যুল-কিফলের জীবনে পরীক্ষা:ইবলিশ ঐ দিন তার সাথে যা করেছিল

যুল-কিফল’ উক্ত মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন দেখে ইবলীস হিংসায় জ্বলে উঠল। সে তার বাহিনীকে বলল, যেকোন মূল্যে তার পদস্খলন ঘটাতেই হবে। কিন্তু সাঙ্গ-পাঙ্গরা বলল, আমরা ইতিপূর্বে বহুবার তাকে ধোঁকা Continue reading “যুল-কিফলের জীবনে পরীক্ষা:ইবলিশ ঐ দিন তার সাথে যা করেছিল”

নবীজির জানাযা কি হয়েছিল ঐ দিন

ইবনে মাজাহ শরিফে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, মঙ্গলবার সাহাবায়ে কেরাম রাসুলে কারিম সা.-এর গোসল ও কাফনের কাজ শেষ করেন। নবীজির দেহ মোবারক রওজার পাশে রাখেন। সাহাবারা Continue reading “নবীজির জানাযা কি হয়েছিল ঐ দিন”

ঐ সব মেয়েদের গল্প

আপনি ৬ মাস প্রেম করছেন হঠাৎ আবদার করেছেন আপনার প্রেমিকার কাছে যে তার সাথে,, শারিরীক সম্পর্ক করবেন।
মেয়েটা রাজি হল না কিন্ত কিছুদিনের জোরাজুরিতে মেয়েটা রাজি হয়ে গেল এবং আপনার আবদারটাও পূর্ণ হল। এখন সবাই ভাববে মেয়েটার চরিত্রে সমস্যা আছে কিন্তু এটা ভাববে না যে,মেয়েটা আপনার কাছে কত বড় বিশ্বাসের পরিক্ষা দিল। সবাই ভাববে যে মেয়েটার চরিত্র নষ্ট কিন্তু এইটা ভাববেনা যে, আপনার অন্যায় আবদারের কথা।

আপনার কি অনেক ক্ষতি হত যদি আবদারটা এমন হত যে “তোমার হাতে আমার নামের উল্কি লিখো “এতেও মেয়েটা রাজি হয়ে যেত কিন্তু এতে উপকারটা হত এই যে চরিত্রে দাগ না পড়ে মেয়েটার হাতে দাগ পড়তো।
মেয়েরা সব পারে কেন জানেন?
মেয়েরা সব পারে কারণ মেয়েরা পৃথিবীর সব থেকে বোকা প্রাণি।কারণ বোকা না হলে একজন ধর্ষক এর বোন থাকতো না, বোকা না হলে একজন ইভটিজারের বোন থাকতো না, বোকা না হলে নিজের শরিরকে বিলিয়ে আপনার ভোগ পন্য হত না, বোকা না হলে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেয়া মায়ের সন্তান থাকতো না…
পরিশেষে শুধু এটুকুই বলবো, না জেনে; না শুনে কোন নারী কে অপবাদ দিচ্ছেন? সেই নারীকেই কিন্তু একদিন আমার আপনার মত কেউ মা ডাকবে, কেউ বোন
ডাকবে, কেউ বউ ডাকবে…

এটা বলবো না যে সব মেয়ে # দুধে ধোয়া
# তুলসি পাতা; তবে এটাও সত্যি যে সব মেয়ে খারাপ না।তাই কিছু মেয়ের জন্য মেয়ে জাতিকে উদ্দেশ্য করে খারাপ বলা ঠিক না!

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা মসজিদে বসে ছিলেন ঐ দিন যা ঘটেছিলো


মজলিসের শেষ প্রান্তে বসা এবং মজলিসের অভ্যন্তরে ফাঁক দেখে সেখানে বসা।
আবূ ওয়াক্বিদ আল-লায়সী (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা মসজিদে বসে ছিলেন; তাঁর সাথে আরও লোকজন ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনজন লোক আসলো। তন্মধ্যে দু’জন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দিকে এগিয়ে আসলেন এবং একজন চলে গেলেন। আবূ ওয়াকিদ (রাযি.) বলেন, তাঁরা দু’জন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর তাঁদের একজন মাজলিসের মধ্যে কিছুটা খালি জায়গা দেখে সেখানে বসে পড়লেন এবং অপরজন তাদের পেছনে বসলেন। আর তৃতীয় ব্যক্তি ফিরে গেল। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবসর হলেন (সহাবীদের লক্ষ্য করে) বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এই তিন ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বলব না? তাদের একজন আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করল, আল্লাহ্ তাকে আশ্রয় দিলেন। অন্যজন লজ্জাবোধ করল, তাই আল্লাহ্ও তার ব্যাপারে লজ্জাবোধ করলেন। আর অপরজন (মাজলিসে হাযির হওয়া থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিলেন, তাই আল্লাহ্ও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।

