ইমাম আবু হানিফা ও নাস্তিক

একবার খলিফা হারুনুর রশীদের নিকট এক নাস্তিক এসে বললেন যে আপনার সাম্রাজ্যে এমন কোন জ্ঞানী ব্যক্তিকে ডাকুন আমি তাকে তর্ক করে প্রমান করে দেব যে এই পৃথীবির কোন স্রস্টা নেই। এগুলো নিজে নিজে Continue reading “ইমাম আবু হানিফা ও নাস্তিক”

মা ফাতেমাকে (রা.) যেভাবে জানাজা ও দাফন করা হয়েছিল

দো জাহানের বাদশাহর মেয়ে, হযরত আলীর স্ত্রী, হাসান হোসাইনের মা এবং জান্নাতের সর্দারনী হলো মা ফাতেমাতুজ জাহরা (রা.)। মা ফাতেমার (রা.) মৃত্যু কাহিনী পড়লে আপনি চোখের পানি ধরে রাখতে পারবেন না। রাসূল সাঃ এর ইন্তেকালের পর হযরত সাইয়্যেদা ফাতিমা রাঃ একেবারে ভেঙ্গে পরেন। সব সময় পেরেশান থাকতেন। সর্বক্ষণ অপেক্ষায় ছিলেন, কখন রাসূল সাঃ সেই ভবিষ্যৎবাণী তথা সর্বপ্রথম রাসূল সা. এর সাথে হযরত ফাতেমাই মিলিত হবেন বাস্তবায়িত হবে। কাজকর্মে একদম মন বসতো না।
ছেলে-মেয়ে ছিল সবই ছোট ছোট। কিন্তু তাদের দেখাশোনা করতে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন। তখন হযরত আসমা বিনতে উমাইস জান্নাতী মহিলাদের সর্দর হযরত ফাতিমা (রা.) এর পরিবারের দেখাশোনার মহান সৌভাগ্য লাভ করেন। তিনি নিষ্ঠার সাথে ফাতিমা রাঃ এর পরিবারের দেখভাল করতে থাকেন।

আসমা বিনতে উমাইস ছিলেন রাসূল সাঃ এর আপন চাচাত ভাই হযরত যাফর তাইয়্যার রাঃ এর স্ত্রী। হযরত যাফর রাঃ যখন মুতার যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন। তখন আসমা বিনতে উমাইসকে প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর রাঃ বিবাহ করেন।
তিনিই হযরত ফাতিমা রাঃ এর পরিবারের পূর্ণ দেখভাল করতে থাকেন।
যেহেতু হযরত ফাতিমা রাঃ খুবই লজ্জাবতী ছিলেন। তাই তিনি হযরত আসমা বিনতে উমাইস রাঃ কে বলে রাখলেন যে, যেহেতু খোলাভাবে জানাযা পড়ালে পর্দার মাঝে কমতি আসে। যা আমি খুবই অপছন্দ করি। তাই আমি চাই আমার জানাযা নিয়ে যাওয়ার সময় এবং দাফন করার সময় পূর্ণ পর্দা রক্ষা করা হবে। এ কারণে তুমি এবং আমার স্বামী ছাড়া আমার গোসল করানোর সময় আর কারো সহযোগিতা নিও না। আর রাতের বেলায়ই যেন জানাযা নিয়ে যাওয়া হয়।
হযরত আসমা রাঃ বললেন, হে আল্লাহর রাসূলের বেটি! আমি হাবশায় দেখেছি যে, জানাযার উপর গাছের শাখা বেঁধে উপরে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। এর দ্বারা ঢুলির মত একটি আকৃতি বানানো হয়ে থাকে। এটা বলে হযরত আসমা রাঃ খেজুরের কিছু ঢাল আনালেন। তারপর এগুলোকে একত্র করে এর উপর কাপড় টাঙ্গিয়ে হযরত ফাতিমা রাঃ কে দেখালেন। এ দৃশ্য দেখে হযরত ফাতিমা রাঃ খুবই খুশি হয়ে বললেন, আরে! এতো খুবই সুন্দর পদ্ধতি! মা ফাতিমা (রা.) এর মৃত্যুর পর ঠিক এভাবেই ঢাল দিয়ে তার উপর কাপড় টাঙ্গিয়ে রাতের বেলাই দাফন কাফন সম্পন্ন করা হয়। {আসাদুল গাবা-৫/৫২৪, তবকাতে ইবনে সাদ-৮/২৫৭, তারীখে আহলে বাইতে আতহার-৬৭৭-৬৭৯}

জানাযা কে পড়িয়েছিল?
হযরত ফাতিমাতুজ জাহরা রাঃ এর জানাযার নামায কে পড়িয়েছিল? এ ব্যাপারে হাদীস, তারীখ ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত ও শিয়াদের কিতাবে তিনটি নাম পাওয়া যায়। যথা-
১-হযরত আলী রাঃ। ২-হযরত আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব রাঃ। ৩-হযরত আবু বকর রাঃ। {তাবাকাতে ইবনে সাদ-৮/২৫, আলবিদায়া ওয়াননিহায়া-৬/৩৩৩}

عن جعفر بن محمد عن أبيه قال: ماتت فاطمة بنت النبي صلى الله عليه وسلم فجاء أبو بكر وعمر ليصلوا فقال أبو بكر لعلي بن أبي طالب: تقدم، فقال: ما كنت لأتقدم وأنت خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فتقدم أبو بكر فصلى عليها. “

