যে ম্যাচের দাম ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি জেনে নিন কিভাবে?


ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা আকর্ষণ ‘ম্যানচেস্টার ডার্বি’ মানে ম্যানচেস্টারের দুই বড় দল ইউনাইটেড ও সিটির লড়াই। সাম্প্রতিক সময়ে প্রিমিয়ারের সেরা এই দুই ক্লাব উপহার দিয়েছে দারুণ উপভোগ্য কিছু লড়াই। এই দুই ক্লাবে আছেন দারুণ কিছু ফুটবলার। দুই ক্লাবের ডাগআউটও আলোকিত করে আছেন এই মুহূর্তে ফুটবল দুনিয়ার অন্যতম সেরা দুই কোচ—হোসে মরিনহো ও পেপ গার্দিওলা। তবে ইউনাইটেড ও সিটির ফুটবলারদের সম্মিলিত মূল্য আপনার চোখ কপালে তুলতেই পারে।

এই মৌসুমে দল ঢেলে সাজাতে গিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি রক্ষণভাগ গড়েছেন পেপ গার্দিওলা। আর মরিনহো তো সব সময়ই খরুচে দল বানাতে সিদ্ধহস্ত। রোববার রাতের ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড়দের মোট বাজারমূল্য ৩০১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড, বাংলাদেশি টাকায় যা ৩ হাজার ৩২২ কোটি টাকা প্রায়। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়দের দাম দাঁড়ায় ৩৫৪.৯ মিলিয়ন পাউন্ড, টাকায় ৩ হাজার ৯১২ কোটি টাকা প্রায়। মানে সেদিন ‘মাত্র’ ৬৫৬.৩ মিলিয়ন পাউন্ডের দল নিয়ে খেলেছে দুই দল। ফুটবল ইতিহাসে এক ম্যাচে দুই দলের মোট মূল্য এতটা এর আগে কখনোই দেখা যায়নি। একটি ম্যাচের দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা প্রায়! ভাবা যায়!

দুই দল মিলিয়ে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড রোমেলু লুকাকু। এই মৌসুমের শুরুতেই ৯০ মিলিয়ন পাউন্ডে এভারটন থেকে ইউনাইটেডে এসেছেন তিনি। ভাগ্যের কী নিদারুণ পরিহাস, ম্যানচেস্টার সিটির দুই গোলেই ‘অবদান’ রয়েছে ম্যাচের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের। তাতে নিজ দলের হারও নিশ্চিত হয়েছে। সবচেয়ে সস্তা খেলোয়াড়ও ইউনাইটেডের, দুই তরুণ তুর্কি মার্কাস রাশফোর্ড ও জেসে লিনগার্ড দুজনই যুব একাডেমি থেকে উঠে আসায় তাঁদের বাজারমূল্য প্রায় শূন্য।

টবলের বাজার হঠাৎ করেই বদলে গেছে ভীষণ। রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে বার্সেলোনা থেকে মাত্র একজন খেলোয়াড়ই (নেইমার) কিনেছে পিএসজি। সে তুলনায় ইউনাইটেডের ৩০১.৪ কিংবা সিটির ৩৫৪.৯ মিলিয়ন পাউন্ডের দল নিশ্চয়ই খুব বেশি নয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ডিফেন্ডার বেঞ্জামিন মেন্ডিকে কিনলেও রোববার তাঁকে বেঞ্চেও জায়গা দেননি গার্দিওলা। তাতে অবশ্য খুব ক্ষতি-বৃদ্ধি হয়নি এই স্প্যানিশ কোচের। ২-১ গোলের জয় নিয়ে ইংলিশ লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বেশ জাঁকিয়ে বসেছে সিটি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউনাইটেডের চেয়ে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে গার্দিওলার শিষ্যরা। সূত্র: সকারওয়ে, ট্রান্সফার মার্কেট।

পজিশন

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

ম্যানচেস্টার সিটি

গোলরক্ষক

ডেভিড ডি গিয়া (২১ মিলিয়ন)

এডারসন (৩৭ মিলিয়ন)

ডিফেন্ডার

ক্রিস স্মলিং (১২ মিলিয়ন)

কাইল ওয়াকার (৫০ মিলিয়ন)

ডিফেন্ডার

মার্কোস রোহো (১৮ মিলিয়ন)

নিকোলাস ওটামেন্ডি (৩৩ মিলিয়ন)

ডিফেন্ডার

অ্যাশলি ইয়াং (১৬ মিলিয়ন)

ভিনসেন্ট কোম্পানি (৬.৭ মিলিয়ন)

ডিফেন্ডার

আন্তোনিও ভ্যালেন্সিয়া (১৮ মিলিয়ন)

ফাবিয়ান ডেলফ (৮ মিলিয়ন)

মিডফিল্ডার

অ্যান্ডার হেরেরা (২৮.৮ মিলিয়ন)

ডেভিড সিলভা (২৪ মিলিয়ন)

মিডফিল্ডার

নেমানিয়া ম্যাটিচ (৪০ মিলিয়ন)