ঢাকার একটি রেল স্টেটাশন , স্টেশন এর পাশেই থাকে ছেলেটি

আমরা পাঁচ-দশ হাজার টাকা দিয়ে শীতের জামা কিনি কিন্তু এমনও কিছু মানুষ আছে যাদের ৫০ টাকা দিয়ে একটা পুরান কাপড়ও কিনার সামর্থ হয় না

রাতের ট্রেনের জন্য একটি স্টেশনের ব্যাঞ্চিতে বসে আছে এক দম্পতি, সাথে তাদের আট বছরের ছেলে অর্পণ । শীতটা মোটামুটি ভালোই পড়েছে । সবার শরীরেই গরম পোশাক, তাই বেশি টের পাওয়া যাচ্ছে না শীতটা কিন্তু কুয়াশা এবং আশেপাশের মানুষ গুলো দেখে বুঝা যাচ্ছে, না শীত পড়েছে ।
.
অর্পণ একটু চঞ্চল প্রকৃতির । এক জায়গায় স্থির থাকতে চায় না । হঠাৎ করে তার দৃষ্টি পড়লো, ব্যাঞ্চির পেছনে প্লাট ফর্মের এক কোনায় দেয়াল ঘেঁষে শুয়ে আছে তার বয়সী একটি শিশু কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো ছেলেটির গায়ে একটি পাতলা ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া আর কিছুই নেই । দুই হাত শরীরের মাঝে জড়িয়ে শীত নিবারণের বৃথা চেষ্টা করছে ছেলেটি । মা বাবার অলক্ষে অর্পণ ছেলেটির দিকে হেঁটে যায় । গিয়ে দেখে ছেলেটি থরথর করে কাঁপছে । ছোট্ট হৃদয়ে দৃশ্যটি সহ্য হয়না । নিজের গা থেকে জ্যাকেট খুলে ছেলেটি দিকে এগিয়ে দেয় । ছেলেটি কম্পিত হাতে জ্যাকেটটি হাতে নেয় কিন্তু তার চোখে মুখে সপ্তাশ্চর্যের বিস্ময় । ছেলেটি কৃতজ্ঞতার সহিত কি বলবে কিছু বুঝতে পারে না । শুধু মুখে লেগে থাকে এক টুকরো রহস্যময়ী হাসি ।
.
ছেলেটি কে জ্যাকেট দিয়ে নিজেরই শীত করছে খুব কিন্তু এ নিয়ে সে চিন্তিত নয় কারন ব্যাগে আরো দুটো জ্যাকেট সংরক্ষিত আছে তার জন্য ।
.
— মা একটা জ্যাকেট বেড় করে দেও তো
— এই তোমার গায়ের জ্যাকেট কোথায় ?
.
অর্পণ ছেলেটিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলে,
— মা ঐ ছেলেটির না কোন গরম জামা নেই শীতে খুব কষ্ট করছিল তাই দিয়ে দিয়েছি ।
— দাতা হাতেম তাই হয়েছ নাহ্ । কার কাছে জিজ্ঞেস করে ছেলেটি কে নিজের গায়ের জ্যাকেট খুলে দিয়েছ ?
— মা ওরা খুব গরিব ।
— গরিব না ছাই সব চোর ছেঁচড়ার দল
— না ম্যাডাম আমরা গরিব হইতে পারি কিন্তু চোর না ।
.
মাঝ থেকেই স্টেশনের ছেলেটি উত্তর দেয় । সে দূর থেকে দেখছিল ভদ্র ছেলেটির মা ছেলেটি কে ইচ্ছে মতো বকা দিচ্ছে তার আর তাই তো এগিয়ে আসা ।
.
