ভিক্ষুক দাদীর প্রতিবন্ধী নাতনিকে ধর্ষণ

সাভারের রলিয়াপুরের নগরকুন্ডায় গ্রামে ১১ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়ে শিশু পাশবিকভাবে ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

অভিযুক্ত ধর্ষককে আটক করে পুলিশ। নির্যাতিত শিশুকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেলের ওসিসি সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) ভোরে সাভারের নগরকুন্ডা এলাকা থেকে ধর্ষক মজিবরকে আটক করা হয়। আটক মজিবর সাভারের নগরকুন্ডা গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসিনুল কাদির জানান, নগরকুন্ডা গ্রামে ভিক্ষুক দাদীর সঙ্গে বসবাস করে আসছিলো প্রতিবন্ধী শিশুটি। রাতে দাদী কাজে বাইরে গেলে প্রতিবেশী মজিবর ঘরে ঢুকে প্রতিবন্ধী শিশুটিকে জোর করে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। দাদী ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশে খবর দেয়।

পরে রোববার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নগরকুন্ডার এলাকায় আত্নগোপনে থাকা অন্য একটি ঘর থেকে ধর্ষক মজিবর হোসেনকে আটক করা হয়। সে এলাকার চিহিৃত মাদকসেবী। তাকে ধর্ষণ মামলায় আসামী করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

খাল কেটে রোহিঙ্গা মুসলিম এনে এখন ফলাফল দেখুন , কান্না শুরু হয়ে গেছে স্থানীয়দের (ভিডিও সহ)

রোহিঙ্গা মুসলিম শুধু এই একটি পরিচয়ের জন্যই তাদের প্রতি আমাদের এতো দরদ? দুধ কলা দিয়ে সাপ পুষতে নেই ।

দেখুন আমরা কাদের জন্য এতো দরদ দেখাচ্ছি ঃ

 

ঢাকাই চলচ্চিত্রের দাপুটে অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের দাপুটে অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গতো কাল বুধবার বিকেলের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি।

নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘হার্টে একটি ব্লক ধরা পরেছে। এছাড়া ফুসফুসে পানি জমেছে। ল্যাবএইড হাসপাতালের চিকিৎসকরা এমনটাই জানিয়েছেন।’

ডিপজলের সঙ্গে সিঙ্গাপুর গিয়েছেন তার মেয়ে অলিজা মনোয়ার ও স্ত্রী জবা।

আমরা তার সুস্থোতা কামনা করি।

নীলফামারীতে ৪১৮ মেট্রিক টন চাল পাবে ৮৩৬ পূজামণ্ডপ কিন্তু কেন?

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবারে নীলফামারী জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপ পাবে ৫০০ কেজি করে চাল। জেলার ৮৩৬ পূজামণ্ডপে বিতরণের জন্য ৪১৮ মেট্রিক টন জিআর (গ্র্যান্ট রিলিফ) চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

নীলফামারী জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম আখতারুজ্জামান জানান, এবারে নীলফামারী জেলার ছয় উপজেলা ও চার পৌরসভা মিলে ৮৩৬ পূজা মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নীলফামারী সদর উপজেলা ও পৌরসভা এলাকা মিলে মন্ডপ রয়েছে ২৭৮ টি, জলঢাকা উপজেলা ও পৌরসভা এলাকা মিলে মন্ডপ রয়েছে ১৬৪ টি, কিশোরগঞ্জে মন্ডপ রয়েছে ১৪৪ টি, ডোমার উপজেলা ও পৌরসভা এলাকা মিলে মন্ডপের সংখ্যা ৯৩, সৈয়দপুর উপজেলা ও পৌরসভা এলাকা মিলে মন্ডপ রয়েছে ৮০ টি এবং ডিমলায় এবার মন্ডপের সংখ্যা ৭৭টি।

তিনি বলেন, সরকার শারদীয় দুর্গাপূজা আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রত্যেক পূজামণ্ডপে ভক্তদের আহার্য বাবদ বিতরণের জন্য ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়। যা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ বরাবর প্রেরণের মাধ্যমে পূজামন্ডপগুলোতে প্রদান করা হবে।

তিনি আরও বলা হয়, নীলফামারী জেলাধীন পূজামণ্ডপের সংখ্যা, আকার, ব্যাপকতা, আর্থিক সামর্থ্য/সচ্ছলতা/দারিদ্র্যতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াবলি বিবেচনা করে উপজেলাওয়ারী জিআর চাল দেয়া হবে। বরাদ্দকৃত চালের বিপরীতে মণ্ডপ সংখ্যা কম হলে অতিরিক্ত চাল মজুদ রেখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, নীলফামারীসহ দেশব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হবে ২৬ সেপ্টেম্বর। প্রতিমা বিসর্জন ৩০ সেপ্টেম্বর।

তবে কি শান্তিতে নোবেল পেতে যাচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা?

