হজরত আলী ও এক ইহুদির গল্প

ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলী রা. একবার তার অতি প্রিয় বর্ম হারিয়ে ফেললেন। কিছুদিন পর জনৈক ইহুদির হাতে সেটি দেখেই চিনে ফেললেন। লোকটি কুফার বাজারে সেটি বিক্রয় করতে এনেছিল। হজরত Continue reading “হজরত আলী ও এক ইহুদির গল্প”

নতুন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হলেন কেরামত আলী

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নতুন শপথ নেওয়া রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নিজেই এ কথা জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। তার দেওয়া এ দায়িত্ব পালনে শতভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

এর আগে সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে চার মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এদিকে সচিবালয় সূত্র জানায়, শপথ নেওয়া চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

মন্ত্রিসভার নতুন সদস্য লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামালকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

তবে তাদের কে কোন দফতর পাচ্ছেন- এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, বুধবার (৩ জানুয়ারি) নতুন চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দফতর বণ্টন করা হবে।

১৯৫৪ সালের ২২ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলার সজ্জনকান্দায় জন্ম নেওয়া প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীর বাবা কাজী হেদায়েত হোসেন এবং মাতা মনাক্কা বেগম। তার স্ত্রীর নাম রেবেকা সুলতানা।

রাজবাড়ী ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিকম সম্মানসহ এমকম ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

ব্যবসার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কেরামত আলী ১৯৯০ থেকে রাজবাড়ী জেলায় দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৯২ সালে রাজবাড়ী-১ থেকে ৫ম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাজী কেরামত আলী। ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদে এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ ও ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ

হযরত আলী (রা.) এর মাজার জিয়ারত করতে এসে আল্লাহর রহমতে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেল এই অন্ধ শিশু,বিস্তারিত জানুন।

১০ই মহররম পবিত্র আশুরার দিনে ইমাম আলী (রা.) এর মাজার যেয়ারত করতে এসে দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেয়েছে ইরাকি এক শিশু।

‘ফাতেমা আলী’ (৯) নামক ইরাকের নাজাফ শহরের বাসিন্দা ঐ শিশু আশুরার দিন তার বাবা-মায়ের সাথে আযাদারী পালন করতে আমিরুল মু’মিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) এর মাজারে এসেছিল। হঠাৎ সে অনুভব করে যে, কে যেন তার কানে আদর করছে, এরপর সে মাজারের বাতীগুলো দেখতে পায়। আর এভাবেই সে তার দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেয়েছে।

ইমাম আলী (রা.) এর মাজারের বিশেষ টিম গত ২৮ অক্টোবর এ ঘটনার সত্যতার বিষয়ে তদন্তের পর ‘ফাতেমা আলী’র মেডিকেল রিপোর্ট গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করেছে। -বার্তা সংস্থা আবনা।

হযরত আলী (রাঃ) ও কাযী শুরাইহের ন্যায়বিচার

হযরত আলী (রাঃ) ও কাযী শুরাইহের ন্যায়বিচার

হযরত আলী(রা) একবার তাঁর অতিপ্রিয় বর্ম হারিয়ে ফেললেন। কিছুদিন পর জনৈক ইহুদীর হাতে সেটি দেখেই চিনে ফেললেন। লোকটি কুফার বাজারে সেটি বিক্রয় করতে এনেছিল। হযরত আলী তাকে বললেনঃ “এতো আমার বর্ম।

আমার একটি উটের পিঠ থেকে এটি অমুক রাত্রে অমুক জায়গায় পড়ে গিয়েছিল।”

ইহুদী বললোঃ “আমীরুল মুমিনীন! ওটা আমার বর্ম এবং আমার দখলেই রয়েছে।”

হযরত আলী পুনরায় বললেনঃ “এটি আমারই বর্ম। আমি এটাকে কাউকে দানও করি নি, কারো কাছে বিক্রয়ও করি নি। এটি তোমার হাতে কিভাবে গেল?”

ইহুদী বললোঃ “চলুন, কাযীর দরবারে যাওয়া যাক।”

হযরত আলী(রা) বললেনঃ “বেশ, তাই হোক। চলো।” তারা উভয়ে গেলেন বিচারপতি শুরাইহের দরবারে। বিচারপতি শুরাইহ উভয়ের বক্তব্য জানতে চাইলে উভয়ে বর্মটি নিজের বলে যথারীতি দাবী জানালেন।

বিচারপতি খলিফাকে সম্বোধন করে বললেনঃ “আমিরুল মু’মিনীন! আপনাকে দু’জন সাক্ষী উপস্থিত করতে হবে। হযরত আলী বললেনঃ “আমার ভৃত্য কিম্বার এবং ছেলে হাসান সাক্ষী আছে।”

শুরাইহ বললেনঃ “আপনার ভৃত্যের সাক্ষ্য নিতে পারি। কিন্তু ছেলের সাক্ষ্য নিতে পারবো না। কেননা বাপের জন্য ছেলের সাক্ষ্য শরীয়তের আইনে অচল।”

হযরত আলী বললেনঃ “বলেন কি আপনি? একজন বেহেশতবাসীর সাক্ষ্য চলবে না? আপনি কি শোনেন নি, রাসূল(সা) বলেছেন, হাসান ও হোসেন বেহেশতের যুবকদের নেতা?”