— এই নেন ছোট সাহেবের জ্যাকেট । শীতে কষ্ট করি কোন সমস্যা নাই তবুও তারে বকা দিয়েন না ।
.
এতক্ষণ ছেলেটির বাবা কোন কথা বলেছিলেন না এখন সে কথা বলে উঠে ।
.
— আহা থাকনা বাবু যখন ছেলেটাকে জ্যাকেটটি দিয়েছে আর নেওয়ার দরকার কি ? বাবুর তো আরো আছে ।
— এই তুমি কোন কথা বলবে না । কোন কিছু কিনে দেওয়ার তো মুরোদ নাই । আবার বিলানোর বেলা ঠিকই আছে ।
.
এই বলে ছেলেটির হাত থেকে চিলের মতো ছো মেরে জ্যাকেটটি নিয়ে নিল । ছেলেটি আহত চোখে তাকিয়ে রইল, তারপর নিজের জায়গায় এসে আবার হাত জড়িয়ে শুয়ে রইলো কিন্তু তার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে কষ্টের কান্না ।
.
ট্রেন এসেছে, সবাই ট্রেনে উঠে বসেছে । তার সাথে উঠে বসেছে সেই দম্পতি । ট্রেন চলছে তার নিজ গতিতে। কয়েকটি স্টেশন যাওয়ার পরেই কয়েকজন যুবক ট্রেনটিতে উঠেছে । দেখে মনে হয় সবাই শিক্ষিত । একটি ছেলের মুখে একটি কাঠি যা জিহ্বা দিয়ে অনবরত নাড়াচ্ছেন তার কাছে সহ সবার কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র যা শীতের কাপড়ের নিচে লুকায়িত ।
.
তার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় তান্দব লীলা । অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনেকের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় তাদের স্বর্ণ গহনা এবং টাকা পয়সা । ঘটনার শিকার হয় সেই দম্পতি । মহিলাটি নিজের গহনা দিতে চায়নি কিন্তু অস্ত্রের মুখে সে ছিল অসহায় । বাধ্য হয়ে সখের গহনা গুলো সব খুলে দিতে হয়েছে ।
……………
কিছুদিন পরের কথা একটি বয়স্ক ছেলে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে । ছেলেটির মুখে একটি কাঠি যা জিহ্বা দিয়ে অনবরত নাড়াচ্ছেন । হঠাৎ সে দেখতে পায় একটি বাচ্চা ছেলে দেয়াল ঘেঁষে শুয়ে আছে । গায়ে সামান্য পাতলা গেঞ্জি, থর থর করে কাঁপছে । দেখে অনেক মায়া হয় কিন্তু তার মায়া হওয়ার কথা না, কারন তার মতো নিষ্ঠুর মানুষ খুব কমই আছে ।
.
— এই তোর শীত করে না । এভাবে কিছু গায়ে না দিয়ে শুয়ে আছিস কেন ?
— পামু কই স্যার কে দিব শীতের জামা ।
.
ছেলেটি নিজের গায়ের চাদরটি দিতে চেয়েছিল কিন্তু দিল না । চাদরটি দিলে হয়তো নিজেরই কষ্ট করতে হবে ।
.
— আমি দিলে নিবি
— হ নিমু স্যার
.
তারপর তারা প্রবেশ করে একটি মার্কেটে দুইটা গরম পোশাক আর একটা কম্বল কিনে দেয়

