সু চি কেন রোহিঙ্গাদের পাশে নেই দেখুন

মিয়ানমারের ক্ষমতার রাশ এমন একজনের হাতে, যিনি গণতন্ত্রের নেত্রী, মানবাধিকার আদায়ে সুবিদিত মুখ, শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি। দীর্ঘদিন গৃহবন্দীসহ জান্তা সরকারের দমননীতি তিনি কম সহ্য করেননি। দুই দশকের বেশি তিনি দেশটির সামরিক সরকারের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। তবু দেশ ছেড়ে চলে যাননি। গত বছর তাঁর দল ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট পদে না থাকলেও স্টেট কাউন্সিলরসহ সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থাকা সু চি দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের সংকটে কিছু করছেন না কেন—এই প্রশ্নের উত্তরই খোঁজা হয়েছে।

প্রথমত, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চির বর্তমান এই নীরবতা খুব নতুন কিছু নয়। কারণ এই ইস্যুতে তিনি বরাবর নীরবই থেকেছেন। মিয়ানমারের নেত্রী সু চি কখনো রোহিঙ্গাদের প্রতি খুব বেশি সহানুভূতি দেখাননি। ২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রচারাভিযানের সময় সু চি রাখাইনের সহিংসতার ইস্যুটি এড়িয়ে গেছেন।

এমনও হতে পারে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরবতা বা সু চির অনাগ্রহ একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু একেবারে নিশ্চিতভাবে তা বলাও যায় না। সু চির জীবনীগ্রন্থের লেখক পিটার পোফাম লিখেছেন, সু চি গোঁড়া নন। তাঁর মুসলমান জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রয়েছে (যদিও রোহিঙ্গা নয়)।

অং সান সু চি তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রতিনিধিত্ব করছেন এটা বললেও ভুল হবে না। কারণ এনএলডির একটা বড় অংশই বৌদ্ধধর্মাবলম্বী। তাঁরা রোহিঙ্গাদের বহিরাগত মনে করেন। দেশটির অধিকাংশ লোকই রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে থাকেন। এমনও বলেন যে তাঁদের ওই দেশে বাস করার অধিকার নেই। যদিও রোহিঙ্গারা দীর্ঘ কয়েক প্রজন্ম ধরে সেখানেই রয়েছেন। এমনকি অং সান সু চি গত বছর মিয়ানমারে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেছিলেন রাখাইনের মুসলিম সংখ্যালঘুদের রোহিঙ্গা নামে অভিহিত না করতে। অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের নিয়ে সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর মনোভাবকে প্রশ্নবিদ্ধ করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের সুযোগ যে নেই, তা সু চি ভালোভাবে বোঝেন। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে সু চি তাঁর দলের পক্ষ থেকে কোনো মুসলিম প্রার্থী দেননি। বৌদ্ধধর্মাবলম্বীপ্রধান দেশটির অন্যান্য গণতন্ত্রপন্থী নেতা যাঁরা কিনা জান্তা সরকারের আমলে নানা দমনপীড়নের শিকার হয়েছেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি তাঁদের মনোভাব সু চির চেয়ে আরও বেশি বিরূপ।

 অং সান সু চি ক্ষমতায় বসার পর অন্তত মন্ত্রণালয়গুলো সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে না। আর তিনি ইতিমধ্যে সাফ বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর প্রাধান্যের বিষয়গুলো কী। একটি হলো মিয়ানমারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন, অপরটি হলো দেশটির উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র নৃগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বিবাদ মেটানো।

সু চি এমনও ভাবতে পারেন, রাখাইনে চলা সামরিক অভিযান বন্ধে তাঁর ক্ষমতা সীমিত। দেশটির ক্ষমতার রাশ সু চির হাতে থাকলেও সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াংয়ের হাতেও রয়েছে যথেষ্ট ক্ষমতা। নিরাপত্তা ইস্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সামরিক বাজেটের ওপর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ আগে থেকেই নিশ্চিত করা আছে সামরিক আমলে করা মিয়ানমারের সংবিধানে। আর পার্লামেন্টের এক-চতুর্থাংশ আসন সেনাসদস্যদের জন্য বরাদ্দ থাকার তথ্যও কারও অজানা নয়।

এত কিছু সত্ত্বেও সু চি চাইলেই পারেন অনেক কিছু করতে। পারেন রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়ে কথা বলতে, বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে ত্রাণ তৎপরতায় আন্তর্জাতিক মহলের নজর টানতে। কিংবা মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়া সংখ্যালঘুদের মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে। কারণ সবশেষে তিনি হলেন মিয়ানমারে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা, যিনি ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন, তাই সু চি রাখাইন পরিদর্শনে গেলে বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী দল এবং সেনাবাহিনীর জেনারেলরা তাঁর ওপর মনঃক্ষুণ্ন হলেও কার্যত থামাতে পারবেন, এমনটা মনে করার কারণ নেই। সু চি তা বোঝেনও। তবু রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকটে দৃশ্যত নীরব ভূমিকায় রয়ে যাচ্ছেন তিনি।

চীনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে।

২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে বাংলাদেশি পোশাকের রফতানি বেড়েছে। এই সময়ে রফতানির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ১২ শতাংশ থেকে ২৩ শতাংশ হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০২০ সালের দিকে বাংলাদেশ চীনকে টপকিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠতে পারে।

পোশাক খাতের নামকরা প্রতিষ্ঠান টেক্সটাইল ইন্টিলিজেন্সের সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ইউরোপের মার্কেটে বাংলাদেশ থেকে রফতানি বাড়ছে, আর চীনের কমছে। এ অবস্থায় আগামী ৩ বছরের মধ্যেই চীনকে টপকিয়ে ইউরোপের মার্কেটে এক নম্বর সরবরাহকারী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। এই অগ্রগতি ধরে রাখতে বাংলাদেশের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তাবিষয়ক উদ্বেগ দূর করা এবং কারখানার পরিবেশ উন্নত করাসহ শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন।

সূত্রঃ টেক্সটাইল ইন্টিলিজেন্স

রোহিঙ্গারা বাঙালি সন্ত্রাসী

সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের নিন্দা ক্রমশ বাড়ছে। সেখানে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো তাদেরকে ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’ বলে প্রচার করছে। ফলে দেশটির প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনে পুরো ব্যাপারটাই দেখা হচ্ছে একেবারে অন্যভাবে। যদি আপনি রাস্তার লোকজনের সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে কী ঘটছে তা নিয়ে কথা বলেন, তাহলে আপনি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিই শুনতে পাবেন না।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বার্মিজ সাভিসের সংবাদদাতা স ইয়াং নাইং জানান, সংখ্যালঘুদের মিয়ানমারে বর্ণনা করা হয় ‘বাঙালি’ বলে। এ দেশে মূলধারায় রোহিঙ্গাদের কি ভাবে দেখা হয়- এতেই তার একটা আভাস পাওয়া যায়। এই দৃষ্টিভঙ্গী অনুযায়ী, রোহিঙ্গারা হচ্ছে ‘বিদেশি’- বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসী- যাদের ভাষা ও সংস্কৃতি আলাদা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাখাইন প্রদেশের সহিংসতাকে দেখা হচ্ছে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা হিসেবে, কিন্তু মিয়ানমারে এটি দেখা হয় জাতীয় সার্বভৌমত্ব-সংক্রান্ত বিষয় হিসেবে। উত্তর রাখাইনে যে সেনা অভিযান চলছে তার প্রতি সমর্থনও এখানে ব্যাপক। এখানে বরং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরকেই দেখা হচ্ছে ‘একপেশে’ হিসেবে।

যে রোহিঙ্গা মুসলিমরা সহিংসতার হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের দুর্দশার খবর এখানে সংবাদমাধ্যমে যথেষ্ট প্রচার পায় না। রাখাইন এলাকায় দেশী বা বিদেশি সাংবাদিকের প্রবেশের ব্যাপারেও কঠোর কড়াকড়ি আছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে ‘সন্ত্রাসী আক্রমণ’ এবং সহিংসতার কারণে যে ‘অ-রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী’ বাড়িঘর হারিয়েছে- তার ওপর জোর দেয়া হয়। বিভিন্ন শহরে ‘আরসা চরমপন্থী বাঙালি সন্ত্রাসীদের’ আক্রমণ বা ‘বড় আক্রমণের পরিকল্পনা’ করছে- এমন খবরও এখানকার পত্রিকায় এসেছে।

এসব খবরে বলা হচ্ছে, সেনাবাহিনী নয় বরং ‘জঙ্গী গ্রুপগুলোই গ্রাম পুড়িয়ে দিচ্ছে’, এবং রোহিঙ্গারা যে বাংলাদেশে পালিয়ে যাচ্ছে এ কথার কোন উল্লেখ এসব রিপোর্টে থাকে না।

মিয়ানমারের সরকারি ইনফরমেশন কমিটি ‘সন্ত্রাসী’ শব্দটির ব্যবহার নিশ্চিত করে থাকে। এই নির্দেশ যাতে মেনে চলা হয়, এ জন্য কমিটি সংবাদমাধ্যমের প্রতি হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।

মাায়ানমার টাইমস এর একটি প্রতিবেদন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা রকম ভুয়া খবর ও ছবি সমাজে বৈরিতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। মিয়ানমারের জাতীয়তাবাদী গ্রুপগুলো এমন ধারণা প্রচার করছে যে ‘রোহিঙ্গা মুসলিমরা একটি হুমকি, কারণ তারা চার স্ত্রী এবং বহু সন্তান নিতে পারে।’

