জেনে নিন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কবরের উপর খেজুরের ডাল পুঁতে ছিলেন কেন?

হযরত মুহম্মদ (সাঃ) একদিন দু‘টি কবরের শাস্তি জানতে পেরে একখানা খেজুরের ডাল দুই টুকরা করে দু’টি কবরে গেড়ে দেন। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এরূপ করলেন কেন? তিনি বললেন, হয়ত ডাল দু’টি শুকানো পর্যন্ত তাদের শাস্তি হালকা হয়ে থাকবে’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৩৮)। কিন্তু তাদের এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ তাদের শাস্তি হালকা হয়েছিল রাসূল (ছাঃ)-এর বিশেষ সুপারিশের জন্য। কাঁচা ডালের জন্য নয়। যা ছহীহ মুসলিমে জাবের (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। কাজেই খেজুরের কাঁচা ডাল বা অন্য কোন কাঁচা ডাল গেড়ে কবরের শাস্তি হালকা হবে বলে ধারণা করা একেবারেই ভ্রান্ত।

কেননা যদি বিষয়টি তাই হত তাহলে তিনি ডালটি চিরে ফেলতেন না। কেননা তাতে তো ডালটি দ্রুত শুকিয়ে যাবার কথা। আসল কারণ ছিল ঐ কবর দু’টিকে ঐ ডাল দ্বারা চিহ্নিত করা যে, তিনি তাদের জন্য সুপারিশ করেছেন (আলবানী, মিশকাত ১/১১০ পৃঃ; দ্রঃ ছালাতুর রাসূল ২৪২ পৃঃ)।

কবরের উপর গাছ লাগালে কি হয় | জানলে সত্যি চমকে উঠবেন (ভিডিও সহ)

কবরের উপর গাছ লাগালে কি হয় | জানলে সত্যি চমকে উঠবেন (ভিডিও সহ)

সচরাচর মৃত ব্যাক্তির কবরের উপরে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগাতে দেখা যায়। বিভিন্ন বিশ্বাস থেকেই এই চিরাচরিত প্রথা চলে আসছে । তবে এই বিশ্বাস অথবা নিয়ম নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর কথাও প্রচলিত আছে । আমাদের সবারই উচিৎ ব্যাক্তি জীবনে বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি এড়িয়ে ইসলামের সঠিক নির্দেশনা জানা । আসলেই কবরের উপরে গাছ লাগানোর নির্দেশনায় ইসলাম কি বলে সেটা জানাতেই সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভিতে প্রচারিত ইসলামী প্রশ্ন-উত্তর বিভাগ থেকে এই ফিচারটি সংকলিত ।

এই অনুষ্ঠানে দর্শকদের জীবন ঘনিষ্ঠও বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের আলোকে উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

সম্প্রতি এমন একটি অনুষ্ঠানে একজন দর্শক প্রশ্ন করেছিলেন, ‘ অনেকেই বলেন কবরের ওপর কোনো গাছ থাকলে ওই গাছের পাতা যে জিকির করে তার সওয়াব নাকি কবরবাসী পেয়ে থাকে। তাহলে কবরের ওপর ছোট-বড় কোনো গাছ লাগানো যাবে কি?’

উত্তরে আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন , কবরের ওপর গাছ লাগানো জায়েজ। কিন্তু আপনি যেটা আগে শুনেছেন, সেটা শুদ্ধ নয়। এটি শোনা কথা। হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। যদি কবরের ওপর গাছ থাকে, সেই গাছ জিকির করে আর এই জিকিরের কারণে জিকিরের সওয়াবগুলো কবরবাসী যাঁরা আছেন, তাঁরা পেয়ে যান, এই ধরনের বক্তব্য শুদ্ধ নয়। তবে কবরের ওপর গাছ লাগানো নাজায়েজ নয়, জায়েজ।

একই অনুষ্ঠানে আরও একতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিলো , ‘ একটি বইতে পড়েছি কবর জিয়ারত করলে নাকি কবরবাসী জানতে পারে যে কে তার কবরের কাছে এসে তার জন্য দোয়া করছে এবং তার পরিবারের লোকজন দেখলে খুশি হয়। এটি কতটুকু সত্য?’

