আমার জাঙ্গিয়াটা গেলো কোথায়

আমার আন্ডারওয়ারটা কোথাও খুঁজে পাচ্ছিনা, ঘরের বেলকনির শীতল হাওয়ায় শার্ট, প্যান্ট এবং আন্ডারওয়ারটা শুকাতে দিয়েছিলাম। খুব ভালোভাবে দুইপাশে ক্লিপ ও লাগিয়েছি কিন্তু এখন কোথাও খুঁজে পাচ্ছিনা। Continue reading “আমার জাঙ্গিয়াটা গেলো কোথায়”

ঐ সব মেয়েদের গল্প

আপনি ৬ মাস প্রেম করছেন হঠাৎ আবদার করেছেন আপনার প্রেমিকার কাছে যে তার সাথে,, শারিরীক সম্পর্ক করবেন।
মেয়েটা রাজি হল না কিন্ত কিছুদিনের জোরাজুরিতে মেয়েটা রাজি হয়ে গেল এবং আপনার আবদারটাও পূর্ণ হল। এখন সবাই ভাববে মেয়েটার চরিত্রে সমস্যা আছে কিন্তু এটা ভাববে না যে,মেয়েটা আপনার কাছে কত বড় বিশ্বাসের পরিক্ষা দিল। সবাই ভাববে যে মেয়েটার চরিত্র নষ্ট কিন্তু এইটা ভাববেনা যে, আপনার অন্যায় আবদারের কথা।

আপনার কি অনেক ক্ষতি হত যদি আবদারটা এমন হত যে “তোমার হাতে আমার নামের উল্কি লিখো “এতেও মেয়েটা রাজি হয়ে যেত কিন্তু এতে উপকারটা হত এই যে চরিত্রে দাগ না পড়ে মেয়েটার হাতে দাগ পড়তো।
মেয়েরা সব পারে কেন জানেন?
মেয়েরা সব পারে কারণ মেয়েরা পৃথিবীর সব থেকে বোকা প্রাণি।কারণ বোকা না হলে একজন ধর্ষক এর বোন থাকতো না, বোকা না হলে একজন ইভটিজারের বোন থাকতো না, বোকা না হলে নিজের শরিরকে বিলিয়ে আপনার ভোগ পন্য হত না, বোকা না হলে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেয়া মায়ের সন্তান থাকতো না…
পরিশেষে শুধু এটুকুই বলবো, না জেনে; না শুনে কোন নারী কে অপবাদ দিচ্ছেন? সেই নারীকেই কিন্তু একদিন আমার আপনার মত কেউ মা ডাকবে, কেউ বোন
ডাকবে, কেউ বউ ডাকবে…

এটা বলবো না যে সব মেয়ে # দুধে ধোয়া
# তুলসি পাতা; তবে এটাও সত্যি যে সব মেয়ে খারাপ না।তাই কিছু মেয়ের জন্য মেয়ে জাতিকে উদ্দেশ্য করে খারাপ বলা ঠিক না!

ভালোবাসা ফিরে তাকাই

বাসর ঘরে ঢুকে পাশে বসতেই
বৌ আমাকে বলল….
—-ঘড়িতে তাকিঁয়ে দেখুন তো কয়টা বাজে??
বাসর রাতে বৌয়ের এমন সাহসী প্রশ্নে কিছুটা বিচলিত
হলাম।তখন ঘড়িতে তাকিঁয়ে দেখি রাত ১২.৩০মিঃ।আমি
বৌয়ের পাশে বসে আস্তে করে বললাম…..


—-শোনো আমার এখন বিয়ে করার কোন ইচ্ছেই ছিলো
না।আমার বাবা-মায়ের পছন্দেই তোমাকে বিয়ে করেছি।
তবে আমার কারো সাথে কোন সম্পর্ক ও নেই।কিন্তু আমি
বিয়ের জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম না।তাই আমি
এখন চাইলেও এত সহজে তোমাকে বউ হিসেবে মানতে বা
বৌয়ের অধিকার দিতে পারবোনা।
কথা গুলো বলে শেষ করা মাত্র ই


নতুন বউ আমার পাঞ্জাবির কলারটা চেপে ধরে বলল…..
—-আমাকে কি খেলার পুতুল মনে হয় নাকি??পছন্দ হয়নি,
বিয়ে করতে চাননি এইটা আগে বলতে পারলেন না??
নিজের মায়ের মন রক্ষা করতে আমার সব আশা-স্বপ্ন কে
কেন বলিদান দিতে হবে?
বিয়ে করার ইচ্ছে নেই,এইটা আমাকে আগে বললেই
পারতেন।তবেই আমি আমার পক্ষ থেকে বিয়ে ভেঙে
দিতাম।মায়ের প্রতি ভন্ড ভক্তি শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে
আমার জীবনটা কেন এইভাবে নষ্ট করে দিলেন হুম?
আমি তো আপনার কোন ক্ষতি করিনি।এখন আমি
যেভাবে বলব সেভাবেই সব হবে। ঠিক আছে????
বলেই কলার টা ছেড়ে দিলো।পরে আবার বলল….
—-আচ্ছা যা হবার তা তো হয়েই গেছে।
দিতে হবে না আপনাকে বউয়ের অধিকার।
যান নিচে গিয়ে ঘুমান।একদম খাটে ঘুমাতে পারবেন না।
বলেই আমার বালিশ পা ফ্লোরে ছুড়ে মারলো।আমি ও
বাধ্য ছেলের মতো ফ্লোরেই শুয়ে পড়লাম।আর মনে মনে
ভাবতে লাগলাম,কেমন গুন্ডি মেয়ে রে বাবা।জীবনেও
এমন মেয়ে দেখিনী।
মনে তো হচ্ছে জীবন পুরাই তেজপাতা করে ছাড়বে।

.
ফ্লোরে ঘুমই আসছেনা।কখনই ফ্লোরে ঘুমাই নি।কিন্তু
আজকে নিজের অমতে বিয়ে করার কারনেই ফ্লোরে
ঘুমাতে হচ্ছে।
এর মধ্যে মশার আন্দোলন। ইসসসসসস,,,,,,সহ্য হচ্ছেনা।চোখ
বন্ধ শুয়ে করে আছি।কখন জানি ঘুমটা লেগে গেছে
বুঝতেই পারিনি।হঠাৎই সজাগ হয়ে দেখি আমার শরীরে
কম্বল আর পাশে ও মশার কয়েল লাগানো।মনটাতে একটু
স্বস্তি পেলাম,চোর হলেও মানুষ ভালো।
মনে মায়া-দয়া আছে।
.
পরের দিন ঘুম থেকে উঠেই দেখি টেবিলে চা রাখা।চা
খেয়ে,ফ্রেশ হয়ে রুমে বসে ফোন টিপছিলাম তখন ই
তানিয়া (আমার বৌ)এসে বললো…..
—-এইযে সেই কতক্ষন যাবত খাবার নিয়ে সবাই অপেক্ষা করছে
আর আপনি ঘরে বসে আছেন কেন?এখনি নিচে চলুন আগে……??বলেই আমার কানের কাছে এসে আস্তে করে
বললো…
—–নাকি খাবার টা রুমে নিয়ে আসবো?
আমি তো হার্ট এ্যাটাক হতে হতে বেচেঁ গেছি।আমি তো
ভাবছিলাম,বউ বুঝি এইবার ও কলার ধরেই আমাকে খাবার
টেবিলে নিবে।কিন্তু না,বউয়ের স্বর পাল্টে গেছে,তবে
কি বউ আমার প্রেমে পড়ে গেল নাকি??কথাটা ভাবতে
ভাবতেই বউয়ের দিকে তাকালাম।হা হয়ে তাকিঁয়ে
আছি,বউ তো আমার হেব্বি সুন্দরী।রাতে তো ভাবছিলাম
হিটলারনি।এখন দেখি না মায়াময়ী।এইবার যে আমি
বউয়ের প্রেমে পড়ে গেলাম।নিজেই নিজেকে বললাম…
—-পিন্টু মনে হয় তুই তোর হিটলারনি বউয়ের প্রেমে পড়ে
গেছিস।

