মাধ্যমিক পাসেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরির সুযোগ জেনে নিন কিভাবে?


বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সৈনিক পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। পুরুষ ও নারী এই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

সাধারণ ট্রেড: সাধারণ ট্রেডে (জিডি) পুরুষ ও নারী প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। মাধ্যমিক পাস হলেই আবেদন করা যাবে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে নারী প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। তবে আবেদনের জন্য মাধ্যমিকের জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে।

কারিগরি ট্রেড: কারিগরি ট্রেডে শুধু পুরুষ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের জন্য প্রার্থীদের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আবেদনের জন্য মাধ্যমিক পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে।

বয়সসীমা:

(ক) সাধারণ ট্রেড (জিডি)- ২৭ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে ১৭ বছর হতে হবে।

শারীরিক যোগ্যতা: পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা ন্যূনতম পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি হতে হবে। তবে ক্ষুদ্র জন্যগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের পুরুষদের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি হলে আবেদন করা যাবে। এবং নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা ন্যূনতম পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি এবং ক্ষুদ্র জন্যগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে পাঁচ ফুট এক ইঞ্চি হতে হবে।

পুরুষ প্রার্থীদের শারীরিক ওজন ৪৯.৯০ কেজি এবং নারী প্রার্থীদের ওজন ৪৭ কেজি হলে যোগ্য বিবেচিত হবে।

পুরুষ প্রার্থীদের বুকের ন্যূনতম মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি ও স্ফীত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি হতে হবে। নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ২৮ ইঞ্চি ও স্ফীত অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি থাকতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া: প্রার্থীরা এসএমএস ও অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। টেলিটকের প্রিপেইড নম্বর থেকে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নিয়ম অনুসরণের মাধ্যমে এসএমএস করতে হবে। এসএমএসের মাধ্যমে প্রাপ্ত ইউজার আইডি (user ID) ও পাসওয়ার্ড (password) ব্যবহার করে টেলিটক sainik.teletalk.com.bd অথবা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর http://joinbangladesharmy.army.mil.bd/ ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

মনে রাখবেন, এসএমএস এর মাধ্যমে আবেদন শুরুর তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৭ এবং শেষ তারিখ ৬ জানুয়ারি ২০১৮।

যে ম্যাচের দাম ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি জেনে নিন কিভাবে?


ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা আকর্ষণ ‘ম্যানচেস্টার ডার্বি’ মানে ম্যানচেস্টারের দুই বড় দল ইউনাইটেড ও সিটির লড়াই। সাম্প্রতিক সময়ে প্রিমিয়ারের সেরা এই দুই ক্লাব উপহার দিয়েছে দারুণ উপভোগ্য কিছু লড়াই। এই দুই ক্লাবে আছেন দারুণ কিছু ফুটবলার। দুই ক্লাবের ডাগআউটও আলোকিত করে আছেন এই মুহূর্তে ফুটবল দুনিয়ার অন্যতম সেরা দুই কোচ—হোসে মরিনহো ও পেপ গার্দিওলা। তবে ইউনাইটেড ও সিটির ফুটবলারদের সম্মিলিত মূল্য আপনার চোখ কপালে তুলতেই পারে।

এই মৌসুমে দল ঢেলে সাজাতে গিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি রক্ষণভাগ গড়েছেন পেপ গার্দিওলা। আর মরিনহো তো সব সময়ই খরুচে দল বানাতে সিদ্ধহস্ত। রোববার রাতের ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড়দের মোট বাজারমূল্য ৩০১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড, বাংলাদেশি টাকায় যা ৩ হাজার ৩২২ কোটি টাকা প্রায়। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়দের দাম দাঁড়ায় ৩৫৪.৯ মিলিয়ন পাউন্ড, টাকায় ৩ হাজার ৯১২ কোটি টাকা প্রায়। মানে সেদিন ‘মাত্র’ ৬৫৬.৩ মিলিয়ন পাউন্ডের দল নিয়ে খেলেছে দুই দল। ফুটবল ইতিহাসে এক ম্যাচে দুই দলের মোট মূল্য এতটা এর আগে কখনোই দেখা যায়নি। একটি ম্যাচের দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা প্রায়! ভাবা যায়!

দুই দল মিলিয়ে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড রোমেলু লুকাকু। এই মৌসুমের শুরুতেই ৯০ মিলিয়ন পাউন্ডে এভারটন থেকে ইউনাইটেডে এসেছেন তিনি। ভাগ্যের কী নিদারুণ পরিহাস, ম্যানচেস্টার সিটির দুই গোলেই ‘অবদান’ রয়েছে ম্যাচের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের। তাতে নিজ দলের হারও নিশ্চিত হয়েছে। সবচেয়ে সস্তা খেলোয়াড়ও ইউনাইটেডের, দুই তরুণ তুর্কি মার্কাস রাশফোর্ড ও জেসে লিনগার্ড দুজনই যুব একাডেমি থেকে উঠে আসায় তাঁদের বাজারমূল্য প্রায় শূন্য।

