জেনে নিন, এই তিন যুবতীর রূপের রহস্য!

পৃথিবীর একমাত্র পরিবার যারা অবিশ্বাস্যভাবে নিজেদের তারুণ্য ধরে রেখেছেন। সবার থেকে এগিয়ে তো বটেই। ছবিটা দেখুন। খুব ভালো মতো দেখলেও মনে হবে, টিনএজ বয়সী বা টিনএজ পেরিয়েছে এমন তিন বোন বলেই মনে হবে। কিন্তু মোটেও না। বিশ্বাস হবে না আপনার।

এটাই সত্য যে, ছবির মাঝখানের নারী একজন মা এবং তার বয়স ৬৩ বছর। তার দুই পাশে দুই মেয়ে। ডানের জন লুরে সু, তার বয়স ৪১। আর বামের জন শ্যারন, বয়স ৩৬। বয়স বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু তারুণ্য ধরে রাখতে এদের চেয়ে এগিয়ে আছেন এমন কাউকে দেখেছেন কোন দিন? দেখা তো দূরের কথা, আপনি হয়তো ভাবতেও পারেন না।

একজন ফ্যাশন ব্লগার লুরে সু। যার বদৌলতে অনেকেই তাকে চেনেন। তার বয়স জানার পর অনেকেই ভিড়মি খেয়েছেন। কিন্তু তার মা এবং অন্য বোনও যে বিস্ময়ের আধার, তা আগে কেউ জানতেন না। শ্যারন ছাড়াও লুরের আরেক বোন আছেন। তার নাম ফেফায়। তার বয়স ৪০। তিনিও তারুণ্য ধরে রেখেছেন অবিশ্বাস্যভাবে।

তাইওয়ানের এই পরিবারের পেছনের গূঢ় রহস্যটা কী? দেশটির বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফ্রাইডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারা জানান, প্রচুর পানি আর সবজি খেতেন তারা। সেই সঙ্গে ত্বককে ময়েশ্চারাইজারপূর্ণ রাখতে হবে। আপনার ত্বকে যথেষ্ট পানি থাকলে তার বুড়িয়ে যাওয়া নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না।

ফেফায় তো প্রতিদিন সকালে বড় একটি গ্লাসে হালকা গরম পানি খেতেন। এ কাজ তিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে করছেন। তারা যাই করেন না কেন, তবুও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় সবার। বয়স এতটা সামলে রাখা সম্ভব?

ছেলেদের ব্রণ দূর করার তিন উপায়

ব্রণ কেবল নারী নয়, পুরুষদের ক্ষেত্রেও একটি প্রচলিত সমস্যা। তৈলাক্ত ত্বক, ত্বকের অযত্ন ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে ব্রণের সমস্যা হয়। ব্রণের সমস্যা বেশি হলে সমাধানের জন্য ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে। তবে এর আগে ব্রণ দূর করতে কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে দেখতে পারেন।

ব্রণ দূর করার কিছু উপায় জানিয়েছে জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।

বরফ:

বরফ দিয়ে ব্রণের চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। বরফের ঠান্ডাভাব ব্রণ কমাতে সাহায্য করবে।

প্রথমে ত্বককে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
একটি বরফের টুকরোকে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে কয়েক মিনিট ব্রণের ওপর রাখুন। বরফ সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না।
পাঁচ মিনিট বিরতি দিয়ে আবার ব্যবহার করুন।
ডিমের সাদা অংশ

ডিমের ভিটামিন, এমাইনো এসিড, প্রোটিন ব্রণের ওপর কাজ করে। তবে এ ক্ষেত্রে কেবল ডিমের সাদা অংশটুকু ব্যবহার করবেন।

.মুখ ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করুন।

.দুটি ডিমের সাদা অংশ বের করে নিন।

.নরম ব্রাশ বা হাত দিয়ে ব্রণের মধ্যে সাদা অংশ লাগান।

.পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করে আবার ডিমের সাদা অংশ দিন।

.কিছুক্ষণ রাখার পর মুখ ধুয়ে হালকা ধাঁচের কোনো ক্রিম ব্যবহার করুন।
পেঁপে

পেঁপে ব্রণ দূর করার উপাদান হিসেবে চমৎকার। এটি ত্বক থেকে বাড়তি তেল দূর করে এবং মুখের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে।

.পাঁচটি ছোট পেঁপের টুকরো ব্ল্যান্ড করুন।

.পেঁপের এই পেস্ট ব্রণের মধ্যে লাগান।

.৩০ মিনিট এভাবে রাখার পর ধুয়ে ফেলুন।

.ব্রণ না কমা পর্যন্ত প্রতিদিন এটি ব্যবহার করুন। সূত্র- এনটিভি অনলাইন

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাঁচা ডিমের কুসুম!