শুরাইহ বললেনঃ “শুনেছি আমিরুল মু’মিনীন! তবু আমি বাপের জন্য ছেলের সাক্ষ্য গ্রহণ করবো না।”

অনন্যোপায় হযরত আলী ইহুদীকে বললেনঃ “ঠিক আছে। বর্মটা তুমিই নিয়ে নাও। আমার কাছে এই দু’জন ছাড়া আর কোনো সাক্ষী নেই।”

ইহুদী তৎক্ষণাৎ বললোঃ “আমিরুল মু’মিনীন! আমি স্বয়ং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ওটা আপনারই বর্ম। কি আশ্চর্য! মুসলমানদের খলিফা আমাকে কাজীর দরবারে হাজির করে আর সেই কাযী খলিফার বিরুদ্ধে রায় দেয়। এমন সত্য ও ন্যায়ের ব্যবস্থা যে ধর্মে রয়েছে আমি সেই ইসলামকে গ্রহণ করেছি। আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু………..।”

অতঃপর বিচারপতি শুরাইহকে সে জানালো যে, “খলিফা সিফফীন যুদ্ধে যাওয়ার সময় আমি তাঁর পিছু পিছু যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তাঁর উটের পিঠ থেকে এই বর্মটি পড়ে গেলে আমি তা তুলে নিই।”

হযরত আলী(রা) বলেনঃ “বেশ! তুমি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছ, তখন আমি ওটা তোমাকে উপহার দিলাম।”

এই লোকটি পরবর্তীকালে নাহরাওয়ানে হযরত আলীর নেতৃত্বে খারেজীদের সাথে যুদ্ধ করার সময় শহীদ হন।

হযরত আলী (আ.)’র কয়েকটি বিস্ময়কর ক্ষমতা ও অলৌকিক জ্ঞান

হযরত আলী (আ.)’র কয়েকটি বিস্ময়কর ক্ষমতা ও অলৌকিক জ্ঞান

সম্প্রতি ইরানসহ বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে আমিরুল মু’মিনিন আলী (আ.)’র বেদনাবিধুর শাহাদত বার্ষিকী। ১৩৯৮ চন্দ্র বছর আগে ৪০ হিজরির ২১ রমজান তিনি শাহাদত বরণ করেন। তাই সবাইকে গভীর শোক ও সমবেদনার পাশাপাশি এই মহামানবকে জানাচ্ছি অশেষ সালাম ও দরুদ।

১৯ রমজান এক খারিজি (ইসলাম থেকে বিচ্যুত) সন্ত্রাসী কুফার মসজিদে ফজরের নামাজে ইমামতিরত অবস্থায় আলী (আ.)’র ওপর তরবারির আঘাত হানে। আর এই আঘাতের ফলেই আজ তিনি শহীদ হন। ফলে শেষ হয়ে যায় বিশ্বনবীর (সা.) পর ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে ন্যায়বিচারপূর্ণ শাসন।

উল্লেখ্য, বহু বছর আগে এক শাবান মাসের শেষ শুক্রবারে রমজানের ফজিলত সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিশ্বনবী (সা.) ভাষণের শেষ পর্যায়ে কাঁদতে থাকেন। তা দেখে হযরত আলী (আ.) এর কারণ জানতে চান। জবাবে মহানবী বহু বছর পর রমজান মাসে আলী (আ.)’র মর্মান্তিক শাহাদতের ভবিষ্যদ্বাণীর কথা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন,”হে আলী, এই মাসে তোমার ওপর যা নেমে আসবে সে জন্য আমি কাঁদছি। (আমি নিজেকে কল্পনা করছি) তোমার স্থানে যখন তুমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছ এবং সামুদ জাতির কাছে পাঠানো (খোদায়ী) উটের পা কর্তনকারী লোকটির মতই মানব ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তিটি তোমার মাথার ওপর আঘাত হানবে এবং তোমার দাড়ি তাতে (রক্তে) রঞ্জিত হবে।”

মহানবীর জামাতা ও চাচাতো ভাই আলী (আ.) ছিলেন বীরত্ব, মহানুভবতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। বেহেশতী নারীদের নেত্রী ফাতিমা (সালামুল্লাহি আলাইহা)-কে বিয়ে করার জন্য আবুবকর ও ওমরসহ অনেক সাহাবিই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে মহানবী (সা.) আল্লাহর নির্দেশে আলী (আ.)-কেই ফাতিমার সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেন।

বিশ্বনবী (সা.)’র একটি হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী আলী(আ.)-কে পুরোপুরি বা পরিপূর্ণভাবে চেনেন কেবল আল্লাহ ও তাঁর সর্বশেষ রাসূল (সা.) এবং আল্লাহ ও তাঁর সর্বশেষ রাসূল (সা.)-কে ভালভাবে চেনেন কেবল আলী (আ.)।

হযরত আলী (আঃ) ছিলেন সেই ব্যক্তিত্ব যার সম্পর্কে রাসূলে পাক (সাঃ) বলেছেন, মুসার সাথে হারুনের যে সম্পর্ক তোমার সাথে আমার সেই সম্পর্ক,  শুধু পার্থক্য হল হারুন (আঃ) নবী ছিলেন, তুমি নবী নও। 

আলী (আ.) এমন এক নাম যাঁর নাম উচ্চারণ ও যাঁর বরকতময় জীবনের আলোচনা মানুষের ঈমানকে তাজা করে দেয়। রাসূল (সা.) বলতেন, আলীর দিকে তাকানোও ইবাদত। 

বিশ্বনবী (সা) বলেছেন, আমি জ্ঞানের নগর আর আলী তার দরজা। অর্থাৎ বিশ্বনবী (সা)’র জ্ঞানের শহরে প্রবেশ করা সম্ভব নয় আলী (আ)’র মাধ্যম ছাড়া। আলী (আ) নিজেও বলতেন, কুরআনের এমন কোনো আয়াত নেই যে বিষয়ে আমি রাসূল (সা)’র সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করিনি। বলা হয় বিশ্বনবী (সা) আলী (আ)-কে এক হাজার বিষয় বা অধ্যায়ের জ্ঞান শিখিয়েছিলেন। আর এসবের প্রত্যেকটির ছিল এক হাজার শাখা। আলী (আ) নিজেও বলতেন, আমাকে হারানোর আগেই যা কিছু জানার জেনে নাও, আমাকে যে কোনো বিষয়ের প্রশ্ন কর না কেন আমি তার জবাব দেব।  

হযরত আলী (আ.)’র আকাশ-ছোঁয়া বীরত্ব ও মহত্ত্ব কেবল মুসলিম কবি, সাহিত্যিক বা মনীষীদেরই প্রভাবিত করেনি, অমুসলিম পণ্ডিতরাও তার সুবিশাল ব্যক্তিত্বের ব্যাপকতায় অভিভূত ও হতবাক হয়েছেন। তাঁর মহত্ত্ব ও উদারতার প্রশংসা করে আর ডি ওসবোর্ন বলেছেন, আলী (আ.) ছিলেন মুসলমানদের ইতিহাসের সর্বোত্তম আত্মার অধিকারী সর্বোত্তম ‍ব্যক্তি। 