.
হঠাৎ একটা বিকট শব্দে বাস্তবে ফিরলাম।
সামনে তাকিঁয়ে বউ আমার ফ্লোরে পরে চোখ বন্ধ করে
আছে।বুঝতে পারলাম,পাগলীটা খুবই ব্যথা পাইছে।
দৌড়ে গিয়ে টেনে তুলে বসাতে গেলাম আর অমনি
আস্তে করে বলল…..
—-কেমন স্বামী গো আপনি??
আমি তো একটু ভ্যাবাচ্যকা খেয়ে গেলাম।
বললাম…
—-আমি আবার কি করলাম।
বৌ বলল….
—-আমি মাটিতে পরে আছি কই কোলে করে নিয়ে
বিছানায় শোয়াবেন,তা না করে আমার হাত ধরে
টানছেন।
সাথে সাথেই আমি কোলে করে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে
দিলাম।
আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল….
—-ইচ্ছে করে এইভাবে ই ধরে রাখি সারাটা জীবন।কিন্তু
আপনি তো আমাকে পছন্দই করেন না।
কথা শেষ করেই তানিয়া দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো।
আমারও বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে গেল।আমারো খুব বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল *
কপালে একটা চুমো একেঁ দিয়ে বলি …
—-পাগলী আমি যে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি
গো।
কিন্তু পারলাম না।কোথায় জানি একটা বাধাঁ
পাচ্ছিলাম।এই সুযোগে তানিয়া আমাকে ঠেলে
বিছানায় ফেলে দিয়ে দৌড়ে পালালো।আমি শুধু ওর
চলে যাওয়ার পানে তাকিঁয়ে রইলাম।পরক্ষনেই খেয়াল
হলো,ও তো ব্যথা পাইছে।যার কারনে কোলে করে
উঠাতে হলো।বুঝতে আর বাকি রইলো না,এইবার ও
আমাকে বোকা বানানো হয়েছে।
.
পাগলিটার সাথে খুনসুটি প্রেম করতে করতেই কেটে গেল
২টা বছর।এখন কেউ কাউকে ছাড়া কিছু ভাবতেই পারিনা।
আমার পাগলীটা এখন গর্ভবতী।
তাই খুব যত্ন নেই তার।আজকেই বাচ্চা হবার তারিখ
দিয়েছে ডাক্তার।
আমি অফিসে ছিলাম,হঠাৎই বাবার ফোন পেয়ে ছুটে
গেলাম হসপিটাল।গিয়েই শুনলাম আমার ঘর আলো করে
এসেছে এক ছোট্ট রাজকন্যা।
কিন্তু….
আমার পাগলিটার কোন সাড়া শব্দ পাচ্ছিনা কেন??ভয়ে
আৎকে উঠলাম।অনেকের মুখেই শুনেছি,বাচ্চা জন্ম দিতে
গিয়ে মারা গেছে অনেক মা।সে ভয়েই বাচ্চা নিতে
চাইনি।কিন্তু ওর নাকি বাচ্চা লাগবেই।
ওর ইচ্ছে পূরন করতে গিয়েই কি তবে……???
আর ভাবতেই পারছিনা।
আর একটা মিনিট ও নষ্ট না করে,দৌড়ে গেলাম কেবিনে।
গিয়ে দেখি বাচ্চা টা হাত পা নাড়িয়ে খেলছে।
কিন্তু তানিয়া চোখ বন্ধ করে রাখছে।
ওর নিঃশ্বাস আছে কি নাই তা দেখার মতো ধৈর্য আমার
ছিলোনা।তাই তানিয়াকে জড়িয়ে চিৎকার দিয়ে
ফেললাম।
সাথে সাথেই কানের কাছে একটু ব্যথা অনুভব করলাম।
পরে দেখি তানিয়া আমার আস্তে করে কানে কামড়
দিয়ে বলল….
—–কি ভাবছিলা তোমাকে একা রেখে চলে যাবো??
আরে না গো,আমি চলে গেলে,তোমাকে জ্বালাবে
কে??


আমিও বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখলাম।আর
বললাম,বড্ড ভালোবাসি রে পাগলি তোকে।ছাড়বোনা
কখনই

ভালোবাসা হারমনে ভালোবাসার কাছে

ভালোবাসা হারমনে ভালোবাসার কাছে
আজ আমার স্বামীর গায়ে হলুদ, ওর গায়ে প্রথম হলুদ আমিই ছুঁইয়ে দিলাম। ক’টা নারী এত সৌভাগ্য নিয়ে পৃথিবীতে আসে! ছলছল দুটি নয়ন নিয়ে নয়না তার স্বামীর কপালে হলুদ ছুইয়ে দিলো। রবির চোখ দুটোও শুষ্ক নয়, প্রচুর বৃষ্টির পরে মাটি যেমন ভিজে থাকে ঠিক তেমন হয়ে আছে রবির চোখ দুটো।

রবিকে বাসর ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে আমি আমার বেড রুমে এলাম। কি বিশাল শূন্য লাগছে ঘরটাকে! এত আসবাব পত্রের মাঝেও ঘরটা শূন্য ফাঁকা। এই আট বছরের মধ্যে আজকেই প্রথম আমি রবিকে ছাড়া ঘুমাবো। ঘুম কি আসবে আজ? বা কোনো কালেও কি ঘুম আসবে এই দু চোখে?

শূন্য বিছানায় হাত রেখে ছুইয়ে দেখছি এই খানে মানুষটা শুয়ে থাকতো। আট বছরের কত খুনসুটি কত স্মৃতি কত ভালোবাসা সব এই ঘরটার সাথে জড়িয়ে আছে। মনে পড়ছে আমার বাসর রাতের কথা। কত লাজুক লাজুক সেই অনুভূতি! চোখ তুলে রবির দিকে লজ্জায় তাকাতে পারছিলাম না আর রবিও হুট করে সেদিন লাজুক হয়ে গেছিল। দু’জনই আসামীর মত মাথা নিচু করে বসে ছিলাম। সেই দিনটার স্মৃতি আজ চোখ ভরা জল নিয়ে ভাবছি।
মনে পড়ছে আমাদের টু ইন বেবীর গল্প, মনে পড়ছে বেবীদের নাম রাখা নিয়ে আমাদের সেই টক মিষ্টি ঝগড়ার কথা।
সব আজ স্মৃতি হয়ে গেছে শুধুই স্মৃতি।
হে আল্লাহ এত কিছু সইবার ক্ষমতা কেনো দিচ্ছো? সব সহ্য ক্ষমতা তুলে নাও। কি লাভ এত কিছু সহ্য করে এই বেঁচে থেকে? একজন অক্ষম নারী তার স্বামীকে অন্য একটা নারীর সাথে বাসর ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে কতটা নির্লজ্জের মত বেঁচে আছে! এই লজ্জা এই অপমান নিয়ে আমি এখনো নির্লজ্জের মত শ্বাস নিচ্ছি।

আমি বন্ধ্যা আমার এই অক্ষমতা ঢাকবার মত পৃথিবীতে এমন কোনো গোপন স্থান আছে কি?
নেই, কোত্থাও নেই। আট বছরের সংসার জীবনে আমাদের কোনো সন্তান হয়নী। একটা বেবী এডপট করতে চেয়ে ছিলাম কিন্তু শ্বাশুড়ী মা সরাসরিই রবি কে বললেন-
–কার না কার পাপের ফল অনাথ আশ্রমে রাইখা আসে, বৈধ সন্তান হইলে ঠিকই কোনো না কোনো আত্মীয় ঐ বাচ্চার দায়িত্ব নিতো। আর ঐ সব পাপ আমি আমার সংসারে রাখতে পারবো না। বউ বাচ্চা দিতে পারতেছে না এইটা তার অক্ষমতা তাই তাকে বল তোর দ্বিতীয় বিয়েতে সে যেনো সম্মতি দেয়।

