যে সাত শ্রেণির মানুষকে কবরে কোনো প্রশ্ন করা হবে না !

মহান আল্লাহর অনুগ্রহে কিছু মানুষ এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন যে, তাকে কবরদেশে সুওয়াল জাওয়াবের সম্মুখীন হতে হবে না। এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারীদের মধ্যে …

প্রথমে আসবে শহিদদের নাম। রাসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, শহিদদেরকে কবরে প্রশ্ন করা হবে না। কেননা মাথায় তরবারির আঘাত কবরের বিপদ হতে কম নয়। যদি তার অমত্মরে আল্লাহর ভয় না থেকে মুনাফেকি থাকতো তাহলে সে তরবারির ভয়ে পালিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু সে এমনটি করেনি। কাজেই প্রমাণিত হলো, সে তার ঈমানের ক্ষেত্রে সত্যিই মুখলিস বা নিষ্ঠাবান ছিলো।

দ্বিতীয় ব্যক্তি হলো, সীমান্তরক্ষী সৈনিক; যাকে প্রতিনিয়ত শত্রুদলের সঙ্গে সংগ্রাম ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যেতে হয়। এ ব্যক্তির আলোচনা কুরআনে কারিমেও এসেছে, হাদিসে রাসুলের মাঝেও এসেছে। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন,

يَاأَيُّهَاالَّذِينَآمَنُواْاصْبِرُواْوَصَابِرُواْوَرَابِطُواْ

তৃতীয় ব্যক্তি হলো, যিনি মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, কেননা সহিহ হাদিসের ভাষ্যমতে সেও শহিদদের মিছিলের একজন।

চতুর্থ ব্যক্তি হলো, আপাদমস্তক আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর সত্যনিষ্ঠ আস্থা ও বিশ্বাসের অধিকারী সত্যবাদী সিদ্দিক। যাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কোথাও মিথ্যার লেশমাত্র নেই। নবিদের পরই তাঁদের স্থান। ইমাম তিরমিযি ও ইমাম কুরতুবি [রহ.] এভাবে সুস্পষ্ট বর্ণনা করেছেন। উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে অকাট্যভাবে প্রতিভাত হয় যে, আল্লাহর প্রেরীত সকল নবি রাসুলও কবরে সুওয়াল জাওয়াবের সম্মুখীন হবেন না। কেননা তাঁদের স্থান তো সিদ্দিক থেকে কত সহস্র ঊর্ধ্বে।

পঞ্চম ব্যক্তি হলো, অপ্রাপ্ত বয়সে কোনো শিশু মারা গেলে তাকে সুওয়ালের সম্মুখীন হতে হবে না। প্রখ্যাত আকাইদবিদ আল্লামা নাসাফি [রহ.] দৃঢ়তার সঙ্গে বিষয়টি ব্যক্ত করেছেন। ইমাম নববি [রহ.]ও অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইবনে সালাহ [রহ.] বলেন, শিশু মারা গেলে তাকে কালিমায়ে শাহাদাতের তালকিন করার দরকার নেই।

আর পাগল ও বোকা লোকদের কবরে সুওয়াল জওয়াব করা হবে কিনা এ বিষয়ে ইমাম ফাকেহানি [রহ.] মৌনতা অবলম্বন করেছেন। তদ্রুপ যে ব্যক্তি দুই নবির পৃথিবীতে আগমনের মধ্যবর্তী যুগে মারা গেছেন, তাকেও কবরে সুওয়াল করা হবে কিনা? এ বিষয়েও কোনো মত প্রকাশ করেননি। রওযা নামক কিতাবে এ বর্ণনা এসেছে, যে ব্যক্তি শরিয়তের দৃষ্টিতে মুকাল্লাফ [যার ওপর শরিয়তের হুকুম-আহকাম বর্তিত হয়] বা তার সমগোত্রীয়, একমাত্র তাকে সুওয়াল করা হবে। এছাড়া অন্য কাউকে নয়।

ষষ্ঠ ব্যক্তি হলো, ওই ব্যক্তি যে জুমার দিনে বা রাতে মারা যাবে তাকেও কবরে সুওয়াল করা হবে না। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার ফজিলত সম্পর্কিত একটি হাদিসে তা উল্লেখ করেছেন।উক্ত হাদিসটিকে ইমাম তিরমিযি ও ইমাম বাইহাকি [রহ.] হাসান স্তরের হাদিস রূপে অভিহিত করেছেন এবং বিভিন্ন সনদে তার স্বপ্ন শাহিদ রেওয়ায়েতও পেশ করেছেন।

