মালয়েশিয়াতে নিহত ছোট ভাই তার লাশ আনতে গিয়ে বড়ও ভাই লাশ হয়ে ফিরল বাড়িতে

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রবাসী ছোট ভাইয়ের মরদেহ আনতে গিয়ে বড় ভাই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মাত্র ২৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ভাইয়ের দাফনে তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বম্বু ইউনিয়নের ধারকি মণ্ডলপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমানে দুই ছেলে চার মেয়ে। বড় ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৫০) ও ছোট ছেলে ফেরদৌস হোসেন (৪২)। ফেরদৌস হোসেন ১১ মাস আগে মালয়েশিয়া যান শ্রমিকের চাকরি নিয়ে। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি এক সড়ক দুর্ঘটনায় মালয়েশিয়ায় মারা যান। তাঁর পরিবার গত সোমবার মৃত্যুর খবর পায়।

ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ওই দিন ঢাকায় রওনা দেন দেলোয়ার হোসেন। ঢাকায় ছেলের কাছে ওঠেন। মালয়েশিয়া থেকে ফেরদৌস হোসেনের মৃতদেহ গত শুক্রবার রাত দুইটায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পৌঁছায়। লাশবাহী গাড়ি ভাড়া করে বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় শুক্রবার রাত আটটার দিকে দেলোয়ার হোসেন হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলোয়ার হোসেন গত শনিবার দিবাগত রাত দুইটায় মারা যান।

প্রবাসী ফেরদৌস হোসেনের অন্য স্বজনেরা গত শুক্রবার রাতে তাঁর মরদেহ বিমানবন্দর থেকে জয়পুরহাটের ধারকি গ্রামে নিয়ে আসেন। গতকাল শনিবার বেলা ১টা ৩০ মিনিটে ফেরদৌসের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। আর আজ রোববার বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে দেলোয়ার হোসেনের জানাজা শেষে ছোট ভাইয়ের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়।

ফেরদৌস ও দেলোয়ার হোসেনের চাচাতো ভাই আলম হোসেন বলেন, মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ফেরদৌস মারা যান। দেলোয়ার হোসেন নওগাঁ জেলার পোরশা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন। দুই ছেলের মৃত্যুতে বৃদ্ধ বাবা লুৎফর রহমান ও মা পিয়ারা বেগম শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। ফেরদৌসের স্ত্রী নাসিমা বেগম এবং দেলোয়ারের স্ত্রী নাছিমা খাতুন শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে হঠাৎ প্রসব ব্যথা

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে পরীক্ষা দিতে এসে মা হলেন শীলা আক্তার নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী।

জানা যায়, কাহারোল উপজেলার উচিৎপুর গ্রামের মো. মামুনের সঙ্গে ১ বছর আগে শীলা আক্তারের বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার বোচাগঞ্জের সেতাবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন সময় তার প্রসব বেদনা উঠে। এ সময় তাকে দ্রুত বোচাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন শীলা।

চিকিৎসক ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, মা ও ছেলে দুইজনই সুস্থ রয়েছে।

কেন্দ্র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পর ওই ছাত্রীর প্রসব বেদনার কথা জানায়। এরপর তাকে সুচিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। শীলা বোচাগঞ্জের চেংগন গ্রামের নজিম উদ্দীনের মেয়ে এবং স্থানীয় জেবি স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

সূত্র : বাংলা রিপোর্ট

এবার হজ করতে পারবেন এক লাখ ২৭ হাজার জন: ধর্মমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে এবার এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘গত ১৪ জানুয়ারি সৌদি সরকারের সঙ্গে হজ চুক্তি সম্পাদন হয়েছে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন সাত হাজার ১৯৮ জন। বাকি এক লাখ ২০ হাজার জন যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।’