ফার্নান্দিনহো (৩০ মিলিয়ন)

মিডফিল্ডার

জেসে লিনগার্ড (০)

কেভিন ডি ব্রুইনা (৫৪.৫ মিলিয়ন)

ফরোয়ার্ড

মার্কাস রাশফোর্ড (০)

রহিম স্টার্লিং (৪৯ মিলিয়ন)

ফরোয়ার্ড

অ্যান্থনি মার্শিয়াল (৫৭.৬ মিলিয়ন)

লেওর‍্য সানে (৩৭ মিলিয়ন)

ফরোয়ার্ড

রোমেলু লুকাকু (৯০ মিলিয়ন)

গ্যাব্রিয়েল জেসুস (২৮ মিলিয়ন)

মোট

৩০১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড

৩৫৪.৯ মিলিয়ন পাউন্ড

 

বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসর: অবশেষে শ্রীলঙ্কা খেলা নিশ্চিত করল

আগামী ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসরে বাংলাদেশসহ আরো ৭ দেশের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিশ্চিত— নতুন করে শেষ ৮ এ শ্রীলঙ্কা জায়গা নিয়েছে।

সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া দেশগুলো হচ্ছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সদ্য সুযোগ পাওয়া শ্রীলঙ্কা।

নিয়ম অনুসারে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তালিকায় ৮ এ থাকা দলগুলো সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপ আসরে।

ওয়েস্টইন্ডিজের এর মাঝে আরো ৪টি ওয়ানডে থাকলেও ৮ এ আসার হিসেব মিলছে না রেটিং পয়েন্টে।

ওয়েস্টইন্ডিজের রেটিং পয়েন্টে ৭৮ ও শ্রীলঙ্কার ৮৬, যা এ ৪ ম্যাচ জিতলেও রেটিংয়ে আর আসবে না কোনো পরিবর্তন।

ক্যারিবীয়দের মঙ্গলবারের হারে শ্রীলঙ্কার ৮ এ থাকা নিশ্চিত হয়।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইসিসি। বাছাই পর্ব খেলতে হবে ক্যারিবীয়দের। সেক্ষত্রে বাছাই পর্বে ক্যারিবীয়াদের সঙ্গে দেখা হবে আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের। এই চারটি দল থেকে সেরা দুই দল মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে।

বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটার কেন এখন ক্ষেত মজুর!

ক্রিকেটের এখন রমরমা অবস্থা। এমন কোনো ক্রিকেটার কি আর এখন খুঁজে পাওয়া যাবে যার নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। দু বছরের ক্যারিয়ারেও যে টাকা আয় হবে তা দিয়ে চলবে অন্তত কয়েকটা বছর। আর সেই ক্রিকেটারের জন্ম যদি হয় ভারতে তবে তো কথাই নেই। কিন্তু সেই ভরত রাজার দেশের এক হতভাগ্য ক্রিকেটারের কথা জানিয়েছে সেই দেশের জনপ্রিয় সংবাদপত্র টাইমস অব ইন্ডিয়া; যে কিনা বিশ্বকাপ খেলার পরও আজ ক্ষেত মজুর!

এই তো সেদিন, ১৯৯৮ সালেও ভারতের ক্রিকেট বিশ্বকাপের তারকা ছিলেন তিনি। এমনকি সেসময়কার রাষ্ট্রপতি কে আর নারায়ণানের কাছ থেকে পুরস্কারও পেয়েছিলেন। এই সেই অল রাউন্ডার যিনি সে বছর ভারতকে ক্রিকেট বিশ্বকাপে সেমি ফাইনালে নিয়ে যান, তিনি এখন দিনের বেশি সময় কাটান ক্ষেত-খামারে। নাহ তিনি কৃষি ব্যবসা করছেন না। তার পেশা এখন মহিষ চড়ানো এবং খেতে টুকটাক কাজ করা। আর এই তার আয়ের একমাত্র উৎস। এভাবেই খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটাচ্ছেন এক তারকা ক্রিকেটার।

ভালাজি দামোর; ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ১২৫ টি ম্যাচে ৩১২৫ রান আর ১৫০ টি উইকেট নিজের করে নেন। এখনও পর্যন্ত ইনিই ভারতের সব থেকে বেশি সংখ্যক উইকেট টেকার। তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতাতাকে থামাতে পারেনি। মোট আটটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। দৃষ্টিহীনদের জন্যে বিশ্বের প্রথম ওয়ার্ল্ড কাপে যিনি ভারতকে সেমি ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন, দারিদ্র্য এখন তার ছায়াসঙ্গী।

একটা সময় ছিল যখন দলে তার সঙ্গীরা তাকে শচিন টেন্ডুলকার নামে ডাকতেন। কিন্তু জীবনের কি নির্মম পরিহাস আজ ক্রিকেট ব্যাট নয়, তার হাতে লাঙল-কোদাল। আরাবল্লী জেলার পিপরানা গ্রামে এক একর জমিতে ভাইয়ের সঙ্গে ভাগাভাগি করে চাষ করেন ভালাজি। মাঝেমধ্যে আবার অভাব মেটাতে কাজ করতে হয় অন্যের জমিতেও।