ওয়াশিংটন আরভিং বলেছেন, “সব ধরনের নীচতা ও কৃত্রিমতা বা মিথ্যার বিরুদ্ধে আলী (আ.)’র ছিল মহত সমালোচনা এবং আত্মস্বার্থ-কেন্দ্রিক সব ধরনের কূটচাল থেকে তিনি নিজেকে দূরে রেখেছিলেন।”

ঐতিহাসিক মাসুদির মতে, রাসূল (সা.)’র চরিত্রের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল যার ছিল তিনি হলেন আলী (আ.)।

আমীরুল মুমিনীন আলী সম্পর্কে মাওলানা রুমী লিখেছেন,

“সাহসিকতায় তুমি ছিলে খোদার সিংহ তা জানি

পৌরুষত্বে আর বদান্যতায় কি তুমি তা জানেন শুধুই অন্তর্যামী।”

সাফীউদ্দীন হিল্লী (মৃ. ৮ম হিজরী) আলী (আ.) সম্পর্কে বলেছেন, 

তোমার স্বভাব-চরিত্রের কমনীয়তা ভোরের মৃদুমন্দ সমীরণকেও করে লজ্জিত

  আর তোমার শক্তি ও সাহসের কাছে কঠিন পাথরও হয় বিগলিত 

 তোমার মান-মর্যাদা এতটা মহান ও উচ্চ যে, তা কাব্যে করা যায় না প্রকাশ  

আর না গণনাকারী তোমার গুণাবলী গণনা করতে সক্ষম।      

মহানবীর জামাতা ও চাচাতো ভাই আলী (আ.) ছিলেন বীরত্ব, মহানুভবতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। বেহেশতী নারীদের নেত্রী ফাতিমা (সালামুল্লাহি আলাইহা)-কে বিয়ে করার জন্য আবুবকর ও ওমরসহ অনেক সাহাবিই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে মহানবী (সা.) আল্লাহর নির্দেশে আলী (আ.)-কেই ফাতিমার সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেন।

আলী (আ.)’র জীবনের অনেক বিস্ময়কর অলৌকিক ঘটনা বা মু’জিজা রয়েছে। যেমন, জন্মের সময় পবিত্র কাবা ঘরের  দেয়াল ভেঙ্গে আবার তা মিলিয়ে যাওয়া যাতে তাঁর মা ফাতিমা বিনতে আসাদ তাঁকে জন্ম দিতে পারেন, রাসূলের (সা.) ওফাতের পর কুবা মসজিদে রাসূল (সা.)-কে জীবিত অবস্থায় দেখানো, সূর্যকে পেছনে ঘুরিয়ে দেয়া যাতে সঙ্গীরা নামাজ আদায় করতে পারেন সময়মত ইত্যাদি ।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন:  মক্কা বিজয়ের পর ফেরার পথে এক রাতে মহানবী (সা.) আলী (আ.)-কে বলেন যে,  সূর্য যখন উদিত হবে তখন তুমি সূর্যের সঙ্গে কথা বলবে। আমি ফজলকে বললাম দেখবো আলী কিভাবে সূর্যের সঙ্গে কথা বলে। সূর্য ওঠার পর আলী (আ.) সূর্যকে লক্ষ্য করে বলেন: সালাম তোমায় হে সূর্য, তুমি আল্লাহর সৎ দাস ও আল্লাহর নির্দেশ পালনে অবিচল।

সূর্য জবাবে বলল: ওয়া আলাইকাসসালাম হে  আল্লাহর রাসূলের ভাই!

আসমা বিনতে উমাইস বর্ণনা করেন হযরত ফাতিমা জাহরা (সা. আ.) বলেছেন: কোনো এক রাতে আলী (আ.) ঘরে প্রবেশ করলে আমি ভীত হয়ে পড়ি। আসমা বলেন: হে বিশ্বের নারীকুলের নেত্রী! কিভাবে ভয় পেয়েছিলেন আপনি! তিনি বলেন: আমি শুনলাম যে জমিন বা মাটি আলীর সঙ্গে কথা বলছে এবং আলীও জমিনের সঙ্গে কথা বলছেন!

একবার আলী (আ.) একদল সঙ্গীসহ কুফার মসজিদে উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি ইমাম আলী (আ.) বলে: আমার বাবা-মা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আমি বিস্মিত যে এই দুনিয়া এই গ্রুপের হাতে রয়েছে এবং আপনি এই দুনিয়া থেকে কিছুই পাচ্ছেন না! আলী (আ.) বললেন, তুমি কি মনে কর আমরা (বিশ্বনবীর-সা. আহলে বাইত) যদি দুনিয়াকে চাইতাম তাহলে কী আমাদের দেয়া হত না? এরপর তিনি এক মুঠো পাথরের কণা হাতে নিয়ে সেগুলোকে মূল্যবান পাথরে পরিণত করে প্রশ্ন করেন-এসব কি? লোকটি বলল: সবচেয়ে মূল্যবান পাথর। আমরা দুনিয়া চাইলে তা দেয়া হয়, কিন্তু আমরা তা চাই না-এ কথা বলে তিনি সেগুলো দূরে ফেলে দেন এবং সেগুলো আবারও সাধারণ পাথরের কণায় পরিণত হয়! 

এ ছাড়াও একবার বেশ কিছু সময় ধরে ভূমিকম্প হতে থাকলে ও পাহাড়গুলো কাঁপতে থাকলে লোকজন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আলী (আ.)’র শরণাপন্ন হন। আলী (আ.) সে সময় খলিফা ছিলেন না। তিনি ভূমিকে লক্ষ্য করে বলেন: তোমার কি হলো?  শান্ত হও। ফলে  ভূমিকম্প বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিস্মিত লোকজনকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন: “আমি হচ্ছি সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন:

«اذا زلزلت زلزالها و اخرجت الارض اتقالها و قال الانسان مالها»

-যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে। এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ?

