র পরিচ্ছন্ন মনের অধিকারী। অঙ্গীকার পালনে, প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ও আমানত আদান প্রদানে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। তাই স্বজাতির লোকেরা তাঁকে আল আমিন নামে ভূষিত করেন।

১১. হাদিঃ পথ প্রদর্শকঃ রাসূল সাঃ ছিলেন সিরাতুল মুস্তাকিমেরপ্রদর্শক। মানবজাতি যখন আদিম জাহেলিয়াতের কোলে ঘুম গিয়েছিল, সভ্যতা যখন প্রগাঢ়অন্ধকারে ডুবেছিল, চারদিকে বিরাজ করছিল উত্তেজনা, মানুষ মানুষে সঙ্ঘাত, যুদ্ধ ওলুটপাটের তাণ্ডবে মেতে উঠেছিল, অসংখ্য পথ ও মতের যাঁতাকলে মানুষের নাভিশ্বাস শুরুহয়েছিল, তখন লাখো চাঁদের আলো নিয়ে হেরা থেকে নেমে এলেন সিরাতুল মুস্তাকিমেরপ্রদর্শক মুহাম্মদ সাঃ। লক্ষ্যচ্যুত জাতিকে তিনি পথের দিশা দিলেন।

১২. নূরঃ আলো। রাসূল সাঃ অন্ধকার পৃথিবীর এক আলোকিত মহামানব।তাঁর আগমনের পর সব অন্ধকার দূরীভূত হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা তাঁর আগমনে বলেছেন,‘সত্য এসেছে, মিথ্যা অপসৃত হয়েছে, মিথ্যা তো পরাজয় ধ্বংস হবেই।’ তাঁর শিক্ষা ওচরিত্র যেমন ছিল আলোকিত ও ঝলমল, তেমনি তাঁর বাস্তব অবয়বও ছিল সূর্য ঝিকমিক। তাঁরচলনে-বলনে, আচার আচরণে লক্ষ চাঁদের আলো এসে আছড়ে পড়ত। তাঁর দৈহিক সৌন্দর্যসম্পর্কে আবু কারসনার মা ও খালা বলেন, ‘আমরা এমন সুদর্শন মানুষ আর দেখিনি। আমরা ওরমুখ থেকে আলো বিকীর্ণ হতে দেখেছি।’ হজরত আবু হোরায়রা বলেন, ‘রাসূল সাঃ-এর চেয়েসুদর্শন কাউকে দেখিনি। মনে হতো যেন সূর্য ঝিকমিক করছে।’

১৩. সিরাজুম মুনিরাঃ মূর্তিমান আলোক ও প্রদীপ। অর্থাৎ তাঁরব্যক্তিত্ব ও জীবন আমাদের পথের অন্ধকার দূরীভূতকারী উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। ‘হে নবীআমি তোমাকে সাক্ষ্যদানকারী, সুসংবাদদানকারী ও সতর্ককারী, আল্লাহর নির্দেশে তাঁরদিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ বানিয়ে পাঠ িয়েছি। (সূরা আহজাবঃ ৪৫-৪৬)

১৪. দায়ী ইলাল্লাহঃ আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী। অর্থাৎ পথভ্রষ্ঠলোকদেরকে আল্লাহ পথে আহবানকারী। পথহারা মানুষকে তিনি সঠিক ঠ িকানায় পৌঁছে দিয়েছেন।‘হে নবী আমি তোমাকে সাক্ষ্যদানকারী, সুসংবাদদানকারী এবং সতর্ককারী, আল্লাহরনির্দেশে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ বানিয়ে পাঠিয়েছি। (সূরা আহজাবঃ৪৫-৪৬)

১৫. রহমতঃ অনুগ্রহ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘(হে নবী) আমি যেতোমাকে পাঠিয়েছি, এটা আসলে দুনিয়াবাসীর জন্য আমার রহমত।’ (সূরা আম্বিয়াঃ ১০৭) হজরতমুহাম্মদ সাঃ আগমন আসলে সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত বা অনুগ্রহ। কারণতিনি এসে অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বকে জাগিয়ে তুলেছেন। বিশ্বমানবতা যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছিল, এই বুঝি আদ-সামুদ জাতির ভাগ্যবরণ করতে যাচ্ছে, অকস্মাৎআল্লাহর গজব এসে আছড়ে পড়বে হয়তো এখনি। কিন্তু রাসূল সাঃ-এর কারণে সমগ্র মানব জাতি অবশ্যম্ভাবী এক ধ্বংস থেকে মুক্তি পেল। ব্যক্তি হিসেবে তিনি ছিলেন করুণার আধার। তাঁর চাচা আবু তালিব কোনো এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায়ই বলতেন, ‘তিনি সুদর্শন,তাঁর চেহারা থেকে বৃষ্টির করুণা প্রত্যাশা করা হয়। তিনি এতিমদের আশ্রয় তিনিবিধবাদের রক্ষাকারী।

কেন ক্ষমা একটি মহৎ গুন! জানুন, মহানবী (সাঃ)’র একটি চমৎকার ঘটনায়?