ইমাম যাফর সাদেক রহঃ তার পিতা ইমাম মুহাম্মদ বাকের রহঃ থেকে বর্ণনা করেন-

হযরত ফাতিমা রাঃ ইন্তেকাল করলে হযরত আবু বকর রাঃ জানাযার নামায পড়তে আগমন করেন। তখন হযরত আবু বকর রাঃ হযরত আলী রাঃ কে বললেন, আপনি জানাযার নামায পড়ান। তখন হযরত আলী রাঃ বললেন, আপনি আল্লাহর রাসূলের খলীফা! আপনার আগে যেতে পারবো না। তাই হযরত আবু বকর রাঃ সামনে এগিয়ে নামায পড়ালেন। {কানযুল উম্মাল-১২/৫১৫, হাদীস নং-৩৫৬৭৭}
عن مالك عن جعفر بن محمد عن أبيه عن جده علي بن الحسينقال: ماتت فاطمة بين المغرب والعشاء, فحضرها أبو بكر وعمر وعثمان والزبير وعبد الرحمن بن عوف, فلما وضعت ليصلى عليها قال علي -رضي الله عنه: تقدم يا أبا بكر قال: وأنت شاهد يا أبا الحسن؟ قال: نعم تقدم فوالله لا يصلي عليها غيرك, فصلى عليها أبو بكر -رضي الله عنهم أجمعين- ودفنت ليلًا. خرجه البصري وخرجه ابن السمان في الموافقة.
অনুবাদ- হযরত জাফর সাদেক রহঃ তার পিতা মুহাম্মদ বাকের থেকে, আর তিনি তার পিতা যাইনুল আবেদীন থেকে বর্ণনা করেন যে, খাতুনে জান্নাত ফতিমা রাঃ এর ইন্তেকাল মাগরিব ও ইশার মাঝামাঝি সময়ে হয়। তখন হযরত আবু বকর রাঃ, হযরত উসমান রাঃ, হযরত যুবায়ের এবং হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ রাঃ জানাযার নামাযের জন্য উপস্থিত হন। হযরত আলী রাঃ জানাযার নামায পড়ানোর জন্য আমীরুল মুমিনীন হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ কে বললেন। হযরত আবু বকর রাঃ বললেন, হে আবুল হাসান! আপনার উপস্থিতিতে আমি কিভাবে জানাযা পড়াই? হযরত আলী বললেন, আপনি এগিয়ে আসুন! আল্লাহর কসম! আপনি ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি হযরত ফাতিমা রাঃ এর জানাযা পড়াবে না। অতএব হযরত আবু বকর রাঃ ই হযরত ফাতিমা রাঃ এর জানাযার নামায পড়ান। আর সেই রাতেই তাকে দাফন করা হয়। {আররিয়াজুন নাজরাহ ফী মানাকিবিল আশারাহ লিমুহিব তাবারী-১/১৫৬}

দাফন:
এ ব্যাপারে সকল ঐতিহাসিকগণ একমত যে, হযরত ফাতিমা রাঃ এর দাফন রাতের বেলাই হয়েছিল। জানাযার খুবই চুপিসারে সম্পন্ন হয় পর্দা লঙ্ঘণের আশংকায়। বনু হাশেম ছাড়া খুব কম সংখ্যক সাহাবীগণই এ জানাযায় শরীক হতে পেরেছেন। হযরত আলী রাঃ, হযরত আব্বাস রাঃ, হযরত ফজল বিন আব্বাস রাঃ হযরত ফাতিমা রাঃ কে কবরে রাখেন।

খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমা রাঃ এর কবর কোথায়? এ নিয়ে কয়েকটি বক্তব্য পাওয়া যায়। যেমন-

১- দারে আকীলের এক স্থানে। {তাবাকাতে ইবনে সাদ-৮/২৫৮}

২-জান্নাতুল বাকীতে। {খুলাসাতুল ওয়াফা-২১৭, আলবিদায়া ওয়াননিহায়া-৬/৩৩৪, আলইসাবাহ-৪/৩৮০}

৩-স্বীয় ঘরেই তাকে দাফন করা হয়, যা রাসূল সাঃ এর ঘরের সাথে ছিল। {খুলাসাতুল ওয়াফা-৩/৯০১}
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫/এমটিনিউজ২৪/রাসেল/এমআর

এক বোনের কাহিনী

কখন ভাবিনি আমার হুজুর টাইপের কারো সাথে বিয়ে হবে। আমার ইচ্ছা না থাকা সত্তেও পরিবারের চাপে বিয়ের পিড়িতে বসতে হয়। আমি মর্ডান মেয়ে আর বিয়ে করব কিনা হুজুরকে, ভাবতেই কেমনযেন সংকোচ বোধ হচ্ছিল। এমনিতেই বিয়ে করতে ইচ্ছা করছিল না তাতে আবার এক বান্ধবি এসে বললঃ- কিরে রিয়া তুই হুজুরকে বিয়ে করলি আর পাত্র খুজে পাসনি। আর এক ভাবী এসে কানে ফিসফিস করে বললঃ- তোর বরের তো সারা মুখেই দাড়ি, কিস করবি কোথায় । খুব বিরক্ত লাগছিল । ইচ্ছা করছিল এখুনি আসন থেকে উঠে যাই। হটাৎ পায়ের ঠক ঠক আওয়াজে ঘোমটার ফাক দিয়ে আর চোখে দেখলাম একজন লোক আসতেছে।

তার বেশ ভুষা আর গঠন দেখে বুঝলাম উনি আমার স্বামী। অনিচ্ছা থাকা সত্তেও উঠে গিয়ে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলাম। থাক থাক বলে আমার ২ বাহুতে হাত দিয়ে তুলে বিছানায় বসাল আর বললঃ- তোমার নাম কি ? খুব ইচ্ছা করছিল বলতে আমার নাম না জেনেই আমাকে বিয়ে করেছেন। বললামঃ- রিয়া –সুন্দর নাম কিন্তু তুমি কি জানো রিয়া নামের অর্থ কি ? মেজাজটা খারাপ হওয়ার উপক্রম বললামঃ- না –শোন আরবিতে রিয়া শব্দের অর্থ অহংকার।
আর মানুষকে যে জিনিসগুলা ধ্বংস করে দেয় তার মধ্যে রিয়া অন্যতম । তাই আজ থেকে আমি তোমাকে মীম বলে ডাকব। নাহ আর মেজাজটা ঠিক রাখতে পারছি না বাসর রাতে আমার স্বামী আমাকে অর্থ শেখাচ্ছে কারো মাথা ঠিক থাকার কথা। একটু বারক্ত সুরে বললামঃ- আপনার যেটা ভাল লাগে সেটাই ডাকিয়েন। বুঝতে পারছে মনে হয় বলল তোমার মনে হয় খারাপ লাগছে তুমি ঘুমিয়ে পড়।

“আমার ধার্মিক স্বামী”