টবলের বাজার হঠাৎ করেই বদলে গেছে ভীষণ। রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে বার্সেলোনা থেকে মাত্র একজন খেলোয়াড়ই (নেইমার) কিনেছে পিএসজি। সে তুলনায় ইউনাইটেডের ৩০১.৪ কিংবা সিটির ৩৫৪.৯ মিলিয়ন পাউন্ডের দল নিশ্চয়ই খুব বেশি নয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ডিফেন্ডার বেঞ্জামিন মেন্ডিকে কিনলেও রোববার তাঁকে বেঞ্চেও জায়গা দেননি গার্দিওলা। তাতে অবশ্য খুব ক্ষতি-বৃদ্ধি হয়নি এই স্প্যানিশ কোচের। ২-১ গোলের জয় নিয়ে ইংলিশ লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বেশ জাঁকিয়ে বসেছে সিটি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউনাইটেডের চেয়ে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে গার্দিওলার শিষ্যরা। সূত্র: সকারওয়ে, ট্রান্সফার মার্কেট।

পজিশন

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

ম্যানচেস্টার সিটি

গোলরক্ষক

ডেভিড ডি গিয়া (২১ মিলিয়ন)

এডারসন (৩৭ মিলিয়ন)

ডিফেন্ডার

ক্রিস স্মলিং (১২ মিলিয়ন)

কাইল ওয়াকার (৫০ মিলিয়ন)

ডিফেন্ডার

মার্কোস রোহো (১৮ মিলিয়ন)

নিকোলাস ওটামেন্ডি (৩৩ মিলিয়ন)

ডিফেন্ডার

অ্যাশলি ইয়াং (১৬ মিলিয়ন)

ভিনসেন্ট কোম্পানি (৬.৭ মিলিয়ন)

ডিফেন্ডার

আন্তোনিও ভ্যালেন্সিয়া (১৮ মিলিয়ন)

ফাবিয়ান ডেলফ (৮ মিলিয়ন)

মিডফিল্ডার

অ্যান্ডার হেরেরা (২৮.৮ মিলিয়ন)

ডেভিড সিলভা (২৪ মিলিয়ন)

মিডফিল্ডার

নেমানিয়া ম্যাটিচ (৪০ মিলিয়ন)

ফার্নান্দিনহো (৩০ মিলিয়ন)

মিডফিল্ডার

জেসে লিনগার্ড (০)

কেভিন ডি ব্রুইনা (৫৪.৫ মিলিয়ন)

ফরোয়ার্ড

মার্কাস রাশফোর্ড (০)

রহিম স্টার্লিং (৪৯ মিলিয়ন)

ফরোয়ার্ড

অ্যান্থনি মার্শিয়াল (৫৭.৬ মিলিয়ন)

লেওর‍্য সানে (৩৭ মিলিয়ন)

ফরোয়ার্ড

রোমেলু লুকাকু (৯০ মিলিয়ন)

গ্যাব্রিয়েল জেসুস (২৮ মিলিয়ন)

মোট

৩০১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড

৩৫৪.৯ মিলিয়ন পাউন্ড

 

এশিয়ার সব থেকে বড় আম গাছটি বাংলাদেশের কোন জেলায়, বলতে পারবেন না পারলে জেনে নিন ?


শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীতে এটাই সম্ভবত সব থেকে বড় আম গাছ। যা ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী এলাকায় অবস্থিত। বর্তমানে এ গাছটিকে ঘিরে প্রতিদিনই ভীর জমাচ্ছে নানা স্থানের পর্যটকরা।

সৃষ্টির অপার রহস্যের এক নিদর্শন হয়ে এই আম গাছটি কেবল ওই অঞ্চলের মানুষের মাঝেই বিস্ময়ক্ষুধা নিবারণ করছে না, আজব এই গাছকে কেন্দ্র করে এখন এই অঞ্চলকে পর্যটন অঞ্চল করার কথাও ভাবা হচ্ছে।

জানা গেছে, এই বৃহত্তম আম গাছটিকে ঘিরে শুধু ওই গ্রামই নয়, পুরো অঞ্চলই নাকি এখন বেশ পরিচিত। গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিশালাকার এই আম গাছের খবর এখন দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে পৌঁছে গেছে দেশ-বিদেশে। ফলশ্রুতিতে প্রতিদিনই আজব এ গাছের দর্শন পেতে হরিণমারী এসে হাজির হচ্ছেন অনুসন্ধিৎসু-ভ্রমণপিপাসুরা।

সূত্র বলছে, তিন বিঘা (এক একর) জমি জুড়ে বিস্তৃত এই আম গাছটি ঘিরে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। ব্যক্তি মালিকানাধীন হলেও এই বৃক্ষকে দর্শনে সড়ক অবকাঠামোসহ প্রয়োজনীয় পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা ব্যক্তিবর্গরা। একইসঙ্গে স্থানীয়রা আশা করেন, এশিয়ার সর্ববৃহৎ আম গাছের খ্যাতি কুড়ানো এই বৃক্ষটি একসময় গিনেজ ওয়ার্ল্ডবুকেও স্থান করে নিবে।

দেশের উত্তরাঞ্চলীয় বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত, বতর্মান ঠাকুরগাঁও জেলায় অন্তর্ভূক্ত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সীমান্তবর্তী আমজানখোর ইউনিয়নের হরিণমারী (নয়াপাড়া) গ্রামে দুই শতাব্দির নীরব সাক্ষী এই বৃক্ষের অবস্থান। ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে যার দুরত্ব ত্রিশ কিলোমিটারের বেশি নয়।

