মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স:) এর ৩০ টি মুখের বাণী

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স:) এর ৩০ টি মুখের বাণী

নবীজির বাণী গুলো আপনিও পড়ুন এবং ফ্রেন্ডসদের মাঝে শেয়ার করুন

১.জান্নাতের চাবি হলো – ‘ আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই ’ এ সাক্ষ্য দেয়া । ( আহমদ )
শব্দার্থ : ‘ ইলাহ’ মানে হুকুমকর্তা , আইনদাতা , আশ্রয়দাতা, ত্রাণকর্তা, উপাস্য, প্রার্থনা শ্রবণকারী।
২.আল্লাহ সুন্দর ! তিনি সৌন্দর্যকেই পছন্দ করেন। [ সহীহ মুসলিম ]

৩. শ্রেষ্ঠ কথা চারটি :
ক. সুবহানাল্লাহ – আল্লাহ পবিত্র ,
খ. আল হামদুলিল্লাহ – সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর ,
গ. লা – ইলাহা ইল্লাল্লাহ – আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই,
ঘ. আল্লাহু আকবর – আল্লাহ মহান। [ সহীহ মুসলিম ]

আল্লাহর অধিকার

৪. বান্দাহর উপর আল্লাহর অধিকার হলো , তারা কেবল তাঁরই আনুগত্য ও দাসত্ব করবে এবং তাঁর সাথে কোনো অংশীদার বানাবেনা । [ সহীহ বুখারী ]

ঈমান

৫.বলো : ‘ আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি ; অতপর এ কথার উপর অটল থাকো । [ সহীহ মুসলিম ]
৬. ঈমান না এনে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। [ তারগীব ]
৭. যে কেউ এই ঘোষণা দেবে : ‘ আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই আর মুহাম্মদ সাঃ আল্লাহর রসূল ’ – আল্লাহ তাকে জাহান্নামের জন্যে নিষিদ্ধ করে দেবেন।[ সহীহ বুখারী ]

ঈমান থাকার লক্ষণ

৮. তুমি মুমিন হবে তখন , যখন তোমার ভালো কাজ তোমাকে আনন্দ দেবে , আর মন্দ কাজ দেবে মনোকষ্ট। [ আহমদ ]

ইসলাম

৯. সব কাজের আসল কাজ হলো ‘ ইসলাম’ । [ আহমদ ]
১০. কোনো বান্দাহ ততোক্ষণ পর্যন্ত মুসলিম হয়না , যতোক্ষণ তার মন ও যবান মুসলিম না হয়। [ তাগরীব ]

পবিত্রতা

১১. পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। [ সহীহ মুসলিম ]
১২ . যে পূত পবিত্র থাকতে চায় , আল্লাহ তাকে পূত পবিত্র রাখেন। [ সহীহ বুখারী ]

সালাত

১৩. সালাত জান্নাতের চাবি। [ আহমদ ]
শব্দার্থ : সালাত – নামায । জান্নাত – বেহেশত।
১৪ . সালাত হলো ‘ নূর’ । [ সহীহ মুসলিম ]
১৫. সালাত আমার চক্ষু শীতলকারী । [ নাসায়ী ]
১৬. পবিত্রতা সালাতের চাবি । [ আহমদ ]
১৭. সালাত মুমিনদের মি’রাজ । [ মিশকাত ]

শব্দার্থ : মি’রাজ মানে – উর্ধ্বে গমন করা বা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।

১৮. যে পরিশুদ্ধ হয়না , তার সালাত হয়না। [ মিশকাত ]
১৯. সাত বছর বয়স হলেই তোমাদের সন্তানদের সালাত আদায় কতে আদেশ করো । [ আবু দাউদ ]
২০. কিয়ামতের দিন পয়লা হিসাব নেয়া হবে সালাতের । [ তাবরানি ]
২১ . আল্লাহর অনুগত দাস আর কুফরীর মাঝে মিলন সেতু হলো সালাত ত্যাগ করা । [ সহীহ মুসলিম ]
২২ . যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্যে সালাত পড়লো , সে শিরক করলো । [ আহমদ ]

সাওম

২৩ . সাওম একটি ঢাল। [ মিশকাত ]

শব্দার্থ : সাওম – রোজা।

২৪. সাওম এবং কুরআন বান্দার জন্যে সুপারিশ করবে । [ বায়হাকী ]
২৫. যখন রমযান শুরু হয় , তখন রহমতের দুয়ার খুলে দেয়া হয়। [ সহীহ বুখারী ]
২৬. তোমাদের মাঝে বরকতময় রমযান মাস এসেছে। আল্লাহ তোমাদের উপর এ মাসের সিয়াম সাধনা ফরয করে দিয়েছেন। [ নাসায়ী ]