যেভাবে ইহুদী মহিলা মুহাম্মাদকে আমন্ত্রণ করে ছাগলের মাংসের ভিতরে বিষ মিশিয়ে মুহাম্মাদকে হত্যা করতে চেয়েছিল

ঐ মহিলাটি মোহাম্মদকে মারতে নতুন প্ল্যান শুরু করলো……আরো জানতে নিচের সম্পূর্ণ পড়ুন

৬২৯ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন আরবের মদিনা নগরী থেকে ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মা) দুরে অবস্থিত খায়বার নামক মরুভূমিতে বসবাসরত ইহুদিগণের সাথে মুসলিমগণের সঙ্ঘটিত একটি যুদ্ধ। মুসলিমদের ইতিহাস অনুসারে, মুসলিমগণ সেখানে দুর্গে আশ্রয় নেয়া ইহুদিদেরকে আক্রমণ করেছিল।
৭ম হিজরিতে মদীনা আক্রমণ করার ব্যাপারে খায়বারের ইহুদীদের নতুন ষড়যন্ত্রের কারনে খায়বার যুদ্ধ হয়। খায়বার ছিল মদীনা থেকে ৮০ মাইল দূরের একটি বড় শহর। এখানে ইহুদীদের অনেক গুলি দূর্গ ও ক্ষেত খামার ছিল। মূলত খায়বার ছিল ইহুদীদের একটি নতুন উপনিবেশ। খায়বারের ইহুদীরা বনু কোরাইজা গোত্রের ইহুদীদের কে বিশ্বাসঘাতকায় উদ্দীপিত করেছিল। এছাড়া মুহাম্মাদ (সা) কে হত্যা করার ষড়যন্ত্র এই খায়বার থেকে হত। খায়বারের ইহুদীরা গাতাফান গোত্র ও বেদুঈনদের সাথে মিলিত হয়ে মদীনা আক্রমণ করার ব্যাপারে ষড়যন্ত্র করছিল। খায়বার যুদ্ধে পরাজিত ইহুদীদের কে মুহাম্মাদ কোন নির্বাসন দেন নি। প্রতি বছর তাদের উৎপাদিত ফল ফসলের অর্ধেক ইহুদীরা মুসলমানদের কে দিবে এই শর্তে খায়বারের ইহুদীরা খায়বারে থাকার অনুমতি পায়। কিন্তু এই খায়বার যুদ্ধের পর পর এক ইহুদী মহিলা মুহাম্মাদকে আমন্ত্রণ করে ছাগলের মাংসের ভিতরে বিষ মিশিয়ে মুহাম্মাদকে হত্যা করতে চেয়েছিল। এই ঘটনার পরেও মুহাম্মাদ খায়বারের সকল ইহুদীদের কে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।

আক্রমণের কারণ প্রসঙ্গে, স্কটিশ ঐতিহাসিক উইলিয়াম মন্টগোমারি ওয়াট খায়বার যুদ্ধে বনু নাদির গোত্রের উপস্থিতি উদ্ধৃত করেন, যারা মদিনার ইসলামী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী আরব গোত্রগুলোর মধ্যে শত্রুভাবাপন্ন মানসিকতা জাগিয়ে তুলছিল। ইতালীয় প্রাচ্যবিদ লরা ভেক্সিয়া ভ্যাগ্লিয়েরি ওয়াটের তত্ত্বের সাথে ঐকমত্য্য পোষণ করে দাবী করেন যে, যুদ্ধের পেছনে আরও কারণ থাকতে পারে, যেগুলো হল, ইহুদিদের উক্ত দুরভিসন্ধির প্রতিক্রিয়া মুহাম্মাদের সাহাবীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধ অভিযানসমূহের রসদ হিসেবে যুদ্ধলব্ধ মালামালসমূহ লুণ্ঠনের উপযোগিতা।

পরিশেষে খায়বারের ইহুদিগণকে অবরোধ করা হয় এবং উক্ত উপত্যকায় তাঁদেরকে থাকার অনুমতি দেয়া হয় এই শর্তে যে, তারা মুসলিমগণকে তাঁদের উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক বাৎসরিকভাবে প্রদান করবে। খলিফা ওমররের সময়ে ওমর কর্তৃক বহিষ্কৃত হওয়ার আগ পর্যন্ত ওখানেই তাদের বসবাস অব্যাহত ছিল। এই বিজয়ের ফলাফলস্বরূপ বিজিত ইহুদিদের উপর ইসলামের বিধান অনুযায়ী জিজিয়া কর আরোপ করা হয় এবং তাদের অধিভুক্ত জমিসমূহ মুসলিমদের প্রশাসনিক দখলের অন্তর্ভুক্ত হয়। বিনিময়ে, ইহুদিগণ তাদের ধর্মপালনের অনুমতি পায়, বৃহৎ পরিসরে নিজ সম্প্রদায়ের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার লাভ করে, মুসলিমদের কাছ থেকে বহিঃশক্তির আক্রমণ থেকে প্রতিরক্ষা লাভের প্রতিশ্রুতি লাভ করে এবং তাদেরকে সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ এবং যাকাত প্রদানের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়, যেগুলো মুসলিম নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক।

৭ম শতাব্দীতে, খায়বার ছিল ইহুদিদের বাসস্থান। উক্ত ইহুদি অধিবাসীগণ খাইবারে তাঁদের একটি দুর্গে কামান, তলোয়ার, বর্শা, ঢাল এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র মজুদ করে রেখেছিল। অতীতের কিছু পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গ দুর্গে অস্ত্রশস্ত্র জমা রাখার কারণ এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, উক্ত অস্ত্রশস্ত্রগুলো সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর মধ্যে বিবাদ জন্ম দেয়ার উদ্দেশ্যে জমা রাখা হয়েছিল। ভ্যাগ্লিয়েরি মনে করেন যে, “উক্ত অস্ত্রগুলো ভবিষ্যতে বিক্রির জন্য গুদাম হিসেবে সেখানে জমা রাখা হয়েছিল” এটা ভাবা পূর্বের অনুমিত কারণ থেকে অধিক যৌক্তিক। একইভাবে, ইহুদিগণ উক্ত দুর্গে ২০ বস্তা কাপড়, ৫০০টি আলখাল্লা এবং সাথে আরও অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রির জন্য সেখানে জমা রেখেছিল। ভেগ্লিয়েরির মতে এ সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেভাবে তাঁদের মধ্যে প্রতিহিংসার জন্ম দিয়েছিল, ঠিক একইভাবে ইতিহাস জুড়ে অনেক দেশের নিপীড়নের পেছনে এরকম অর্থনৈতিক কারণেরর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।