আমি হচ্ছি সেই ব্যক্তি যে কিয়ামতের দিন জমিনকে বলবো, তোমার কি হলো? (এরপর কুরআনে এসেছে) یومئذ تحدث اخبارها- সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে, ফলে আমার জন্য খবরগুলো বর্ণনা করবে জমিন।” 

আলী (আ.)’র একদল সঙ্গী তাঁকে বললেন: মুসা ও ঈসা নবী জনগণকে অনেক মু’জিজা দেখিয়েছেন। আপনিও যদি সে ধরণের কিছু দেখাতেন তাহলে আমাদের হৃদয় সুনিশ্চিত হত।  আলী (আ.) বললেন: তোমরা এ জাতীয় নিদর্শন দেখা সহ্য করতে পারবে না। কিন্তু তারা বার বার একই অনুরোধ করতে থাকায় তিনি এক শুষ্ক উপত্যকায় একটি কবরস্থানের দিকে তাদের নিয়ে যান।  সেখানে তিনি দোয়া পড়ে ধীর কণ্ঠে বললেন: তোমার পর্দা সরিয়ে ফেল। ফলে হঠাৎ কিছু বাগান ও নহর বা খাল দেখা গেল একদিকে এবং অন্যদিকে জাহান্নামের আগুন দেখা যাচ্ছিল। একদল বলে উঠলো: যাদু যাদু। কিন্তু অন্য একদল এই মু’জিজাকে বিশ্বাস করে বললেন: বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন: কবর হচ্ছে বেহেশতের বাগান অথবা জাহান্নামের গর্ত। 

একবার জনগণ বৃষ্টির অভাবে আলী (আ.)’র কাছে গিয়ে নালিশ করায় তিনি দোয়া করলে সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি বর্ষণ শুরু হয়। এতো বৃষ্টি হলো যে এবার জনগণ বলতে লাগলো: খুব বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তিনি আবারও দোয়া করায় বৃষ্টি কমে যায়। (সূত্র: বিহারুল আনোয়ার)

বলা হয় একবার হযরত আলী (আ)-কে একইসঙ্গে ১৫০টি জটিল প্রশ্ন করা হয়েছিল। আলী (অ) সব প্রশ্ন শোনার পর একে-একে সেসবের জবাব দিয়েছিলেন এবং একবারও প্রশ্নকারীকে বলেননি যে তোমার অত নম্বর প্রশ্নটা কি ছিল আবার বল! তিনি একনাগাড়ে এভাবে বলছিলেন যে, তোমার ১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর হল এই, ২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর হল এই… তোমার ১৫০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর হল এই।

হযরত আলী (আ)-কে জব্দ করার জন্য তাঁকে একবার প্রশ্ন করা হয় আপনি সেইসব প্রাণীর নাম বলুন যেগুলো ডিম পাড়ে ও যেগুলো বাচ্চা প্রসব করে। আলী (আ) বললেন, যেসব প্রাণীর কান মাথার ভেতরে থাকে সেসব ডিম পাড়ে আর যাদের কান মাথার বাইরে থাকে সেসব বাচ্চা প্রসব করে। প্রশ্নকারীরা ভেবেছিল, আলী (আ) এই জটিল প্রশ্নে উত্তর দিতে দিতে অনেক সময় নেবেন এবং সময়ের অভাবে সব প্রাণীর নাম বলতে পারবেন না। ফলে তিনি এ বিষয়ে পুরোপুরি জানেন না বলে অপবাদ দেয়া সম্ভব হবে!

আমিরুল মু’মিনিন আলী (আ) একবার যখন বলেছিলেন, আমাকে হারানোর আগেই যা কিছু জানার জেনে নাও, আমাকে যে কোনো বিষয়ের প্রশ্ন কর না কেন আমি তার জবাব দেব। তখন এক ব্যক্তি  বললো, হে আলী! বলুন তো আমার মাথার কতটি চুল আছে? আলী (আ) বললেন, এটাও আমি বলতে পারব, কিন্তু এটা জেনে তোমার তো কোনো লাভ হবে না। অর্থাৎ এর মধ্যে তো উপকারী জ্ঞান নেই। 

একটি বর্ণনায় এসেছে, সে যুগে ইরানের খ্যাতনামা বিদ্যাপীঠ জুন্দিশাপুর বিশ্ববিদ্যালয় হযরত আলী (আ)-কে অধ্যাপনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু হযরত আলী (আ) তা সম্ভব নয় বলে জানান এবং বলেন যে, কোনো প্রশ্ন থাকলে তিনি তার জবাব দেবেন। উটের একটি বিশেষ রোগের চিকিৎসা- যে রোগ এই জন্তুর শরীরে গর্ত সৃষ্টি করে, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আলী (আ) জানান, কেবল ভারতের একটি উপাসনালয়ের একটি লোহার খুঁটি যা লোহা হওয়া সত্বেও তাতে আঘাতের ফলে সৃষ্ট শব্দ অন্য যে কোনো লোহার মধ্যে আঘাতজনিত শব্দের মত হয় না, তার স্পর্শই কেবল এ রোগ ভালো করতে পারে। বলা হয় ইউরোপীয়রা গবেষণার জন্য ওই খুঁটি নিয়ে যায় এবং আজো তার কোনো হদিস নেই। 

রসায়ন শাস্ত্রের ইতিহাস থেকে জানা যায় আলী (আ) নিকৃষ্ট ধাতুকে স্বর্ণে পরিণত করার বিদ্যাও জানতেন। কিন্তু তাতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হত বলে তার প্রয়োগ করা তখনও সম্ভব হয়নি।

হজরত আলী (রাঃ) এর বর্ম নিয়ে একটি ঘটনা

হজরত আলী (রাঃ) এর বর্ম

ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলী রা. একবার তার অতি প্রিয় বর্ম হারিয়ে ফেললেন। কিছুদিন পর জনৈক ইহুদির হাতে সেটি দেখেই চিনে ফেললেন। লোকটি কুফার বাজারে সেটি বিক্রয় করতে এনেছিল। হজরত আলী তাকে বললেন, ‘এতো আমার বর্ম। আমার একটি উটের পিঠ থেকে এটি অমুক রাত্রে অমুক জায়গায় পড়ে গিয়েছিল।’ ইহুদি বললো, ‘আমিরুল মুমিনীন! ওটা আমার বর্ম এবং আমার দখলেই রয়েছে।’ হজরত আলী রা. পুনরায় বললেন, ‘এটি আমারই বর্ম। আমি এটা কাউকে দানও করিনি, কারো কাছে বিক্রয়ও করিনি। এটি তোমার হাতে কিভাবে গেল?’