অতিকায় এই আমগাছটি স্থানীয়ভাবে ‘সূর্য্যপুরী আম’ গাছ নামে ডাকা হয়। গাছটির প্রায় ১৯ টি বৃহাদাকার শাখা বা ডাল রয়েছে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৬০ থেকে ৮০ ফুট। শাখাগুলোর ব্যসার্ধ ৩০ থেকে ৩৫ ফুট। যুগ যুগ ধরে সম্প্রসারিত হতে থাকা গাছের প্রত্যেকটি ডালের উপর অনায়াসে হাটাচলা করা সম্ভব।

নয়নাভিরাম শোভা ছড়ানো আমগাছটির প্রত্যেকটি শাখা বা ডাল গাছের মূলকান্ড থেকে বের হয়ে ঢেউয়ের মতো আকৃতি ধারণ করে মাটি স্পর্শ করেছে। ডালগুলো মূলকান্ড থেকে বেরিয়ে একটু উপরে উঠেই আবার তা মাটিতে নেমে গেছে। তারপর আবারও উপরে উঠে গেছে।

গাছের বর্তমান মালিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাছটি তার জন্মের আনুমানিক দুশ’ বছর পার করে ফেলেছে। হরিণমারীর প্রয়াত শরিফ উদ্দীনরে দুই ছেলে মোঃ সাইদুর রহমান মোল্যা(৪০) ও মোঃ নুর ইসলাম মোল্যা (৩০) উত্তরাধিকারসূত্রে গাছটির মালিকানা পেয়েছেন।

গাছের অন্যতম মালিক নুর ইসলাম জানান, ‘প্রতিবছর এ গাছ থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মণ আম উৎপাদন হয়, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ১ লাখ টাকা।’

তিনি জানান, এই বৃহৎ আমগাছটির পাশেই আরো কয়েকটি একই জাতের আমগাছ রয়েছে, যা হুবুহু ওই আমগাছের মতোই ডালপালা বিস্তার করে মাটির সঙ্গে ঢেউ খেলিয়ে আলিঙ্গন করছে। তাদের আশা, অদূর ভবিষ্যতে এই গাছটিও বিশালাকার পাবে ও মানুষের বিস্ময় হয়ে থাকবে।

গাছটিকে ঘিরে প্রত্যন্ত এই জনপদ এখন রীতিমতো পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। একটিবার গাছটিকে দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, এমনকি দেশের বাইরে থেকেও  পর্যটকরা আসছেন প্রতিনিয়ত। যার ফলে গাঠের আশাপাশে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ যানবাহন রাখার সু-ব্যবস্থাও!

এমনি এক সৌন্দর্য পিপাসু বিচারপতি একেএম ফজলুর রহমান। সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এই বিচারক সম্প্রতি আমগাছটি দেখতে আসেন।

প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘স্রষ্টার এক বিষ্ময়কর সৃষ্টি এই আমগাছ। আমগাছটির মূলকান্ড থেকে বেরিয়ে গেছে অনেকগুলো ডাল, যেগুলো একটু উপরে উঠেই আবার মাটিতে নেমে গেছে-তারপর আবারো উঠে গেছে। সত্যি মহান আল্লাহর এ এক বিষ্ময়কর সৃষ্টি।’

‘না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। স্রষ্টা যেন শিল্পীর তুলিতে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে মনের মতন করে গাছটিকে একেঁছেন। গাছটিতে হাজার হাজার আম ধরে আছে’-যোগ করেন বিচারপতি একেএম ফজলুর রহমান।

তিনি মনে করেন, পৃথিবীতে যা কিছু আশ্চর্য হিসেবে পরিচিত, স্রস্টার সৃষ্টির বিচারে এ আম গাছটিও একটি আশ্চর্যই বটে।

আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এ স্থানটির প্রতি সরকারের বিশেষ দৃষ্টি পাবে এবং যোগাযোগের জন্য রাস্তাটির উন্নয়ন সাধন করে স্থানীয় প্রশাসন একে ঘিরে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারে।’

“এধরণের আমের চারা দেশের অন্যান্য স্থানে রোপণ করে আম উৎপাদনে বড় বিপ্লব সাধন করা যায়’ বলেন গাছটি দেখতে আসা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উফসী পাট বীজ উৎপাদন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (উপসচিব) নারায়ন চন্দ্র সরকার।

পীরগঞ্জ থেকে আসা দর্শনার্থী মোঃ বাদশা আলম বলেন, ‘একটি আমগাছ এত বড় হতে পারে তা কখনো কল্পনাই করতে পারিনি। এই আমগাছ না দেখলে জীবনের অনেক বড় একটা অপূর্ণতা থেকে যেতো। গাছটি দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা সদর থেকে দশ কিলোমিটার পশ্চিমে নিভৃত পল্লী হলেও এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা মোটামুটি ভাল থাকায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক দর্শনার্থী এই আমগাছটি দেখতে আসেন। এটি এখন এই অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের অন্যতম স্থান হয়ে উঠেছে। এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় এই আমগাছকে দেখতে যে কেউ আসতে পারেন সপরিবারে।

পলিথিনের তেলে চলছে মোটরসাইকেল জেনে নিন কিভাবে !