আমি আর রবি দু জনই আম্মার রুমে দাড়িয়ে দাড়িয়ে শুনছি। কথা গুলো শুনছি আর আঁচল দিয়ে চোখ মুছতেছি। রবি সংসারের কোনো ব্যাপারে কথা বলে না কিন্তু একটা এডপট বেবী আমিই ওর কাছে আবদার করে ছিলাম। কিন্তু এই বাড়িতে শ্বাশুড়ী মায়ের বিনা হুকুমে কিছুই হয় না। তাই একটা এডপট বেবী চাই সেই দরখাস্ত নিজের মায়ের কাছে দিতে গিয়েই এত কথা শুনতে হলো রবিকে। অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর রবি বললো-
–আম্মা দত্তক বাচ্চা বাসায় উঠতে দেবেন না ঠিক আছে তাই বলে সন্তানের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করবো এটা কেমন কথা?
–এইটা কেমন কথা বলতেছিস তুই রবি? তুই আমার একটাই ছেলে আর সে যদি নিঃসন্তান হয় তাহলে বংশ তো এখানেই শেষ! আট বছর অপেক্ষা করেছি আর নয় এবার আমি নাতীর মুখ দেখতে চাই!
–আম্মা একটু বোঝার চেষ্টা করেন, এই যুগে মানুষ দ্বিতীয় বিয়েটাকে ভালো চোখে দেখে না। আর নয়নার কি হবে?
–মানুষের ভালো দেখাদেখি দিয়ে তো আর আমার চলবে না! আর নয়না তোর দ্বিতীয় বিয়ের পর যদি এই বাড়িতে থাকতে চায় তবে থাকবে আর না চাইলে বাপের বাড়ী চলে যাবে।
–এটা কেমন কথা আম্মা? এটা তার সাথে অন্যায় করা হবে!
–তোকে ন্যায় অন্যায় নিয়ে ভাবতে হবে না। তুই যদি বিয়ে না করিস তবে এই মুহূর্ত থেকেই আমি আহার ত্যাগ করলাম।

দু’দিন হলো আম্মা পানি পর্যন্তও খায়নী। বয়স্ক মানুষ সুগার আছে,অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ডাক্তার আনা হয়ে ছিল কিন্তু ডাক্তারকে উনি তার রুমে ঢুকতে দেননী। সারা বাড়ি জুড়ে অশান্তি বিরাজ করছে। রবির মুখের দিকে তাকাতে পারছি না, কি যে বলবো বুঝেই উঠতে পারছি না। দু দিন ধরে আমরা দু টো মানুষ দুই ধরনের লজ্জায় কেউ কারো মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। আমার লজ্জা আমি বন্ধ্যা আর রবির লজ্জা তার মা তাকে দ্বিতীয় বিয়ে দেবার জন্য এত কঠর একটা পণ করেছে সেটা। আমি কিভাবে সব কিছু ম্যানেজ করবো ভেবে পাচ্ছি না আর রবিকেই বা আমার কি বলা উচিত! তবুও কিছু বলাটা জরুরী কারণ নিজেকে অপরাধী রূপে আর দেখতে পারছি না। একটা সন্তান জন্ম দিতে পারছি না, বংশ রক্ষা করতে পারছি না এই কষ্ট কি একাই ওদের? আমার কি কষ্ট হয় না? আমার হৃদয় কি ক্ষতবিক্ষত হয় না?
মা হতে না পারার অক্ষমতার যন্ত্রণা বুকে চেপে রেখে বললাম-
–তুমি দ্বিতীয় বিয়ে করো রবি

কথাটা বলতে মুখ না আটকালেও বুকটা যে আটকালো সেটা শ্বাস নিতে গিয়েই টের পেলাম। রবির আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো-
–তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে নয়না?
–একবার ভেবে দেখো রবি আম্মা অসুস্থ হয়ে পড়েছে এভাবে আর দু দিন চললে উনি আর বাঁচবেন না। আর আমি কারো মৃত্যুর দায় ভার নিতে পারবো না।
–কিন্তু আমি কি ভাবে আরেকটা বিয়ে করতে পারি বলো?
–পারবে, অনেকেই পারে।
–অনেকের কথা জানি না, আমি জানি তোমাকে ছাড়া অন্য নারীর কথা আমি ভাবতেও পারি না।
–আমি এসব শুনতে চাই না রবি।
–একটা অশান্তি নিভাতে গিয়ে আমি চিরকালের অশান্তি বাড়িতে আনতে পারি না।
–কি করবে তাহলে? যাও তোমার মাকে সুস্থ করো।
–আমি কি করবো নয়না তুমি বলে দাও?
কথাটা বলেই রবি হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করলো। কি শান্তনা দেবো তাকে? আর নিজেকেই বা কি বলে বোঝাবো? তবুও আমার কিচ্ছু করার নেই। আমার সামনে এই একটাই অপশন হলো আমি নিরুপায়।

আমি শ্বাশুড়ী মায়ের রুমে গিয়ে বললাম-
–আম্মা রবি বিয়ে করতে রাজী হয়েছে আর আমিও রাজী। আপনি প্লীজ এখন খেয়ে নিন!
–বাচ্চা ভোলাতে এসেছো? রবি এসে আমার মাথায় হাত রেখে কসম করলে তবেই আমি খাবো এখন তুমি যাও আর অকারণে আমার রুমে আসবা না।

আমি হতাশ হয়ে ফিরে এলাম। ছলছল জল নিয়ে রবির দিকে তাকিয়ে বললাম-
–প্লীজ একবার রাজী হয়ে যাও!

রবি অসহায়ের মত আমার দিকে চেয়ে আছে। শ্বাশুড়ী মায়ের শারীরিক অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ কারণ উনি খাবারসহ ঔষধ খাওয়াও ছেড়ে দিয়েছেন। আজ যদি উনার নিজের মেয়ে থাকতো আমার পজিশনে তবে কি উনি এমনটা করতে পারতেন?
আমি রবির পায়ে পড়ে হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করলাম। রবি আমাকে টেনে দাড় করিয়ে বললো-
–এই পাগলী নিজের কথা ভেবেছো একটি বার?

যে নারী সন্তান জন্মদানে ক্ষমতা রাখে না তার বোধ হয় নিজের কথা ভাবা উচিত নয়। আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম-
–ভেবেছি তো! আমি জানি তুমি সারাটা জীবন আমাকে ভালোবাসবে। আর তোমার সন্তানকে বুকে নিয়েই আমি মাতৃসুখ অনুভব করবো।

আমার কথা শুনে রবি হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করলো। আমি জানি রবি তুমি সারা জীবন আমাকে ভালোবাসতে পারবে না। আমি এই পরিবারের ছাই ফেলা ভাঙা কুলো হয়ে যাবো।
অবশেষে রবির খালাত বোন ভূমিকে বিয়ে করতে রাজী হলো রবি।
এই সব নানান ভাবনায় আমার রাত শেষ হলো।

