ইসলামে ‘বিটকয়েন’ হারাম: মিসর

অনলাইনে অর্থবিনিময়ের মাধ্যম ভার্চুয়াল মুদ্রা ‘বিটকয়েন’ ইসলাম ধর্মে হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছে মিসরের দার আল ইফতা। সোমবার এই ফতোয়া দেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে।

দার আল ইফতা জানায়, বিটকয়েন দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষতিকর হতে পারে। এটা দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে পারে।

মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির উপদেষ্টা মাগদি আশৌর জানান, এই মুদ্রা সরাসরি সন্ত্রাসীদের অর্থায়নে ব্যবহৃত হয়। যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি।

আশৌর আরও জানান, এই মুদ্রার কোনও নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। যা ইসলামে চুক্তি বিনষ্ট করা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এজন্য তা হারাম।

মিসরের আগে সৌদি আরবের এক মন্ত্রী আসিম আল-হাকিম বিটকয়েনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিটকয়েন লেনদেন অবৈধ ঘোষণা করে।

বিটকয়েন হচ্ছে একটি ভার্চুয়াল সাংকেতিক মুদ্রা। এটি লেনদেন হয় ওপেন সোর্স ক্রিপ্টোগ্রাফিক প্রোটোকলের মাধ্যমে। এর লেনদেনের জন্য কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যাংকের প্রয়োজন হয় না। যার ফলে একে নিয়ন্ত্রণ করার কোনও সংস্থাও পৃথিবীতে নেই। এটিকে যেমন অনেকেই সুবিধা বলে বিবেচনা করে থাকেন, তেমনই এটিই এই মুদ্রা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সংশয়।

বিটকয়েনের চাহিদা এবং মূল্য লাগামহীনভাবে বাড়ছে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ডলারের বিপরীতে ১টি কয়েনের বিনিময় মূল্য ৪১৯.৭৫ ডলার থাকলেও এ সপ্তাহে এর বিনিময় মূল্য ছিল ১৪৩১৭.৮৬ ডলার। প্রায় প্রতিদিনই এর দাম বাড়ছে। দেড় বছরে দাম বেড়েছে প্রায় চারগুণ। বাংলাদেশি টাকায় একটি বিটকয়েনের দাম এখন প্রায় ১২ লাখ টাকা। অস্বাভাবিক হারে এই বিনিময় মূল্য বাড়ার কোনও কারণ জানা নেই খোদ ব্যবহারকারীদেরও। তারপরও একটি গোষ্ঠী দিন দিন ঝুঁকছে এই ভার্চুয়াল মুদ্রা বিনিময়ের পেছনে।

আপনি জানেন কি টুথপেস্টের টিউবে রঙিন চিহ্ন কেন ব্যবহার করা হয়

দাঁত ঝকঝকে রাখতে টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করা মাস্ট। টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নানা রকমের টুথপেস্টের সঙ্গেই পরিচয় রয়েছে আমাদের। পছন্দমতন এক একজন এক একরকমের টুথপেস্টের ব্যবহার করেন। কিন্তু টুথপেস্ট ব্যবহার করলেও কখনও কি টুথপেস্ট টিউবের নিচের অংশে কিউব আকৃতির রঙিন চৌকো অংশটি খেয়াল করেছেন? এক একটি টুথপেস্টে এক এক রংয়ের থাকে এটি।

সবুজ, নীল, লাল, কালো রঙের এই ছোট্ট বাক্সটিকে নিয়ে হয়তো কোনও মাথাব্যাথা নেই কারোওরই। কিন্তু এগুলির পিছনেও রয়েছে একটি কারণ রয়েছে৷ রয়েছে আলাদা আলাদা অর্থ। রং ভেদে পেস্টগুলির আলাদা আলাদা মানে আছে।

সবুজ:যেসমস্ত পেস্ট তৈরিতে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হয়।

নীল:এই টুথপেস্ট তৈরি করতে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

লাল:এই টুথপেস্ট তৈরি করতে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ও কিছু রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়।

কালো:এই টুথপেস্ট তৈরি করতে শুধুমাত্র রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়।

আপনার টুথপেস্টের চৌকো বক্সটি কোন রংয়ের? মিলিয়ে নিন উপরের তথ্য দেখে৷ কোনও ক্ষতি করছেন না তো নিজের?

নবীগণ পর্যন্ত ভয়ে শুধু বলতে থাকবেঃ “রব্বি সালামুন, রব্বি সালামুন”

এ এমন একটা সময় যে সময়টা সবারই একদিন আসবে। এই দিনে নবীরা পর্যন্ত ভয় পেয়ে যাবে।

পুলসিরাত জাহান্নামের উপর রাখা একটি সেতু বা সাঁকো। এটা চুলের থেকেও চিকন এবং তরবারীর থেকেও ধারালো হবে। পুলসিরাতের পথ হবে অত্যন্ত অন্ধকারাচ্ছন্ন। জাহান্নামের উপর রাখা এই পুলসিরাত প্রত্যেকেই অতিক্রম করতে হবে। পুলসিরাত পার হয়ার সময়টি এমন কঠিন হবে যে, তখন মানুষ তাদের আপন জনদের কথাও ভুলে যাবে। পুলসিরাতের নিচে জাহান্নামের আগুন এত বেশি ভয়াবহ হবে যে, সেখানে নবীগণ পর্যন্ত ভয়ে শুধু বলতে থাকবেঃ “রব্বি সালামুন, রব্বি সালামুন” অর্থঃ হে আল্লাহ বাঁচাও! হে আল্লাহ বাঁচাও।

পুলসিরাত অতিক্রম করার সময় ভয়ে ভীত থাকার কারণে নবীগণ ব্যতীত অন্য কারো মুখ দিয়ে কোন কথা বের হবে না। পুলসিরাতে আগুনের তৈরি হুক থাকবে যা লোকদেরকে তাদের পাপ অনুযায়ী ধরে ধরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। হাসান বাসরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার ভাইকে বললঃ তোমার কি জানা আছে যে, তোমাকে জাহান্নামের উপর দিয়ে পার হতে হবে? সে বললঃ হ্যাঁ। সে আবার জিজ্ঞাসা করল, তোমার কি জানা আছে যে, তুমি সেখান থেকে মুক্তি পাবে? সে বললঃ না। তখন ঐ ব্যক্তি বললঃ তাহলে তুমি কি করে হাসছ? এর পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঐ ব্যক্তির ঠোঁটে আর কখনো হাসি দেখা যায়নি। “আল্লাহুম্মা হাসিবনি হিসাবাই ইয়াসিরা”___ (আমিন)

শিশুকে ধর্ষণ করে আগুনে পুড়ে হত্যা

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ধর্ষণের শিকার অগ্নিদদ্ধ শিশু সোনিয়া (১২) মৃত্যুবরণ করেছে। গত রোববার বিকেল ৩টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে। উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের হলতা গ্রামের মৃত সোনিয়ার পিতা দুলাল খান মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের জানান, গত বুধবার সকাল ১০টায় সময় একই বাড়ির পান্নু খানের বখাটে পুত্র আসাদ খান ডিম ভেজে দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে তার নিজ ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এসময় আসাদের পিতা-মাতা কেউ বাড়িতে ছিলো না।শিশুটি লজ্জায় ও অপমান সইতে না পেরে নিজের শরীরে কোরোসিন ঢেলে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরে তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন ও তার বাবা-মা এসে আগুনে দগ্ধ শিশুটিকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি করেন। চিকিৎক শিশুটির স্বাস্থ্যের অবস্থায় অবনতি দেখে ঢাকায় শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতাল থেকে প্রেরণ করলে সেখানে শিশুটির মারা যান। শিশুটির বোন ছুয়াইয়া আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে তার বোন শিশু সোনিয়ার মৃত্যুর জন্য ধর্ষক আসাদ খান ও তার পরিবারকে দায়ি করেন। তারা বলেন, দিনে দুপুরে বোনকে বখাটে আসাদ ধর্ষণ করলো। ৪ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও পুলিশ প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিলো না।
বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাসুদুজ্জামান জানান, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা তিনি জানেন না।