মোটরসাইকেল কিনলেন। জ্বালানি তেলের জন্য দৌড়াতে হবে না কোনো পাম্পে। পলিথিন পুড়িয়ে তেল হয়। ওই তেল দিয়ে চলবে আপনার মোটরসাইকেল! বাংলাদেশেরই এক তরুণ ফেলে দেওয়া পলিথিন থেকে বানিয়েছেন জ্বালানি তেল! ওই তেলে চলছে মোটরসাইকেল।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭’তে নিজের ওই উদ্ভাবন নিয়ে এসেছিলেন তৌহিদুল ইসলাম। তিনি জামালপুরের বাসিন্দা। আয়োজনের শেষদিন গতকাল শনিবার এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা হয় তৌহিদুলের।

তৌহিদুল পুরোনো পলিথিন পুড়িয়ে জ্বালানি তেল উৎপাদন করেছেন। কেবল তেল না, মিথেন গ্যাস ও ছাপাকাজে ব্যবহারের জন্য কালিও বানিয়েছেন ওই পলিথিন থেকে!

ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক থেকেও একইভাবে জ্বালানি তেল তৈরি করেছেন তৌহিদুল। তিনি জানান, ২০১১ সালে তিনি সফলভাবে প্রথম তেল উৎপাদন করতে পারেন।

তৌহিদুলের দাবি এসব তেল ও গ্যাস দিয়ে নানাকাজ খুব সহজে করা যায়। পলিথিন থেকে উৎপাদিত তেল দিয়ে মোটরসাইকেলও চালান তিনি! ২০১২ সাল থেকে ওই মোটরসাইকেলটি চালান তিনি।

তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ১০০ কেজি পলিথিন থেকে ৭০ কেজি জ্বালানি তেল, ১০ কেজি মিথেন গ্যাস ও ২০ কেজি ছাপাকাজের কালি তৈরি করা যায়। ১ কেজি জ্বালানি তেলের খরচ পড়বে ১৭ টাকা। তবে পলিথিন ও প্ল্যাস্টিক কেনার ওপর এই দাম নির্ভর করে বলে তিনি জানান।

তৌহিদুল ইসলামের বয়স মাত্র ২৫। ছিপছিপে গড়নের। ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে’ সাদা শার্ট আর মেটে রঙের প্যান্ট পরে নিজের উদ্ভাবন নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তৌহিদুল। তাঁর সামনে টেবিলে রাখা গ্যাস সিলিন্ডারের মতো একটা জিনিস রাখা। আর তাতে যুক্ত আছে কিছু পাইপ। আর ওই টেবিলেই আছে তিনটি বোতল। দুই বোতলে কালচে ধরনের তরল। আর অন্য বোতলে হালকা হলুদ রঙের তরল। তৌহিদুল জানান, পলিথিন পুড়িয়ে প্রথম যে তেলটা আসে সেটা ওই কালচে রঙের। পরিশোধিত করার পর তা দেখতে হয়ে যায় হলুদ রঙের! পরিশোধন করার জন্য কোথায় যেতে হবে? তৌহিদুল জানালেন তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্র পরিশোধনও করে দেবে!

ফুলের বাগান বাঁচাতে!‍

ফুলের বাগান ছিল তৌহিদুল ইসলামের। কিন্তু ফেলে দেওয়া পলিথিন ব্যাগের কারণে গাছগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। বাগান রক্ষা করতে গিয়ে পলিথিন নিয়ে ভাবলেন। প্রথমেই চিন্তা ছিল কীভাবে ওই উচ্ছিষ্ট পলিথিনগুলো নষ্ট করা যায়। পরেই ভাবনা হলো, কীভাবে এসব পলিথিন কাজে লাগানো যায়। তখন তৌহিদুল মাত্র চতুর্থ শ্রেণিতে পড়েন!

ওই ইচ্ছে আর ভাবনা থেকে সরে আসেননি তৌহিদুল। স্কুল ও কলেজে রসায়ন নিয়ে পড়েছেন। আর তত্ত্বীয় জ্ঞানের সঙ্গে ব্যবহারিক বিষয়টিও মেলালেন।

যেভাবে পলিথিন থেকে হয় তেল

তৌহিদুল বলেন, ‘ক্লাসে রসায়ন নিয়ে পড়ার সময় দেখলাম যে পলিথিন এক ধরনের হাই টেমপারেট হাইড্রোকার্বন আর জ্বালানি তেল লো টেমপারেট হাইড্রোকার্বন। এখন একটি হলো হাইড্রোজেন ও কার্বনের চেইন, আরেকটি সরল একটি গঠন।

কলেজে রসায়নের প্রভাষক একরামুজ্জামান ও  তাঁর খালাতো ভাই মনিরুজ্জামান মনি বিভিন্ন সময় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। মুলত এই দুজনের সহযোগিতার কারণে যন্ত্রটি বানিয়েছেন তৌহিদুল।

তৌহিদুল বিবরণ দিলেন যন্ত্রের প্রক্রিয়ার। প্রথমে চেম্বারে (সিলিন্ডারের মতো দেখতে বস্তুটি) পলিথিন দিতে হয়। এমন ভাবে তা করা হয় যাতে বাইরে থেকে অক্সিজেন ঢুকতে না পারে। যেন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা কার্বন মনো-অক্সাইড তৈরি করতে না পারে। এরপর ৩৫০ থেকে ৭৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত  করা হয়।  ৭৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে যখন উত্তপ্ত করা হয়, তখন পলিথিনের যে কার্বন ডাই-অক্সাইড চেইন আছে সেটা ভেঙে গিয়ে প্রচণ্ড চাপের বাষ্প হয়ে নল দিয়ে বের হয়। এরপর ঠাণ্ডা  তরল হয়ে বোতলে জমা হয়। আর এখানে যে মিথেন গাস তৈরি হয় তা আবার এই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। তরল জ্বালানি বের করে আনার  পর সেখানে অনেক মুক্ত কার্বন তৈরি হয়, যা পড়ে ছাপার কাজে কালি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