রাখাইনে অনেকে মনে করে, জনসংখ্যা বাড়লে তারা একদিন তাদের সব জমি নিয়ে নেবে।সাধারণ লোকের সাথে কথা বললেও এই শত্রুতার অনুভুতি খুব স্পষ্ট বোঝা যায়।

একজন মহিলা- যার বয়স তিরিশের কোঠায়- বললেন, ‘তারা লেখাপড়া শেখে না, তাদের কোন চাকরিও নেই। তাদের প্রচুর বাচ্চাকাচ্চা। আপনার প্রতিবেশীর যদি অনেক বাচ্চা থাকে এবং সব সময় চেঁচামেচি করতে থাকে – আপনি কি তা পছন্দ করবেন?’

আরেক মহিলা, তিনি লোকের বাড়িতে কাজ করেন গৃহপরিচারিকা হিসেবে। তিনি বলছেন, ‘ওরা লোক ভালো নয়। আমি ওদের পছন্দ করি না। তবে হ্যাঁ, এক হাতে তালি বাজে না।’ বোঝা গেল, মহিলাটি জানেন যে এ সংঘাতের দুটি পক্ষ আছে।

অবশ্য এমনও অনেকে আছেন, যারা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার প্রতি সহানুভুতিশীল, যদিও তারা বেশি কথা বলতে চান না। একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার বলছিলেন, ‘আমার মনে হয় অনেক বাঙালি মুসলিম মারা গেছে। আমার ধারণা সরকারি বাহিনী তাদের অনেককে হত্যা করেছে, কারণ কিছু এলাকা আছে যেগুলো দুর্গম বা বিচ্ছিন্ন।’

‘এ ব্যাপারে জাতিসংঘের কিছু করা উচিত’- বললেন তিনি।

স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে হেঁটে যাওয়া সেই স্বামী এখন বিরাট ধনী!

এই মর্মান্তিক ছবি সাড়া ফেলে দিয়েছিল গোটা ভারতে।

দানা মাঝিকে মনে আছে সবার। বেশিদিনের কথা নয়।

মাত্র এক বছর। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে গোটা ভারতে সাড়া ফেলেছিল হতভাগ্য এক স্বামীর মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি।

ওড়িশার কালাহান্ডি জেলার বাসিন্দা দরিদ্র দানা মাঝি স্ত্রীকে হারিয়েছিলেন সেই সময়ই। দুর্ভাগ্যের সেখানেই শেষ নয়। মৃত স্ত্রীর দেহ সৎকারের জন্য নিজের গ্রামে নিয়ে যাওয়ার কোনও উপায় ছিল না দরিদ্র দানার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কাকুতি মিনতি করেও কোনও গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি।

অগত্যা উপায়ান্তর না দেখে স্ত্রীর দেহ একটা মাদুরে মুড়ে কাঁধে নিয়ে তিনি রওনা দেন গ্রামের উদ্দেশে। তার সেই পথ চলার ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। পেছনে কাঁদতে কাঁদতে হাঁটতে থাকে তার কিশোরী কন্যা। তবে ৬০ কিমি দূরে অবস্থিত গ্রামের পথ পুরোটা হেঁটে যেতে হয়নি তাকে। ১০ কিমি পথ পেরনোর পরেই স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে যায় জেলা প্রশাসন। শববাহী গাড়ির ব্যবস্থা করে তারা।

একজন মানুষের এই চরম সংগ্রামের কাহিনি শুনে বহু মানুষের হৃদয়ই গলেছিল। তার পর যা হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ভুলেই গেছে তাঁকে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্রে জানা গেল, এখন কেমন আছেন তিনি।

ঠিক এক বছর আগে ২৪ আগস্ট মারা গিয়েছিলেন দানা মাঝির স্ত্রী। জানা যাচ্ছে, সেই কপর্দকহীন মানুষটি এক বছরের মধ্যেই হয়ে গিয়েছেন বিরাট ধনী। আজ তার ব্যাঙ্কে জমা অর্থের পরিমাণ ৩৭ লক্ষ টাকা। তিন মেয়েই ভুবনেশ্বরের স্কুলে ভর্তি হয়েছে।

আসলে গত বছরের নিদারুণ ট্র্যাজেডির পরে বহু মানুষ ও সংস্থা এগিয়ে এসেছে তাকে সাহায্য করতে। বাহরিনের প্রধানমন্ত্রী একাই ৯ লক্ষ টাকার চেক দেন তাকে। পান আরও সাহায্য। ওড়িশা সরকার তাকে ইন্দিরা নিবাস যোজনার অধীনে একটি বাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়। মেয়েদের শিক্ষার সকল দায়িত্ব নেয় কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস। মাস দুই হল নতুন করে বিয়েও করেছেন দানা মাঝি।