হজ্জ ও উমরা

২৭. হজ্জ ও উমরা পালনকারীরা আল্লার মেহমান। [ মিশকাত ]

আল্লাহর পথে জিহাদ

২৮ . আল্লাহর পথে একটি সকাল কিংবা একটি সন্ধ্যা ব্যয় করা গোটা পৃথিবী এবং পৃথিবীর সমস্ত সম্পদের চেয়ে উত্তম। [ সহীহ বুখারী ]
২৯. যে লড়ে যায় আল্লাহর বাণীকে বিজয়ী করার জন্যে সেই আল্লাহর পথে ( জিহাদ করে ) । [ সহীহ বুখারী ]
৩০. অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলা সবচেয়ে বড় জিহাদ। [ তিরমিযী ]

আল আকসা সম্পর্কে যে ৯টি অজানা তথ্য যা সবার জানা উচিত?

১) কুরআনে উল্লেখিত আল-মাসজিদুল আকসা মানে, চার দেয়ালের ভেতরের অংশ ও চৌহদ্দির বাইরে দক্ষিণ দিকের কিছু অংশ। পুরোটা মিলেই ‘হারাম’ বা পবিত্র এলাকা। এই চৌহদ্দির যে কোনও স্থানে সালাত আদায় করলেই ‘আল-আকসায়’ সালাতের ফজিলত মিলবে। এর আয়তন ১৪৪০০০ বর্গমিটার।

(২) আল মাসজিদুল আকসা মানে শুধু ‘আল-জামেউল কিবালি’ বা শুধু ‘কুব্বাতুস সাখরা’ নয়। পুরো কমপ্লেক্সটাকেই আল-মাসজিদুল আকসা বলা হয়।

(৩) চার দেয়ালের অভ্যন্তরে, পুরো কমপ্লেক্সে অনেক স্থাপনা আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হল দু’টি :

ক. আল-জামেউল কিবালি তথা দক্ষিণ দিকের পুরনো মসজিদটা। এটাই মূল মসজিদে আকসা। ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এটা নির্মাণ করেছিলেন। সহিহ হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রথম মসজিদ মক্কার বায়তুল্লাহ। তার চল্লিশ বছর পর নির্মিত হয়েছে বায়তুল মুকাদ্দাস।

খ. কুব্বাতুস সাখরা বা ডোম অব দি রক। সোনালি গম্বুজওয়ালা মসজিদটা। কমপ্লেক্সের উত্তর দিকের প্রায় মাঝামাঝিতে অবস্থিত। গম্বুজটা খেলাফতে রাশেদার যুগে ছিল না। মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু), ইয়াযিদ বা মারওয়ানের যুগেও ছিল না। এটা নির্মিত হয়েছে ৬৯১ খ্রিস্টাব্দে পঞ্চম উমাইয়া খলিফা আবদুল মালেক বিন মারওয়ানের (৬৮৫-৭০৫) শাসনামলে।

(৪) সাখরা (الصخرة) অর্থ পাথরখণ্ড বা ‘রক’। কুব্বাতুন (قبة) অর্থ গম্বুজ বা ‘ডোম’। পুরো কমপ্লেক্সের মধ্যে, এই পাথরখণ্ডটা ছিল উঁচু ভূমিতে। এই পাথরখণ্ডটাই ছিল পূর্বেকার নবীগণের কিবলার কেন্দ্রবিন্দুতে। অর্থাৎ এই পাথরখণ্ডকে কিবলার মূলবিন্দু ধরে সবাই সালাত আদায় করতেন। মদিনায় আসার পর মুসলমানরা এই ‘সাখরার’ দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছিল প্রায় ষোল মাস।

ইহুদিরাও এই পাথরখণ্ডকে মূল কেন্দ্রবিন্দু ধরে তাদের উপাসনা করত। কিছু খ্রিস্টান উপদলও এটাকে কিবলা মানত। উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করে দেখলেন, পাথরখণ্ডটা ময়লা-অবর্জনার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। খ্রিস্টানরা পরিকল্পিতভাবেই ‘সাখরার’ ওপর তাদের সমস্ত ময়লা-নোংরা ফেলত। তারা এটা করত ইহুদিদের অপমান করার জন্য। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দেখামাত্র ময়লা সরানোর নির্দেশ দেন। নিজেও ময়লা সরানোর কাজে লেগে পড়েন।