রোহিঙ্গা সমস্যাটি বাংলাদেশের জন্যে বাঁশের ওপর আঁটির বোঝা। বাংলাদেশে এর আগে যত রোহিঙ্গা শরণার্থী এসেছেন এর প্রায় পাঁচ লাখ এখনও এখানে রয়ে গেছেন। নতুন এসেছেন আরও প্রায় তিন লাখ। বাংলাদেশের মতো দেশের পক্ষে এত শরণার্থীর চাপ সওয়া কঠিন। এরপরও মানবিক দৃষ্টিতে বাংলাদেশকে বিষয়টি দেখতে হবে। দেখতে হবে প্রকৃত শরণার্থীর আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে। এই মুহূর্তে বিশ্বে রোহিঙ্গারাই প্রকৃত শরণার্থী। কারণ তাদের কোনও দেশ নেই। যে ভূমিতে তাদের জন্ম সেই মিয়ানমারই তাদের স্বীকার করে না। সেদেশে তাদের নাগরিকত্ব পর্যন্ত নেই। ফিলিস্তিনিদেরও ছোটখাটো একটি টেরিটোরি-সরকার আছে। রোহিঙ্গাদের সেটিও নেই।


মিয়ানমার নামের বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম ‘শয়তান’ রাষ্ট্রটি পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা সমস্যাটি বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে নানা উছিলায় তারা আরাকান রাজ্যকে রোহিঙ্গা শূন্য করার কাজ করছে। তাদের বরাবরের দোসর দেশটির নাম চীন। এরসঙ্গে আবার নতুন যুক্ত হয়েছে নরেন্দ্র মোদির ভারত। এই পরিস্থিতির ভেতর মিয়ানমার গিয়ে তাদের কার্যক্রমকে সমর্থন জানিয়েছে দিল্লির হিন্দুত্ববাদী সরকার! এখন যদি কেউ বলে রোহিঙ্গারা মূলত ইসলাম ধর্মাবলম্বী এরজন্যে মোদির এমন আগ বাড়িয়ে চুলকানি, এর জবাব কী হবে? ভারত অবশ্য ইসরায়েলেরও বন্ধু রাষ্ট্র। এটি ইন্দিরা গান্ধীর ভারত নয়। রোহিঙ্গা সমস্যা ইস্যুতে বর্তমান ভারত সরকারের অবস্থানটি বাংলাদেশের জন্যেও বিব্রতকর। কারণ আপনি মানেন আর না মানেন সত্য হচ্ছে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-কূটনৈতিক নানাক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি ভারত নির্ভর দেশ। দিল্লি সঙ্গে আছে বলে শেখ হাসিনার সরকার নিয়ে কথা বলতে আমেরিকার মতো দেশ সাতবার চিন্তা করে অথবা ভয় পায়। কারণ তাদের দরকার দিল্লিকে ঢাকাকে নয়। বাংলাদেশ তাদের কাছে অনেকটা কেয়ার অব নিউ দিল্লি। চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দিল্লির হঠাৎ ভূমিকাটি বাংলাদেশের জন্যে অপ্রত্যাশিত। চীনা বিরোধিতার কারণে জাতিসংঘ এখনও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কোনও পূর্নাঙ্গ বৈঠক করতে পারেনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। বাংলাদেশের চীনপন্থীরাও এর নিন্দা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিবেকের কী দাসত্ব!