সমগ্র খায়বার মরুভূমি তখন তিনটি এলাকায় বিভক্ত ছিল: আল-নাতাত, আল-শিক্ক, এবং আল-কাতিবা, যেগুলো সম্ভবত মরুময়তা, আগ্নেয়গিরির খাদ এবং জলাধারের মত বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি এলাকাতেই একাধিক দুর্গ এবং আস্তানাসহ বাড়িঘর, গুদামঘর এবং ঘোড়াশাল ছিল। প্রতিটি দুর্গই একেকটি পৃথক পরিবারের অধীনে ছিল এবং আবাদি ফসল ও খেজুরবাগান দিয়ে ঘেরা ছিল। নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার জন্য তারা পাহাড়ের চুড়ায় অথবা উঁচু পাথুরে এলাকায় তাঁদের দুর্গগুলো স্থাপন করত।

৬২৫ সালে মুসলিমদের দ্বারা মদিনা থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর, বনু নাদির গোত্র খাইবার ময়দানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। ৬২৭ খ্রিস্টাব্দে খন্দকের যুদ্ধের সময় বনু নাদির গোত্রের প্রধান হুয়াই ইবনে আখতাব তার পুত্রকে সাথে নিয়ে মক্কাবাসী এবং মদিনা বিরোধী বেদুঈনদের সাথে যোগ দেয়। উপরন্তু নাদির গোত্র অন্যান্য আরব গোত্রকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য অর্থও প্রদান করে। এছাড়াও তারা বনু গাতাফান গোত্র থেকে ফসলের অর্ধাংশ ঘুষ নিয়ে তাঁদের ২০০০ পুরুষ এবং ৩০০ ঘোড়া সওয়ারীকে যুদ্ধে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে দেয় এবং একইভাবে বনি আসাদ গোত্রকেও ধোঁকা দিয়ে রাজি করে। বনু সুলাইম গোত্রকেও তারা যুদ্ধে পাঠানোর জন্য উদ্যোগ নেয়, কিন্তু সুলাইম গোত্রের কিছু নেতা ইসলাম ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার কারণে তারা তাঁদেরকে মাত্র সাতশত জন সেনা প্রদান করে। বনু আমির গোত্র মুহাম্মাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকার কারণে সম্যকভাবে যুদ্ধে যোগদানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, হুয়াই ইবনে আখতাব বনু কুরাইজা গোত্রকে চুক্তিভঙ্গ করে মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্ররোচিত করে। যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর পরাজয় এবং বনু কুরাইজার আত্মসমর্পণের পর, হুয়াইকে (যে কিনা সেই সময়ে কুরাইজাদের দুর্গে আশ্রয় নিয়েছিল) এবং কুরাইজার পুরুষদেরকে হত্যা করা হয়। হুয়াইয়ের মৃত্যুর পর, আবু আল-রাফি ইবনে আল-হুকাইক খাইবারের বনু নাদির গোত্রের দায়িত্ব নেয়। অল্প সময় পরই হুকাইক মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান প্রস্তুত করার অন্য প্রতিবেশী গোত্রগুলোর সাথে যোগাযোগ শুরু করে। এ ঘটনা জানার পর, মুসলিমগণ ইহুদিদের ভাষাভাষী এক আরবের সহায়তা নিয়ে হুয়াইকে গোপনে হত্যা করে।