আপনি কেন খারাপ স্বপ্ন দেখেন, এ সমন্ধে মহানবী যা বলেছিলেন

রসূল(সঃ)-কে স্বপ্নদর্শন!একই চেহারার দুইজন ব্যক্তির স্বপ্নে আগমণ। একজন দ্বীনি ভাই তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে জানালেন, এদের মধ্যে প্রথমজন রসূল(সঃ) এবং অপর ব্যক্তি আবু বকর(রাঃ)! আল্লাহ তায়ালা যে মহামানবকে সমস্ত সৃষ্টিজগতের নেতা করে পাঠিয়েছেন, তাঁর স্বপ্নদর্শন পাওয়া যে কোনো ঈমানদার মুসলিমের জন্যই নিঃসন্দেহে পরম সৌভাগ্যের। কিন্তু হুঁশিয়ার ঈমানদারগণ মহান আল্লাহ তায়ালার পবিত্র কালিমা পাঠ করতে থাকেন। দেখা যায় যে- আগন্তুকের সাদা পোশাক প্রথমে বেশ উজ্জ্বল দেখালেও পরক্ষণেই মলিন হতে শুরু করল! কাঁচা-পাকা শ্মশ্রুমণ্ডিত লোকটার নাকটা থেবড়া দেখালো এবং চেহারাটাও নিস্প্রভ হয়ে গেল! এটা কী করে রসূল(সঃ) হন?!সুতরাং, আগন্তুকের পরিচয়টা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গেল! উচ্চস্বরে কালিমা উচ্চারণের সাথে সাথে মুখোশটা পুরোপুরি খসেপড়ল! বিতাড়িত শয়তান দ্রুত পালাতে শুরু করল…আমরা অনেকেই প্রায়ই এরকম নানান স্বপ্ন দেখে থাকি।প্রথমেই বলে রাখা ভালো, ‘তথাকথিত শিক্ষিত’ দাবীদার অনেকেই স্বপ্নকে কেবলই নিজের চিন্তার ফসল বলে একেবারেই গুরুত্বহীন ভেবে থাকেন। আমার আজকের এই লেখাটা সেইসব ‘অতিপণ্ডিত’-দেরজন্য নয়। বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় কেবল মুসলিম-ঈমানদার ভাইদের উদ্দেশ্যেই স্বপ্ন সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার প্রয়াস করছি।মূলতঃ স্বপ্ন তিন ধরণের।

১। মনের খেয়াল। (বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে- মনের পর্দায় নিজ চিন্তা বা কল্পনার প্রতিচ্ছবি)।
২। শয়তানের পক্ষ হতে ভীতি প্রদর্শন।
৩। আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে সুসংবাদ প্রদান।[সুত্রঃ সহিহুল বুখারি, কিতাবুত তা’বির, হাদিসঃ৬৫৩৪]

আমরা প্রতিনিয়ত ভালো-মন্দ দুই ধরণের স্বপ্ন দেখে থাকি। স্বপ্নের কথাগুলো আবার প্রকাশও করে ফেলি। অনেক সময় দেখা যায় যে স্বপ্নটা বাস্তবেও ফলে গেছে। যেমন কেউ একজন স্বপ্নে দেখলেন যে- একটা পরিচিত বাচ্চা পানিতে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। ঘুম থেকে জেগে স্বপ্নের কথাটা তিনি অন্যের নিকট প্রকাশ করার পর কেউ কেউ আশঙ্কা করলেন- “বাচ্চাটার পানিতে ডুবে মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” দেখা গেল, পরে সত্যিই বাচ্চাটার পানিতে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে। নিঃসন্দেহে সেটাই সেই বাচ্চাটার নিয়তি ছিল।তাহলে সেই বাচ্চাটার মৃত্যুর সাথে স্বপ্ন বা স্বপ্নের ব্যাখ্যার সম্পর্ক বা প্রভাব কী?অনেকেই এটাকে কেবল আল্লাহ্‌র ইচ্ছা বলেই চালিয়ে দেন। অথচ পবিত্র কুরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা যে কোন আজাব-গযবকে মানুষের নিজের ‘হাতের কামাই’ বা কর্মফল বলেই অভিহিত করেছেন।

আমাদের কোনোভাবেই ভুলে গেলে চলবে না- শয়তান মানুষের ক্ষতি করার একটা শক্তি আল্লাহ্‌র নিকট থেকেই প্রাপ্ত। ফলশ্রুতিতে, দুঃস্বপ্নের মন্দ ব্যাখ্যার কারণে শয়তান সেই সুযোগটা গ্রহণ করে ক্ষতির চেষ্টা করে থাকে। এজন্যই রসূল(সঃ) আমাদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন- “উত্তম স্বপ্ন হয় আল্লাহ্‌র তরফ থেকে এবং খারাপস্বপ্ন হয়ে থাকে শয়তানের পক্ষ থেকে।” [সহিহুল বুখারি, কিতাবুত তা’বির, হাদিসঃ৬৫০৩]।সুতরাং যে কোনো স্বপ্নকে কেবল নিজ চিন্তা বা কল্পনার ফলাফল বলে চালিয়ে দেয়াটা চূড়ান্ত অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছু নয়। কেননা, শয়তান আমাদেরকে জাগ্রত বা নিদ্রিত সর্বাবস্থায় প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে! অবশ্য আশার কথা হলো- দুঃস্বপ্নের কথা অন্যের নিকট প্রকাশ না করা পর্যন্ত শয়তান অপকর্ম করার সুযোগ পায় না। এই প্রসঙ্গে রসূল(সঃ) আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন যে-“তোমাদের মধ্যে কেউ যদি এরূপ স্বপ্ন দেখে, যা তার পছন্দনীয়, তবে তা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে। তারজন্য আল্লাহ্‌র কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা চাই এবং তা আলোচনা করাও বাঞ্ছনীয়। পক্ষান্তরে, যদিএমন বস্তু দেখে- যা সে পছন্দ করে না, তবে তা শয়তানের পক্ষ থেকে। এরঅপকার থেকে সে যেন আশ্রয় চায় এবং কারো সাথে এ বিষয়ে আলোচনা না করে। তবে তার কোনো অনিষ্ট হবে না। [সহিহুল বুখারি, কিতাবুত তা’বির, হাদিসঃ৬৫০৪]।