(৫) সাখরার আশপাশ পরিষ্কার করার পর, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একটা মসজিদ নির্মাণ করার প্রস্তুতি নিলেন। মসজিদটা কোথায় কিভাবে নির্মাণ করবেন, সে ব্যাপারে পরামর্শ করলেন। একপর্যায়ে কথা বললেন, কা‘বে আহবারের সঙ্গে। তিনি একজন তাবেয়ী। ইহুদি থেকে মুসলমান হয়েছেন। মুসলমান হওয়ার আগে তিনি একজন ইহুদি পণ্ডিত ছিলেন। এজন্য তাকে ‘আহবার’ বলা হয়। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)র প্রশ্নের উত্তরে কা‘ব বললেন, মসজিদটা সাখরার পেছনে মানে পূর্বপাশে নির্মাণ করতে পারেন। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার কথা শুনে বললেন, ‘হে ইহুদি মায়ের বেটা, তোমার মধ্যে এখনো ইহুদিবাদ মিশে আছে। আমি বরং মসজিদটা সাখরার সামনে নির্মাণ করব।’

(৬) কা‘বের কথামত সাখরার পেছনে মানে পূর্বপাশে মসজিদটা নির্মাণ করলে সাখরা থাকবে সমজিদের সামনে। মানে মুসলমানরা যদিও কা‘বার দিকে মুখ করে দাঁড়াবে, কিন্তু পাশাপাশি আগের কিবলা ও ইহুদিদের কিবলা ‘সাখরা’ও মুসলমানদের সামনে পড়ে যাবে। এতে একপ্রকার ইহুদিদের কিবলার অনুসরণ হয়ে যাবে। দূরদর্শী উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) চট করেই ব্যাপারটা ধরে ফেলেছিলেন। তিনি মন্তব্য করলেন, তোমার মধ্যে এখনো আগের ইহুদিবাদের গন্ধ রয়ে গেছে। পুরনো কিবলার প্রতি দুর্বলতা রয়ে গেছ

(৭) সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীগণের কেউ রক বা সাখরার কাছে সালাত আদায় করেননি। এখানে কোনও স্থাপনাও ছিল না। সাখরা একসময় মুসলমানদের কিবলা ছিল। পরে মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে। এখন মুসলমানদের কাছে সাখরার বাড়তি কোনও মূল্য নেই। সালাফের কেউ আল-আকসায় গেলে, মসজিদে কিবালি মানে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক নির্মিত মসজিদেই সালাত আদায় করতেন। পূর্বসুরী সালাফের কাছে সাখরা কোনও গুরুত্ব পেত না। মানসুখ বিষয়ের প্রতি আলগা দরদ ইসলাম সমর্থন করে না। এসব দরদ ফিতনা সৃষ্টি করে। (মাজমুয়া রাসায়েলে ইবনে তাইমিয়া রহ. অবলম্বনে)

(৮) ইহুদিদের কাছেও এই কমপ্লেক্সটা কয়েকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। যথা-

ক. কারণ তাদের প্রাচীন কিবলা এই কমপ্লেক্সের ভেতরে। ডোম অব দি রক বা কুব্বাতুস সাখরার নিচে। পাশাপাশি মুসলমানরাও মনে করে, এই সাখরা থেকেই নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মেরাজের রাতে উর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন।

খ. সাখরার নিচে একটা গুহা আছে। সেখানে সালাত আদায় করার মতো একটা মেহরাব আছে। সেটাকে বলা হয় (মুসাল্লাল আম্বিয়া) নবীগণের সালাতের স্থান।

গ. হায়েতুল বুরাক বা বোরাকের দেয়াল। এখানে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মেরাজের রাতে তাঁর বোরাক বেঁধেছিলেন। আমরা এই দেয়ালকে বলি ‘হায়েতুল বুরাক’। ইহুদিরা এই দেয়ালকে বলে, ওয়েলিং ওয়াল বা ওয়েস্টার্ন ওয়াল। এটার অবস্থান কুব্বাতুস সাখরা ও মসজিদে কিবালির মাঝামাঝিতে। পশ্চিম দিকস্থ সীমানা প্রাচীরের কিছু অংশ। ইহুদিরা মনে করে, এই প্রাচীর সুলাইমান (আ.) যে মসজিদ বা হায়কাল নির্মাণ করেছিলেন, তার অবশিষ্টাংশ। বিশ্বের বড় নেতাদের কেউ গেলে এই দেয়ালের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা যেমন কাবাঘরে যাই, ইহুদিরাও এই ওয়ালের কাছে আসে। তাওরাত-তালমুদ পাঠ করে। আমাদের হেফযখানার তালিবে ইলমদের মতো আগে পিছে দুলে দুলে। দুআ মুনাজাত করে এবং কাঁদে।

(৯) পুরো কমপ্লেক্সের দিকটাও ঠিক করে নেয়া জরুরি। কমপ্লেক্সটাকে লম্বালম্বিভাবে আমরা উত্তরী-দক্ষিণী ধরে নিতে পারি। এই হিসেবে, কুব্বাতুস সাখরা আছে কমপ্লেক্সের উত্তর দিকের মাঝামাঝিতে। জামে কিবালি বা পুরনো গম্বুজের মসজিদটি আছে কমপ্লেক্সের দক্ষিণ দিক ঘেঁষে

 

জেনে নিন মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখলে ইসলামের বিধান কি?