সপ্তম ব্যক্তি হলো, যে প্রতি রাতে আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির প্রত্যাশায় সুরা তাবারাকাল্লাযি তিলাওয়াত করবে।

স্বামী যদি অক্ষম হয় তবে স্ত্রীর যা করা উচিত ইসলাম কি বলে

প্রশ্ন– আমার স্বামীর সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সমস্যায় ভুগছি। আমি জানি সে আমাকে আহ্বান করলে, মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকলেও, তার কক্ষে যাওয়া আমার জন্য আবশ্যক। আরও জানি যে মিথ্যা বলা ন্যক্কারজনক অপরাধ। তবে আমার স্বামীকে খুশি করা আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। এমতাবস্থায়, আমি পরিতৃপ্ত হয়েছি বলে ভান ধরা কী জায়েয হবে? আসলে আমি এই সমস্যায় ভুগছি। আমি মিথ্যাও বলতে চাই না, আবার সে আমাকে পরিতৃপ্ত করতে পারেনি এ-কথা বলে তাকে বিব্রতও করতে চাই না। এভাবে পরিতৃপ্তির ভান ধরা থেকে বিরতও হতে পারছি না, আবার সে বিব্রত বোধ করবে ভয়ে তাকে খোলাখুলি বলতেও পারছি না। আশা করি আপনি আমাকে এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেবেন। আর আপনার দুয়ায় আমাকে ভুলবেন না।

উত্তর- আল্লাহর কাছে দুয়া করি, তিনি আপনার ধৈর্য, আপনার রবের নির্দেশ মোতাবেক স্বামীর ইচ্ছা পূরণ ইত্যাদির জন্য তিনি আপনাকে উত্তম জাযা দান করুন। আপনি যা বললেন তার এলাজ হল, স্বামীকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলে দেয়া। এভাবে বললে তাকে বিব্রত করা হবে না, তাকে দুর্বল বলে অভিযুক্তও করা হবে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এধরনের সমস্যার মূল কারণ, সমস্যা যে আছে সে বিষয়ে স্বামীর অনুভূতিশূন্যতা। স্বামীর অপারগতা বা যৌনদুর্বলতা এ ক্ষেত্রে মূল কারণ নয়। কেননা সে হয়ত সঙ্গমে লিপ্ত হয়ে পড়ে এতৎসংন্ত্রান্ত কিছু বিষয় আমলে না এনেই। অথচ সেগুলো প্রয়োগ করলে স্ত্রীর তৃপ্তিঘটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আপনাকে পরামর্শ দিচ্ছি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ও মিলনবিষয়ক কিছু সহায়ক বইয়ের আশ্রয় নিতে; যেমন মাহমুদ মেহদি ইস্তান্বুলির তুহফাতুল আরুস ( নববধূর উপঢৌকন) বইটি।

ফলকথা হল, এ-বিষয়ে স্বামীর সাথে সরাসরি কথা বলতে ও তাকে এ বিষয়ক বই পুস্তক পড়তে পরামর্শ দেয়ায় কোনো মানা নেই। যার এলাজ হয়ত একেবারেই সহজ সে বিষয়ে কষ্টযাতনা সহ্য করে যাওয়ার চাইতে সরাসরি বলে ফেলাই ভালো। অবশ্য নারীকেও এ-ক্ষেত্রে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে। এ-ক্ষেত্রে নারীর যা যা করা উচিত করতে হবে। স্বামীর জন্য সাজগোজ করতে হবে। স্বামীকে আদর দিতে হবে। মিলনে তাকে উৎসাহী করে তুলতে হবে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন মুসলমানদের অবস্থা ভালো করে দেন। আল্লাহই উত্তম জ্ঞানী।

যেদিন চার রাকাত নফল নামাজ পড়লে সমুদ্রের ফেনা সমান গুনাহ মাফ হয়

এমন কিছু নফল নামাজ আছে যা পড়লে উভয় জাহানে ব্যাপক কল্যাণ অর্জন করা যায়।

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‌‘রমজান মাসের নফল নামাজ অন্য মাসের ফরজের সমতুল্য। সপ্তাহের সাতদিনেও ইচ্ছে হলে আমরা বিভিন্ন ধরনের নফল নামাজ আদায় করতে পারি।