এরপর হুকাইকের স্থলাভিষিক্ত হন উসাইর ইবনে যারিম। একটি সূত্রে বলা হয়েছে যে, উসাইর গাতাফান গোত্রের সাথে সলাপরামর্শ শুরু করেছিল এবং গুজব ছড়ায় যে সেও “মুহাম্মাদের রাজধানী” মদিনা আক্রমণের অভিপ্রায়ে ছিল। এই খবর পেয়ে নবী মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাকে আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইস, বনু সালিমা গোত্রের একজন সদস্য এবং ইহুদি বিরোধী একটি গোত্রসহ আরও অনেককে সাথে নিয়ে উসাইরের কাছে প্রেরণ করেন। তারা উসাইরকে বলেন যে, সে মুহাম্মাদের কাছে গেলে মুহাম্মাদ তার সাথে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাকে সম্মান দেবেন। সে রাজি না হওয়া পর্যন্ত তারা তাকে অনুরোধ করতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সে কিছু ইহুদিকে সাথে নিয়ে তাঁদের সাথে রওয়ানা হয়। খাইবার থেকে ছয় মাইল দুরে কারারা নামক স্থানে আসার আগ পর্যন্ত উসাইর স্বাভাবিক ছিলেন, আচমকা তিনি তাঁদের সাথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন। উসাইর আবদুল্লাহর তলোয়ার কেড়ে নিতে উদ্যত হলে আবদুল্লাহ তার দিকে ছুটে এসে তার পা কেটে দেন। আবদুল্লাহকে উসাইর তার হাতে থাকা কাঠের লাথি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাথায় চোট পান। এরপর সেখানে উপস্থিত মুসলিমগণ তার ৩০ জন ইহুদি সঙ্গীর মাঝে সকলকে হত্যা করে একজনকে বাদে যে কিনা দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। এছাড়াও আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস খাইবার যুদ্ধের আগের দিন মুহাম্মাদের অনুমতিতে স্বেচ্ছায় বনু নাদির গোত্রের সাল্লাম ইবনে আবু আল-হুকাইককে গোপনে হত্যা করেন।
অনেক ইসলামী পণ্ডিত উপরে উল্লেখিত চক্রান্তসমূহকে খায়বার যুদ্ধের কারণ বলে মনে করেন। মন্টগোমারি ওয়াটের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের এই কুচক্রী প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে মুহাম্মাদের কাছে আক্রমণ করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। ভ্যাগ্লিয়েরি আরও যোগ করেন যে, আক্রমণের আরেকটি কারণ হতে পারে যে , খাইবারের এই ইহুদিরাই উহুদের যুদ্ধে চুক্তিতে আবদ্ধ মিত্রবাহিনীর বিরোধিতার জন্য দায়ী ছিল। শিবলী নোমানীও ভ্যাগ্লিয়েরির সাথে ঐকমত্য্য পোষণ করেন, এবং তিনি বনু নাদির গোত্রের হুয়াই ইবনে আখতাবকে এর জন্য দায়ী করেন, যে কিনা বনু কুরাইযা গোত্রকে খন্দকের যুদ্ধে মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্ররোচিত করেছিল।

জেনে নিন | হিজড়া সন্তান জন্ম হওয়ার কারন (ভিডিও সহ)

জেনে নিন | হিজড়া সন্তান জন্ম হওয়ার কারন (ভিডিও সহ)

আমাদের সমাজে বরাবরই হিজড়াদের নিচু দৃষ্টিতে দেখা হয়। যদিও হিজড়া সম্প্রদায় বাংলাদেশে এখন তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, তবুও তাদের অসহায়ত্বের শেষ নেই। তাদের মানুষ বলে গণ্যই করা হয় না। কিন্তু আপনি কি জানেন কেন হিজড়া সন্তানের জন্ম? হিজড়া সন্তানের জন্ম সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার পাশাপাশি রয়েছে ইসলামিক ব্যাখ্যাও।

ইসলামিক ব্যাখ্যাঃ

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ হিজড়ারা জীনদের সন্তান। কোন এক বাক্তি আব্বাস (রাঃ) কে প্রশ্ন করেছিলেন এটা কেমন করে হতে পারে। জবাবে তিনি বলেছিলেন “আল্লাহ্ ও রাসুল (সাঃ) নিষেধ করেছেন যে মানুষ যেন তার স্ত্রীর মাসিক স্রাব চলাকালে যৌন সংগম না করে”, সুতরাং কোন মহিলার সঙ্গে তার ঋতুস্রাব হলে শয়তান তার আগে থাকে এবং সেই শয়তান দ্বারা ঐ মহিলা গর্ভবতী হয় ও হিজড়া সন্তান প্রসব করে। মানুষ ও জীন এর যৌথ মিলনজাত সন্তানকে ইসলাম এ বলা হয় খুন্নাস। (সূরা বানী ইসরাইল- আর রাহমান -৫৪, ইবনে আবি হাতিম, হাকিম)