এবার রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুটি এভাবে মানুষের বিবেককে এতোটা নাড়া দেওয়ার কারণ স্বাধীন বিশ্ব মিডিয়া আর সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তিমত্তা! বিবিসি-রয়টার্স-এপি-এএফপি সহ আন্তর্জাতিক মিডিয়া স্বদেশ ভূমি থেকে বিতাড়িত একটি জনগোষ্ঠীর দুঃখ দুর্দশার চিত্র বিশ্বস্তভাবে তুলে ধরেছে। বরাবরের মতো বাংলাদেশ এবারেও শুরুর দিকে নতুন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢুকতে দিতে চায়নি। কিন্তু জীবন বাঁচাতে দূর্গম দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে বিপন্ন মানুষজনের স্রোত আটকায় সে সাধ্য কার? মানুষ আসছে প্রাণ বাঁচাতে। এ মানুষেরা মনে করছে এ বাংলাদেশ তাদের নিরাপদ আশ্রয়। কারণ দেশটির মানুষজন বাংলাভাষী। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষজন ইসলাম ধর্মাবলম্বী। বিপন্ন মানুষকে সাময়িক আশ্রয় দিতে মানবিক হৃদয়ের শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছে বিশ্ব। সিরিয়ান শিশু শরণার্থী আয়লানের মতো এক রোহিঙ্গা মেয়ে শিশুর ভাসমান লাশের মুখটি বিশ্ব মানবতাকে কাঁদিয়েছে। বিশ্ব মানবতার এই সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা সংকট সামাল দিতে হবে। কারণ রোহিঙ্গারা দেশে ফিরতে পারছে না ঠিক, কিন্তু বাংলাদেশেও পড়ে থাকতে আসেনি। এত যাবৎকাল যত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন তাদের সিংহভাগ এখন আর বাংলাদেশে নেই। ছড়িয়ে পড়েছেন সারা বিশ্বে। কারণ জাতিসংঘ শরণার্থী সনদে যে সব দেশ স্বাক্ষর করেছে সে সব দেশে পৌঁছতে পারলে রোহিঙ্গাদের প্রটেকশন হয়ে যায়। কারণ রোহিঙ্গারা প্রকৃত শরণার্থী। তাদের কোনও দেশ নেই। এরমাঝে মালয়েশিয়া ঘোষণা দিয়েছে রোহিঙ্গারা তাদের উপকূলে পৌঁছলে তারা তাদের সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করবে। মালয়েশিয়ার এ ঘোষণাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরালো করা দরকার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে এই মানবিক পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে লিখছেন! ফেসবুকে আমার বন্ধুদের অনেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তাদের কারও কারও লেখা পড়ে চমকে যেতে হয়! এক সংখ্যালঘু যদি আরেক সংখ্যালঘুর যন্ত্রণা না বোঝে তাহলে কে বুঝবে? পর্যটক জীবনে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে প্রনব রিচেল নামের এক গারো শিক্ষকের বলা কথাগুলো এখনও কানে বাজে। আমাকে তিনি বলেছিলেন ফজলুল বারী, সংখ্যালঘুর যে কী যন্ত্রণা তা আপনি বুঝবেন না। কারণ বাংলাদেশে আপনি সংখ্যাগুরুর দলে। আমি প্রনব রিচেল এদেশে সংখ্যালঘু বলে আরেক সংখ্যালঘুর যন্ত্রণা বুঝি। পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কাহিনি পেলে সেটি পড়ি। তা আমাকে স্পর্শ করে। কারণ আমি একজন সংখ্যালঘু’। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা জানলেই আমরা এর বিরুদ্ধে লিখি। বাংলাদেশ থেকে সারা বছরই নীরবে হিন্দুদের ভারতে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেলেই হিন্দুরা শরণার্থী হিসাবে আশ্রয় প্রটেকশন পায়। কিন্তু যে হিন্দু এখানে নিত্য নির্যাতিত তাদের কেউ কেউ রোহিঙ্গাদের নিয়ে এত ক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ কী। কেউ যদি বলে রোহিঙ্গারা মুসলিম সে কারণে? এর জবাব কী হবে? আমি বিষয়টি এখানে কাউকে আঘাত করে বলছি না। দুঃখিত।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রতিদিন ফাটায়ে দিচ্ছেন! রোহিঙ্গা সংকটের ইতিহাস জানেন? কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় কৃষ্ণদাস নামের একজন বাঙালি রোহিঙ্গা রোহিঙ্গাদের ইতিহাসটি এভাবে তুলে এনেছেন। কৃষ্ণদাস লিখেছেন, ‘রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন (অতীতে আরাকান) প্রদেশের মানুষ। সুপ্রাচীন কালে বাংলার পূর্বাংশ থেকে আগত লাখ লাখ মানুষ এখানে এসে পুরুষানুক্রমে স্থায়ী ভাবে বসবাস করেছে। সেখানে গড়ে তুলেছে সভ্যতা ও সংস্কৃতি। কিন্তু মিয়ানমারের রাষ্ট্রশক্তির পুনর্বিন্যাসের ফলে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ আরাকান মিয়ানমারের অংশ হয়ে গেলো। রোহিঙ্গারা স্বদেশে পরদেশি হয়ে গেলো। ষোড়শ শতাব্দী থেকেই আরাকান প্রদেশে বাঙালি মুসলমানেরা বাস করত। ১৬৬৬ সালেও আরাকান বাংলার চিটাগঙ্গের অংশ ছিল। ১৭৮৫’তে বর্মিরা যুদ্ধে আরাকান দখল করলে ৩৫০০০ আরাকানবাসী চিটাগঙ্গে আশ্রয় নেয়। ১৮২৬ সালে প্রথম অ্যাংলো-বার্মিজ যুদ্ধের পরে আরাকান প্রদেশকে ব্রিটিশরা ভারতের সঙ্গে যুক্ত করে নেয়। ব্রিটিশদের উৎসাহে এবং প্রলোভনে বাংলার বহু মানুষ সেখানে গিয়ে খামার-শ্রমিক হিসাবে কাজ শুরু করে। কৃষিকাজে দক্ষতা আর কর্মকুশলতার ফলে আরাকান প্রদেশে বাঙালি রোহিঙ্গাদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছিল। কোনও নির্দিষ্ট সীমানা না থাকায় চিটাগঙ্গের বাঙালি হাজারে হাজারে আরাকানে চলে যায়। ধান চাষে সস্তায় মজুর পাওয়ার তাগিদে আরাকান-সহ বর্মার আদি বাসিন্দারাও বাঙালিদের উৎসাহিত করত। ১৯২৭ সাল নাগাদ অনেক জায়গাতেই ভারতীয়রা ছিল সংখ্যাগুরু।
পাকিস্তান আন্দোলনের সময় (১৯৪০ সাল) পশ্চিম বর্মার রোহিঙ্গারা পূর্ব-পাকিস্তানভুক্তির জন্য পৃথগীকরণের আন্দোলন শুরু করে। ১৯৪৮ সালের জানুয়ারিতে বার্মার স্বাধীনতার পরেও তাদের সে প্রয়াস অব্যাহত ছিল। কিন্তু মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ বার্মার লোকেদের বিরুদ্ধে কোনও কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না বলে ঘোষণা করলে রোহিঙ্গারা বিদ্রোহী হয়ে উঠল। বার্মার মিলিটারি তাদের দমন করার জন্য সক্রিয় হলো।
১৯৪৮ সালে বার্মা স্বাধীন হওয়ার সময়ে আরাকান সে দেশের অন্তর্ভুক্ত হয়। বাঙালি রোহিঙ্গারা পূর্ব বাংলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন করেছিল, সেই থেকে বর্মিরা রোহিঙ্গা-বিরোধী। ১৯৭৮ সালে বর্মিদের ‘কিং ড্রাগন অপারেশন ইন আরাকান’-এর অত্যাচারে রোহিঙ্গারা ঘরবাড়ি ছেড়ে হাজারে হাজারে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে চলে এলো। ১৯৮২ সালে নাগরিক আইন কার্যকর করে সে দেশের সরকার। সেখানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়। ৭,৩৫,০০০ রোহিঙ্গা বার্মায় বাস করত। এরা মূলত রাখাইন প্রদেশের শহরকে কেন্দ্র করে থাকত। ব্রহ্মদেশের পুলিশ বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতে লাগল।
১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাদের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে ঘোষণা করে যে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়। সঙ্গে সঙ্গে মিয়ানমার সরকারও তাদের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে ঘোষণা করে যে বাঙালিরা সবাই বিদেশি। ১৯৮৩ সাল থেকে মিয়ানমার সরকার সীমানা সুরক্ষিত করে নেয়। ১৯৯০ সাল থেকে শুরু হয় রোহিঙ্গাদের টিকে থাকার আন্দোলন। তারা রোহিঙ্গা জাতীয়তাবাদের পতাকা তুলে ধরলো। তাদের বক্তব্য, ‘আরাকান আমাদের, হাজার বছর ধরে আরাকান ভারতভূমি ছিল’।