লেখাঃ- ব্যাথার দান

(২) ঘুমটা ভাঙ্গল গুন গুন আওয়াজে। কান খাড়া করে আওয়াজটা শুনতে চেষ্টা করলাম বুঝলাম কেউ কোরআন পড়ছে। তাকিয়ে দেখলাম আমার স্বামী। তার সমধুর কন্ঠে কোরআন তিলাওয়াত শুনতে ভালই লাগছিল। তাই একটু উঠে বসলাম। আমাকে উঠে বসতে দেখে তিলাওয়াত বন্ধ করে বললঃ- আসসালামু আলাইকুল। শুভ সকাল , ঘুমটা কেমন হলো? সালাম নিয়ে বললাম জি ভাল হয়েছে। এভাবেই কাটছিল দিনগুলা। এর মাঝে উনি আমাকে নানা ভাবে নামাজ পরার কথা বলত। এত ধৈয্য আর এত ভাল করে বুঝিয়ে বলত যে আমি নিজেই খুব অবাক হয়ে যেতাম। তার সব চেষ্টাকে সফল করে একদিন নামাজ পরা শুরু করলাম। দেখলাম তার মুখটা খুশিতে ভরে উটেছে। তার হাসি মাখা মুখটা দেখতে ভালই লাগত। নামাজ ৫ ওয়াক্ত হলেও আমি ৪ ওয়াক্ত পরতাম।

ফজরের নামাজ পরতাম না। খুব আলসেমি লাগত। উনি আমাকে ডাকতেন শুনেও জাগতাম না। এটা উনি বুঝতে পেরেছিল যে আমি ইচ্ছা করেই উঠি না। তাই আমাকে কাছে ডেকে পাশে বসিয়ে বলল:- দ্যাখো তুমি এভাবে প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে ঘুমাও তাহলে দিনের ৩ ভাগের ১ভাগ তুমি ঘুমিয়ে কাটাচ্ছ। যদি তোমার আয়ুকাল ৬০ বছর হয় তাহলে তুমি ৩ভাগের এক ভাগ মানে ২০ বছর ঘুমিয়ে কাটাচ্ছ। আল্লাহ তা’আলা তো তোমাকে এই দীর্ঘ সময় ঘুমীয়ে কাটাতে পৃথিবীতে পাঠাইনি। তারপর অনেকগুলা ভাল ভাল কথা আর কোরআনের বাণী শুনালেন। এত ভাল কথা শুনিয়েছিলেন যে শুনে আমার চোখে পানি এসে গিয়েছিল। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত আমি ১ ওয়াক্ত নামাজও আমি কাজা করিনি। সর্বদাই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলি। আজ আমি অনুতপ্ত নয় গর্ববোধ করি আমার স্বামীর জন্য। সত্যিই আমি খুব ভাগ্যবতী।

সূত্র : ২য় বর্ষ প্রথম সংখ্যা, বার্তা দা’অহ ম্যাগাজীন, পশ্চিমবঙ্গ ভারত।

ভাস্কো দা গামা: ইতিহাসের উজ্জ্বল তারকা, নাকি বর্বর বণিক?

ভাস্কো দা গামা যেদিন কালিকট বন্দরে এসে নামেন, সেদিন ছিল ১৪৯৮ সালের ২০ মে, ৫১৯ বছর আগের কথা। কিন্তু আমরা শুরু করব আরো পেছন থেকে, ভাস্কোর জন্ম থেকে।
তিনি কবে জন্মেছিলেন সেটা নিশ্চিত না, কেউ বলেন ১৪৬০, কেউ বলেন ১৪৬৯ সাল। তবে জন্মটা হয়েছিল পর্তুগালের দক্ষিণ-পশ্চিমে, সাগরের পাড়ের কাছেই সিনেস শহরে। কাছেই ছিল এক চার্চ, যার ঘণ্টাধ্বনি শুনতে পাওয়া যেত প্রতিনিয়ত। তার বাবা ছিলেন এস্তেভাও দা গামা, তিনি ছিলেন একজন নাইট যোদ্ধা। অর্ডার অফ সান্তিয়াগো মিলিটারির উঁচু পদেই ছিলেন। সিনেসের খাজনা আদায়কারীর কাজ নিয়েছিলেন তিনি, তবে তার আগে ১৪৭৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন সিভিল গভর্নর।
এস্তেভাও বিয়ে করেন সম্ভ্রান্ত ইংলিশ বংশোদ্ভূত মেয়ে জোয়াও-কে। তাদের পাঁচ ছেলে হয়েছিল, আর তার মধ্যে তৃতীয় ছিলেন ভাস্কো। এক বোনও ছিল তার, তেরেসা।
খুব বেশি জানা যায় না ভাস্কোর প্রাথমিক জীবন নিয়ে। ইভোরা শহরে পড়ালেখা করেন তিনি, ওখানেই গণিত আর জাহাজ চালনার দিকনির্দেশনা অধ্যয়ন করেন।
১৪৮০ সালের দিকে ভাস্কো তার বাবার মতোই অর্ডার অফ সান্তিয়াগো-তে যোগ দেন, অর্থাৎ তারা ছিলেন সান্তিয়াগোদের সেনা। সান্তিয়াগোর মাস্টার ছিলেন প্রিন্স জন, তিনি ১৪৮১ সালেই পর্তুগালের রাজা হয়ে যান। তখন আর দা গামা-দের ঠেকায় কে। ১৪৯২ সালে রাজা ভাস্কো দা গামাকে পাঠালেন এক মিশনে, ফ্রেঞ্চ জাহাজ দখল করতে হবে। কাজটা এত নৈপুণ্যের সাথে করলেন তিনি, যে দা গামার সুনাম ছড়িয়ে পড়ল।
তখনকার দিনে আফ্রিকার সাথে মসলার ব্যবসা চলতো বটে, কিন্তু ভারতবর্ষের সাথে না। হবে কীভাবে, তখনো কেউ ওখান থেকে পাড়ই দেননি ভারতে। রাজা জানতেন ওদিকের ভূমির খবর গুপ্তচর মারফত। এই অজানা ভূমির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাবার জন্য বিশ্বস্ত আর চৌকশ লোক দরকার।