 

‘পরিবেশ রক্ষা করাই একমাত্র উদ্দেশ্য’

তৌহিদুল ২০০৯ সালে জামালপুরের  নারিকেলি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। জামালপুর শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর  ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং করেন জামালপুর কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং পলিটেকনিক থেকে।

জামালপুর সদরের কেন্দুয়া ইউনিয়নের কোজগড়ের মঙ্গলপুরে তৌহিদুলের বাড়ি। তাঁর বাবার নাম আবদুল মান্নান ও মা হালিমা খাতুন। আপাতত নিজের উদ্ভাবন নিয়েই কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি টিউশনি করান। তাঁরই এক ছাত্র সিফাত উল্লাহ তাঁকে সহযোগিতা করেন।তৌহিদুল জানান, এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাণিজ্যিক ভাবে এই জ্বালানি তেল উৎপন্ন করার। তবে এই তরুণ উদ্ভাবক বলেন, ‘কেবল অর্থ উপার্জন  নয়। পলিথিন ধ্বংস করে পরিবেশ রক্ষা করাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে যদি কেউ এ কাজ করতে চায় তবে আমিও তাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে বিইউএফটি

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে বিইউএফটি

বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি’র (বিইউএফটি) কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে তাঁবু বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ৮ ডিসেম্বর কক্সবাজারে উখিয়ার ঘুমধুম আর্মি ক্যাম্পে গমন করে।

বিইউএফটি কর্মকর্তাদ্বয় নাজমুল হাসান, চিফ ফাইনান্স অফিসার এবং উইং কমান্ডর (অব:) সহিদুল্লাহ, হেড লজিস্টিকের নেতৃত্বে দুর্জয় চব্বিশ এর ব্যবস্থাপনায় ৬৫ পদাতিক ব্রিগেড সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত ঘুমধুম ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর খালেদ এর নিকট ১শ’ টি (১৮০ পাউন্ড) তাঁবু হস্তান্তর করেন।

ক্যাম্পে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের মাঝে তাঁবুগুলো বিতরণ করা হয়। সেইসময় বিইউএফটির প্রজেক্ট ডাইরেক্টর মো. মুজিবুর রহমান, প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান, ম্যানেজার আইটিসহ পিএস টু ট্রাস্টি বোর্ড মাহফুজা আলম, সহকারী ম্যানেজার সিইপিডি কামরুন নাহার পান্না, পিএসটু ভিসি মোনোয়ারা সুলতানা মুন্নী ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, নিহত ১০

ক্যালিফোর্নিয়ার সানোমা এলাকায় বনে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে। ৯ অক্টোবর, সানোমা, ক্যালিফোর্নিয়া। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ১০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। প্রায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। উদ্ধারকাজ চলছে। আজ মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় গত রোববার রাতের এই দাবানলের ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার সানোমা কাউন্টিতেই সাতজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে নাপা, সানোমা ও ইয়ুবা কাউন্টি থেকে ২০ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘর ছেড়েছে। এসব অঞ্চলে ওয়াইন তৈরি হওয়ার কারণে দাবানল দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

এ ঘটনায় ক্যালিয়োর্নিয়ার গভর্নর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ঘোষণায় গভর্নর বলেছেন, দাবানলের কারণে ঘরবাড়ি পুড়ে যাচ্ছে। আরও অসংখ্য ঘরবাড়ি হুমকির মুখে। এই মুহূর্তে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যেতে হবে। ওইসব অঞ্চলের হাজারো মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত সানোমা কাউন্টিতে সাতজন, নাপায় দুজন ও মেনডোসিনোতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব এলাকায় হাজারো একর ভূমিতে আগুন জ্বলছে। আহতসহ অনেকের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নিপ্রতিরোধ বিভাগের প্রধান কিম পিমলট বলেন, প্রায় ১ হাজার ৫০০ ঘরবাড়ি ইতিমধ্যে আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তীব্র বাতাস, কম আর্দ্রতা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আবহাওয়া দপ্তর এ কারণে সানফ্রান্সিসকোতে সতর্কতা জারি করে বলেছে, এই অঞ্চলে আগুন লাগলে তা এভাবে দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট বলছে, ১০ হাজারেরও বেশি একর এলাকা ইতিমধ্যে পুড়ে গেছে।

গত সেপ্টেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে ইতিহাসের ভয়াবহ দাবানল লেগেছিল।

ত্বকের যে সমস্যাগুলো দেখে বুঝে নিবেন ডায়াবেটিস আসন্ন

দেহের যেকোনো অংশে আক্রমণ চালাতে পারে ডায়াবেটিস। এর মধ্যে একটি অংশ ত্বক। ঘটনাক্রমে অনেক ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিস আক্রমণের প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পায় ত্বকের মাধ্যমে। বিস্তারিত ভিডিওতে দেখুন …

ভালো খবরটি হলো, ডায়াবেটিস সংশ্লিষ্ট ত্বকের সমস্যার অধিকাংশই চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান মেলে, যদি তা আগে থেকেই চিহ্নিত করা যায়। এখানে বিশেষজ্ঞরা কিছু ত্বকের সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

