সাবধান! ভুলেও হাঁচি আটকাবেন না!

আমরা অনেকেই লোকসমাজে হাঁচি দিতে চাই না। ভাবি যদি সম্মান চলে যায়। কিন্তু এমন করাটা একেবারেই উচিত নয়। কেন জানেন? কারণ হাঁচি আসার সময় তা আটকে দিলে আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। শুধু তাই নয়, আমাদের শরীরের একাধিক অঙ্গ এই কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাঁচি আসার কারণ ও এর কী কী ক্ষতিকর দিক রয়েছে, তা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।


আমাদের কখন হাঁচি আসে জানেন? 
আমাদের শরীরে যখন নানাবিধ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করার চেষ্টা করে, তখন শরীরের বিশেষ একটা মেকানিজম অ্যাকটিভেট হয়ে গিয়ে হাঁচি শুরু হয়। হাঁচির চোটে সেই সব ক্ষতিকর উপাদানগুলি আমাদের শরীর থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার/প্রতি ঘণ্টা স্পিডে বাইরে বেরিয়ে আসে। এবার বুঝলেন তো সুস্থ থাকতে হাঁচি কতটা জরুরি।
দেখা গেছে একবার হাঁচি আটকালে যে গতীতে বায়ু বাইরে বেরতে চাইছে, তা শরীরে ভিতরে চলে গিয়ে কান, মস্তিষ্ক, ঘার, ডায়াফরাম প্রভৃতি অংশে মারাÍক চাপ সৃষ্টি করে। ফলে ধীরে ধীরে শরীরের এই অংশগুলোর কর্মক্ষমতা কমে যেতে শুরু। এখানেই শেষ নয়, হাঁচি আটকালে আরও নানাবিধ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যে সম্পর্কে নিতে আলোচনা করা হল।
হাঁচি আটকানো ক্ষতিকারক কেন? 
হাঁচির সময় প্রায় ১০০-১৬০ কিলোমিটার/প্রতি ঘণ্টা গতিতে বায়ু নাকের ছিদ্র দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তাই সে সময় যদি এই বায়ু প্রবাহকে জোর করে আটকানো হয়, তাহলে তা সম গতিতে শরীরের ভিতরে চলে যায় এবং একাধিক অঙ্গের ক্ষতি সাধন করে। যেমন ধরুন কানে যদি এর প্রভাব পরে তাহলে কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে। ফলে কালা হয়ে যাওয়ার অশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এখানেই শেষ নয়, হাঁচি আটকালে শরীর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেড়ে যেতে শুরু করে। ফলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
চোখ, ঘার এবং মস্তিষ্কের মারাÍক ক্ষতি হয়:
রাজধানী ট্রেনের যে গতিবেগ, সেই সমান স্পিডে বায়ু প্রবাহ যখন চোখ এসে ধাক্কা মারে তখন একাধিক নার্ভ ড্যামেজ হয়ে যায়। এই কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং অন্ধত্বেরও আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। আর যদি ঘারে এর প্রভাব পরে তাহলে মারাÍক নেক ইনজুরি হতে পার। এখানেই শেষ নয়, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে এই গতি বেগে বায়ু প্রবাহ মস্তিষ্কের একাধিক নার্ভে গিয়ে আঁছড়ে পরলে অনের ক্ষেত্রেই স্টোক এবং সেই কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই বাঁচতে চাইলে এবার থেকে হাঁচি এলে আর আটকাবেন না দয়া করে।

যে ১০টি বিশেষ ক্ষমতা শুধু শিশুদেরই আছে


শিশুদের বিশেষ কিছু ক্ষমতা আছে, যা জেনে আপনি অবাক হবেন! 