ভোর হয়ে গেছে ছাদে গেলাম প্রকৃতির সাথে আলিঙ্গন করতে। কিন্তু আকাশ বাতাস প্রকৃতি সব কিছুকেই ধূসর মনে হলো তাই চলে এলাম। নাস্তা রেডী করলাম, এতটা বছর ধরে এই সংসারের সব কাজ আমিই করেছি, অথচ আজ নিজেকে বাড়ির বুঁয়া মনে হচ্ছে। কি আজব মানুষের অনুভূতি! স্বামী থাকলে কাজ করাকে সংসার করা মনে হয় আর স্বামী বিহীন কাজ গুলো দাসী বানিয়ে দেয়। অথচ এই সংসারটার জন্যই আমি উচ্চ শিক্ষিত হওয়া শর্তেও কোনো চাকরী করিনী আর সেই সংসারেই আমি আজ গ্রেজুয়েট দাসী।
আমি টেবিলে খাবার রেডী করতেই নতুন বউ রুম থেকে বাহিরে এলো। ভূমির চোখে মুখে লাজুক লাজুক খুশি ছড়িয়ে আছে, সেটাই তো স্বাভাবিক কারণ বাসর রাত একজন নারীর জীবনে শত জনমের শ্রেষ্ঠ্য রাত। একটা রাত একই বাড়িতে দুটো নারীর দুই ভাবে পোহালো।
আমি রবির জন্য অপেক্ষা করছি সে কখন বাহিরে আসবে! সারাটা রাত ওকে দেখিনী। সারা রাত কি অনেক দীর্ঘ সময়? আমার কাছে তো এক যুগ মনে হয়েছে।

রবি আধা ঘন্টা পরে বেরিয়ে এলো, আমার চোখের সাথে সে চোখ মেলাতে পারছে না কিন্তু আমি অপলক ওর দিকে চেয়ে আছি। আমি ওকে খাবার বেড়ে দিতে যেতেই ভূমি আমার হাত থেকে খাবারের বাটি নিয়ে বললো-
–আমি দিচ্ছি

আমি ওখান থেকে সরে আসতেই রবি বললো-
–নয়না খাবার বেড়ে দাও

রবির কথা শুনে আমার চোখে জল চলে এলো, মরার চোখে যে কি হয়েছে কারণে অকারণেই শ্রাবণ বয়! আমি মাথা নিচু করে রবিকে খাবার বেড়ে দিচ্ছি হঠাৎ টপটপ করে কয়েক ফোটা অশ্রু রবির হাতে পড়তেই রবি চমকে উঠে আমার দিকে তাকালো। আমি চোখ মুছে রুমে চলে গেলাম।
কি করে আমার রাত দিন কাটবে রবি? কি ভাবে আমি বেঁচে থাকবো তোমাকে ছাড়া? এত বড় জীবনটা কবে ফুরাবে?
রবি নাস্তা না করেই আমার রুমে এলো। আমি নিজেকে সামলে নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই বললাম-
–উঠে এলে কেনো? যাও নাস্তা করে নাও
রবি কোনো উত্তর না দিয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকলো। আমার মনে পড়ে গেলো আমার বিয়ের পরের দিনের কথা। রবি নাস্তার প্লেট রুমে এনে বলে ছিল-
–এই যে দেখো নাস্তার প্লেট, কি ভেবেছো তোমার জন্য এনেছি? উ হু এখন তুমি আমাকে খাইয়ে দেবে।

নতুন বিয়ে হয়েছে, কি লজ্জার কথা! তবুও সেদিন রবি জোর করে আমাকে খাইয়ে দিতে বাধ্য করে ছিল। এছাড়াও এই আট বছরে অসংখ্যবার আমি তাকে খাইয়ে দিয়েছি। আমাদের মধ্যে সব ছিল, ভালোবাসা, মায়া, শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, শুধু একটা সন্তানই ছিল না। একটা শূন্যতা এত গুলো পূর্ণতাকে ভুল প্রমান করে দিয়েছে। এত এত স্মৃতি আমি কোথায় লুকিয়ে রাখবো আল্লাহ্? কোথায় বা নিজেকেই লুকাবো?
–রাতে একটুও যে ঘুমাওনী সেটা তোমার চোখ বলে দিচ্ছে নয়না
–তুমিও তো ঘুমাওনী তাই না?

আমার কথা শুনে রবি অপরাধীর মত মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইল। এই কথাটা বোধ আমার বলা উচিত হয়নী! নিজে তো কষ্ট পাচ্ছি আর সারাটা জীবন এই কষ্ট বয়ে বেড়াবো তাই বলে মানুষটাকেও কষ্ট দেবো? নাহ এটা অনাচার হবে। মানুষটার চোখ দুটোও জলে ভরে গেছে। আমি নিজেকে স্বাভাবিক করে বললাম-
–আজকেও কি তোমাকে আমার খাইয়ে দিতে হবে?

আমার কথা শুনে রবি আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করলো। আমিও আর নিজেকে সামলে নিতে পারলাম না। রবির বুকে মুখ গুঁজে আর্তনাদ করে কাঁদলাম। জানি এর পর হয়ত আর কখনোই ওর বুকে মুখ গুঁজে কাঁদার ভাগ্য আমার আর হবে না। স্বামীর ভাগ দিইনী আমি, আমার স্বামী পুরোটাই অন্যের হয়ে গেছে।

বিয়ের এক মাস পর রবির নতুন বউ কন্সিভ করলো। সারা বাড়িতে খুশির হাওয়া বইছে। রবির মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম যে, আট বছর ধরে এই খুশিটাকে সে আড়ালে লুকিয়ে রেখে ছিল। আমি অভাগীনি বলেই এতটা বছর এই খুশিটাকে বাহিরে আনতে পারিনী। হয়ত সে অনেক কষ্টও চেপে রেখে ছিল যা আমাকে কখনো টের পেতেও দেয়নী।

আজকাল সবাই নতুন বউ ভূমিকে নিয়ে খুব ব্যস্ত। আমার চোখের সামনে আমার ভালোবাসার মানুষটিও একটু একটু করে বদলে গেলো।
রবিও নিজের গর্ভবতী বউয়ের যত্নের ত্রুটি রাখে না। টাইমলী খাবার খাওয়ানো ঔষধ খাওয়ানো সব কিছুর সে খেয়াল রাখে। আমার কথা ভাবার মত কেউ নেই এ বাড়িতে।আমি খেলাম কি খেলাম না তার খোঁজ কেউ রাখে না। বরং ভূমির যত্নের ত্রুটি হলে রবির কাছে আমাকে জবাব দিহি করতে হয়। শ্বাশুড়ীমা ভূমির ঘরে আমাকে যেতে দেয় না, যদি আমি ভূমির গর্ভের বেবীর কোনো ক্ষতি করে ফেলি সেই ভেবে। যার ভেতরের মা হবার এত আকাঙ্খা সে কি করে পারবে কোনো অনাগত শিশুর ক্ষতি করতে? সতীনরা বোধ হয় এমন নিম্ন শ্রেণীর কাজ করতেই পারে!

আমি এ বাড়ির পার্মানেন্ট বুঁয়া হয়ে গেলাম। দিন রাত পরিবারের সবার খেয়াল রাখাটা বোধ হয় বুঁয়ার কাজ নয়। কিন্তু স্বামী বিহীন এই সংসারে আমার অবস্থান কোথায় সেটা কি কেউ বলতে পারবে?
আমার বাবা বহুবার এসেছে আমাকে নিতে কিন্তু আমি যাইনী। কিছু না হোক রোজ তো রুবিকে দেখতে পাই এই টুকুই বা কম কিসে? কিন্তু এ বাড়ির কেউ এই টুকুও আমাকে দিতে চায় না।
রবির ছেলে অবিকল রবির মত দেখতে হয়েছে। আমার স্বামীর সন্তান অথচ ঐ সন্তানের মা আমি নই এমন কি ঐ বাচ্চাটাকে আমার কোলে নেয়ার কোনো অধিকারও নেই, আমি বন্ধ্যা তাই কল্যাণ অকল্যাণ বলেও তো কিছু কথা থাকে।
আজকাল সেই কল্যাণ অকল্যাণ রবিও মানে। সেটা দেখে অবশ্য আমি অবাক হইনা কারণ নিজের সন্তানের প্রতি এমন দূর্বলতা প্রতিটা বাবারই থাকে।
রোজ নিজের এই অবহেলিত রূপ দেখে দেখেও আমি মাটি কাঁমড়ে এ বাড়িতেই পড়ে আছি। কিন্তু বাচ্চাটার অসুখ করলেই ভূমি বলে আমার মত বাঁজা নারীর দৃষ্টি লেগে নাকি বাচ্চা অসুস্থ। আল্লাহ আর কত লাঞ্ছনা আমার কপালে লিখে রেখেছো? নিজের স্বামীকে ভালোবাসার দায়ে এর চেয়ে যদি আমার ফাঁসি হতো তবুও হয়ত সম্মান নিয়ে মরতে পারতাম।
আর এই ধরনের কথা রবিও বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। এক দিন রবি আমার রুমে এসে বললো-
–নয়না আমি একটা বাসা দেখেছি তুমি গোছ গাছ করে নাও, এখন থেকে তুমি ওখানেই থাকবে
–কেনো রবি?
–রোজ অফিস থেকে ফিরে একই রকমের অশান্তি আর ভাল্লাগে না
–আচ্ছা ঠিক আছে