প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট ডায়েট চার্ট মেনে খাওয়া-দাওয়া করে থাকেন বেশিরভাগ মানুষ। তাঁদের রোজ ডায়েটের লম্বা লিস্টে একটি খাবার প্রায় প্রতিদিনই থাকে। তা হল কাঁচা ডিমের কুসুম। কারণ চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে ডিমের কুসুম নানাভাবে শরীরের উপকারে লাগে। পেশির গঠনকে মজবুত করার পাশাপাশি এনার্জির ঘাটতি দূর করতে এবং শরীরকে সার্বিকভাবে রোগ মুক্ত রাখতে ডিমের কুসুমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

সুস্থ এবং দীর্ঘ জীবন পেতে কাল সকাল থেকেই শুরু করে দিন কাঁচা ডিমের কুসুম খাওয়া। কাঁচা ডিমের কুসুম থেকে সাধারণত যে যে উপকারগুলি পাওয়া যায়, সেগুলি হল…

১। অ্যালার্জির প্রকোপ কমায়ঃ ডিম খেলেই যাদের অ্যালার্জি হয়, তারা এবার থেকে কাঁচা ডিম খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন ডিমের পুষ্টিও পাবেন, আবার কোনও শারীরিক সমস্যাও হবে না। কাঁচা ডিমের কুসুমে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা নানাবিধ অ্যালার্জির প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২। ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি দূর করেঃ একটা কাঁচা ডিমের কুসুমে প্রায় ০.২ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি১২ থাকে। এই ভিটামনিটি শরীরে জমে থাকা চর্বি ঝড়িয়ে ফেলার পাশাপাশি নার্ভ সেলের কর্মক্ষমতা বাড়াতে কাজে আসে। কাঁচা ডিমের কুসুমে ফলেট নামে একটি উপাদানও থাকে। এটি অ্যানিমিয়া রোগের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করা।

৩। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চাহিদা মেটায়ঃ দুটো কাঁচা ডিমের কুসুম খেলে শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কোনও ঘাটতিই থাকে না। অ্যামাইনো অ্যাসিড, ট্রাইপোফেন এবং টাইরোসিনের মতো উপাদানের ঘাটতিও দূর করে। ফলে একাধিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবানা হ্রাস পায়। কারণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হল এমন একটি উপাদান যা একাই শরীরেরে নানাবিধ ক্ষয়কে রোধ করে দেয়।

৪। কোলেস্টেরলের যোগান বাড়ায়ঃ শরীরকে সচল রাখতে ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়াটা একান্ত প্রয়োজন। প্রতিদিন ডিমের কুসুম খেলেই ধীরে ধীরে শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করবে। তখনই বুঝবেন উপকারি কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে আপনার শরীরে।

৫। বায়োটিনের ঘাটতি দূর করেঃ শরীরে ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লোকজের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে বায়োটিন। তাই তো এই উপাদানটির ঘাটতিতে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়। দেহে যাতে কোনও সময় বায়োটিনের অভাব দেখা না দেয়, সে কারণে প্রতিদিন কাঁচা অথবা সেদ্ধ করে কুসুম খেতেই হবে

স্বাস্থ্যজ্জল চুলের রহস্য লুকিয়ে আমলকীতে!

চুলের যত্নে আমলকীর ব্যবহার সেই প্রাচীন কাল থেকেই হয়ে আসছে। আমলকীর মধ্যে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর উপাদান চুলের যত্নে এক যুগান্তকারী প্রাকৃতিক উপহার। প্রোটিন, মিনারেলস, কার্বহাইড্রেটস এবং ফাইবারে সমৃদ্ধ এই ফলটি নিয়মিত ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বক এবং চুলের বিভিন্ন সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

১। চুল বৃদ্ধি করেঃ
লম্বা কালো চুল কার না পছন্দ। বহু মহিলা চুলের যত্নে আমলকী ব্যবহার করে থাকেন। আমলকী জল চুলকে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়, চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে চুলের আগা ফেটে যাওয়া থেকেও চুলকে রক্ষা করে। তাই চুলের যে কোনও সমস্যা দূর করতে আমলকী জল প্রতি সপ্তাহে ব্যবহার করা উচিত।

২। চুল ঘন এবং মজবুত করেঃ
চুল অতিরিক্ত পাতলা হয়ে যাওয়া মহিলাদের একটি অন্যতম সমস্যা। কারণ, চুল যত পাতলা হয়, ততই প্রাণহীন হয়ে পড়ে এবং আগা ফেটে যায়। সেক্ষেত্রে আমলকী জলের নিয়মিত ব্যবহার এবং এর মধ্যে উপস্থিত পুষ্টিকর উপাদান চুল ঝরে যাওয়া বন্ধ করে এবং চুল ঘন করতে সাহায্য করে।