রাতে সব কাজ শেষে মা যখন ঘুমাতে যান তখনও দেখা যায় তার  শিশু সন্তানটি পূর্ণ উদ্যমে খেলছে! মজার বিষয় হচ্ছে যখন শিশুর শক্তি প্রায় নিঃশেষিত হয়ে যায় তখন তারা আরো দ্রুত কাজ করতে পারে। আসলে শিশুদের বিশেষ কিছু ক্ষমতা আছে, শিশুর সেই সুপার পাওয়ারের বিষয়েই জানবো আজকের ফিচারে।

১। শিশুরা কাঁদে না

এটা পড়ে আপনি হয়তো ভাবছেন এর অর্থ কী? শিশুরাতো এই একটি কাজই করে। কিন্তু আসলে বিষয়টি সত্যি নয়।নবজাতক শিশুরা চিৎকার করে কিন্তু কাঁদে না! তাদের অশ্রুনালী বন্ধ থাকে। তাই শিশুর চোখে অশ্রু উৎপন্ন হয় না।

২। শিশুরা পানির নীচে ভালো অনুভব করে

একে ডাইভিং রিফ্লেক্স বলে। শিশুর ছয় মাস বয়সে এটি চলে যায়। এই বয়সের আগে যখন একটি শিশুকে পানিতে ডুবিয়ে দেয়া হয় তখন প্রাকৃতিকভাবেই তার শ্বাস আটকে রাখে  এবং তার  হাত-পা নড়াচড়া করা শুরু করে সাঁতারের জন্য।

৩। তারা একই সাথে ঢোক গিলতে ও শ্বাস নিতে পারে

নবজাতকের ক্ষেত্রে বড়দের চেয়ে ফ্যারিংক্স বেশি উঁচুতে থাকে। তারা যখন কোন কিছু গিলে তখন তাদের শ্বাসনালীর প্রবেশ পথটি এপিগ্লটিস দ্বারা বন্ধ হয় না। এ কারণেই নবজাতকেরা খাবার গলাধকরণের সময় সহজেই শ্বাসও নিতে পারে।

৪। প্রয়োজনে শিশু অনবরত হাঁচি দিতে পারে

বয়স্কদের তুলনায় শিশুর নাকের ছিদ্রপথ অনেক সরু থাকে। তাই এই পথ পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। না হলে শিশুর দম নিতে সমস্যা হয়, তাই সে অনিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়া ব্যবহার করে।  তাই নবজাতকের নাক পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত সে হাঁচি দিতে থাকে।

৫। তারা খুব সহজেই ঘুমিয়ে পড়ে

অনেকেই মনে করেন যে, যখন নবজাতক ঘুমায় তখন কোন শব্দ করা যাবে না, এমনকি কথা বলতে হবে ফিসফিস করে। তরুণ বাবা-মায়েরা তাদের শিশু সন্তানকে ঘুমাতে দেখে  বিহ্বল  হন। জোরে শব্দ হলে তারাই ভয় পেয়ে যান, শিশুর কিন্তু সমস্যা হয় না।

৬। প্রাকৃতিকভাবে বাচনভঙ্গি চিনতে পারে

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, শিশুরা মাকে কাছে পাওয়ার জন্য কাঁদে। তারা এটি পায় মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়ে যখন তারা মায়ের কন্ঠ শোনে।  

৭। কীভাবে হামাগুড়ি দিতে হয় তা জানে নবজাতক

বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে নবজাতকের সামর্থ্য আছে হামাগুড়ি দিয়ে মায়ের বুকের দিকে  যাওয়ার। এটা দেখার জন্য আপনি শিশুকে মায়ের পেটের উপর রাখতে পারেন। বিজ্ঞানের মতে নবজাতক দুধের গন্ধে আকৃষ্ট হয়।  

৮। শিশুরা খুবই নমনীয় হয়

শিশুর শরীরে ৩০০ টি হাড় থাকে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এগুলো বড় ও সংযুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ একক হাড়ে পরিণত হয়। কিন্তু এগুলো যুক্ত হওয়ার আগে শিশুর শরীর চূড়ান্ত রকমের নমনীয় থাকে। শিশুর এই গঠন তার জন্ম গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয়।

