মানুষ যতদিন বাঁচবে তত দিন শ্বাস নিবে ,আর শীত আসলে আমাদের ছোটোখাটো শ্বাস কষ্ট দেখা দেয়

মানুষ যতদিন বাঁচবে তত দিন শ্বাস নিবে , আর যে দিন শ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে সেদিনই মানুষ পরলোক ভ্রমণ করবে
আর শীত আসলে আমাদের ছোটোখাটো শ্বাস কষ্ট দেখা দেয় ।
আর এ থেকে রক্ষা পেতে হলে আপনাকে যা করতে হবে , নিচের সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

স্বাস্থ্য বার্তাঃ হাঁপানি থেকে রক্ষার পাওয়ার উপায়। যাদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় তাদের বলা হয় এজমার রোগী। বাংলায় বলে হাঁপানি, এজমা হলে মানুষের শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা হয়। সে সময় নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, শ্বাসের সঙ্গে একটা টান চলে আসে। এই টানকে বলে হাঁপানি। যখন মানুষের লাংগস কিংবা ফুসফুস যথেষ্ট পরিমাণ বাতাস টানতে পারে না, তখন শরীরে বাতাসের অভাব দেখা দেয়। আর এটাকে আমরা এজমায় আক্রান্ত হওয়া বুঝে থাকি। শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে বেশি। আর শীতকালে ঠাণ্ডাজনিত এলার্জির কারণে এজমা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে এজমা কিংবা হাঁপানি রোগ বাড়ছে।

গ্রীক ভাষায় এজমা শব্দের অর্থ হলো হাঁপ ধরা অথবা হ্যাঁ করে শ্বাস টানা। গ্রীক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস যে কোন ধরনের শ্বাস কষ্টকে হাঁপানি নাম দিয়ে ছিলেন। এজমা বা শ্বাসকষ্ট এমন একটা রোগ যার নির্দিষ্ট কোন কারণ নেই। আবার যার এজমা আছে সে কখনো এই রোগ থেকে একেবারে ভালো হবে না কিন্তু নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। এজমাকে বলা হয় এমন একটা রোগ যার নিয়ন্ত্রণ একমাত্র চিকিৎসা। এজমার প্রবণতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। উন্নত দেশ বলুন আর উন্নয়নশীল দেশই বলুন সব স্থানেই এজমা বেড়েই চলেছে। ৩০০ মিলিয়ন মানুষ বর্তমানে সারাবিশ্বে এই রোগে ভুগছেন। ২০২৫ সালের মধ্যে আরো ১০০ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কম বয়সের ছেলেদের মাঝে এই রোগ বেশি দেখা যায়। আর প্রাপ্ত বয়সের রোগীদের মাঝে মহিলারা বেশি আক্রান্ত হয়। এজমা রোগ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে স্কুল, কলেজ, কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। প্রায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, অনেক সময় মৃত্যুও হতে পারে।
হাঁপানি রোগীর শ্বাসনালী অতিরিক্ত সংবেদনশীল। এর ফলে কোন উত্তেজক যেমন ঘরে ধুলা, সিগারেটের ধোঁয়া, ঠান্ডা লাগা, ফুলের রেণু কিংবা পশুপাখির সংস্পর্শে আসা ইত্যাদিতে হঠাৎ করে শ্বাসনালী সংকুচিত করে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি করতে পারে। রোগীর শ্বাসনালীর পথ স্বাভাবিক অবস্থার থেকে সরু হয়ে যায়, ফলে ফুসফুসে বাতাস প্রবেশের পথে বাধার সৃষ্টি হয়। ফলে বুকের মধ্যে শব্দ হয়, শ্বাস নিতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়, কাঁশি হয়, বুকে ভার হয়ে চেপে আসে। এই আক্রমণ মৃদু আকারে দেখা দিলে সামান্য ওষুধ কিংবা ওষুধ ছাড়াই ভালো হয়ে যেতে পারে, আবার এটা মারাত্মক আকার ধারণ করে রোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। সঠিক চিকিৎসা হলে এই ধরনের মৃত্যুর ৯০% রোধ করা সম্ভব। এছাড়া রোগীর শ্বাসনালীতে দীর্ঘ মেয়াদী প্রদাহ হয়ে থাকে। একই পরিবেশে একজনের এজমা অ্যাটাক হচ্ছে কিন্তু অন্য জনের হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ ঐ আবহাওয়ায় এমন কিছু জিনিস আছে, যার এজমা অ্যাটাক হলো সে ঐ জিনিষের প্রতি সংবেদনশীল। ঐসব জিনিষকে বলা হয় এজমা ট্রিগার কিংবা অ্যালার্জি। এজমা ট্রিগার কিংবা অ্যালার্জি গুলো মোটামুটি নিম্নরূপঃ
১. ধুলো বালি,
২. ফুলের রেণু,
৩. পোকা মাকড়,
৪. ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম,
৫. কিছু ওষুধ (যেমন এসপিরিন)
৬. আবেগ (দুঃখের, ভয়ের কিংবা আনন্দের কারণে হতে পারে),
৭. ধূমপান,
৮. পোষা প্রাণী।
৯. ঠাণ্ডা এবং ভাইরাস,
১০. পশু-পাখীর লোম ইত্যাদি।