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাঃ
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় XX প্যাটার্ন ক্রোমোজমে কন্যা শিশু আর XY প্যাটার্ন ক্রোমোজমে সৃষ্ট হয় ছেলে শিশু। অর্থাৎ, X এর সঙ্গে X এর মিলনে মেয়ে এবং X এর সঙ্গে Y এর মিলনে ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। এবং নারীরা XX ও ছেলেরা XY ক্রোমোজম ধারণ করে। ভ্রুনের পূর্ণতার স্তরগুলোতে ক্রোমোজোম প্যাটার্নের প্রভাবে ছেলে শিশুর মধ্যে অন্ডকোষ আর কন্যা শিশুর মধ্য ডিম্ব কোষ জন্ম নেয়। অন্ডকোষ থেকে নিসৃত হয় পুরুষ হরমোন এন্ড্রোজেন এবং ডিম্ব কোষ থেকে নিসৃত হয় এস্ট্রোজেন। এক্ষেত্রে ভ্রুনের বিকাশকালে নিষিক্তকরণ ও বিভাজনের ফলে বেশকিছু অস্বাভাবিক প্যাটার্নের সৃষ্টি হয় যেমন XXY অথবা XYY। এর ফলে বিভিন্ন গঠনের হিজড়া শিশুর জন্ম হয়। একটা ব্যাপার হল, একটি হিজড়া শিশুকে পরিণত বয়সে যাওয়ার আগে যদি যথাযথ মেডিকেল ট্রিটমেন্ট করা হয় তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে সুস্থ করা সম্ভব। কিন্তু যখন বোঝা যায় সে সাধারণ আর দশজনের থেকে আলাদা তখন আসলে অনেক দেরি হয়ে যায়। একইভাবে কোন পুরুষ বা নারীও হিজড়া হতে পারেন।

ভিডিওঃ- 

জেনে নিন | মৃত্যুর পূর্বে যে চারজন ফেরেশতা উপস্থিত হয়

মৃত্যুর পূর্বে যে চারজন ফেরেশতা উপস্থিত হয়

হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যখন মানুষের অন্তিমকাল উপস্থিত হয় এবং রূহ বের হবার সময় ঘনিয়ে আসে, তখন চারজন ফেরেশতা তার কাছে উপস্থিত হয়। সর্বপ্রথম এক ফেরেশতা উপস্থিত হয়ে বলবেন “আসসালামু আলাইকুম” হে অমুক! আমি তোমার খাদ্য সংস্থানের কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন পৃথিবীর পূর্ব থেক পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত অন্বেষণ করেও তোমার জন্য এক দানা খাদ্য সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং বুঝলাম তোমার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে হয়ত এখনই তোমাকে মরণ সুধা পান করতে হবে। পৃথিবীতে তুমি আর বেশীক্ষণ থাকবে না। অত:পর দ্বিতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পানীয় সরবরাহের জন্য নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু এখন তোমার জন্য পৃথিবীর সরত্র অন্বেষণ করেও এক ফোঁটা পানি সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং আমি বিদায় হলাম।

মৃত্যুর পূর্বে যে চারজন ফেরেশতা উপস্থিত হয়
মৃত্যুর পূর্বে যে চারজন ফেরেশতা উপস্থিত হয়

অত:পর তৃতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পদযুগলের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু পৃথিবীর সর্বত্র ঘুরেও তোমার জন্য একটি মাত্র পদক্ষেপের স্থান পেলাম না। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি। চতুর্থ ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহ বান্দা! আমি তোমার শ্বাস- প্রস্বাস চালু রাখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু আজ পৃথিবীর এমন কোন জায়গা খুঁজে পেলাম না যেখানে গিয়ে তুমি মাত্র এক পলকের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করতে পার। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি। অত:পর কেরামান কাতেবীন ফেরশতাদ্বয় এসে সালাম করে বলবেন, হে আল্লাহর বান্দা! আমরা তোমার পাপ-পূণ্য লেখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন দুনিয়ার সব জায়গা সন্ধান করেও আর কোন পাপ-পূণ্য খুঁজে পেলাম না। সুতরাং আমরা বিদায় নিচ্ছি। এই বলে তারা এক টুকরা কালো লিপি বের করে দিয়ে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! এর দিকে লক্ষ্য কর। সে দিকে লক্ষ্য করামাত্র তার সর্বাঙ্গে ঘর্মস্রোত প্রবাহিত হবে এবং কেউ যেন ঐ লিপি পড়তে না পারে এজন্য সে ডানে বামে বার বার দেখতে থাকবে। অত:পর কেরাম কাতেবীন প্রস্থান করবেন। তখনই মালাকুল মউত তার ডান পাশে রহমতের ফেরেশতা এবং বাম পাশে আযাবের ফেরেশতা নিয়ে আগমন করবেন। তাদের মধ্যে কেউ আত্মাকে খুব জোরে টানাটানি করবেন, আবার কেউ অতি শান্তির সাথে আত্মা বের করে আনবেন। কন্ঠ পর্যন্ত আত্মা পৌঁছলে স্বয়ং যমদূত তা কবজ করবেন। হে আল্লাহ তুমি রাহমানের রহিম, তুমি দয়ালু, তুমি আমাদের সবাইকে খাটি মুসলমান না বানিয়ে কবরে নিও না। -আমিন