আজ নব প্রজন্মের অনেক বাঙালিই মনে করেন রোহিঙ্গারা বাঙালি নয়। তারা রোহিঙ্গা ভাষায় কথা বলে। রোহিঙ্গা ভাষার সঙ্গে আধুনিক প্রামাণ্য বাংলার কোনও মিল নেই। এখনও সিলেট- নোয়াখালি-চট্টগ্রাম’ র গ্রামীণ মানুষদের ভাষা একটু লক্ষ করলেই বোঝা যায় বাংলা ভাষা কত বৈচিত্রময়। আরাকানবাসী বাঙালি মুসলমান মানুষরা আজ গৃহহীন দেশহীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। একবিংশ শতকের এই পৃথিবীতে রোহিঙ্গাদের বেঁচে থাকার অধিকার আছে। সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে একসঙ্গে সক্রিয় হতে হবে’।

ভাস্কর দেবনাথ নামের আরেকজন লিখেছেন, ‘সংখ্যালঘুর কোনও জাত নেই, রাষ্ট্র নেই, ধর্ম নেই! এক কথায় নেই রাজ্যের বাসিন্দা। সে নির্যাতিত, নির্যাতনই তার জীবনের একমাত্র পাওয়া। আমরা এমন এক সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে মানুষ গৌণ, রাষ্ট্র সমস্ত কিছুর নিয়ামক। ওরা বিশ্বাস করে, নির্যাতিত মানুষগুলোকে মারা যায়, পোড়ানো যায়! ’৪৭-এর দেশভাগের পর রাতারাতি নিজভূমে পরবাসী মানুষের যে ঢল নেমেছিল অন্য দেশে আশ্রয় নেওয়ার, তা আজও অব্যাহত। সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন সত্যিই অলীক বলে ঠেকে আজকাল! ইতিহাসে আরাকান রাজসভা কিন্তু অসাম্প্রদায়িকতার ছবিই তুলে ধরে! দৌলত কাজি, শ্রীচন্দ্র সুধর্মা, আলাওল, মাগন ঠাকুর— মিথ্যা হয়ে যাবে? রোহিঙ্গাদের এই সংকটে উপমহাদেশের বৃহৎ শক্তি হিসাবে ভারত সরকারের দায়িত্ব অনেক বেশি। কিন্তু এটা ভেবে কষ্ট হচ্ছে যে, ভারতে আশ্রিত চল্লিশ হাজার রোহিঙ্গাকে নাকি জোর করে ফেরত পাঠানো হবে! জেনেবুঝে ওদের যদি আমরা আগুনের মুখে ঠেলে দিই, তা হলে ‘অতিথি দেবতা’-র আদর্শ থেকে বিচ্যুত হব না?’