পরকালে কোন মানুষ কি অবস্থায় আছে তা একমাত্র আল্লাহ পাক ছাড়া কেউ বলতে পারে না। তবে অনেকেই ঘুমের মধ্যে মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্ন দেখেন। ধরে নেয়া হয় স্বপ্নের মাঝে মৃত ব্যক্তিকে যে অবস্থাতে দেখা যায়, ওটাই তার প্রকৃত অবস্থা।

অর্থ্যাৎ যদি কেউ মৃত ব্যক্তিকে ভাল পোশাক পরা অবস্থায় বা সুস্বাস্থের অধিকারী দেখে, তাহলে বুঝতে হবে সে ভাল অবস্থায় আছে। আর যদি জীর্ণ, শীর্ণ স্বাস্থ্য বা খারাপ পোশাকে দেখে তাহলে বুঝতে হবে, ভাল নেই। তার জন্য তখন বেশি করে মাগফিরাত কামনা ও দোআ-প্রার্থনা করতে হবে।

ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, বিদ্রোহীরা যখন উসমান (রা)- এর বাসভবন ঘেরাও করেছিল, তখন উসমান (রা) বলেন, আমি গত রাতে স্বপ্ন দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, উসমান আমাদের সাথে তুমি ইফতার করবে। আর ঐ দিনই উসমান (রা) শহীদ হলেন। (আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)

আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, আবু মূসা আশ আশআরী (রা) বললেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি একটি পাহাড়ের কাছে গেলাম। দেখলাম, পাহাড়ের উপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রয়েছেন ও পাশে আবু বকর (রা)। আবু বকর (রা) তার হাত দিয়ে ওমর (রা) এর দিকে ইশারা করছেন। আমি আবু মূসা (রা) এ স্বপ্নের কথা শুনে বললাম, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। আল্লাহর শপথ! ওমর (রা) তো মারা যাবেন! আচ্ছা আপনি কি বিষয়টি ওমর (রা) লিখে জানাবেন?

আবু মূসা (রা) বললেন, আমি ওমর (রা) তার জীবদ্দশায তার নিজের মৃত্যু সংবাদ জানাব, এটা কি করে হয়? এর কয়েকদিন পরই স্বপ্নটা সত্যে পরিণত হল। ওমর (রা) শহীদ হয়ে গেলেন। কারণ, মৃত্যু পরবর্তী সত্য জগত থেকে যা আসে, তা মিথ্যা হতে পারে না। সেখানে অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ নেই। (আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)

তাই মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখলে সর্বাবস্থায় জরুরিভাবে তাদের জন্য দো‘আ ও ছাদাক্বা করা উচিত। মানুষের স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে (ক) ভাল স্বপ্ন- যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বহন করে (খ) শয়তানের পক্ষ থেকে- যা মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলে (গ) নিজের খেয়াল ও কল্পনা- যা স্বপ্নে দেখা যায় (মুসলিম হা/২২৬৩)।স্বপ্নে ভাল কিছু দেখলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে। চাইলে অন্যকেও সে বিষয়ে অবহিত করবে। আর খারাপ কিছু দেখলে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইবে, বাম দিকে তিনবার আঊযুবিল্লাহ বলে থুক মারবে এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করবে। কাউকে সে বিষয়ে বলবে না (বুখারী হা/৭০৪৫)।

নাপাক অবস্থায় খাবার গ্রহণ করা জায়েজ আছে কী?

নাপাক অবস্থায় শুধু কোরআন পড়া, স্পর্শ করা, মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ পড়া যাবে না। এ ছাড়া, খাওয়া দাওয়া, লেখাপড়া ও অন্যান্য কাজ করা যাবে।

তবে নাপাক অবস্থায় বেশিক্ষণ থাকা ঠিক নয়। মেয়েরা পিরিয়ডকালীন রোজাও রাখতে পারবেন না।

তবে স্বামী-স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে নাপাক হয়েছে এই অবস্থায় সেহেরি খেয়ে রোজা রাখতে পারবে।

এতে রোজার কোনো সমস্যা হবে না। এক্ষেত্রে ফজর নামাজের আগে তাদেরকে গোসলের মাধ্যমে পাক হতে হবে।

