দুহাত কাটার পরেও হাতের অবশিষ্টাংশ দিয়ে ইসলামের পতাকা দরছিলেন যে সাহাবী

হযরত মুসআব ধনীর দুলাল ছিলেন। কিন্তু ইসলাম গ্রহন করার পর তাঁর উপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। দীর্ঘদিন বন্দী করে রাখা হয়। একদিন বন্দী জীবনের শৃংখল ভেংগে আবিসিনায় চলে যান। সেখান থেকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন একটি পোশাক পরিধান করে মদীনায় আসেন। হযরত মুসআবের এই দুরবস্থা দেখে আল্লাহর রাসুল (সা) এর চোখ অশ্র“ সিক্ত হয়। কেননা মুসআব খুবই আরাম আয়েশের জীবন যাপন করতো। শুধুমাত্র ইসলাম গ্রহন করার কারণে তার এই দুরবস্থা।

মুসআব মদীনায় আসার পর ওহুদ যুদ্ধ সংগঠিত হয়। উক্ত যুদ্ধে মুসআবের হাতে ছিল ইসলামের পতাকা। যুদ্ধের ময়দানে শত্র“র প্রচন্ড আঘাতে মুসআবের ডান হাত কেটে যায়। এরপর তিনি বাম হাত দিয়ে ইসলামের পতাকা উড্ডীন রাখেন। একটু পরে বাম হাতও কাটা যায়। দুহাত কাটা যাওয়ার পর দুই হাতের অবশিষ্টাংশ দিয়ে ইসলামের পতাকা বুকে ধরে রাখলেন। যতক্ষণ প্রাণ ছিলো ইসলামের পতাকা মাটিতে পড়তে দেন নাই। অবশেষে শত্রু “ পক্ষের তীরের আঘাতে তিনি শহীদ হন।

ইসলামের দৃষ্টিতে যে সব খাবার হারাম-নিষিদ্ধ

মানুষের জন্য উপকারী ও পবিত্র সবধরনের খাদ্যের ব্যাপারে ইসলামের বিধান হচ্ছে হালাল ও বৈধতার। প্রমাণ্য ও গ্রহণযোগ্য দলিল ব্যতীত কোন প্রকার খাদ্য হারাম বলা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বল, ‘আমার নিকট Continue reading “ইসলামের দৃষ্টিতে যে সব খাবার হারাম-নিষিদ্ধ”

ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর হক

একজন স্ত্রী যেমন স্বামী ছাড়া পরিপূর্ণ নন তেমনি একজন স্বামীও স্ত্রী ছাড়া পরিপূর্ণ নন। সৃষ্টিগতভাবেই আল্লাহ মহান এদের একজনকে অপরজনের সহায়ক এবং মুখাপেক্ষী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। একজন আদম Continue reading “ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর হক”

ইসলামের নির্দেশনায় স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব নিরসনে করণীয়

বিয়ে এবং ডিভোর্স শব্দ দুটি পাশাপাশি শুনে অভ্যস্ত হলেও একটি আরেকটির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। একেবারেই বিপরীতমুখি শব্দ। অতিরিক্ত রাগ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, অবিশ্বাস, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে না ভাবা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ হয়ে থাকে।
নানাবিধ কারণে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিয়ে বিচ্ছেদের সংখ্যা যেন বেড়ে চলেছে। আর এটা এক পক্ষ থেকে হচ্ছে না। বিয়ে বিচ্ছেদে স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে পাঠাচ্ছেন তালাক নোটিশ। আবার অনেক ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সমঝোতায়ই হচ্ছে খোলা তালাক। স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অমনোযোগ, স্বামীর হাতে স্ত্রী নির্যাতন, শ্বশুর-শাশুড়ির হাতে পুত্রবধূ নির্যাতন, পরকীয়ায় আসক্তি, স্বামীর মাদকাসক্তি, স্বামী দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা এবং স্ত্রীর ভরণপোষণের অনীহাই এসব বিয়ে বিচ্ছেদের মূল কারণ। এ ছাড়া সামাজিক অস্থিরতা, মাদকাসক্তির প্রভাব, পরস্পরকে ছাড় না দেওয়ার মনোভাবও বিয়ে বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ।
শিক্ষা ও সচেতনতার হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কি মানুষের সম্পর্কের বন্ধনগুলো যেভাবে হালকা হয়ে যাচ্ছে- তাতে শঙ্কিত না হয়ে পারা যায় না। অথচ এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মানুষকে দুনিয়ায় দেওয়া আল্লাহর অন্যতম নিয়ামত হলো ঘর-সংসার। যাকে একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল বলা চলে। যে নিকেতনের ছায়াতলে মানবগোষ্ঠী ভালোবাসা ও অনুকম্পা, নিরাপত্তা ও পবিত্রতা এবং মহৎ জীবন ও শালীনতা লাভ করে।
এই আশ্রয়ে শিশু-কিশোর ও তরুণরা বড় হয়, আত্মীয়তার সম্পর্ক বিস্তৃত হয়- ফলে পারস্পরিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ সংসারে নারী-পুরুষ একজনের অন্তরের সঙ্গে অন্যের অন্তর যুক্ত হয়। পবিত্র কোরআনে কারিমের ভাষায়- ‘তারা তোমাদের পোষাকস্বরূপ এবং তোমরাও তাদের পোষাকস্বরূপ।’ -সূরা বাকারা : ১৮৭
পোষাক যেমন শরীরকে আগলে রাখে, তেমনি সংসারকেও নারী-পুরুষ উভয়েই আগলে রাখে সব ধরনের বিপদাপদ ও সমস্যা থেকে। এই হলো একটি সুখি সংসারের চিত্র। তবে এর উল্টোটাও দেখা যায়।