৩। স্কাল্পের চুলকানি দূর করেঃ
আমলকী জল চুল এবং মাথার ত্বকের যত্নে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের চুল বেশ কিছু সমস্যা যেমন, খুশকি, চুলকানি দ্বারা আক্রান্ত হয়। এর ফলে, চুলের গোড়া সহ চুলের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এইসব সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে হলে আমলকী জল এক দারুণ ওষুধ।

৪। চুল পাকা রোধ করেঃ
শরীরে ভিটামিন সি এর অভাবে চুল পড়া বেড়ে যায় এবং চুল ভেঙ্গে পড়ে। আমলকীতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। তাই নিয়মিত আমলকী খাওয়ার মাধ্যমে চুলের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব। আমলকীতে থাকা প্রচুর পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট অকালে চুল পাকা রোধ করে।

কফি যখন ত্বকের বন্ধু!

অনেকে চায়ের তুলনায় কফিকে বেশি পছন্দ করে। কফি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অধিক উপকারী। এটি ঘুমের পরিমাণ শিথিল করে। শরীরের বিভিন্ন রোগ দমনের পেছনেও কফি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তবে ত্বকের যত্নেও এর তুলনা নেই। কীভাবে ত্বকের যত্নে কফি ব্যবহার করা যায়, আজ আমরা জানব।

কফি ফেসিয়াল স্ক্রাব: ত্বক সজীব রাখতে কফি দিয়ে তৈরি স্ক্রাব বেশ কাজে দেয়। এক্ষেত্রে ৩ টেবিল-চামচ কফির গুঁড়ার সঙ্গে ১ টেবিল-চামচ বাদামি চিনি এবং ১ টেবিল-চামচ তেল (নারিকেল, অলিভ বা কাঠবাদাম তেল হতে পারে) একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর মিশ্রণটি পরিষ্কার ত্বকে লাগিয়ে মাসাজ করতে হবে। সবশেষে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললেই ত্বক দেখাবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।

কফি মাস্ক: ত্বক টানটান করতে ২ টেবিল-চামচ কফির গুঁড়া, ২ টেবিল চামচ কোকো পাউডার, ৩ টেবিল-চামচ টক দই এবং ১ টেবিল-চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর মিশ্রণটি পুরো ত্বকে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে: চোখের ফোলা ভাব ও কালো দাগ দূর করতে কফি কার্যকরী একটি উপাদান, যা চোখের চার পাশের কালো দাগ সারিয়ে তুলতে রূপচর্চায় ব্যবহৃত হতে পারে।

কফির গুঁড়া পানি দিয়ে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে, এটি চোখের নিচে ও চোখের পাতায় লাগিয়ে রাখুন। এতে আপনার চোখের নিচের রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে, চোখে আরাম ও স্বস্তি আসবে, চোখের উজ্জ্বলতা বাড়বে, চোখের চার পাশের অতিরিক্ত পানি শোষণ করে চোখের ফোলা ভাব সারাতে সাহায্য করবে।-সূত্রঃ টাইম্‌স অফ ইন্ডিয়া।

১৫ মিনিটেই ত্বক ফর্সা করার উপায়!

ত্বক ফর্সা করতে চায় না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বিরল। তবে সঠিক তথ্যের অভাবে সেই কাজ আর হয়ে উঠে না। অনেকে ত্বক ফর্সা করার জন্য বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করেও কোন সুফল পায় না। এতে করে আরও ত্বকের ক্ষতি হয়। তাই ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে ত্বক পরিষ্কার করা যায়, তা নিয়ে আমাদের এই আলোচনা।

প্রথমে কাঁচা দুধ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে নিন। এক্ষেত্রে তুলা ভিজিয়ে মুছে নিতে পারেন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ত্বক ধয়ে ফেলুন। এবার একটি পাত্রে আলুর রসের সাথে ২ টেবিল চামচ চিনি মিশিয়ে নিন। এবার এক চামচ অলিভ বা জলপাইয়ের তেল মিশিয়ে নিন। এরপর কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এবার ভাল করে মিশ্রণটি মিশিয়ে নিন।

এবার এই মিশ্রণ দিয়ে সারা মুখে ভাল করে ঘষে স্ক্রাব করে নিন। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। যে কোন ফেসিয়াল করার পর অবশ্যই মুখে স্টিম করবেন। এতে মুখের লোমকূপ পরিষ্কার হয়ে যায়। আর ত্বকের জন্য ক্ষতিকর সব পদার্থ বের হয়ে যায়।