কথাটা বলেই রবি চলে যাচ্ছিল, আজকাল রবি আমার রুমে আসাই ভুলে গেছে। আমি ওকে পেছন থেকে ডেকে বললাম-
–সেই নতুন বাসাতে মাঝে মাঝে তুমি যাবে তো?

সে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো-
–যাবো, তোমার খরচাদি দিতে যেতে তো হবেই

এক বছর ধরে আমি এই নতুন বাসাতে একা থাকি না, একটা পথশিশুকে নিজের কাছে রেখেছি। ওর নাম দিয়েছি আঁখি। পাঁচ বছরের আঁখি রাস্তায় ভিক্ষা করতো। এক দিন ওর সাথে আমার দেখা হয় রাস্তায়, ভিক্ষা চাই ছিল। সে জানেই না তার বাবা মা কে। এমন কি ওর নিজের নামটাও ছিল না। কত বছর ধরে সে পথে পথে ভিক্ষা করতো সেটাও সে জানতো না।
আমি একটা বেসরকারী স্কুলের শিক্ষকতা করছি, আঁখিকেও স্কুলে ভর্তি করেছি। আঁখি আমাকে মা বলে ডাকে। রবি মাসে এক দু বার আসে কিন্তু দশ পনেরো মিনিটের বেশী থাকে না। আমি আর রবির থেকে কোনো টাকা নিই না। আমাদের মা মেয়ের সংসার আমার অল্প রোজগারেই বেশ চলে যায়। রবির টাকার দরকার আমার কোনো কালেও ছিল না, চেয়ে ছিলাম রবিকেই। সেই রবি আমাকে ভুলে যায়নী, বাস্তবতা রবির মন থেকে নয়নাকে মুছে দিয়েছে। আর বাস্তবতাই হয়ত একজন বন্ধ্যা নারীকে আঁখির মা বানিয়ে দিয়েছে।

#সমাপ্ত

সাত-আট বছরের এক ছেলে আমার কাঁধে ছিল।

মানুষের হায়াত-মউত আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। যার যতদিন হায়াত আছে সে পৃথিবীতে ততদিন বেঁচে থাকবে। আবার যার যেখানে যে অবস্থায় মৃত্যু নির্ধারিত আছে, তাকে সেখানে সে অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে হবে। এ ব্যাপারে মানুষের কোন হাত নেই। কিন্তু পৃথিবীতে কোন কোন সময়ে মানুষের এমন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে যা বিবেকবান সকলের হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়ে অনেকেই। নিজের অজান্তেই চোখের কোণা থেকে তপ্ত অশ্রুফোটা গড়িয়ে পড়ে। ধৈর্য ধারণ করা অতি কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও সবকিছু মেনে নিতে হয়। কিন্তু হৃদয়ে যে গভীর ক্ষত হয় তা থেকেই যায়। কখনও ঐ ঘটনা স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠলে ডুকরে কেঁদে ওঠে মন। এমনই একটি বিষয় তুলে ধরতে নিম্নের ঘটনার অবতারণা।

আমরা সাগর কুলের মানুষ। বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিকূলতা সহ্য করেই আমাদের বেঁচে থাকা। বিপদ মাথায় নিয়ে আমাদের চলা। আমাদের বিপদ মুহূর্তের একটি হৃদয় বিদারক সত্য ঘটনা আমি ব্যক্ত করতে যাচ্ছি।

আমি তখন যুবক ছিলাম। একদিন দেখি আকাশে খুব মেঘ। ভাবলাম ঝড় হ’তে পারে। পরিবারের সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিলাম। সবাই বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ দেখি সাগরের দিক থেকে বিরাট জলোচ্ছ্বাস ৩৫-৪০ ফুটের বেশী উঁচু হয়ে ছুটে আসছে। তখন ভাবলাম বাঁচার আর কোন উপায় নেই। সবাইকে জোরে অাঁকড়ে ধরেছিলাম। ৭-৮ বছরের এক ছেলে আমার কাঁধে ছিল।

পানি এতো জোরে এসে ধাক্কা দিল যে, ছেলেটা ছাড়া আর সবাই হারিয়ে গেল। তখন আমরা অনেক পানির নিচে। পানি আমাদেরকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে। যখন পানির উপরে উঠলাম তখন কোথাও কোন ঠাই নেই। কোথাও কোন গাছ বা উঁচু কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। ছেলেটা তখন কাঁধে। গলা ধরে আছে। ওকে বললাম, আববা! তুমি, দু’হাতে আমার গলা জড়িয়ে ধর, ছেড় না যেন! তাহ’লে ডুবে যাবে। ছেলেটি কাঁদছে আর বলছে, আববা তুমি আমাকে ফেলে দিও না। তাহ’লে আমি কিন্তু ডুবে যাব। তখন আবার ঢেউ চলছে ২-৩ ফুট উঁচু হয়ে। আমরা সেই ঢেউয়ে ডুবে যাচ্ছি। পানি খেয়ে আবার উপরে উঠছি। ছেলেকে কাঁধে নিয়ে আধা ঘণ্টার মত খুব কষ্টে সাঁতার কেটে বেঁচে আছি। কোথাও কোন ঠাই দেখা যায় না। তখন ভাবছি আর বোধ হয় বাঁচতে পারব না। জীবন যায় যায় অবস্থা। মনে মনে ভাবছিলাম ছেলেটা যদি গলা ছেড়ে ডুবে যেত তাহ’লে হয়তো নিজে বাঁচতাম। পরে কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বলে দিলাম, তুই আমার গলা ছেড়ে দে। ছেলে তখন কেঁদে ফেলল। আর কাঁদতে কাঁদতেই বলছে আববা! তুমি আমাকে ছেড়ে দিও না, আমি ডুবে যাব। বার বার বলার পরেও যখন ছেলেটি গলা ছাড়ছে না। তখন আমি হাত ধরে টান দিই। ছেলে আরো জোরে কাঁদে এবং জোরে গলা জড়িয়ে ধরে। আমরা দু’জনের কেউ মরতে চাই না, আবার কেউ বাঁচতেও পারছি না। (এমন পরিস্থিতিতে আপনি আপনার সন্তানকে নিয়ে একটু কল্পনা করুন তো, কেমন লাগে!)। এটা ছিল মৃত্যুর পূর্বের ভয়াবহ অবস্থা। ছেলের কান্নাতে আমার আর মায়া হ’ল না। আমি ওর হাত টেনে কামড়িয়ে ধরলে, সে আমার গলা ছেড়ে দেয়। সাথে সাথে ছেলেটি ডুবে যায়। পানির অনেক নীচে চলে যায়। তখন মনে মনে বললাম, বেঁচে গেছি। এর মাত্র ৫ মিনিট পর আমার পায়ে উঁচু গাছের ডাল লাগল। আমি তার উপরে দাঁড়ালাম। সাথে সাথে ছেলেটির হৃদয় বিদীর্ণকারী কান্না জড়িত কথা কানে ভেসে আসল। চোখে বাঁধ ভাঙ্গা অশ্রু নেমে এলো।