১৪৯৭ সালের ৮ জুলাই ভাস্কো দা গামা ১৭০ ক্রু নিয়ে পর্তুগালের লিজবন থেকে যাত্রা করলেন, ছিল চারটা জাহাজ। তারা আফ্রিকা হয়ে ঘুরে ইন্ডিয়ার দিকে আসতে লাগলেন। জাহাজে ছিলেন তুখোড় সব দিকনির্দেশক। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার, মাত্র ৫৫ জন ফিরে আসতে পারে, দুটো জাহাজ হারাতে হয়। এই চার জাহাজের নাম ছিল সাও গাব্রিয়েল, সাও রাফায়েল, বেরিও আর… আরেকটার নাম অজানা, ওটা ছিল গুদাম জাহাজ।
তার জাহাজগুলো কেপ ভার্দে, মোজাম্বিক, মোম্বাসা (কেনিয়া), মালিন্দি এগুলো পেরিয়ে অবশেষে ভারতবর্ষের কাছে এলো। প্রায় এক বছর ভ্রমণ শেষে জাহাজ ভিড়ল কালিকটের কাছাকাছি কাপ্পাড়ুতে। কালিকটের রাজা ছিল সামুদিরি। তবে তিনি প্রধান রাজধানীতে ছিলেন না তখন, ছিলেন দ্বিতীয় রাজধানীতে। কিন্তু বিদেশী নৌবহর এসেছে শুনে তিনি ফিরে আসলেন। আগত বিদেশীদের ৩,০০০ নায়েরের উপস্থিতিতে রাজকীয় সম্মাননা দেয়া হয়। দা গামা রাজাকে উপহার দিলেন, উজ্জ্বল লাল কাপড়ের চারটি জোব্বা, ছয়টি টুপি, চার ধরণের প্রবাল, বারটি আলমাসার, সাতটি পিতলের পাত্রসহ একটি বাক্স, এক সিন্দুক চিনি, দুই ব্যারেল (পিপা) তেল এবং এক পিপা মধু। কিন্তু এগুলো খুব তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে নিলেন রাজা, মোটেও আকৃষ্ট হননি। সোনা রূপা নেই- এ কেমন কথা!
ভাস্কো দা গামা ভারতে ব্যবসায় করার জন্য অনুমতি চাইলেন। কিন্তু রাজা প্রত্যাখ্যান করলেন। বললেন, এখানে ব্যবসা করতে হলে অন্যদের মতো সোনা দিয়ে খাজনা দিতে হবে।
এটা শুনে ভাস্কো মনঃক্ষুণ্ণ হন। এক্ষেত্রে তিনি এক কাজ করে বসলেন, যেটা আমরা ইতিহাস বইতে পড়িনি। তিনি সাথে করে জোর করে তিনজন নায়ের আর ১৬ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেলেন! তবে যা-ই হোক, ভাস্কো যখন দেশে ফেরেন, তখন তিনি ৬০ গুণ লাভ করে ফিরেছিলেন!
১৪৯৮ সালের ২৯ অগাস্ট ভাস্কো কালিকট বন্দর থেকে স্বদেশ এর জন্য রওনা দেন। কিন্তু পথে যে তাদের অজ্ঞাত মৌসুমি বায়ুর বিভীষিকার মুখোমুখি হতে হবে, তা তারা জানতেন না। ২৩ দিনের পথ তাদের যেতে হলো ১৩২ দিনে! ১৪৯৯ সালের জানুয়ারির ২ তারিখ তিনি আফ্রিকার মোগাদিশুতে এসে স্থলের দেখা পান। সেখানে তখন চার পাঁচতলা বাড়ি, প্রাসাদ, আর মিনারওয়ালা মসজিদ ছিল!
৬ তারিখ তিনি এলেন মালিন্দিতে, ততদিনে অর্ধেক ক্রু মারা গিয়েছে, আর বাকিরা স্কার্ভি রোগে আক্রান্ত। এত কম লোক দিয়ে তাদের তিনটা জাহাজ চালানো অসম্ভব ছিল। তাই সাও রাফায়েল জাহাজটা ডুবিয়ে দিতে বলা হলো। আর ওখানের ক্রুদের বাকি দু জাহাজে ভাগ করে দেয়া হলো।
১৪৯৯ সালের ১০ জুলাই, বেরিও জাহাজ এসে পর্তুগালের লিজবনে পৌঁছায়। কিন্তু তখন ভাস্কোর ভাই পাউলো অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা দুজন কিছুদিন সান্তিয়াগো দ্বীপে থাকেন। কিন্তু অন্য জাহাজ যত দিনে এসে পৌঁছে (আগস্ট) ততদিনে ভাই পাউলো মারা গেলেন।
ভাইকে সমাহিত করে ভাস্কো ২৯ অগাস্ট লিজবনে যান। দা গামাকে বীরের মতো স্বাগত জানানো হয়, রাজকীয় অনুষ্ঠানের দ্বারা বরণ করা হয়। ডিসেম্বর মাসে রাজা সেই সিনেস শহরটা দা গামাকে জায়গীর হিসেবে দিয়ে দেন। যদিও সেটা নিয়ে তাকে ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল।
১৫০২ সালে পর্তুগাল থেকে ৪র্থ বহর রওনা দেয়। সেখানে অংশ নিতে ভাস্কো পত্র দেন। এ বহরের উদ্দেশ্য ছিল, কালিকটের রাজার উপর প্রতিশোধ নেয়া আর পর্তুগিজরা যে শর্ত দেবে সেই মাফিক আত্মসমর্পণ করানো। ১৫টা জাহাজ আর ৮০০ লোক অস্ত্র নিয়ে রওনা দেয়। পেছনে আসে আরো ৫টি জাহাজ, যাতে ছিলেন ভাস্কোর চাচাত ভাই।

