প্রেম এতো মজা না….

প্রেম এতো মজা না….
রাইটারঃ জহির রাসেল

ফোন দিয়েই বললো আমি তোমার সাথে আর
সম্পর্ক রাখতে চাইনা, আজকের এখন থেকে
আমাদের সম্পর্ক ব্রেকআপ।
বললাম কিন্তু কেনো?
বাট অপর দিক থেকে সাদিয়া কোনো কথার উত্তর না দিয়েই ফোন কেটে সুইচ অফ করে রাখলো।

একদিন বন্ধুরা মিলে হাতিরঝিলে আড্ডা মারছিলাম,
অনেকক্ষণ বসে গল্প করছি হঠাৎ আমার চোখ গিয়ে পড়লো ব্রিজের ওপর পাশে দেখলাম সাদিয়া একটা ছেলের হাত ধরে খিল খিল করে হাসছে আর সে যে কি হাসি যে দেখবে সেই বুঝতে পারবে….

আমি বন্ধুদের বললাম তোরা বস আমি একটু আসছি… দোস্তরা বললো ঐ বেটা কই যাস? দেখিস আবার দিনকাল ভালোনা কিন্তু ….. বললাম তোরা বস এইতো আসতাছি…..

সাদিয়ার কাছে পৌছেই টেনে টেনে সালাম দিয়ে বললাম আপনি সাদিয়া না?
বললো হুম… বাট আপনাকেতো ছিনিনি…!
বললাম ও তাই মাত্র সাত মাসের মাথায় ভূলে গেলেন…??
সাদিয়ার সাথে থাকা ছেলেটি হা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে….

আমি ছেলেটিকে বললাম ভাইয়া আপনি একটু বসেন আমার ওর সাথে কথা আছে…বলে
সাদিয়াকে উঠিয়ে একটু দূরে নিয়ে গেলাম,
বললাম এখন বলোতো আমার প্রবলেম কি ছিলো?
সাদিয়াঃ তোমার কোনো প্রবলেম নাই, আমার তোমাকে আর ভালো লাগছে না তাই….।

বললাম ও তাহলে তুমি ছেলেদেরকে মোবাইলের কাভার মনে করো, ভালো না লাগলেই চেঞ্জ করবা?
সাদিয়াঃ মানুষের স্বাধীনতা থাকতে পারেনা?
আমি হুম থাকতে পারে বলে তার দু গালে চারটা থাপ্পর বসিয়ে দিয়ে বললাম এটাও আমার স্বাধীনতা ছিলো, এবং বলে দিলাম হয়তো কারো সাথে প্রেম করবিনা না হয় যার সাথে প্রেম করবি তার সাথেই মরবি।

আমি তারপর থেকে প্রেমটেম মোটেই বিশ্বাস করিনা, তবে ভালোবাসা অনুভব করি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা থাকতে পারে বাট প্রেম নয়।

আর মেয়েদের বলছি সাদা চামড়া আছে বলেই ১০টা ছেলেকে আপনার পেছনে ঘুড়িয়ে পেছিয়ে ফাস খাওয়িয়ে মাড়বেন….! এসব ছেড়ে ভালো হয়ে যান না হয় ১০টার মধ্যে একটা যদি একটু তেড়া হয় তাহলে সাদিয়ার মতো ভোগতে হবে।

download

ভালবাসার ভাগ্যহীন ছেলেটি

ভালবাসার ভাগ্যহীন ছেলেটি

লেখকঃ কাব্যপ্রিয় রাজ (Mahedi Hasan Raj)

একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয় অয়ন নামে ছেলেটির। ছেলটি খুবই শান্ত শিষ্ট ছিল কিন্তু সবসময় বন্ধুদের সাথে থাকতে পছন্দ করতো। ও যখন দশম শ্রেনীতে লেখা পড়া করতো তখন একটা মেয়েকে পছন্দ হয়েছিলো কোন একটা অজানা কারনে মেয়েটি রাজি হয়নি। যদিও অয়ন মেয়েটিকে কোনদিন ভুলতে পারেনি কারন ঐ মেয়েটি ছিল অয়নের জীবনের প্রথম পছন্দ। অয়ন যখন হাইস্কুল পেরিয়ে কলেজে উঠলো তখন মিতু নামের একটা মেয়ের সাথে ফ্রেন্ডশীপ করলো। এমনিতেই অয়ন কলেজ লাইফ নিয়ে অনেক আনন্দে ছিল তার পর আবার মিতুর ফ্রেন্ডশীপ। অয়ন আর মিতু কলেজে বসে নিজেদের ব্যাপারে অনেক কথা আলোচনা করত একদিন মিতু অয়নকে বললো…..
— এই অয়ন আমাকে একটা ফেসবুকের আইডি খুলে দিবি।
— কেন তুই ফেসবুকের আইডি খুলে কি করবি।
— আজকালতো সবাই ফেসবুক চালায় আমিও চালাবো।
— থাক তোর ফেসবুক চালানোর দরকার নেই।
— শোন অয়ন আমি বলছি ফেসবুক চালাবো এবং চালাবোই তুই যদি খুলে না দিস আমি অন্য কারো কাছ থেকে খুলে নিতে পারবো।
— তোকে অন্য কারো কাছে যেতে হবেনা আমিই দিচ্ছি আইডি খুলে।
অয়ন মিতুর আইডি খুলে দেওয়ার পর টুকি টাকি কিছু বিষয় শিখিয়ে দিল কিভাবে ফ্রেন্ড এড করে, চ্যাটিং করে এবং ওর সাথে এড করে দিল। রাতে ঘুমানোর আগে অয়ন একবার ফেসবুকে ঢুকলো এবং ঢুকেই দেখলো মিতুর একটা মেসেজ
–কিরে অয়ন কি করছিস?
— এইতো কিছুনা, তুই?
— তোকে খুব মিস করছি।
— যতসব ফালতু কথা তুই আমাকে কেন মিস করবি।
— ভাললাগে তাই, কেন তোকে কি মিস করা যায়না?
— হুম যায়।
— ওকে কালকে কলেজে দেখা হবে।
— ওকে।
অয়ন শুয়ে শুয়ে ভাবতেছে মিতু আমাকে কেন মিস করবে। হয়তো আমি ওর বেষ্ট ফ্রেন্ড তাই আমি যতসব আবোল তাবোল চিন্তা করতেছি। পরদিন যথারিতি দুইজন কলেজে গেল এবং এবং সবকিছু আগের মতই চলতেছিলো। আস্তে আস্তে ওদের বন্ধুত্বের গভীরতা বাড়তে থাকলো ওরা প্রায়ই রাত ১২টা ১টা পর্যন্ত চ্যাটিং করতো। এবং মাঝে মধ্যে ফোনেও কথা হত একদিন অয়ন মিতু বললো…..
–তোকে একটা কথা বলার ছিলো।
— তো বল।
— তুই কি কাউকে ভালোবাসিস।
–নাহ, হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?
