নারী সাহাবিগণ বাগানে কাজ করতেন

ঘরের বাইরে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়ার অধিকার পুরুষের মতো নারীরও আছে। প্রশ্ন হল, ঘরের বাইরে গিয়ে কাজকর্ম করার অধিকার পুরুষদের মতো নারীদেরও কি আছে?
সৃষ্টিগত দিক দিয়ে সাধারণত নারীর শারীরিক গঠন পুরুষের শারীরিক গঠন অপেক্ষা নরম। আল্লাহ নারীকে পেটে সন্তান ধারণের ক্ষমতা দিয়েছেন পক্ষান্তরে পুরুষকে পেটে সন্তান ধারণের ক্ষমতা দেননি। আল্লাহ পুরুষকে কাঁধে ও মাথায় সাংসারিক দায়িত্বের কঠিন বোঝা বহনের ক্ষমতা দিয়েছেন। পক্ষান্তরে নারীকে কাঁধে ও মাথায় সাংসারিক দায়িত্বের কঠিন বোঝা বহনের ক্ষমতা দেননি। এ অবস্থায় নারী অধিকারের নামে যদি নারীকে পেটে সন্তান দিয়ে তদুপরি রাস্তায় নিয়ে মাটিভর্তি টুকরি মাথায় তুলে দিয়ে বহন করতে দেয়া হয়, এটা কি নারীর ওপর বাড়তি দায়িত্ব চাপানো নয়? নরম শারীরিক গঠনের অধিকারী নারী যদি সন্তান ধারণ, সন্তান প্রসব, সন্তান লালন-পালনসহ রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে মাঠে হাল বাওয়া, ঘাটে জাল বাওয়া, রাস্তায় রিকশা চালানো ইত্যাদি সাংসারিক দায়িত্বের শক্ত বোঝাগুলো আপন ঘাড়ে তুলে নেয় তবে এটা হবে নিজের ওপর নিজেরই জুলুম। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে পুরুষ কাজ করবে মাঠে-ময়দানে, পাহাড়ে-জঙ্গলে, সাগরে-নগরে, জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে। আর নারী কাজ করবে ঘরে, ঘরোয়া পরিবেশে, অফিসে, তাঁবুতে। সাংসারিক জীবনযাপনে নারী পুরুষের কর্মক্ষেত্রের এটাই সাধারণ সীমারেখা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পুরুষ তার পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক আর নারী তত্ত্বাবধায়ক তার স্বামীর ঘরের ও তার সন্তানদের। (বুখারি)।

জীবন সমস্যার সমাধানে নারীকে যদি ঘরের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয় তখন কি নারী বাইরে যেতে পারবে? জীবনের তাকিদে নারীকে ঘরের বাইরে যাওয়া জরুরি হয়ে পড়লে পর্দার সঙ্গে অবশ্যই বাইরে যেতে পারবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের (নারীদের) বিশেষ প্রয়োজনের সময় পর্দার সঙ্গে বাইরে যেতে অনুমতি দিয়েছেন।’ (বুখারি)
আল্লাহর রাসূলের অনুমতিক্রমে মহিলা সাহাবিরা বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে মাঠে-ময়দানে-মার্কেটে গেছেন। হজরত আবু বকর (রা.)-এর কন্যা আসমা (রা.) ছিলেন বেহেশতি বলে সুসংবাদপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাহাবি হজরত যোবায়ের (রা.)-এর স্ত্রী। যোবায়ের (রা.) বেশিরভাগ সময় ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে থাকতেন। তাই হজরত যোবায়েরের সম্মতিতে সাংসারিক যাবতীয় দায়িত্ব আসমা (রা.) নিজেই করতেন। বাড়িতে তাদের একটি ঘোড়া ছিল। আসমা (রা.) নিজেই ঘোড়ার ঘাস সংগ্রহ করতেন এবং ঘোড়ার যতœ নিতেন।
এক সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) হজরত যোবায়েরকে মদিনা শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে একটি খেজুর বাগান দান করেন। আসমা (রা.) পর্দার সঙ্গে ৩ কিলোমিটার দূরে গিয়ে এ খেজুর বাগানের পরিচর্যা করতেন। বাগানবাড়ি থেকে ফিরে আসার সময় আসমা (রা.) নিজেই খেজুরের আঁটি বহন করে আনতেন। (বুখারি-কিতাবুল জিহাদ)।