১৫০২ সালের অক্টোবরে তাদের বিশাল নৌবহর ভারতে পৌঁছল। সেখানে “মিরি” নামে এক জাহাজ আসছিল মক্কা থেকে, হজ্জযাত্রীতে পরিপূর্ণ। সেই জাহাজে আক্রমণ চালিয়ে দা গামা সকল যাত্রীকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেন, তার আগে তাদের জ্বালিয়ে দেন। জাহাজে ছিল চারশ যাত্রী, যেখানে ৫০ জনই মহিলা, ছিলেন মিসরের রাষ্ট্রদূত। মহিলাগুলো তাদের বাচ্চাদের ধরে প্রাণভিক্ষা চাইছিল, কিন্তু দা গামা দেখেন তাদের গায়ে সোনার অলংকার। সবাই নিজেদের মুক্তিপণ দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দা গামা সেটা না শুনে তাদের মেরে ফেলেন।

দা গামার শর্ত মেনে নিতে রাজি হলেন কালিকটের রাজা। কিন্তু দা গামা শহর থেকে সকল মুসলিমকে বের করে দেবার দাবি জানালে কালিকটের হিন্দু রাজা সেই দাবি খারিজ করেন। ফলে পর্তুগিজ জাহাজগুলো টানা দুদিন গোলাবর্ষণ করে শহরে। শহরের অনেক ক্ষয় ক্ষতি হয়।

দা গামা কিছু ভারতীয় জাহাজ আটকে সেখানের ক্রুদের হাত কান নাক এগুলো কেটে দেন, সেই অবস্থায় রাজার কাছে পাঠান তাদের। রাজা তখন একজন ব্রাহ্মণকে পাঠালেন তার কাছে, কিন্তু দা গামা বললেন এই লোক গুপ্তচর। তখন ব্রাহ্মণের ঠোঁট কেটে দেয়া হলো। কান কেটে দিয়ে সেখানে সেলাই করে কুকুরের থেকে কেটে নেয়া কান লাগিয়ে দেয়া হলো। এরপর ভাস্কো তাকে পাঠিয়ে দিলেন রাজার কাছে।
কালিকটের রাজা পর্তুগিজ শর্ত মানতে চাইলেন না। এমনকি তিনি ভাড়া করলেন শক্তিশালী অস্ত্রবাহী নৌবহর। তবে দা গামা জিতে যান। জাহাজ বোঝাই করে তিনি মসলা আর অন্য জিনিসপাতি নিয়ে গেলেন।
পরের দু’দশক নীরব জীবন কাটালেন দা গামা। ১৫২৪ সালে তৃতীয় জন ভাস্কো দা গামাকে ভাইসরয় উপাধি দেন। এপ্রিলে তিনি আবার ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। এবার এসেই পর্তুগিজ অধ্যুষিত ভারতে নিজের পছন্দের লোকদের বসিয়ে দিলেন ক্ষমতায়, তিনি নিজেই ছিলেন অনেক ক্ষমতাবান। কিন্তু এখানে আসামাত্রই তার ম্যালেরিয়া হলো।
তিন মাস বাদে ১৫২৪ সালের ক্রিসমাসের আগেরদিন তিনি কোচিন শহরে মারা যান ম্যালেরিয়ার কারণে। ওখানেই এক চার্চে তার দেহ সমাহিত করা হয়, কিন্তু ১৫৩৯ সালে তা পর্তুগালে ফিরিয়ে নেয়া হয়। সোনা আর অলংকারে মণ্ডিত করে তা দৃষ্টিনন্দন করে রাখা হয়, এখনো তাই আছে। তিনি আর তার স্ত্রী ক্যাটেরিনার ৬ ছেলে আর এক মেয়ে ছিল।
২০১৬ সালের মার্চে ওমানের কাছে সাগরের তল থেকে ভাস্কোর ডুবে যাওয়া এক জাহাজ উদ্ধার করা হয়েছিল, নাম ছিল এসমেরালদা।

পর্তুগালের ভাস্কো দা গামাকে ইতিহাস মনে রাখে ইউরোপীয়দের ভারতে আসার পথ সুগম করার পথপ্রদর্শক হিসেবে। কিন্তু তার আগমন ভারতবর্ষের জন্য আদৌ সুখকর ছিল না। তবে ইতিহাস বইগুলো তার ভারত ‘আবিষ্কার’-কেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখে, যে কারণে ভারতবর্ষে তার করে যাওয়া বর্বরতা খুব কম মানুষই জানে, যদি ইতিহাসপ্রিয় না হয়ে থাকে।
তথ্যসূত্র

১) Diffie, Bailey W. and George D. Winius, Foundations of the Portuguese Empire, 1415–1580, p.176

২) Nigel, Cliff (September 2011). Holy War: How Vasco da Gama’s Epic Voyages Turned the Tide in a Centuries-Old Clash of Civilizations. Harper

৩) Modern History Sourcebook: Vasco da Gama: Round Africa to India, 1497–1498 CE, fordham.edu, Retrieved 27 June 2007.

৪) Vasco da Gama Arrives in India 1498 at the Wayback Machine (archived 18 January 2004) Dana Thompson, Felicity Ruiz, Michelle Mejiak; 15 December 1998. Retrieved 8 July 2006.

৫) The Last Crusade: The Epic Voyages of Vasco Da Gama by Nigel Cliff

আজ হঠাৎ করে চীনের একটা নদীর পানি রক্তের মতো লাল হয়ে গেছে


দৃশ্যটি দেখলে মনে হবে এটি কোন বড় কসাইখানায় গড়িয়ে যাওয়া রক্তের ছবি- কিন্তু না আসলে এটি কোন কসাইখানার ছবি নয় এটি চীনের একটি নদী। এই নদীর পানি রক্তের মতো লাল হয়ে গেছে। এ ধরনের ঘটনায় বিশ্ববাসী হতবাক হয়ে পড়েছেন

জানা গেছে, হঠাৎ করেই নদীর পানি লাল হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাসী স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে। চীনের Yangtze নামক এই নদীটি বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী হিসেবে খ্যাত। এই নদীর পানি 14 janury হঠাৎ করেই লাল হয়ে গেছে। এই পানির চেহারা দেখলে মনে হবে রক্তের নদী। এই নদীতে মাছ আছে সব কিছুই ঠিকঠাক আছে। নদীতে নৌকা কিন্বা জাহাজ চলছে স্বাভাবিক নিয়েমেই। তবে কেনো নদীর পানি হঠাৎ করে লাল হলো তা কেওই বলতে পারছে না।