ইমাম আবু হানিফার মহানুভবতা নিয়ে অসম্ভব সুন্দর একটি গল্প

ইমাম আবু হানিফার মহানুভবতা নিয়ে অসম্ভব সুন্দর একটি গল্প

ইমাম আবু হানিফার পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে একজন দিনমজুর বাস করতো। দিনের বেলায় সে নিজের কুঁড়েঘরে বসে নানা রকম কুটির শিল্পের কাজ করতো। অশালীন গান গাইতো ও প্রলাপ বকতো।

তার হৈ চৈ তে ইমাম সাহেব এর গভীর রাতের নামায, যিকির ও চিন্তা গবেষণা পর্যন্ত ব্যাহত হতো। তিনি তাকে ঐ বদঅভ্যাস ত্যাগ করার জন্য প্রায়ই অত্যন্ত মিষ্ট ভাষায় উপদেশ দিতেন।

কিন্তু সে তাতে কর্ণপাত করতো না। ইমাম অগত্যা নীরবে সবকিছু সহ্য করতেন।

একদিন রাত্রে তিনি লক্ষ্য করলেন যে, ঐ লোকটির কুড়েঘর হতে কোন হৈ চৈ এর আওয়াজ আসছে না। তিনি আজ নির্বিঘ্নে এবাদত জিকির ও চিন্তা গবেষণা চালালেন বটে, কিন্তু তাঁর মন অস্থির ও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলো।

ইমাম আবু হানিফার মহানুভবতা নিয়ে অসম্ভব সুন্দর একটি গল্প
ইমাম আবু হানিফার মহানুভবতা নিয়ে অসম্ভব সুন্দর একটি গল্প

ভোরবেলা ইমাম সাহেব তার খোঁজ খবর নিতে গেলেন। তিনি শুনতে পেলেন যে, পুলিশ ঐ মাতাল লোকটিকে ধরে নিয়ে জেলে আটক করেছে।

তৎকালে বাগদাদের সিংহাসনে আসীন ছিলেন উমাইয়া বংশীয় বাদশাহ মানসুর্।

ইমাম সাহেব বাদশাহর দরবার কঠোরভাবে এড়িয়ে চলতেন। বাদশাহ নিজেই ইমাম সাহেব এর সাথে কখনো কখনো দেখা করে যেতেন।

কিন্তু আজ ইমাম সাহেব তাঁর দরিদ্র প্রতিবেশীর বিপদে অধীর হয়ে বাদশাহর দরবারে চলে গেলেন।

বাদশাহ ও তাঁর আমীর ওমরাহগণ ইমাম সাহেবকে দরবারে আসতে দেখে অবাক হয়ে গেলেন। তারা পরম শ্রদ্ধা সহকারে তাঁকে বসালেন।

তিনি বললেন, “মহামান্য বাদশাহ, আপনার লোকেরা আমার এক প্রতিবেশীকে ধরে এনে জেলে পুরেছে। আমি তার মুক্তি চাইতে এসেছি।”

বাদশাহ এক মুহুর্ত ভেবে জবাব দিলেন, “মান্যবর ইমাম সাহেব, আপনি আজ আমার দরবারে উপস্থিত হয়ে আমাকে যে ধন্য করলেন, সেই আনন্দে ও আপনার সম্মানের খাতিরে আপনার প্রতিবেশীসহ জেলের সকল কয়েদীকে মুক্তি দিলাম।”

ইমাম সাহেব তার প্রতিবেশীকে নিয়ে বাড়ীতে ফিরলেন। দিনমজুর এরপর আর মদ স্পর্শ করে নি।