তখন ভাবছি এই তো ঠাই পেলাম, তবে কেন আমার ছেলেটাকে পানিতে ফেলে দিলাম! একি করলাম আমি? এইটুকু সময় আমি তাকে ধরে রাখতে পারলাম না! কত বড় ভুল হয়ে গেল! আমি সেখানে দাঁড়িয়ে জায়গাটাও বুঝতে পারছি। পানি সরে গেলে ওখানে লাশ পাওয়া যাবে। দেড়দিন পর পানি সরে গেল, আমি গাছে ছিলাম। একটু ক্ষুধাও লাগেনি, ঘুমও আসেনি। তারপর ছেলের লাশ সেখানে পেয়ে আরো কষ্ট হ’ল। যে কষ্ট আমি আজও ভুলতে পারছি না। আমার এখন কয়েকটা ছেলে-মেয়ে। বয়স ৬০ বছর। তবুও ঐ স্মৃতি আমাকে পাগল করে দেয়। তাই মাঝে মাঝে ভাবি, দুনিয়ায় এ অবস্থা হ’লে ক্বিয়ামতের দিন কি অবস্থা হবে? যেখানে কোন দিন মরণ হবে না। কেউ কাউকে সাহায্য করবে না।

দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে মানুষ নিজেকে বাঁচাতে যদি কলিজার টুকরা প্রাণাধিক প্রিয় সন্তানকে ছুড়ে দিতে পারে, তাহ’লে ক্বিয়ামতের ভয়াবহতায় মানুষ কি করবে সেটা চিন্তার বিষয়। যে দিবসের বিবরণ দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যেদিন ঐ বিকট ধ্বনি আসবে, সেদিন মানুষ পলায়ণ করবে তার নিজের ভাই হ’তে, তার মাতা, তার পিতা, তার স্ত্রী ও তার সন্তান হ’তে। সেদিন তাদের প্রত্যেকেরই একই চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে’ (আবাসা ৩৩-৩৭)। অতএব সচেতন মানুষ মাত্রেরই ঐ জীবনের জন্য যথাযথ প্রস্ত্ততি গ্রহণ করা আবশ্যক। পার্থিব জীবনে সঠিক প্রস্ত্ততি তথা সৎ আমল করতে না পারলে পরকালীন জীবনে কোন আপনজন কাজে আসবে না। বরং সেদিন সবাই নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকবে। একান্ত আপনজনও পরিচয় দিবে না। ক্বিয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে পরিত্রাণের জন্য আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন-আমীন!

বোকা,খেটে খাওয়া মানুষগুলো বেঁচে আছে বলে পৃথিবীটা এখনও ভালোই আছে।

ঘটনা প্রবাহ-১
———–
কাজ থাকার দরুন বাইরে মানে ব্যাংকে যাচ্ছিলাম।দেওয়ান হাট থেকে আগ্রাবাদে টেম্পুগুলোতে(টেম্পুও বলা যায় না।সাইজে কিছুটা বড়।সিএঞ্জি টাইপের কালার) চড়ে আসার সময় দেখলাম টাকা তোলার দায়িত্ব পালন করছিল ৯-১০ বছরের খুব মায়াবী চেহারার এক ছেলে।সহজ-সরল,বোকা এই ছেলেটিকে এক ব্যক্তি একসাথে ৩ জনের ভাড়া ৭ টাকা করে দেওয়ার জন্য ৫০ টাকার একটা নোট দিয়েছিল।ছেলেটি তাকে ১০ টাকার ৬টা নোট ফেরত দেয়!

আমরা সবাই ছেলেটির সাথে কিছুক্ষন মজা করছিলাম।সহজ-সরল ছেলেটি অসম্ভব লজ্জা মিশ্রিত হাসি দিল।আমি যখন ভাড়া দিলাম ১০ টাকা সে তখন কনফিউজড যে সে আমাকে কতটাকা ফেরত দেবে।ভাগ্নে…বেঁচে থাক অনেক বছর।তোমার মত এই বোকা,খেটে খাওয়া মানুষগুলো বেঁচে আছে বলে পৃথিবীটা এখনও ভালোই আছে।

ঘটনা প্রবাহ-২
———–
আগ্রাবাদে নেমে হেঁটে হেঁটে ব্যাংকে যাচ্ছিলাম।আজ বোধহয় ওইদিকে সিটি কর্পোরেশনের সেরকম আজ চলছে।পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দেখলাম ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার করতে ব্যস্ত।ঘটনা হল সেসব পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ড্রেনের অসম্ভব ময়লা পানির ভেতর নেমে ময়লা উঠাচ্ছিল।একবার শুধু ভাবছিলাম,যদি সে মানুষগুলোর জায়গায় আমি থাকতাম!কিংবা আমরা যারা নিজেদের সভ্য সমাজের মানুষ বলে বিবেচনা করি তারা থাকত!আমি শিউর সেই ময়লা পানি হাতে পায়ে লেগে চুলকাতে চুলকাতে গ্যাংরিন হয়ে যেত।আবারও ভেবে দেখলাম “এই বোকা মানুষগুলো আছে বলেই আমাদের সমাজ এখনও টিকে আছে;যারা সৎ উপার্জনের টাকা দিয়ে বেঁচে আছে”।

ঘটনা প্রবাহ-৩
————
কাজ শেষ করে আন্দরকিল্লার দিকে ছুট দিলাম।কিছু বই কিনতে হবে।বইয়ের দোকানে বই কিনেও ফেললাম।ফেরবার সময় হটাত পরিচিত একজনের সাথে দেখা হয়ে গেল।কুশল জিজ্ঞাসা করার পর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন বই কত দিয়ে কিনলেন?আমি বললাম __ টাকা দিয়ে কিনলাম।তিনি অবাক হয়ে বললেন আপনাকে তো ওই ব্যাটা ঠকাইসে।কমসেকম ৩০-৪০ টাকা।আমি কিছুই বলিনি।শুধু বোকার মত একটা হাঁসি দিয়ে বললাম, ভাই আমার একটা কাজ আছে।এখন তাহলে চলি।প্রশ্ন হল আমি কেন ৩০-৪০ টাকা সেভ করলাম না।আসলে আমি বেশ ভালো করেই জানি আন্দরকিল্লায় কমদামে বই পাওয়া যায়।তারপরেও আমি দোকানদারের সাথে বলতে গেলে মুলোমুলিই করিনি।এ কারনে আপনারা আমাকে বোকা বলতে পারেন।কিন্তু আমার কিছু নীতি আছে;চিন্তা ভাবনা আছে।যে দেশে খাবার পন্য মজুদ করে ব্যবসায়ীরা জনগনের কোটি কোটি টাকা বছরের পর বছর মেরে দেয়;কিংবা শ্রমিকের ঘাড়ে চড়ে তাদের ঠকিয়ে কিছু মানুষ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়;কিংবা শেয়ার বাজার মেরে দিয়ে শ’কোটি টাকার মালিক হয়;কিংবা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত দেয় না সে দেশে মাত্র ৩০-৪০ টাকার জন্য কোন মানুষের সাথে আমি বিবাদ করতে রাজী নই।কি হবে এই ৩০-৪০ টাকা দিয়ে?না হয় সে দোকানদার তার সন্তানকে শুধু একবেলার নাস্তা করাতে পারবে এ টাকা দিয়ে।তাই আমি যেখানেই যাই না কেন সাধারন মানুষের প্রতি আমার একধরনের ভালোবাসা কাজ করে।মাঝেমাঝে রিকশা করে চড়লে রিকশাওয়ালাকে হয়ত ৫ টাকা বেশি দিয়ে দেই।তাতে যদি এই দরিদ্র মানুষটার কিছু উপকার হয়।হয়ত বোকা বলবেন আমায় অনেকে।আমি বলব, ভাই বোকা হয়ে অনেক ভালোই আছি।বোকাদের চিন্তা-ভাবনা কম।তাছাড়া বোকারা নাকি সবচেয়ে বেশি সুখী হয়।আমি বোকাই থাকতে চাই।