বন্দি জীবনে কে ছিল শাহজাহানের সঙ্গী? এই বিশ্ব প্রেমিক কেনই বা বন্দি হয়েছিল

তাজমহল নিয়ে মুগ্ধতার সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটেছে এক নারীর কথায়। প্রেমিকের সাথে তাজমহলে বেড়াতে গিয়ে তাজমহলের অপার সৌন্দর্য্য দেখে ঐ নারী নাকি তার প্রেমিককে বলেছিলেন, “আমি মারা গেলে তুমি যদি এমন একটা তাজমহল বানাতে পারতে তাহলে আমি এখনই মারা যেতাম।”

তাজমহল নির্মাণের পিছনে যে অনেক নিষ্ঠুরতাও ছিল নিশ্চয়ই বেচারির তা জানা ছিল না। তাই এমন অভূতপূর্ব শৈল্পিক সৌন্দর্য্যময় এক স্থাপনা দেখেই তার মন আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু পিছনের সেই ইতিহাস ভুলে যাওয়ার নয়।

স্ত্রী মমতাজ মহলের অকাল মৃত্যুতে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের দিলে খুব আঘাত লাগে। সেই ভেঙ্গে পড়া দিল নিয়ে তিনি স্ত্রীর কবরের উপর একটা সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। এটাই তাজমহল।

১৪ বছরের ইরানী কিশোরী মমতাজের দৈহিক সৌন্দর্য্য শাহজাহানকে বিমোহিত করে ফেলেছিল। তাই তিনি এ কিশোরীর সাথে বাগদান সম্পন্ন করেন, কিন্তু তাকে বিয়ে করে ঘরে তুলে নেননি। বরং মমতাজকে ঝুলিয়ে রেখে শাহজাহান আরেক নারীকে বিয়ে করেন।

বাগদানের ৫ বছর পর ১৬১২ সালে মমতাজকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে প্রাসাদে নিয়ে আসেন শাহজাহান। আবার ১৬১৭ সালে তিনি আরো এক নারীকে বিয়ে করেন মমতাজসহ দুই স্ত্রী ঘরে থাকা সত্ত্বেও। এদিকে বিয়ের ১৯ বছরের মধ্যে মমতাজ শাহজাহানের ১৪ সন্তানের মা হন।

১৪তম সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মমতাজ মারা যান, মাত্র ৩৮ বছর বয়সে। বলা যায়, শাহজাহান নিজে মমতাজের মৃত্যুকে ডেকে এনেছিলেন, বোধহীনের মতো এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গর্ভবতী মমতাজকে সঙ্গে নিয়ে তিনি যুদ্ধযাত্রা করেন।

দুর্গম রাস্তা দিয়ে হাতির পিঠে বসে দীর্ঘক্ষণ চলার দরুন সময়ের আগেই মমতাজের প্রসববেদনা শুরু হয়। দীর্ঘ ৩০ ঘন্টার সেই প্রসবব্যথা শেষে সন্তান জন্ম দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মমতাজ, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে।

তাজমহলের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৩২ সালে এবং পুরোপুরি শেষ হয় ১৬৫৩ সালে। এ সময়কালে ২০,০০০ শ্রমিক ও কারিগর তাজমহল নির্মাণে দাসদের মতো ব্যবহৃতহয়েছিল। কথিত আছে, তাজমহল নির্মাণ শেষে কারিগরদের হাতের আঙ্গুল কেটে দেয়া হয় যাতে তারা অন্য কোথাও আবার এ কাজ করতে না পারে, যদিও এ গল্পের সত্যতা প্রমাণিত নয়।

শাহজাহান তাজমহল নির্মাণে তখনকার সময়ের ৩২ মিলিয়ন রুপি খরচ করেছেন। তাত্ত্বিক হিসাব অনুযায়ী, এ পরিমান অর্থ বর্তমানের ৫২.৮ বিলিয়ন রুপি বা ৮২৭ মিলিয়ন ইউএস ডলারের সমান, অর্থাৎ ৬,৪৩৮ কোটি টাকার সমান। তবে এটা আসলে আরো বেশি হবে।

তাজমহল নির্মাণের ১১ বছর পর শায়েস্তা খাঁ সুবেদার হয়ে বাংলায় আসেন। শায়েস্তা খাঁর আমলে টাকায় কত মণ চাল পাওয়া যেতো? ৮ মণ। অর্থাৎ তখন ১ মণ চালের দাম ছিল সাড়ে ১২ পয়সা বা .১২৫ টাকা। আর বর্তমানে ১ মণ চালের সর্বনিম্ন মূল্য কত? সম্ভবত: ৯০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে হবে।

ধরে নিলাম, ৯০০ টাকা। এখন ৯০০ কে .১২৫ দিয়ে ভাগ করলে ভাগফল হবে, ৭,২০০। এর মানে তখনকার চেয়ে এখন দাম বেড়েছে ৭,২০০ গুন বেশি। তাহলে তাজমহলের জন্য ব্যয়কৃত অর্থের পরিমান বর্তমানে দাঁড়াবে ৩২ মিলিয়ন x ৭,২০০ রুপি বা ২৩,০৪০ কোটি রুপিতে যা ২৮,৩১৪ কোটি টাকার সমান।

এ পুরো টাকাটাই ছিল সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে আদায় করা খাজনা। শাহ্জাহান এ টাকাই ব্যয় করেছেন নিজের মৃত স্ত্রীর কবরের উপর স্মৃতিসৌধ নির্মাণের মতো ব্যক্তিগত অভিলাষ পূরণে। কোনো সত্যিকারের প্রেমিক মন কি কখনো এমন একটা জঘন্য অন্যায় করতে চাইবে?