শ্বাসনালীতে respiratori syncytial ভাইরাস আক্রমণ করলে এজমা হতে পারে। এছাড়া যৌন কার্যক্রম কারো ক্ষেত্রে এজমা অ্যাটাক করতে পারে। এসব অ্যালার্জি একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। কারো একটা, দুটো কারো পাঁচ সাতটা থাকতে পারে। সুতরাং এজমা অ্যাটাক থেকে বাঁচার জন্য অবশ্যই ধরণ অনুযায়ী এগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। যেসব কারণে হাঁপানি সৃষ্টি হয়ে থাকে, তার উপর ভিত্তি করে এজমা কে দুভাগে ভাগ করা যায়।
এলার্জি কিংবা বাহিরের কারণ জনিত এজমা এর ফলে কোন উত্তেজক যেমন ঘরের ধুলো, ধুলো বালি, ফুলের গন্ধ, নানা ধরনের খাদ্যদ্রব্য, ছত্রাক, সিগেরেটের ধোঁয়া, ঘরের ঝুল ঝাড়া, ঠাণ্ডা লাগা, ফুলের রেণু কিংবা পশুপাখির সংস্পর্শে আসা ইত্যাদিতে হঠাৎ করে শ্বাসনালী সংকুচিত করে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি করতে পারে। জন্ম থেকে এদের হাঁপানি হওয়ার প্রবণতা থাকে। অনেক সময় এসব রোগীর এলার্জির অন্যান্য উপসর্গ থাকতে পারে। যেমন এলার্জিক rhinitis, ইত্যাদি। জীবনের প্রথম দিকে এধরনের হাঁপানি হয়ে থাকে।
Spasmodic কিংবা ভিতরগত কারণ জনিত এজমাঃ
এধরনের রোগীদের এলার্জির কোন ইতিহাস থাকে না। জীবনের শেষ দিকে অর্থাৎ অধিক বয়সে এরূপ হাঁপানি হয়ে থাকে।
শ্বাসকষ্ট, বুকে আওয়াজ, বুকে চাপ বোধ হওয়া, কাশি উঠতে থাকে। কোনো কোনো সময় কাশি একমাত্র লক্ষণ হতে পারে। প্রায় সময়ই রাত্রে, ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রমের সময় হয়। তবে যেকোন সময়ই এজমা অ্যাটাক হতে পারে।
চিকিৎসাঃ হাঁপানি তীব্র আক্রমণ হলে রোগীকে সোজা করে বসান, শান্ত করুন এবং আশ্বস্ত করুন। Salbutamol জাতীয় মেডিসিন ৫বার খাবেন, ৫চাপ ওষুধ নেন, প্রতি চাপ নেওয়ার পর ৫সেকেন্ড দম বন্ধ রাখুন, ৫মিনিট পরে আবার একই ভাবে মেডিসিন ব্যবহার করুন। কোন পরিবর্তন না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। এলার্জি জনিত হাঁপানির ক্ষেত্রে যেসব জিনিষে রোগীর শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পায় সেগুলো পরিহার করা উচিৎ।
এজমা প্রতিরোধের উপায়
১. এলার্জি কারক বস্তু এড়িয়ে চলুন। যেমনঃ ধুলো, বালি, ঘরের ঝুল, ধোঁয়া ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।
২. ঘর বাড়িকে ধুলো বালি থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করা। এজন্য দৈনিক অন্তত একবার ঘরের মেঝে, আসবাপত্র, ভিজা কাপড় দিয়ে মুছতে হবে। অথবা ভ্যাকিউম ক্লিনার ব্যবহার করা।
৩. ঘরে কার্পেট রাখবেন না।
৪. বালিশ, তোষক, ম্যাট্রেসে তুলা ব্যবহার না করে স্পঞ্জ ব্যবহার করা।
৫. শীতকালে যথা সম্ভব গরম পানিতে গোসল করা।
৬. ধূমপান করবেন না।
৭. যেসব খাবারে এলার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তা পরিহার করে চলুন।
৮. ঠাণ্ডা খাবার, আইসক্রিম ইত্যাদি খাবেন না।
৯. মানসিক চাপ, উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তাকে ইতিবাচক মনোভাবে মানিয়ে চলুন। কিংবা মানসিক চাপের কারণকে এড়িয়ে চলুন।
১০. পেশাগত কারণে এজমা হলে চেষ্টা করতে হবে স্থান কিংবা পেশা পরিবর্তন।
১১. পরিশ্রম কিংবা খেলাধুলার কারণে শ্বাসকষ্ট বাড়লে চেষ্টা করতে হবে পরিশ্রমের কাজ কম করতে।