আবার রোজা অবস্থায় ঘুমের মধ্যে কারো স্বপ্নদোষের মাধ্যমে নাপাকি ঘটলে রোজা নষ্ট হবে না। ফরজ গোসল করে পবিত্র হয়ে নিতে হবে।

জেনে নিন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা বাড়াতে মহানবী (সা.) যা করতে বলেছেন

মহান রাব্বুল আলামিনের একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম বলছে, পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ স্থাপিত না হলে পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়া যায় না, শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করা যায় না, এমনকি জান্নাতও লাভ করা যাবে না।

তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) মোমিনদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ বৃদ্ধির জন্য একটি চমৎকার পন্থা বাতলে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘তোমরা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার না হবে, তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ স্থাপন করবে। আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ের কথা বলব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ প্রতিষ্ঠিত হবে? সাহাবিরা বললেন, নিশ্চয় ইয়া রাসুলাল্লাহ! (তিনি বললেন) ‘তোমাদের মধ্যে বহুল পরিমাণে সালামের প্রচলন করো।’ (মুসলিম : ৮১)।

অর্থ্যাৎ স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা বাড়াতে অবশ্যই প্রতিটি মুসলমানকে একে অপরকে সালাম দেয়ার অভ্যাস তৈরি করতেই হবে।

স্বামী বিদেশে থাকলে স্ত্রীর করণীয় কি? জেনে নিন ইসলাম কি বলে…

স্বামী বিদেশে থাকলে তার দ্বীন ও দুনিয়া বিষয়ক সকল কিছুর দায়িত্বশীলা হয় স্ত্রী।স্বামী ঘরে থাকতে যে দায়িত্ব সে পালন করে, সে ঘরে না থাকলেও অনুরূপ দায়িত্ব পালনে তৎপর থাকে।আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই দ্বায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব-বিষয়ে (মিয়ামতে) কৈফিয়ত করা হবে। ইমাম (রাষ্ট্রনায়ক তার রাষ্ট্রের) একজন দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারে দায়িত্বশীল, সে সে তার দায়িত্ব- বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। মহিলা তার স্বামী-গৃহের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব- বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। চাকর তার মুনিবের অর্থের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব- বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।

তোমাদের প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব- বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।”(বুখারী ৮৯৩, ৫১৮৮ প্রভৃতি, মুসলিম ১৮২৯)

দায়িত্বশীলা আদর্শ স্ত্রীর দুই চেহারা হতে পারে না। তার মধ্যে মুনাফিকী, কপটতা ও প্রবঞ্চনা থাকতে পারে না। সামনে এক, পিছনে অন্য এক হাত হতে পারে না।

অদৃশ্যভাবে ঈমান বড় ঈমান। অদৃশ্যভাবে ভয় আসল ভয়। পিছনে শ্রদ্ধা প্রকৃত শ্রদ্ধা। পিছনের প্রশংসাই প্রকৃত প্রশংসা। স্বামী দূরে থাকলেও তাকে যে মেনে চলে, সেই হল খাটি স্ত্রী। মহান আল্লাহ এমন প্রশংসা করে বলেন,

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاء بِمَا فَضَّلَ اللّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُواْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللّهُ وَاللاَّتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلاَ تَبْغُواْ عَلَيْهِنَّ سَبِيلاً إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا

পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।(সূরা-নিসা-আয়াত ৩৪)

মহানবী (সাঃ) বলেন, “সৌভাগ্যের স্ত্রী সেই; যাকে দেখে স্বামী মুগ্ধ হয়। সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকে। আর দুর্ভাগার স্ত্রী হল সেই; যাকে দেখে স্বামীর মন তিক্ত হয়, যে স্বামীর উপর জিভ লম্বা করে (লানতান করে) এবং সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে ঐ স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে সে নিশ্চিন্ত হতে পারে না।”(হাকেম, সিলসিলাহ সহীহাহ ১০৪৭ নং)

তিনি আরো বলেন, “তিন ব্যক্তির ব্যাপারে জিজ্ঞাসাই করো না (তারা ধ্বংসগ্রস্ত); এমন ব্যক্তি, যে ঐক্যবদ্ধ জামাআত ত্যাগ করে এবং রাষ্ট্রনেতার অবাধ্য হয়ে মারা যায়। এমন ক্রীতদাস বা দাসী, যে নিজের প্রভু থেকে পালিয়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে।

এবং এমন স্ত্রী, যার স্বামী বিদেশে থাকে, সে তার সাংসারিক যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করে গিয়ে থাকে, অথচ সে তার পশ্চাতে বেপর্দা হয়। এদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাই করো না।”( আদাবুল মুফরাদ বুখারী, ইবনে হিব্বান, হাকেম প্রমুখ)

নামাজের মধ্যে রাকায়াত সংখ্যা ভুলে গেলে যা করতে হয় ?

মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে থাকেন।

কিন্তু অনেকেই আছেন যারা নামাজে অধিক মনোযোগ দেয়ার জন্য অনেক সময় রাকায়াত সংখ্যা মনে থাকে না। নামাজরত অবস্থায় যদি রাকায়াত সংখ্যা ভুলে যান তাহলে আপনি কী করবেন?

প্রথম রাকাত পড়লাম নাকি দ্বিতীয় রাকাত? মনের মধ্যে যদি এমন প্রশ্ন উদিত হয়, তাহলে মন যে দিকে ঝুঁকবে বা সায় দিবে তাই গ্রহণ করতে হবে।

আর যদি কোনো দিকেই মন না ঝুঁকে তাহলে কম তথা এক রাকাত ধরতে হবে। তবে এই প্রথম রাকাতে বসে তাশাহহুদ পড়বে, কেননা হতে পারে প্রকৃতপক্ষে এটাই দ্বিতীয় রাকাত। দ্বিতীয় রাকাতেও বসে তাশাহহুদ পড়বে।

তৃতীয় রাকাতেও বসে তাশাহহুদ পড়বে, কেননা হতে পারে এটি চতুর্থ রাকাত। তারপর চতুর্থ রাকাতে সাজদায়ে সাহু করে নিবে। যদি সন্দেহ হয় যে, দ্বিতীয় রাকায়াত পড়লাম, নাকি তৃতীয় রাকাত? তাহলে তার হুকুমও এরূপ।

যদি মন কোনো দিকে না ঝুকে তাহলে দ্বিতীয় রাকাত ধরে নিবে এবং এই রাকাতে বসে তাশাহহুদ পড়বে এবং এটা বিতর নামাজ হলে এ রাকাতেও দুয়ায়ে কুনুত পড়বে।

তৃতীয় রাকাতেও বসবে। তারপর চতুর্থ রাকাতে সিজদায়ে সাহু সহকারে নামাজ শেষ করবে। যদি সন্দেহ হয় যে, তৃতীয় রাকাত পড়লাম, নাকি চতুর্থ রাকাত? তাহলে তার হুকুম অনুরূপ।

কোনো দিক মন না ঝুঁকলে তিন রাকাত ধরে নিবে। কিন্তু এই তৃতীয় রাকাতেও বসে তাশাহুদ পড়তে হবে। তারপর চতুর্থ রাকাতে সিজদায়ে সাহু সহকারে নামাজ শেষ করবে।

যদি নামাজ শেষ করার পর সন্দেহ হয় যে, এক রাকাত কম রয়ে গেলে কিনা? তাহলে এই সন্দেহের কোনো মূল্য নেই। নামাজ হয়ে গেছে। অবশ্য যদি সঠিকভাবে স্মরণ আসে যে, এক রাকাত কম রয়ে গেছে,

তাহলে দাঁড়িয়ে আরও এক রাকাত পড়ে নিবে এবং সিজদায়ে সাহু সহকারে নামাজ শেষ করবে।

কিন্তু যদি ইতোমধ্যে এমন কোনো কাজ করে থাকে যাতে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যায় (যেমন কেবলা থেকে ঘুরে বসে থাকা বা কথা বলে থাকা) তাহলে নতুন নিয়ত বেঁধে সম্পূর্ণ নামাজ পুনরায় পড়তে হবে।

আর প্রথম অবস্থায়ও নতুনভাবে নামাজ পুনরায় পড়ে নেয়া উত্তম; জরুরি নয়। শেষ কথা, উপরোক্ত কোন ব্যাখ্যা যদি আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে না হয়, তাহলে আপনি নামাজ ভেঙে পুনরায় নিয়্যত করে নামাজ আদায় করবেন।

ইমামের পেছনে নামাজ পড়লে কী কোনো সূরা পড়তে হবে?

ইমামের পেছনে নামাজ পড়লে কী কোনো সূরা পড়তে হবে? একজন ইমামের পেছনে নামাজ পড়ার সময় কী করণীয় আছে?

সর্বপ্রথম কী করতে হবে? নামাজে দাঁড়াতে কোনো দোয়া দুরুদ কী পড়তে হবে?

ইমাম সাহেব যখন সূরা পড়বেন তখন মুসল্লিরা কী করবে?

অনুগ্রহপূর্বক এই বিষয় পুরোপুরি জানাবেন। দেখা যাচ্ছে, ইমাম সাহেব নামাজ পড়াচ্ছেন, কিন্তু একজন মুসল্লি দুই রাকাআত /এক রাকাআত/ তিন রাকাআত / নামাজ পায়নি। তখন ওই মুসল্লীর করণীয় কী?