শনিবারের নফল নামাজ : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) ও হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, ‘শনিবার রাতে চার রাকাত নফল নামাজ রয়েছে।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শনিবার দিন চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তা’য়ালা তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা পাঠাবেন, যারা কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকবে এবং কিরামান কাতেবিন তার জন্য শহীদের সওয়াব লিখতে থাকবে; সমুদ্রের ফেনা ও আকাশের তারকা সমান তার গোনাহ থাকলেও তা মাফ করে দেয়া হবে। (ত্রুটি মার্জনীয়)

হজ থেকে কত টাকা আয় করে সৌদি আরব?

সারা পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলমান প্রতি বছর হজ করতে সৌদি আরবে যান। আর ঠিক ওই সময়টাতেই সৌদি আরবের আর্থিক লেনদেনের হার অনেকটাই বেড়ে যায়।

অনেকের মনেই এই প্রশ্নটা আসে যে সৌদি আরবে হজ আর আল-উমরাহ-করতে যেসব মুসলমান যান, তাঁদের কাছ থেকে দেশটি আসলে কত অর্থ রোজগার করে? সৌদি আরবের অর্থনীতির কত ভাগ এই রোজগার থেকে আসে?

এই বিষয় নিয়ে বিবিসির ফার্সি বিভাগের আলী কাদিমি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

অর্থের অঙ্ক বের করতে গেলে প্রথমেই দেখা দরকার -হজ করতে ঠিক কত সংখ্যক মুসলমান সৌদি আরবে যান?

গত বছর মোট ৮৩ লক্ষ মানুষ হজ করতে গিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ আল-উমরাহতেও গিয়েছিলেন।

গত এক দশকে গড়ে ২৫ লক্ষ মুসলমান হজ করেছেন।

এর মধ্যে আবার দুটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

প্রথমত, বছরে একটা নির্দিষ্ট সময়েই হজ করা যায়। আর দ্বিতীয়ত, প্রতিটি দেশ থেকে কত মানুষ হজে আসবেন, তার একটা কোটা নির্ধারণ করে দেয় সৌদি আরব।

এটাও মাথায় রাখতে হবে যে সৌদি আরবের বাসিন্দাদের একটা বড় অংশও কিন্তু হজে যান। যদিও তাঁরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতেই পারেন।

গত বছর সৌদি আরবের যত বাসিন্দা হজে গিয়েছিলেন, সেই সংখ্যাটা অন্যান্য দেশ থেকে আসা মুসলমানদের সংখ্যার প্রায় অর্ধেক।

কিন্তু গত দশ বছর ধরেই মোটামুটিভাবে হাজিদের এক তৃতীয়াংশই সৌদি আরবের বাসিন্দা।

এর একটা কারণ মক্কা খুব কাছে। তাই ধর্মীয় কর্তব্য মনে করে বেশ সস্তায় হজ সেরে নেন অনেকে।

হজে একটা নির্দিষ্ট সময়ে যাওয়া গেলেও সারা বছর ধরে উমরাহ করতে যাওয়া যায়। যেমন গত বছরই প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ উমরাহ করতে গিয়েছিলেন।

নানা দেশ থেকে যাঁরা সৌদি আরবে গেছেন, তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই উমরাহ করতে গেছেন।

সাত বছর আগে উমরাহ করতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৪০ লক্ষের কাছাকাছি।

সৌদি আরবের হিসাব অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে সংখ্যাটা বেড়ে এক কোটি ২০ লক্ষ হয়ে যাবে।

গত বছর হজ থেকে সৌদি আরবের সরাসরি রোজগার হয়েছিল প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার।

সৌদি আরবে যাওয়া তীর্থযাত্রীরা মোট ২৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন ওখানে গিয়ে।

এই অর্থের একটা বড় অংশ কিন্তু সৌদি অর্থনীতিতেই যোগ হচ্ছে।

মক্কার চেম্বার অব কমার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাইরের দেশ থেকে আসা মুসলমানরা মাথাপিছু ব্যয় করেন ৪৬০০ ডলার, আর স্থানীয়রা মাথাপিছু প্রায় ১৫০০ ডলার ব্যয় করেন।