কোনো খারাপ স্বপ্ন দেখার পর করণীয় কী হবে, এ সম্পর্কে মহানবী(সঃ) দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেছেন,”ভালো স্বপ্ন আল্লাহ্‌র আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং যে এমন স্বপ্ন দেখে- যা তার অপছন্দনীয়; সে যেন তার বামদিকে তিনবার থুতু নিক্ষেপ করে এবং শয়তান হতে (আল্লাহ্‌র কাছে) আশ্রয় চেয়ে নেয়, তাহলে তার আর কোনো অনিষ্ট হবে না। আর শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না।”[সহিহুল বুখারি, কিতাবুত তা’বির, হাদিসঃ৬৫১৪]।নবীজি(সঃ) অন্যত্র আরো বলেছেন,কেউ কোনো অপছন্দনীয় বস্তু স্বপ্নে দেখলে তা অন্যের নিকট না বলে উঠে যেন নামায পড়ে। [সূত্রঃ সহিহুল বুখারি, কিতাবুত তা’বির, হাদিসঃ৬৫৩৪]।সুতরাং, স্বপ্নের তাবির সম্পর্কে কোনো ঈমানদার-মুমিন বা বিজ্ঞ আলেম ছাড়া অন্য কারো নিকট স্বপ্নের কথা প্রকাশ করা উচিত নয়। কেননা, উদাহরণ হিসেবে বাচ্চার পানিতে হাবুডুবু খাওয়া সংক্রান্ত স্বপ্নের ব্যাখ্যাটা বিজ্ঞ কোনো মুমিন ব্যক্তির নিকট বলা হলে ব্যাখ্যাটা হয়তো এরকম হতো- “এই শিশু অনেক জ্ঞানপিপাসু; একদিন সে অনেক বড় আলেম হতে পারে।” এই রকম কোনো ব্যাখ্যার কারণে শয়তানের সেখানে অংশ নেয়ার তাহলেআর কোনো সুযোগও থাকত না।হযরত ইউসুফ(আঃ) স্বপ্নের বিষয় তাঁর পিতার নিকট প্রকাশ করলে,”জবাবে পিতা বললেন, হে পুত্র! তোমার এ স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের নিকট বলবে না। তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে বড় ধরণের চক্রান্ত করবে; সত্য হল- শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।” [সূরাঃ ইউসুফ, আয়াতঃ৫]।শয়তান কিন্তু তখনই পিতা-পুত্রের এই আলাপচারিতা শুনে ফেলল এবং ইউসুফ(আঃ)-এর অন্যভাইদের জানিয়ে দিলে তারা শয়তানের প্ররোচনায় তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।অনেকসময় শয়তান আমাদেরকে অশ্লীল,অনৈতিক কর্মকান্ড বা হত্যার মতোকোনো ভীতিকর অবস্থা প্রদর্শনপূর্বক সন্ত্রস্ত্র করে ঈমান হরণের চেষ্টা করে থাকে। এই প্রসঙ্গে হযরত জাবির(রাঃ)-এর সুত্রে বর্ণিত-“একদা এক বেদুঈন তাঁর (রসূল সঃ-এর) কাছে আগমন করে বলল, আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে, আর আমি তার পেছনে পেছনে ছুটে চলছি। তখন রসূলুল্লাহ(সঃ) তাকে ধমক দিয়ে বললেন, ঘুমের মাঝে তোমার সঙ্গে শয়তানের খেলাধূলার সংবাদ কাউকে দিও না।” [সহীহুল মুসলিম, স্বপ্ন পরিচ্ছদ, হাদিসঃ৫৭৭১]।আবার শয়তান অনেক সময় আলেমের ছদ্মবেশ নিয়েও মুমিনদের ক্ষতি করার অপচেষ্টা করে থাকে। অনেক সময় নবীজি(সঃ)-এর রূপ ধারণের ব্যর্থ চেষ্টাও করতে পারে। তবে যারা নবীজি(সঃ)-এর সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করার চেষ্টা করে, শয়তান তাদের কাছ থেকে ব্যর্থ হয়েই পালিয়ে যায়।রসূল(সঃ) বলেছেন, “যে আমাকে স্বপ্নে দেখবে, সে সত্যই দেখবে। কারণ, শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না এবং ঈমানদারের স্বপ্ন নবুয়তের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।” [সহিহুল বুখারি, কিতাবুত তা’বির, হাদিসঃ৬৫১৩]অতএব, শয়তান যেন রসূল(সঃ)-এর রূপ ধারণের ব্যর্থ চেষ্টা করে কোনভাবেই আমাদেরকে চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য আমাদের উচিত, রসূল(সঃ)-এর সীরাত সম্পর্কে জানা এবং সেইমতো নিজেকে তাঁর প্রকৃত উম্মত হিসেবে পরিণত করারচেষ্টা করা। সেই সাথে শয়তানের প্রভাবমুক্তির জন্য আল্লাহ্‌র শেখানো এই দোয়া (সূরা নাস) পাঠ করতে থাকি-“আশ্রয় চাই তোমার কাছে, হে মানুষের রব!তুমি মালিক, আমরা তোমার সৃজিত মানব।হে মানুষের মহামহিম ইলাহ, মেহেরবান,করছে বিনাশ কুমন্ত্রনায় ভয়ানক শয়তান!লোকের কানে যুক্তি দিয়ে হয়ে যায় অচিন,কভু সফল হয় না যেন- দুষ্ট মানুষ, জ্বিন।'[কাব্যে আল-কুরআন, খন্ডঃ৩০, সুরাঃ না-স,

কারা কিভাবে হুসাইন (রা:) কে হত্যা করেছে? কি ঘোটেছিলো ঐ কারবালাতে

কারবালার ঘটনা সম্পর্কে জানেনা এমন লোক আমাদের সমাজে খুব একটা পাওয়া যাবে না। এমনকি আল্লাহ ও তার রাসুল (সাঃ) সম্পর্কে অথবা ঈমান/তাওহীদ সম্পর্কে জানেনা কিন্তু কারবালা নিয়ে রংচঙা একটা লেকচার দিতে পারবে এমন মুসলিম ও অনেক পাওয়া যাবে। কিন্তু এমন লোক কতজন পাওয়া যাবে যারা মীর মোশাররফের রুপকথা অথবা শিয়া’দের ষড়যন্ত্র বিবর্জিত এবং কোরআন সুন্নাহর মানদন্ডে উত্তীর্ন এবং তাবে-তাবেঈ বা তফসীরকারকদের বর্ননা থেকে প্রাপ্ত সত্য ঘটনাটি জানে? তাই, সস্তা আবেগকে পুজি করে রচিত ষড়যন্ত্রকারীদের মিথ্যা রটনার উপর বিশ্বাস করে ঈমান আকীদাহ কে হুমকির মুখে ফেলে না দেওয়া মুসলিম ভাইদের জন্য রচিত সত্য ও তথ্যভিত্তিক এই পোষ্টটি সত্যর সাহ্ম দেওয়া প্রতিটি মুসলিম ভাইকে সত্য বুঝতে সাহায্য করবে, মহান আল্লাহপাকের কাছে এই দোয়া করছি, আমীন।

১) ভূমিকা:

প্রশংসা মাত্রই আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর পরিবার এবং সকল সাহাবীর উপর।

সৌভাগ্যবান শহীদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৌহিত্র সায়্যেদ হোসাইন বিন আলী (রা:)এর কারবালার প্রান্তরে শহীদ হওয়াকে কেন্দ্র করে অনেক ঘটনাই প্রসিদ্ধ রয়েছে। আমাদের বাংলাদেশের অনেক মুসলিমের মধ্যে এ বিষয়ে বিরাট বিভ্রান্তি রয়েছে। দেশের রাষ্ট্র প্রতি, প্রধান মন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতাগণ, ইসলামী বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ এ দিন উপলক্ষে জাতির সামনে প্রতিবছর বিশেষ বাণী তুলে ধরেন। রেডিও, টেলিভিশন,সংবাদপত্র এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে থাকে। এ দিন আমাদের দেশে সরকারী ছুটি থাকে। তাদের সকলের কথা ঘুরে ফিরে একটাই। স্বৈরাচারী, জালেম, নিষ্ঠুর ও নরপশু ইয়াজিদের হাতে এ দিনে রাসূলের দৌহিত্র ইমাম হুসাইন নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। এ জন্য এটি একটি পবিত্র দিন। বিশেষ একটি সম্প্রদায় এ দিন উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। বিষাদসিন্ধু নামক একটি উপন্যাস পড়ে বা এর কিছু বানোয়াট ও কাল্পনিক কাহিনী শুনে সুন্নি মুসলিমগণও এ বিষয়ে ধুম্রজালে আটকা পড়েছেন।

জাতির ভুল-ভ্রান্তি সংশোধনের জন্য আজ আমি এ বিষয়ে সঠিক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য প্রকাশ করার কাজে অগ্রসর হতে বাধ্য হলাম। মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে সংক্ষিপ্ত আকারে একটি ভূমিকা পেশ করতে চাই। মন দিয়ে ভূমিকাটি পড়লে মূল বিষয় বুঝতে সহজ হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি আরও বিশ্বাস করি যে, আমার লেখাটি পড়ে এ বিষয়ে অনেকের আকীদাহ সংশোধন হবে। আর যারা বিষয়টি নিয়ে সংশয়ে আছেন, তাদেরও সংশয় কেটে যাবে ইনশাআল্লাহ।