উত্তর:
ইমাম যখন নামাজে আওয়াজ দিয়ে কেরাত পড়েন তখন মোক্তাদির শুধু কেরাত শুনলে চলবে (ফজর, মাগরিব, এশার নামাজে)। আর নীরবে কেরাত শোনার সময় মোক্তাদি শুধু সূরা ফাতিহা আস্তে আস্তে পড়বেন। এরপর আর কোনো সূরা পড়তে হবে না। নামাজের অন্য কাজ ইমামের মতই করবেন। তাকবির দিয়ে নামাজ শুরু করে ছানা পড়া, রুকু সিজদার দোয়া, তাশাহুদ, দুরুদশরীফসহ সকল কিছুই মোক্তাদির করতে হবে ইমামকে অনুসরণ করে। ইমামের আগে করা যাবে না।

জামাতে নামাজ পড়াকালীন কোনো রাকাআতের রুকুতে গিয়ে যদি এক তাসিবহ পরিমাণ সময় আপনি পান তাহলে ঐ রাকাআতকে এক রাকাআত হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ- আপনি বাহির থেকে এসে দেখলেন ইমাম সাহেব রুকুতে গেছেন, আপনিও তার সাথে রুকুতে গিয়ে একবার তাসবিহ পাঠ করতে পারলেন। এরমধ্যে ইমাম রুকু থেকে দাঁড়িয়ে গেলেন। এতে আপনি পুরো এক রাকাআত পেয়ে গেলেন।

এখন আপনি যদি নামাজের প্রথম রাকাআত মিস করেন তাহলে ইমাম সালাম ফিরানো শেষ করার পর দাঁড়িয়ে এক রাকাআত নামাজ আদায় করবেন। এই এক রাকাআত নামাজে আপনি সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা বা আয়াত পড়বেন। রুকু করবেন, সিজদা করবেন এরপর বসে তাশাহুদ, দুরুদ ও দোয়া পড়ে সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন।

প্রথম দুই রাকাআত না পেলে আপনি দুই রাকাআত নামাজ ফাতিহা ও সূরা মিলিয়ে পড়বেন। আগের মতো রুকু সিজদা করবেন। দ্বিতীয় রাকাআতের সিজদার পর তাশাহুদ ইত্যাদি পড়ে নামাজ শেষ করবেন।
তিন রাকাআত নামাজ ছুটে গেলে:

প্রথম এক রাকাআত সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু করবেন। দুই সিজদার পর বসে যাবেন। এরপর তাশাহুদ পড়ে দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়াবেন। পরে আবার সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ে রুকু করবেন। দুই সিজদাহ দিয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন। এরপর শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে আরো এক রাকাআত নামাজ পড়ে শেষ বৈঠকের মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন।

আর যদি চার রাকাআত নামাজ মিস করেন। অর্থাৎ- আপনি জামাতে শরিক হয়েছেন চার রাকাআতের রুকুর পর। এতে আপনি ইমামের সাথে জামাতে যুক্ত হলেন। কিন্তু চার রাকাআত নামাজ আপনার ছুটে গেছে। এই অবস্থায় ইমাম সালাম ফিরানোর পর পুরো চার রাকাআত নামাজ আপনি পড়ে নিবেন। প্রথম দুই রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা এবং শেষ দুই রাকাআতে শুধু সূরা ফাতিহা দিয়ে নামাজ পড়বেন।

মাগরিবের প্রথম দুই রাকাআত ছুটে গেলে করণীয়:
ইমাম নামাজ শেষ করলে আপনি দাঁড়িয়ে প্রথম এক রাকাআত সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু করবেন। এরপর দুই সিজদাহ করার পর দাঁড়িয়ে যাবেন না। তাশাহুদ পড়ে তারপর দাঁড়াবেন এবং আবারো সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে পড়ে আরো এক রাকাআত নামাজ পড়বেন এবং শেষ বৈঠক দিয়ে নামাজ শেষ করবেন।

এখানে চার রাকাআত ওয়ালা নামাজের প্রথম দুই রাকাআত ছুটে যাওয়া নামাজ আদায় এবং তিন রাকাআত ওয়ালা (মাগরিব) নামাজের প্রথম দুই রাকাআত ছুটে যাওয়া নামাজ আদায়ের মধ্যে একটু পার্থক্য আছে। মাগরিবের ছুটে যাওয়া দুই রাকাআতেই বৈঠক দিতে হয়। প্রথম রাকাআতের পর শুধু তাশাহুদ পরের রাকাআত শেষে শেষ বৈঠকে দিয়ে শেষ করতে হয়।