অনুৎপাদনশীল খাতে এ বিশাল পরিমান অর্থ খরচ করা আর সেই অর্থ আদায় করতে গিয়ে জনগণের উপর চালানো অত্যাচারের কুফল হিসেবে তাজমহল নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলির খোলা চোখ তখন তাজমহলের সাদা মার্বেলগুলিকে দেখে নি।

মুঘল পরিবারের মেয়েদেরকে বিয়ে করতে দেয়া হতো না। সম্রাট শাহজাহান নিজের মেয়ে জাহানারার প্রেমকে জঘন্য উপায়ে কবর দিয়েছিলেন। জাহানারা যার প্রেমে পড়েছিলেন শাহজাহান তাকে একেবারেই পছন্দ করেন নি। কিন্তু বিদূষী জাহানারা প্রেমে অটল ছিলেন।

তাঁর প্রেমিক লুকিয়ে তাঁর সাথে দেখা করতে আসতো। শাহজাহান একদিন মেয়ের প্রেমিককে আটক করতে সক্ষম হন। তারপর মেয়ের চোখের সামনেই মেয়ের সেই প্রেমিককে তক্তা দিয়ে দেয়ালের সাথে আটকে পেরেক গেঁথে গেঁথে খুন করেন ‘প্রেমের’ তাজমহলের নির্মাতা শাহজাহান। যমুনার তীরে তখন তাজমহলের নির্মাণ কাজ চলছিল।

তাজমহল নির্মাণের ৫ বছরের মাথায় শাহজাহান তাঁর পুত্র আওরঙ্গজেবের কাছে সিংহাসন হারান। আওরঙ্গজেব শাহজাহানকে জোর করে বন্দি করে নিজেকে সম্রাট ঘোষনা করেন, একে একে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেন ক্ষমতার দাবিদার নিজের অন্য ভাইদের।

শাহজাহানকে তাঁর জীবনের শেষ ৮ বছর আগ্রার দুর্গে গৃহবন্দি হয়ে থেকেই কাটাতে হয়, নীরবে দেখে যেতে হয় ক্ষমতার দখল নিয়ে পুত্রদের কাড়াকাড়ি। নিজে কীভাবে নিজের ভাইদের খুন করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন সেটা নিশ্চয়ই তখন তাঁর মনে পড়ছিল। বন্দি অবস্থায়ই তিনি মারা যান।

বন্দি জীবনে কে ছিল শাহজাহানের সঙ্গী? সেই জাহানারা যার প্রেমিককে শাহজাহান নৃশংসভাবে খুন করেছিলেন। জাহানারা স্বেচ্ছায় পিতার সাথে বন্দি হয়ে দুঃসময়ে পিতাকে সঙ্গ দিয়ে গেছেন। তাহলে প্রেমিক হিসেবে কে মহান? শাহজাহানকে কি আদৌ প্রেমিক বলা যায়? মমতাজের প্রতি তাঁর যে অনুভূতি ছিল সেটাকে স্রেফ মোহ ছাড়া আর কিছু বলার উপায় নেই।

তাজমহলের অপূর্ব সৌন্দর্য্য ও কারুকার্যময়তায় অভিভূত হওয়া স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কিন্তু তাজমহল নির্মাণের সাথে জড়িয়ে থাকা নির্মমতার ইতিহাসকে ভুলে যাওয়া মোটেই স্বাভাবিক কাজ নয়।

আমাদের প্রাণ প্রিয় নবীজির সন্তানদের নামের তালিকা

আমাদের প্রাণ প্রিয় নবীজির সন্তানদের নামের তালিকা
আমাদের নবীজির চার কন্যা সন্তান এবং তিন ছেলে সন্তান ছিল।
নবীজির মৃত্যুর পূর্বেই তার তিন ছেলেই মৃত্যু বরণ করেন।
নিচে তাদের নামের তালিকা দেয়া হলো

তাঁর মেয়ে চারনের নাম :

1. যয়নব (রাঃ)

2. রোকাইয়া (রাঃ)

3. উম্মে কুলসুম ( রাঃ)

4. ফাতেমা ( রাঃ)

তাঁর ছেলে তিন জনের নাম :

1. কাসেম (রাঃ)

2. আব্দুল্লাহ (রাঃ)

3. ইব্রাহিম (রাঃ)

আপনি জানেন কি কাবা ঘরের ইতিহাস টি

মুসলমানদের কিবলা পবিত্র কাবাঘর সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। হজের মৌসুমে প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান কাবাঘর তাওয়াফ করতে মক্কায় গমন করেন।

পবিত্র কোরাআন ও হাদিসের ব্যখ্যায় পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে মক্কা নগরের অবস্থান হওয়ায় ‘বায়তুল্লাহ’ বা ‘কাবাঘর’ মক্কাতেই স্থাপন করা হয়। আল্লাহতায়ালার নির্দেশে ফেরেশতারা প্রথম দুনিয়ায় কাবাগৃহ নির্মাণ করে এখানে ইবাদত করেন। কাবাঘরটি আল্লাহর আরশে মুয়াল্লার ছায়াতলে সোজাসুজি সপ্তম আসমানে অবস্থিত মসজিদ বাইতুল মামুরের আকৃতি অনুসারে ভিত্তিস্থাপন করা হয়। আল্লাহতায়ালা কাবাগৃহকে মানবজাতির ইবাদতের কেন্দ্রস্থলরূপে নির্দিষ্ট করেন।

মুসলিম মানবজাতির ইবাদতের কেন্দ্রস্থল কাবা শরীফ পৃথিবীর ঠিক কেন্দ্রতেই অবস্থিত। কিন্তু বর্তমান সময়ে জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসারের ফলে অনেকেই এই বিষয়টিকে উড়িয়ে দিতে চান। কিভাবে কাবা শরীফ পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করছে ।

বেহেশত থেকে দুনিয়ায় পাঠানোর পর আদি মানব-মানবী হজরত আদম (আ.) ও হজরত হাওয়া (আ.) ইবাদতের জন্য একটি মসজিদ প্রার্থনা করেন। আল্লাহতায়ালা তাদের দোয়া কবুল করে কাবাগৃহকে ইবাদতের কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করে দেন। এরপর হজরত নূহ (আ.)-এর যুগের মহাপ্লাবনে কাবা শরিফ ধসে যায়। পরে আল্লাহর হুকুমে হজরত ইবরাহিম (আ.) তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে সঙ্গে নিয়ে কাবাগৃহের পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। আল্লাহতায়ালার নির্দেশে আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা শরিফের নির্মাণ হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনের অমর কীর্তি ও অন্যতম অবদান।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি পবিত্র কাবাঘর পুনঃনির্মাণের সৌভাগ্য অর্জন করলেও একমাত্র হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর নির্মাণের কথা আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে কারিমের অংশ বানিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য সংরক্ষিত করেছেন।