ইমাম ইবনে কাছীর (র:) বলেন: প্রতিটি মুসলিমের উচিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৌহিত্র সায়্যেদ হেসাইন বিন আলী (রা:)এর কারবালার প্রান্তরে শহীদ হওয়ার ঘটনায় ব্যথিত হওয়া ও সমবেদনা প্রকাশ করা। তিনি ছিলেন মুসলিম জাতির নেতা ও ইমামদের অন্যতম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বশ্রেষ্ঠ কন্যা ফাতেমার পুত্র ইমাম হুসাইন (রা:) একজন বিজ্ঞ সাহাবী ছিলেন। তিনি ছিলেন একধারে এবাদত গুজার, দানবীর এবং অত্যন্ত সাহসী বীর। হাসান ও হুসাইনের ফজিলতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একাধিক সহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। অন্তর দিয়ে তাদেরকে ভালবাসা ঈমানের অন্যতম আলামত এবং নবী পরিবারের কোন সদস্যকে ঘৃণা করা ও গালি দেয়া মুনাফেকির সুস্পষ্ট লক্ষণ। যাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত কেবল তারাই ইমাম হুসাইন বা নবী পরিবারের পবিত্র সদস্যদেরকে ঘৃণা করতে পারে।

আহলে সুন্নত ওয়াল জামআতের আকীদাহ অনুযায়ী ইমাম হুসাইন বা অন্য কারও মৃত্যুতে মাতম করা জায়েজ নেই। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল মুসলিম জাতির বিরাট একটি গোষ্ঠী ইমাম হুসাইনের মৃত্যুতে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে থাকে। যারা হুসাইনের মৃত্যু ও কারবালার ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন, তাদের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন করা খুবই যুক্তিসংগত মনে করছি। যে সমস্ত সুন্নি মুসলিম সঠিক তথ্য না জানার কারণে এ ব্যাপারে সন্দিহান ও বিভ্রান্তিতে আছেন তাদের কাছেও আমার একই প্রশ্ন। প্রশ্নগুলো ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারলেই প্রকৃত ঘটনা বুঝা খুব সহজ হবে ইনশা-আল্লাহ।

প্রথম প্রশ্ন: হুসাইনের পিতা এবং ইসলামের চতুর্থ খলীফা আলী বিন আবু তালেব (রা:) হুসাইনের চেয়ে অধিক উত্তম ছিলেন। তিনি ৪০ হিজরী সালে রমযান মাসের ১৭ তারিখ জুমার দিন ফজরের নামাযের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় আব্দুর রাহমান মুলজিম খারেজীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। তারা হুসাইনের মৃত্যু উদযাপনের ন্যায় তাঁর পিতার মৃত্যু উপলক্ষে মাতম করে না কেন?

দ্বিতীয় প্রশ্ন: আহলে সুন্নত ওয়াল জামআতের আকীদাহ অনুযায়ী উসমান বিন আফ্ফান(রাঃ) ছিলেন আলী ও হুসাইন (রা:)এর চেয়ে অধিক উত্তম। তিনি ৩৬ হিজরী সালে যিল হজ্জ মাসের আইয়ামে তাশরীকে স্বীয় বাস ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় মাজলুম ভাবে নিহত হন। ন্যায় পরায়ণ এই খলীফাকে পশুর ন্যায় জবাই করা হয়েছে। তারা তাঁর হত্যা দিবসকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান করে না কেন?

তৃতীয় প্রশ্ন: এমনভাবে খলীফাতুল মুসলিমীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা:) উসমান এবং আলী (রা:) থেকেও উত্তম ছিলেন। তিনি ফজরের নামাযে দাঁড়িয়ে কুরআন তেলাওয়াত করছিলেন এবং মুসলমানদেরকে নিয়ে জামআতের ইমামতি করছিলেন। এমন অবস্থায় আবু লুলু নামক একজন অগ্নি পূজক তাঁকে দুই দিকে ধারালো একটি ছুরি দিয়ে আঘাত করে। সাথে সাথে তিনি ধরাশায়ী হয়ে যান এবং শহীদ হন। লোকেরা সেই দিনে মাতম করে না কেন?

চতুর্থ প্রশ্ন: ইসলামের প্রথম খলীফা এবং রাসূলের বিপদের দিনের সাথী আবু বকরের মৃত্যু কি মুসলিমদের জন্য বেদনাদায়ক নয়? তিনি কি রাসূলের পরে এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন না? তার মৃত্যু দিবসে তারা তাজিয়া করে না কেন?

পঞ্চম প্রশ্ন: সর্বোপরি নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়া ও আখেরাতে সমস্ত বনী আদমের সরদার। আল্লাহ্‌ তায়ালা তাঁকে অন্যান্য নবীদের ন্যায় স্বীয় সান্নিধ্যে উঠিয়ে নিয়েছেন। সাহাবীদের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর চেয়ে অধিক বড় আর কোন মুসীবত ছিল না। তিনি ছিলেন তাদের কাছে স্বীয় জীবন, সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের চেয়েও অধিক প্রিয়। তারপরও তাদের কেউ রাসূলের মৃত্যুতে মাতম করেন নি। হুসাইনের প্রেমে মাতালগণকে রাসূলের মৃত্যু দিবসকে উৎসব ও শোক প্রকাশের দিন হিসেবে নির্ধারণ করতে দেখা যায় না কেন?

ষষ্ঠ প্রশ্ন: সর্বশেষ প্রশ্ন হচ্ছে হুসাইনের চেয়ে বহুগুণ বেশী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মৃত্যু দিবসকে বাদ দিয়ে ইমাম হুসাইনের মৃত্যুকে বেছে নিয়ে এত বাড়াবাড়ি শুরু করা হল কেন? এর উত্তর আমার এই লেখার শেষ পর্যায়ে উলে¬খ করেছি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লেখাটি পাঠ করলে উত্তরটি সহজেই বোধগম্য হওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ সর্বোপরি ইসলামে কারও জন্ম দিবস বা মৃত্যু দিবস পালন করার এবং কারও মৃত্যুতে মাতম করা, উচ্চ স্বরে বিলাপ করা এবং অন্য কোন প্রকার অনুষ্ঠান করার কোন ভিত্তি নেই। শুধু তাই নয় এটি একটি জঘন্য বিদআত, যা পরিত্যাগ করা জরুরী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা তাঁর কোন সাহাবী কারও জন্ম দিবস বা মৃত্যু দিবস পালন করেন নি।

কারবালার ঘটনা

২) কারবালার প্রান্তরে রাসূলের দৌহিত্র হুসাইন (রা:) নিহত হওয়ার প্রকৃত ঘটনা :

৬০ হিজরিতে ইরাক বাসীদের নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, হুসাইন (রা:) ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া হাতে বয়াত করেন নি। তারা তাঁর নিকট চিঠি-পত্র পাঠিয়ে জানিয়ে দিল যে ইরাক বাসীরা তাঁর হাতে খেলাফতের বয়াত করতে আগ্রহী। ইয়াজিদকে তারা সমর্থন করেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিল। তারা আরও বলল যে, ইরাক বাসীরা ইয়াজিদের পিতা মুয়াবিয়া (রা:)এর প্রতিও মোটেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। চিঠির পর চিঠি আসতে লাগল। এভাবে পাঁচ শতাধিক চিঠি হুসাইন (রা:)এর কাছে এসে জমা হল।

প্রকৃত অবস্থা যাচাই করার জন্য হুসাইন (রা:) তাঁর চাচাতো ভাই মুসলিম বিন আকীলকে পাঠালেন। মুসলিম কুফায় গিয়ে পৌঁছলেন। গিয়ে দেখলেন, আসলেই লোকেরা হুসাইনকে চাচ্ছে। লোকেরা মুসলিমের হাতেই হুসাইনের পক্ষে বয়াত নেওয়া শুরু করল। হানী বিন উরওয়ার ঘরে বয়াত সম্পন্ন হল।

সিরিয়াতে ইয়াজিদের নিকট এই খবর পৌঁছা মাত্র বসরার গভর্নর উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য পাঠালেন। ইয়াজিদ উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদকে আদেশ দিলেন যে, তিনি যেন কুফা বাসীকে তার বিরুদ্ধে হুসাইনের সাথে যোগ দিয়ে বিদ্রোহ করতে নিষেধ করেন। সে হুসাইনকে হত্যা করার আদেশ দেন নি।

