লন্ডনের এক মসজিদে জানাজার নামাজ

২০১২ সালের লন্ডনের এক মসজিদে এক জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় । সেই জানাজায় মৃত ব্যক্তির এক আত্মীয় যার বয়স ১৯ বছর সেও ছিলো । কানে হেড ফোন লাগিয়ে গান শুনছিলো । ইমাম সাহেব নিষেধ করলে সে বলল , আমি তো এখন যুবক আমার এখন আনন্দ ফুর্তি করার সময় । ধর্ম কর্মের জন্য তো সারা জীবন পড়ে আছে । কিছুদিন পর ঐ মসজিদে আরেকটি জানাজা আসে ।
ইমাম সাহেব যখন মৃত ব্যক্তির লাশ দেখতে গেলেন তখন আর নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না । এইটা সেই যুবকের
জানাজা ছিলো যে মাস খানেক আগে বলেছিলো ধর্ম কর্মের জন্য সারা জীবন পড়ে আছে । মানুষের মৃত্যু এমন এক বিষয় যা কাউকে আগে থেকে সিগন্যাল দিয়ে আসবে না । ঘড়ির কাটা ইচ্ছা করলেই এদিক-ওদিক করা যাবে , কিন্তু আল্লাহর নির্ধারিত মৃত্যুর ফরমান এক সেকেন্ডের জন্যও এদিক-ওদিক হবে না । সত্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা , সত্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম , সত্য আল্লাহর ওয়াদা , সত্য দুনিয়া একটি নিছক পরীক্ষা ক্ষেত্র , সত্য জান্নাত- জাহান্ন াম । মহান আল্লাহ আমাদের বুঝ দান করুন এবং আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার আগে আল্লাহর দিকে ঘুরে যাওয়ার তাওফিক দান করুন ।
আল্লাহুম্মা আযিরনা মিনান-নার
। আমীন ।

download

বাবা আমার বাইক চাইনা

রাগ করেই ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়লাম। এতটাই রেগে ছিলাম যে বাবার জুতোটা পড়েই বেরিয়ে এসেছি।
বাইকই যদি কিনে দিতে পারবেনা, তাহলে ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানাবার সখ কেন.?
হঠাৎ মনে হল পায়ে খুব লাগছে।
জুতোটা খুলে দেখি একটা পিন উঠে আছে।
পা দিয়ে একটু রক্তও বেরিয়েছে। তাও চলতে থাকলাম।
এবার পাটা ভিজে ভিজে লাগল।
দেখি পুরো রাস্তাটায় জল।
পা তুলে দেখি জুতোর নিচটা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে।
বাসস্ট্যান্ডে এসে শুনলাম একঘন্টা পর বাস।
অগত্যা বসে রইলাম।
হঠাৎ বাবার মানি ব্যাগটার কথা মনে পড়ল, যেটা বেরোবার সময় সঙ্গে নিয়ে এসেছিলাম।
বাবা এটায় কাউকে হাত দিতে দেয় না।
মাকেও না।
এখন দেখি কত সাইড করেছে।
খুলতেই তিনটে কাগজের টুকরো বেরল।
প্রথমটায় লেখা “ল্যাপটপের জন্য চল্লিশ হাজার লোন”।
কিন্তু আমার তো ল্যাপটপ আছে, পুরনো বটে।
দ্বিতীয়টা একটা ডা: প্রেসক্রিপশন। লেখা “নতুন জুতো
ব্যাবহার করবেন”।
নতুন জুতো।
মা যখনই বাবাকে জুতো কেনার কথা বলত বাবার উত্তর ছিল “আরে এটা এখনও ছ’মাস চলবে”।
তাড়াতাড়ি শেষ কাগজটা খুললাম। “পুরানো স্কুটার
বদলে নতুন বাইক নিন” লেখা শোরুমের কাগজ।
বাবার স্কুটার!!
বুঝতে পেরেই বাড়ির দিকে এক দৌড় লাগালাম।
এখন আর জুতোটা পায়ে লাগছে না।
বাড়ি গিয়ে দেখলাম বাবা নেই।
জানি কোথায়।
একদৌড়ে সেই শোরুমটায়।
দেখলাম স্কুটার নিয়ে বাবা দাঁড়িয়ে। আমি ছুটে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম।
কাঁদতে কাঁদতে বাবার কাঁধটা ভিজিয়ে ফেললাম।
বললাম “বাবা আমার বাইক চাইনা। তুমি তোমার নতুন
জুতো আগে কেন বাবা। আমি ইঞ্জিনিয়ার হব, তবে
তোমার মতো করে।”
“মা” হল এমন একটা ব্যাঙ্ক, যেখানে আমরা আমাদের সব রাগ, অভিমান, কষ্ট জমা রাখতে
পারি।
আর “বাবা” হল এমন একটা ক্রেডিট কার্ড, যেটা দিয়ে আমরা পৃথিবীর সমস্ত সুখ কিনতে পারি।