১২. সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করবেন। ইতিবাচক মন আপনাকে ভালো থাকতে সাহায্য করবে।
১৩. রেণু পরিহারে সকাল কিংবা সন্ধ্যা বাগান এলাকায় কিংবা শস্য ক্ষেতের কাছে যাবেন না।
১৪. রেণু এলাকা থেকে বাসায় ফিরে মাথার চুল ও কাপড় ধুয়ে ফেলুন।
১৫. কুকুর বিড়াল বাগান থেকে রেণু বহন করতে পারে। এজন্য নিয়মিত কুকুর বিড়ালকে গোসল করানো প্রয়োজন।
এজমা নিয়ন্ত্রণে আনতে যা করা উচিৎ
১. ধূমপান করবেন না। ধূমপায়ী ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলুন।
২. শয়নকক্ষে খুব বেশি মালামাল রাখবেন না।
৩. ঘরের সম্ভাব্য সব কিছু ঢেকে রাখবেন, যাতে ধুলো বালি কম উড়ে।
৪. টিভি, মশারি স্ট্যান্ড, সিলিং, পাখার উপর জমে থাকা ধুলো বালি সপ্তাহে একবার অন্য কাউকে দিয়ে পরিষ্কার করে নিবেন।
৫. শোকেস কিংবা বই selfie রাখা পুরনো খাতা, ফাইল, বইপত্র অন্য কাউকে দিয়ে ঝেড়ে নিবেন।
৬. বাস, মোটর গাড়ি কিংবা যানবাহনের ধোঁয়া থেকে দূরে থাকবেন।
৭. উগ্র সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না। তীব্র দুর্গন্ধ, ঝাঁজালো গন্ধ থেকে দূরে থাকুন।
৮. বাসায় হাঁস, মুরগি, বিড়াল, কুকুর, পোষাপ্রাণী যেন না থাকে এবং এগুলোর সঙ্গে মেলামেশা করবেন না।
৯. বাড়িতে ফুলের গাছ লাগাবেন না।
১০. ঘাসের উপর বসে থাকা পরিহার করুন। নিজে ঘাস কিংবা গাছ কাটবেন না।
১১. শীতে গরম পানি দিয়ে গোসল করবেন এবং শীতের কাপর ব্যাবহার করবেন।
১২. শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। জোরে শ্বাস টানুন, প্রায় ১৫ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখুন। দুই ঠোঁট শীষ দেওয়ার ভঙিতে আনুন এবং ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে শ্বাস ফেলুন প্রতিদিন সকাল ও বিকালে ১০ মিনিট করে মুক্ত পরিবেশে।
১৩. সর্বদা ভয় ও চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন এবং কখনো হতাশাগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পরবেন না।
১৪. ছোট বাচ্চারা পুতুল নিয়ে খেলা করবে না।
১৫. ঘর ঝাড়ু দেবেন না। ঘর ঝাড়ু দিতে হলে মাস্ক, তোয়ালে কিংবা গামছা দিয়ে নাক বেঁধে নেবেন।
১৬. কাশি শক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো এন্টিবায়োটিক ওষুধ খাবেন।
১৭. ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি কম খাবেন। হালকা গরম পানি পান করবেন।
১৮. বিছানার চাদর কিংবা বালিশের কভার পাঁচ দিন পর ধুয়ে ব্যবহার করবেন।
১৯. মশারি সপ্তাহে একবার ধুঁয়ে ব্যবহার করবেন।
২০. যদি কোনো খাবারে সমস্যা হয়, Example: গরুর মাংস, ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ, হাঁসের ডিম, বেগুন, কচু, পাকা কলা, আনারস, নারিকেল ইত্যাদি কম খাবেন।
২১. সর্বদা ধুলো বালি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।
২২. এলার্জি কিংবা এজমা কোনো কঠিন রোগ নয়, একটু মনযোগী হলে এটি নিয়ন্ত্রণে রেখে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা সম্ভব।
২৩. ডাক্তারের দেওয়া সব নিয়ম, পরামর্শ, ব্যবস্থাপত্র যথাসম্ভব মেনে চলুন।
২৪. শীতকালে এজমা রোগীদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