৫ বছরের শিশুর ‘রকেট’ ডিজাইনে মুগ্ধ নাসা

বয়স পাঁচ বছর। কিন্তু এখনই তার ইচ্ছা মহাকাশচারী হওয়া।

আর সেই স্বপ্নকেই সফল করতে পাঁচ বছরের এই শিশু বানিয়ে ফেলেছে রকেটের ডিজাইন। সেখানেই শেষ নয়, ছোট্ট ইদ্রিস হিল্টনের স্বপ্নের উড়ানে যাতে কোনও বাধা না আসে তাই তার বাবা জামাল রকেটের ডিজাইনটি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন নাসা’র সদর দপ্তরে। সঙ্গে ছিল ইদ্রিসের লেখা একটি চিঠিও।

‘এই রকেটটা তোমাদের জন্য। প্লিজ এটা তৈরি করে স্পেসে কোনও মহাকাশচারীর কাছে পাঠিয়ে দাও। আমিও স্পেসে নাসা’র হয়ে নিজের রকেট চালাতে চাই। ’ আবদার ছিল একটি অ্যাস্ট্রোনট লাইসেন্সের।

হার্টফোর্ডশায়ারের সেন্ট আলবানসের বাসিন্দা জামাল ছেলের তৈরি করা রকেটের ব্লু-প্রিন্ট এবং চিঠি এপ্রিল মাসে ডাক মারফত পাঠিয়ে দেন ওয়াশিংটন ডিসি-তে নাসা’র দপ্তরে। কিন্তু বেশ কিছুদিন পরেও কোনও উত্তর না আসাতে ছবি ও চিঠি দিয়ে নাসা’র ট্যুইটার পেজে ট্যুইট করেন। দ্রুত উত্তর পাবেন এমন কোনও আশা ছিল না।

হঠাৎ একদিন সেই ট্যুইটে নজর পড়েনাসা’র জেট প্রপালশন বিশেষজ্ঞের। তিনি উত্তর দেন, ‘ভেবো না… আমি দেখছি কী করতে পারি। ’

ইদ্রিসের চিঠির উত্তরে নাসা’ জেট প্রপালশন ল্যাবোরেটরির সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার কেভিন ডে’ব্রুয়িন বলেন, ‘ভবিষ্যতের এক মহাকাশচারীকে যেন দেখতে পাচ্ছি, যে রকেট চালাতে পারবে। তোমার মতো যাদের স্বপ্ন তাদের উৎসাহ দেওয়া আমাদের কর্তব্য। এই স্বপ্ন সত্যি করতে নিজের ১১০ শতাংশ উজার করে দাও। আমরা এখানে তোমার মতো উজ্জ্বল তারকাদেরই অপেক্ষা করি, যাদের মহাকাশ সম্পর্কে জানার আগ্রহ অনন্ত। ’

তবে শুধু ইদ্রিসই নয়, তার দাদা সাত বছরের ইসাও রকেট তৈরির কাজে লেগে পড়েছে। তার বানানো রকেটের ডিজাইন পাঠানো হয়েছে আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন স্পেস এজেন্সিতে।

থানায় স্বীকারোক্তি – “মানুষের মাংস আর ভালো লাগছে না’!

সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার এস্টকোর্ট শহরের জনৈক বাসিন্দা হঠাৎ একদিন স্থানীয় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে বললেন, মানুষের মাংস খেতে আর ভালো লাগছে না। অদ্ভুত হলেও সত্য প্রমাণস্বরূপ তিনি পুলিশের হাতে তুলে দিলেন মানুষের একটি হাত ও পা। এরপর, লোকটি নিজেই পুলিশকে নিয়ে যায় তার বাড়িতে। যেখানে মানুষের দেহের আরও কিছু অংশ পাওয়া যায়।

ঘটনায় জড়িত আরও তিন সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পুলিশ মনে করছে সে অঞ্চলের ধর্ষণ ও খুনের জন্য দায়ী এই চারজনের মধ্যে দুজন। ২২, ২৯, ৩১ ও ৩২ বছরের চার যুবককে কোর্টে তোলা হলে। তাদের পুলিশ হেফাজতে রাখার আদেশ দেয় দেশটির আদালত। ইতিমধ্যে এ নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।

এক অপরাধীর বাড়িতে একটি বাটির মধ্যে আটটি মানুষের কান পাওয়া যায়। অন্য একজনের বাড়ি থেকে পাওয়া যায় মানব দেহের নানা অঙ্গ ও টিস্যু।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে, ওই চার যুবক একজন মহিলাকে হত্যা করে তার শরীর কেটে ফেলে। দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রেখে দিয়ে কিছু অংশ তারা খায় বলেও মনে করছে পুলিশ। যে কথা স্বীকারও করেছে চার অপরাধীর একজন।