ঘটনা প্রবাহ-৪
———–
আন্দরকিল্লাহ থেকে বাসায় ফেরার সময় হটাত এক দরিদ্র এবং কমপক্ষে ৭০ বছরের এক অশীতিপর বৃদ্ধাকে দেখলাম রাস্তায় বসে বসে ভিক্ষা করছে।অসম্ভব করুন চাহুনি।এই বয়সে একজন বৃদ্ধা নিরুপায় হয়ে তখনই ভিক্ষা করতে নামে যখন তার সন্তানরা তার খোঁজ নেয় না।খুব খারাপ লাগল।আল্লাহ যদি আমাকে কোটিপতি করে দিত কিছু একটা করতাম এসব মানুষদের জন্য।কিন্তু সে সামর্থ্য আল্লাহ আমাকে দেয় নি।পকেটে ২ টাকার একটা নোট ছিল।দিয়ে দিলাম।এই দু টাকা দিয়ে আমি হয়ত কোন বিশ্ব জয় করিনি।কিন্তু ক্ষনিকের জন্য এক অশীতিপর বৃদ্ধার চোখের কোনে চিকচিক করে উঠা খুশির কারন হলাম।এটাই আমাকে মানসিকভাবে অসম্ভব আনন্দ দিচ্ছে।

আমরা সবাই যদি আমাদের দেশের সাধারন মানুষগুলোর কথা একটু ভাবি; কি হয়!দেশটা আমাদের সবার……………

জীবনের গল্পঃ বাবা হলেন সুখ কেনার ক্রেডিট কার্ড!

রাগ করেই ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়লাম। এতটাই রেগে ছিলাম যে বাবার জুতোটা পড়েই বেরিয়ে এসেছি।
বাইকই যদি কিনে দিতে পারবেনা, তাহলে ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানাবার সখ কেন.? হঠাৎ মনে হল পায়ে খুব লাগছে।
জুতোটা খুলে দেখি একটা পিন উঠে আছে। পা দিয়ে একটু রক্তও বেরিয়েছে। তাও চলতে থাকলাম।
এবার পাটা ভিজে ভিজে লাগল। দেখি পুরো রাস্তাটায় জল।পা তুলে দেখি জুতোর নিচটা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে।
বাসস্ট্যান্ডে এসে শুনলাম একঘন্টা পর বাস। অগত্যা বসে রইলাম। হঠাৎ বাবার মানি ব্যাগটার কথা মনে পড়ল, যেটা
বেরোবার সময় সঙ্গে নিয়ে এসেছিলাম। বাবা এটায় কাউকে হাত দিতে দেয় না। মাকেও না। এখন দেখি কত সাইড করেছে।
খুলতেই তিনটে কাগজের টুকরো বেরুল। প্রথমটায় লেখা “ল্যাপটপের জন্য চল্লিশ হাজার লোন”।
কিন্তু আমার তো ল্যাপটপ আছে, পুরনো বটে।দ্বিতীয়টা একটা ডা: প্রেসক্রিপশন। লেখা “নতুন জুতো ব্যবহার করবেন”।
নতুন জুতো। মা যখনই বাবাকে জুতো কেনার কথা বলত বাবার উত্তর-ছিল “আরে এটা এখনও ছ’মাস চলবে”।
তাড়াতাড়ি শেষ কাগজটা খুললাম। “পুরানো স্কুটার বদলে নতুন বাইক নিন” লেখা শোরুমের কাগজ।
বাবার স্কুটার!!
বুঝতে পেরেই বাড়ির দিকে এক দৌড়াতে লাগালাম। এখন আর জুতোটা পায়ে লাগছে না। বাড়ি গিয়ে দেখলাম বাবা নেই।
জানি কোথায়। একদৌড়ে সেই শোরুমটায়। দেখলাম স্কুটার নিয়ে বাবা দাঁড়িয়ে। আমি ছুটে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম।
কাঁদতে কাঁদতে বাবার কাঁধটা ভিজিয়ে ফেললাম। বললাম “বাবা আমার বাইক চাইনা। তুমি তোমার নতুন জুতো আগে কেন বাবা। আমি ইঞ্জিনিয়ার হব, তবে তোমার মতো করে।”
“মা” হল এমন একটা ব্যাঙ্ক, যেখানে আমরা আমাদের সব রাগ, অভিমান, কষ্ট জমা রাখতে পারি।
আর “বাবা” হল এমন একটা ক্রেডিট কার্ড, যেটা দিয়ে আমরা পৃথিবীর সমস্ত সুখ কিনতে পারি।
[ভাল লাগলে জানাবে]

মজার গল্প ম্যাডাম ও ছাত্রঃ এইম ইন লাইফ

ম্যাডাম ক্লাস নিচ্ছেন, ইংরেজি ক্লাস, Paragraph লিখতে দিলেন (Your aim in life…) সবাই লিখা শুরু করে দিয়েছে। ক্লাসের দুষ্টু ছেলেটিও লিখছে। কী লিখছে? ম্যাডাম তার পাশে দাঁড়িয়ে লিখা পড়ছিলেন। দেখি খাতাটা দাও তো। দুষ্টু ছেলেটি খাতা এগিয়ে দিল। ম্যাডাম পড়ে শোনালেন যার বাংলা অর্থ এরকম… ‘সবারই জীবনে স্বপ্ন আছে। কেউ হতে চায় ডাক্তার কেউবা পাইলট কেউবা ইন্জিনিয়ার। তবে আমি হতে চায় রিকশাওয়ালা। it’s my aim in life… তারপর ক্লাসে হাসির রোল পড়ে গেল। ছেলেটা যে মজা করে লিখেছে সবাই সেটা জানে। কিন্তু ম্যাডাম সিরিয়াস। অত্যন্ত রেগে গেছেন। বেত দিয়ে ‘সপাং ’সপাং করে হাতে মারলেন!

কয়েক বছর পরের কথা! সেই দুষ্টু ছেলেটি এখন ইন্জিনিয়ার। রিকশাচালক হওয়ার শখ পূরণ হয়নি আফসুস! একটা মেয়ের সাথে প্রেম করছে চুটিয়ে। মেয়েটির নাম অহনা। তো অহনা একদিন বলল, এই জান,,, বাসায় আমার মা আমাদের রিলেশন জেনে গেছে।

ছেলে : ওহ না। এখন কী হবে?

মেয়ে : মা তোমার সাথে দেখা করতে চান। কালকেই আসবা আমাদের বাসায়।

পরের দিন,,, দুষ্টু ছেলেটি ড্রয়িংরুমে বসে আছে। একটুপর অহনার মা আসলেন এবং ছেলেটি অহনার মাকে দেখে পুরাই তব্দা। ইনি তো সেই ম্যাডাম! ওহ শিট! এখন পালাব কেমনে? ছেলেটি দাঁড়িয়ে সালাম দিল।

মেয়ের মা : বোস বাবা। তোমাকে চেনা চেনা লাগছে। কোথায় যেন দেখেছি!

ছেলে : কোথাও না ম্যাডাম!

মেয়ের মা : ম্যাডাম? ওহ ইয়েস মনে পড়েছে। ক্লাস নাইনে ছিলা তখন। তুমি তো রিকশাওয়ালা হতে চেয়েছিলা।

ছেলেটির অবস্থা পুরা কেরাসিন! কি বেকায়দায় পড়ল!

অহনার মা জিজ্ঞেস করলেন : তা তোমার (Aim in life) পূরণ হয়েছে? রিকশাচালক হয়েছ?