উত্তর : না, এটি সত্য নয়। কবরের বিধিবিধান হচ্ছে, কবরবাসী কিছুই জানতে পারে না। বাজরাখি জিন্দেগির (দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যবর্তী জীবন) সঙ্গে মূলত দুনিয়ার জীবনের পার্থক্য হচ্ছে এখানেই যে, দুনিয়ার জীবন থেকে কেউ যখন বাজরাখি জিন্দেগিতে চলে যাবে, তখন বাজরাখি জিন্দেগি থেকে তিনি দুনিয়ার কোনো খবর কোনো কিছুই দিতেও পারবেন না, নিতেও পারবেন না। তাই আজ পর্যন্ত কোনো কবরবাসী কোনো খবর দিতে পারেননি। আর কোনো কবরস্থ ব্যক্তির কাছে কোনো খবরও পৌঁছাতে পারেনি। তাদের জন্য শুধুমাত্র আমরা যেটা করতে পারি সেটা হচ্ছে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করতে পারি।

ভিডিওঃ-

কবরের আযাব কি সর্বদা চলতে থাকবে | নাকি তা মাঝে মাঝে হবে

কবরের আযাব:

কবরের আযাব দু’ধরণের। ১- সার্বক্ষণিক আযাব। এর প্রমাণ আল্লাহ তা‘আলার বাণী, ﴿ٱلنَّارُ يُعۡرَضُونَ عَلَيۡهَا غُدُوّٗا وَعَشِيّٗا٤٦﴾ [غافر: ٤٦] আগুন, তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যায় তার সামনে উপস্থিত করা হয়।” [সূরা গাফের, আয়াত: ৪৬] সামুরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে ‘আযাবপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, «فهو يُفْعَلُ بِهِ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ». তার সাথে এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত করা হবে।”[1] রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে ‘আযাবপ্রাপ্ত দু’জনের কবরে খেজুরের ডাল পুঁতে রেখেছেন। সেখানে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «لَعَلَّهُ يُخَفِّفُ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا»

কবরের আযাব কি সর্বদা চলতে থাকবে | নাকি তা মাঝে মাঝে হবে
কবরের আযাব

“হয়ত এ ডালগুলো শুকনো থাকা পর্যন্ত তাদের কবরের ‘আযাব হালকা করা হবে।”[2] এ হাদীসে ‘আযাব হালকা হওয়া নির্দিষ্ট সময়ের সাথে নির্ধারণ করা হয়েছে, আর তা হলো সেগুলো যতক্ষণ ভিজা থাকবে। তাহলে মূল হলো, কবরের ‘আযাব সর্বদা চলতে থাকবে। তবে কিছু হাদীসে বর্ণিত আছে যে, দু ফুঁৎকারের মাঝে তাদের কবরের ‘আযাব হালকা করা হবে। যেহেতু তারা যখন কবর থেকে উঠবে তখন তারা বলবে, ﴿قَالُواْ يَٰوَيۡلَنَا مَنۢ بَعَثَنَا مِن مَّرۡقَدِنَا ٥٢﴾ [يس: ٥٢] “তারা বলবে, হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে উঠালো?” [সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ৫২] ২- দ্বিতীয় প্রকারের কবরের ‘আযাব নির্দিষ্ট কিছু দিনের জন্য হয়ে বন্ধ হয়ে যাবে। আর তা হবে কতিপয় গুনাহগারের ‘আযাব; যাদের কিছু পাপ ছিল, সে অনুপাতে শাস্তি ভোগ করে তাদের ‘আযাব বন্ধ রাখা হবে। [1] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৮৬। [2] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৮। হে আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা  করুন”””” আমিন “”””””।

আল্লাহকে ভয় করুন । কবরের আজাব থেকে বাচার আমল করুন

কবরের আজাব থেকে বাচার আমল:

১। প্রতিরাতে সুরাহ মুলক তিলায়াত করা (কুরআন দেখে দেখে বা মুখস্ত যে কোন ভাবেই হোক)-রাসূল (সাঃ) বলেন : “যে ব্যাক্তি প্রত্যেক রাতে তাবারকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক (সুরাহ মূলক- ৬৭ নাম্বার সুরা) পাঠ করবে এর মাধ্যমে মহিয়ান আল্লাহ্ তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবেন । সাহাবায়ি কিরাম বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর যুগে আমরা এ সুরাহ টিকে আল-মানি’আহ বলতাম। অর্থাৎ আমরা একে “কবরের আযাব থেকে প্রতিরোধকারী ” হিসেবে নামকরণ করেছিলাম। সুরাহ মূলক মহান আল্লাহর কিতাবের এমন একটি সুরাহ, যে ব্যাক্তি এটি প্রতি রাতেই পাঠ করে সে অধিক করলো এবং অতি উত্তম কাজ করলো।” (শায়খ আলবানী বলেন, হাদীছটি হাসান সহিহ। দ্র: সহীহ তারগীব ও তারহীব, হা/ ১৪৭৫ ও ১৪৭৬)।