মানুষের স্বভাব-প্রকৃতিতে কখনও কখনও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়- যেখানে কোনো ভালোবাসা ও প্রশান্তি সুদৃঢ় হয় না; ফলে ক্ষেত্রবিশেষ দাম্পত্য সম্পর্ক অটুট রাখা কষ্টকর হয়ে যায়। এমন বিশৃংখল অবস্থার কারণ কখনও কখনও হয়ে থাকে আভ্যন্তরীণ আবার কখনও বহিরাগত।
স্বামী-স্ত্রীর অভিভাবক অথবা তাদের আত্মীয়-স্বজনের অযাচিত হস্তক্ষেপ, স্বামী-স্ত্রীর সব কর্মকাণ্ডের পিছনে নজরদারী, পরিবারের বড়দের পক্ষ থেকে মাত্রাতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। আর এগুলো হয় ছোটো-খাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে। যার উৎপত্তি অযাচিত হস্তক্ষেপ, কিংবা গুজব ও আজে-বাজে কথায় কান দেওয়া এবং সেটাকে বিশ্বাস করা।
উদ্ভুত পরিস্থিতি প্রতিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, বিবেক ও বুদ্ধি দ্বারা বিষয় ও পরিস্থিতি অনুধাবন করা। সেই সঙ্গে আরেকটি জরুরি বিষয় হলো- মনের দিক থেকে উদারতার পরিচয় দেওয়া, কোনো কোনো বিষয় দেখেও না দেখার ভান করা। কারণ সব সময় সে যা পছন্দ ও কামনা করে, তার মধ্যে মঙ্গল ও কল্যাণ হয় না, বরং কখনও কখনও সে যা পছন্দ ও কামনা করে না, তার মধ্যেই কল্যাণ হয়। বিষয়টি কোরআনে কারিমে এভাবে বলা হয়েছে, ‘আর তোমরা তাদের সঙ্গে সৎভাবে জীবনযাপন করবে; তোমরা যদি তাদেরকে অপছন্দ করো, তবে এমন হতে পারে যে, আল্লাহ যাতে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন, তোমরা তাকেই অপছন্দ করছ।’ -সূরা আন নিসা : ১৯
পারিবারিক সমস্যা প্রকাশের সূত্রে দেখা যায়- পারস্পরিক দায়বদ্ধতার বন্ধনে শিথিলতা, স্ত্রীর পক্ষ থেকে অবাধ্যতা, স্বভাব চরিত্রে অহমিকা এবং সাংসারিক দায়িত্ব পালনের প্রতি অনীহা। তখন প্রতিকার হবে- উপদেশ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে স্ত্রীর ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া। বুদ্ধিমত্তা ও ধৈর্যের পথে চলার জন্য উৎসাহ প্রদান ও পরকালের কথা মনে করিয়ে দেওয়া।
কিন্তু এটা না করে কোনো কোনো স্বামী বিশ্বাস করে বসেন যে, তালাকের হুমকি দেওয়া, তালাক দেওয়া কিংবা বিয়ের বিচ্ছেদ ঘটানোই হলো- দাম্পত্য বিরোধ ও পারিবারিক সমস্যার সঠিক সমাধান। ভুল, মনে রাখবেন এটা একমাত্র সমাধান নয়। যখন বিরোধ, অবাধ্যতা, মতানৈক্যের লক্ষণ প্রকাশ পাবে, তখন তালাক বা তালাকের হুমকি প্রদান করা তার প্রতিকার নয় বরং তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে দেয়।