৯। তাদের চুলের ধরণে ব্যপক পরিবর্তন হয়  

সময়ের সাথে সাথে শিশুর চুল সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হতে পারে। তাদের চোখের রঙের ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে।

১০। শিশুর ওজন তিনগুণ বাড়লেও তারা মোটা হয় না  

শিশুর জন্মের প্রথম বছরে তারা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে তার ওজন ৩ গুণ বেশি হতে পারে। কিন্তু এটি তাদের গঠনে কোন প্রভাব ফেলে না।

চিকুনগুনিয়ার ব্যথা কমাতে যা করণীয়

চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা এডিস মশার (এডিস এজিপ্টি ও এডিস অ্যালবিটকাস) কামড়ের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। সম্প্রতি এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ঢাকাসহ ঢাকার আশপাশের এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব বেশি। এ রোগের প্রধান উপসর্গ হলো প্রচণ্ড জ্বর যা ১০৪-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে পাশাপাশি প্রচণ্ড ব্যথা যা ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন ভিন্ন কারও কারও ক্ষেত্রে সারা শরীর ব্যথা এবং কারও বা হাত ও পায়ের জয়েন্টগুলোতে ব্যথা।

এ জ্বরের তীব্রতা তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কমে গেলেও ব্যথা বেদনায় কষ্ট পাচ্ছেন আক্রান্ত ব্যক্তিরা। এ ব্যথা-বেদনা দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা জ্বর-পরবর্তী আথ্রাইটিস বা জয়েন্টের প্রদাহজনিত ব্যথায় ভুগছেন। একই সঙ্গে হাত ও পায়ের অনেকগুলো জয়েন্টগুলোতে ব্যথা হওয়ায় এই কন্ডিশনকে মেডিকেল পরিভাষায় পলিআথ্রাইটিস বলা হয়ে থাকে।

এক্ষেত্রে রোগীর হাত ও পায়ের আক্রান্ত জয়েন্টগুলো ফুলে যায়, নাড়াতে কষ্ট হয়, সকালে ঘুম থেকে উঠতে অনেক কষ্ট হয়, এ ধরনের উপসর্গ আরও কয়েক ধরনের আথ্রাইটিসে দেখা যায় যেমন-রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস, জুভেনাইল আথ্রাইটিস, অস্টিওআথ্রাইটিস ইত্যাদি তবে এক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগের ইতিহাস, ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন, প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করে থাকে।

করণীয় : ১. আক্রান্ত জয়েন্টে বরফ দিয়ে সেঁক দিতে পারেন, তাওয়েল বা সুতি কাপড়ের মধ্যে বরফ নিয়ে আক্রান্ত স্থানে ৫-১০ মিনিট দিনে ২-৩ বার ঠাণ্ডা সেঁক দিতে পারেন, কারণ এতে প্রদাহ কমে ব্যথা কমে যাবে তবে খেয়াল রাখতে হবে সরাসরি বরফ যেন চামড়ায় লাগানো না হয় সেক্ষেত্রে ফ্রস্ট বাইট বা আইস বার্ন হতে পারে।

২. যেহেতু জ্বরের কারণে শরীরে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দেয় তাই প্রচুর পরিমাণে ওরস্যালাইন, ডাবের পানি ও তরল খাবার খেতে হবে।

৩. এ ধরনের জ্বরে যেহেতু এসপিরিন বা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়, তাই ব্যথা কমানোর জন্য ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিরাপদ ও কার্যকরী পদ্ধতি। এক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন রকম চিকিৎসা নির্ধারণ করে থাকেন যেমন-ইলেকট্রোথেরাপি, ওয়াক্স বাথ থেরাপি।

লেখক:
ডা. এম ইয়াছিন আলী,
চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালটেন্ট ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ঢাকা।

জেনে নিন নিয়মিত লেবু চা খেলে কি হয়

সামান্য জিনিসেও জীবনের রস খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন লেবু চায়ের কথাই ধরুন না। আমরা অনেকেই দিনে বেশ কয়েকবার এমন চায়ে চুমুক দিয়ে থাকি। কিন্তু কখনও জানার চেষ্টা করি কি এই এক পেয়ালা চা আমাদের শরীরের ভাল করে না ক্ষতি?