পবিত্র কোরআনে কারিমে ওই ঘটনাটি খুবই চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম ও ইসমাঈল কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। তারা দোয়া করেছিল, হে পরওয়ারদেগার! আমাদের এ আমলটুকু কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ। ওহে পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ করো এবং আমাদের বংশধর থেকে একটি অনুগত জাতি সৃষ্টি কর। আমাদের হজের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা করো। নিশ্চয়ই তুমি তওবা কবুলকারী, দয়ালু। হে আমাদের প্রভু! এ ঘরের পড়শিদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠাও, যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতগুলো পাঠ করবেন। তাদের কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ -সূরা বাকারা : ১২৭-১২৯
কাবাগৃহের নির্মাণ কোনো সাধারণ ঘটনা নয়।

পৃথিবীর ইতিহাসে এর চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিষয় আর কিছুই হতে পারে না। কাবা নির্মাণের সময় হজরত ইবরাহিম (আ.) যে দোয়া করেছিলেন সেগুলো যত্নের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। দুনিয়ার মানুষের স্বভাব হলো, সমাজে বা ধর্মীয় কাজে সামান্য অবদান রেখে মানুষের সামনে তা বারবার উল্লেখ করে এবং আত্মপ্রশংসায় ডুবে যায়। অথচ সরাসরি আল্লাহতায়ালার ঘর নির্মাণ করছেন, তবুও তার মনে এক বিন্দু অহঙ্কার নেই। ছিল বিনয়পূর্ণ মিনতি। বিনয়াবনত কণ্ঠে বারবার তিনি বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! মেহেরবানি করে আমাদের এ খেদমতটুকু কবুল করে নাও।’ দোয়ার দ্বিতীয় বাক্যে বলেছেন, ‘হে প্রভু! তুমি আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ করো।’

বস্তুত দোয়াতে মানব জাতির জন্য শিক্ষা রয়েছে, মসজিদ নির্মাণ তো একটি নিদর্শন। তা মূল লক্ষ্য নয়। মূল লক্ষ্য হচ্ছে, জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর সামনে নিজেকে সঁপে দেয়া। তার বিধি-নিষেধ বিনাবাক্যে মেনে নেয়া। এজন্য মসজিদ নির্মাণের সময় হজরত ইবরাহিম (আ.) জীবনের মূল লক্ষ্য সাধনের দোয়া করেছেন। সে অমূল্য দোয়া শুধু নিজের জন্যই নয় বরং অনাগত বংশধরের জন্যও করেছেন। অতঃপর এ ঘরের মর্যাদা রক্ষা ও তার জিয়ারতের রীতিনীতি বাতলে দেয়ার জন্য প্রার্থনা করেছেন।

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর প্রত্যেকটি দোয়া কবুল হয়েছে। ইতিহাসে আছে, তার বংশধরের মধ্যে সর্বদা একটি দল আল্লাহর আজ্ঞাবহ ছিল। এমনকি জাহেলিয়াতের আমলে আরবের সর্বত্র যখন মূর্তি-পূজার জয়জয়কার ছিল তখনও ইবরাহিমি বংশের কিছু লোক একত্ববাদ ও পরকালে বিশ্বাসী এবং আল্লাহতায়ালার আনুগত্যশীল ছিলেন।

হজরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক বায়তুল্লাহ নির্মিত হওয়ার পর থেকে সব যুগেই তার জিয়ারতও অব্যাহত ছিল। শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সে দোয়ারই ফসল, যা তিনি বায়তুল্লাহ নির্মাণকালে করেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আমার বাবা ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া এবং আমার ভাই ঈসা (আ.)-এর সুসংবাদ।’ -মুস্তাদরাকে হাকেম
ইসলামের ইতিহাসে ৬৩১ খ্রিস্টাব্দে নবম হিজরিতে হজের বিধান ফরজ হয়। পরের বছরে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.) হজ আদায় করেন। তিনি যেখানে, যে সময়ে, যে তারিখে, যে নিয়মে যেসব আহকাম-আরকান পালন করেন, প্রতিবছর ৮ থেকে ১৩ জিলহজ মক্কা মুকাররমা এবং এর আশপাশের এলাকাজুড়ে নির্দিষ্ট নিয়মে সেভাবেই পবিত্র হজ পালিত হয়ে আসছে।

আপনি জানেন কি টুথপেস্টের টিউবে রঙিন চিহ্ন কেন ব্যবহার করা হয়

দাঁত ঝকঝকে রাখতে টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করা মাস্ট। টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নানা রকমের টুথপেস্টের সঙ্গেই পরিচয় রয়েছে আমাদের। পছন্দমতন এক একজন এক একরকমের টুথপেস্টের ব্যবহার করেন। কিন্তু টুথপেস্ট ব্যবহার করলেও কখনও কি টুথপেস্ট টিউবের নিচের অংশে কিউব আকৃতির রঙিন চৌকো অংশটি খেয়াল করেছেন? এক একটি টুথপেস্টে এক এক রংয়ের থাকে এটি।

সবুজ, নীল, লাল, কালো রঙের এই ছোট্ট বাক্সটিকে নিয়ে হয়তো কোনও মাথাব্যাথা নেই কারোওরই। কিন্তু এগুলির পিছনেও রয়েছে একটি কারণ রয়েছে৷ রয়েছে আলাদা আলাদা অর্থ। রং ভেদে পেস্টগুলির আলাদা আলাদা মানে আছে।

সবুজ:যেসমস্ত পেস্ট তৈরিতে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হয়।

নীল:এই টুথপেস্ট তৈরি করতে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

লাল:এই টুথপেস্ট তৈরি করতে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ও কিছু রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়।

কালো:এই টুথপেস্ট তৈরি করতে শুধুমাত্র রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়।

আপনার টুথপেস্টের চৌকো বক্সটি কোন রংয়ের? মিলিয়ে নিন উপরের তথ্য দেখে৷ কোনও ক্ষতি করছেন না তো নিজের?