— এমনি, আচ্ছা কেউ যদি এখন তোকে প্রপোজ করে তুই রাজি হবি।
— জানিনা।
অয়ন আর কিছু বললো না। কয়েকদিন পর মিতুর জন্মদিনে অয়নকে দাওয়াত দিল এবং বললো তোকে অবশ্যই আসতে হবে। অয়নও না করতে পারলো না কারন এতদিনে মিতুকে অনেকটা ভালবেসে ফেলেছিলো। অয়ন চিন্তা করতে লাগলো কি গিফট দেয়া যায় মিতুর জন্মদিনে এবং একটা সিদ্ধান্ত নিল। যে মিতুর প্রিয় একটা চকলেট বক্স দিবে। মিতু জন্মদিনে অয়নকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল, অয়ন ভাবলো মিতুও ওকে পছন্দ করে তাই অয়ন মিতুকে নিয়ে ঘর বাধার সপ্ন দেখা শুরু করলো। মিতুকে ছাড়া অয়নের দিন যেন কাটছেই না তাই অয়ন সিন্ধান্ত নিল মিতুকে প্রপোজ করবে। তাই একদিন মিতুকে বললো…..
— তোকে একটা কথা বলার ছিলো।
— তো বল।
— আমি না তোকে ভালবেসে ফেলেছি, সত্যিই তোকে ছাড়া আমি বাচবো না।
— দেখ অয়ন আমি তোকে শুধু আমার বন্ধুই ভাবি এর বাইরে আর কিছুই না, আর তোকে আমি কোনদিনও ভালবাসতে পারবো না।
— কেন ভালবাসতে পারবি না আমাকে?
— পারবো না তো পারবো না আর তুই যদি এই বিষয়ে আর কোন বারাবারি করিস তাহলে আমার বন্ধুত্ব টাও হারাবি।
— ওকে ঠিক আছে আর কোনদিন বলবো না তোকে আমাকে ভালবাসতে, তুই আমাকে ভালবাসতে না পারলেও আমি তো তোকে ভালবাসতে পেরেছি এটাই হয়তো আমার জন্য অনেক পাওয়া।
এরপর থেকে অয়ন মিতুর সাথে কথা বলা কমিয়ে ফেলে। কারন মিতুর সাথে এইরকম চলতে থাকলে ও হয়তো কোনদিনই মিতুকে ছেড়ে থাকতে পারবেনা। অয়ন রিতিমত কলেজেও যেত না হঠাৎ একদিন কলেজে গেল এবং মিতুকে বলতেছে….
— এই মিতু শোন।
— বল।
— আমি আর কাল থেকে কলেজে আসবো না।
— কেন?
— আমি বিদেশ চলে যাচ্ছি সামনের মাসেই ফ্লাইট।
— ভাল থাকিস।
অয়ন আর কিছু বললো না মন খারাপ করে বাড়িতে চলে আসলো। মিতু একবারও জানতে চাইলো না কেন যাচ্চিস জানতে চাইবেও বা কেন ওতো আর অয়নকে ভালবাসেনা। কিছুদিনের মধ্যেই অয়ন বিদেশে চলে গেল, আজ অনেক দিন পর মিতুকে খুব মনে পরছে অয়নের। মিতু নিশ্চই এতদিনে কোন ছেলেকে ভালবেসে ফেলেছে আজকে অয়ন সামনে থাকলে হয়তো অনেক কষ্টই না পেত যে কষ্ট সয্য করতে পারবে না বলে অয়ন চলে এসেছে মিতুর জীবন থেকে অনেক দূরে।।।।