উবাইদুল্লাহ কুফায় গিয়ে পৌঁছলেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করতে লাগলেন এবং মানুষকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করলেন। পরিশেষে তিনি নিশ্চিত হলেন যে, হানী বিন উরওয়ার ঘরে হুসাইনের পক্ষে বয়াত নেওয়া হচ্ছে।

অতঃপর মুসলিম বিন আকীল চার হাজার সমর্থক নিয়ে অগ্রসর হয়ে দ্বিপ্রহরের সময় উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদের প্রাসাদ ঘেরাও করলেন। এ সময় উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ দাঁড়িয়ে এক ভাষণ দিলেন। তাতে তিনি ইয়াজিদের সেনা বাহিনীর ভয় দেখালেন। তিনি এমন ভীতি প্রদর্শন করলেন যে, লোকেরা ইয়াজিদের ধরপাকড় এবং শাস্তির ভয়ে আস্তে আস্তে পলায়ন করতে শুরু করল। ইয়াজিদের ভয়ে কুফা বাসীদের পলায়ন ও বিশ্বাস ঘাতকতার লোমহর্ষক ঘটনা জানতে চাইলে পাঠকদের প্রতি ইমাম ইবনে তাইমীয়া (র:) কর্তৃক রচিত মিনহাজুস সুন্নাহ বইটি পড়ার অনুরোধ রইল। যাই হোক কুফা বাসীদের চার হাজার লোক পালাতে পালাতে এক পর্যায়ে মুসলিম বিন আকীলের সাথে মাত্র তিন জন লোক অবশিষ্ট রইল। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর মুসলিম বিন আকীল দেখলেন, হুসাইন প্রেমিক আল্লাহর একজন বান্দাও তার সাথে অবশিষ্ট নেই। এবার তাকে গ্রেপ্তার করা হল। উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ তাকে হত্যার আদেশ দিলেন। মুসলিম বিন আকীল উবাইদুল্লাহএর নিকট আবেদন করলেন, তাকে যেন হুসাইনের নিকট একটি চিঠি পাঠানোর অনুমতি দেয়া হয়। এতে উবাইদুল্লাহ রাজী হলেন। চিঠির সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ছিল এ রকম:

“হুসাইন! পরিবার-পরিজন নিয়ে ফেরত যাও। কুফা বাসীদের ধোঁকায় পড়ো না। কেননা তারা তোমার সাথে মিথ্যা বলেছে। আমার সাথেও তারা সত্য বলেনি। আমার দেয়া এই তথ্য মিথ্যা নয়।”অতঃপর যুল হজ্জ মাসের ৯ তারিখ আরাফা দিবসে উবাইদুল্লাহ মুসলিমকে হত্যার আদেশ প্রদান করেন। এখানে বিশেষভাবে স্মরণ রাখা দরকার যে,মুসলিম ইতিপূর্বে কুফা বাসীদের ওয়াদার উপর ভিত্তি করে হুসাইনকে আগমনের জন্য চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠির উপর ভিত্তি করে যুলহাজ্জ মাসের ৮ তারিখে হুসাইন (রা:) মক্কা থেকে কুফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিলেন। অনেক সাহাবী তাঁকে বের হতে নিষেধ করেছিলেন। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর,আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর, আব্দুল্লাহ বিন আমর এবং তাঁর ভাই মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফীয়ার নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ইবনে উমর হুসাইনকে লক্ষ্য করে বলেন: হুসাইন! আমি তোমাকে একটি হাদীছ শুনাবো। জিবরীল (আঃ) আগমন করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুনিয়া এবং আখিরাত- এ দুটি থেকে যে কোন একটি গ্রহণ করার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। তিনি দুনিয়া বাদ দিয়ে আখিরাতকে বেছে নিয়েছেন। আর তুমি তাঁর অংশ। আল্লাহর শপথ! তোমাদের কেউ কখনই দুনিয়ার সম্পদ লাভে সক্ষম হবেন না। তোমাদের ভালর জন্যই আল্লাহ তোমাদেরকে দুনিয়ার ভোগ-বিলাস থেকে ফিরিয়ে রেখেছেন। হুসাইন তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন এবং যাত্রা বিরতি করতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর ইবনে উমর হুসাইনের সাথে আলিঙ্গন করে বিদায় দিলেন এবং ক্রন্দন করলেন।

সুফীয়ান ছাওরী ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ইবনে আব্বাস (রা:) হুসাইনকে বলেছেন: মানুষের দোষারোপের ভয় না থাকলে আমি তোমার ঘাড়ে ধরে বিরত রাখতাম।

বের হওয়ার সময় আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা:) হুসাইনকে বলেছেন: হোসাইন! কোথায় যাও? এমন লোকদের কাছে,যারা তোমার পিতাকে হত্যা করেছে এবং তোমার ভাইকে আঘাত করেছে?

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা:) বলেছেন: হুসাইন তাঁর জন্য নির্ধারিত ফয়সালার দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছেন। আল্লাহর শপথ! তাঁর বের হওয়ার সময় আমি যদি উপস্থিত থাকতাম, তাহলে কখনই তাকে যেতে দিতাম না। তবে বল প্রয়োগ করে আমাকে পরাজিত করলে সে কথা ভিন্ন। (ইয়াহ্-ইয়া ইবনে মাঈন সহীস সূত্রে বর্ণনা করেছেন)

যাত্রা পথে হুসাইনের কাছে মুসলিমের সেই চিঠি এসে পৌঁছল। চিঠির বিষয় অবগত হয়ে তিনি কুফার পথ পরিহার করে ইয়াজিদের কাছে যাওয়ার জন্য সিরিয়ার পথে অগ্রসর হতে থাকলেন। পথিমধ্যে ইয়াজিদের সৈন্যরা আমর বিন সাদ, সীমার বিন যুল জাওশান এবং হুসাইন বিন তামীমের নেতৃত্বে কারবালার প্রান্তরে হুসাইনের গতিরোধ করল। হুসাইন সেখানে অবতরণ করে আল্লাহর দোহাই দিয়ে এবং ইসলামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনটি প্রস্তাবের যে কোন একটি প্রস্তাব মেনে নেওয়ার আহবান জানালেন।

হুসাইন বিন আলী (রা:) এবং রাসূলের দৌহিত্রকে ইয়াজিদের দরবারে যেতে দেয়া হোক। তিনি সেখানে গিয়ে ইয়াজিদের হাতে বয়াত গ্রহণ করবেন। কেননা তিনি জানতেন যে, ইয়াজিদ তাঁকে হত্যা করতে চান না। অথবা তাঁকে মদিনায় ফেরত যেতে দেয়া হোক।

অথবা তাঁকে কোন ইসলামী অঞ্চলের সীমান্তের দিকে চলে যেতে দেয়া হোক। সেখানে তিনি মৃত্যু পর্যন্ত বসবাস করবেন এবং রাজ্যের সীমানা পাহারা দেয়ার কাজে আত্ম নিয়োগ করবেন। (ইবনে জারীর হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন)

ইয়াজিদের সৈন্যরা কোন প্রস্তাবই মানতে রাজী হল না। তারা বলল: উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ যেই ফয়সালা দিবেন আমরা তা ব্যতীত অন্য কোন প্রস্তাব মানতে রাজী নই। এই কথা শুনে উবাইদুল্লাহএর এক সেনাপতি (হুর বিন ইয়াজিদ) বললেন: এরা তোমাদের কাছে যেই প্রস্তাব পেশ করছে তা কি তোমরা মানবে না? আল্লাহর কসম! তুর্কী এবং দায়লামের লোকেরাও যদি তোমাদের কাছে এই প্রার্থনাটি করত, তাহলে তা ফেরত দেয়া তোমাদের জন্য বৈধ হত না। এরপরও তারা উবাইদুল্লাহএর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতেই দৃঢ়তা প্রদর্শন করল। সেই সেনাপতি ঘোড়া নিয়ে সেখান থেকে চলে আসলেন এবং হুসাইন ও তাঁর সাথীদের দিকে গমন করলেন। হুসাইনের সাথীগণ ভাবলেন: তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করতে আসছেন। তিনি কাছে গিয়ে সালাম দিলেন। অতঃপর সেখান থেকে ফিরে এসে উবাইদুল্লাহএর সৈনিকদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে তাদের দুইজনকে হত্যা করলেন। অতঃপর তিনিও নিহত হলেন। (ইবনে জারীর হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন)