শুনতে অবাক লাগলেও মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে শরীরের প্রায় প্রতিটি ভাইটাল অর্গ্যানের কর্মক্ষমতা বাড়াতে লেবু চায়ের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে লেবুতে উপস্থিত একাধিক কার্যকরী উপাদান আমাদের শরীরে প্রবেশ করা মাত্র নিজেদের খেল দেখাতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে আমাদের দেহের সচলতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে একাধিক রোগের প্রকোপও হ্রাস পেতে থাকে। যেমন…

১. শরীরকে বিষমুক্ত করে: খাবারের সঙ্গে এবং আরও নানাভাবে একাধিক ক্ষতিকর উপাদান প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে প্রবেশ করে চলেছে। আর রক্তে মিশতে থাকা এইসব টক্সিক উপাদান শরীরের পক্ষে একেবারেই ভাল নয়। তাই এ বিষয়ে সাবধান থাকাটা একান্ত প্রয়োজন। আর এই কাজটি করবেন কীভাবে? খুব সহজ! আজ থেকেই দিনে কম করে দুবার লেবু চা খাওয়ার অভ্যাস করুন, তাহলেই উপকার পাবেন। কারণ এই পানীয়টি টক্সিক উপাদানদের শরীর থেকে দ্রুত বার করে দিয়ে দেহকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. ভাইরাল ফিবারের প্রকোপ কমায়: খুব ঠান্ডা লেগেছে? সঙ্গে নাক দিয়ে অঝোরে ঝরছে জল? তাহলে এক্ষুনি এক ফ্লাক্স লেবু চা বানিয়ে রেখে দিন, আর দিনে কম করে ২-৩ বার পান করুন, দেখবেন উপকার পাবেন। কারণ লেবু আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। সেই সঙ্গে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াদের প্রকোপ কমিয়ে এমন ধরনের শারীরিক সমস্যাকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে লেবু চায়ে অল্প করে আদা মিশিয়েও খেতে পারেন। এমনটা করলে আরও দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।

৩. মানসিক চাপ কমে: পরিসংখ্যান ঘাঁটলেই জানতে পারবেন বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ স্ট্রেস সম্পর্কিত নানাবিধ রোগের শিকার। আর সব থেকে ভয়ের বিষয় হল আক্রান্তের মধ্যে প্রায় সিংহভাগই অল্পবয়সি। তাই তো এখন থেকেই প্রয়োজনীয় সাবধনতা অবলম্বন করা উচিত যাতে কোনও মারণ রোগ শরীরে এসে বাসা না বাঁধে। আর এক্ষেত্রে আপনার প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠতে পারে লেবু চা। কেন জানেন? যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে রক্তে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দিতে লেবু বিশেষ ভূমিকা নেয়। দেহে টক্সিনের মাত্রা যত কমতে থাকে, তত মস্তিষ্ক চনমনে হয়ে ওঠে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্ট্রেস লেভেল কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে মাথা যন্ত্রণা এবং সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগার মতো সমস্যাও দূরে পালায়।

৪. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে: মলিকিউলার নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড রিসার্চের প্রকাশ করা একটা রিপোর্ট অনুসারে লেবুতে উপস্থিত ফ্লেবোনয়েড রক্তে লিপিডের পরিমাণ কমায়, সেই সঙ্গে আর্টারিতে যাতে কোনও ভাবেই ব্লাড ক্লট না করে সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নানাবিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশেই হ্রাস পায়।

৫. প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক: লেবুতে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল প্রপাটিজ রয়েছে, যা প্রতিনিয়ত নানাবিধ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা প্রায়শই ব্যাকটেরিয়াল অথবা ভাইরাল ইনফেকশনের শিকার হয়ে থাকেন, তারা নিয়মিত লেবু চা খাওয়ার অভ্যাস করুন। দেখবেন উপকার পাবেন।