মহিলা সাহাবি কিলাহ (রা.) বাজারে ব্যবসা করতেন এবং মাঝে মাঝে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে দেখা করে ব্যবসার প্রয়োজনীয় বিধিবিধান জেনে নিতেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর স্ত্রী ঘরে বসে শিল্পকর্ম করতেন এবং বাজারে বিক্রি করে সংসারের খরচ জোগাতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) একদিন এ কারিগর মহিলা সাহাবিকে বলেন, ‘এভাবে (ব্যবসা করে) উপার্জন করে তুমি তোমার সংসারের প্রয়োজন পূরণ করছ। এতে তুমি খুবই সওয়াবের অধিকারী হবে। (নারী মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম পৃ. ৫০)।
এমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগেই আরও অনেক মহিলা সাহাবি স্বামী কিংবা পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে পর্দার বিধিবিধান যথারীতি মেনে কাজকর্মে ব্যবসা-বাণিজ্যে কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতেন। কিন্তু কোনো মহিলা পর্দার নিয়ম লংঘন করে কিছু করতেন না।

মহানবী (সা.) ঘুমানোর আগে যা করতেন

মহানবী (সা.) ঘুমানোর আগে যা করতেন

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিটি কাজ তাঁর আদর্শ এবং রেখে যাওয়া পথ-পদ্ধতি সম্পর্কে একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই জ্ঞ্যান থাকাটা খুব জরুরি। ঘুম বান্দার প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত এক বিরাট নেয়ামত । সেই নেয়ামতের শোকর তখনই হবে, যখন আমরা আল্লাহর নেয়ামতকে রাসুলের (সা.) এর সুন্নাত মোতাবেক পালন করবো । এতে একদিকে আমাদের আমলের সাওয়াব লাভ হবে, নেয়মাতের শোকার আদায় হবে, একই সাথে আল্লাহ রাসুলের (সা.) এর নির্দেশনায় যে কল্যাণ রয়েছে, তা থেকেও বঞ্চিত হবো না ।

হাদিসে বর্ণিত ঘুমানোর আগে যে-সব সুন্নাত রয়েছে, তা হলো-
১. ভালোভাবে বিছানা ঝেড়ে নেয়া।
২. ঘরের দরজা আল্লাহর নামে বন্ধ করে ঘুমানো।
৩. ঘুমের সময় ঘুমের দোয়া পাঠ করা। হাদিসে বর্ণিত ঘুমের দোয়া হলো, ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ আপনার নামে আমরা মৃত্যুবরণ করি আবার আপনার নামেই জীবিত হই। কেননা, ঘুমকে বলা হয় মৃত্যুর ভাই । মানুষ যখন ঘুমে যায়, তখন তার রুহ আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়। এরপর তার জাগরণের পূর্বে রুহ আবার তার দেহে ফিরিয়ে দেয়া হয়। (বুখারি)

৪. ডান কাত হয়ে শোয়া। অর্থাৎ ঘুমের শুরুটা যেনো ডান কাতে হয়। এরপর ঘুমের ঘোরে অন্য যে কোনোভাবে ঘুমালেও সুন্নাত পরিপন্থী হবে না।
৫. অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে হলে শরীরের বাহ্যিক অপবিত্রতা ধুয়ে অযু করে ঘুমানো ।
৬. নগ্ন হয়ে না ঘুমানো । (বুখারি)
৭. একান্ত প্রয়োজন না হলে উপুড় হয়ে না ঘুমানো সুন্নাত । ৮. ঘুমানোর সময় আগুন জ্বালানো বাতি নিভিয়ে ঘুমানো । (তিরমিযি)
৯. ঘুম ঘোরে দুঃস্বপ্ন দেখলে পার্শ্ব পরিবর্তন করে শোয়া ।
১০. দুঃস্বপ্ন দেখলে বাম দিকে তিনবার থুথু ছিটানো এবং দোয়া করা, ‘হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট দুঃস্বপ্ন ও শয়তান থেকে পানাহ চাই ।’ এভাবে তিনবার বলা । তবে দুঃস্বপ্ন কাউকে না বলা সুন্নাত। (মুসলিম)

জেনে নিন | রাসুল [সা.] কীভাবে এবং কেমন আংটি ব্যবহার করতেন

রাসুল [সা.] কীভাবে এবং কেমন আংটি ব্যবহার করতেন

শুরুর দিকে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম কোনো আংটি ব্যবহার করতেন না। হুদাইবিয়ার সন্ধির পরে যখন তিনি আরব উপদ্বীপগুলোর বাইরে ইসলামী দাওয়াতের মিশন শুরু করলেন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের নামে পত্র পাঠানো ইচ্ছা করলেন তখন তাকে জানানো হলো রোমকরা সীলমোহর ছাড়া কোনো পত্র গ্রহণ করে না। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম তখন রুপা দিয়ে একটি আংটি তৈরি করলেন এবং সেই আংটিতে ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’অংকিত করান। যেন তা মোহরের কাজেও ব্যবহার হতে পারে।(বুখারি)