ভাল লাগলে অবশ্যই মন্তব্য করে আমাদের জানাতে ভুলবেনা, আপনাদের মন্তব্য আমাদের আরো অনেক অতসাহিত করবে। সবাই ভাল থাকবেন।

মাত্র ১ মিনিটেই ঘুমিয়ে পড়ার জাদুকরী উপায় দেখুন

আপনার ঘুম দেরিতে আসলে এই ভিডিওটি আপনার জন্য
জানতেন কি ? মাত্র এক মিনিটেই ঘুমিয়ে পড়তে  পারেন আপনি! ঘুম নিয়ে মানুষের সমস্যার কোন কমতি নেই। বেশীরভাগ মানুষ সময়মত ঘুমাতে পারেন না। বিছানায় শোবার পরও ঘুম আসার কোন খবর থাকে না। যার ফলে দেখা যায় বিভিন্ন ধরণের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা। যাই হোক, আমাদের সকলের পর্যাপ্ত পরিমাণ ও সময়মত ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে। এর জন্য কিছু সহজ … চেষ্টা করেই দেখুন না।

ত্বকের যে সমস্যাগুলো দেখে বুঝে নিবেন ডায়াবেটিস আসন্ন

দেহের যেকোনো অংশে আক্রমণ চালাতে পারে ডায়াবেটিস। এর মধ্যে একটি অংশ ত্বক। ঘটনাক্রমে অনেক ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিস আক্রমণের প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পায় ত্বকের মাধ্যমে। বিস্তারিত ভিডিওতে দেখুন …