বাদ যাননি তার স্ত্রীও; পরিবারে যাতে দু’বেলা খাবারের জোগাতে তাকেও ক্ষেতে দিনমজুরের কাজ করতে হয়। ঘরের ছাদ থেকে টাইল খসে পড়া ৪ দেওয়ালে এখন ঠায় সেঁটে আছে ক্রীড়া জীবনের পাওয়া নানা পুরস্কার ও মানপত্র। ধুঁলি জমছে সেগুলোতে, একরাশ অভিমানের শিশিরও হয়ত জমছে বুঁকে।

বিশ্বের অন্যতম প্রতাপশালী ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ ভারতেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে কোনো ক্রিকেটারের জীবনে তা মানতে পারছেন না বিশ্বের হাজারো ক্রীড়ামোদি। যেই দেশের তাক লাগানো সব ক্রিকেট আয়োজন হচ্ছে হর-হামেশাই সেই দেশে এমন ঘটনা সবার মনেই দাগ কেটেছে, অন্তত প্রতিবেদনটিতে পাঠকদের মন্তব্য তারই জানান দিচ্ছে।

রম্য রচনাঃ ‘তুমি আজ এসেছ-টু ডে?’ অস্ট্রেলীয়র মুখে পড়ে ‘টু ডাই’ হয়ে গেছে!

ইংরেজি বড়ই বিড়ম্বনাদায়ক ভাষা। পড়তে গেলে ঝামেলা। বলতে গেলেও বড় ঝামেলা। তবে শুনতে গেলে আর কোনো ঝামেলা নেই। তখন হিব্রু, তামিল, ইংরেজি-মানে বাংলা ছাড়া দুনিয়ার আর সব ভাষা একই রকম মনে হয়।

তবে পেটের দায়ে এখন ওই ইংরেজিকেই সমঝে-সামলে চলতে হয়। যারা এই ভাষাটায় কথা বলে, তাদের সামনে পড়ে প্রায়ই মনে মনে কাতরাতে থাকি, ‘হা, ওপরওয়ালা! কেন বাংলা ছাড়াও কথা বলার উপায় বের করেছিলে?’ ওপরওয়ালা জবাব দেন না। জবাব দিলেন আমার চাকরির ওপরওয়ালা-উৎপল শুভ্র। ডেভ হোয়াটমোরের কথা বুঝতে কষ্ট হয়েছে শুনে হাসলেন। বললেন, ‘এতেই কাতরাচ্ছ বাছা? ডেভ তো শ্রীলঙ্কার খেয়েপরে বেশ এশিয়ান কেতার ইংরেজি বলেন। টের পাবে সত্যিকারের অস্ট্রেলীয়র ইংরেজির হাতে পড়লে!’ এতেও ঠিকমতো ভয় পেলাম কি না, নিশ্চিত হতে পারলেন না। দিন কয়েক পরে হাতে একটা লেখা ধরিয়ে দিলেন। একটা গল্প। বললেন, হাসির গল্প।

আমার কাছে ‘হরর’ গল্প মনে হলো। এক ভারতীয় ক্রিকেটার প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া গেছেন। স্বাগতিকদের মধ্যে কে যেন শুধিয়েছে, ‘এখানে মরতে এসেছে (কাম হেয়ার টু ডাই)?’ বুঝুন অবস্থাটা! মরার এই প্রস্তাব পেয়ে ভয়েই মরার জোগাড় বেচারা। বলেন, ‘না ভাই! না ভাই!’ কিসের না ভাই! ‘আমি তো শুনলাম তুমি মরতেই এসেছ!’ ক্রিকেটারটির পালানোর আগেই ভারতের তখনকার অধিনায়ক বিষেন সিং বেদি বললেন, ‘তুই ভয় পাচ্ছিস কেন?’ মানে বেদিও মরার দলে? নাহ্‌। আসলে নাকি অস্ট্রেলীয় ওই ভদ্রলোক বলেছেন, ‘তুমি আজ এসেছ-টু ডে?’ অস্ট্রেলীয়র মুখে পড়ে ‘টু ডাই’ হয়ে গেছে!

উদ্দেশ্য সার্থক। আমি ইংরেজিকে আগেই ভয় পেতাম। তার মধ্যে এবার ‘অস্ট্রেলীয় ইংরেজি’র আতঙ্কে দিন গুজরান করতে থাকলাম। মানে বনে বাঘ আছে জেনে গিয়ে সিংহেরও ভয় পাওয়া আর কি! ততক্ষণে আমার অবশ্য ‘রাম মারুক আর রাবণ মারুক’ অবস্থা। ইংরেজি বলেই তো ভয় দেবে, অস্ট্রেলীয় হোক আর সাইবেরীয়।

তাই যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে চলে গেলাম টিম মের সামনে। এই ভদ্রলোক অস্ট্রেলিয়ার সাবেক স্পিনার। বাংলাদেশে মে এসেছেন ক্রিকেটারদের সংগঠন গড়তে। তাঁর সংবাদ সম্মেলনে যেতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ যত না হয়, তার চেয়ে বেশি হয় ‘রিফ্রেশমেন্ট’ (খাওয়ার কথা সোজা বাংলায় বললে কেমন শোনায় না!)।

দ্বিতীয়টির ওপর বেশি টান থাকায় গেলাম টিম মের সংবাদ সম্মেলনে। মে আর জুন-যা-ই হোক না কেন, গেলাম। কল্পনার একটুও এদিক-ওদিক হলো না। বিপদ তৈরি হলোই। বিধির কী বিধান, বিপদে পড়লেন মে!

