৩৫ বছর নিষেধাজ্ঞার পর সৌদি আরবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শুরু

৩৫ বছর নিষেধাজ্ঞার পর সৌদি আরবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শুরু
দেখুন ইসলাম কে ধ্বংস করার জন্য ইহুদি খ্রিস্টান রা কেমন চাল চাললো

দীর্ঘ ৩৫ বছর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর রক্ষণশীল মুসলিম রাষ্ট্র সৌদি আরবে শুরু হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদশর্নী। রবিবার একটি অস্থায়ী প্রেক্ষাগৃহে শিশুদের অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। সোমবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।


খবরে বলা হয়েছে, আগামী মার্চ মাসে প্রথম স্থায়ী প্রেক্ষাগৃহ উদ্বোধন করা হবে। চলচ্চিত্র প্রদর্শন ছাড়াও বেশ কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ঘরোয়া কনসার্ট, কৌতুক অনুষ্ঠান ও নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী স্থাপনায় চলচ্চিত্র প্রদর্শন করছে। রবিবার দেশটির জেদ্দা শহরে একটি সাংস্কৃতিক হলে প্রজেক্টর ও লাল গালিচা বসিয়ে প্রেক্ষাগৃহ তৈরি করা হয়েছে।

সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে সিনেমা ৭০ নামের প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান মামদৌহ সেলিম বলেন, এখন পর্যন্ত চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহের কোনও অবকাঠামো নেই। ফলে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য আমরা বিকল্প ব্যবস্থা কাজে লাগাচ্ছি।

সেলিম আরও বলেন, ১১ ডিসেম্বর চলচ্চিত্র প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর এই প্রদর্শনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

১৯৮০-র দশকে সৌদি আরবের ইসলামবিদদের চাপের মুখে দেশটিতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তবে ৩২ বছরের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটি রক্ষণশীলতায় অনেক সংস্কার আনছে।

আজ যাত্রা শুরু করলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ “হারমনি অব দ্য সিস”

বলা যায়, ভাসমান মহানগরী হারমনি অব দ্য সিস। বিশ্বে এ পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে বড় ও ভারী জাহাজ এটি। ইংল্যান্ডের সাউথহ্যাম্পটন বন্দর থেকে চোখ ধাঁধানো হারমনি অব দ্য সিস-এর উদ্বোধন করা হয়।

বলা যায়, ভাসমান মহানগরী হারমনি অব দ্য সিস। বিশ্বে এ পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে বড় ও ভারী জাহাজ এটি। ১৭ মে (মঙ্গলবার) ইংল্যান্ডের সাউথহ্যাম্পটন বন্দর থেকে চোখ ধাঁধানো হারমনি অব দ্য সিস-এর উদ্বোধন করা হয়।

হারমনি অব দ্য সিস যেনো সমুদ্রের মধ্যে আরেক পৃথিবী। ভূমধ্যসাগর বা ক্যারিবিয়ানে ছুটিছ‍াটায় সর্বোচ্চ বিনোদন দিতে জাহাজটি অ‍ায়োজনের কোনো কমতি রাখেনি। এক হাজার একশো ৮৭ ফুট লম্বা ও দুইশো ৩০ ফুট উচ্চতার জাহাজটি ছয় হাজার সাতশো ৮০ জন যাত্রী বহন করতে পারবে।জাহাজটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এখন থেকে ৩২ মাস আগে ২০১৩ সালে। নির্মাণে কাজ করেছেন মোট দুই হাজার পাঁচশো শ্রমিক। রয়েল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল নৌবহরের ২৫তম জাহাজ হারমনি অব দ্য সিস নির্মাণখাতে ব্যয় হয়েছে সাতশো মিলিয়ন পাউন্ড।

এর বিশেষত্বের দিক থেকে প্রথমে বলতে হবে যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পর্কে। বিশ্বের সর্বাধিক যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ভ্রমণ জাহাজ এটি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী জেট এয়ারবাস A380 -তে সিটের সংখ্যা পাঁচশো ২৫টি। তুলনা দিতে গেলে বলা যায়, হারমনি অব দ্য সিস তার চেয়েও দশগুণ বেশি যাত্রী বহন করতে পারবে। দ্রুততার দিক থেকে জাহাজটি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার বেগে ছোটে।
এতে রয়েছে মোট ১৮টি ডেক। এর মধ্যে ১৬টি ডেকে রয়েছে দুই হাজার সাতশো ৪৭টি কেবিন। যা কিনা বর্তমানে যেকোনো জাহাজের চেয়ে অনেক বেশি। এটি এত বড় যে যাত্রীরা যাতে হারিয়ে না যান সেজন্য তাদের জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ব্যবহার করতে হবে।