৬. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়: লেবুতে উপস্থিত সাইট্রিক অ্যাসিড হজমে সহায়তা করে। সেই সঙ্গে কিডনি স্টোনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমায়। এখানেই শেষ নয়, খাবার উপস্থিত নানাবিধ পুষ্টকর উপাদান যাতে শরীরের ঠিক মতো কাজে আসতে পারে সেদিকেও লেবু চা বিশেষ খেয়াল রাখে।

৭. ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়ায়: জার্নাল অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড কেমিস্টির করা এক গবেষণা অনুসারে লেবুর রস আমাদের শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ইনসুলিনের অ্যাকটিভিটি বেড়ে যায়। ফলে শর্করা ভেঙে এনার্জির ঘাটতি পূরণ হয়। সেই সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৮. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়: ভিটামিন সি ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই উপাদানটি প্রচুর মাত্রায় রয়েছে লেবুতে। এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছেন লেবু এবং ত্বকের সৌন্দর্যের মধ্যে সম্পর্কটা কোথায়! প্রসঙ্গত, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত লেবু চা খেলে ব্রণর প্রকোপ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে বলিরেখা মুছে গিয়ে ত্বকের বয়সও হ্রাস পায়। সূত্র-ইন্ডিয়া নিউজ

দাঁড়িয়ে পানি পান করলে যেসব ক্ষতি হয়!

পানির অপর নাম জীবন। তাই পানি ছাড়া বেঁচে থাকাটা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু আপনাদের কি জানা আছে পানি পানের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে? পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের প্রায় ৪৫-৫০ শতাংশ মানুষেরই এই বিষয়ে কোনও জ্ঞান নেই। ফলে পানি পান করে সবাই তৃষ্ণা তো মেটাচ্ছে কিন্তু সেই সঙ্গে শরীরেরও মারাত্মক ক্ষতি করে ফেলছে। যেমন ধরুন, কখনই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করা উচিত নয়।

দাঁড়ানো অবস্থায় কখনও পানি পান করবেন না। কারণ এমনটা করলে শরীরে ভিতরে থাকা ছাকনিগুলি সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। ফলে পানিতে উপস্থিত অস্বাস্থ্যকর উপাদানগুলি রক্তে মিশতে শুরু করবে। ফলে এক সময়ে গিয়ে শরীরে টক্সিনের মাত্রা এতটাই বেড়ে যাবে যে একাধিক অঙ্গের উপর তার খারাপ প্রভাব পরতে শুরু করে।

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরে আরও নানাভাবে ক্ষতি হয়। চলুন আজ জেনে নিব সেই সম্পর্কে-

১। পাকস্থলীতে ক্ষত সৃষ্টি হয়ঃ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে আঘাত করে। সেই সঙ্গে স্টমাকে উপস্থিত অ্যাসিডের কর্মক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। ফলে বদ হজমের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে পাকস্থলির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে তলপেটে যন্ত্রণাসহ আরও নানা সব শারীরিক অসুবিধা দেখা দেয়।

২। আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়ঃ দাঁড়িয়ে পানি খাওয়ার সঙ্গে আর্থ্রাইটিসের সাথে সরাসরি যোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে শরীরের ভিতর থাকা কিছু উপকারি রাসায়নিকের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে জয়েন্টের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে এই ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। যারা ইতিমধ্যেই এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তারা ভুলেও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করবেন না।

৩। মানসিক চাপ বেঁড়ে যায়ঃ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে একাধিক নার্ভে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। ফলে কোনও কারণ ছাড়াই মানসিক চাপ বা অ্যাংজাইটি বাড়তে শুরু করে। অকারনে মানসিক চাপ কিন্তু শরীরের জন্য একেবারেই ভাল নয়।