এখন রোহিঙ্গারাতো বিপদে পড়ে এসে কাউকে বলছে না যে আমাদের সাবেক দেশে আমাদের আবার আশ্রয় দাও। তাহলে এই বিপন্ন মানুষগুলোকে নিয়ে এত আদাজল খেয়ে বিরোধিতা কেন? তারা ইয়াবা ব্যবসায়ী? আপনাদের একজন এমপির নাম ‘ইয়াবা বদি’! তার গায়ে হাত দেওয়ার মুরোদ নেই বিপন্ন রোহিঙ্গাদের নিয়ে এত জোর দেখানো কি অক্ষমের আর্তনাদ? রোহিঙ্গারা নাকি জঙ্গি! এত জঙ্গি ধরা পড়ছে, হলি আর্টিজানের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেও পাওয়া গেছে, রোহিঙ্গা জঙ্গি পাওয়া গেলো কোন ঘটনায়? এসব কথাবার্তার সঙ্গে মিয়ানমার নির্যাতক সরকারের পার্থক্য কোথায়? প্লিজ, রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ অনেক মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে এবং করছে। এসব শ্রদ্ধার কাজগুলোকে বেফাঁস মন্তব্যে পণ্ড করবেন না। আমার এক বন্ধু লিখেছেন রোহিঙ্গারা পাহাড় ধ্বংস করছে। বিপন্ন আশ্রয়হীন মানুষেরা আশ্রয়ের জন্যে এসেছে। তাদের প্রাথমিক মাথাগোঁজার ঠাই করা গেলে কি তারা অন্য কিছু করতো? বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের প্রথমে স্কুল কলেজে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। পরে তাদেরকে স্থানান্তর করা হয় শরণার্থী ক্যাম্পে। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়ি শরণার্থীরা যখন ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন তখন তাদেরও বছরের পর নানা ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। আমরা একটা শরণার্থী জাতি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর শেখ হাসিনা-রেহানাও জার্মানিতে-ভারতে শরণার্থীর মর্যাদায় ছিলেন। এসব যেন আমরা ভুলে না যাই। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলে আমরা দেশে ফিরে আসতে পেরেছি। ভারত অস্ত্র-ট্রেনিং দিয়েছে বলে আমরা পেরেছি। রোহিঙ্গাদের ভাগ্য বাংলাদেশিদের মতো প্রসন্ন না। তাদের সংগঠনগুলোকে কেউ সহায়তা দিচ্ছে না। উল্টো মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে গলা মিলিয়ে সন্ত্রাসী বদনাম দেওয়া হচ্ছে! অথচ রোহিঙ্গাদের পেশা মূলত কৃষি। কৃষি শ্রমিক হিসাবেই তারা ওই অঞ্চলে গিয়েছিল। একদল বলছেন রোহিঙ্গারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। সেটিতো ১৯৪৭-৪৮ এর কথা। গণভোটে সিলেটের অংশ পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়াতেইতো আজকের সিলেট বাংলাদেশে। একই গণভোটের কারণে সিলেটের আরেক অংশ আজ ভারতে। আমার এক বন্ধু রোহিঙ্গাদের কী করতে হবে না হবে সে রকম একটি ফর্মুলা দিয়েছেন। শরণার্থীদের আচরণবিধি জাতিসংঘ সনদেই বলা হচ্ছে। জীবন বাঁচাতে আমাদের যে সব ব্লগার ইউরোপের দেশগুলোতে গেছেন তাদের প্রথমে ক্যাম্পে রাখা হয়। প্রটেকশন হয়ে যাওয়ার পর স্বাধীনভাবে ক্যাম্পের বাইরে থাকতে পারছেন। ইউরোপে যারা গেছেন তারা দেশে ফেরার চিন্তা নিয়ে যাননি। দেশে ফেরাও তাদের জন্যে কঠিন। জার্মানিতে প্রটেকশন প্রাপ্তরা ১২ বছরের আগে দেশে ফিরতে পারবেন না। প্রটেকশন পাওয়ার পর অনেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে ভারত পর্যন্ত যাচ্ছেন।

রোহিঙ্গা যারা অস্ট্রেলিয়া এসেছেন তাদের অনেককে জাতিসংঘ উদ্ধাস্তু হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্যাম্প থেকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া থেকে যারা নৌকায় এসেছেন তারা অস্ট্রেলিয়ায় জলসীমায় ঢোকার পর তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর নিয়ে রাখা হয় ক্রিসমাস আইল্যান্ডের জেলখানায়। এদেশে যেহেতু কাউকে জেলখানায় রাখা অনেক ব্যয়বহুল তাই রোহিঙ্গাদের কমিউনিটি রিলিজে মুক্তি দিয়ে তিন-চার বছরের ভিসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া দিয়ে বলা হয়েছে কাজ করে খাও। কাজ করে টাকাপয়সা জমিয়ে দেশে ফেরত যাও। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া এই রোহিঙ্গাদের কোনোদিন বের করে দিতে পারবে না। কারণ তারা প্রকৃত শরণার্থী। তাদের কোনও দেশ নেই।

আমার আওয়ামী সমর্থক অনেক বন্ধু হয়তো মনে করছেন রোহিঙ্গা সমস্যা সরকারের চাপ বাড়াবে। সে কারণে তারা এখানে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের চরম বিরোধী। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত আটকে পড়া পাকিস্তানিদের একজনকেও কি পাকিস্তানে ফেরত পাঠাতে পেরেছেন? এখনতো কেউ আর তাদের নিয়েও বলেনওনা। রোহিঙ্গারা বাঙালি হওয়া ছাড়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তাদের কোনও অপরাধ নেই। তাদের প্রতি মানবিক আচরণ দেখালে তাদের সমস্যাটি মানবিকভাবে হ্যান্ডেল করা গেলে এর একটি আন্তর্জাতিক ইতিবাচক ফলাফল আসতে পারে। নোবেল শান্তি পুরস্কারও আসতে পারে শেখ হাসিনার জন্যে।