বার্সা ফ্যান কাঁদিয়ে, এবার কোন পথে যাচ্ছে মেসি |

দলবদলের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটাই মনে হয় খাচ্ছে বার্সালোনা।  এক নেইমারকে হারিয়েই টালমাটাল অবস্থা বার্সার।  এখন যদি মেসিও চলে যায় তাহলে নিশ্চিত ভাবেই বিপদে পড়বে বার্সালোনা।

ছয় সপ্তাহ আগেই তৈরি হয়ে গেছে চুক্তির কাগজপত্র।  কিন্তু এখনো সেখানে সই করেনি কোন পক্ষই।  সঙ্গে উসমান ডেম্বেলের সঙ্গে বার্সার চুক্তি আর মেসিতে ম্যানচেস্টার সিটির আগ্রহ; সবমিলিয়ে এক জানুয়ারি মেসির বার্সেলোনা ছাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সবচেয়ে বড় খবরটি দিয়েছেন বার্সেলোনার 

সভাপতি পদে নির্বাচন করা প্রার্থী আগুস্তো বেনেদিতো।  স্প্যানিশ এক রেডিওর কাছে দাবি করেছেন, ২০১৮ সালের এক জানুয়ারি বার্সা ছাড়ছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।

এদিকে ডেম্বেলকে বার্সায় ভেড়ানো হয়েছে ১৩৮ মিলিয়ন পাউন্ডে।  চুক্তি শেষ, আনুষ্ঠানিকতা বাকি।  এই খবর চাউর হয়েছে ইএসপিএনের সাংবাদিক ফার্নান্দো পালামোর বরাত দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যতদূর জানি, চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা দ্রুতই শেষ হবে।  কাতালানরা ডেম্বেলের জন্য সবমিলিয়ে ১৫০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করবে। ’

যদিও ম্যানচেস্টার সিটি ৩০০ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করে হলেও মেসিকে কিনতে প্রস্তুত।  বেশ কয়েক বছর ধরেই ফুটবল জাদুকরকে দলে পেতে মরিয়া ইংলিশ ক্লাবটি।  মেসিকে প্রস্তাব দেওয়ার খবরটিও বেশ ফলাও করে প্রচার করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবটি।

ক্লাবটির জন্য শাপেবর হয়ে এসেছে বার্সার নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে মেসির কোন্দল।  এমন সময়ই চুক্তির শেষ অবস্থানে মেসি।  তাই বার্সা ছাড়ছেন মেসি, আলোচনাটা আরও বেশি গাঢ় হচ্ছে।  সাবেক সতীর্থ নেইমারের পথই অনুসরণ করবেন তিনি, এমনটাই ভাবা হচ্ছে। 

পৃথিবীর কুৎসিততম নারী জুলিয়া ও তার সন্তান মৃত্যুর পরও নিস্তার পেল না!

পৃথিবীর কুৎসিততম নারী। সারা শরীরে বড় বড় লোম, অস্বাভাবিক বড় চোখ, কান আর নাক, পুরু ঠোঁট। মুখের ভেতর অসংখ্য দাঁত মাড়ি ঠেলে উঠেছে। উচ্চতা মাত্র চার ফুট পাঁচ ইঞ্চি। মার্কিন চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে রায় দিয়েছিলেন, সে মানুষই নয়, মানুষ আর ওরাং ওটান -এর মিশ্রণ। নাম জুলিয়া পাস্ত্রানা, জন্ম মেক্সিকোর সিনালোয়া অঞ্চলে, ১৮৩৪ সালে।

জন্মের পর পরিবার তাকে ত্যাগ করেছিল, সম্ভবত বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল। দাসী হিসেবে সিনালোয়ার গভর্নরের বাড়িতে কাজ জোটে এই কুৎসিত মেয়েটির। ধারণা করা হয়, গভর্নরের ভোজসভায় তাকে দেখিয়ে অভ্যাগতদের বিনোদন দেয়া হতো। একটু বড় হলে এক কাস্টমস অফিসার জুলিয়াকে কিনে নেন ও তাকে আমেরিকা নিয়ে যান। আমেরিকায় তখন সার্কাস বা ফ্রীক শোর নামে মানব প্রদর্শনীর রমরমা ব্যবসা চলছিল। হাত বদল হয়ে জুলিয়া বিভিন্নভাবে জন্তুর মতো প্রদর্শিত হতে থাকে এই সব শো-তে ।

 

১৮৫৪ সালে বিধাতা সম্ভবত মুখ তুলে চাইলেন এই কুৎসিত নারীটির প্রতি। থিওডোর লেন্ট নামের এক ব্যক্তিকে ভালোবেসে ফেললেন জুলিয়া, থিওডোরও বাসলেন। পশুর মতো বন্দি জীবন শেষ হলো জুলিয়ার। থিওডোরের হাত ধরে তিনি পালিয়ে গেলেন বাল্টিমোরে, এবং সেখানেই তাদের বিয়ে হলো।