রবিবার (২১ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ভারপ্রাপ্ত সচিব আনিছুর রহমান এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আগের মতো এবারও ৫০ শতাংশ হজ যাত্রী বাংলাদেশ বিমান বহন করবে। বাকি ৫০ শতাংশ বহন করবে সৌদি এয়ারলাইন্স। তবে এবছর সৌদি সরকার সেখানের সব ধরনের পণ্য ক্রয়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করেছে। যা চলতি বছর ১ জানুয়ারি থকে কার্যকর হয়েছে। ফলে আবাসন, খাদ্য ও পরিবহন খাতে এর প্রভাব পড়বে। তবে এর প্রভাব যাতে হজ যাত্রীদের ওপর না পড়ে সেজন্য চেষ্টা করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।’
এ বছর হজে যেতে প্রি-রেজিস্ট্রেশন কতজন সম্পন্ন করেছেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন করেছেন দুই লাখ ২৯ হাজার ৭৬৪ জন। এটা বাছাই করার পর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরুর কথা রয়েছে। যা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।’
প্রি-রেজিস্ট্রেশনের বিপরীতে কোটা বাড়ানোর আবেদন করেছেন কিনা- জানতে চাইলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা বাড়াতে আবেদন করেছি। সৌদি সরকার আবেদন বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বছর ভারত থেকে ৫-৭ হাজার হজযাত্রী জাহাজে সৌদি আরব যেতে পারবেন। জাহাজে করে হজে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সৌদি সরকার। এটা জানার পর আমরাও জাহাজে করে হজযাত্রী পাঠানোর প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু সৌদি সরকার তা অনুমোদন করেনি। কারণ মুম্বাই থেকে জাহাজে করে সৌদি যেতে সময় লাগে মাত্র ৩-৪ দিন। কিন্তু বাংলাদেশের সময় লাগবে ১৭-১৮ দিন। খরচ কমানোর জন্যই এই আবেদন করা হয়েছিল কিন্তু তারা অনুমোদন করেনি।’
এ বছর হজ প্যাকেজ কত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্যাকেজ এখনও নির্ধারণ করতে পারিনি। কারণ সৌদি সরকারের ৫ শতাংশ ভ্যাট কোথায় কোথায় ছাড় পাওয়া যাবে সেটা এখনও স্পষ্ট হয়নি। সেগুলো জানার পর আমরা প্যাকেজ নির্ধারণ করতে পারবো। এজন্য সপ্তাহ দুয়েক অপেক্ষা করতে হবে।’
হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘২৪৫টি এজেন্সির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে। এর তদন্ত চলছে। শিগগিরই তদন্ত রিপোর্ট পাবো। এরপর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’

ধর্ষণের পর রূপাকে আঘাত করা হয়েছিল

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী রূপা খাতুনকে ধর্ষণের পরে আঘাত করা হয়। আর আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

রূপার লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সাইদুর রহমান আজ মঙ্গলবার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন। তিনি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা।

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্বে থাকা প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে এই সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। দুপুর ১২টায় ২০ মিনিটব্যাপী সাক্ষ্য দেন সাইদুর। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন ও শামীম চৌধুরী তাঁকে ঘণ্টাব্যাপী জেরা করেন।

আদালতে আজ চিকিৎসক সাইদুর রহমান ছাড়াও রূপার ব্যাগ জব্দ করার সাক্ষী পুলিশ কনস্টেবল আবদুল হান্নান ও লাশের সুরতহাল করার সাক্ষী মধুপুরের জলছত্র এলাকার আবদুল মান্নান এবং শিশির মোহন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে এই মামলায় ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো। আগামীকাল বুধবার এই মামলার আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধকারী চার বিচারিক হাকিমের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

৩ জানুয়ারি মামলার বাদী মধুপুরের অরণখোলা ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মামলার পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপা খাতুনকে চলন্ত বাসে পরিবহনশ্রমিকেরা ধর্ষণ করেন। পরে তাঁকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যান। পুলিশ ওই রাতেই তাঁর লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন।

পরে ২৮ আগস্ট রূপার ভাই মধুপুর থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করেন। পুলিশ এরপর আসামি ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫), সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। পুলিশের কাছে তাঁরা রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। ২৯ আগস্ট বাসের তিন সহকারী শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর এবং সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁরা সবাই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে আছেন। ৩১ আগস্ট রূপার লাশ উত্তোলন করে তাঁর ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে লাশ দাফন করা হয়।

কণ্ঠশিল্পী শাম্মী আখতার আর নেই

বরেণ্য সংগীতশিল্পী শাম্মী আক্তার আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার বিকেলে চামেলিবাগের বাসা থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি স্বামী, এক ছেলেসহ আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