ছোট্র এক শহরে হঠাৎ করে সবাই যেভাবে ধনী হয়ে গেলো

রুমানিয়ার এক ছোট শহর বুজেস্কুতে বাস করত একদল পরিযায়ী মানুষ। কারাভাঁ নিয়ে শহর থেকে শহরে, দেশ থেকে ভিনদেশে ঘুরে ঘুরে ধাতব পণ্যসামগ্রী বিক্রিই ছিল তাদের জীবিকার উপায়। কমিউনিজমের পতনের পর সেই মানুষগুলো হঠাৎ বিপুল বিত্তের অধিকারী হয়ে গেল। কিভাবে বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে সে কাহিনী লিখেছেন ঐশী পূর্ণতা

তার হাত দুটো বিশাল বপুর ওপর আড়াআড়ি করে রাখা। মাথায় খড়ের তৈরি মুকুট ধরনের একটা কিছু। বসে ছিল একটা বেঞ্চের ওপর। বসে বসে সামনের দিকে তাকিয়ে কী যেন দেখছিল।
রুমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্ট থেকে ৫০ মাইলের মতো দূরে এক গ্রামের দৃশ্য এটি। গ্রাম হলে হবে কী, তাতে নেই কোনো কুঁড়েঘর। বরং চার পাশে সব প্রাসাদোপম ভবন। ভবনের বহির্ভাগে তরঙ্গায়িত ব্যালকনি ও পিলার। প্রাসাদশৃঙ্গে হয় টাওয়ার নতুবা গম্বুজ। গ্রামের রাস্তা দিয়ে মাঝে মাঝেই ছুটে যাচ্ছে ঝাঁ-চকচকে নতুন গাড়ি। এই না-গ্রাম না-শহর এলাকাটির নাম বুজেস্কু। গোটা ইউরোপের মানচিত্রে এমন জায়গা আর একটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি। এখানে বসত করে ধনাঢ্য রোমা-রা।

শুরুতে যে লোকটার কথা বলেছি, তার নাম পারাচিভ। সেও একজন রোমা। রুমানীয় ভাষায় রোমা শব্দের অর্থ ‘মানুষ’। কিন্তু পারাচিভ বা তার স্বজাতির কেউই নিজেদের ‘রোমা’ বলে পরিচয় দেয় না। তারা নিজেদের বলে ‘সিগানি’। এর অর্থ যাযাবর বা জিপসি। দেশটির অন্যান্য গোত্রের লোকেরা ‘সিগানি’ বলতে বোঝে ভিখারী, চোর, অকর্মা এবং অন্য আরো কুৎসিত শব্দ। মনে করা হয় ‘জিপসি’ শব্দটি এসেছে ইজিপ্ট বা মিসর থেকে। এই গোত্রটির আদি বাসভূমি যেখানে। কিন্তু ভাষার দিক দেখলে বোঝা যায়, রোমারা এসেছে ইন্ডিয়া বা ভারত থেকে।

‘ধনাঢ্য রোমা’ এ কথাটিই একসময় ছিল এক নিষ্ঠুর কৌতুকের মতো। তারা ছিল গরিব ও নোংরা। বাস করত শহরের ধারে গড়ে ওঠা কোনো বস্তিতে; কার্ডবোর্ডের ঘরে। পূর্ব ইউরোপের অন্য সব দেশের মতো রুমানিয়ার রোমারাও চিরদরিদ্র। শিক্ষা-দীক্ষার সাথে তাদের কোনো সম্পর্কই ছিল না। যদিও দেশটির জনসংখ্যার এক-দশমাংশ অর্থাৎ ২০ লাখ তারা।

তবে ওই অবস্থা এখন আর বেশির ভাগ রোমা বা সিগানির জন্য প্রযোজ্য নয়। তাদের অনেকেই এখন বিলাসবহুল ও বহুতল ভবনের মালিক। এরকম একজন হচ্ছেন পারাচিভ। তার আছে একটি দোতলা ভবন। বেঢপ আকৃতির ভবনটির দেয়াল ধূসর ও সাদা মারবেল পাথরের। আর কোনায় কোনায় ব্যালকনি। ১৯৯৬ সালে যখন রোমারা ব্যাপক হারে ধনী হতে এবং ভবন বানাতে শুরু করে, সেই প্রথম দিককার ভবন এটি। এর চূড়ায় রয়েছে টিনে ছাওয়া একটি টাওয়ার। পারাচিভের দুই ছেলে লুইজি ও পেটুর কিন্তু বাবার তৈরি বাড়িটি একটুও পছন্দ নয়। তারা এটি ভেঙে ফেলে নতুন আরেকটি বাড়ি বানাতে চায়; হাল ফ্যাশানের বাড়ি। তাদের বাবা পারাচিভের এ নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই। তার কথা : ছেলেরা যদি চায়, করুক!