ছেলে : না শাশুড়িআম্মা থুক্কু ম্যাডাম। সবই ভাগ্যের লীলাখেলা!

মেয়ের মা : কি? তাহলে আমার মেয়ের সাথে প্রেম করলা কেন? বিয়ের পর ওর শখ পূরণ করতে পারবা? যে ছেলে নিজের এইম পূরণ করতে পারে নি সে আমার মেয়ের শখ কিভাবে পূরণ করবে? নাহ তোমার সাথে বিয়ে দেয়া সম্ভব না। তুমি এখন আসতে পারো।

ছেলেটি চলে যাচ্ছিল।

অহনার মা আবার তাকে বললেন : সেদিন ক্লাসে তুমি মজা করছিলা আর আমি সিরিয়াস ছিলাম। আজ আমি মজা করছি আর তুমি সিরিয়াস।

দুষ্টু ছেলেটির অনেক্ষণ লাগল কথাটি বুঝতে। যখন বুঝতে পারল তখন সে খুশিতে লাফিয়ে উঠল! রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ছেলেটি কল দিল অহনাকে।

ছেলে : বিয়েটা এবার হয়ে যাবে, অহনা শুনছ?

মেয়ে : হ্যাঁ শুনছি। আম্মা আমাকে সব বলেছে।

তোমার কত দুঃখ! চিন্তা করিও না। তোমার Aim in life অবশ্যই পূরণ হবে। বিয়ের পর তুমি একটা রিকশা কিনবা। আর রিকশা চালিয়ে তুমি আমাকে সারা শহর ঘুরাবা!

অতঃপর দুষ্টু ছেলেটির মুখে একটাই গান শোনা যায়…

‘চলে আমার রিকশা হাওয়ার বেগে উইড়া উইড়া’

উপভোগ করুন এবং আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকার !!

মজার মজার পাঁচটি ছোট গল্প।

মেঠো ইঁদুর ও শহুরে ইঁদুর

একবার এক গণ্যমান্য শহুরে ইঁদুর এল এক সাধারণ মেঠো ইঁদুরের কাছে। মেঠো ইঁদুর বাস করত এক মাঠে। সে তার অতিথিকে খেতে দিল যা তার ছিল– মটর ও গমের দানা।

গণ্যমান্য ইঁদুর একটু খুঁটে খেয়ে বলল, “তোমার খাবার এতই অপুষ্টিকর বলেই তুমি এমন রোগা। এসো, আমার কাছে, দেখো কীভাবে আমরা থাকি।”

তখন মেঠো ইঁদুর চলল শহুরে ইঁদুরের কাছে। রাতের জন্য তারা মেঝের নিচে অপেক্ষা করল। লোকেরা এসে খেয়ে চলে গেল। তখন শহুরে ইঁদুর তার অতিথিকে খাবার ঘরে নিয়ে চলল এক গর্ত দিয়ে। তারা দুজনেই চড়ে বসল টেবিলের উপর। সাধারণ মেঠো ইঁদুর জীবনে কখনও এমন ভালো খাবার চোখেও দেখেনি।

সে বলল, “তুমি ঠিক বলেছ, আমাদের জীবন খুবই খারাপ। আমিও শহরে বাস করতে চলে আসব।”

একথা বলতে না বলতেই টেবিল কেঁপে উঠল। আর দরজা দিয়ে মোমবাতি হাতে নিয়ে ইঁদুর ধরতে লোক ঢুকল ঘরে। তারা কোনোক্রমে গর্তে ঢুকে নিজেদের বাঁচাতে পেরেছিল।

“না!” বলল মেঠো ইঁদুর, “এর চেয়ে আমার মাঠে বাস ঢের ভালো। সেখানে এমন মিষ্টি খাবার নেই ঠিকই, তবে এমন ভয়ের কোনো কারণও নেই।”

সাগর, নদী ও ছোটনদী

একজন লোক আরেকজনের সঙ্গে তর্ক করে বলল, সে প্রচুর পান করতে পারে।

সে বলল, “আমি পুরো সাগরটাই পান করে ফেলতে পারি।”

“কিছুতেই তুমি তা পার না।”

“নিশ্চয়ই পারি। এসো, বাজি ধরা যাক। এক হাজার রুবল বাজিতে আমি পুরো সাগর পান করতে পারি।”

পরদিন সকালে সবাই মিলে সেই লোকটির কাছে এসে হাজির।

“কী হে! যাও সমুদ্র পান কর অথবা এক হাজার রুবল দাও।”

সে বলল, “আমি বলেছিলাম সমুদ্র পান করব, কিন্তু নদীকেও পান করব এমন কথা তো আমি বলিনি। নদী ও ছোট নদীতে বাঁধ দাও, যাতে এর জল সমুদ্রে না পড়ে। তবেই আমি সমুদ্রকে পান করব।”

ঈগল ও শেয়াল

এক ঈগল এক শেয়ালছানা ধরে নিয়ে চলল। শেয়াল মা গভীর দুঃখে অনেক কাকুতিমিনতি করল।

কিন্তু ঈগল তা শুনল না। সে ভাবল, “অনেক উঁচুতে পাইন গাছে আমার বাসা। শেয়াল আমার কী আর ক্ষতি করতে পারবে? সে আমার নাগালই পাবে না।”

এই ভেবে ছানাটিকে নিয়ে চলল। শেয়াল মা দৌড়ে গেল মাঠে, লোকের কাছ থেকে আগুন নিয়ে পাইন গাছে বয়ে আনল। সে সবে গাছে আগুন লাগাতে যাচ্ছে। এমন সময় ঈগল ক্ষমা চেয়ে তাকে তার বাচ্চা ফেরত দিল।

বেড়াল ও শেয়াল

এক বেড়াল শেয়ালকে বলছিল কীভাবে কুকুরদের কাছ থেকে আত্মরক্ষা করা যায়।

“আমি কুকুরদের মোটেই ভয় পাই না।” বলল বেড়াল, “কেননা আমার একটা কৌশল জানা আছে।”

আর শেয়াল বলল, “মাত্র একটা কৌশলের সাহায্যে কীভাবে তুমি কুকুরদের হাত এড়াও? আমার জানা আছে এমন সাতাত্তরটি কৌশল।”

যখন তারা কথাবার্তা বলছিল সেই সময় একদল শিকারি তাদের কুকুর নিয়ে সেই পথে যাচ্ছিল। বেড়াল তার জানা একটিমাত্র উপায়ই ব্যবহার করল। সে একটি গাছে চড়ে বসল আর কুকুরেরা তার নাগাল পেল না। আর শেয়াল তার জানা সবগুলো উপায়কেই কাজে লাগাতে চেষ্টা করল কিন্তু কোনোটাই তার কাজে এল না এবং কুকুরেরা তাকে ধরে ফেলল।

বাঁদর ও শেয়াল

একদিন জন্তুরা সকলে মিলে বাঁদরকে তাদের নেতা নির্বাচন করল।

শেয়াল বাঁদরের কাছে এসে বলল, “তুমি এখন আমাদের প্রধান, আমি তোমার সেবা করতে চাই। এই বনের মধ্যে এক জায়গায় আমি গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছি, চল আমি তোমাকে দেখাব।”

বাঁদর খুব খুশি হয়ে শেয়ালের সঙ্গে চলল। শেয়াল বাঁদরকে এক ফাঁদের কাছে এনে বলল, “এই সেই জায়গা। তুলে নাও সব, তোমার আগে আমি কিছু নিতে চাই না।”

বাঁদর যেই না ঐ ফাঁদে তার থাবা ঢুকিয়েছে অমনি সে ধরা পড়ে গেল। তখন শেয়াল ছুটে অন্য জন্তুদের কাছে গেল এবং বাঁদরকে দেখিয়ে বলল, “দেখো তোমরা, এমন নেতা নির্বাচন করেছ যে কিনা ফাঁদে ধরা পড়ে এমনই তার বুদ্ধি।”