তাঁর স্বামী সংগীতশিল্পী আকরামুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘শাম্মী আক্তার ছয় বছর ধরে ব্রেস্ট ক্যানসারে ভুগছিলেন। শাম্মী আক্তার বাসায়ই ছিলেন। আজ দুপুরে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ায় বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই বিকেল ৪টার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। এখন তাঁর মরদেহ নিয়ে বাসায় ফিরে এসেছি।’
‘ঢাকা শহর আইসা আমার আশা ফুরাইছে’, ‘আমি যেমন আছি তেমন রব, বউ হব না রে’, ‘চিঠি দিও প্রতিদিন’, ‘ঐ রাত ডাকে ঐ চাঁদ ডাকে’-এ রকম আরও অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী শাম্মী আক্তার। ‘শাম্মী’ নামে পরিচিত হলেও তাঁর আসল নাম শামীমা আক্তার। শামীমাকেই আদর করে সবাই ডাকতেন শাম্মী বলে। সেই থেকে শামীমা শাম্মী নাম নিয়ে চলেছেন। ১৯৭০ সালের দিকে জীবনের প্রথম বেতারের গানে কণ্ঠ দেন তিনি। গানটি ছিল নজরুলসংগীত ‘এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায়’। তাঁর প্লেব্যাকে অভিষেক হয় ‘অশিক্ষিত’ (১৯৮০) ছবিতে। অভিষেক গানটিই ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। গানটি ছিল ‘ঢাকা শহর আইসা আমার’। এমনকি ‘আমি যেমন আছি তেমন রব বউ হব না রে’ গানটিও একই ছবির গান।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে সুচিকিৎসার জন্য শাম্মী আক্তারকে পাঁচ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।

বরিশালে চলছে মেয়েদের মার্বেল খেলার প্রতিযোগিতা

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে ২৩৮ বছর ধরে বরিশালের আগৈলঝাড়ার রামানন্দেরআঁক গ্রামে পূজা ও মেলার আয়োজন করা হয়। যা ‘মার্বেল মেলা’ নামে পরিচিত। রবিবার থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত। শীত উপেক্ষা করে খেলা ও মেলা চলছে গভীর রাত পর্যন্ত|

মেলায় মার্বেল খেলতে আশেপাশের কোটালীপাড়া, উজিরপুর, কালকীনি, গৌরনদীসহ বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার লোকজন আসছেন রামানন্দেরআঁক গ্রামে। গ্রামবাসীরা মেয়ে জামাইসহ অন্যান্য নিকট আত্মীয়দের মার্বেল খেলার আমন্ত্রণ জানায়। তাই মার্বেল খেলা ও মেলাকে ঘিরে রামানন্দেরআঁক গ্রাম ও তার আশেপাশের এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। বাড়িতে বাড়িতে চিড়া-মুড়ি, খেঁজুর গুড়ের পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নও চলে।
মেলায় মার্বেল খেলার প্রচলন সম্পর্কে স্থানীয় হরবিলাস মিস্ত্রী (৮০)সহ প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, বছরের এ সময়টা মাঠ-ঘাট শুকিয়ে যায়। এজন্যই তাদের পূর্ব পুরুষরা মেলা শুরুর দিনে মার্বেল খেলার প্রচলন করেন। তারাও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মার্বেল খেলার আসর বসে। বাড়ির আঙিনা, অনাবাদী জমি, বাগান, রাস্তাঘাট সবখানে চলে মার্বেল খেলা। খেলা ছাড়াও মেলায় পাওয়া যায় বাঁশ ও বেতের শৌখিন শিল্প সামগ্রী, খেলনা, মিষ্টি, ফল, চটপটি, ফুচকাসহ হরেক রকমের খাদ্যদ্রব্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে আসা সমীর বিশ্বাস জানান, তারা মার্বেল খেলার কথা শুনে মেলায় এসেছেন। ব্যতিক্রমধর্মী এই মেলা তাদের ভীষণ ভালো লেগেছে।

সপ্তম শ্রেণির ছাত্র দিগন্ত বাগচী জানায়, সে মার্বেল মেলায় আসতে সারা বছর টাকা জমিয়েছে। সেই টাকা দিয়ে মার্বেল কিনে মেলায় খেলতে এসেছে ।

মেলা কমিটির সভাপতি দিগ্বীজয় বিশ্বাস মেলার ইতিহাস সম্পর্কে বলেন, ছয় বছর বয়সে সোনাই চাঁদ নামে এক মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের এক বছর পেরোতেই সোনাইয়ের স্বামী মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুর বাড়িতে একটি নিম গাছের নিচে সোনাই মহাদেবের আরাধনা ও পূজা শুরু করেন। আনুমানিক ১৭৮০ সালে সেখানে সোনাই চাঁদ নামে একটি মন্দির স্থাপন করা হয়। এখান সেখানে মেলা বসে। ২০১২ সালে ওই মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।
মেলা আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য ডা. বিসি বিশ্বাস বিধান জানান, মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২৩৮ বছর ধরে প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তির দিনে বাস্তু পূজা (মাটির পূজা) ও নবান্ন মহোৎসবের মাধ্যমে ধুমধামের সঙ্গে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