ভালো খবরটি হলো, ডায়াবেটিস সংশ্লিষ্ট ত্বকের সমস্যার অধিকাংশই চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান মেলে, যদি তা আগে থেকেই চিহ্নিত করা যায়। এখানে বিশেষজ্ঞরা কিছু ত্বকের সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

লক্ষনগুলো জেনে রাখুন তাহলে সহজেই স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারবেন

শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে বাড়ছে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের হার। লক্ষনগুলো জেনে রাখুন তাহলে সহজেই স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারবেন

দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে পুরুষের কি কি ক্ষতি হয় জানলে জীবনেও এই কাজটি করবেন না

দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা ক্ষতিকর কেন ? বিজ্ঞান কি বলে? চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষনায় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে পুরুষের যেসব মারাত্মক ক্ষতি হয় আসুন তা জেনে নেই।

(১) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে পেটের উপর কোনে চাপ পড়ে না। ফলে দূষিত বায়ু বের হতে পারেনা। বরং তা উপর দিকে উঠে যায়। ফলে অস্থিরতা বা্ড়ে, রক্ত চাপ বাড়ে, হৃদযন্ত্রে স্পন্দন বাড়ে, খাদ্যনালী দিয়ে বার বার হিক্কা আসতে থাকে ।

(২) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে প্রস্রাবের থলি সরু ও লম্বা হয়ে ঝুলতে থাকে ফলে প্রস্রাবের দূষিত পদার্থগুলো থলির নিচে গিয়ে জমা হয়। অথচ বসে প্রস্রাব করলে প্রস্রাবের থলিতে চাপ লাগে ফলে সহজেই ওসব দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায়।

(৩) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে কিডনিতে অতি সহজে পাথর সৃ্ষ্টি হয় ।

(৪) দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে প্রস্রাবের বেগ কমতে থাকে।

(৫) যারা নিয়মিত দাড়িয়ে প্রস্রাব করেন তাদের অবশ্যই শেষ জীবনে ডায়াবেটিস, জন্ডিস, কিডনী রোগ হবেই ।

(৬) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে পুরুষের যৌন শক্তি কমতে থাকে এবং পুরুষাঙ্গ নরম ও তেনা তেনা হয়ে যায় এবং সহজে সোজা ও শক্ত হতে চায় না। উত্তেজনার সময় যদিও শক্ত হয় কিছুক্ষন পর কিছু বের না হতেই তা আবার ছোট ও নরম হয়ে যায় ।

(৭) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে পরিবেশ দূষিত হয়। সেই দূষিত বায়ু আমাদের দেহে প্রবেশ করে বিভিন্ন জটিল রোগের সৃষ্টি করে ।

(৮) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে তার ছিটা দেহে ও কাপড়ে লাগে ফলে তা দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে ।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বলে উপরোক্ত দৈহিক সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমাদের অতি অবশ্যই বসে প্রস্রাব করা উচিত।

অথচ সর্বশ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) চৌদ্দশত বছর আগেই দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন এবং বসে প্রস্রাব করার আদেশ দিয়েছেন।

“ওমর (রা:) বলেন- নবী(স:) কোন একদিন আমাকে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে দেখে বললেন, হে ওমর তুমি কখনই দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করবে না। এরপর আমি আর কখনই দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিনি”। (তিরমীযি হাদীস/১২)

দৈনিন্দন জীবনে বিছানা ছাড়ার আগে…

ঘুম থেকে শরীরের জড়তা না কাটিয়ে দ্রুত বিছানা থেকে নেমে যাওয়ার কারণে হারনিয়েটেড ডিস্ক অর্থাত্ মেরুদণ্ডে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই তাড়াহুড়া না করে ১০ মিনিট সময় নিয়ে পূর্ণ ব্যাক স্ট্রেচ জাতীয় হালকা ব্যায়াম করুন। এই ব্যায়াম সারা দিন আপনাকে সতেজ রাখবে এবং ব্যাক পেইন কমাবে। কিভাবে করবেন জানালেন ফ্রেন্ডস ফিটনেস সেন্টারের প্রশিক্ষক এজাজ হোসেন