দু’টি তলা নিয়ে বিস্তৃত জাহাজের সিগনেচার রুমটি রয়েল লফট স্যুট বলে পরিচিত। রয়েল লফট

৫ম শ্রেণির তিন ছাত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ

স্কুল ছুটির পর প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে যায় পঞ্চম শ্রেণির তিন ছাত্র। এরপর সেই ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে সেই তিন ছাত্র। স্কুল চত্বরের মধ্যেই ধর্ষণ করা হয় তাকে। সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে।

ছাত্রীর পরিবারের দাবি, মেয়ের চিৎকার শুনে পথচারীরা ছুটে আসেন। সে সময়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। নিগৃহীতা ছাত্রীর বাবার দাবি, এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে প্রথমে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তা নিতেই চাননি।

গাফিলতি এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্কুলের দুই সাময়িক সময়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধেও। বিষয়টি স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে শিক্ষা অধিদফতর। গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয় দুই সাময়িক সময়ের শিক্ষককে।

উত্তর প্রদেশ রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা অধিকারী অজিত কুমার বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুই সাময়িক সময়ের শিক্ষক-সহ সাত জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।” তবে এখনও অভিযুক্ত ছাত্রদের নাগাল পায়নি পুলিশ।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, নিহত ১০

ক্যালিফোর্নিয়ার সানোমা এলাকায় বনে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে। ৯ অক্টোবর, সানোমা, ক্যালিফোর্নিয়া। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ১০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। প্রায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। উদ্ধারকাজ চলছে। আজ মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় গত রোববার রাতের এই দাবানলের ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার সানোমা কাউন্টিতেই সাতজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে নাপা, সানোমা ও ইয়ুবা কাউন্টি থেকে ২০ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘর ছেড়েছে। এসব অঞ্চলে ওয়াইন তৈরি হওয়ার কারণে দাবানল দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

এ ঘটনায় ক্যালিয়োর্নিয়ার গভর্নর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ঘোষণায় গভর্নর বলেছেন, দাবানলের কারণে ঘরবাড়ি পুড়ে যাচ্ছে। আরও অসংখ্য ঘরবাড়ি হুমকির মুখে। এই মুহূর্তে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যেতে হবে। ওইসব অঞ্চলের হাজারো মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত সানোমা কাউন্টিতে সাতজন, নাপায় দুজন ও মেনডোসিনোতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব এলাকায় হাজারো একর ভূমিতে আগুন জ্বলছে। আহতসহ অনেকের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নিপ্রতিরোধ বিভাগের প্রধান কিম পিমলট বলেন, প্রায় ১ হাজার ৫০০ ঘরবাড়ি ইতিমধ্যে আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তীব্র বাতাস, কম আর্দ্রতা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আবহাওয়া দপ্তর এ কারণে সানফ্রান্সিসকোতে সতর্কতা জারি করে বলেছে, এই অঞ্চলে আগুন লাগলে তা এভাবে দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট বলছে, ১০ হাজারেরও বেশি একর এলাকা ইতিমধ্যে পুড়ে গেছে।

গত সেপ্টেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে ইতিহাসের ভয়াবহ দাবানল লেগেছিল।

ট্রাম্পের ভাষণ ‘ঘেউ-ঘেউ করা কুকুরের চিৎকার’: উত্তর কোরিয়া

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্তর কোরিয়াকে হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ভাষণ দিয়েছেন, সেটাকে ‘ঘেউ-ঘেউ করা কুকুরের চিৎকার’ বলে অভিহিত করেছেন উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিক রি ইয়ং হো।

সাধারণ অধিবেশনে ট্রাম্পের ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে এটাই উত্তর কোরিয়ার প্রথম জবাব বলে বৃহস্পতিবার বিবিসির খবরে বলা হয়। পাশাপাশি ‘বাধ্য করা হলে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে’ ট্রাম্পের এমন সতর্কবার্তাকে তিনি অগ্রাহ্য করেছেন বলে খবরে বলা হয়।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরের কাছে একটি হোটেলের সামনে ট্রাম্পের ভাষণের প্রতিক্রিয়া জানতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রি বলেন, “কথায় আছে না, ‘কুকুর ঘেউ ঘেউ করলেও কুচকাওয়াজ বন্ধ থাকে না’।”

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত মন্তব্যে রি আরো বলেন, “যদি ঘেউ ঘেউ করে আমাদের বিস্মিত করে দেওয়ার চিন্তা করে তাহলে সে স্বপ্ন দেখছে।”