আল্লাহকে ভয় করুন । কবরের আজাব থেকে বাচার আমল করুন
কবরের আজাব

২ । প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা-
“আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা- আয়াত ২৫৫) পাঠ করবে, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সে জান্নাতবাসী হবে। (নাসাই, সহীহ জামে’ ৫/৩৩৯, সিলসিলাহ সহীহাহ্‌ ৯৭২)
[যে ব্যক্তি মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে জান্নাতবাসী হবে তার তোঁ কবরের আজাব, জাহান্নামের শাস্তি এগুলোর প্রশ্নই আসে না] যারা ৫ ওয়াক্ত সলাত আদায় করে এটা তাদের জন্য মহা সুসংবাদ আর যারা ৫ ওয়াক্ত সলাত আদায় করে না তাদের সম্পর্কে জেনে নিন রাসুল (সাঃ) কি বলেছেন- নবী (সাঃ) বলেনঃ আমাদের মাঝে আর অমুসলিমদের মাঝে চুক্তি হলো সলাত, যে ব্যক্তি সলাত ছেড়ে দিলো সে কাফের হয়ে যাবে। (মুসনাদে আহমাদ হাদিস সহিহ/ ২১৮৫৯)
সকলের  প্রতি অনুরোধ থাকলো আজ থেকেই ৫ অয়াক্ত সলাত আদায় করুন, না হলে পরিণাম বরই খারাপ।

৩। সহিহ শুদ্ধ যিকির বেশি বেশি পাঠ করা-
“জাবির (রাঃ) হতে নবী (সাঃ) সুত্রে বর্ণিত, “মহান আল্লাহর যিকিরের চাইতে অন্য কোন আমল কবরের আযাব থেকে অধিক নাজাতকারী নেই। জিজ্ঞেস করা হল , আল্লাহর পথে জিহাদও নয় কি ? তিনি (সাঃ) বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ ও নয় ,তবে কেউ এরূপ বীরত্তের সাথে লড়াই করে যে, তরবারী চালাতে চালাতে এক পর্যায়ে তা ভেঙ্গে যায় তার কথা ভিন্ন।” (ত্বাবারানী, শাইখ আলবানি হাসান সহিহ বলেছেন- সহীহ আত-তারগীব হাদিস- ১৪৯৭) সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লা হাওলা ওয়া লাকুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ, সুবহানাল্লহি ওয়া বিহামদিহ, সুবহানাল্লহিল আ’যিম ওয়া বিহামদিহ, আল্লাহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম আ’লা নাবিয়ানা মুহাম্মাদ, আস্তাগফিরুল্লহা ওয়া আতুউবু ইলাইহি। এভাবে পড়তে পারেন তাহলে তাসবিহ, তাহলিল, দোয়া, দরুদ, তওবা এস্তেগফার সব একসাথে আদায় হয়ে যাবে। অবসর বা কাজের সময়েও আপনি মুখে সবসময় এগুলো পড়তে থাকুন।

৪। আল্লাহর পথে বেশি বেশি দান করা-
“ওকবা ইবনু আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “নিশ্চয়ই দান কবরের শাস্তিকে মিটিয়ে দেয় এবং কিয়ামতের দিন মুমিন তার দানের ছায়াতলে ছায়া গ্রহণ করবে”। (সিলসিলাহ সহীহাহ হাদিস- ১৮১৬, ৩৪৮৪) ২ ভাবে দান করতে পারেন, আপনি যে চাকরি বা বেবসা বা সৎপথে যেভাবেই উপার্জন করেন তার একটা নির্দিষ্ট persent দানের জন্য নির্ধারিত করুন হতে পারে আয়ের ৫% বা ১০% বা ২০% ইত্যাদি  প্রতিদিন কিছু টাঁকা আলাদা করে একটা জায়গায় জমা রাখুন, যখন অনেক টাঁকা হয়ে যাবে তখন সেটা গরিবদুঃখী, মিসকিন, অসহায় বিধবা মহিলা, অনাথ এতিম বা মসজিদে বা মাদ্রাসায় দান করুন এতে আপনি প্রতিদিনের দান করার সওয়াব পাবেন আর এই আমলগুলো করার মাধ্যমেই আমরা কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে পারি। ইন শা আল্লাহ