দোতলা বাড়ি হিসেবে পারাচিভের বাড়িটি তো তবুও সাধাসিধে। শহরের দক্ষিণ ভাগের বাড়িগুলো দেখলে চোখে ধাঁধা লেগে যাওয়ার মতো। একেকটা একেক রকম। কোনোটা দেখলে মনে হবে বুঝি বা স্মৃতিসৌধ। কোনো আবার করপোরেট হেড কোয়ার্টারের মতো; কাচের দেয়ালশোভিত। কোনো প্রাচীন অভিজাতদের প্রাসাদের মতো। ছাদের চার পাশে দেয়াল, তাতেও ছিদ্র করা। প্রাচীনকালে আক্রান্ত হলে এ ধরনের ছিদ্র দিয়ে গুলি বা তীর নিক্ষেপ করা হতো।

এরকম প্রায় এক শ’ বাড়ি আছে ওই শহরতলীতেই। রোমারা সবাই যে ধনী তা নয়। তবে সবাই এতটুকু স্বচ্ছল অন্তত, যাতে তাদের জাতিগত অহঙ্কারটা ফুটে ওঠে।

এসব এলাকায় বাইরের কেউ গেলে তার মনে হবে, রোমারা বুঝি তাদের ঐশ্চর্য প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আসলে ব্যাপারটা কিন্তু সেরকম নয়। ধনাঢ্য রোমারা এসবের খুব একটা পরোয়া করে না। বাইরের কেউ তাদের থামিয়ে কোনো প্রশ্ন করুক বা তাদের বাড়িঘরের ছবি তুলুক, শহরবাসী রোমারা এটা খুবই অপছন্দ করে এবং সেটা মুখের ওপর বলেও ফেলে। আমাকে দেখেই তো রোমা শিশুরা তারস্বরে চেঁচিয়েছে ‘প্লিকা, প্লিকা’ (চলে যাও, চলে যাও) আর যখনই আমি কথা বলতে গিয়েছি, বড়রা নিয়েছে মুখ ঘুরিয়ে। রোমা সমাজতত্ত্ববিদ গেলু ডুমিনিকা আমাকে সোজাসাপ্টা বলেছে, ‘এসব জায়গা তোমাদের জন্য নয়। (এখানে ‘তোমরা’ মানে রোমা নয় এমন যে কেউই)। এসব প্রাসাদ তারা বানিয়েছে নিজেদের দেখা ও দেখানোর জন্য।

প্রশ্ন হলো, চিরদরিদ্র রোমারা হঠাৎ এমন অঢেল সম্পদের মালিক হলো কিভাবে? স্থানীয় রোমা জনগোষ্ঠীর সরল জবাব : ‘ধাতু ব্যবসায়’। বুজেস্কু এলাকার বেশির ভাগ রোমাই বংশানুক্রমে কালদেরাশ (তাম্রকার)। তামার কাজই ছিল তাদের প্রধান বৃত্তি। ১৯৯০ সালের গোড়ার দিক পর্যন্ত এরা ঘোড়াচালিত কারাভাঁতে চড়ে চলে যেত দূর-দূরান্তে। পথে যত শহর পড়ত, সবখানে থামত আর বিক্রি করত কাজানে নামে। তামার তৈরি এক ধরনের পাতনযন্ত্র, যার সাহায্যে ফল থেকে মদ বানানো হয়। কাজানের দাম ছিল চড়া। ফলে পারাচিভের মতো কুশলী কারিগরদের কাছে এটা ছিল আকর্ষণীয় ব্যবসায়। একেকটা কাজানে বিক্রি হতো কয়েক শ’ ডলার দামে।তখন রুমানিয়ায় ছিল কমিউনিস্ট শাসন। সরকার রোমাদের দিকে কড়া নজর রাখত। এ কারণে টাকা-পয়সা থাকলেও তা প্রকাশ করত না ধনী রোমারা।

১৯৮৯ সালে রুমানিয়ায় কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘটে। আর তার পাশাপাশি রোমা কালদেরাশদের (তাম্রকার) ব্যবসায় বুদ্ধি হঠাৎ মুক্তির পথ খুঁজে পায়। এ সময় কাজানে কারিগর ও তাদের ছেলেপুলেরা ছড়িয়ে পড়ে রুমানিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের সর্বত্র। বন্ধ হওয়া বিভিন্ন কারখানা থেকে বৈধ ও অবৈধ উপায়ে রুপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ইস্পাত ও মূল্যবান ধাতব যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে থাকে দুই হাতে। এসব জিনিস চড়া দামে বিক্রি করে বুজেস্কুর একদল রোমা রাতারাতি বিপুল বিত্তের মালিক হয়ে যায়। এরকম একজনের নাম মেরিন নিকোলে। এক সময় কাজানে বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। তার কথা : ওই সময় নানা ধরনের ধাতু কেনাবেচা করে নেহাত বোকারামও চার-পাঁচটি বাড়ির মালিক হতে পেরেছে।

বুজেস্কুর রাস্তায় রাস্তায় আমি এক সপ্তাহ ধরে অনবরত হেঁটেছি। চেষ্টা করেছি রোমাদের বাড়িতে যেতে এবং তাদের সাথে কথা বলতে। আমার সাথে ছিল দুই ফটোগ্রাফার কার্লা ও ইভান। তারা দুই মাস ধরে এখানে থেকে আসছে এবং সে কারণে কিছু মুখচেনা হয়ে গেছে। এই সূত্র ধরে তারা কখনো নাছোড়বান্দার মতো কোনো বাড়িতে ঢুকে পড়েছে, সেখানে বাড়ির লোকজনের ছবিও তুলতে পেরেছে। আর আমি অসহায়ের মতো বাড়ির সামনের গেটে দাঁড়িয়ে থেকেছি। কখনো কখনো কৌতূহল ও ভদ্রতাবশত বাড়ির মালিকেরা আমাকে ভেতরে ডেকে নিয়েছে।