তবে একেক দেশ থেকে আসা হজযাত্রীদের জন্য আবার একেক রকম খরচ। যেমন ইরান থেকে আসা মানুষদের মাথাপিছু ৩০০০ ডলার খরচ লাগে।

এর মধ্যে যাত্রা, খাওয়া, কেনাকাটা সব খরচই ধরা হয়।

পাকিস্তান, বাংলাদেশের যাত্রীদেরও মোটামুটি একইরকম খরচ হয়।

ইরান থেকে আসা এক হজ যাত্রী নাম উল্লেখ না করার শর্তে বিবিসির ফার্সী বিভাগকে জানিয়েছেন যে এ বছর তাঁর হজের বাজেট প্রায় আট হাজার ডলার।

এর মধ্যে নিশ্চয়ই তাঁর ব্যক্তিগত খরচও ধরা আছে। তবে কোনো না কোনোভাবে অর্থটা সৌদি অর্থনীতিতেই ঢুকছে।

বিভিন্ন দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার কোটাই সবচেয়ে বেশি। সেখান থেকে দুই লক্ষ কুড়ি হাজার মানুষ প্রতি বছর হজে যান। এটা মোট হজযাত্রী সংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ।

এরপরেই রয়েছে পাকিস্তান (১১%), ভারত (১১%) আর বাংলাদেশ (৮%)।

নাইজেরিয়া, ইরান, তুর্কি, মিশর -এই দেশগুলোরও কোটা মোটামুটি একই রকম।

অপরিশোধিত তেল বিক্রি করে সৌদি আরবের যা রোজগার হয়, তার থেকেও বেশি আয় করে তারা হজ থেকে।

তবে তারা চেষ্টা করছে তেল বিক্রি করে তাদের আয় আরও বাড়াতে।

ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড বা আইএমএফ ধারণা করছে, তেল উৎপাদন কম করার ব্যাপারে ওপেক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার ফলে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার এ বছর শূন্যে নেমে যাবে।

সেদেশের সরকার সেই ক্ষতিটা অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।

যার মধ্যে একটা বড় ক্ষেত্র হলো ধর্মীয় পর্যটন থেকে আয়।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) কেন ১১টি বিয়ে করেছিলেন? এ প্রশ্নের চমৎকার জবাব দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা

মহানবী হযরত মুহম্মদ (সঃ) ১১ টি বিয়ে করেছিলেন। ইসলামি শরীয়াহ সর্বোচ্চ ৪টি বিয়ের অনুমতি দিয়েছে। ডা: জাকির নায়েকের কাছে মুসলিম ও অমুসলিম অনেকেই উপরোক্ত প্রশ্নটি করেছেন।

এই প্রশ্নের চমৎকার জবাব পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে দিয়েছেন ডাঃ জাকির নায়েক। মুসলমানদের জন্য এই বিষয়টি জেনে রাখা খুবই জরুরী।

ইসলামে যেখানে ১জন পুরুষের জন্য ৪জন স্ত্রী রাখার অনুমতি আছে, সেখানে মুহাম্মাদ (সঃ) কিভাবে ১১টা বিয়ে করলেন? এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই।

ডা: জাকির নায়েক তুলে ধরেন পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত। এই আয়াতটির বাংলা অর্থ- ‘হে নবী, আমি আপনার জন্য বৈধ করেছি আপনার স্ত্রীদেরকে যাদের আপনি দেনমোহর দিয়েছেন …আর কোন ঈমানদার নারী নবীর কাছে নিবেদন করলে আর নবী তাকে বিয়ে করতে চাইলে সে বৈধ। আর এ শুধু আপনারই জন্য, বাকী মুমিনদের জন্য নয় ‘। [সূরা আহযাব ৩৩:৫০]

এই আয়াতের ব্যখ্যা দেয়া হয়েছে একেবারেই পরিস্কারভাবে। এটি জেনে রাখলে অমুসলমান ও মুসলিম ধর্মের হয়েও যারা শরীয়াহ বিষয়ে ভালো জ্ঞান রাখেন না তাদের জবাব দেয়া যাবে হাদিসে বণির্ত বিভিন্ন ব্যখ্যার মধ্যে দিয়ে-