ইহুদি বললো, ‘চলুন, কাজীর দরবারে যাওয়া যাক।’ হজরত আলী রা. বললেন, ‘বেশ, তাই হোক। চলো।’ তারা উভয়ে গেলেন বিচারপতি শুরাইহের দরবারে। বিচারপতি শুরাইহ উভয়ের বক্তব্য জানতে চাইলে উভয়ে বর্মটি নিজের বলে যথারীতি দাবি করেন। বিচারপতি খলিফাকে সম্বোধন করে বললেন, ‘আমিরুল মুমিনীন! আপনাকে দু’জন সাক্ষী উপস্থিত করতে হবে। হজরত আলী বললেন, ‘আমার ভৃত্য কিম্বার এবং ছেলে হাসান সাক্ষী আছে।’

হজরত আলী (রাঃ) এর বর্ম
হজরত আলী (রাঃ) এর বর্ম

শুরাইহ বললেন, ‘আপনার ভৃত্যের সাক্ষ্য নিতে পারি। কিন্তু ছেলের সাক্ষ্য নিতে পারবো না। কেননা বাপের জন্য ছেলের সাক্ষ্য শরিয়তের আইনে অচল।’ হজরত আলী বললেন, ‘বলেন কি আপনি? একজন বেহেশতবাসীর সাক্ষ্য চলবে না? আপনি কি শোনেননি, রাসুল সা. বলেছেন, হাসান ও হোসাইন বেহেশতের যুবকদের নেতা?’ শুরাইহ বললেন, ‘শুনেছি আমিরুল মুমিনীন! তবু আমি বাপের জন্য ছেলের সাক্ষ্য গ্রহণ করবো না।’

অনন্যোপায় হজরত আলী রা. ইহুদিকে বললেন, ‘ঠিক আছে। বর্মটা তুমিই নিয়ে নাও। আমার কাছে এই দু’জন ছাড়া আর কোনো সাক্ষী নেই।’ ইহুদি তৎক্ষণাৎ বললো, ‘আমিরুল মুমিনীন! আমি স্বয়ং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ওটা আপনারই বর্ম। কি আশ্চর্য! মুসলমানদের খলিফা আমাকে কাজীর দরবারে হাজির করে আর সেই কাজী খলিফার বিরুদ্ধে রায় দেয়। এমন সত্য ও ন্যায়ের ব্যবস্থা যে ধর্মে রয়েছে আমি সেই ইসলামকে গ্রহণ করেছি। ‘আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু।’

অতঃপর বিচারপতি শুরাইহকে সে ইহদি জানালো যে, ‘খলিফা সিফফীন যুদ্ধে যাওয়ার সময় আমি তার পিছু পিছু যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তার উটের পিঠ থেকে এই বর্মটি পড়ে গেলে আমি তা তুলে নিই।’ হজরত আলী রা. বলেন, ‘বেশ! তুমি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছ, তখন আমি ওটা তোমাকে উপহার দিলাম।’ এই লোকটি পরবর্তীকালে নাহরাওয়ানে হজরত আলীর নেতৃত্বে খারেজিদের সাথে যুদ্ধ করার সময় শহীদ হন।

জেনে নিন | শবে বরাতের রাতেও যাদের দোয়া কোনভাবেই কবুল হয় না!

শবে বরাতের রাতেও যাদের দোয়া কোনভাবেই কবুল হয় না

মাহে শাবান অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি মাস। আর ১৪ শাবান দিবাগত রাত (শবে বরাত) সবিশেষ ফজিলতপূর্ণ, বরকতময় মহিমা, স্বাতন্দ্র্যমণ্ডিত ও তাৎপর্যপূর্ণ। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ রাতটিকে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান (অর্ধশাবান রাত) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু আমাদের সমাজে এই রাতটি শবে বরাত তথা মুক্তি, নিষ্কৃতি, পাপ মোচনের রাত নামেই সমধিক খ্যাত। মাহে শাবানের সূচনা থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। কিন্তু সমাজের প্রবল প্রথাগত, আড়ম্বরপূর্ণ উদযাপন ও রেওয়াজি সংস্কৃতিতে শবে বরাতের প্রকৃত মাহাত্ম্য, মর্যাদা ও পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না এ নিয়ে আমাদের অবশ্যই ভাবতে হবে। আর এ জন্য শবে বরাতের প্রকৃত গুরুত্ব ও তাৎপর্য, ফজিলত, মাহাত্ম্য ও করণীয় এবং বর্জনীয় সম্পর্কে সবার সম্যক জানা থাকা একান্ত আবশ্যক।

শবে বরাতের ফজিলত:

অসীম কল্যাণে ভরপুর এই শবে বরাতের রজনী বান্দার জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ এক নিয়ামত।এ রাতে মহান রাব্বুল আলামীন মাখলুকাতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন, দয়ার সাগরে ঢেউ উঠে, মাগফিরাতের দ্বার উম্মোচিত হয় পাপি-তাপি সব বান্দার জন্য।
নিম্নে শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো।
ইরশাদ হয়েছে-
عن حضرت على رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا يومها فان الله تعالى ينزل فيها لغروب الشمس الى السماء الدنيا فيقول الا من مستغفر فاغفرله الا مسترزق فارزقه الا مبتلى فاعافيه الا كذا الا كذا حتى يطلع الفجر