কিন্তু বিধি বাম। জুলিয়াকে হাতের মুঠোয় পাওয়া মাত্র স্বরূপে আবির্ভূত হলেন তার প্রেমিক স্বামী। তিনিও আমেরিকা জুড়ে বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজন করে জুলিয়াকে দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করতে লাগলেন। জুলিয়ার স্বামী এইসব শো- এর বিজ্ঞাপনে নিজের স্ত্রীকেমানুষ আর ওরাং ওটান-এর মিশ্রণবলে দাবি করতেন। তাকেভালুক নারী` (বেয়ার উওম্যান) বলেও ডাকা হতো। গল্প চালু হলো — মেক্সিকোর একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর সদস্য জুলিয়ার মাকে গোষ্ঠী থেকে বিতাড়িত করে জঙ্গলে পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং ওখানেই একটি গরিলা অথবা ওরাং ওটান দ্বারা গর্ভবতী হয়ে তিনি এই কুৎসিত প্রাণিটির জন্ম দেন।

অথচ জুলিয়া ছিলেন একজন স্বাভাবিক মানুষ, যিনি Hypertrichosis lanugingosa ও Gingival hyperplasia নামের দুটি বিরল রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুর শত বছর পরে এই রোগ সনাক্ত করা হয়েছিল। দাসী অবস্থায় থাকার সময় তিনি লেখাপড়া শিখেছিলেন। তিনটি ভাষা জানতেন। তার গানের গলা ছিল অসাধারণ, চমৎকার নাচতেও পারতেন। অথচ শিল্পী হিসেবে তো দূরের কথা, জীবিতাবস্থায় মানুষ হিসেবেও তার কোনো স্বীকৃতি জোটেনি।

১৮৫৯ সালে জুলিয়ার স্বামী তাকে ইউরোপ নিয়ে যান, যেখানেও বিভিন্ন শহরে চলে তার প্রদর্শনী । ইউরোপে এইসব শো` চলার সময় জুলিয়া গর্ভবতী ছিলেন। এতো ছোট শরীরে গর্ভধারণ ও গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ ছিল কষ্টদায়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ, তবুও প্রদর্শনী থেকে তিনি রেহাই পাননি। অন্তঃসত্ত্বা জুলিয়াকে প্রদর্শনীর জন্য নিয়ে যাওয়া হয় মস্কোয়। সেখানে ১৮৬০ সালের মার্চ মাসে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন জুলিয়া। দেখা যায় শিশুটির মুখও জুলিয়ার মতো লোমাবৃত। দুঃখজনকভাবে জন্মের ৩৫ ঘণ্টা পর শিশুটি মারা যায়। এর তিনদিন পর, সন্তান জন্মদান সংশ্লিষ্ট জটিলতায় ভুগে মাত্র ২৬ বছর বয়সে জুলিয়া পাস্ত্রানা মৃত্যুবরণ করেন। তারিখটা ছিল ১৮৬০ সালের ২৫ মার্চ।

সন্তান ও স্ত্রীর মৃত্যুর পর থিওডোর লেন্ট যা করেছেন তা অভাবনীয়। স্ত্রী ও সন্তানকে সমাহিত না করে তিনি তাদের মৃতদেহ দুটো বিক্রি করে দেন মস্কো বিশ্ববিদ্যায়লের একজন অধ্যাপকের কাছে, ৫০০ পাউন্ডের বিনিময়ে। সুকোলভ নামের ঐ অধ্যাপক বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করে মৃতদেহদুটো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। যখন জুলিয়ার স্বামী দেখলেন যে মৃতদেহদুটো নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত হয়েছে, তখন তিনি আবার দেহ দুটোর মালিকানা দাবি করে বসলেন। এবং দেহদুটো দ্বিগুণ অর্থের বিনিময়ে কিনে নিলেন। এরপর স্ত্রী ও সন্তানের মৃতদেহ কাঁচের বাক্সে ভরে বাণিজ্যিকভাবে আবারও প্রদর্শন করতে থাকেলেন ইউরোপের বিভিন্ন শহরে।

এভাবে প্রদর্শনীর এক পর্যায়ে জুলিয়ার স্বামী জার্মানিতে আরেকটি নারীর সন্ধান পান, যার মুখেও জুলিয়ার মতো লোম ছিল। লেন্ট ওই নারীকেও বিয়ে করে ফেলেন এবং তাকে জেনোরা পাস্ত্রানা নাম দিয়ে প্রদর্শন করতে থাকেন। তিনি বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করতেন — জেনোরা পাস্ত্রানা হচ্ছে জুলিয়া পাস্ত্রানার বোন। এভাবে একই প্রদর্শনীতে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের মৃতদেহ ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে দেখিয়ে টাকা উপার্জন করতেন লেন্ট। এভাবে বছরের পর বছর অর্থ উপার্জন করে অবশেষে থিওডোর লেন্টের স্থান হয় রাশিয়ার একটি মানসিক হাসপাতালে এবং ১৮৮৪ সালে সেখানেই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