46837-Lonely-Boy copy

অভিশপ্ত পিলার

অভিশপ্ত পিলার

আজাদ আবুল কালাম

দুপুরের তপ্ত রোদে সামাদ আর সামাদের ছেলে মিয়াচান অনবরত কোদাল দিয়ে মাটি কাঁটছে । ওদের কিছু জমি জমা আছে যা নিজেরাই চাষাবাদ করে । মানুষ রেখে জমি গুলো চাষাবাদ করার ক্ষমতা তাদের নেই । ক্ষেতের পাশেই একটা ছোট পুকুরের মত খনন করার চেষ্টা করছে যেন বর্ষার মৌসুমের পরেও এখানে কিছু পানি সংগ্রহ করা যায় এবং সেই পানি শুকনো মৌসুমে ক্ষেতে ব্যবহার করা যায় ।
.
সমস্ত শক্তি দিয়ে মাটি কাটছে সামাদ । হঠাৎ করে কোদালের সাথে কোন ধাতব পদার্থের সংঘর্ষ লেগে টং করে শব্দ হয় । সামাদ লক্ষ্য করে লম্বা গোল আকৃতির কিছু একটার মাথা বেরিয়ে আছে । সামাদ খুব সাবধানে আসে পাশের মাটি সরিয়ে ধাতব পদার্থটি বের করে আনে। দেয় হাতের মত লম্বা এবং হাতের বাহুর মতো পুরু । সামাদ চিনতে পারে জিনিস টা আসলে কি । সামাদ তার দাদার কাছে শুনেছে ব্রিটিশ আমলেরও আগে সীমানা নির্ধারণের জন্য এই সব মেগনেট পিলার ব্যবহার করা হতো যা খুবই মূল্যবান । এই পিলারের সাহায্যে নাকি অনেক কিছু করা সম্ভব । এক একটা পিলারের মূল্য নাকি এক কোটি টাকারও উপরে । সামাদের চোখ চকচক করে উঠে । মিয়াচান তার বাবা সামনে এসে দাড়ায়
.
– বাবজান এইটা কি ?
– চুপ একদম চুপ কোন কথা কবি না । যা বাড়ি যা একটা ছালার বস্তা নিয়ে আয় ।
– কিন্তু বাবজান তুমি তো কইলা না এইটা কি ?
– এটা একটা মেগনেট পিলার । এটার অনেক অনেক দাম । এইটা বেচলে আমাগো আর অভাব থাকবো না বাপ । এখন যা একটা বস্তা নিয়ে আর। খবরদার কাউরে কিছু কবিনা ।
– আচ্ছা বাপজান আমি যামু আর আমু
.
মিয়াচান বাড়ি থেকে একটা বোস্তা নিয়ে আসে এই ফাঁকে সামাদ কিছু খর কুটা জোগাড় করে । খর কুটা দিয়ে পিলারটা পেচিয়ে বস্তার ভিতরে নেয় এবং আরো কিছু খর কুটা দিয়ে বস্তাটা পুরা করে ।
.
এখন এটা বুঝার উপায় নেই যে এটার ভিতরে পিলার আছে, সবাই ভাববে খর কুটার বস্তা । কিন্তু পিলারটা অনেক ভারী । অনেক কষ্টে সামাদ পিলারটা বাড়ি নিয়ে যায় । সামাদের বউ আছিয়া সামাদ কে জিজ্ঞেস করে
– গরু নাই তুমি খর কুটা দিয়া কি কর ?
বস্তা সহ সামাদ আছিয়া কে ঘরের ভিতর নিয়ে যায় ।
-বউ..গুপ্ত ধন পাইছি । আমাগো আর কোন অভাব থাকবো না । তিন বেলা পেট ভইরা খাইতে পারুম । এই কথা বলে সামাদ বস্তা থেকে পিলারটা বের করে আনে । পিলারটার দিকে আছিয়া বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে । কালো কুচ কুচে একটা ধাতব পদার্থ ।
– এইডা কি ?এইডা দিয়া কি হইব ?
– আরে এইডা বেঁচলে অনেক অনেক টেকা পামু ।
– কিন্তু পুলিশে জানলে তো অনেক সমস্যা । তোমারে ধইরা নিয়া যাইব । দরকার নাই মিয়াচানের বাপ আমাগো বড়লোক হওয়ার, তুমি এইডা থানায় জমা দিয়া আস
– তুপ কর কোন কথা কবি না, যেটা বুঝেনা সেটা নিয়া শুধু কথা । তরে জানানোই আমার ভুল হইছে । এইটা গোপনে কিভাবে বেচতে হইবো সেইটা আমি বুঝুম এখন যা ভাত দে ক্ষিদা লাগছে ।
.
সামাদ শুয়ে আছে চৌকিতে আর ভাবছে এটা কিভাবে শহরে নেওয়া যায় । শহরে তার এক চাচাত ভাই আছে কফিল করে নাম । তার কাছে নিয়া গেলে সে এটা বেচার ব্যবস্থা করতে পারব । দুই নাম্বারি লাইন ঘাট ভালোই জানা আছে তার । যদি একবার বেচতে পারে তারে আর কে পায় সে তো মস্ত বড়লোক হইয়া যাইব ।