অর্থ: ‘হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত. মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, যখন শাবানের ১৫ তারিখ রাত্রি উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাতে নামায আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উক্ত রাত্রিতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে আসেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন।

অতঃপর ঘোষণা করেন, ‘কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।’ ‘কোনো রিযিক প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে রিযিক দান করব।’ ‘কোনো মুছিবতগ্রস্ত ব্যক্তি আছো কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিব।’ এভাবে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন।’ (ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

যদি শবে বরাতের ফজিলতের ব্যাপারে দ্বিতীয় কোনো হাদিস নাও থাকতো, তবে এই হাদিসটিই এ রাতের ফজিলত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এবং এ রাতে মাগফেরাতের উপযোগী নেক আমলের গুরুত্ব প্রমাণিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট হত। অথচ হাদিসের কিতাবসমূহে এ বিষয়ক আরো একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

যেমন হাদিসে আরো এসেছে,
عن عائشة : قالت فقدت رسول الله صلى الله عليه و سلم ليلة فخرجت فإذا هو بالبقيع فقال أكنت تخافين أن يحيف الله عليك ورسوله ؟ قلت يا رسول الله إني ظننت أنك أتيت بعض نساءك فقال إن الله عز و جل ينزل ليلة النصف من شعبان إلى السماء الدنيا فيفغر لأكثر من عدد شعر غنم كلب

অর্থ – হযরত আয়েশা (রা.) বলেন- এক রাতে রাসূল (সা.) কে না পেয়ে খুঁজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে জান্নাতুল বাকীতে গিয়ে আমি তাঁকে দেখতে পেলাম। মহানবী (সা.) বললেন- কি ব্যাপার আয়েশা, তোমার কি মনে হয় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার ওপর কোনো অবিচার করবেন?

শবে বরাতের রাতেও যাদের দোয়া কোনভাবেই কবুল হয় না
শবে বরাতের রাতেও যাদের দোয়া কোনভাবেই কবুল হয় না

হযরত আয়েশা (রা.) বললেন- আমার ধারণা হয়েছিল আপনি অন্যকোনো বিবির ঘরে গিয়েছেন। রাসূল (সা.) তখন বললেন- যখন শাবান মাসের ১৫ই রাত আসে তখন আল্লাহ পাক এ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন। তারপর বনু কালব গোত্রের বকরীর পশমের চেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন। (সুনানে তিরমিযী)

মহানবী (সা.) আরো বলেন-
عن معاذ بن جبل, عن النبى, قال : يطلع الله الى خلقه فى ليلة النصف من شعبان, فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن ( رواه ابن حبان
মুআয ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা অর্ধ-শাবানের রাতে (শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।

এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে যে, এ রাতে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে রহমত ও মাগফেরাতের দ্বারা ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত হয়। কিন্তু শিরকি কাজকর্মে লিপ্ত ব্যক্তি এবং অন্যের ব্যাপারে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারী মানুষ এই ব্যাপক রহমত ও সাধারণ ক্ষমা থেকেও বঞ্চিত থাকে। যখন কোনো বিশেষ সময়ের ব্যাপারে আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে রহমত ও মাগফেরাত ঘোষণা হয়, তখন তার অর্থ এই হয় যে, এই সময় এমন সব নেক আমলের ব্যাপারে যত্নবান হতে হবে যার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও মাগফেরাতের উপযুক্ত হওয়া যায় এবং ওইসব গুণাহ থেকে বিরত থাকতে হবে, যার কারণে আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে রহমত ও মাগফেরাত থেকে বঞ্চিত হয়।

মহানবী (সা.) আরো বলেন-
রজব আল্লাহর মাস, শাবান আমার মাস, আর রমজান আল্লাহর সকল বান্দাদের মাস। (মা‘সাবাতা বিস সুন্নাহ)
রজব এবং রমযানের মধ্যবর্তী মাসের নাম শা’বান মাস। লোকেরা এই মাসের পূর্ণ মর্যাদা রক্ষা করে না। অথচ এই মাসটিতে বান্দার আমল আল্লাহর নিকট পেশ করা হয় এবং আমল সমুহের অধিক ছওয়াব দান করা হয়। আমি ভালোবাসি যে, আমার আমল আল্লাহর হুযুরে রোযা রাখা অবস্থায় পেশ করা হোক। (মা সাবাতা বিস সুন্নাহ)
মাসদ্বয়ের জন্য মহানবী (সা.) এভাবে দু’আ করতেন-اللهم بارك لنا في رجب وشعبان وبلغنا رمضان
‘আল্লাহ্ম্মুা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শা’বানা ওয়া বাল্লিগনা ইলা রামাদান। অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ রজব ও শা’বান মাসে আমাদের জন্য রবকত নাযিল করুন, আর আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।

দোয়া কবুলের রাত
যে পাঁচটি রাতে বিশেষভাবে দোয়া কবুল হওয়ার ওয়াদা করা হয়েছে তার মধ্যে শবে বরাতের রাত একটি,
মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন-
ان الدعاء يستجاب فى خمس ليال اول ليلة من رجب وليلة النصف من شعبان وليلة القدر المباركة وليلتى العيدين
অর্থ : ‘নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়ে থাকে। (১) রজব মাসের প্রথম রাতে, (২) শবে বরাতের রাতে, (৩) ক্বদরের রাতে, (৪) ঈদুল ফিতরের রাতে, (৫) ঈদুল আযহার রাতে।’ (মা-ছাবাতা বিসসুন্নাহ)