ইদানীং বেশি বেশি ক্রিকেট খেলা হচ্ছে বলে এক সাংবাদিক শুধালেন, ‘বেশি ক্রিকেট খেলা ব্যাপারটা কি তোমাকে কষ্ট (হার্ট) দেয়?’ ওই ‘হার্ট’ নিয়েই লাগল গোল। ‘হার্ট’ শব্দটা আর বোঝেন না মে। একবার বুঝলেন। সেবার ধরে নিলেন, এ ‘হার্ট’ মানে হৃদয়! উপায় না পেয়ে সামনে হাঁটু গেড়ে বসা বিবিসির হাসান মাসুদও বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগলেন (আসন না পেয়ে হাঁটু গেড়ে বসেছিলেন, বিনয়ের দাপটে না)। কে বোঝে কার কথা! ততক্ষণে বোঝা গেছে, সমস্যাটা টিম মেরই। বিবিসি তো আর আমাদের মতো বাংলায় ইংরেজি বলে না।

কোনোভাবেই মেকে ‘হার্ট’ করা যাচ্ছে না। কাঁহাতক সহ্য করা যায়? এক সাংবাদিক উঠে দাঁড়িয়ে, দুই হাত তুলে খাঁটি বাংলায় বললেন, ‘ভাই, তুই কি ব্যথা পাইছস?’ (ইংরেজিতে তুমি, তুই-সব এক বলে ‘তুই’টাকেই বেছে নিলেন?) বিগলিত হাসিটা দেখে মনে হলো, এবার কিছু বুঝেছেন মে।

দেখুন, টিম মেও ইংরেজির চেয়ে বাংলা ভালো বোঝেন!
************************
দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

নড়াইলের নায়ক

ঈদুল আজহার দিন দুয়েক আগেই নড়াইলে নিজের বাড়ি গিয়েছিলেন ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা। ছিলেন টানা সাত দিন। ‘রান ফর নড়াইল’ পদযাত্রা, নিজের ক্লাবের অনুষ্ঠান, পরিবার বন্ধুদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটিয়েছেন। আর মাশরাফিকে পেয়ে নড়াইলবাসী বরাবরের মতোই আনন্দে আত্মহারা। সারা দিন ভক্তদের ভিড় তাঁর বাড়ির সামনে। ওদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের কারণে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ঈদের সময়টা কেটেছে চট্টগ্রামে। তাই তো ঈদের দিন দলের অনেক সদস্যই গেলেন চট্টগ্রামে ক্রিকেটার তামিম ইকবালের বাসায়। তামিমের আমন্ত্রণে ঈদের রাতের খাবারটা ওই বাড়িতে খেলেন তাঁরা। নড়াইলে মাশরাফির ঈদ এবং চট্টগ্রামে তামিমের বাসায় সতীর্থদের ঈদ-ভোজ নিয়ে এবারের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

‘রান ফর নড়াইল’ পদযাত্রায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ছবি: কার্ত্তিক দাসঈদুল আজহার ছুটি কাটাতে নড়াইলে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের (ওয়ানডে) অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। এক সপ্তাহের (৩১ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর) এই সফরে অধিনায়ক অংশ নিয়েছেন নানা কার্যক্রমে। খেলেছেন ফুটবল, হেঁটেছেন পদযাত্রায়। সকাল-বিকেল সময় দিয়েছেন বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তদের। গভীর রাতে আবার বন্ধুদের আড্ডায় মাশরাফি ধরা দিয়েছেন ২০ বছর আগের কৌশিক হয়ে।

যাত্রা শুরু নতুন এক্সপ্রেসের

নড়াইল জেলাকে অন্যতম বাসযোগ্য শহর বানাতে কাজ শুরু করেছে একটি সংগঠন নড়াইল এক্সপ্রেস। মূলত মাশরাফিকে সঙ্গে নিয়েই এই সংগঠন কাজ করতে চায় জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদনসহ নানা বিষয় নিয়ে। ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

এর আগে বিকেলে সংগঠনটি আয়োজন করে ‘রান ফর নড়াইল’ নামে এক পদযাত্রার। এর নেতৃত্ব দেন মাশরাফি। তাঁর সঙ্গে এই পদযাত্রায় অংশ নেয় নড়াইলের হাজার কয়েক মানুষ। নড়াইলের রূপগঞ্জ বাঁধাঘাট এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রা শেষ হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে।