কোনো কোনো বর্ণনা থেকে অনুমিত হয় প্রথমে উল্লেখিত উদ্দেশ্যে স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করেন। তার দেখাদেখি সাহাবাদের অনেকেই স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করা শুরু করেন। এই প্রেক্ষিতে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম স্বীয় আংটি ছুঁড়ে ফেলেন এবং এই মর্মে ঘোষণা দেন- এখন থেকে আমি আর স্বর্ণে আংটি পরবো না। তার পরে তিনি রুপার আংটি তৈরি করান। রুপার তৈরি আংটিটি তিনি জীবনের শেষ দিন পযর্ন্ত ব্যবহার করেছেন। তার এই আংটি মুবারক খোলাফায়ে রাশেদার কাছে সংরক্ষিত ছিলো। অবশেষে হজরত উসমান (রা.)-এর শাসনামলে আংটিটি মদিনার আরিস নামক কূপে পড়ে যায়। তার পরে আর তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। (বুখারি)

রাসুল [সা.] কীভাবে এবং কেমন আংটি ব্যবহার করতেন
রাসুল [সা.] কীভাবে এবং কেমন আংটি ব্যবহার করতেন

এই বর্ণনার আলোকে বিজ্ঞ আলেমগণ বলেছেন, ইসলামের সূচনাকালে পুরুষের জন্যও স্বর্ণে আংটি ব্যবহার করা জায়েজ ছিলো। পরে তা নিষিদ্ধ হয়েছে। কারণ হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াল্লাম পুরুষের জন্য স্বর্ণের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেন। হজরত রাসুল [সা.] -এর আংটি মুবারকের বৃত্তটি ছিলো রূপার তৈরি। আর তার উপরের অংশটি ছিলো রূপার আর তার নির্মণশৈলি ছিলো হাবশী (আবু দাউদ)।

হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান বাম উভয় হাতেই আংটিটি পরেছেন বলে প্রমাণিত আছে। তিনি মধ্যমা এবং শাহাদাত আংগুলে আংটি পরতে সরাসরি নিষেধ করেছেন (মুসলিম)। খুব সম্ভব হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একাধিক আংটি ছিলো। এর কোনটি ছিলো রূপার, আবার কোনটি ছিলো লোহার যার উপর রূপার পাত মোড়ানো ছিলো।

সূর্য বা চন্দ্র গ্রহণের সময় রাসূল ( সাঃ) কি করতেন জেনে নিন

রাসূল( সাঃ):

সূর্য বা চন্দ্র গ্রহণ আল্লাহর বিশেষ নিদর্শন। এসময় আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও ভীতি সহকারে জামা‘আতসহ দু’রাক‘আত সালাত আদায় করা, খুৎবা দেওয়া, হাত তুলে দো‘আ ও ইস্তেগফার করা, দান-ছাদাক্বা করা সুন্নাত (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৫৮০, ‘সূর্য বা চন্দ্র গ্রহণের ছালাত’ অনুচ্ছেদ)।