শবে বরাতের রজনীতেও যাদের দোয়া কবুল হয় না
কিন্তু শবে বরাতের রাতেও নিম্নবর্ণিত লোকদের দোয়া ও আমল (খাটি অন্তরে তওবা না করা পর্যন্ত) কবুল হয় না।
(১) মুশরিক (২) মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান (৩) আত্মীয়দের সাথে ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া সম্পর্ক ছিন্নকারী (৪) জালিম শাসক ও তাহাদের সহযোগী, (৫) না হক হত্যাকারী (৬) পরনারীগামী (৭) মদ্যপানকারী (৮) ইর্ষাপরায়ণ (৯) নিন্দাকারী (১০) গনক ও রেখা টানিয়া অথবা ফালনামা দেখিয়া ভাগ্য ও ভবিষাৎ শুভাশুভ নির্ধারণকারী (১১) গায়ক ও বাদক (১২) মিথ্যা শপথের সাহায্যে পণ্য বিক্রয়কারী (১৩) পায়ের গিরার নিচে গর্ব সহকারে কাপড় পরিধানকারী (১৪) যাদুকর (১৫) পরস্পর শত্রুতা ভাব পোষণকারী (১৬) কৃপণ (১৭) অন্যায়ভাবে শুল্ক আদায়কারী (১৮) জুয়াড়ি (১৯) দাবা-পাশার খেলোয়াড় (২০) বিদআ’ত প্রচলনকারী (২১) মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারী (২২) সুদ দাতা (২৩) সুদ গ্রহিতা (২৪) ঘুষ দাতা ও গ্রহিতা (২৫) সন্ত্রাস ও ফাসাদ সৃষ্টিকারী।

তাই শবে বরাতের পূর্ণ ফযিলত ও শবে বরাতের রাতে দোয়া কবুল হওয়ার জন্য উল্লেখিত কবীরা গুনাহসমূহ থেকে খাঁটি দিলে তওবা করা উচিত। অন্যথায় সারারাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করেও কোনো লাভের আশা করা যায় না।

মাগফিরাত ও বরকতের রাত
উপরে উল্লেখিত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় ইমাম-মুজতাহিদগণ বলেন যে-
ليلة البراءة هى ليلة العفو والكرم، ليلة التوبة والندم، ليلة الذكر والصلوة، ليلة الصدقات والخيرات، ليلة الدعاء والزيارة، ليلة الصلاة على النبى صلى الله عليه وسلم،

ليلة تلاواة القران الكريم
অর্থ: ‘বরাতের রাত্র হলো ক্ষমা ও দয়ার রাত্র, তওবা ও লজ্জিত হওয়ার রাত্র, যিকির ও নামাযের রাত্র, ছদক্বা ও দান-খয়রাতের রাত্র, দোয়া ও জিয়ারতের রাত্র, দুরূদ শরীফ পাঠ করার রাত্র এবং কোরআন শরীফ তিলাওয়াতের রাত্র।’

রমজানের অভ্যর্থনার রাত
শবে বরাতের এ রাতটিকে পবিত্র রমজানুল মোবারকের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে যেন রমজানের অভ্যর্থনার জন্যই রাখা হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহ পর যে রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির মহান মাস আসন্ন, তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য এ শবে বরাত। আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র রমজানের মাধ্যমে তাঁর যে রহমতের দ্বার খুলে দেবেন, তার আগে একটি রাত রেখেছেন। এ রাতে তিনি বান্দাকে আহ্বান জানাচ্ছেন, তোমরা এ রাতে আমার সান্নিধ্যে এসে নিজেদের পাপ-পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করে নাও। যাতে আমার সঙ্গে তোমাদের একটা বন্ধন গড়ে ওঠে। আর এ বন্ধন ও সম্পর্কের সূত্রে তোমরা যেন পবিত্র রমজানে আমার রহমত লাভে ধন্য হতে পারো। সুতরাং আমাদের কর্তব্য হচ্ছে, শবে বরাতকে পবিত্র রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে গ্রহণ করা।

বর্ণিত আছে, রজব মাসে চাষাবাদ করে ইবাদতের বীজ বপন কর, শাবান মাসে তাতে পানি দাও এবং রমজানে উহার ফসল কাট। মানুষ অভ্যাসের দাস। আগেভাগে নেক আমলের অভ্যাস না করলে হঠাৎ কোন বড় রকমের সাধনা বা পরীক্ষার সম্মুখীন হলে তাতে অকৃতকার্য হওয়ার আশঙ্কাই থাকে বেশি। কাজেই শাবান মাসের আমলনামায, রোজা, কোরআন শরীফ তেলওয়াতের প্রভৃতির গুরুত্ব অপরিসীম।

শবে বরাতের করণীয়
হজরত রাসুলে আকরাম (সা.) এর হাদিস থেকে জানা যায়, শবে বরাত উপলক্ষে করণীয় দুটি।
এক. রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি করা। যেমন নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-দুরুদ, তওবা-ইস্তেগফার ইত্যাদি।
দুই. পরদিন রোজা রাখা। এমনিতে সারা শাবান মাসেই অধিক হারে রোজা রাখা উত্তম। হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রায় সারা শাবান মাসেই রোজা রাখতেন। হজরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হজরত রাসুলকে শাবান ও রমজান ছাড়া দুই মাস একাধারে রোজা রাখতে দেখিনি। (তিরমিজি)।

কিয়ামুল লাইল : বিভিন্ন হাদীসের বর্ননা থেকে শবে বরাতের রজনীর ইবাদতের ফজিলত ও তাৎপর্য বিষয়ে নির্দেশনা-ইঙ্গিত পাওয়া যায়। নিম্নে এ বিষয়ে আরেকটি হাদিস পেশ করছি।

হযরত আলা ইবনুল হারিস (রহ.) থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) রাতে নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হল তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা!