সৈন্য সংখ্যার দিক থেকে হুসাইনের সাথী ও ইয়াজিদের সৈনিকদের মধ্যে বিরাট ব্যবধান ছিল। হুসাইনের সামনেই তাঁর সকল সাথী বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে নিহত হলেন। অবশেষে তিনি ছাড়া আর কেউ জীবিত রইলেন না। তিনি ছিলেন সিংহের মত সাহসী বীর। কিন্তু সংখ্যাধিক্যের মুকাবিলায় তার পক্ষে ময়দানে টিকে থাকা সম্ভব হল না। কুফা বাসী প্রতিটি সৈনিকের কামনা ছিল সে ছাড়া অন্য কেউ হুসাইনকে হত্যা করে ফেলুক। যাতে তার হাত রাসূলের দৌহিত্রের রক্তে রঙ্গিন না হয়। পরিশেষে নিকৃষ্ট এক ব্যক্তি হুসাইনকে হত্যার জন্য উদ্যত হয়। তার নাম ছিল সীমার বিন যুল জাওশান। সে বর্শা দিয়ে হুসাইনের শরীরে আঘাত করে ধরাশায়ী করে ফেলল। অতঃপর ইয়াজিদ বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে তিনি শাহাদাত অর্জনের সৌভাগ্য লাভ করেন।

বলা হয় এই সীমারই হুসাইনের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। কেউ কেই বলেন: সিনান বিন আনাস আন্ নাখঈ নামক এক ব্যক্তি তাঁর মাথা দেহ থেকে আলাদা করে। আল্লাহই ভাল জানেন।

৩) ফুরাত নদীর পানি পান করা থেকে বিরত রাখার কিচ্ছা:

বেশ কিছু গ্রন্থ তাকে ফুরাত নদীর পানি পান করা থেকে বিরত রাখার ঘটনা বর্ণনা করে থাকে। আর বলা হয় যে,তিনি পানির পিপাসায় মারা যান। এ ছাড়াও আরও অনেক কথা বলে মানুষকে আবেগময় করে যুগে যুগে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং মূল সত্যটি উপলব্ধি করতে তাদেরকে বিরত রাখার হীন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ সব কাল্পনিক গল্পের কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। ঘটনার যতটুকু সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে আমাদের জন্য ততটুকুই যথেষ্ট। কোন সন্দেহ নেই যে, কারবালার প্রান্তরে হুসাইন নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বেদনা দায়ক। ধ্বংস হোক হুসাইনের হত্যাকারীগণ! ধ্বংস হোক হুসাইনের হত্যায় সহযোগীরা! আল্লাহর ক্রোধ তাদেরকে ঘেরাও করুক। আল্লাহ্‌ তায়ালা রাসূলের দৌহিত্র শহীদ হুসাইন এবং তাঁর সাথীদেরকে আল্লাহ তায়ালা স্বীয় রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা আচ্ছাদিত করুক।

৪) কারবালার প্রান্তরে হুসাইনের সাথে আরও যারা নিহত হয়েছেন:

আলী (রা:)এর সন্তানদের মধ্যে থেকে আবু বকর, মুহাম্মাদ, উসমান, জাফর এবং আব্বাস।

হোসাইনের সন্তানদের মধ্যে হতে আবু বকর, উমর, উসমান, আলী আকবার এবং আব্দুল্লাহ।

হাসানের সন্তানদের মধ্যে হতে আবু বকর, উমর, আব্দুল্লাহ এবং কাসেম।

আকীলের সন্তানদের মধ্যে হতে জাফর, আব্দুর রাহমান এবং আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন আকীল।

আব্দুল্লাহ বিন জাফরের সন্তানদের মধ্যে হতে আউন এবং আব্দুল্লাহ। ইতি পূর্বে উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদের নির্দেশে মুসলিম বিন আকীলকে হত্যা করা হয়। আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট হোন। আমীন

হুসাইন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে আকাশ থেকে রক্তের বৃষ্টি হওয়া, সেখানের কোন পাথর উঠালেই তার নীচ থেকে রক্ত প্রবাহিত হওয়া এবং কোন উট জবাই করলেই তা রক্তে পরিণত হয়ে যাওয়ার ধারণা মিথ্যা ও বানোয়াট। মুসলমানদের আবেক ও অনুভূতিকে জাগিয়ে তুলে তাদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্যই এ সমস্ত বানোয়াট ঘটনা বলা হয়ে থাকে। এগুলোর কোন সহীহ সনদ নেই।

ইমাম ইবনে কাছীর (র:) বলেন: হুসাইনের মৃত্যুর ঘটনায় লোকেরা উল্লেখ করে থাকে যে, সে দিন কোন পাথর উল্টালেই রক্ত বের হত, সে দিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, আকাশের দিগন্ত লাল হয়ে গিয়েছিল এবং আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হয়েছিল। এসব কথা সন্দেহ মূলক। প্রকৃত কথা হচ্ছে, এগুলো বিশেষ একটি গোষ্ঠীর বানোয়াট ও মিথ্যা কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা বিষয়টিকে বড় করার জন্য এগুলো রচনা করেছে।

কোন সন্দেহ নেই যে, কারবালার ময়দানে সপরিবারে হুসাইনের শাহাদাত বরণ একটি বিরাট ঘটনা। কিন্তু তারা এটিকে কেন্দ্র করে যে মিথ্যা রচনা করেছে, তার কোনটিই সংঘটিত হয় নি।

ইসলামের ইতিহাসে হুসাইনের মৃত্যুর চেয়ে অধিক ভয়াবহ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। সে সমস্ত ঘটনায় উপরোক্ত বিষয়গুলোর কোনটিই সংঘটিত হয় নি। হুসাইনের পিতা আলী (রা:) আব্দুর রাহমান মুলজিম খারেজীর হাতে নির্মম ভাবে নিহত হন। সকল আলেমের ঐকমতে হুসাইনের চেয়ে আলী (রা:) অধিক শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত ছিলেন। তার শাহাদাতের দিন কোন পাথর উল্টালেই রক্ত বের হয় নি, সে দিন সূর্যগ্রহণ হয় নি, আকাশের দিগন্ত লাল হয়ে যায় নি এবং আকাশ থেকে পাথরও বর্ষিত হওয়ারও কোন প্রমাণ নেই।

উসমান বিন আফফান (রা:)এর বাড়ি ঘেরাও করে বিদ্রোহীরা তাঁকে হত্যা করে। তিনি মজলুম অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে এসবের কোনটিই সংঘটিত হয় নি। উসমান (রা:)এর পূর্বে খলীফাতুল মুসলিমীন উমর ইবনুল খাত্তাব ফজরের নামাযে দাঁড়ানোর সময় নির্মমভাবে নিহত হন। এই ঘটনায় মুসলিমগণ এমন মুসীবতে পড়েছিলেন,যা ইতিপূর্বে কখনও পড়েন নি। তাতে উপরোক্ত লক্ষণগুলো দেখা যায় নি।

আল্লাহর সর্বশেষ্ঠ বান্দা সমগ্র নবী-রাসূলের সরদার রাহমাতুল লিল আলামীন মৃত্যু বরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে এমন কিছু সংঘটিত হয় নি। যেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিশু পুত্র ইবরাহীম মৃত্যু বরণ করেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। লোকেরা বলতে লাগল: ইবরাহীমের মৃত্যুতে আজ সূর্যগ্রহণ হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্যগ্রহণের নামায আদায় করলেন এবং খুতবা প্রদান করলেন। খুতবায় তিনি বর্ণনা করলেন যে, সূর্য এবং চন্দ্র কারও মৃত্যু বা জন্ম গ্রহণের কারণে আলোহীন হয় না। এগুলো আল্লাহর নিদর্শন। তিনি এগুলোর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদেরকে ভয় দেখিয়ে থাকেন।

৬) হুসাইনের বের হওয়া ন্যায় সংগত ছিল কি?