রাসূলুল্লাহ (স:) এর জন্য শারিয়াহ কিছুটা ভিন্ন ছিল

নবীজির জন্য ইসলামি আইন সাধারণ মুসলমানদের চেয়ে অনেক কঠিন ছিল। প্রতিরাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া তাঁর জন্য ওয়াজিব ছিল, একবার যুদ্ধের সরঞ্জাম পড়ে ফেলার পর যুদ্ধে না যাওয়া তাঁর জন্য হারাম ছিল।

দান গ্রহণ ও মৃত্যুর সময় একটা পয়সা পরিমাণ সম্পদ রেখে যাওয়া তাঁর জন্য হারাম ছিল। তাঁর বংশধরদের কেউ খুব দরিদ্র হলেও যাকাত নিতে পারবেন না বলে কঠোর বিধান রয়েছে। স্ত্রীদের ব্যাপারেও তার বিধান আল্লাহ একটু অন্যরকম দিয়েছেন। এটি আল্লাহর নির্দেশনাই বটে।

স্বাভাবিক যে ধারনা সেটি হলো যৌবনের কারণে মানুষ বিয়ে করে। কিন্তু নবীজি বেঁচেছিলেন ৬৩ বছর। সেখানে ৫০ বছর পর্যন্ত মাত্র একজন স্ত্রীই ছিলো তার। এর পরে আয়াতের বিষয় আমলে নিয়ে সন্মানার্থে কয়েকজনকে তিনি স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ধন্য করেছেন।

ওই সময় আরবে বহু বিবাহ একটি রেওয়াজ ছিলো। যৌবনে নবীজি ওই রেওয়াজের পথেও হাঁটেননি। কোরআন নাযিলের পরেও বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে কোনো কোনো পুরুষ ১০০টি, কেউ ৮০টি বিয়ে করেছেন। ভারতীয় উপমহাদেশেও এর উদাহরণ রয়েছে। এটা ইসলাম সমর্থিত নয়।

পরকালে নাজাত প্রত্যাশীদের জন্য সর্বোচ্চ ৪ স্ত্রীর বিধান মানার জন্য কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

নামাজ আদায় করলেও যে কারণে দোয়া কবুল হয় না!

নামাজ মুসলিমদের ইবাদত-বন্দেগীর অন্যতম একটি অংশ। ইসলাম ধর্মে পাঁচটি স্তম্ভের প্রথমটিই হলো নামাজ। আমরা অনেকেই নিয়মিত নামাজ আদায় করি। আল্লাহ তায়ালার কাছে নিজের পাপ কাজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং সাহায্য চাই। কিন্তু আমাদের দোয়া কি কবুল হচ্ছে?

আমরা রোজা রাখা ও নামাজ পড়ার পরও যদি মিথ্যা কথা বলার বা নানা পাপের অভ্যাস ছাড়তে না পারি, তাহলে বুঝতে হবে যে আমাদের নামাজ-রোজা কবুল হচ্ছে না। আর নামাজ-রোজা কবুল হচ্ছে না বলে আমাদের অন্য কোনো দিকেও অগ্রগতি হচ্ছে না।

মানবপ্রকৃতির অনিবার্য চাহিদা হলো- অর্থ-সম্পদের প্রতি টান ও ভালোবাসা। এটা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, ‘এবং তোমরা ধন-সম্পদকে প্রাণভরে ভালোবাস।’ -সূরা আল ফজর : ২০

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে হালাল উপার্জন ও সৎপথে রোজগার একটি প্রশংসনীয় কাজ। আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে এর নির্দেশ প্রদান করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, হে মানবমন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তুসামগ্রী ভক্ষণ করো। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। -সূরা আল বাকারা : ১৬৮

অন্যদিকে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিজ হাতের উপার্জিত খাবারই হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট। আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতের কামাই খেতেন।’ –সহিহ বোখারি