ইসলাম বলেছে, এমন পরিস্থিতিতে স্ত্রীকে বুঝাবে, প্রয়োজনে অভিভাবকদের দিয়ে দরবার করবে। তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে স্ত্রীর অহমিকা ও অবাধ্যতার মোকাবেলায় শয্যা বর্জন করবে। শয্যা বর্জন করার অর্থ শয়নকক্ষ বর্জন করা নয়। তার পরও পরিস্থিতির প্রতিকারে কোনো অবস্থাতেই স্ত্রীকে অপমান করা, গোপন বিষয় প্রকাশ করা যাবে না।
দাম্পত্য দ্বন্দ্ব নিরসনের ব্যাপারে যখন সব উপায় ব্যর্থ হবে, দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে- তখন ইসলামি শরিয়ত কর্তৃক অনুমোদিত সুন্নত পদ্ধতির তালাকের মাধ্যমে সম্পর্ক শেষ করবে।
সুন্নত পদ্ধতির তালাক হলো- ঋতুমুক্তকালীন সময়ে মাত্র এক তালাক প্রদান করা। যে সময়ে সহবাস হয়নি। এ পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে তালাক প্রদান করা পরিস্থিতির প্রতিকার হিসেবে বিবেচিত। কারণ, এতে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই বেশ কিছুদিন সময় পায়। ওই সময়ে তারা চিন্তা-ভাবনা কিংবা পর্যালোচনা করতে পারে। ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা পুনরায় সংসার শুরু করবে।
আরেকটি বিষয়, এই পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে তালাক প্রদানকারীকে ঋতুমুক্তকালীন সময়ের আগমন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে; আর হতে পারে যে, তখন তার মন পরিবর্তন হবে, হৃদয় জগ্রত হবে এবং আল্লাহ তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাদের জন্য নতুন কোনো উপায় করে দেবেন, ফলে তাদের সম্পর্ক তালাক পর্যন্ত গড়াবে না।
তাছাড়া স্ত্রীকে যখন রেজয়ি (প্রত্যাবর্তনযোগ্য) তালাক দেওয়া হবে, তখন তার ওপর আবশ্যকীয় কর্তব্য হবে- স্বামীর ঘরে অবস্থান করা; সে বের হবে না এবং তাকে বের করেও দেওয়া হবে না। সুতরাং তার স্বামীর ঘরে অবস্থান করার মানে, প্রত্যাবর্তনের একটা পথ খোলা রাখা। ভালোবাসার সহানুভূতি উত্থাপন করার ক্ষেত্রে আশার সূচনা এবং সম্মিলিত জীবনযাপনের বিষয়টি স্মরণ করানো। ফলে এই অবস্থায় তালাকের হুকুমের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অবস্থান দূরে প্রতীয়মান হলেও চোখের দৃশ্যপট থেকে তার অবস্থান স্বামীর নিকটে।
আর এসব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঘটে যাওয়া অনাকাংখিত ও অশান্ত ঝড়কে শান্ত করা, হৃদয়ে নাড়া দেওয়া, আপন অবস্থান বিবেচনাপূর্বক ধীরে-সুস্থে নিজ সংসার, শিশু ও পরিবারের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ লাভ। তাতে হয়তো সম্পর্ক ভাঙনের দিকে যাবে না।