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানার বিষয়ে গত বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যদি এটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হুমকি সৃষ্টি করে, তবে তিনি উত্তর কোরিয়াকে ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করে দেবেন।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উ. কোরিয়া পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো অব্যাহত রেখেছে। যা কিনা যুক্তরােষ্ট্রর মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউইয়র্কের জাতিসংঘের সদর দফতরের পাশে রি ইয়ং হো সাংবাদিকদের বলেন, জাতিসংঘে বক্তৃতায় উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনকে ‘রকেট ম্যান’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন ‘রকেট ম্যান’ নিজের এবং তার শসনের আত্মঘাতী মিশনের পথে।

এ প্রসঙ্গে রি ইয়ং বলেন, যখন মি. ট্রাম্প মি. কিমকে ‘রকেট ম্যান’ বলেন, তখন আমি তার সহযোগীদের জন্য দুঃখ অনুভব করি।

মি: ট্রাম্প হচ্ছেন ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নবাগত দুষ্টু ব্যক্তি’-হাসান রুহানি

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ভাষণে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৫ সালে ইরানের সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে পরমাণু চুক্তির সমালোচনা করেছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, যে কয়েকটি দেশের শাসকগোষ্ঠী দুষ্টচক্রের মতো ইরান তাদের মধ্যে অন্যতম। মি: ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সাথে সে চুক্তিটি ছিল আমেরিকার জন্য বিব্রতকর।

ইরানের প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাষণে আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে পাল্টা আঘাত করে বলেন, মি: ট্রাম্প হচ্ছেন ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নবাগত দুষ্টু ব্যক্তি’

মি: রুহানি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পরমাণু চুক্তি ভেঙ্গে দেন তাহলে সেটি বড় হতাশার বিষয় হবে।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় সম্পাদিত এ চুক্তি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময় সমালোচনা করে আসছেন।

২০১৫ সালে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া এবং জার্মানির সাথে পরমাণু অস্ত্র নিরোধ চুক্তি করে ইরান।

হঠাৎ করে কোরিয়ার আকাশ তোলপাড় করল মার্কিন যুদ্ধ বিমান

উত্তর কোরিয়ার ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পিয়ংইয়ংয়ের একের পর এক পরমাণু বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পাল্টা জবাব হিসেবে কোরীয় উপদ্বীপে আকাশ তোলপাড় করল মার্কিন স্টিলথ ফাইটার জেট ও বোমারু বিমান।

সোমবার হঠাৎ করে কোরীয় উপসাগরের আকাশে দেখা গেল ৪টি মার্কিন স্টিলথ ফাইটার জেট ও ২টি বি-১বি বোমারু বিমান।

উত্তর কোরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমার ক্ষমতা পরখ করার জন্যই ওই মহড়া বলে মনে করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়া এরই মধ্যে কয়েকটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। ওই ক্ষেপণাস্ত্র ‌যে মার্কিন ‌যুক্তরাষ্ট্রেও আঘাত হানতে সক্ষম তা প্রকাশ্যে বলেছে কিমের দেশ।

সম্প্রতি হাইড্রোজেন বোমাও পরীক্ষা করেছে উত্তর কোরিয়া। এমনকি জাপানকে ডুবিয়ে দেয়ার ক্ষমতাও তারা রাখে বলেও জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।

রাষ্ট্রপুঞ্জের নির্দেশ তোয়াক্কা না করেই গত ৩ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়া তাদের ষষ্ঠ পরমাণু বোমা পরীক্ষা করে। পাশাপাশি গত শুক্রবার জাপান সাগরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে কিমের কোরিয়া।

বার বার কিমের গর্জনের পাল্টা হুশিয়ারি দিতেই সোমবার ক্ষমতা প্রদর্শন করল মার্কিন ‌যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানের সঙ্গে ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ৪টি এফ-১৫কে ‌যুদ্ধবিমানও।

মার্কিন ‌যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে হুমকি দিয়েছে, পিয়ংইয়ং ‌যদি তার অস্ত্র পরীক্ষা না থামায় তাহলে তাকে ধ্বংস করে দেয়া হবে। সোমবারের বিমান মহড়ার পর দু’দেশের সংঘাত অনেকটাই বেড়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।