নিতম্ব
চিত হয়ে শুয়ে নিতম্ব দেয়ালের সঙ্গে ঘেঁষে দুই পা দেয়ালের ওপরের দিকে সমান্তরাল রাখুন, যেন পা আর দেহ অনেকটা ৯০ ডিগ্রি সমকোণের মতো হয়। এতে হাঁটুতে একটু আরাম বোধ হবে। নিতম্বের পেশির সুগঠনের জন্য যতটুকু ওপরের দিকে পা টান করে রাখা যায় ততই ভালো।

এক হাঁটু

চিত হয়ে শুয়ে এক হাঁটু বুকের কাছে টেনে আনুন এবং তা পাশ ফিরে বাঁকানোভাবে। চাইলে মাথার নিচে বালিশ দিতে পারেন। সুবিধা হবে। হাঁটু ধরে এ রকম ১০ বার করুন।

দুই পা একত্রে

চিত হয়ে শুয়ে বুকের কাছে দুই হাঁটু নিয়ে চোখ বন্ধ করে ৬ থেকে ১০ সেকেন্ড নিঃশ্বাস ধরে রাখুন। এরপর পা আবার প্রসারিত করে ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছেড়ে দিন। এ রকম পাঁচবার করুন।

বসে

শক্ত জায়গায় বসে হাঁটু ভাঁজ না করে হাত দিয়ে পায়ের শেষ প্রান্ত ধরার চেষ্টা করুন। এরপর হাঁটু ভাঁজ করে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসুন, নিয়মিত চর্চার ফলে ধীরে ধীরে আপনার হিপের চর্বি দূর হয়ে যাবে। ৩০ সেকেন্ড ধরে পাঁচবার করে করুন।

পিঠের|

চিত হয়ে শুয়ে একটা টাওয়েল গোল করে পিঠের নিচের দিকে দিন। ধীরে ধীরে হাত ও পা মেঝের সমান্তরালে ওপরে ওঠানোর চেষ্টা করুন, কাঁধ থেকে পা পর্যন্ত টান টান করে রাখুন। একটানা পাঁচ মিনিট করে করুন।

জেনে নিন | হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কি কি

হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো

আমাদের দেশে অনেক ব্যক্তিই হৃদরোগে ভুগছেন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা।

কেউ উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ, কেউবা ডায়াবেটিসজনিত হৃদরোগ কেউ হয়তোবা করোনারি আর্টারি ব্লকজনিত হৃদরোগ আবার কেউ কেউ রিং অথবা বাইপাস-পরবর্তী হৃদরোগে ভুগছেন। এসব ছাড়া আরও অনেক ধরনের হৃদরোগ যেমন- কার্ডিওমাইওপ্যাথি, হার্টের বাল্বের সমস্যা, থাইরয়েড হরমোনজনিত হৃদরোগ, মাতৃত্বকালীন হৃদরোগ, বাতব্যথা থেকে হৃদরোগ এবং হার্ট অ্যাটাক-পরবর্তী হৃদরোগ ইত্যাদি। আপনি যে ধরনের হৃদরোগেই ভোগেন না কেন সব ধরনের হৃদরোগের উপসর্গ প্রায় একই রকম, বিশেষ করে যখন রোগ পুরনো ও জটিল অবস্থায় পর্যবসিত হয়। চিকিৎসার মাধ্যমে হৃদরোগ একটা পর্যায় পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। হৃদরোগ চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রোগীকে স্বাভাবিক জীবনযাপনে সক্ষমতা দান করা, রোগের উপসর্গ থেকে রোগীকে