আমার বিশ্বাস রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আন্তর্জাতিকভাবে নাড়া দেওয়ার ঘটনাটি মানবিক-বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে হ্যান্ডেল করা গেলে তা শেখ হাসিনার জন্যে বয়ে আনতে পারে নোবেল পুরস্কারের সম্মান। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শকদের বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।

লেখক: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাংবাদিক

‘ মা আমি ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে চান্স পে‌য়ে‌ছি , তোমা‌কে আর ঝিয়ের কাজ কর‌তে হ‌বে না’

ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যালয়- ছেলেটি খুব জোরে জোরে হাটছে, দ্রুত শব্দ করে নিশ্বাস নিচ্ছে। স্বপ্ন নয়ত? না কই এইত রাজপথেই হাটছি। সামনে প্রায় ৩০০ গজ দূরে শাহবাগ মোড় দেখা যাচ্ছে, স্বপ্ন নয় সত্যি! পাঁচবার ডিন অফিসের নোটিশ বোর্ড দেখেছে, শুধু নিজে নয় অন্য প্রার্থী দিয়ে রোল নম্বরটি সঠিক কিনা যাচাই করেছে। না কোন ভুল হয়নিতো। ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা ও বোর্ডে টানানো ফল মিলে গেছে, কোন সন্দেহ নেই।

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক মোবারকের জন্য খুলে গেছে। তাকে হাতছানি দিয়ে বলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমাকে স্বাগতম। মাকে তাড়াতাড়ি খবরটা দিতে হবে। এখন ঘড়িতে সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট, তাড়াতাড়ি যেতে হবে। মাকে যে খবরটি দেয়া খুব প্রয়োজন। ক্ষুধা লেগেছে, খুব সকালে মেস থেকে বের হওয়ায় নাস্তা করা হয়নি। হাজারীবাগ থেকে হাকিম চত্ত্বর পর্যন্ত হেটে আসতে হয়েছে, অযথা পয়সা খরচ করা যাবেনা। অবশ্য খরচ করার মতো পয়সাও হাতে নেই। পকেটে হাত দিয়ে দেখি মাত্র ৫০ টাকা পকেটে আছে। গাজীপুরের কোনাবাড়ী পর্যন্ত লোকাল বাস ভাড়া ৪০ টাকা। দেরি করা যাবে না, তাহলে মাকে গিয়ে তার বাসায় মানে বস্তিতে পাওয়া যাবে না। গার্মেন্টস এর মেসে রান্না চড়াতে মা চলে যাবে দুপর ২টা ৩০ মিনিটে। রাতের খাবার রান্না করতে। দেরি হলে অনেক শ্রমিক রাতে এসে বিরক্ত হন। সুতরাং আমাকে তার আগেই কোনাবাড়ী পৌছতে হবে। আরো জোরে পা চালাতে হবে। শাহবাগ থেকে গাজীপুরের একটি বাসে চেপে ওঠে মোবারক।

প্রচন্ড গরম আর ক্ষুধা-তৃঞ্চা একটু ঝামেলা করছে, তবে শরীরের শক্তি যেন আজ দ্বিগুণ হয়েছে। মাকে আজ খবরটা দিতে হবে, হাজারো স্মৃতি আজ তাকে তাড়া করছে। হঠাৎ মনে হলো এই সংবাদটি বাবাকেও দেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু কিভাবে? বাবার কথাতো তেমন মনে নেই। শুধু মনে আছে ছোটবেলা বাবা খুব আদর করতেন। সারাদিন অন্যের জমিতে কামলা খাটতেন, সন্ধ্যার সময় বাড়ি ফিরতেন। গামছার কোনায় ২টা লেবেন্সুস থাকত একটি মোবারকের অন্যটি তার ছোট ভাইয়ের জন্য। তখনো স্কুলে যাওয়ার বয়স হয়নি। বাবার পিঠে ২ বছরের ছোট ভাই উঠে ঘোড়ায় চড়ত। মোবারক পাশে থেকে খেয়াল রাখতো যাতে পড়ে না যায়। ২০০২ সালে একদিন সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফিরে হঠাৎ বাবা অসুস্থ হয়ে যায়। বাবার অনেক জ্বর আর কাপুনি হয়। জোরে জোরে চিৎকার করে কান্না করে বাবা, মা দিশেহারা হয়ে চিৎকার করে। মোবারক ও তার ছোট ভাই খুব ভয় পায়। রাতে পাশের গ্রাম থেকে অনেক কষ্টে মা একজন কবিরাজ নিয়ে আসে। মোবারকের আর কিছু মনে নেই।