কে এই এমিনে এরদোগান? চমকে উঠবেন জানার পরে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সহধর্মিণী এমিনে এরদোগান শুধু দেশের ফার্স্ট লেডি হিসেবেই পরিচিত নন। নিজ দেশে রাজনীতি ও অন্যান্য সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার পাশাপাশি দেশের বাইরেও বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এখনো রয়েছেন তিনি।
ফার্স্ট লেডি হিসেবে খুব বেশি পর্দার সামনে না এলেও বাল্যবিবাহ রোধ, নারী শিক্ষা ও নারী অধিকার নিশ্চিতকরণ নিয়ে দেশ-বিদেশে কাজ করা এবং ত্রাণ ও মানবিক সহায়তায় ভূমিকা রেখে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন এমিনে। এর জন্য আন্তর্জাতিক কিছু সম্মাননাও পেয়েছেন।
২০১০ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানে হওয়া বন্যায় আক্রান্ত মানুষদের দেখতে এমিনে নিজেই পাকিস্তানে যান এবং বন্যাপীড়িতদের সহায়তায় বড় একটি তহবিল জোগাড়ে সাহায্য করেন। এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ ইউসুফ রাজা গিলানি এমিনেকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ সম্মাননায় ভূষিত করেন।

এছাড়াও ২০১১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ক্রানস মনটানা ফোরাম এমিনের সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে ‘প্রিক্স দে লা ফনডেশন’ প্রদান করে।

রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে আহ্বান জানানোর পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত ক্যাভুফোগলুকে সঙ্গে নিয়ে এমিনে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছেন। এই দু’জন কক্সবাজার ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন। উখিয়ায় ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোগান রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দেন। রোহিঙ্গাদের স্থান দেয়ায় বাংলাদেশকেও ধন্যবাদ জানান তারা।

গুলবারান থেকে এরদোগান
এমিনের জন্ম ইস্তাম্বুলের উস্কুদারে ১৯৫৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এমিনে গুলবারান হিসেবে। তিনি তুরস্কের আদি আরব বংশোদ্ভূতদের একজন।

এমিনের পরিবার তুরস্কের সিরতে প্রদেশের স্থানীয় অধিবাসী। সিমাল এবং হাইরিয়ে গুলবারানের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি সবচেয়ে ছোট এবং একমাত্র কন্যা সন্তান।

এমিনে ইস্তাম্বুল মিথাত পাশা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট ফর গার্লস থেকে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন। বেশ কমবয়স থেকেই সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং পরে নারী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন তিনি। আইডিয়ালিস্ট উইমেন’স এসোসিয়েশন নামের নারী অধিকার ও নারী রাজনীতি বিষয়ক দলটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন হলেন এমিনে গুলবারান। দলটির নামকরণও তিনিই করেছিলেন।এমিনে এরদোগান-রোহিঙ্গা দলটির সঙ্গে কাজ করা অবস্থায় এমিনে নিয়মিত ন্যাশনাল টার্কিশ স্টুডেন্ট ইউনিয়ন এবং লেডিস ফাউন্ডেশন ফর সায়েন্স অ্যান্ড কালচার – এ সংগঠন দু’টোর বিভিন্ন আয়োজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতেন। একটা পর্যায়ে লেখক সুলে ইউকসেলের কাছে একটি সাক্ষাৎকার দেয়ার পর তারই প্রেরণায় পুরোদমে সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এই সময়টাতেই রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে পরিচয় হয় এমিনের। পরিচয় থেকে ভালোলাগা এবং অতঃপর ১৯৭৮ সালের ৪ জুলাই দু’জনের বিয়ে।

বিয়ের পর এরদোগান ইস্তাম্বুলের প্রাদেশিক প্রধান নির্বাচিত হলে এমিনে এরদোগান তুরস্কের ওয়েলফেয়ার পার্টি বা রেফাহ পার্টির প্রোভিন্সিয়াল উইমেন’স ব্রাঞ্চ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বোর্ড-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। রেফাহ পার্টি পরে আদালতের নির্দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত হলেও বলা হয়, এর মধ্য দিয়ে এমিনে তুরস্কে নারীদের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের পথ সুগম করে দিয়েছিলেন। রেফাহ পার্টির সদস্য থাকাকালে তিনি একটি নারী আন্দোলনেরও ডাক দেন, যা ওই সময় দলটির নির্বাচনে সাফল্য অর্জনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটান মিউনিসিপ্যালিটির মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এমিনে পুরোদমে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে শুরু করেন। তুরস্কে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে একত্রিত করে ধনী-গরীবের মিলিত ইফতার আয়োজনের প্রচলনে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। রেফাহ পার্টি বন্ধ হওয়ার পর গঠিত জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) নেতারা এখনো এই প্রথা চালু রেখেছেন।