ইসলামের নির্দেশনায় স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব নিরসনে করণীয়

বিয়ে এবং ডিভোর্স শব্দ দুটি পাশাপাশি শুনে অভ্যস্ত হলেও একটি আরেকটির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। একেবারেই বিপরীতমুখি শব্দ। অতিরিক্ত রাগ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, অবিশ্বাস, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে না Continue reading “ইসলামের নির্দেশনায় স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব নিরসনে করণীয়”

ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী স্ত্রী সহবাসের সঠিক নিয়ম

স্ত্রীকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দান করার পূর্বে বিচ্ছিন্ন না হওয়া……

আল্লাহ তাআলা বিবাহের মাধ্যমে নারী-পুরুষের যৌন সম্ভোগ তথা বংশ বৃদ্ধিকে কল্যাণের কাজে পরিণত করেছেন। বিবাহের ফলে স্বামী-স্ত্রীর যাবতীয় বৈধ কার্যক্রম হয়ে ওঠে কল্যাণ ও ছাওয়াবের কাজ। বংশবৃদ্ধির একমাত্র মাধ্যমে হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর সহবাস। এর রয়েছে কিছু নিয়ম-নীতি। পাঠকের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

স্ত্রী সহবাসের রয়েছে কতিপয় নিয়ম-
০১. স্বামী-স্ত্রী উভয়ই পাক পবিত্র থাকবে।
০২. “বিসমিল্লাহ” বলে সহবাস শুরু করা মুস্তাহাব। ভুলে গেলে যদি বীর্যপাতের পূর্বে স্মরণ হয় তাহলে মনে মনে পড়ে নিতে হবে।

০৩. সহবাসের পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করা। যা আল্লাহর রাসুলের সুন্নাত।

০৪. সব ধরনের দুর্গন্ধ জাতীয় জিনিস পরিহার করা। উল্লেখ্য যে, ধূমপান কিংবা অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। আর এতে কামভাব কমে যায়। আগ্রহের স্থান দখল করে নেয় বিতৃষ্ণা।

০৫. কেবলামুখি হয়ে সহবাস না করা।

০৬. একেবারে উলঙ্গ না হওয়া।

০৭. স্ত্রীকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দান করার পূর্বে বিচ্ছিন্ন না হওয়া।

০৮. বীর্যপাতের সময় মনে মনে নির্ধারিত দোয়া পড়া। কেন না যদি সে সহবাসে সন্তান জন্ম নেয় তাহলে সন্তান শয়তানের প্রভাব মুক্ত থাকবে।

০৯. স্ত্রীর হায়েজ-নেফাসের (ঋতুকালীন) সময় সহবাস না করা।

১০. চন্দ্র মাসের প্রথম এবং পনের তারিখ রাতে মিলিত না হওয়া।

১১. স্ত্রীর জরায়ুর দিকে চেয়ে সহবাস না করা।

১২. বিদেশে বা সফরে যাওয়ার আগের রাতে স্ত্রী সহবাস না করা।

১৩. সহবাসের সময় স্ত্রীর সহিত বেশি কথা না বলা।

১৪. জোহরের নামাজের পরে স্ত্রী সহবাস না করা।

১৫. ভরা পেটে স্ত্রী সহবাস না করা।

১৬. উল্টাভাবে স্ত্রী সহবাস না করা।

১৭. স্বপ্নদোষের পর গোসল না করে স্ত্রী সহবাস না করা।

কুরআন-হাদিস মোতাবেক আমলি জিন্দেগি যাপন করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করুন। আমিন, ছুম্মা আমিন।

যখন যৌন সহবাস বাধ্যতামূলক এবং নিষিদ্দ , ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তর

ইসলাম মেয়েদের রজঃকালীন বা কুসুম সময়ে যৌন সংসর্গ নিষিদ্ধ করেছে।
কুরআন বলছে:
“তারা রজঃ সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলে দিন রজঃ (মহিলাদের জন্য) একটি অস্বস্তি/অসুস্থতা। রজঃকালীন সময়ে তাদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার উদ্দেশ্যে গমন করিও না; এটা রক্ত বন্ধ হওয়া পর্যন্ত। এরপর তারা নিজেদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিলে আল্লাহ তোমাদের যেভাবে আদেশ দিয়েছেন সেভাবে স্ত্রী গমন করো। “(সূরা আল বাকারাহ্, ২:২২২)


শরিয়া অনুযায়ী, মাসিক বা রজঃ এর সময়কাল তিন থেকে দশ দিনের মধ্যে হয় । রক্তপাত তিন দিনের থেকে কম হলে সেটি মাসিক বা রজঃ নয় ; কিন্তু রক্তপাত যদি দশ দিনের বেশি হয় তাহলে সেই স্ত্রী লোকের জন্য তার সাধারণ রজঃকালীন দিন রজঃ হিসাবে গন্য হবে এবং পরবর্তী রক্তপাতময় দিনসমূহ ইস্তেহাদা হিসাবে গণ্য হবে, এবং সেই (রক্তপাতময়) ইস্তেহাদার সময় যৌন সহবাস বৈধ হবে।