৪। কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ঃ দাঁড়িয়ে পানি পান করার সময় শরীরের ভিতর থাকা একাধিক ফিল্টার ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। ফলে পানীয় জলের মধ্যে থাকা একাধিক ক্ষতিকর উপাদান প্রথমে রক্তে গিয়ে মেশে, তারপর সেখান থেকে কিডনিতে এসে জমা হতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে কিডনির কর্মক্ষমতা কমে গিয়ে এক সময় কিডনি ড্যামেজের সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাই আজ থেকে ভুলেও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করবেন না।

৫। জি ই আর ডিঃ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পানি পান তা সরাসরি ইসোফেগাসে গিয়ে ধাক্কা মারে। এমনটা হতে থাকলে এক সময়ে গিয়ে ইসোফেগাস এবং পাকস্থালীর মধ্যেকার সরু নালীটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে “গ্যাস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজজ” বা ডি ই আর ডি-এর মতো রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ ও মুক্তির উপায়

দেশে বর্তমানে আতঙ্ক ও ভয়াবহ এক রোগের নাম চিকুনগুনিয়া। এটি মূলত একটি ভাইরাস জনিত জ্বর। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে এর ব্যাপক প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। ভাইরাসজনিত এ জ্বরটি প্রাণঘাতী না হলেও এ রোগে আক্রান্তরা তীব্র থেকে তীব্রতর অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টের ব্যথায় ভুগে থাকেন।

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক একটি জরিপে জানা যায়, ঢাকার প্রায় প্রতি ১১ জনের একজন চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রায় একদশক ধরে বাংলাদেশে রোগটি দেখা দিলেও এবারের মতো প্রকোপ দেখা যায়নি।

দশ বছর বয়সী এক ছেলে ১৫ দিন আগে আনারস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল৷

দশ বছর বয়সী এক ছেলে ১৫ দিন আগে আনারস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল৷ পরবর্তীতে ছেলেটিকে যখন ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করা হলো, তখন তার শরীরে এইডস ধরা পড়ল।

ছেলেটির বাবা-মা তো বিশ্বাসই করতে পারছিল না।
তারপর তারা পুরো পরিবার পরীক্ষা করাল, কিন্তু কারো দেহেই এইডস খুজে পাওয়া গেলনা। তাই ডাক্তার পুনরায় পরীক্ষা করল ছেলেটিকে এবং সে এরকম কিছু খেয়েছিল কিনা, জিজ্ঞেস করায় ডাক্তারকে ছেলেটি বলল, সেদিন সন্ধ্যায় আনারস খেয়েছিল।

সাথে সাথে হাসপাতাল থেকে এক দল চিকিৎসক গেল সেই আনারস বিক্রেতার কাছে এবং তারা সেই আনারস
বিক্রেতার হাতে ক্ষতস্থান খুজে পেল, যেখান থেকে রক্ত বের হয়ে আনারসের সাথে মিশতেছিল। তারা বিক্রেতার রক্ত পরীক্ষা করে তার শরীরে এইডসের জীবানু খুজে পেল, কিন্তু লোকটা জানত না।

দূর্ভাগ্যবসত ছোট্ট ছেলেটি এখন এইডস রোগে ভুগছে!
দয়া করে রাস্তার খাবার খাওয়ার পূর্বে অতিরিক্ত সতর্ক হবেন এবং এই সংবাদটি ছড়িয়ে দিন আপনার প্রিয়জনদের কাছে।
কে জানে, আপনার একটি শেয়ার হয়তোবা একটি জীবন রক্ষা করতে পারে।
(সংগ্রহীত)

একটি উপাদান দূর করবে সাত রোগ!