মুক্তিদান করা, রোগীর হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করা এবং সর্বোপরিভাবে রোগীকে মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে দূরে রাখা। আপনি যদি কোনো রূপ হৃদরোগে ভুগতে থাকেন তার মানে এই নয় যে, আপনি সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে ঘরে বসে বিশ্রামে থাকবেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করবেন। আমাদের সমাজে কিছু ভ্রান্ত ধারণা আছে যে, যে ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন তার কোনো ধরনের কাজকর্ম করা যাবে না, তাকে সব সময় বিশ্রামে থাকতে হবে এবং মাছ, মাংস, ডিম, দুধ জাতীয় সব ধরনের খাবার বর্জন করতে হবে। এ ধরনের সামাজিক ও পারিবারিক আচরণ রোগীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেকটা পঙ্গু করে ফেলে। রোগী তার মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। অনেকে হার্ট অ্যাটাকের ভয়ে সব সময় খুব বেশি ভীতিকর অবস্থায় দিন কাটাতে থাকেন। এসব কিছুকে বর্তমান যুগের কুসংস্কার বলা যেতে পারে। বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হলো, হৃদরোগীরা প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন, তারাও সামাজিক সব ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, যেমন চাকরি অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করতে পারবেন, তারা প্রায় সব ধরনের খাদ্যবস্তু পরিমিত মাত্রায় খেতে পারবেন, তবে কিছু কিছু বিষয় এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন- উত্তেজিত হওয়া, অত্যধিক মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টিকারী কাজকর্ম, বিশ্রাম গ্রহণ না করে দীর্ঘসময় ধরে একটানা কাজ করা ইত্যাদি। খাবারের মধ্যে চর্বি জাতীয় খাবার বিশেষ করে পশুর চর্বি বর্জন করতে হবে। তবে চর্বিবিহীন গরু-ছাগলের মাংসও একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় খাওয়া যাবে এবং খেতে হবে চর্বিবিহীন হাঁস-মুরগির মাংস। প্রায় সব ধরনের মাছ খেতে পারবেন। সপ্তাহে এক-দুইটা ডিম ও লিটারখানেক দুধও খাওয়া যাবে। শাকসবজি, ফলমূল প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে।

যারা হৃদরোগে ভুগছেন তাদের মধ্যে প্রায় সবাই কোনো না কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধপত্র গ্রহণ করছেন, এটাই স্বাভাবিক। তাদের মধ্যে অনেককেই দেখা যায়, ওষুধপত্র গ্রহণ করার পরও হৃদরোগের বিভিন্ন উপসর্গে ভুগতে থাকে। এ ক্ষেত্রে বলা যায় যে, আপনার চিকিৎসা সঠিকমাত্রায় হচ্ছে না, এর জন্য আপনাকে আবার চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যদি আপনার ঘনঘন শ্বাসকষ্ট হতে থাকে, সামান্য চলাফেরা বা হাঁটাহাঁটিতে শ্বাসকষ্ট হয়, সিঁড়ি বেয়ে দু-তিন তলায় উঠতে গেলে আপনি প্রচণ্ডভাবে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন, অজু, গোসল ও নামাজ পড়তে গেলে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন, টয়লেট করতে গেলে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন, অনেকেই আবার পরিধেয় পোশাক পরিবর্তনের সময় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়, আবার কেউ কেউ পেট ভরে খাওয়ার পর, বিছানায় শুইতে গেলে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে পড়েন, কারও কারও রাতে ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট হওয়ায় ঘুম ভেঙে যায়। এসব পরিস্থিতিতে আর দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। আগেই আলোচনা করেছি, হৃদরোগ চিকিৎসার একটা মূল লক্ষ্য হলো যে রোগীকে উপসর্গমুক্ত রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপনে সাহায্য করা। হৃদপিণ্ড দুর্বল হওয়ায় শারীরিক প্রয়োজনের পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয় যার ফলশ্রুতিতে শারীরিক কর্মকাণ্ডের সময়ে রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়ায় শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকে।   হজম প্রক্রিয়ার জন্য পেটে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং পেটের চাপ বৃদ্ধিতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

ডা. এম শমশের আলী, সিনিয়র কনসালটেন্ট

(কার্ডিওলজি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,

কনসালটেন্ট, শমশের হার্ট কেয়ার এবং মুন

ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী, ঢাকা।

যে কারণে শুভকাজে যাওয়ার আগে ডিম খেতে নেই!