.
ঢাকা শহরের চোরা কারবারি মতি সরদার, তার যত সব দুই নাম্বারি ব্যবসা । কষ্টি পাথরের মূর্তি । হাতির দাত । সাপের বিষ । যত সব দুই নাম্বরি জিনিস আছে সব কিছু আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে সে। কফিল এই লোকটাকে ভালো ভাবেই চিনে । লোকটা মোটামুটি হিংস্রও বটে ।
.
সাদাম, তার ছেলে মিয়াচান আর কফিল অতি সংগোপনে পিলার সহ মতি সর্দারের সাথে দেখা করে । একটা পুরানো বাড়ি কিন্তু বাড়ির ভিতরে এত জাঁকজমক পূর্ণ তা বাইরে থেকে বুঝা মুশকিল । বাড়ির ভিতরে বাইরে অস্ত্র নিয়ে কড়া পাহারায় নিয়োজিত তার চেলাবেলারা । যেহেতু কফিল তাদের পূর্ব পরিচিত এবং আগেই গ্রীন সিগনাল দেওয়া ছিল তাই তাদের ভিতরে ডুকতে সমস্যা হলো না ।
.
– কফিল জিনিস কি আনা হইছে
– হ মতি ওস্তাদ জিনিস আনছি
– দেখি জিনিসটা
সামাদ বস্তা থেকে বের করে জিনিসটা দেখায় ।
মতি ওস্তাদ জিনিসটা নেড়ে চেরে দেখে এবং আড় চোখে তাকায় সামাদ আর কফিলের দিকে
– জিনিস তো বেশী সুবিধার না কফিল । বেশি টাকা দেওয়া যাইব না ।
মতি ওস্তাদ একজনকে ডাক দেয়
– বারেক ওদের কে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়া দে
– কি কন আপনে !! এই জিনিসের দাম এক কোটি টাকা আর আপনে কন পঞ্চাশ হাজার !!
– জিনিস দিলে দে না দিলে ভাগ এইখান থেকে ।
-সামাদ ভাই চলো যাইগা এইখানে জিনিস বেচন যাইব না ।
তার কথায় সায় দেয় সামাদের ছেলে মিয়াচান ।
– হ.. হ চাচা এত কম দামে এই জিনিস বেচন যাইবো না ।
.
কথা শেষ করে মিয়াচান পিলারটা বস্তায় ভরে মাত্র দাড়ায় । আর মতি সরদার খিলখিল করে হেসে উঠে ।
…..
– কফিল তুই জানস না । আমার এইখানে যে জিনিস আসে তা আর ফিরত যায় না ।
.
এই কথা বলেই মিয়াচানের বুক বরাবর একটা গুলি করে বসে মতি সরদার ।
মিয়াচানের রক্তাক্ত দেহটা পরে যায় মাটিতে আর সেই পিলারটা তার বুকের উপর পড়ে থাকে
.
আর ঠিক তখনই চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠে সামাদ । তার পাশে শোয়া আছিয়া আতংকিত হয়ে পরে । পাশের ঘর থেকে ছুটে আসে কিশোর ছেলে মিয়াচান । মিয়াচান কে দেখেই তাকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে কাঁদতে থাকে সামাদ ।
..
খুব সকালে পিলার সহ সামাদ হাজির হয় থানার গেটে । অভিশপ্ত পিলার সে আর তার কাছে রাখতে চায় না ।
পিলারটা ওসি সাব এর কাছে জমা দিয়ে বলে
– ওসি সাব এই মহা মূল্যবান পিলারটা আমি আমার জমিনে মাটি কাটার সময় পাইছি । পিলারটা আমি থানায় জমা দিয়ে গেলাম । এই মহা মূল্যবান অভিশপ্ত পিলারের থেকে আমার পোলার জীবন অনেক বেশী মূল্যবান । এই কথা বলেই হনহন করে থানা থেকে বেড়িয়ে যায় সামাদ । ওসি তার কথা কিছুই বুঝতে পারে না, বিস্ময়ে তার চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে থাকে সে ।
.
সামাদ থানা থেকে বেড়িয়ে আকাশের দিকে তাকায়, বড় করে একটা নিশ্বাস নেয় । সেই নিশ্বাসের সাথে বেড়িয়ে আসে শত কেজি ওজনের অভিশপ্ত পিলার ।