শরীরকে সুস্থ ও রোগ প্রতিরোধক্ষম রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার বিকল্প নেই। কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো অত্যন্ত উপকারী এবং শরীর ভালো রাখতে বেশ কার্যকর। তেমন একটি খাবার বা উপাদান হলো কালিজিরা।

কালিজিরার মধ্যে রয়েছে লৌহ, ফসফেট, ফসফরাস; রয়েছে কেরটিন। কালিজিরা শরীরের সাত ধরনের সমস্যা কমাতে ভালোভাবে সক্ষম।

জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন।

১. শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে

কালিজিরা অন্ত্র ও রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে কাজ করে। এতে শরীর পরিশোধিত হয় এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।

২. ডায়াবেটিস

সম্প্রতি কিছু গবেষণায় বলা হয়, কালিজিরার মধ্যে ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণের উপাদান রয়েছে। এতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৩. প্রদাহ দূর করে

কালিজিরার মধ্যে রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান। এটি প্রদাহ ও পেশি ফোলা ভাব দূর করে। গাঁটে ব্যথা, পেশিতে ব্যথা কমায়। গলা ব্যথা কমাতেও এটি বেশ কার্যকর।

৪. ওজন কমাতে

গবেষণায় বলা হয়, কালিজিরা শরীরের বিপাকীয় ক্ষমতা বাড়ায়। বিপাকীয় হার বাড়লে মেদ দ্রুত ঝরে। এতে ওজন কমে।

৫. নাকের শুষ্কতা

কালিজিরা নাকের শুষ্কতা ও প্রদাহ রোধ করে। এটি নাকের শুষ্কতা রোধের জন্য এক ধরনের অ্যানজাইম তৈরি করতে সাহায্য করে। এতে নাক আর্দ্র থাকে।

৬. হজম ভালো হয়

কালিজিরা হজম ভালো করে। এতে বাউয়েল মুভমেন্ট ভালো হয়। এটি এসিডিটি প্রতিরোধেও কার্যকর।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

কালিজিরা ব্যাকটেরিয়া ও মাইক্রোবেসের সঙ্গে লড়াই করে। এটি কোষকে ভালো রাখে। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

খাবার খাওয়ার সাথে সাথে পানি পান করবেন নাঃ

খাবারের অন্তত আধঘণ্টা আগে এবং খাবার খাওয়ার আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর পানি পান করা উচিত।

অনেকেই ভাত খাওয়ার মাঝে ঘনঘন পানি পান করেন। খাওয়ার জন্য পানি পান যে দরকারি তা কিন্তু নয়। অভ্যাসবশত অনেকেই কাজটি করেন; কিন্তু না বুঝে যারা এ কাজটি করেন তারা আসলে তাদের পাকস্থলীর হজমশক্তিকে বিঘ্নিত করেন। অনেকেই মনে করেন, খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে পানি পান খাদ্যকে পাকস্থলীতে পৌঁছতে সাহায্য করে; কিন্তু এটি পুরোপুরি ভুল তথ্য। এতে উল্টো হজমশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খাওয়ার সময় পাকস্থলী রেচক রস নিঃসরণ করে, যা হজমের কাজে লাগে; কিন্তু ওই সময় পানি পান করলে তা ওই রসকে পাতলা তরলে পরিণত করে। এভাবে তা খাদ্যবস্তুর বিপাক প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প পানি পানে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, তবে এক গ্লাস বা তার বেশি পান করা অবশ্যই ক্ষতিকর।

খাওয়ার দু’ঘণ্টা পর পানি বা পানীয় পানের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে খাদ্য হজমের পাশাপাশি পুষ্টি উপাদান গ্রহণে সক্ষম হয় শরীর। পানির সঙ্গে পাচক রস মিশে গিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি করে তা হলো, এটি খাদ্য বিপাকের জন্য আরও বেশি পাচক রস নিঃসরণে বাধা দেয়। ফলে খাবার ঠিকমতো হজম হয় না, যা থেকে বুক জ্বালা ও এসিডিটির মতো সমস্যার উদ্ভব হয়।

সবার জন্য শেয়ার করুন৷
নিয়মিত স্বাস্থ্য টিপস পেতে অামাদের পেইজে লাইক দিন৷