৩ কিলোমিটার পদযাত্রা শেষে মাশরাফি বলেন, ‘পৃথিবীতে কোনো কাজে কারও একার পক্ষে সাফল্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আমি না, আমরা সবাই মিলে কাজ করব নড়াইলকে বাসযোগ্য শহর বানাতে।’

সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা তরিকুল ইসলাম জানালেন, ‘জেলার জন্য মাশরাফি অনেক কিছুই করতে চান। তার জন্য দরকার ছিল একটা প্ল্যাটফর্ম। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সেই প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজ করব। এখন তিন মাসের কর্মসূচি আমরা হাতে নিচ্ছি। তিন মাস পর নতুন কর্মসূচি জানাব।’

মাশরাফি অংশ নিয়েছেন পদযাত্রায়। রাস্তার পাশে দর্শক সারিতে দাঁড়িয়ে তা দেখছেন পরিবারের

সদস্যরাভক্তদের ভিড়ে

গত ৩১ আগস্ট বাড়িতে আসেন মাশরাফি। সেদিন থেকেই তাঁর বাড়ির সামনে ভক্তদের লম্বা লাইন। দিন যায় আর ভিড় বাড়ে। লাইন আর লাইন থাকে না। ঈদের পরে ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলেও দেখা গেল একই দৃশ্য। বাড়ির গেট, সামনের রাস্তা পুরোটাই ভক্তদের দখলে। শুধু জেলার মানুষ না, তাঁকে একনজর দেখতে আশপাশের নানা জায়গা থেকেই মানুষ আসে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে আসা দুই তরুণ ফেরদৌস ও রায়হানের সঙ্গে কথা হলো মুর্তজা কটেজের (মাশরাফির বাড়ির নাম) সামনে। কলেজপড়ুয়া রায়হান বললেন, ‘নিয়মিত বাংলাদেশের সব খেলা দেখি। দেশের জয় দেখতে খুব ভালো লাগে। তবে এই জয় দেখার অভ্যাস তো ম্যাশই তৈরি করে দিয়েছেন। তাই আমার স্বপ্নের নায়ককে দেখতে ছুটে এসেছি নড়াইল। দেখাও হয়েছে।’

বলিউডের জলসা (অমিতাভ বচ্চনের বাড়ি) বা মান্নাতের (শাহরুখের বাড়ি) চেয়ে কোনো অংশে ভক্তদের ভিড় কম থাকে না নড়াইলের মুর্তজা কটেজের সামনে। মাশরাফিও নিরাশ করেন না ভক্তদের। সকালে ও বিকেলে দুই বেলা নিয়ম করে দেখা করেছেন ভক্তদের সঙ্গে। ছবি তুলেছেন, দিয়েছেন অটোগ্রাফও। তবে সেলফির চাপে থাকা মাশরাফি বলেন, ‘নড়াইলে যখনই আসি, দেখি সবার হাতে মুঠোফোন। তাঁদের সঙ্গে সেলফি তুলতে তুলতে আমি তো শেষ! সবাই এতে কী আনন্দ পায় আমি জানি না।’

মাশরাফি যখন ফুটবলার। ছবি: ক্রিকেটার যখন ফুটবলার

ক্রিকেট বল হাতে ২২ গজে প্রতিপক্ষকে কাবু করা মাশরাফি নড়াইল এসে খেলেছেন ফুটবল। বাড়ির সামনে সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফুটবল খেলতে নামেন মাশরাফি। তাঁদের গড়া শুভেচ্ছা ক্লাবের সদস্যরা দুই দলে ভাগ হয়ে ফুটবল খেলায় অংশ নেন। সিনিয়র ও জুনিয়র নামে দুই দলে ভাগ হয়ে খেলা এই ম্যাচের নেতৃত্বে ছিলেন মাশরাফি ও তাঁর ছোট ভাই মোরসালিন। ১-১ গোলে ড্র হলেও ম্যাচ ছিল বিনোদনে ভরপুর। মাশরাফির পায়ে বল মানেই দর্শকদের চিৎকার।

শুভেচ্ছা ক্লাবের পুনর্মিলনীতে কথা বলেন মাশরাফিকৌশিকের শুভেচ্ছা ক্লাব

কেউ দিলেন ২ টাকা, কেউ ৫ টাকা। হাইস্কুলপড়ুয়া ১৬ বছরের এক কিশোরের কাছে সে ‘ম্যালা টাকা’। যে টাকা দিয়ে তাঁরা মুখে মুখে গড়লেন একটি ক্লাব, নাম দিলেন শুভেচ্ছা ক্লাব। ১৯৯৭ সালে শুরু হওয়া এই ক্লাবের বয়স এখন ২০ বছর।