ইসলামি শরিয়তের বিধান হলো, হারাম উপার্জনকারীর কোনো আমল আল্লাহতায়ালার কাছে কবুল হয় না। তার দোয়া কবুল হয় না। কোনো বরকত থাকে না তার সম্পদে। এক হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে সাদ! পবিত্র খাবার গ্রহণ করো, তাহলে তোমার দোয়া কবুল হবে। সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ; বান্দা যখন তার মুখে হারাম উপায়ে কোনো খাবার গ্রহণ করে, আল্লাহ ৪০ দিন তার কোনো আমল কবুল করেন না। আর যে ব্যক্তি বেড়ে ওঠে অবৈধ সম্পদ আর হারাম উপার্জিত অর্থে, তার জন্য জাহান্নামের আগুনই উত্তম।’

অসৎ ও অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদের দান-সদকাও কবুল হয় না। সুদ-ঘুষ, চুরি-ডাকাতি আর হারাম ব্যবসা-বাণিজ্যের অর্থ-সম্পদের দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য প্রত্যাশা করা যায় না। হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা ছাড়া নামাজ আর চুরি ও আত্মসাতের সম্পদের সদকা কবুল হয় না।’ –সহিহ মুসলিম

এদিকে, তওবা করলে মহান দয়াময় আল্লাহ তার অধিকার সংক্রান্ত যে কোনো পাপ ক্ষমা করবেন, এমনকি তা যদি শির্কের মত কঠিন গোনাহও হয়ে থাকে। কিন্তু কেউ যদি কোনো বান্দাহ’র অধিকার লঙ্ঘন করে থাকে তাহলে ওই ব্যক্তির অধিকার ফিরিয়ে দেয়া বা তার সন্তুষ্টি অর্জন না করা পর্যন্ত মহান আল্লাহ নিজেও এমন ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন না।

স্বপ্ন দেখে ভয় পেলে বিশ্বনবী (স:) যে দোয়া পড়তে বলেছেন !!

আল্লাহ তাআলা মানুষকে সতর্কতামূলক অনেক বিষয় স্বপ্নের মাধ্যমে অবহিত করে থাকেন। এ স্বপ্নের মাঝে থাকে ভালো ও মন্দের অনেক ইঙ্গিত। ঘুমের মধ্যে মন্দ বা বিপদাপদের স্বপ্ন দেখে মানুষ অনেক সময় অস্থির হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর নিকট দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আমর ইবনে শোয়াইব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ ঘুমের মধ্যে ভয় পায়, তখন যেন সে বলে-

উচ্চারণ :

আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাজ্বাবিহি ওয়া ইক্বাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বিনি ওয়া আঁই ইয়াহদুরুন। (আবু দাউদ, তিরিমজি, মিশকাত)

অর্থ : আমি আশ্রয় চাই আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্য সমূহের মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি হতে, তাঁর বান্দাদের অপকারিতা হতে, শয়তানের কুমন্ত্রণা হতে এবং তাদের উপস্থিতি হতে।

সুতরাং ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলে উক্ত দোয়া পড়া এবং স্বপ্নের অনিষ্ট হতে রক্ষা পেতে আল্লাহ তাআলা নিকট প্রার্থনা করা জরুরি।আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঘুমে মধ্যে ভয় পেলে বা খারাপ স্বপ্ন দেখলে এ দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

যে দোয়াটি পড়লে ‌‘মৃত্যু’র আযাব হবে পিপড়ার কামড়ের সমান !!

একজন মুমিন মুসলিমের জীবন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সুন্দরভাবে অতিবাহিত করার জন্য অনেক দোয়া রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ্ আত্নাকে বলেন, “বেরোও।” সে বলে, “না আমি স্বেচ্ছায় বেরোব না।” আল্লাহ বলেন, “অনিচ্ছায় হলেও, বেরোও।” রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- যখন মু’মিন-বিশ্বাসী বান্দার রূহ বেরোয় তখন ওর সাথে দু’জন ফেরেশতা দেখা (অর্থাৎ তা গ্রহণ) করে এবং তা নিয়ে দু’জনই ঊর্ধ্বে আরোহন করে। তারপর এর সুগন্ধির কথা উল্লেখ করা হয়। আসমানবাসিগণ বলে, “পৃথিবী থেকে একটি পবিত্র রূহের আগমন ঘটেছে। হে রূহ! তোমার প্রতি এবং যে দেহ তুমি আবাদ করছিলে, তার প্রতি আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক।” অনন্তর একজন ফেরেশতা তাকে নিয়ে তার প্রতিপালকের কাছে চলে যায়।