প্রতিবছর এই দিনে বৈষ্ণব সেবা, হরি নাম সংকীর্ত্তন শেষে তৈরি করা হয় নবান্ন। মেলায় আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের এই নবান্ন প্রসাদ হিসেবে পরিবেশন করা হয়।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানান, মেলা ও মার্বেল খেলার পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মাকে ছুরি মারলো পেটের ছেলে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে ছেলে শরিয়াজ্জামান মিয়াকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। সোমবার (১৫ জানুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে আদালত এ নির্দেশ দেন। সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিয়ার রহমান এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, গত রবিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকালে শরিয়াজ্জামানসহ চার জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন শরিয়াজ্জামান মিয়ার মা ছলেখা বেওয়া। এর আগে ঘটনার দিন ১৩ জানুয়ারি শরিয়াজ্জামান মিয়াকে আটক করা হয়।
শরিয়াজ্জামান মিয়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের বিশ্বাস হলদিয়া গ্রামের মৃত খোকা মিয়ার ছেলে।
শরিয়াজ্জামান মিয়ার মা ছলেকা বেগম বলেন, ‘কাগজপত্র ঠিক থাকলেও জমি নিয়ে মমতাজ আলীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল। প্রায়ই বিরোধপূর্ণ জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করতো মমতাজ আলী। জমি রক্ষাসহ দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্যই হয়তো শরিয়াজ্জামান তাকে ছুকিকাঘাত করেছে।’ কিন্তু ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করলেও ঘটনার জন্য মূলত মমতাজ আলীকে দায়ী করেছেন তিনি।
মমতাজ আলীর দাবি, সেদিন শরিয়াজ্জামানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ছাড়া কিছুই হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করেই আমাদের ফাঁসাতে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে শরিয়াজ্জামান তার মাকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনার সময় স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে পুলিশে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মমতাজ আলীর সঙ্গে শরিয়াজ্জামানের বিরোধ চলছিল। গত শনিবার (১৩ জানুয়ারি) মমতাজ আলী ওই জমি দখলে নিতে গেলে শরিয়াজ্জামান ও তার মা বাধা দেয়। এসময় মমতাজ আলীর সঙ্গে শরিয়াজ্জামানের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে মমতাজ উদ্দিনকে ফাঁসাতে শরিয়াজ্জামান তার মা ছলেখাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে ছলেখা বেওয়ার হাতের কবজি ও মাথা কেটে যায়। ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন শরিয়াজ্জামানকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
আহত ছলেখা বেওয়া রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর আগে ছলেখাকে প্রথমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।

কেন ওসমানীর পরিবর্তে ভারতীয় জেনারেল স্বাক্ষর করেছিলেন?

কেন ওসমানীর পরিবর্তে ভারতীয় জেনারেল স্বাক্ষর করেছিলেন?
‘ওসমানী কেন আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না’- এই মর্মে বহু প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে। যদিও মূল কারণটা হচ্ছে আর্মি প্রটোকল। তাজউদ্দিন আহমেদ যদি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিযোগ না দিতেন, তাহলে সিনিয়ারিটি অনুযায়ী বাই ডিফল্ট পদটা পেতেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার, কারণ তিনিই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সবচেয়ে সিনিয়র অফিসার এবং একই সঙ্গে উপ-সেনাপ্রধান। অন্যদিকে ওসমানী তখনও কর্ণেল এবং তাকে জেনারেল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ১৬ ডিসেম্বরের পর। যা হোক তারপরও তিনি আমাদের প্রধান সেনাপতি এবং ভারতীয় বাহিনীর প্রধান স্যাম মানেকশর সমানই তার মর্যাদা ছিলো তখন। অন্য দিকে অরোরা একজন আঞ্চলিক প্রধান। পূর্ব ফ্রন্টের অধিনায়ক। যেমন লে. জেনারেল নিয়াজীও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্ব ফ্রন্টের অধিনায়ক। পূর্ব ফ্রন্টের জন্য গঠিত মিত্রবাহিনী তাই অরোরার কমান্ডেই হবে সেটাই স্বাভাবিক। ওসমানী কেন সই করবেন? পাকিস্তানের পক্ষে কি তাদের সেনাপ্রধান সই করেছিলো? আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে কি স্যাম মানেকশ ছিলেন? তাহলে ওসমানী কেন যাবেন?
এই প্রশ্নে জ্যাকবের উত্তর ছিলো: There is a lot of propaganda about it. The fact is, he was in Sylhet. He was in a helicopter that was shot at by the Pakistan army. I had ordered everyone on the Bangladesh side to stay in Kolkata. But he rode the chopper, got shot and couldn’t attend the ceremony. It’s not our fault. He should have been there. We wanted him there. Khandker (deputy commander-in-chief AK Khandker) attended in his absence.