মাসিককলাকালীন সময়ে যোনিপথে যৈন সহবাস সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ। তবে অন্যান্য আবেগময় সম্পর্ক (পায়ুপথ ও যোনি বাদে ) বজায় রাখার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত এড়িয়ে চলাটাই ভালো।

স্ত্রীর সাথে যৌন সংসর্গ নিযুক্ত হবার পর কোন ব্যক্তি যদি আবিষ্কার করেন যে স্ত্রীর মাসিক শুরু হয়েছে তাহলে তিনি অবিলম্বে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিবেন।

এবং উপরে উল্লিখিত আয়াত থেকে স্পষ্ট যে (“… রক্ত বন্ধ হওয়া পর্যন্ত”) রক্ত বন্ধ হয়েছে একবার নারী যদি ওযূ (গোসল) নাও করে তথাপি তার সাথে তার স্বামীর যৌন সংসর্গ হালাল হয়ে যায়। কিন্তু মুজতাহিদরা বলে থাকেন যে, রজঃ হয়ে যাবার পর স্ত্রীকে গোসল বা ওযু করার সময় দেয়া উচিত। সেটা সম্ভব না হলে অন্তত স্ত্রীকে তার যোনিপ্রদেশ ভালোমতো ধুয়ে নেয়ার সুযোগ দাও সহবাস শুরু করার পূর্বে।

এছাড়াও আরো যে কয়টি সময়ে যৌন সহবাস বৈধ নয়

* নিফাস পরবর্তী রক্তপাতময় সময়ে (সর্বোচ্চ ১০ দিন)
* রমযান (রামাদান) মাসে দিনের বেলায় (রাতের বেলায় সহবাস বৈধ্ব কুরান-হাদিস দ্বারা সিদ্ধ)
* মক্কায় তীর্থযাত্রার সময় ইহরাম বাধাকালীন সময়ে ( অন্যান্য সময়ে যৌন সংসর্গ অনুমোদিত)
যৌন সংগম বা সহবাস যখন মাকরুহ :

১ ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক ঘটনার সময়, যেমন, চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্য্যগ্রহণ, , ঘুর্নিঝড় বা হারিকেন, ভূমিকম্প, সুনামি ।

২ সূর্যাস্ত থেকে মাগরিব পর্যন্ত ।

৩ সূর্যোদয় পর্যন্ত ভোর থেকে ।

৪ চান্দ্র মাসের শেষ তিন রাত।

৫ প্রতি চান্দ্র মাসের ১৫তম রজনী ।

৬ দশম জিলহজ্জ এর রজনীতে ।

৭ জুনুব এর পর পর ।
যখন যৌন সংসর্গ সিদ্ধ – দিন-ক্ষণ

কিছু হাদিসের আলোকে যেসব দিন-ক্ষণে যৌন সংগম সিদ্ধ বা অধিকতর কাম্যঃ

১ রবিবার রাতে ।

২ সোমবার রাতে ।

৩ বুধবার রাতে ।

৪ বৃহস্পতিবার দুপুরে ।

৫ বৃহস্পতিবার রাতে।

৬ শুক্রবার সন্ধ্যায় ।

৭ যখনই স্ত্রীর যৌন সহবাস করতে চায়।

যখন যৌন সহবাস বাধ্যতামূলক

প্রতি চার মাসের মধ্যে অন্তত একবার স্ত্রীর সাথে যৌন সহবাস পুরুষ মানুষের উপর ওয়াজিব হয়; এটা স্ত্রীর জন্য অন্যতম একটি দাম্পত্য অধিকার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এটা অবশ্যপালনীয় যদি না কোন বৈধ অজুহাত থাকে বা স্ত্রী তার অধিকার ছেড়ে দেয়।

সূত্র : আমার ব্লগ ডট কম

জেনে নিন মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখলে ইসলামের বিধান কি?