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে বাবাকে বাইরে কাপড় দিয়ে ঢেকে শুইয়ে রাখা হয়েছে। আশেপাশের সবাই এসে বাবার মুখখানি একবার করে দেখেছে আর আফসোস করে চলে যাচ্ছে। হঠাৎ একটা ঝাকুনি খেয়ে মোবারকের চেতনা ফিরে আসে, বাস তো বেশিদুর এগুয়নি, সবে মাত্র কাওরানবাজার সিগনাল। ছোট ভাইটির খোজ নিতে হবে। ২০০৭ সালে তাকে সে নিজে নিয়ে এসে দুঃস্থ শিশু প্রশিক্ষন ও পূর্নবাসন কেন্দ্র গাজীপুর এ ভর্তি করার জন্য মায়ের কাছ থেকে নিয়ে আসে। তখন সে সেই প্রতিষ্ঠানের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র। মনে আছে বড় স্যারকে অনুরোধ করলে তিনি সহজেই রাজি হয়ে যান। তিনি ভাইকে প্রতিষ্ঠানে আবাসিক ছাত্র হিসাবে ভর্তি করে নেন। তার পর থেকে ২ ভাই একসাথে থাকা ঘুম, খেলাধুলা, পড়াশুনা।

২০১৬ সালে কোনাবাড়ী একটি বেসরকারি কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ। আর এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে দুঃস্থ শিশু প্রশিক্ষন ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বদৌলতে। কোনাবাড়ীতে ২০০৩ সাল হতে ২০১৬ পর্যন্ত আবাসিক ছাত্র হিসাবে বিনামূল্যে থাকা খাওয়া, ভরনপোশন ও লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ বহন করে এই প্রতিষ্ঠানটি। বাবা মারা যাওয়ার পর মা কতটা যে কষ্ট করেছে তা আজো মনে আছে। বাবা মারা যাওয়ার ২ দিন পর থেকে বাড়িতে আর খাবার নাই। অবুঝ ভাইটি ক্ষুধায় চিৎকার করেছিল। মাকে কতবার যে ভাত দিতে বলেছে কিন্ত মা কোন কথা বলে না, শুধু শাড়ির কোনা মুখে দিয়ে নিশব্দে কাদে। ভাইকে দেখে রাখতে বলে একটি থালা হাতে পাশের বাড়ি থেকে খাবার আনতে যায়।

মোবারক খুশি হয় মা খাবার নিয়ে আসবে, ভাইকে চুপ করতে বলে। অনেকক্ষণ পর মা খালি হাতে ফেরত আসে, মোবারক তার ভাইকে ঘুমিয়ে যেতে বলে। ঘুম থেকে উঠলেই খাবার আসবে বলে জানায়। সেদিন অনেক কষ্টে করে দুই ভাই ক্ষুধার্ত পেট নিয়েই ঘুমিয়ে পেড়ে। সকালে মা তাদের নিয়ে নানাবাড়ি রওনা দেয়। অনেকদূর হেটে বহু কষ্টে নানাবাড়ি পৌছায়। নানা বেচে নেই। তিন মামার অভাবের সংসার। তবু তারা তাদের খেতে দেয়। কিন্তু রাতে ঘুমানোর জায়গা নেই। তবুও অনেক কষ্টে মামাদের বাড়িতে সপ্তহ দুইয়ের মতো থাকার পর একজনের পরামর্শে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অবুঝ দুই শিশুসহ অজানার পথে মা তাদের নিয়ে চলে আসেন। গাজীপুরে প্রথমদিকে মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতো। মোবারক সারাদিন ভাইকে নিয়ে বস্তিতে সময় কাটাতো। দুপুরবেলা মা তাদের জন্য কিছু খাবার নিয়ে আসত আর দুইভাই মিলে তা খেতো। কখনো মাকে তাদের সাথে খেতে দেখেনি। তারা খেয়ে বেশি হলে মা খেতো। তাদের এই অবস্থা দে‌খে একজন পরামর্শ দিল মোবারককে দুঃস্থ শিশু প্রশিক্ষন ও পূনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করার জন্য এবং তাদের সহযোগিতায় মোবারক উক্ত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ লাভ করে।

নতুন জীবন শুরু হয়ে যায় মোবারকের। গাড়ি থেকে নেমে মাগো মা বলে চিৎকা‌র দিয়ে মোবারক ঘ‌রে প্র‌বেশ ক‌রে মা‌কে জ‌ড়ি‌য়ে ধ‌রে ব‌লে, আমি ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে চান্স পে‌য়ে‌ছি মা। তোমা‌কে আর কষ্ট ক‌রে ঝিয়ের কাজ কর‌তে হ‌বে না। তোমার দোয়া কবুল হ‌য়ে‌ছে। এই ব‌লে মোবারক অঝর ধারায় কাদ‌তে থা‌কে। মা তা‌কে সান্ত্বনা দেয়। ব‌লে, খোকা আমার কে ব‌লে‌ছে আমিভ কষ্ট ক‌রে‌ছি, আমিক দোয়া ক‌রি তুই মানু‌ষের ম‌তো মানুষ হ‌বি। তাহ‌লে ম‌রেও আমি শা‌ন্তি পাব। মে।বোরক ব‌লে জানো মা আমির গত ৩ বছর রা‌তে ঘুমহীন। যখনই ঘুমাতেন যাই তখনই তোমার কথা ম‌নে হতো। সকালের খাবার তৈ‌রি কর‌তে তুমিা রাত ২টা হ‌তে মে‌সে রান্নার কাজ কর‌তে চ‌লে যাও সারা রাত তুমি না ঘু ‌মি‌য়ে কাজ কর ব‌লে ডুক‌রে কে‌দে উঠে্। আমাুর তখন আর ঘুম আসে না মা। সারারাত পড়ার চেস্টা করতাম। আজ তার ফল পে‌য়ে‌ছি মা। আমি আর তোমা‌কে কষ্ট কর‌তে দেবনা মা। পৃ‌থিবীর সর্ব‌শ্রেষ্ঠ মা হিসা‌বে তোমা‌কে  প্রতিষ্ঠিত করব।