12074558_501916796639631_2224589844437601295_n

চকচক করলেই সোনা হয় না

স্বামী আর স্ত্রী বেড়াতে গেল চিড়িয়াখানায়।

তারা দেখল একটি বানর তার সঙ্গীনির সাথে খেলছে, খুনসুটি করছে।

স্ত্রী দৃশ্যটা দেখে মুগ্ধ হয়ে স্বামীকে বলল : “কী চমৎকার ভালোবাসার দৃশ্য।”

এরপর তারা গেল সিংহদের খাঁচার কাছে।

দেখল সিংহ খাঁচার একপাশে চুপচাপ বসে আছে।

সিংহীটাও অদূরে অন্য দিকে ফিরে বসে আছে।

স্ত্রী দেখে বলল : “আহ! ভালোবাসার কী নির্মম পরিণতি।”

স্বামী এতক্ষণ চুপচাপ স্ত্রীর পাশে হাঁটছিল।

এবার নীরবতা ভঙ্গ করে বললেন : “ধরো এই কাঁচের টুকরাটা ।

সিংহীর দিকে ছুঁড়ে মারো, আর দেখো কী ঘটে।”

মহিলাটি যখন কাঁচের টুকরোটা ছুঁড়ে মারল, সিংহ ক্ষিপ্ত হয়ে গেল।

সঙ্গীনিকে বাঁচানোর জন্য গর্জে উঠল।

স্বামী : এবার মেয়ে বানরটার দিকে ছুঁড়ে মারো, দেখ কী ঘটে।

পুরুষ বানরটার আচরণ লক্ষ্য কর।

স্ত্রী কাঁচের টুকরোটা বানরীর দিকে ছুঁড়ে মারল।

দেখা গেল ছুঁড়ে মারার আগেই বানরটা আত্মরক্ষার্তে ছুটে পালিয়ে গেল।

সঙ্গীনির দিকে ফিরেও তাকাল না।

স্বামী বলল : “মানুষ তোমার সামনে যা প্রকাশ করে তা দেখে প্রভাবিত হয়ে যেয়ো না।

অনেক মানুষ আছে যারা তাদের লোক দেখানো আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করে অন্যকে প্রতারিত করে।

আবার অনেক মানুষ আছে যারা তাদের ভেতরে গভীর অনুরাগ- ভালবাসা লুকিয়ে রাখে।

আর বর্তমানে সিংহদের চেয়ে বানরদের সংখ্যাই বেশি।” 

clip-art-zoo-494507 copy

গরীব স্বামী-স্ত্রী ও তাদের একমাত্র ছেলে

এক গরীব স্বামী-স্ত্রী একটি ছোট
গ্রামে বাস
করতেন।
তাদের একমাত্র ছেলে ছাড়া অন্য
কোন সন্তান
ছিলনা ।
তারা তাকে সবচেয়ে সেরা শিক্ষায়
শিক্ষিত
করে তোলেন।
ছেলে গ্রামের কাছের একটি শহর
হতে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ
করে। ভাগ্যবশত, সে এক
ধনী মেয়েকে বিয়ে করে।
প্রথমদিকে, ছেলে আর তার বউ তার
বাবা মায়ের
সাথেই গ্রামে থাকতো। শীঘ্রই
ছেলের বউ গ্রাম্য
পরিবেশে হাপিয়ে ওঠে আর তার
স্বামীকে তার মা-
বাবাকে ছেড়ে শহরে থাকতে বলে।
কিছুদিন পরেই
ছেলে পত্রিকায়
বিদেশে একটি চাকুরির বিজ্ঞাপন
দেখতে পায়। সে সেই
চাকুরিটা পেয়ে যায়, আর তার
বউকে নিয়ে বিদেশে চলে যায়।
নিয়মিত সে মা-
বাবাকে টাকা পাঠাতে থাকে। কিন্তু
একসময়,
সে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেয় আর
তার মা-
বাবা যে জীবিত সে কথা ভুলেই যায়।
প্রতি বছর
সে হাজ্জ করতে থাকে। একবার
হাজ্জ
করে ফিরে এসে সে স্বপ্নে দেখল,
কে যেন
তাকে বলছে , ‘তোমার হাজ্জ কবুল
হয় নি।’ একদিন
সে তার এই সব ঘটনা এক
মুত্তক্বী ‘আলেমের নিকট
খুলে বলল। ‘আলেম তাকে তার
দেশে ফিরে গিয়ে মা-
বাবার সাথে দেখা করতে পরামর্শ
দেয়। সে তার
দেশে ফিরে গেল, সে তার গ্রামের
সীমানায় প্রবেশ
করল। কিন্তু সে দেখল, সব কিছুই
কেমন যেন
বদলে গেছে। সে তার বাড়ি খুজে পেল
না। সে এক ছোট
ছেলেকে তার বাড়ির অবস্থানের কিছু
বর্ণনা দিল।
ছোট ছেলেটি তাকে একটি বাড়ির
দিকে ইশারা করে বললঃ “এই
বাড়িতে এক অন্ধ
বৃদ্ধা মহিলা থাকেন যার স্বামী কয়েক
মাস আগেই
মারা যান। তার একমাত্র ছেলে ছিল
যে কিনা বহু
বছর আগে বিদেশে চলে যায়, আর
ফেরেনি। কত বড়
দূর্ভাগ্যবান লোক!” ছেলে তার
বাড়িতে প্রবেশ
করে দেখল যে তার মা বিছানায়
শুয়ে আছেন।
সে নিঃশব্দে প্রবেশ করল যাতে তার
মা জেগে না ওঠে। সে শুনলো তার
মা কি যেন
একা একা চুপি চুপি বলছেন। সে তার
আরো কাছে আসলো যাতে তার
কথা শুনতে পারে।