ডিম অপছন্দ করেন এমন মানুষ হয়তো খুব কমই রয়েছেন। কারও প্রতিদিন একটা করে ডিম চাই। ডিমই যেন শেষ কথা। ডিমের রয়েছে কত রকমের লোভনীয় পদ। কিন্তু এই ডিম নিয়েও একটা সমস্যা রয়েছে।  

তবে এই সমস্যা আজকের নয়, চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে। আর তা হল, কোনও শুভ কাজে যাওয়ার আগে নাকি ডিম খেতে নেই। আর এই কথা বহু আগে থেকেই প্রচলিত। কিন্তু এর পেছনে ঠিক কি কারণ রয়েছে সেটি কিন্তু অজানা।

আসলে ডিম আমাদের শরীরে খুব দ্রুত গরম করে তোলে। এতে রয়েছে প্রোটিন-ফ্যাট। শুভকাজে যাওয়ার সময় শরীর-মাথা-মন ঠান্ডা রাখতে দই-এর ব্যবহার যেমন অনস্বীকার্য, তেমনই ডিম যেন পরিত্যাজ্য একটি খাবার। এসময় ডিম খেলে উত্তেজনা বা প্রেসার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর তার ফলে শুভকাজ পন্ড হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়। তাই শুভকাজে যাওয়ার আগে ডিম খেতে নিষেধ করা হয়। 

সজল-সাফার অন্যরকম রোমান্স

বিশেষ দিন উপলক্ষে বরাবরই ব্যস্ত থাকেন জনপ্রিয় অভিনেতা সজল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ঈদেও কাজ করছেন বেশকিছু নাটকে। সম্প্রতি ‘কে তুমি অপরাজিতা’ শিরোনামের একটি নাটকে কাজ করেছেন সজল। ফারিয়া হোসেনের রচনায় এটি পরিচালনা করেছেন চয়নিকা চৌধুরী।  নাটকটিতে সজলকে দেখা যাবে একজন ইঞ্জিনিয়ারের চরিত্রে। আর তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন এ প্রজন্মের মডেল-অভিনেত্রী সাফা কবির। এ জুটির অন্যরকম এক রোমান্স দেখা যাবে ‘কে তুমি অপরাজিতা’য়। অভিনয় প্রসঙ্গে সজল বলেন, নাটকটিতে আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার। গল্পটি বেশ মজার। সাফা আমার পাশের বাসায় থাকে।

তার পাশাপাশি বিল্ডিংয়ে থেকে পরস্পর প্রেমে জড়িয়ে যাই। দুজনের অন্যরকম এক রোমান্স দেখতে পাবেন দর্শক। আশা করছি ঈদের জন্য এটি বিশেষ এক চমক হবে। এ নাটকে আরো অভিনয় করেছেন মুনিরা মিঠু ও রিমু রোজা। প্রসঙ্গত নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর এটি ৩৪৪তম নাটক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি আমার ৩৪৪তম নির্মাণ।

গল্পটি দারুণ একটা থিম নিয়ে তৈরি করেছেন ফারিয়া হোসেন। আমিও সেটা খুব যত্নের সঙ্গে নির্মাণ করার চেষ্টা করেছি। দর্শক নিরাশ হবেন না বলেই আমার বিশ্বাস। নির্মাতা আরো জানান, গত ২৭ ও ২৮শে জুলাই রাজধানীর উত্তরার একটি শুটিং হাউসে নাটকটির দৃশ্যায়ন হয়েছে। আসছে কোরবানির ঈদে এটি বৈশাখী টিভিতে প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান চয়নিকা চৌধুরী।