বাংলাদেশ ভ্রমণে আবারো যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি

বাংলাদেশে নতুন করে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হুমকি অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশে অবস্থানরত এবং বাংলাদেশে ভ্রমণেচ্ছু মার্কিন নাগরিকদের প্রতি এ সতর্কতা দেয়া হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবলম্বন ও সতর্ক থাকার পাশপাশি স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে মার্কিনিদের।
শনিবার বিকেলে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২৪শে আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে এই সতর্কতা কার্যকর হয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশি নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে, ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড আশ শাম (আইসিস) এবং আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) দেশজুড়ে সন্ত্রাসী হামলা পরিকল্পনা বা হামলা চালানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্চ মাসে ঢাকার হজরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দু’টি আত্মঘাতী বোমা হামলার চেষ্টা চালানো হয়। আর সিলেটে এক বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত হন। এ ঘটনা দুটো ২০১৬’র ১লা জুলাই ঢাকার কূটনৈতিক পাড়ার একটি রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসীদের হাতে এক মার্কিন নাগরিকসহ ২০ জনের প্রাণহানি হওয়া হামলার পর প্রথম উল্লেখযোগ্য হামলা।
সতর্কবার্তায় আরো বলা হয়, ২০১৬ সালের অক্টোবরে আইসিস হুমকি দিয়েছিল-বাংলাদেশের সব চেয়ে ‘সুরক্ষিত এলাকাগুলোতে’ তারা ‘অভিবাসী, পর্যটক, কুটনীতিক, গার্মেন্ট বায়ার, মিশনারি এবং স্পোর্টস টিমগুলোকে’ টার্গেট করে হামলা চালাবে। নিয়মিত হুমকি এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রেক্ষিতে দূতাবাস মার্কিন সরকারি কমকর্তাদের কঠোর নিরাপত্তা দিকনির্দেশনার অধীনে বাংলাদেশে বসবাস, কাজ এবং ভ্রমণ করার নির্দেশ দিয়েছে।
নতুন সতর্কবার্তা মোতাবেক, এখন থেকে মার্কিন সরকারী কর্মকর্তাদের স্বামী-স্ত্রী বা সঙ্গি-সঙ্গিনী ঢাকায় থাকার বা ফেরার অনুমতি পাবেন। এর আগে শুধুমাত্র মার্কিন সরকারের নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের ঢাকায় থাকা বা ফেরার অনুমতি ছিল। কর্মকর্তাদের পরিবারের অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ঢাকায় থাকার নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকছে। ঢাকাস্থ দূতাবাসের মার্কিন সরকারী কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের পায়ে হেটে, মোটরসাইকেলে, বাইসাইকেলে, রিকশায় বা অন্য কোন অরক্ষিত যানে চলাচলের অনুমতি নেই। তারা সাইডওয়াকেও চলতে পারবেন না। এছাড়া, বাংলাদেশে বড় কোন জনসমাগমের স্থান বা অনুষ্ঠানে যাওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, মার্কিন দূতাবাস চালু থাকবে এবং সকল প্রকার কনস্যুলার সেবা দেয়া অব্যাহত থাকবে। নতুন এই সতর্কবার্তা চলতি বছর ৫ই জানুয়ারি জারি করা সতর্ক বার্তার বদলে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

ত্রাণ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মা ও সন্তান পানিতে ভাসছে

লালমনিরহাট: বন্যায় বসত বাড়ি ভেঙে গেছে। এখনও মেরামত করা সম্ভব হয়নি। সরকারি ত্রাণে চলছে তাদের সংসার। শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকালে সোনালী ব্যাংকের এমডির দেয়া ত্রাণ আনার জন্য পাশে মিলন বাজারে আসেন মা  জাহানারা বেগম ও বাচ্চা মেয়ে।

১০ কেজি চাল ও ৩ কেজি ত্রাণের আলু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মা ও মেয়ে  পানিতে ডুবে মারা গেছে। মা ও মেয়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার মধ্য গড্ডিমারী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের কন্যা।

ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, বন্যার পানিতে রিকশাচালক আনোয়ারের বসত বাড়িতে একটি গর্ত হয়। আর্থিক সঙ্কটের কারণে ওই গর্ত এখনও ভরাট করা সম্ভব হয়নি তাদের।

শুক্রবার বিকালে আনোয়ারের স্ত্রী জাহানারা বেগম ত্রাণের জন্য পার্শ্ববর্তী মিলন বাজার আবুল হাসেম আহেম্মদ মাদ্রাসায় যায়। এ সময় অথই পানি  পাড় না হতে পেরে মা ও মেয়ে পেটের দায়ে দুনিয়া ছাড়তে হয় ।