পরকালে কোন মানুষ কি অবস্থায় আছে তা একমাত্র আল্লাহ পাক ছাড়া কেউ বলতে পারে না। তবে অনেকেই ঘুমের মধ্যে মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্ন দেখেন। ধরে নেয়া হয় স্বপ্নের মাঝে মৃত ব্যক্তিকে যে অবস্থাতে দেখা যায়, ওটাই তার প্রকৃত অবস্থা।

অর্থ্যাৎ যদি কেউ মৃত ব্যক্তিকে ভাল পোশাক পরা অবস্থায় বা সুস্বাস্থের অধিকারী দেখে, তাহলে বুঝতে হবে সে ভাল অবস্থায় আছে। আর যদি জীর্ণ, শীর্ণ স্বাস্থ্য বা খারাপ পোশাকে দেখে তাহলে বুঝতে হবে, ভাল নেই। তার জন্য তখন বেশি করে মাগফিরাত কামনা ও দোআ-প্রার্থনা করতে হবে।

ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, বিদ্রোহীরা যখন উসমান (রা)- এর বাসভবন ঘেরাও করেছিল, তখন উসমান (রা) বলেন, আমি গত রাতে স্বপ্ন দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, উসমান আমাদের সাথে তুমি ইফতার করবে। আর ঐ দিনই উসমান (রা) শহীদ হলেন। (আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)

আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, আবু মূসা আশ আশআরী (রা) বললেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি একটি পাহাড়ের কাছে গেলাম। দেখলাম, পাহাড়ের উপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রয়েছেন ও পাশে আবু বকর (রা)। আবু বকর (রা) তার হাত দিয়ে ওমর (রা) এর দিকে ইশারা করছেন। আমি আবু মূসা (রা) এ স্বপ্নের কথা শুনে বললাম, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। আল্লাহর শপথ! ওমর (রা) তো মারা যাবেন! আচ্ছা আপনি কি বিষয়টি ওমর (রা) লিখে জানাবেন?

আবু মূসা (রা) বললেন, আমি ওমর (রা) তার জীবদ্দশায তার নিজের মৃত্যু সংবাদ জানাব, এটা কি করে হয়? এর কয়েকদিন পরই স্বপ্নটা সত্যে পরিণত হল। ওমর (রা) শহীদ হয়ে গেলেন। কারণ, মৃত্যু পরবর্তী সত্য জগত থেকে যা আসে, তা মিথ্যা হতে পারে না। সেখানে অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ নেই। (আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)

তাই মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখলে সর্বাবস্থায় জরুরিভাবে তাদের জন্য দো‘আ ও ছাদাক্বা করা উচিত। মানুষের স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে (ক) ভাল স্বপ্ন- যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বহন করে (খ) শয়তানের পক্ষ থেকে- যা মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলে (গ) নিজের খেয়াল ও কল্পনা- যা স্বপ্নে দেখা যায় (মুসলিম হা/২২৬৩)।স্বপ্নে ভাল কিছু দেখলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে। চাইলে অন্যকেও সে বিষয়ে অবহিত করবে। আর খারাপ কিছু দেখলে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইবে, বাম দিকে তিনবার আঊযুবিল্লাহ বলে থুক মারবে এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করবে। কাউকে সে বিষয়ে বলবে না (বুখারী হা/৭০৪৫)।

জেনে নিন, মেয়েরা চুড়ি ও নাকফুল না পরলে স্বামীর আয়ু কমে, ইসলামের ব্যাখ্যা

আমাদের সমাজে অনেক বিবাহিতা মহিলাকেই শুনতে হয় যে হাতে চুড়ি না পরলে বা নাকে নাকফুল না পরলে স্বামীর আয়ু কমে যায় বা স্বামীর অমঙ্গল হয়। ঠিক যে বিশ্বাস নিয়ে বিধর্মী মহিলারা
শাঁখা-সিঁদুর পরে, আজও অনেক মুসলমান মা বোন সেই একই ধরনের কুসংস্কারে বিশ্বাসী হয়ে চুড়ি-নাকফুল পরেন।

কিন্তু ফিক্বাহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি অধ্যয়নে একথাই প্রমাণিত হয় যে, মেয়েরা কান ও নাক ছিদ্র করে গহনা পরতে পারবে। কেননা কানে গহনা পরার রীতি নবী করীম (সা.) জীবিত থাকা অবস্থায়ও ছিল, তথাপি তিনি এটি নিষেধ করেননি।

প্রশ্নে উল্লিখিত ধারণাটি ভ্রান্ত, কুসংস্কার ও আল্লাহ তায়ালার কালামে পাকের বিপরীত। কারণ আল্লাহ তায়ালা সমস্ত মানুষের হায়াত নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। সে সময়ের পূর্বে বা পরে কারো মৃত্যু হবে না। তাই ঐ সমস্ত ভ্রান্ত ধারণা পরিত্যাগ করা অপরিহার্য।