এরপর বহু বছরের জন্য লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায় জুলিয়া পাস্ত্রানা ও তার শিশুপুত্রের দেহ। ১৯২১ সালে নরওয়েতে আবারও আবির্ভূত হয় দেহদুটো, বিভিন্নভাবে হাত বদল হয়ে বাণিজ্যিকভাবে প্রদর্শিত হতে থাকে পৃথিবীর কুৎসিততম নারী ও তার হতভাগ্য শিশুপুত্র। প্রায় অর্ধ শতব্দি ধরে এমনি চলছিল। ১৯৭০ সালে দেহদুটো আমেরিকায় নিয়ে যাবার প্রচেষ্টাকালে নরওয়েতে বিপুল সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয় প্রদর্শনীর আয়োজকদের। বিরোধিতার মুখে আবারও লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায় দেহ দুটো, ঠাঁই হয় একটি গুদামে।

১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসে একদল দুর্বৃত্ত ঐ গুদামে ঢুকে পড়ে। তারা ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে জুলিয়ার শিশুপুত্রের মৃতদেহটিকে ক্ষত-বিক্ষত করে। শিশুটির দেহের বাকি অংশ যায় ইঁদুরের পেটে । ১৯৭৯ সালে একদল চোর আবারও গুদামে হানা দেয় ও চুরি করে নিয়ে যায় জুলিয়ার মৃতদেহটি। সম্ভবত তারা এটিকে পুতুল ভেবেছিল। যাহোক, পরে তারা দেহটিকে একটি ডাস্টবিনে আবর্জনার মধ্যে ফেলে রেখে যায়, যাবার সময় আবার একটি হাত ভেঙ্গে সাথে নিয়ে যায়। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করলেও সনাক্ত করতে পারেনি এটি কার দেহ। এরপর বেওয়ারিশ লাশ হিসাবে বহু বছর দেহটি পড়ে থাকে অসলো ফরেনসিক ইনস্টিটিউটে। ১৯৯০ সালে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, মৃতদেহটি জুলিয়া পাস্ত্রানার। ১৯৯৭ সালে এটিকে স্থানান্তরিত করা হয় অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি বিভাগে, যেখানে সিল করা কফিনে ঠাঁই হয়ে জুলিয়ার।

এরপরও বহু বসন্ত কেটে গেছে, নরওয়ের গ্লোম্মা নদীতে বয়ে গেছে কত স্রোত, কত জল। পৃথিবীর আরেক প্রান্তে, আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত লরা এন্ডারসন বারবাটা নামক এক নারী জুলিয়া পাস্ত্রানার কাহিনী শুনে বেদনার্ত হলেন, ২০০৫ সালে তিনি শুরু করলেন এক অভিনব প্রচারণা। বারবাটা নরওয়ে ও মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন ও জুলিয়ার মৃতদেহ তার জন্মভূমিতে ফিরিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা চালাতে থাকলেন । পরবর্তীতে জুলিয়ার জন্মভূমি সিনালোয়ার মেয়রও এতে সমর্থন দেন ও নরওয়েতে মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত নরওয়ের কাছে এই মৃতদেহ ফিরিয়ে দেবার আবেদন জানান। তাদের দাবি ছিল, জুলিয়া পাস্ত্রানাকে যেন মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মান দেয়া হয়। নরওয়ে এই সম্মান দিতে রাজি হয়। বিভিন্ন দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে জুলিয়ার মৃতদেহ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেয়।

অবশেষে মৃত্যুর দেড়শ` বছরেরও বেশি সময় পরে মানুষের মর্যাদায় জন্মভূমি মেক্সিকোর সিনালোয়ায় ফিরে আসেন জুলিয়া পাস্ত্রানা। ২০১৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সিনালোয়ার মেয়র ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শত শত লোকের উপস্থিতিতে নিজ মাতৃভূমিতে সসম্মানে সমাহিত হন তিনি।

৪৯ বছরের ক্যান্সার রোগীকে ভবিষ্যতের জন্য ‘হিমায়িত’ করলো চীন!