ক্লাবের জন্য তৈরি হয় একটি কমিটি। দশম শ্রেণির ছাত্র কৌশিক হলেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। সে সময় ক্লাবের হয়ে নানা জায়গায় ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদি খেলতে যেতেন কৌশিকরা। প্রায় সব ধরনের ট্রফিও জিততে থাকে। এর মধ্যে আলাদা করে ক্রিকেটে নজর কাড়তে থাকেন কৌশিক। নড়াইল এক্সপ্রেস বিশেষণে কৌশিক ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা নামে।

মাশরাফির কাছে শুভেচ্ছা ক্লাব যে বিশেষ একটা অনুভূতির নাম সেটা আবারও বোঝা গেল এবার ঈদের ছুটিতে। কলকাতায় ‘সেরা বাঙালি’ খেতাব পাওয়ায় মাশরাফিকে বিশেষভাবে সম্মানিত করল সেই শুভেচ্ছা ক্লাব। ঈদের পরদিন এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার হাতে বিশেষ ক্রেস্ট তুলে দেন ক্লাবের সদস্যরা। বিশেষ ক্রেস্ট, কারণ এখানে মাশরাফির নামটা লেখা হয়েছে সোনার হরফে।

কথা হলো ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি সুদীপ্ত শাফায়াতের সঙ্গে, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। অনেকে বলেন দেশের ক্রিকেটে ওর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাই আমরা প্রতীকীভাবে তাঁর নাম ক্রেস্টে সোনার অক্ষরে লিখেছি। আমাদের ক্লাবটি এখনো জেলা ক্রীড়া সংস্থায় নিবন্ধিত না। এবার আমরা ক্লাবটির নিবন্ধন করাব ভাবছি। কৌশিকের সঙ্গেও কথা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে।’

বন্ধুদের আড্ডায় রাত গভীর

যেকোনো সময় মাশরাফি বাড়িতে আসা মানে তাঁর বন্ধুদের ঈদের খুশি। আড্ডাপ্রাণ মাশরাফি এবারও প্রায় প্রতি রাতে বন্ধুদের সঙ্গে খোশগল্পে মেতেছেন। নড়াইলে এলে সাধারণত চিত্রা নদীর পাড়ে বা খোলা মাঠে বসে আড্ডা দেন মাশরাফি। তবে এবার ছেলে অসুস্থ থাকায় সবাইকে ডেকে নেন বাড়িতেই। মামাবাড়ির একটা ঘর দখল করে তাঁদের আড্ডা জমে। প্রতিদিনের সব কাজ শেষে বন্ধুদের জন্য সময় রাখতেন ১১টার পর। মাশরাফির বন্ধু সঞ্জীব বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের কাছে ঈদ বিনোদনের আরেক নাম কৌশিক। প্রতিদিন রাত ১১টার পর চলে আসি আমরা। আড্ডা শেষ হয় গভীর রাতে। ও (মাশরাফি) সবার সঙ্গে মজা করতে ভালোবাসে। কত কত কথা যে উঠে আসে আমাদের আড্ডায়।’

‘কী বিষয়ে আলাপ হয় সে আড্ডায়?’ ‘সেসব কি আর বলা যায়! বন্ধুদের নিয়ে যাঁরা আড্ডা দেন তাঁরা জানেন, সেখানে কোন কোন বিষয়ে কথা হয়।’ বলেই হাসলেন সুদীপ্ত।

এ কেমন অবিচার নাসিরের সাথে

সদ্য শেষ হলো ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এরপর চলতি মাসের শেষের দিকে আবার দক্ষিণ আফ্রিকার আমন্ত্রণে দেশটিতে সফর করবে টাইগাররা। আর সে লক্ষ্যে শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দল চূড়ান্ত হবে বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের গুলশানের বাসায়। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, দল অনুমোদনের জন্য বিসিবি সভাপতির বাসায় প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান আকরাম খান, ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন ও বোর্ড পরিচালক আই এইচ মল্লিক। এখন চলছে সেই দল নির্বাচনী সভা। সবকিছু ঠিক থাকলে হয়তো আজ (শনিবার) সন্ধ্যা নাগাদ ঘোষিত হয়ে যেতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের টেস্ট দল।

এর আগের দিন বোর্ড সভাপতি আগের দিন মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে মুশফিককে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে নিজের ইচ্ছাতেই ছয়ে ব্যাটিং করেছেন মুশফিক। অথচ ম্যানেজম্যান্ট থেকে তাকে চারে নামার নির্দেশ দেয়াও হয়েছিল। ’ এককথায় মুশফিককে কথার মার প্যাঁচে তুলোধুনো করেন পাপন।

কিন্তু এর আগে অর্থাৎ চট্টগ্রামে টেস্ট শেষ হবার পর মুশফিক বলেছেন ভিন্ন কথা। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলেন, আমার কিপিং ও ব্যাটিং অর্ডার কী হবে তা উপরের কর্তাদের কাছে জিজ্ঞেস করুন। বোঝাই গেল মুশফিক, কোচ ও পাপনের দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পাপন তার জবাব দিতে গিয়ে আকার ইঙ্গিতে মুশফিককে একহাত নিয়ে ছেড়েছেন।