সে শুনলো তার মা বলছেন,
“হে আল্লাহ! আমি এখন
অনেক বৃদ্ধ আর অন্ধ। আমার
স্বামী ও
মারা গেছেন। এখন
আমাকে কবরে নামানোর মত
কোন মাহরাম পুরুষ নেই। তাই
দয়া করে আমার
ছেলেকে আমার শেষ ইচ্ছাটা পূরণের
জন্য আমার
কাছে পাঠিয়ে দাও।”

এখানেই গল্পের শেষ আর
এখানেই সেই মা এর দু’আ আল্লাহ
কবুল করলেন।
আপনি কি জানেন? একজন মানুষের
শরীর মাত্র ৪৫
ডেল (ব্যাথার তীব্রতার একক) সহ্য
করতে পারে।
কিন্তু একজন মা সন্তান প্রশবের
সময় ৫৭ ডেল
পর্যন্ত ব্যাথা সহ্য করে,
যা কিনা শরীরের ২০
টা হাড় একসাথে ভাঙ্গার সমান
ব্যাথা!!

এ তথ্যটা আপনাদের এটা বোঝানোর
জন্য বলমাম
যে, একজন মা তার সন্তানকে কত
ভালবাসেন!!
আপনার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত
আপনার
মা কে ভালবাসুন।
যে মহিলাটি আপনার জন্য প্রতিদিন
লড়াই করেন,
আপনার জন্য হাজারো ব্যাথা সহ্য
করেন শুধু
আপনাকে একটা সুন্দর জীবনের পথ
করে দিতে!

আপনার মা এর
সাথে হাসি মুখে কথা বলুন,
তাকে ভালবাসুন!!! আর আল্লাহ
তা’আলা বলেন,
“পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করার
জন্য
আমি মানুষের প্রতি ফরমান
জারি করেছি।” [সূরা আল-‘আনকাবূত ৮]

1150945_584766228247603_1275742519_n-copy

সত্যবাদী মা

Charles_W._Bartlett_-_'Hawaiian_Mother_and_Child',_watercolor_and_pastel_on_art_board,_c._1920

এক ৮ বৎসরের বাচ্চার
মা মারা গিয়েছিল
একদিন বাচ্চাটার
বাবা তাকে জিজ্ঞেস
করল …
বলতো তোমার নতুন
মা এবং পুরাতন মায়ের
মধ্যে পার্থক্য কি ?
বাচ্চাটি বলল আমার নতুন
মা সত্যবাদী ,আর
পুরাতন মা মিথ্যাবাদী ছিল
বাবা তার ছেলের
কথা শুনে চমকে গেল
এবং বলল কেন বাবা …
তোমার যেই মা তোমাকে জন্ম দিল
সে মিথ্যা বাদী ,,,, আর যে কয়েক
দিন হল
আসলো সে সত্যবাদী হয়ে গেল?
বাচ্চাটি বলল …
আমি যখন সারাদিন খুব
দুষ্টামি করতাম ,
তখন আমার মা আমাকে বলত তুই
যদি এমন
দুষ্টামি করতে থাকিস তাহলে তোর
খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিব
এবং সারাদিন যখন
আমাকে খুঁজে না পেত ,
তখন সারা গ্রাম
খুজে আমাকে ধরে এনে নিজের
পাশে বসিয়ে নিজ
হাতে খায়িয়ে দিত
আর আমার নতুন মা বলে তুই
যদি এমন
দুষ্টামি করিস তাহলে তোর
খাওয়া দাওয়া বন্ধ
করে দিব,
সত্যি সত্যি আজ তিন দিন যাবত
আমাকে কোন
খাবার দেয়া হয় নি…

বিঃদ্রঃ- নিজের মায়ের মত মা , কেউই পৃথিবীর হতে পারে না··