জান্নাতি হতে হলে নিচের এই দশটি আমল করুন

জান্নাত পেতে কে না চায়। তবে জান্নাত পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা যে আমলগুলো আমাদের করতে বলেছেন সে আমলগুলো আমরা করি কি? যদি না করে থাকে তাহলে আজই তাওবা করে নিচের এই দশটি আমল করুন।

১। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন বস্তুর কথা বলব না, যার ওপর আমল করলে তোমরা অগ্রগামীদেরকে পেয়ে যাবে এবং তোমাদের পরবর্তী কেউ তোমাদের ধারেকাছে আসতে পারবে না? আর তোমরা হবে সর্বোত্তম তাদের মধ্যে? তবে তারা তোমাদের মত হতে পারবে, যারা অনুরূপ আমল করবে। প্রতি নামাযের পর তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ বলবে, তেত্রিশবার আলহামদুলিল্লাহ এবং তেত্রিশবার আল্লাহু আকবার বলবে। আর একশত পূর্ণ করবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কদীর।’ (বুখারী শরীফ, হাদীস-৭৯৮)

২। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশত বার ‘ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কদীর’ বলবে, সে দশজন গোলাম আযাদ করার সাওয়াব পাবে।

তার আমলনামায় একশটি নেকি লিখে দেয়া হবে। তার গুনাহের খাতা থেকে একশটি গুনাহ মুছে দেয়া হবে। আর সেই দিন সন্ধা হওয়া পর্যন্ত তাকে শয়তান থেকে নিরাপদে রাখা হবে। তারমত এমন উত্তম আমল কেউ করেনি, তবে সেই ব্যক্তি, যে তার চেয়ে

বেশি পড়েছে। (বুখারী শরীফ, হাদীস-৩০৫০)

৩। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দিনে একশত বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী’ বলবে, তার গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়া হবে। যদিও তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হোক না কেন। (বুখারী শরীফ, হাদীস-৫৯২৬)

৪। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, দুটি বাক্য, মুখে উচ্চারণ করতে অতি হালকা, মিযানের পাল্লায় অতি ভারি, আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। ‘সুবহানাল্লাাহি ওয়া বিহামদিহী’ এবং ‘সুবহানাল্লাহিল আযীম’। (বুখারী শরীফ, হাদীস-৫৯২৭)

৫। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, পৃথিবীর যাবতীয় বস্তু থেকে ‘সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ বলা আমার নিকট অনেক বেশি প্রিয়। (মুসলিম শরীফ, হাদীস-৪৮৬১)

৬। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার বিনিময়ে তার উপর দশটি রহমত নাযিল করবেন।’ (মুসলিম শরীফ, হাদীস-৫৭৭)

৭। হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অধিকাংশ সময় রাসূলুল্লাহ সা. এই দুআ করতেন, ‘আল্লাহুম্মা আ-তিনা ফিদ-দুন-য়া হাসানাতান, ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতান, ওয়াকিনা আযাবান নার’। (বুখারী শরীফ, হাদীস-৫৯১০)

৮। হযরত আবু মুসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবনে কায়স! আমি কি তোমাকে জান্নাতের খনিসমূহের একটি খনির সন্ধান তোমাকে দেব না? আমি বললাম, অবশ্যই দিন ইয়া রাসূলাল্লাহ সা.! তিনি বললেন, তা হলো ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’।

(মুসলিম শরীফ, হাদীস-৪৮৭৫)

৯। হযরত শাদ্দাদ ইবনে আউস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, সমস্ত ইস্তেগফারের সর্দার হলো ‘আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, খলাকতানী ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাস-তাতাতু, আউযু বিকা মিন শাররি মা ছনাতু, আবু-উ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবু-উ লাকা বিযামবী, ফাগফিরলী, ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা’।

যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দিনের বেলা এটি পাঠ করবে এবং সন্ধার পূর্বে মারা যাবে, সে নিশ্চিত জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি রাতে পাঠ করবে এবং সকাল হওয়ার আগেই মারা যাবে, সেও নিশ্চিত জান্নাতে প্রবেশ করবে।

(বুখারী শরীফ, হাদীস-৫৮৩১) ১০। হযরত জুওয়াইরিয়া বিনতে হারেস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, আমি তোমার নিকট থেকে যাবার পর চারটি বাক্য তিনবার বলেছি। যদি উহাকে ওজন করা হয় তুমি এতক্ষণ যা বলেছ তার সাথে, তবে আমার তিনবার বলা চারটি বাক্যই বেশি ভারি হবে। ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী আদাদা খলকিহী, ওয়া রিযা নাফসিহী, ওয়া যিনাতা আরশিহী, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহী’। (মুসলিম শরীফ, হাদীস-৪৯০৫)