বর্তমানে একে পার্টির সরাসরি সদস্য না হলেও প্রচ্ছন্নভাবে দলটির কাজকর্মে এমিনের অংশগ্রহণ রয়েছে বলে তুরস্কের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট এরদোগানের শক্ত অবস্থানের পেছনে রয়েছে স্ত্রী এমিনের শক্ত হাত। যদিও অন্যান্য দেশের ফার্স্ট লেডিদের তুলনায় তিনি সামনে আসেন কম।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলে তুরস্কে কন্যাশিশু ও নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বেশকিছু প্রকল্প চালান এমিনে। শিশুশ্রম ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধেও কিছু প্রচারণা কর্মসূচি তার অধীনে চলমান রয়েছে। অবশ্য এমিনের এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য আসলে জনসেবা নয়, নিজ দল এবং স্বামীর রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধার বলেও দাবি অনেকের।

তবে একটি দেশের ফার্স্ট লেডি হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশ নেয়ার আগেই কয়েকবার বাধা পেয়েছেন এমিনে এরদোগান। সেসব আয়োজনে মাথায় কাপড় বা স্কার্ফ পরা অবস্থায় যাওয়া নিষিদ্ধ থাকে, সেখানে অন্য ফার্স্ট লেডিরা অংশ নিলেও এমিনে যাননি। এ নিয়ে বেশ আলোচনার শিকারও হন তিনি।

তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর এরদোগান সরকারের ধর-পাকড় অভিযানের পক্ষে গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে হার্ভার্ড ক্লাবে বক্তব্যও রাখেন এমিনে। সেখানে তিনি তুরস্কের ‘কথিত বন্ধু’দের সমালোচনা করেন, যারা অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় সরকারকে সমর্থন না করে ‘কী হলো, কে জিতল’ – এমন মনোভাব নিয়ে দর্শকের সারিতে বসেছিলেন বা অভ্যুত্থানের বিষয়টিকে পাতানো বলে মন্তব্য করেছিলেন।

বাবার কোলে ছটফট করছে অবুঝ সন্তান

সাড়ে তিন বছরের রিদুয়ানের চোখেমুখে আতঙ্ক। শিশুটির মুখের বাম পাশে পোড়া ক্ষত। যন্ত্রণায় বাবার কোলে কাঁদছে সে। ছেলেকে নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন, জানেন না মো. ইসমাঈল (২৭)। গতকাল রোববার ভোরে মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া থেকে নৌকায় করে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ঘোলারচরে ঢুকেছেন তিনি।

কোলের শিশু ছাড়া ইসমাঈলের আর কেউ নেই। তাঁর বাড়ি মিয়ানমারের মংডু শহরের নাইচং গ্রামে। তিনি কাঠুরিয়া। ১১ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁদের গ্রামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ঢোকে। একের পর এক বাড়িতে আগুন দেয়। তখন ইসমাঈল ঘরে ছিলেন। স্ত্রী আর দুই সন্তাসহ চার সদস্যের পরিবার তাঁর। ঘরে আগুন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় ছেলে রিদুয়ানকে কোলে নিয়ে তিনি দৌড়ে বেরিয়ে যান। স্ত্রী ধলু বেগম ও ১৬ মাস বয়সী ছেলে রবিউল আগুনে পুড়ে মারা যায়।

বাড়ি পোড়ার দৃশ্য গ্রামের পাশের এক পাহাড় থেকে লুকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না ইসমাঈলের। আগুনে ছেলের গালের এক পাশ পুড়ে গেছে, প্রথমে খেয়াল করেননি তিনি। পরে যখন দেখলেন, তখন একটি বাড়ি থেকে টুথপেস্ট নিয়ে তা ছেলের গালে লাগান। এর মধ্যে খবর পান সেনাসদস্যরা চলে গেছেন। স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজে ছুটে যান গ্রামে। ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী ও ছোট ছেলের পুড়ে যাওয়া দেহ দাফন করার আগেই আবার ছুটে পালাতে হয় তাঁকে।

ইসমাঈল বলেন, ছেলের চিকিৎসা কীভাবে করাবেন, ভেবে পাচ্ছেন না। সবাইকে হারিয়ে কীভাবে বাঁচবেন, তা-ও জানেন না। তিনি বলেন, তাঁদের গ্রামে আগুনে পোড়া ও গুলিবিদ্ধ ৭০ জন রয়েছে। হেঁটে পালিয়ে আসার মতো অবস্থা নেই তাদের। চিকিৎসার অভাবে এক শিশুসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত লোকজন শিশু, বৃদ্ধ, নারী। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।