তবে কিপার মুশফিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাকে কিপিং করতে দেখা নাও যেতে পারে। মুশফিক কিপিং না করলে বিকল্প একজনকে কিপিং করতেই হবে। বাংলাদেশ দলের যে গঠন বিন্যাস তাতে শুধু স্পেশালিষ্ট কিপারের টেস্ট দলে থাকার সম্ভাবনা খুব কম। তাই মুশফিক ইপিং না করলে লিটন দাস, নুরুল হাসান সোহান ও আনামুল বিজয়ের একজনকে গ্লাভস হাতে দেখা যেতে পারে।

এদিকে টপঅর্ডার নিয়েও দেখা দিতে পারে সংশয়। কারণ তামিম ছাড়াও কেউই ভালো কিছু উপহার দিতে পারেনি টপঅর্ডারে। সৌম্য-মুমিনুল ছিলেন একেবারে ব্যর্থ। জাত পরিচয় তো দূরের কথা ব্যক্তি পরিচয় তুলে ধরতে ব্যর্থ দু’জন। তাই এনামুলকে টপঅর্ডারে বসানোর চিন্তা বিসিবির বসের। যদিও প্রধান নির্বাচকের কথা খোলাসা যে কিছু একটা হতে যাচ্ছে এনামুল ইস্যুতে। কপাল খুলতে পারে তার। বিজয় ছাড়াও এইচপি দলের হয়ে ইংল্যান্ডে অবস্থান করা নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়েও চিন্তা বিসিবির। এই তরুণ দলে জায়গা পেলে অবাক হবার কিছু থাকবে না। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার দল থেকে অনিবার্যভাবেই বাদ পড়ছেন নাসির হোসেন।

সূত্র : খেলাধুলা ২৪

হঠাৎ টানা ছয় মাসের বিরতি চাইছেন সাকিব, কিন্তু কেন?

দেশসেরা অলরাউন্ডার তিনি। শুধু কি দেশ সেরা? বিশ্বসেরাও বলা যায়। তার বল ঘুরলে কিংবা তার ব্যাট হাসলে বহুদূর নড়েচড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের হালচাল। আগে বলা হতো, এক সাকিবই জিতিয়ে দিলো বাংলাদেশকে। এখনো মাঝে মাঝে এই এক সাকিবকে বাংলাদেশকে জিতিয়ে দেন। কখনো বল হাতে আবার কখনো ব্যাট হাতে।

আন্তর্জাতিক-ঘরোয়া কিংবা বিদেশি লিগ খেলে এই বছরের অর্ধেক সময় কাটাচ্ছেন সাকিব। এসবে বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। তাই অন্তত ছয় মাসের জন্য ছুটি চাইছেন জাতীয় দলের এই পোস্টারবয়। বিসিবি কর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মূলত সাকিব ইস্যুতেই দোটানায় থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য দল ঘোষণার দিনক্ষণ পেছাতে বাধ্য হয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান ও সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান বলেছেন, ‘সাকিব লিখিতভাবে বিষয়টি জানালে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আমরা এই ব্যাপারে শুনেছি। কিন্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানিনা।’

প্রসঙ্গত, টেস্ট থেকে সাময়িক বিরতিতে গেলেও টি-টোয়েন্ট ও ওয়ানডে ভালোভাবেই চালিয়ে যাবেন সাকিব।

সাকিবের ভয়ংকর বোলিংয়ে ২১৭ রানে অল আউট অস্ট্রেলিয়া, ভিডিও সহ ।|

 

১১ বছর পর অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ। মিরপুরে ২য় দিনের খেলা শুরু হয়েছে সকাল ১০ টা থেকে। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া
প্রথম টেস্ট ম্যাচ, দ্বিতীয় দিন

বাংলাদেশের ১ম ইনিংসঃ

বাংলাদেশঃ ২৬০/১০
ওভারঃ ৭৮.৫

তামিমঃ ৭১ আউট
সৌম্যঃ ৮ অাউট
ইম্রুলঃ ০ আউট
সাব্বিরঃ ০ আউট
সাকিবঃ ৮৪ আউট

মুশফিকঃ ১৮ আউট
নাসিরঃ ২৩ আউট
মিরাজঃ ১৮ আউট
তাইজুলঃ ৪ আউট
শফিউলঃ ১৩ আউট
মুস্তাফিজঃ ০*

 

অস্ট্রেলিয়ার ১ম ইনিংসঃ

অস্ট্রেলিয়াঃ ২১৭
ওভারঃ ৭৪.৫

ডেভিড ওয়ার্নারঃ ৮ আউট
ম্যাথু রেনশঃ ৪৫ আউট
উসমান খাজাঃ ১ আউট
নাথান লিওনঃ ০ আউট
স্টিভ স্মিথঃ ৪ আউট

পিটার হ্যান্ডসকমঃ ৩৩ আউট
গ্লেন ম্যাক্সওয়েলঃ ২৩ আউট
ম্যাথু ওয়েডঃ ৫ আউট
অ্যাশটন আগরঃ ৪১*
প্যাট কামিন্সঃ ২৫
যশ হেজেলোড ঃ ৫