সবশেষে ফেসপ্যাক লাগাতে হবে। ফেসপ্যাক তৈরি করার জন্য একটি পাত্রে এক চামচ আলুর রস নিয়ে নিন। এক চামচ লেবুর রসের সাথে আধা চামচ মধু মিশিয়ে মিশ্রণটি ভালভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর তুলা দিয়ে ভাল করে মুখে এটি লাগিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট রাখার পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

মেহেদির রং গাঢ় করার কৌশল

ঈদের আনন্দের একটি বড় অংশ জুড়েই থাকে মেহেদি। গাছ থেকে মেহেদি পাতা ছিঁড়ে সেগুলো পাটায় পিষে নেওয়া থেকে শুরু করে রাত জেগে হাতে মেহেদি লাগানো, সবকিছুতে থাকে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। পাশাপাশি তরুণীদের মাঝে চলে কার মেহেদির রং কত বেশি গাঢ় তা নিয়ে প্রতিযোগীতা। বলাই বাহুল্য, এসব ঈদেরই অংশ।

তবে এখন আর মেহদি পাতা পাটায় পিষে বেটে নেওয়া খুব একটা দেখা যায় না। বাজারে কিনতে পাওয়া যায় নানা ব্র্যান্ডের মেহেদি টিউব। সেই সাথে পরিবর্তন এসেছে মেহেদি লাগানোর ধরণেও। তবে সব কিছুর পরও প্রশ্ন একটাই, মেহেদির রং গাঢ় করবো কিভাবে? আর এই সমস্যার কিছু সহজ সমাধান আছে। আসুন জেনে নেই, মেহেদির রং গাঢ় করার কিছু সহজ কৌশল।

১। অনেক্ষন হাতে মেহেদি রাখুন
মেহেদি লাগানোর পর এটি হাতে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা রাখুন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি এটি ১২ ঘন্টা রাখতে পারেন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে মেহেদি ধোবেন না। হাত দিয়ে ঘষে মেহেদি তুলে ফেলুন। কয়েক ঘন্টা পর দেখবেন মেহেদি অনেক লাল হয়ে গেছে।

২। মেহেদি পেঁচিয়ে রাখুন
অনেকে মনে করেন মেহেদি মাখানো হাত কিছু দিয়ে পেঁচিয়ে রাখলে তার রং গাঢ় হবে। তবে এতে আপনার মেহেদির ডিজাইন নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি যদি সাবধানতা অবলম্বন করেন তবে এই কাজটি করতে পারেন।

৩। লেবু চিনির মিশ্রণ
কিছু পরিমাণ চিনি পানিতে দিয়ে জ্বাল দিন। এটি ঠাণ্ডা হলে এতে কয়েক ফোটা লেবুর রস দিয়ে দিন। একটি তুলোর বলে এই মিশ্রণটি লাগিয়ে মেহেদি উপর লাগান। এটি বার বার করুন। চিনি ত্বকের সাথে মেহেদি ভালোভাবে লাগাতে সাহায্য করবে আর লেবুর রস মেহেদির রঙ গাঢ় করবে।

৪। লবঙ্গের ভাপ
প্রথমে চিনি লেবুর পানি মেহেদির উপর ব্যবহার করুন। একটি তাওয়াতে কিছু পরিমাণ লবঙ্গ নিয়ে অল্প আঁচে জ্বাল দিন। এবার হাতটি সাবধানে তাওয়ার উপর রাখুন, যেনো লবঙ্গের ভাপ আপনার মেহেদি লাগে। তবে সাবধান থাকবেন হাত যেনো পুড়ে না যায়। এই ভাপ লেবু চিনির মিশ্রণ শুকিয়ে ফেলবে। এই কাজটি মেহেদি তুলে ফেলার পরও করতে পারেন।

৫। বাম বা অলিভ অয়েল ব্যবহার
মেহেদি তুলে ফেলার পর যেকোনো বাম যেমন ভিক্স অথবা টাইগার বাম ব্যবহার করুন। বলা হয়, এই বাম মেহেদির রং ভিতর থেকে উন্নত করে। এক্ষেত্রে অলিভ অয়েলও মাখতে পারেন।

সূত্র: স্টাইল ক্রেইজ

ঈদে মেহেদীর নজর কাড়া ডিজাইন (ভিডিও)