Screenshot_2 copy

ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়

★ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়★
জাকারিয়া জ্যাক‬

পল্লবী তখন ক্লাস সিক্সে পড়ে। তার বাবা তখন ঢাকায় চাকুরী করত। ঈদে তার বাবার ছুটিতে আসার কথা ছিল। কিন্তু পল্লবী বলেছিল বাবা আসতে পারবে না। তার বলার পিছনে কোন কারণ ছিল না। যাকে অনুমান বা আন্দাজ বলা যেতে পারে। কিন্তু পল্লবীর অনুমান সত্য হয়। তার বাবা সেই ঈদে বাড়িতে যেতে পারে নি। ঈদের পর যখন তিনি ফিরলেন তখন পল্লবীর মা পল্লবীর অনুমানের কথা বললেন। কেন জানি তিনি নিজের মেয়ের অনুমানশক্তির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লেন। পল্লবীকে আদর করে বললেন, আমার আম্মাজানের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় অনেক প্রবল। পল্লবী তখন জানতই না ইন্দ্রিয় কী। তবুও তার মনে হল যে বাবা তার প্রশংসা করছে। এরপর থেকে কোন বিষয়ে অগ্রিম খবর জানতে তিনি পল্লবীর সাহায্য তথা পল্লবীর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের সাহায্য নিতেন। যদিও তা বেশিরভাগ সময় ফলপ্রসূ হত না। একদিন স্কুলের বাংলা স্যার মানুষের ইন্দ্রিয় পড়াচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, মানুষের ইন্দ্রিয় কয়টা? সব ছাত্রছাত্রী একসাথে বলেছিল, পাঁচটা, স্যার। কিন্তু পল্লবী হাত তুলে বলেছিল, স্যার মানুষের ইন্দ্রিয় ছয়টা। কিন্তু সে সেদিন ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের নাম বলতে পারে নি। তার ব্যর্থতায় সারা ক্লাসে হাসির রোল পড়েছিল।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেছে পল্লবী। ঢাকা ভার্সিটিতে একটা ভাল সাবজেক্টে অনার্সে ভর্তি হয়েছে। পল্লবীর সাথে চারটা মেয়ের সখ্যতা খুব বেশি। কাকতালীয়ভাবে তাদের সবার নাম “প” দিয়ে। পারুল, পিংকি, প্রিয়া আর পিয়াসা। তারা পাঁচজন মিলে একটা বাসা ভাড়া করেছে। এদের পাঁচজনকে সবাই “পি গ্রুপ” ও “পঞ্চ প” বলে ডাকে।
একদিন পল্লবী সবাইকে বলল, জানিস? আমি এরকমটা চেয়েছিলাম। ঠিক তাই হল।
পিংকি বলল, কেমনটা চেয়েছিলি?
-আমি চেয়েছিলাম আমার যাদের সাথে বন্ধুত্ব হবে সবার নাম “প” দিয়ে হবে। তাই হয়েছে?
পিয়াসা বলল, জয় পল্লবী। তুই তো তাহলে জ্বিনপরী সাধনা করিস। ভাল, তোর থেকে সব খবরাখবর জানা যাবে।
-আমি সিরিয়াসলি বলছি। ছোটবেলা থেকে আমার সিক্সথ সেন্স খুব প্রবল।
প্রিয়া এতক্ষণ চুপ করে ছিল। তখন সে বলল, আমি হুমায়ুন স্যারের বইয়ে পড়েছি। যাদের সিক্সথ সেন্স প্রবল তারা যা বলে তাই হয়। এটাকে সাইকোলজির ভাষায় ইএসপি বলে।
পারুল তখন বলে উঠল, আরেকজন এসেছে। তোরও কি ইএসপি প্রবল নাকি?
এভাবে পাঁচ বান্ধবীর হাসিঠাট্টা চলতেই থাকে।