জ্যাকবের কথাটা সত্যনিষ্ট নয়। এ প্রসঙ্গে ওসমানীর ভাষ্যটা বরং আমরা শুনি : যুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের অধীনে মুক্তিবাহিনীর সদর দপ্তরে জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন নজরুল ইসলাম। একাত্তরের রণাঙ্গন অকথিত কিছু কথা নামে এক স্মৃতিচারণে তিনি তুলে ধরেছেন এর বিশদ বিবরণ।

ঘটনা হচ্ছে ১২ ডিসেম্বর ওসমানী কলকাতা থেকে আগরতলা হয়ে মুক্তাঞ্চল সিলেটে যান। এটা নিশ্চিত করেন মুক্তিবাহিনী হেডকোয়ার্টারের অফিসার ইন চার্জ জেনারেল ওসমানীর বিশ্বস্ত বন্ধু মেজর এমআর চৌধুরী। তার ভাষায়- তানী এখন সিলেট গেছুন।

১৮ ডিসেম্বর সদর দপ্তরে ফিরে তাকে নিয়ে এসব গুজব শুনে ভীষণ ক্ষুব্ধ হন ওসমানী। তার মন্তব্য ছিলো:

দেখুন আমরা স্বাধীনতা অর্জন করতে যাচ্ছি। কিন্তু দুঃখ হলো স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ সম্পর্কে কোনো চেতনা এখনও জন্ম হয়নি। আমাকে নিয়ে রিউমার ছড়ানোর সুযোগটা কোথায়? কোনো সুযোগ নেই। তার অনেক কারণ রয়েছে। নাম্বার ওয়ান- পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কবে আত্মসমর্পণ করবে আমি জানতাম না। আমি কলকাতা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তাদের আত্মসমর্পণের প্রস্তাব এসেছে।

নাম্বার টু- ঢাকায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আমার যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ এই সশস্ত্র যুদ্ধ ভারত-বাংলাদেশের যৌথ কমান্ডের অধীনে হলেও যুদ্ধের অপারেটিং পার্টের পুরো কমান্ডে ছিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল স্যাম মানেকশ। সত্যি কথা হচ্ছে আমি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো নিয়মিত সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধানও নই। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমার কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারে না। কারণ বাংলাদেশ জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী কোনো দেশ নয়।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল মানেকশকে রিপ্রেজেন্ট করবেন লে.জে অরোরা। জেনারেল মানেকশ গেলে তার সঙ্গে যাওয়ার প্রশ্ন উঠতো। সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমার অবস্থান জেনারেল মানেকশর সমান। সেখানে তার অধীনস্থ আঞ্চলিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল অরোরার সফরসঙ্গী আমি হতে পারি না। এটা দেমাগের কথা নয়। এটা প্রটোকলের ব্যাপার। আমি দুঃখিত, আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। আমাদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধের বড় অভাব।

ঢাকায় ভারতীয় বাহিনী আমার কমান্ডে নয়। জেনারেল মানেকশর পক্ষে জেনারেল অরোরার কমান্ডের অধীন। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করবে যৌথ কমান্ডের ভারতীয় বাহিনীর কাছে। আমি সেখানে (ঢাকায়) যাবো কি জেনারেল অরোরার পাশে দাড়িয়ে তামাশা দেখার জন্য? হাও ক্যান আই!

আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করবেন জেনারেল মানেকশর পক্ষে জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আর পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে জেনারেল নিয়াজী। এখানে আমার ভূমিকা কি? খামোখা আমাকে নিয়ে টানা হ্যাচড়া করা হচ্ছে।

পাশাপাশি কেনো মুক্তিবাহিনীর কাছে পাকিস্তানীরা আত্মসমর্পণ করেনি এটার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ওসমানী সংক্ষেপে ব্যাপারটা এমন যে যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক নীতিমালা আছে যার অন্যনাম জেনেভা কনভেনশন। বাংলাদেশ এই কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয় বলেই সেই নীতিমালা মানতে মুক্তিবাহিনী বাধ্য ছিলো না। তাই তাদের হত্যা করলে বা তাদের উপর অত্যাচার করলে বলার থাকতো না কিছু। পাকিস্তানীরা জেনেশুনে সে ঝুকি নেয়নি। তাছাড়া ৯০ হাজার যুদ্ধবন্দীকে খাওয়ানো পড়ানো তদারক করার ক্ষমতাও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের ছিলো না। তখনও নিজের খাওয়াটাই যে জোটে না! (তথ্যসূত্র : একাত্তরের রণাঙ্গন অকথিত কিছু কথা লেখক: নজরুল ইসলাম, অনুপম প্রকাশনী ১৯৯৯)

তো ওসমানী সিলেটে কি করেছেন? হেলিকপ্টারে গুলি ছোড়ার কাহিনী একটা গল্প বটে। কারণ তাতে ওসমানী আহত হননি। আগরতলা দিয়ে ওসমানী কুমিল্লা হয়ে সিলেটে ঢোকেন। কুমিল্লা থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথেই তার কপ্টারে গুলি ছোড়া হয় বলে কথিত আছে। যাহোক ১২ তারিখ তিনি হবিগঞ্জে মুক্তাঞ্চল সফর করেছেন।

সিলেটে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আত্মসমর্পন করে ১৫ ডিসেম্বরে। ওসমানী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ১৫ ডিসেম্বর মুক্ত সিলেটে ওসমানী কথা বলছেন দুই সেক্টর কমান্ডার লে.কর্নেল সিআর দত্ত এবং লে.কর্নেল মীর শওকত আলীর সঙ্গে এমন একটা ছবি ওসমানীর নিজের স্মৃতিকথাতেই প্রকাশিত। কথা বলছেন দুই সেক্টর কমান্ডার লে.কর্নেল সিআর দত্ত এবং লে.কর্নেল মীর শওকত আলীর সঙ্গে-

আর তিনি আত্মসমর্পনের দায়িত্বে থাকা মিত্র বাহিনীর ভারতীয় অফিসারদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন সে ছবিটাও আছে তার উপর প্রকাশিত সেই বইয়ে (ও জেনারেল, মাই জেনারেল)।

এমনকি মিত্রবাহিনী গঠন ও অনুমোদন তার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনের সঙ্গে স্যাম মানেকশর বৈঠকে তিনিও ছিলেন।

এমনকি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তা অনুমোদন দেয়ার অধিকারী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকেও।

এখন আসা যাক প্রশ্নের মধ্যে প্রচ্ছন্ন ও গোপন প্রশ্নটায়। ভারতীয় জেনারেল সই করেছেন যে দলিলটায় সেটায় কি পাকিস্তান ভারতের কাছে আত্মসমর্পন করেছে? উত্তর না। করেছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ডের কাছে। সেই এখতিয়ার বাংলাদেশ সরকার অরোরাকে দিয়েছে। আত্মসমর্পনের যে দলিল সেটা ইনস্ট্রুমেন্ট অব সারেন্ডার নামে পরিচিত। সেটার বাদিকে নীচে অরোরা যেখানে সই করেছেন, সেখানে কি লেখা দেখেন তো? লেখা: জেনারেল অফিসার কমান্ডার ইন চীফ ইন্ডিয়ান অ্যান্ড বাংলাদেশ ফোর্সেস ইন দ্য ইস্টার্ন থিয়েটার।

এরপরও যদি উত্তর না পান, তাহলে আর কিছু বলার নেই…

রিক্সা চালিয়ে জমানো টাকায় অসহায় মানুষের জন্য চিকিতসা কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন ময়মনসিংহের রিকশা চালক জয়নাল আবেদী,,,

জমানো টাকায় অসহায় মানুষের জন্য চিকিতসা কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন ময়মনসিংহের রিকশা চালক জয়নাল আবেদীন। সেখান থেকে নামমাত্র মূল্যে সেবা ও ওষুধ পাচ্ছেন চরাঞ্চলের টান হাসাদিয়া গ্রামের মানুষ।

-প্রতিবেদনটি প্রচারিত হয় ১৬.১২.২০১৭ তারিখের সন্ধ্যা ৫টার মাছরাঙা সংবাদে।