ঈদে বাংলার নারীর সৌন্দর্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আছে মেহেদি। ঈদে আনন্দ শুরু হয় যেন হাতে মেহেদী লাগানোর পর। চাঁদ উঠার সাথে সাথে মেহেদী পড়ানোর যে আমেজের সৃষ্টি হয়, তা শুধু আমাদের দেশের জন্যই যেন প্রযোজ্য। তাই আজ আপনাদের জন্য উপস্থাপন করা হল অনিন্দ্য সুন্দর কিছু মেহেদি ডিজাইন।

জেনে নিন মেহেদি লাগানোর খুঁটিনাটি বিষয়-

আগে অবশ্য মেহেদি পাতা সংগ্রহ করে বেটে তবেই রাঙাতে হতো হাতের তালু। এখন মেহেদি লাগানো অনেকটাই ঝামেলাহীন। মেহেদির টিউব দিয়ে অনায়াসে করে নিতে পারেন মনের মতো নকশা। হাতের পাশাপাশি পা কিংবা বাজুও রাঙ্গিয়ে নিতে পারেন মেহেদির ছোঁয়ায়।

হাতের মাঝখানে আঁকা বৃত্ত আর চারিদিকে গোল করে ফোটা- এই ছিলো এক সময়ের প্রচলিত নকশা। টিউব মেহেদির কল্যানে এখন সূক্ষ্ম কারুকাজ করা নকশাই সবার পছন্দের। তবে কার হাতে কেমন নকশা মানায় সেটা জানা থাকা জরুরী। যাদের হাতের পাতা বড় তারা হাতে ভরাট নকশা করলে দেখতে ভালো দেখাবে। ছোট হাতের একপাশে লম্বালম্বি ডিজাইন মানানসই।

হাতের আঙুল যদি ছোট হয় তবে অনামিকা বা মাঝের আঙুলে লম্বা করে নকশা আঁকুন। যাদের হাত লম্বা তারা কিছুটা অংশ ফাঁকা রেখে ভরাট ডিজাইন করতে পারেন। তবে যেহেতু উৎসবের উপলক্ষ্য সেহেতু দু হাত ভরেও করতে পারেন মেহেদির নকশা। কনুই পর্যন্ত নামিয়ে নিতে পারেন নকশাকে। আবার কব্জি থেকে নামিয়ে লাগাম টেনে ধরতে পারেন নকশার।

ত্বকের সৌন্দর্যে নিমপাতার ফেসপ্যাক

ঔষধি গাছ হিসেবে বেশ পরিচিত নিম। ঔষধি গুণাবলি ছাড়াও এটি অনেক ধরনের রূপ চর্চার কাজেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অনেক প্রসাধনীতে নিম পাতার রস ব্যবহার করা হয়। ব্রণ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে নিম এবং নিমের নির্যাস বেশ উপকারি। নিমের এমন কিছু ফেসপ্যাক নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা।

১। নিম এবং হলুদের ফেসপ্যাক
কয়েকটি নিমের পাতা, অল্প হলুদের গুঁড়ো এবং ঠান্ডা দুধ দিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ম্যাসাজ করে লাগান। তারপর ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিম এবং হলুদ ত্বকের ইনফেকশন এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করে দেয়। এটি তৈলাক্ত এবং ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য বেশ কার্যকর।

২। নিম, লেবু, এবং গোলাপ জলের ফেইস প্যাক
একটি পাত্রে নিম পাতার পাউডার নিন। এতে গোলাপ জল এবং লেবুর রস মেশান। এই প্যাকটি মুখে ভাল করে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর প্যাক শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক মাত্র ২ দিনে আপনার মুখের ব্রণ দূর করে ফেলবে।

৩। নিমের পানি
নিমপাতা সিদ্ধ করে নিন। এবার এই পাতার পেষ্ট করে নিন। এই পেষ্ট আপনার মুখে লাগিয়ে নিন। ৫ থেকে ১০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এবং দেখুন ম্যাজিক। নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বক দাগহীন উজ্জ্বল হয়ে যাবে। এটি যেকোন প্রকার অ্যালার্জি বা চুলকানি দূর করে থাকে।

৪। নিম এবং দুধের প্যাক
একটি পাত্রে নিম পাউডার নিন এবং তার সাথে কিছু দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ফেলুন। এবার তাতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে দিন। মুখ ও ঘাড়ে লাগান। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

৫। নিম বেসন এবং টকদই এর প্যাক
শুষ্ক ত্বকের জন্য এই প্যাকটি অনেক বেশি কার্যকরী। ১ চা চামচ বেসন, ১ চামচ টকদই-এর সাথে নিম পাউডার দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। এই প্যাক মুখে ও ঘাড়ে ভাল করে লাগান। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে নরম কোমল করার সাথে সাথে ব্রণের দাগ দূর করে দেবে।