অথবা বলেছেন, ও হুমাইরা, তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার এই আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা। নবীজি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন ইরশাদ করলেন, ‘এটা হল অর্ধ শাবানের রাত (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তার বান্দার প্রতি মনযোগ দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই। [বায়হাকী]

শবে বরাতে বিশেষ পদ্ধতির আলাদা কোনো নামাজ নাই, একটি বিষয় খুব ভালোভাবে আমাদের বোঝা উচিত, শবে বরাতের কোনো নির্দিষ্ট নামাজ কিংবা আমলের কথা কুরআন ও হাদিসের কোথাও নেই। কোনো বিশেষ নিয়মনীতি নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। যেমন আমাদের মধ্যে অনেকে শবে বরাতের জন্য আলাদা নামাজ আছে বলে মনে করেন। তারা মনে করেন, এই নামাজের নিয়মনীতিও সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। এ-জাতীয় ধারণা অবশ্যই ভিত্তিহীন।

পৃথিবীর সব থেকে বড় কবরস্থান! জেনে নিন-অবাক হবেন

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানুষের মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন প্রচলিত ধারণা আছে। এছাড়া দেশ-কাল-পাত্র ভেদে মৃত ব্যক্তিকে সৎকারের পন্থাও ভিন্ন। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলে মানুষের মৃত্যু হলে তাদের নদীতে জ্বলন্ত অবস্থায় ভাসিয়ে দেয়া হয়। তাদের বিশ্বাস মতে, নদীর পানির সঙ্গে মৃত ব্যক্তির সব মন্দের হিসাব মিলিয়ে যাবে। মহাকাল জানে আদৌ তা হয় কিনা। আবার ধর্মীয় ‍দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তিকে কবর দেয়। তবে যত্রতত্র এই কবর দিলে চলে না। একটি নির্দিষ্ট স্থানে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে তারপর মৃত ব্যক্তিকে কবর দেয়া হয়। এই নির্দিষ্ট স্থানটিকে বলা হয় গোরস্থান বা কবরস্থান। তেমনি একটি গোরস্থান ইরাকের পবিত্র নাজাফ শহরের নিকটবর্তী ‘ভ্যালি অব পিস’। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় ১৪০০ বছর ধরে পাঁচ মিলিয়নের (৫০ লাখ) বেশি মানুষকে এই গোরস্থানে কবর দেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো গোরস্থান যেখানে এখনও মৃতব্যক্তিকে কবর দেয়া হয়। স্থানীয় ভাষায় এই গোরস্থানটির নাম ‘ওয়াদি আল-সালাম’, যাকে বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘শান্তির উপত্যকা’।

পৃথিবীর সব থেকে বড় কবরস্থান!
পৃথিবীর সব থেকে বড় কবরস্থান!

পবিত্র নাজাফ শহরের নিকটবর্তী ইমাম আলী ইবনে আবি তালিবের মাজারের পাশেই এই গোরস্থানটি অবস্থিত। আলী ইবনে আবি তালিব শিয়াদের প্রথম ইমাম এবং চতুর্থ খলিফা। তার এই মাজারকে কেন্দ্র করেই ইরাকের শিয়া মতাবলম্বীদের বসতি। দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিয়া মতাবলম্বী অনেকেই প্রতিবছর এই মাজার পরিদর্শনে আসেন। মাজার নিটকবর্তী গোরস্থানে এখনও প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ মৃতব্যক্তিকে কবর দেয়া হয়। যদিও বর্তমানে দেশটিতে সংঘাতের কারণে প্রায় প্রতিদিনই অনেক মৃতব্যক্তিকে কবর দেয়া হয় এখানে। গোরস্থানটি মোট ১ হাজার ৪৮৬ একর এলাকার উপর অবস্থিত। এই গোরস্থানটি নিয়ে শিয়া মতাবলম্বীদের মধ্যে অনেক কিংবদন্তি চালু আছে। তার মধ্যে একটি হলো- এই গোরস্থানে তাদেরই কবর দেয়া হয় যাদের আত্মা পবিত্র এবং শান্ত। ইতিহাসের অনেক রাজা, বাদশা, যুবরাজ এবং সুলতানদের কবর আছে এখানে। তবে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে আছে নবী হুদ (আ.), নবী সালেহ (আ.) এবং আয়াতুল্লাহ সায়েদ মুহাম্মদ বাকির আল সদর এবং আলী ইবনে আবি তালিব, যাকে বিশ্বাসীদের যুবরাজ বলা হতো। গোরস্থানের কবরগুলো পোড়ানো ইট এবং প্লাস্টার দিয়ে তৈরি। ব্যক্তির সম্মান এবং সমাজে আধিপত্য অনুযায়ী কবরের উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া কবরের গায়ে তাদের সম্পত্তির হিসাব এবং ভূমি মালিকানার হিসাবও লেখা আছে। মাটির গভীরে সুড়ঙ্গ করে অনেককে কবর দেয়া হতো একটা সময়। ওই কবরগুলো দেখতে সিঁড়ির মাধ্যমে মাটির নিচে নামতে হয়। তবে ১৯২৩ সালের পর থেকে এ পদ্ধতিতে কবর দেয়া বন্ধ হয়েছে। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় ইরাকি মিলিশিয়ারা আত্মগোপনের জন্য এই গোরস্থানটিকে ব্যবহার করতো। কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরাকের সর্বত্র যেতে পারলেও ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে এই গোরস্থানে প্রবেশ করতে পারতো না। এছাড়া বিশাল এই গোরস্থানের অসংখ্য সুড়ঙ্গ আর অলিগলি মার্কিন বাহিনীর জন্য ছিল সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা।

রাজধানীর শাহ আলী বেড়িবাঁধ থেকে | কুড়িয়ে পাওয়া সেই শিশুটি আর নেই

রাজধানীর শাহ আলী বেড়িবাঁধ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া সেই শিশুটি আর নেই

রাজধানীর শাহ আলী বেড়িবাঁধ ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পাওয়া সেই শিশুটি আর নেই। গত ১৬ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা গেছে।

গত ১১ মার্চ দুপুরে শাহ্আলী থানার নবাবেরবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় পাকার মাথা নামক স্থানে ডাস্টবিন থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় এই নবজাতককে পাওয়া যায়। পথচারী বিপ্লব উদ্ধার করে থানায় খবর দিলে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহির রায়হান শিশুটিকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করান। তার নাম রাখা হয়েছিল আনিশা।

রাজধানীর শাহ আলী বেড়িবাঁধ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া সেই শিশুটি আর নেই
রাজধানীর শাহ আলী বেড়িবাঁধ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া সেই শিশুটি আর নেই

ঢামেক হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মনীষা ব্যানার্জী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিশুটি জন্মের পর থেকে বিভিন্ন সংক্রমণে ভুগছিল। তার ওজনও ছিল কম। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা করতে পারিনি। গত রবিবার রাতে শিশুটি মারা যায়।’