বাড়ির ভেতরে আমি দেখেছি মারবেল পাথরের মেঝে ও দেয়াল। ছাদের সাথে ঝোলানো মূল্যবান ঝাড়বাতি। বেডরুমে যাওয়ার সিঁড়ি। নানা ধরনের খেলনা। কিন্তু এক ডজন বা তারও বেশি কক্ষবিশিষ্ট বাড়িগুলো প্রায়ই দেখেছি জনশূন্য। প্রায় বাড়িতেই বাস করে দাদা-দাদি ও জনাকয় ছোট ছেলেপিলে। তারাও থাকে বাড়ির পেছন দিককার রুমগুলোতে, খানাপিনা করে রান্নাঘরে। পরিবারের কর্তা-গিন্নি ও বড় ছেলেরা ব্যবসায় নিয়ে ব্যস্ত। তারা ছুটির দিনে, কারো ব্যাপ্টিজমের দিন কিংবা কেউ মারা গেলে তবেই বাড়ি আসে। এই বাড়িগুলো তাই ধনগর্বের শোরুম হয়েই দাঁড়িয়ে থাকে।

তাদের বাড়িগুলোর বহির্ভাগ এত কারুকার্যময় করার পেছনেও একটা কারণ আছে। তা হলো, বহুকাল ধরে চলে আসা তাদের সামাজিক প্রথা। আমি এক দিন ভিক্টর ফিলিসান নামে এক রোমার বাড়িতে ঢোকার সুযোগ পাই। তিনি আমাকে স্থানীয়ভাবে তৈরি দু’রকম মদ দিয়ে আপ্যায়ন করেন। কথাবার্তার এক ফাঁকে আমি টয়লেটে যেতে চাই। তিনি আমাকে বাড়ির বাইরে একটি টয়লেট দেখিয়ে দেন। গৃহকর্তা ও গিন্নি দু’জনেও এই টয়লেটই ব্যবহার করেন। অথচ তাদের বাড়ির ভেতরভাগে একটি সুসজ্জিত টয়লেট আমি দেখেছি। কিন্তু তারা সেটি ব্যবহার করেন না। কেন? জেনেছি, রোমা জনগোষ্ঠীর অনেকেই, বিশেষ করে প্রবীণেরা, ধর্মীয় বিধান অনুসারে পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে একই ছাদের নিচে রান্নাঘর ও টয়লেট থাকলে শেষেরটিতে যান না।

আর কয়েকটি বাড়িতে আমি দেখেছি বালক বয়সী স্বামী-স্ত্রী। পরে জেনেছি, রোমা অভিভাবকেরা তাদের ছেলেমেয়ে ১৩-তে পা দিলেই বিয়ে করিয়ে দেন। বিশেষ করে ধনাঢ্য পরিবারগুলোতে এটা খুবই সাধারণ ঘটনা।

এত কিছুর পরও এই সম্প্রদায়টি তাদের পরিযায়ী অতীত ভুলতে পারেনি। এই স্বভাবের কারণেই তাদের শহরটি সর্বদা থাকে মুখর। দেখা যায়, কোনো না কোনো পরিবার কারাভাঁ নিয়ে ছুটছে দেশান্তরেÑ স্পেন বা ফ্রান্সে, নিদেনপক্ষে বুখারেস্টের দিকে। প্রবীণের দল এখানে-ওখানে বসে সেই ফেলে আসা পরিভ্রমী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করছে কী মধুর ও রোমাঞ্চকরই না ছিল সেসব দিন! আর ওদিকে শহরের প্রতিটি রাস্তার ধারে উঠছে নতুন নতুন ভবন। অথবা আরো মজবুত ও হালফ্যাশনের বাড়ি বানাতে পুরনোটা ভেঙে ফেলছে কেউ কেউ। এই শহরে, এই সম্প্রদায়ে কিছুই যেন স্থায়ী নয়, সবই যেন পরিভ্রমণশীল। শুধু তাদের পারিবারিক বন্ধনটাই অটুট, স্থায়ী।

ফ্লোরিন নামে এক রোমার সাথে কথা হচ্ছিল আমার। সে দম্ভভরে আমাকে বলল, ‘আমরা হচ্ছি রুমানিয়ার সবচেয়ে সভ্য জিপসি’। কিভাবে? সে বলে, ‘যদি আমরা সুন্দর কিছু দেখি, তবে আমরা তার চেয়েও সুন্দর কিছু পেতে চাই’।

কথাগুলো আমি বলেছিলাম রাডা নামে এক প্রবীণ বিধবাকে। এক সময় এই নারীও অট্টালিকায় বাস করতেন। এখন জীবনের শেষ দিনগুলো তাকে কাটাতে হচ্ছে একটি অপরিসর, অপরিচ্ছন্ন, পুরনো বাড়িতে। সেখানে তার চার পাশে মুরগিছানারা নির্ভয়ে ঘুরছে, সামনের দরজা দিয়ে ঢুকে রান্নাঘর পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। আমার মুখে ফ্লোরিনের দাম্ভিক কথাগুলো শুনে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকালেন রাডা। ভাবখানা, এই হাঁদারাম গাদজো (বহিরাগত) বলে কী! তারপর ধীর শান্ত গলায় বললেন, বাপু হে, কত উঁচু বিল্ডিং তুমি বানালে, সেটা তো কথা না। শেষ পর্যন্ত সবাইকে তো ওই কবরেই যেতে হবে।