মানুষকে প্রচন্ড ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় জমিয়ে রেখে দেওয়া বছরের পর বছর, এরপর তাকে আবার উত্তপ্ত করে বাঁচিয়ে তোলা- এমন দৃশ্য শুধু কল্পকাহিনীতেই পাওয়া যায়। এই কল্পকাহিনীকে সত্য করে তুলতে কিন্তু মানুষের চেষ্টার অবধি নেই। কয়েক মাস আগেই “ক্রায়োপ্রিজার্ভেশন” এর ৫০ বছর পুর্তি হলো। আর সম্প্রতি এই প্রযুক্তি নিয়ে আরো একধাপ এগিয়ে গেছে চীনের গবেষকেরা।

গত রবিবার জানা যায়, চীনের প্রথম ক্রায়োপ্রিজার্ভেশন সফল হয়েছে গত মে মাসে। আর এই কাজটাও করা হয় থোরাকটমি (বুক চিরে ফেলা) ছাড়াই। ঝ্যান ওয়েনলিয়ান নামের ৪৯ বছর বয়সী এক নারীকে ক্রায়োপ্রিজার্ভ করা হয়। তিনি ফুসফুসের ক্যান্সারের রোগী ছিলেন। মে মাসের ৮ তারিখে তাকে ক্লিনিক্যালি ডেড ঘোষণা করা হলে তার শরীরটাকে শ্যানডং এর ইনফেং বায়োলজিক্যাল গ্রুপের মেডিক্যাল ল্যাবোরেটরিতে নেওয়া হয়।

ক্রায়োপ্রিজার্ভেশন বা ক্রায়োনিক্স হলো সেই প্রযুক্তি, যেখানে চিকিৎসা করা যাবে না এমন রোগীকে হিমায়িত করে ফেলা হয়, এই আশায় যে ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে তার রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাবে এবং তখন তাকে জমাট অবস্থা থেকে বাঁচিয়ে তুলে সারানো যাবে। সাধারণত এর খরচ অনেক বেশি হয়।

ঝ্যান ছিলেন পূর্ব চীনের একজন স্বেচ্ছাসেবী এবং মৃত্যুর পর বিজ্ঞানের কল্যাণে তার শরীর দান করে গিয়েছিলেন তিনি। তার স্বামী গুই জুনপিন এবং তার পরিবার কেমোথেরাপি চলার সময়েই তার শরীর ক্রায়োপ্রিজারভেশনের জন্য দেবার ব্যবস্থা করেন।

সাধারণত শুধু আমেরিকা এবং চীনে ক্রায়োপ্রিজার্ভেশন করা হয়। চীনে পুরো শরীর ক্রায়োপ্রিজার্ভেশনের প্রথম মানুষ হলেন ঝ্যান। এর আগে চৈনিক লেখক ডু হং এর মস্তিষ্ক আমেরিকার অ্যালকর লাইফ এক্সটেনশন ফাউন্ডেশনে সংরক্ষণ করা হয় ২০১৫ সালে।

বিশেষজ্ঞরা ঝ্যানের শরীরে প্রয়োগ করেন অ্যান্টিকোঅ্যাগুলেশন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং সেন্ট্রাল নার্ভ নিউট্রিশন ইনজেকশন। এছাড়াও তার সংবহনতন্ত্র এবং হৃদযন্ত্র ঠিক রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

দুই বছর আগে ডু হং এর ক্রায়োপ্রিজার্ভেশনের সাথে জড়িত ছিলেন ডঃ অ্যারন ড্রেক। ঝ্যানের ক্ষেত্রেও তিনি উপস্থিত ছিলেন, সাথে ছিলেন পূর্ব চীনের কিলু হসপিটাল অফ শ্যানডং ইউনিভার্সিটির ডাক্তার এবং বিশেষজ্ঞরা।

ক্রায়োপ্রিজার্ভেশন

প্রথমে ঝ্যানের শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ১৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নামিয়ে আনা হয়। এরপর অটোমেটিক সিস্টেমের সাহায্যে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পর তার শরীর শূন্যের নিচে ১৯০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে আনা হয়। মে মাসের ১০ তারিখে তরল নাইট্রোজেনে ক্রায়োপ্রিজার্ভ করা হয় তার শরীর।

ইনফেং এর এক গবেষকের মতে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় খরচ হয়েছে ১ মিলিয়ন ইউয়ান বা ১২.২১ মিলিয়ন টাকা। এর পাশাপাশি প্রতি মাসে দুইবার করে তরল নাইট্রোজেন নবায়ন করতে প্রতি বছরে খরচ হবে আরো ৫০ হাজার ইউয়ান। ইনফেং বায়োলজিক্যাল গ্রুপের একটি ফাউন্ডেশন থেকে এই খরচ দেওয়া হয়।

ক্রায়োপ্রিজার্ভেশনের এই প্রযুক্তি চীনে বেশ বিতর্ক তৈরি করছে বটে। ইনফেং এর ডিরেক্টর জিয়া চুনশেং জানান মানুষের শরীর এভাবে ক্রায়োপ্রিজার্ভেশন করার ব্যাপারটা এখনো ল্যাবরেটরি পর্যায়েই আছে, এটাকে আমেরিকার মতো বাণিজ্যিক পর্যায়ে যাবার সম্ভাবনা নেই।

“মিসেস ঝ্যান ক্রায়োপ্রিজার্ভেশন গবেষণায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং এই প্রক্রিয়ার ঝুঁকির ব্যাপারে জানানো হয়েছে তার পরিবারকে,” জানান জিয়া।