মহানবী (সাঃ) একদিন মসজিদে বসে আছেন । সাহাবীরা তাঁকে ঘিরে আছেন । এমন সময় মহানবী (সাঃ) বললেন, “এখন যিনি মসজিদে প্রবেশ করবেন, তিনি বেহেশতের অধিবাসী ।” একথা শুনে উপস্থিত সব সাহাবী অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রইলেন মসজিদের প্রবেশ মুখে ।

সবার মধ্যে জল্পনা কল্পনা চলছে, হয়তো হজরত আবু বকর (রাঃ) বা হজরত উমর (রাঃ) অথবা এমন কেউ আসছেন যাঁদের বেহেশতের সুসংবাদ আল্লাহপাক ঘোষণা করেছেন । সবাইকে অবাক করে দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলেন একজন সাধারণ আনসার সাহাবী । এমনকি তাঁর নাম পরিচয় পর্যন্ত জানা ছিল না অধিকাংশের ।

এরপরের দিনেও সাহাবীরা মসজিদে বসে আছেন নবীজি (সাঃ) কে ঘিরে । নবীজি (সাঃ) আবার বললেন, “এখন যিনি মসজিদে প্রবেশ করবেন, তিনি বেহেশতের অধিবাসী ।” সেদিনও মসজিদে প্রবেশ করলেন সেই সাহাবী ।
তৃতীয় দিন নবীজি (সাঃ) সাহাবীদের লক্ষ্য করে আবার ঘোষণা দিলেন, “এখন যিনি মসজিদে প্রবেশ করবেন, তিনি বেহেশতের অধিবাসী ।” এবং সাহাবীরা দেখলেন সেই অতি সাধারণ সাহাবী মসজিদে প্রবেশ করলেন ।

পরপর তিনদিন এই ঘটনা ঘটার পর, সাহাবীদের মধ্যে কৌতূহল হলো সেই সাধারণ সাহাবী সম্পর্কে জানার জন্য । তিনি কেন অন্যদের চেয়ে আলাদা তা জানতে হবে । বিখ্যাত সাহাবী হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর আল আ’স (রাঃ) ভাবলেন, এই সাহাবীর বিশেষত্ব কী তা জানতে হলে তাকে নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে । তিনি সেই সাহাবীর কাছে গিয়ে বললেন, “আমার বাবার সাথে আমার মনোমালিন্য হয়েছে, তোমার বাড়িতে কি আমাকে তিন দিনের জন্য থাকতে দেবে ?’’

সেই সাহাবী রাজী হলেন । হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকলেন, খুঁজতে থাকলেন কী এমন আমল তিনি করেন । সারা দিন তেমন কোন কিছু চোখে পড়ল না । তিনি ভাবলেন হয়তো তিনি রাত জেগে ইবাদত করেন । না, রাতের নামায পড়ে তো তিনি ঘুমাতে চলে গেলেন । উঠলেন সেই ফজর পড়তে ।

পরের দুটি দিনও এভাবে কেটে গেল । হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) কোন বিশেষ আমল বা আচরণ আবিষ্কার করতে পারলেন না যা অন্যদের চেয়ে আলাদা । তাই তিনি সরাসরি সেই সাহাবীকে বললেন, “ দেখ আমার বাবার সাথে আমার কোন মনোমালিন্য হয় নি, আমি তোমাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য তোমার বাড়িতে ছিলাম । কারণ নবীজি (সাঃ) বলেছেন যে তুমি জান্নাতি। আমাকে বল তুমি আলাদা কী এমন আমল করো ?’’

সেই সাহাবী বললেন, “ তুমি আমাকে যেমন দেখেছ আমি তেমনই, আলাদা কিছুতো আমার মনে পড়ছে না”। এ কথা শুনে হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁকে বিদায় জানিয়ে চলে যেতে থাকলেন । এমন সময় সেই সাহাবী হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) কে ডেকে বললেন, ‘আমার একটা অভ্যাসের কথা তোমায় বলা হয়নি –রোজ রাতে ঘুমাতে যাবার আগে আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দেই, যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছে, বা আমার প্রতি অন্যায় করেছে ।

তাদের প্রতি কোন ক্ষোভ আমার অন্তরে আমি পুষে রাখি না”। হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) একথা শুনে বললেন, “এ জন্যই তুমি আলাদা, এ জন্যই তুমি জান্নাতি”। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না । (বুখারী ও মুসলিম)