বিজ্ঞ সাহাবীদের মতে কুফার উদ্দেশ্যে হুসাইনের বের হওয়াতে কল্যাণের কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় নি। এ জন্যই অনেক সাহাবী তাঁকে বের হতে নিষেধ করেছেন এবং তাঁকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি বিরত হন নি। কুফায় যাওয়ার কারণেই ঐ সমস্ত জালেম ও স্বৈরাচারেরা রাসূলের দৌহিত্রকে শহীদ করতে সক্ষম হয়েছিল। তার বের হওয়া এবং নিহত হওয়াতে যে পরিমাণ ফিতনা ও ফসাদ সৃষ্টি হয়েছিল, মদিনায় অবস্থান করলে তা হওয়ার ছিল না। কিন্তু মানুষের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালা ও তকদীরের লিখন বাস্তবে পরিণত হওয়া ছাড়া ভিন্ন কোন উপায় ছিল না। হুসাইনের হত্যায় বিরাট বড় অন্যায় সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু তা নবীদের হত্যার চেয়ে অধিক ভয়াবহ ছিল না। আল্লাহর নবী ইয়াহ-ইয়া (আঃ)কে পাপিষ্ঠরা হত্যা করেছে। জাকারিয়া (আঃ)কেও তাঁর জাতির লোকেরা নির্মমভাবে শহীদ করেছে। এমনি আরও অনেক নবীকে বনী ইসরাইলরা কতল করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

قل قد جاءكم رسل من قبلي بالبينات وبالذي قلتم فلم قتلتموهم إن كنتم صادقين

“তুমি তাদের বলে দাও, তোমাদের মাঝে আমার পূর্বে বহু রসূল নিদর্শনসমূহ এবং তোমরা যা আবদার করেছ তা নিয়ে এসেছিলেন, তখন তোমরা কেন তাদেরকে হত্যা করলে যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৩) এমনভাবে উমর, উসমান ও আলী (রা:)কেও হত্যা করা হয়েছে। সুতরাং তাঁর হত্যা কাণ্ড নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করার কোন যুক্তি নেই।

৭) কারবালার ঘটনাকে আমরা কিভাবে মূল্যায়ন করব?

যে মুসলিম আল্লাহকে ভয় করে তার জন্য হুসাইনের নিহত হওয়ার ঘটনা স্মরণ করে বিলাপ করা, শরীর জখম করা,গাল, মাথা ও বুক থাবড়ানো বা এ রকম অন্য কিছু করা জায়েজ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

এটা কোন ইসলাম? ইসলাম কি এমন কাজ সমর্থন করে?

ليس منا من لطم الخدود و شق الجيوب

“যে ব্যক্তি মুসীবতে পড়ে নিজ গালে চপেটাঘাত করল এবং শরীরের কাপড় ছিঁড়ল, সে আমাদের দলের নয়।” (বুখারী)

তিনি আরও বলেন: “মুসীবতে পড়ে বিলাপকারী, মাথা মুন্ডনকারী এবং কাপড় ও শরীর কর্তনকারীর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।”

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন: إن النائحة إذا لم تتب فإنها تلبس يوم القيامة درعاً من جرب و سربالاً من قطران

মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপকারী যদি তওবা না করে মারা যায়, তাকে কিয়ামতের দিন খাঁজলীযুক্ত (লোহার কাঁটাযুক্ত) কোর্তা পড়ানো হবে এবং আলকাতরার প্রলেপ লাগানো পায়জামা পড়ানো হবে। (মুসলিম)

তিনি আরও বলেন: أربع في أمتي من أمر الجاهلية لا يتركونهن: الفخر في الأحساب و الطعن في الأنساب و الاستسقاء بالنجوم و النياحة

“আমার উম্মতের মধ্যে জাহেলী যুগের চারটি স্বভাব বিদ্যমান রয়েছে। তারা তা ছাড়তে পারবে না। (১) বংশ মর্যাদা নিয়ে গর্ব করা, (২) মানুষের বংশের নাম তুলে দুর্নাম করা, (৩) তারকারাজির মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা এবং (৪) মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ করা। তিনি আরও বলেন: মানুষের মাঝে দুটি জিনিষ রয়েছে, যা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। মানুষের বংশের বদনাম করা এবং মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ করা।” (মুসলিম)

তিনি আরও বলেন: النياحة من أمر الجاهلية و إن النائحة إذا ماتت و لم تتب قطع الله لها ثيابا من قطران و درعاً من لهب النار “মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ করা জাহেলিয়াতের অন্তর্ভুক্ত। বিলাপকারী যদি তওবা না করে মারা যায়, তাকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ আলকাতরার প্রলেপ লাগানো জামা পড়াবেন এবং অগ্নি শিখা দ্বারা নির্মিত কোর্তা পরাবেন।” (ইবনে মাজাহ)

একজন বিবেকবান মুসলিমের উপর আবশ্যক হচ্ছে সে এ ধরণের মুসীবতের সময় আল্লাহর নির্দেশিত কথা বলবে। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন: الذين إذا أصابتهم مصيبة قالوا إنا لله وإنا إليه راجعون

“যখন তাঁরা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয়ই আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তারই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো।” (সূরা বাকারাঃ ১৫৬)

হুসাইনের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র আলী বিন হুসাইন, মুহাম্মাদ এবং জাফর জীবিত ছিলেন। তাদের কেউ হুসাইনের মৃত্যুতে মাতম করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। তারা ছিলেন আমাদের হেদায়েতের ইমাম ও আদর্শ।

বিলাপ করা, গাল ও বুকে চপেটাঘাত করা বা এ জাতীয় অন্য কোন কাজ কখনই এবাদত হতে পারে না। আশুরার দিনে ক্রন্দনের ফজিলতে যে সমস্ত বর্ণনা উল্লেখ করা হয় তার কোনটিই বিশুদ্ধ নয়। বিলাপ করা জাহেলী জামানার আচরণ বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে তা থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন।

৮) মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ করার ক্ষেত্রে শিয়া মাজহাবের মতামত:

বিলাপ থেকে বিরত থাকার আদেশ শুধু সুন্নি মুসলিম বা বনী উমাইয়াদের জন্য নয় কিংবা এটি কেবল তাদেরই আচরণ নয় যে, শিয়ারা তা গ্রহণ করতে পারেন না; বরং আহলে বাইতের কথাও তাই। আহলে সুন্নত এবং শিয়া উভয় শ্রেণীর নিকটই মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ করা নিষিদ্ধ।

শিয়া আলেম ইবনে বাবুওয়াই আল-কুম্মী বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: বিলাপ করা জাহেলী জামানার কাজ। (দেখুন শিয়াদের কিতাব: من لايحضره الفقيه)

মাজলেসী থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে, النياحة عمل الجاهلية অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির উপর উচ্চ স্বরে রোদন করা জাহেলিয়াতের কাজ। (দেখুন: বিহারুল আনওয়ার ১০/৮২)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ ধরণের নিষেধাজ্ঞার কারণেই আহলে সুন্নত ওয়াল জামআতের লোকেরা যে কোন মুসীবতের সময় মাতম ও বিলাপ করা থেকে বিরত থাকেন।