পল্লবীদের পরীক্ষা হয়েছে। পল্লবী তার সিক্সথ সেন্স প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে। সে বলল, আমার পাঁচজনের মধ্যে প্রিয়া সবচেয়ে ভাল রেজাল্ট করবে আর পিংকি খারাপ রেজাল্ট করবে। ফেলও করতে পারে। যদিও পিংকি পল্লবীর সিক্সথ সেন্স বিশ্বাস করত না তবুও সে কিছুটা ভয় পেল। রেজাল্টের দিন উল্টো ঘটনা ঘটল। পিংকি ফার্স্ট হল আর প্রিয়ার রেজাল্ট খারাপ হল। সবাই পল্লবীকে নিয়ে হাসাহাসি করল। এতদিনে পল্লবীর নাম সিক্সথ সেন্স হয়ে গেছে। তাকে পল্লবী নামে কেউ না চিনলেও সিক্সথ সেন্স নামে সবাই চিনে। এমনকি প্রফেসর, লেকচারাররাও তার এই সিক্সথ সেন্স নিয়ে ঠাট্টা করে। একদিন ক্লাসে সবচেয়ে গুরুগম্ভীর প্রফেসর ক্লাস নিচ্ছেন। পল্লবীর মনে হল সিলিং ফ্যানটা খুলে স্যারের মাথায় পড়বে। সে প্রফেসরকে এ কথা বলায় প্রফেসর তাকে ক্লাস থেকে বের করে দিলেন। প্রফেসরের মাথায় সিলিং ফ্যান না পড়লেও পল্লবীর কথা শুনে তার মাথায় বাজ পড়েছিল।
পল্লবী একদিন ভার্সিটির সাইকোলজির প্রফেসর ড. মিসির আলির কাছে গেল।
-স্যার, আপনার সাথে আমার একটা বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই।
-বস, তুমি কোন ডিপার্টমেন্টে?
-পলিটিকাল সাইন্স।
ড. মিসির আলি বুঝে উঠতে পারলেন না পলিটিকাল সাইন্সের স্টুডেন্ট তার কাছে কেন আসবে।
-বল, কী বলবে?
-স্যার, আমার সিক্সথ সেন্স খুব প্রবল। কিন্তু ইদানীং যা বলছি তার উল্টো হচ্ছে। ছোটবেলা যা বলতাম তাই হত।
ড. মিসির আলি ড্রয়ার থেকে এক প্যাকেট তাস বের করলেন।
-তুমি তাসের নাম জান?
-জ্বি স্যার।
-আমি একটা একটা করে তাস তোমার সামনে উল্টো করে ধরব তুমি তাসের নাম বলবে।
-ঠিক আছে স্যার।
তাস তুলে পল্লবীর সামনে ধরলে পল্লবী বলল, ইশকাপনের গোলাম।
দ্বিতীয়টা ধরলে বলল, হরতনের টেক্কা।
তৃতীয়টা বলল, রুইতনের পাঁচ।
চতুর্থটা বলল, ইশকাপনের দশ।
তাসগুলো প্যাকেটে রেখে ড. মিসির আলি বললেন, বাচ্চাদের সিক্সথ সেন্স প্রবল থাকে। তুমি যখন ছোট ছিলে তোমার কয়েকটা ভবিষৎবাণী হয়তো সঠিক হয়েছিল। তখন থেকে তোমার ধারনা যে তোমার সব ভবিষৎবাণী সঠিক হবে। কিন্তু তা নয়। তুমি আর দশজনের মত সাধারণ। আমি সিক্সথ সেন্স প্রবল লোক খুব কম, হাতেগোনা দুতিনজন দেখেছি। আর সিক্সথ সেন্স না থাকাটা দোষের না।
-ওকে স্যার। একটা তাসের কথাও কি সঠিক হয়নি?
-হুঁ, একটা সঠিক হয়েছে। হরতনের টেক্কা।
ধন্যবাদ দিয়ে পল্লবী চলে গেল।
ড. মিসির আলি সিগারেট ধরাতে ধরাতে ভাবলেন, আজ অনেকদিন পর মিথ্যা বলে কাউকে খুশি করলেন। পল্লবী একটাও সঠিক বলতে পারেনি।