শফিউলঃ ০ উইকেট
মিরাজঃ ৩ উইকেট
সাকিবঃ ।৫ উইকেট
তাইজুলঃ ১ উইকেট
মুস্তাফুজঃ ০ উইকেট

মিরাজ তার ৩য় ওভারে আউট করলেন ওয়ার্নারকে। সাকিবের ২য় ওভারে রান আউট হয় খাজা। নাথান লিওনকে সাকিব তার ২য় ওভারেই আউট করেন। ১ম দিন শেষে ২৪২ রান পিছিয়ে ছিলো অস্ট্রেলিয়া।

মিরাজ তার ৬ষ্ঠ ওভারের শেষ বলে স্মিথকে বোল্ড করেন। তাইজুল তার ৫ম ওভারের ৩য় বলে পিটার হ্যান্ডসকম আউট করেন। সাকিবের ৯ম ওভারের ১ম বলে ম্যাথু রেনশর ক্যাচ ধরেন সৌম্য সরকার। মিরাজ তার ১৩ তম ওভারে ম্যাথু ওয়েডের উইকেট হাতিয়ে নেন। সাকিবের ১৩ম ওভারের ১ম বলেই বোল্ড হলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

বাংলাদেশের সামনে এখন তৃতীয় দিনের চ্যালেঞ্জ

দ্বিতীয় দিনের খেলার আর মাত্র ওভার দুয়েক বাকী ছিল। বেশ ভালোই খেলছিলেন দুই টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল আর সৌম্য সরকার। অজি স্পিনে স্বচ্ছ্যন্দ ছিলেন না সৌম্য। ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিতে দিতে একসময় তুলে মারলেন অ্যাস্টন অ্যাগারকে। মিস টাইমিং হল। তিনবারের চেষ্টায় বলটি তালুবন্দী করতে পারলেন লং অনে দাঁড়ানো উসমান খাজা। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৩ রানে প্রথম উইকেট হারাল বাংলাদেশ। ৫৩ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৫ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন তরুণ ওপেনার।

মজার ব্যাপার হলো, দিনের খেলা প্রায় শেষ হয়ে আসায় ইমরুল কায়েসের বদলে ব্যাটিয়ে পাঠানো হলো তাইজুল ইসলামকে। দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালের (৩০*) সঙ্গে তিনি ভালোভাবেই দিন কাটিয়ে দিলেন। ১ উইকেটে ৪৫ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করল স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগারদের লিড দাঁড়াল ৮৮ রানের। আগামীকাল এই লিড যতটা বাড়িয়ে নিতে পারবে টাইগাররা; অজিদের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের সম্ভাবনা ততই বেড়ে যাবে। তবে ম্যাচের তৃতীয় দিনে উইকেট স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠবে এটা বলাই বাহুল্য।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ২৬০ রানের জবাবে ২১৭ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান ৫ উইকেট আর মেহেদী মিরাজ নেন ৩ উইকেট। আজ দ্বিতীয় দিন সকালে অজি দূর্গে প্রথম আঘাত হানেন তরুণ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে যান বাংলাদেশের প্রধান ‘দুঃশ্চিন্তা’ ১৬ বলে ৮ রান করা অজি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ।

৩৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়েছিলেন রেনশ আর হ্যান্ডসকম্ব। তাদের সেই প্রতিরোধ ভেঙে মঞ্চে আবির্ভূত হলেন তাইজুল ইসলাম। তার বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়েন ৬৭ বলে ৩৩ রান করা বিপজ্জনক হ্যান্ডসকম্ব। বল হাতে ফিরেই সাফল্য এনে দেন সাকিব আল হাসান। সৌম্য সরকারের তালুবন্দী হয়ে বিদায় হন একপ্রান্ত আগলে লড়াই করতে থাকা ওপেনার ম্যাট রেনশ (৪৫)।

৬ উইকেটে ১২৩ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় সেশনের মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন অজি উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ম্যাথু ওয়েড (৫)। তখনও উইকেটে ছিলেন বিপজ্জনক গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তাকে ২৩ রানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরিয়ে দেন বিশ্বসেরা সাকিব। এরপরই লেজের দাপট দেখানো শুরু করে অজিরা।

১৪৪ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর ৪৯ রানের জুটি গড়ে অ্যাস্টন অ্যাগার এবং প্যাট কমিন্স। অবশ্য এতে পেসার শফিউল ইসলামের ক্যাচ মিসের বড় অবদান আছে। শেষ পর্যন্ত চা বিরতির পরপর কমিন্সকে (২৫) বোল্ড করে প্রতিরোধ ভাঙেন বিশ্বসেরা সাকিব। শেষমেষ হ্যাজেলউডকে (৫) ইমরুলের তালুবন্দী করে অজিদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন তিনি। এতে করে বিশ্বের টেস্ট খেলা সবকটি দেশের বিপক্ষে ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব গড়লেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের পোস্টার বয়।