তারপর তিনি বলেন, “তাকে শেষ সময়ের (অর্থাৎ কেয়ামত না হওয়া পর্যন্ত) জন্য নিয়ে যাও।” পক্ষান্তরে কাফিরের আত্না যখন বেরোয়, তখন এর দুর্গন্ধ ও অপবিত্রতার কথা উল্লেখ করা হয়। আসমানবাসিগণ বলে, “পৃথিবী থেকে একটি অপবিত্র রূহের আগমণ ঘটেছে।” আর এর সম্বন্ধে বলা হয়-“শেষ সময় পর্যন্ত রাখবার জন্য তাকে নিয়ে যাও।” হযরত আজরাঈল (আ) যখন জান কবজ করতে আসবেন, তখন মৃত্যু পূর্ব মুহুর্তে কষ্ট হবেই। তবে মহান আল্লাহ তায়ালার মমিন বান্দারা সেই কষ্টটা কম পেয়ে থাকেন। আল্লাহ পাক বলছেন, আল কোরআনে বর্ণিত ছোট্ট এই দোয়াটি পড়লে মৃত্যু আযাব হালকা হয়ে যাবে। দোয়াটিকে আমরা সবাই ‘আয়াতুল করসি’ বলেই জানি। দোয়াটি নিম্নরূপঃ
আয়াতুল কুরসী

উচ্চারণঃ আল্লাহু লাইলাহা ইল্লাহুওয়াল হাইয়্যুল ক্বইউম, লাতা’খুযুহু সিনাতুওঁ ওয়ালা নাওম, লাহু মাফিস্* সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরয। মানযাল্লাযি ইয়াশ্*ফাউ ইন্*দাহু ইল্লা বিইযনিহ। ইয়ালামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমাশাআ ওয়াসিয়া কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরযা, ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা ওয়াহুওয়াল আলিয়্যুল আযীম। (সূরা বাকারঃ ২৫৫)
আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলতঃ১. আয়াতুল কুরসি পড়ে বাড়ি থেকে বের হলে ৭০ হাজার ফেরেস্তা চারদিক থেকে তাকে রক্ষা করে।২. আয়াতুল কুরসি পড়ে বাড়ি ঢুকলে বাড়িতে দারিদ্রতা প্রবেশ করতে পারেনা।৩. আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমালে সারারাত একজন ফেরেস্তা তাকে পাহারা দেন।
৪. ফরজ নামাযের পর আয়াতুল কুরসি পড়লে তার আর বেহেস্তের মধ্য একটি জিনিসেরই দূরত্ব থাকে; তা হলো মৃত্য। এবং মৃত্যু আযাব এতই হালকা হয়; যেন একটি পিপড়ার কামড়ের সমান।৫. ওজুর পর আয়াতুল কুরসি পড়লে আল্লাহর নিকট ৭০ গুন মর্যাদা বৃদ্ধি লাভ করে।

পবিত্র কাবা শরিফ সম্পর্কে অজানা ১০ তথ্য

পবিত্র কাবা শরিফ সম্পর্কে এই ১০টি অজানা তথ্য প্রতিটি মুসলমানের জানা অপরিহার্য। পবিত্র কাবা আল্লাহর ঘর। প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়রাজ্যে বাস করে বাইতুল্লাহ জিয়ারতের স্বপ্ন। কাবার পরিচিতি বিশ্বজোড়া। কিন্তু এই কাবাঘর সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা অনেকই জানেন না। কাবা শরিফ সম্পর্কে অজানা ১০টি তথ্য নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।

১. কাবা ঘর কয়েকবার নির্মিত হয়েছে: নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধাবস্থার কারণে কাবা ঘর কয়েকবার নির্মাণ করা হয়েছে। অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে কাবা শরিফ মোট ১২ বার নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমান ডিজাইনের নির্মাতা মুসলিম শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ নিজে এই ডিজাইনটি করেননি।

বরং তিনিও ইসলাম পূর্ববর্তী কুরাইশদের ডিজাইন অনুসরণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার কাবা শরিফের সংস্কারের কাজ করা হলেও মূল ডিজাইনে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। সর্বশেষ কাবা শরিফের সংস্কার কাজ করা হয় ১৯৯৬ সালে। তখন বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাবা শরিফের দেয়াল ও প্রাঙ্গনকে দৃঢ় ও মজবুত করা হয়।