৯) আশুরার দিনে আমাদের করণীয় কীঃ

সুন্নি মুসলিমগণ এই দিনে রোজা রাখেন। কারণ এটি এমন একটি দিন যাতে আল্লাহ তায়ালা মুসা ও তাঁর জাতির লোকদেরকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফেরাউন সম্প্রদায়কে পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছেন। আহলে সুন্নত ওয়াল জামআতের লোকেরা মনে করেন, খালেস দিলে রোজা অবস্থায় হুসাইনের জন্য দুয়া করা জাহেলী জামানার আচরণের মত মাতম ও বিলাপ করার চেয়ে অনেক উত্তম। এ দিনে রোজাদারের জন্য দুটি কল্যাণ রয়েছে। একটি হচ্ছে সম্মানিত দিনে রোজা রাখার ফযিলত আর অন্যটি হচ্ছে, রোজা অবস্থায় দুয়া করার ফজিলত। এই দুআর একটি অংশ বা সম্পূর্ণটাই তিনি ইচ্ছা করলে হুসাইনের জন্য করতে পারেন।

আশুরার দিনে রোজা রাখার ফজিলতে যা বর্ণিত হয়েছে:

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِي اللَّه عَنْهمَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ وَجَدَهُمْ يَصُومُونَ يَوْمًا يَعْنِي عَاشُورَاءَ فَقَالُوا هَذَا يَوْمٌ عَظِيمٌ وَهُوَ يَوْمٌ نَجَّى اللَّهُ فِيهِ مُوسَى وَأَغْرَقَ آلَ فِرْعَوْنَ فَصَامَ مُوسَى شُكْرًا لِلَّهِ فَقَالَ أَنَا أَوْلَى بِمُوسَى مِنْهُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ

“আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় আগমন করে দেখলেন ইহুদীরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এটি কোন রোজা। তারা উত্তর দিল যে, এটি একটি বিরাট পবিত্র দিন। এদিনে আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাইলকে তাদের শত্র“দের কবল থেকে পরিত্রাণ দিয়েছেন। তাই মুসা (আঃ) এ দিন রোজা রেখেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন: তাদের চেয়ে মুসা (আঃ)এর সাথে আমার সম্পর্ক অধিক। সুতরাং তিনি রোজা রাখলেন এবং সাহাবীদেরকে রোজা রাখার আদেশ দিয়েছেন।” (বুখারী)

عَنْ عَائِشَةَ رَضِي اللَّه عَنْهَا قَالَتْ كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ تَصُومُهُ قُرَيْشٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُهُ فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ كَانَ رَمَضَانُ الْفَرِيضَةَ وَتُرِكَ عَاشُورَاءُ فَكَانَ مَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ لَمْ يَصُمْهُ (بخارى(

“আয়েশা (রা:) বলেন: আইয়ামে জাহেলিয়াতেও কুরাইশরা আশুরার রোজা রাখত। রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামও এ দিনে রোজা রাখতেন। মদিনায় হিজরত করে এসেও তিনি এ দিন রোজা রেখেছেন এবং লোকদেরকে রোজা রাখার আদেশ দিয়েছেন। যখন রমাযানের রোজা রাখা ফরজ করা হল তখন আশুরার রোজা ছেড়ে দিলেন। সুতরাং তখন থেকে যার ইচ্ছা রোজা রাখত আর যার ইচ্ছা রোজা রাখা ছেড়ে দিত।” (বুখারী)

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) হতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে,

حِينَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهم عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ قَالَ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আশুরার রোজা রাখলেন এবং রোজা রাখার আদেশ দিলেন, তখন সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটি তো এমন একটি দিন, যাতে ইয়াহুদ-নাসারারাও সম্মান করে। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আগামী বছর ইনশা-আল্লাহ্‌ নয় তারিখেও রোজা রাখবো। কিন্তু আগামী বছর আসার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন। (বুখারী)

১০) শিয়াদের বর্ণনায় আশুরার রোজা:

আলী বিন আবু তালেব (রা:) বলেন:

صوموا العاشوراء ، التاسع والعاشر ، فإنّه يكفّر الذنوب سنة

তোমরা আশুরার অর্থাৎ নয় এবং দশ তারিখে রোজা রাখো। কেননা ইহা পূর্বের এক বছরের গুনাহকে মোচন করে দেয়। (দেখুন: الاستبصار ২/১৩৪ (الحر العاملي في وسائل الشيعة৭/৩৩৭)

জাফর (রা:) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আশুরার রোজা এক বছরের গুনাহর কাফফারা স্বরূপ।

কয়েক জন কন্টাকী বক্তা কার কত রেট

আলেমরা মানবসমাজে ফেতনা সৃষ্টি করছে। এরা হচ্ছে সেই আলেম দাবীদার গোষ্ঠী যারা ধর্মকে তাদের ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছে।
.
ধর্ম এসেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আর আল্লাহ হলেন সত্যের চূড়ান্ত রূপ। মানুষ যখন তাঁর থেকে আগত সত্যকে ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে সামগ্রীক জীবনে ধারণ করে তখন সমাজ শান্তিময় হয়, ন্যায়বিচারে পূর্ণ হয়। তিনি স্বয়ং ধর্মের মাধ্যমে মানব সমাজে মূর্ত হন, প্রকাশিত হন। যারা ধর্মের শিক্ষা দিয়ে, ধর্মের কাজ করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করে, ধর্মকে জীবিকার হাতিয়ারে পরিণত করে তারা সমাজে প্রচলিত অন্যায়ের বিরূদ্ধে সত্যভাষণের শক্তি ও যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।

.
সে যখন একজন অসাধু ব্যক্তির থেকে সুবিধা গ্রহণ করে তখন তার মস্তক সেই টাকার কাছে বিকিয়ে যায়, সেই সাথে ধর্মও বিক্রি হয়ে যায়। সে ঐ অসাধু ব্যক্তির অপকর্মের প্রতিবাদ তো করতেই পারে না, উল্টো কীভাবে অসাধু ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষায় ধর্মের ফতোয়া ব্যবহার করা যায় সেই ফিকির করতে থাকে।
.
এভাবে ধর্মের নামে অধর্ম সমাজে প্রচলিত হয়ে যায়। যে ধর্ম এসেছিল মানুষের কল্যাণের জন্য, সেই ধর্মের নামেই মানুষের অকল্যাণ করা হয়। যে ধর্ম এসেছিল জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সেই ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক হানাহানি শুরু হয়।

.
এই ফেতনা সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কী হবে?
আল্লাহর রাসুল এই কথাটি সুস্পষ্টভাবে বলে গেছেন যে, তাঁর উম্মাহর মধ্যে কারা ফেতনা সৃষ্টি করবে। তিনি বলেছেন, এমন সময় আসবে যখন ১. ইসলাম শুধু নাম থাকবে, ২.কোরআন শুধু অক্ষর থাকবে, ৩. মসজিদসমূহ জাঁকজকমপূর্ণ ও লোকে লোকারণ্য হবে কিন্তু সেখানে হেদায়হ থাকবে না, ৪. আমার উম্মাহর আলেমরা হবে আসমানের নিচে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব, ৫. তাদের তৈরী ফেতনা তাদের ওপর পতিত হবে। (আলী রা: থেকে বায়হাকী, মেশকাত)

.
ধর্ম থেকে ফায়দা হাসিলকারীদের হৃদয় কেমন হবে সেটাও রাসুলাল্লাহ সুস্পষ্টভাষায় বলে গেছেন। তিনি বলেন, শেষ যামানায় কিছু লোকের উদ্ভব হবে যারা পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ধর্মকে প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। তারা জনগণের সামনে ভেড়ার পশমের মতো কোমল পোশাক পরবে। তাদের মুখের ভাষা হবে চিনির চেয়ে মিষ্টি; কিন্তু হৃদয় হবে নেকড়ে বাঘের মতো হিংস্র। আল্লাহ তা’আলা তাদের বলবেন, তোমরা কি আমার বিষয়ে ধোঁকায় পড়ে আছ, নাকি আমার প্রতি ধৃষ্টতা দেখাচ্ছ? আমর শপথ! আমি তাদের উপর তাদের মধ্য হতেই এমন বিপর্যয় আপতিত করব, যা তাদের খুবই সহনশীল ব্যক্তিদের পর্যন্ত হতবুদ্ধি ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে ছাড়বে। (আবু হোরায়রাহ রা. থেকে তিরমিজি)