পিয়াসা ফেসবুকে একটা ছেলের সাথে সম্পর্ক করে। এখনো দেখা হয়নি। একদিন ছেলেটা তার সাথে দেখা করতে চায়। পিয়াসা রাজি হল। সে তার পঞ্চ গ্রুপের সবাইকে নিয়ে দেখা করতে গেল। বিকেল চারটায় ছেলেটার এসে পৌঁছানোর কথা। পঞ্চ গ্রুপের সবাই দশমিনিট আগে যথাস্থানে এসে পড়ল। হঠাত পল্লবী বলল, ছেলেটা আসবে না। সে তোকে ঢপ দিয়েছে। ফেসবুকে প্রেম, আবার দেখা করা?
পিয়াসা খুব সংশয়ে আছে। অলরেডি সাড়ে চারটা বাজে। ছেলেটার পৌঁছানোর নাম নেই। ফোন করা হচ্ছে, কিন্তু ফোন ধরছে না। এমনকি অনলাইনেও নেই। সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে পল্লবীর সিক্সথ সেন্স কাজ করে। তারা প্রায় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে যে ফিরে যাবে। ঠিক তখনই একটা হ্যান্ডসাম ছেলের আগমন। পিয়াসা লক্ষ্য করে বলল, কেমন আছ পিয়াসা?
আনন্দে পিয়াসার চোখে জল এল। অবশেষে তার ভালবাসা সত্যি হল। তুমি এত দেরী করলে কেন?
-আর বল না, এত জ্যাম! জ্যামে দুইঘণ্টা আটকে ছিলাম। যাইহোক, তোমার বান্ধবীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে না?
-এ হল পিংকি, এ প্রিয়া, এ পারুল আর এ হল সিক্সথ সেন্স স্পেশালিষ্ট পল্লবী।
পল্লবী নীরবে মৃদু অপমান সহ্য করল।
আর আমি আসিফ।
আসিফ জিজ্ঞেস করল, সিক্সথ সেন্স স্পেশালিষ্ট মানে?
পল্লবীর মুখে লজ্জা দেখে পারুল বলল, চলেন কোথাও বসে কথা বলি।
তারা সবাই একটা রেস্টুরেন্টে এসে বসল। সেখানে আড্ডা দিয়ে সন্ধ্যার পর সবাই বাসায় ফিরল।
পিয়াসা বলল, কিরে সিক্সথ সেন্স স্পেশালিষ্ট, তোর সিক্সথ কাজে লেগেছে? আর একটু হলে আমি হার্ট এটাক হত। তোর কাছে হাতজোড় করে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, তোর এই সিক্সথ সেন্স নাটক বন্ধ কর। নাহলে একদিন চরম বিপদে পড়বি।
একদিন সবাই ঘুরতে গেল। হঠাত পল্লবীর প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হল। এতটাই খারাপ অবস্থা যে পল্লবীর সিক্সথ সেন্স তো দূরের কথা, সে সেন্সলেস হয়ে পড়ল। তাকে ডাক্তারের কাছে নেয়া হলে স্যালাইন দেয়া হল।
জ্ঞান ফিরে এলে দেখে তার চার বান্ধবী পাশে বসে আছে। পিংকি জিজ্ঞেস করল, এখন কেমন লাগছে?
-মোটামুটি। তবে আমার মন বলছে….
-আবার তোর সিক্সথ সেন্স?
-তোরা যা মনে করিস, আমার কিছু যায় আসে না। আমি আর বেশিদিন বাঁচব না। আমার সম্ভবত ব্রেইন ক্যান্সার হয়েছে।
-ফালতু কথা বলিস না। রেস্ট কর। ডাক্তার তোকে এডমিট করতে বলেছে। আমরা সব ব্যবস্থা করেছি। আর তোর বাড়িতে জানিয়েছি যে কোন সমস্যা নেই।
-যাওয়ার আগে একটা কথা শুনে যা, এই মাসের সাতাশ তারিখে আমার মৃত্যু হবে।

পল্লবীর অবস্থা খুব একটা ভাল না। টেস্টে তার ব্রেইন ক্যান্সার ধরা পড়েছে। পল্লবীর বান্ধবীরা সবাই অবাক। পল্লবী বলেছিল, তার ব্রেইন ক্যান্সার হয়েছে। তাই হল। তাহলে কি তার সিক্সথ সেন্স সত্যি হল? যদি তাই হয় তাহলে কি সাতাশ তারিখে? না, এটা হতেই পারে না। মানুষের দুচারটা অনুমান সত্য হতেই পারে। তাই বলে মৃত্যু?
আজ সাতাশ তারিখ। পল্লবীর অবস্থার উন্নতি হয় নাই। তার বাবামা এসেছেন। সবাই আশংকিত। সন্ধ্যা সাতটার দিকে হঠাত পল্লবীর মাথাব্যথা শুরু হল। যন্ত্রণায় সে ছটফট করছে। ডাক্তার ডাকতে ডাকতে হঠাত পল্লবী নিস্তেজ হয়ে পড়ল। ডাক্তার এসে তার পাল্স পরীক্ষা করে বলল, আই এম সরি। শী ইজ নো মোর। অবশেষে পল্লবীর সিক্সথ সেন্স সত্য হল আর পঞ্চগ্রুপের সবাই সেন্সলেস হয়ে পড়ল।

seventh_sense copy