২. কাবার গিলাফের রং পরিবর্তন: কাবা শরীফকে গিলাফে আবৃত করার প্রচলন শুরু হয় প্রাচীন জুরহুম গোত্রের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে এ ধারা চলমান থাকে। মহানবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাবা ঘরকে একটি সাদা ইয়েমেনি চাদরে আবৃত করেন। পরবর্তী খলিফারা কাবা ঘরের গিলাফের ক্ষেত্রে সাদা, লাল এবং সবুজ রং ব্যবহার করেছেন। আব্বাসি খলিফারা কালো গিলাফের প্রচলন করেন। এখনো তা সেই কালো রংয়েই বহাল আছে।

৩. ডিজাইন পরিবর্তন: পবিত্র কাবা ঘর বর্তমানে ঘনকাকৃতির অবয়বে আছে। পূর্বে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এটিকে এই আকৃতিতে তৈরি করেননি। ইসলাম পূর্বযুগে কুরাইশরা কাবা পুনঃনির্মাণ করে। তখন অর্থ সংকটের কারণে কাবার কিছু অংশ নির্মাণের বাইরে থাকে। এটি মূলত কাবার আভ্যন্তরীণ অংশ। বর্তমানে এটিকে একটি ছোট দেয়াল দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। একে হাতিম হিসেবে অভিহিত করা হয়।

৪. কাবার দরজা মূলত কয়টি? কাবার মূল দরজা ছিল দুটি এবং একটি জানালাও ছিল। বর্তমানে দরজা আছে একটি। জানালা নেই। তবে কাবার অভ্যন্তরে আরেকটি দরজা আছে। যা ছাদে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।

৫. কাবা ঘরের অভ্যন্তর: কাবা ঘরের অভ্যন্তরে কী আছে? এ নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন জাগে। কাবার অভ্যন্তরে তিনটি পিলার মূল ছাদটিকে ধরে রেখেছে। দুই পিলারের মাঝে একটি টেবিলে সুগন্ধি রাখা আছে। দেয়ালের উপরাংশকে একটি সবুজ কাপড়াবৃত করে রেখেছে। কাপড়টিতে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ক্যালিগ্রাফি খচিত।

৬. হাজরে আসওয়াদ ভেঙ্গেছিল: হাজরে আসওয়াদ মূলত একটি বড় পাথর ছিল। তবে বর্তমানে এটি মোট আটটি পাথরখন্ডের সমষ্টি। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাথরটি ভেঙ্গে গেছে। সর্বপ্রথম এর উপর রৌপ্যের ফ্রেম বাঁধাই করেন আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর।

৭. কাবার রক্ষক পরিবার কারা? অবাক করা ব্যাপার হলো- ইসলাম পূর্বযুগ হতে এখন পর্যন্ত একটি গোত্রই কাবার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। গোত্রটির নাম বনু শাইবাহ। বিগত প্রায় ১৫ শতাব্দী ধরে এই গোত্রের হাতেই আছে কাবা ঘরের চাবি।

৮. কাবা ঘর পরিষ্কার কার্যক্রম: কাবা ঘরের রক্ষকগোত্র বনু শাইবাহর তত্ত্বাবধানে বছরে দুইবার কাবা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জমজম কুয়ার পানি, গোলাপজল এবং আরবের বিখ্যাত সুগন্ধি উদের তেলের সমন্বয়ে একটি বিশেষ ক্লিনিং লিকুইড তৈরি করা হয় এবং তা দিয়েই কাবা ঘর পরিষ্কার করা হয়।

৯. উন্মুক্ত দরজা: কাবার দরজা একসময় সবার জন্যই উন্মুক্ত ছিল। পরবর্তীতে লোক সমাগম বেড়ে যাওয়ার কারণে কাবার দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানেও এটি বিশেষ সময়ে খোলা হয়ে থাকে।

১০. বিরতিহীন তাওয়াফ: কাবার আরেকটি অবিশ্বাস্য দিক হলো- সবসময়ই এর চারপাশে তাওয়াফ চলতে থাকে। শুধু নামাজের জামাত যে সময়টুকুতে হয়, তা ছাড়া বাকি পুরো সময় ধরে কাবার চারধারে চলতে থাকে অবিরাম তাওয়াফ।