সূর্য বা চন্দ্র গ্রহণের রাসুল ( সাঃ) কি করতেন জেনে নিন
চন্দ্র গ্রহণের

 আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ( সাঃ) -এর সময়ে একবার সূর্য গ্রহণ হলে আল্লাহর রাসূল ( সাঃ)  সালাত  আদায় করেন ও লোকেরাও তাঁর সাথে ছালাত আদায় করে। প্রথমে তিনি ছালাতে দাঁড়ালেন এবং সূরা বাক্বারাহর মত দীর্ঘ ক্বিরাআত করলেন। অতঃপর (১) দীর্ঘ রুকূ করলেন। তারপর মাথা তুলে ক্বিরাআত করতে লাগলেন। তবে প্রথম ক্বিরাআতের চেয়ে কিছুটা কম ক্বিরাআত করে (২) রুকূতে গেলেন। এবারের রুকূ প্রথম রুকূর চেয়ে কিছুটা কম হ’ল। তারপর তিনি রুকূ থেকে মাথা তুলে সিজদা করলেন। অতঃপর সিজদা শেষে তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং লম্বা ক্বিরাআত করলেন। তবে প্রথমের তুলনায় কিছুটা ছোট। এরপর তিনি (৩) রুকূ করলেন, যা আগের রুকূর চেয়ে কম ছিল। রুকূ থেকে মাথা তুলে পুনরায় ক্বিরাআত করলেন। যা প্রথমের তুলনায় ছোট ছিল। অতঃপর তিনি (৪) রুকূ করলেন ও মাথা তুলে সিজদায় গেলেন। পরিশেষে সালাম ফিরালেন। ইতিমধ্যে সূর্য উজ্জ্বল হয়ে গেল। অতঃপর সালাত  শেষে দাঁড়িয়ে তিনি খুৎবা দিলেন এবং হামদ ও ছানা শেষে বললেন যে, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি বিশেষ নিদর্শন। কারু মৃত্যু বা জন্মের কারণে এই গ্রহণ হয় না। যখন তোমরা ঐ গ্রহণ দেখবে, তখন আল্লাহকে ডাকবে, তাকবীর দিবে, সালাত আদায় করবে ও ছাদাক্বা করবে। … আল্লাহর কসম! আমি যা জানি, তা যদি তোমরা জানতে, তাহ’লে তোমরা অল্প হাসতে ও অধিক ক্রন্দন করতে’। অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, এর মাধ্যমে আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের ভয় দেখিয়ে থাকেন। অতএব যখন তোমরা সূর্য গ্রহণ দেখবে, তখন ভীত হয়ে আল্লাহর যিকর, দো‘আ ও ইস্তেগফারে রত হবে (বুখারী হা/১০৫২, ১০৫৯, ১০৪৪; মুসলিম হা/৯০৭;, মিশকাত হা/১৪৮২-৮৪; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ২৫৫-৫৬ পৃঃ)।

দেখে নিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কিভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতেন

কুরআন তিলাওয়াত :

নবী (সাঃ) প্রতিদিন কুরআন থেকে নির্ধারিত একটি পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন। কখনই তিনি এর ব্যতিক্রম করেন নি। তিনি তারতীলের সাথে কুরআন পাঠ করতেন। প্রত্যেকটি অক্ষর তার নিজস্ব মাখরাজ (উচ্চারণের স্থান) থেকে সুস্পষ্ট করে উচ্চারণ করতেন এবং প্রতিটি আয়াত পাঠ শেষে ওয়াক্ফ করতেন (বিরতি গ্রহণ করতেন)। তিলাওয়াতের সময় হরফে মদ্ আসলে লম্বা করে পড়তেন। উদাহরণ স্বরূপ তিনি الرحمن الرحيم পাঠ করার সময় মদ-&এর সাথে পড়তেন। তিলাওয়াতের শুরুতে তিনিأَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ পাঠ করতেন। কখনও তিনি এই দু’আটি পাঠ করতেন-

أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ

দেখে নিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কিভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতেন
                               কুরআন 

‘‘আমি বিতারিত শয়তান, তার ধোঁকা, ফুঁক ও তার যাদু থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি’’।[1] তিনি অন্যের কাছ থেকে কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে রসূল (সাঃ) কুরআন তিলাওয়াত করার আদেশ দিতেন। তিনি তাঁর সামনে কুরআন পড়তেন। নবী  (সাঃ) তা শুনতেন। এ সময় তাঁর অন্তরের অবস্থা ও একাগ্রতা এমন হত যে, তাঁর উভয় চোখ থেকে অশ্রম্ন প্রবাহিত হত।[2] তিনি দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। ওযূ ছাড়াও তিনি কুরআন পাঠ করতেন। তবে স্ত্রী সহবাস জনিত কারণে অপবিত্র হলে পবিত্রতা অর্জন না করে কুরআন পড়তেন না। তিনি আওয়াজ উঁচু করে সুন্দর সুর দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফ্ফাল লম্বা আওয়াজে তাঁর সামনে কুরআন তিলাওয়াত করার ধরণটি আ-আ-আ (তিনবার) বলার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী এরূপই বর্ণনা করেছেন।[3] আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফ্ফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত ধরণটি যদি রসূল (সাঃ) এর বাণী-

زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ

‘‘তোমাদের আওয়াজের মাধ্যমে কুরআনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি কর। অর্থাৎ তোমরা সুন্দর আওয়াজের মাধ্যমে কুরআন পড়’’।[4] এবং তাঁর বাণীঃ

مَا أَذِنَ اللهُ لِشَىْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِىٍّ حَسَنِ الصَّوْتِ يتغنى بِالْقُرْآنِ

‘‘আল্লাহ্ তা‘আলা সুন্দর কন্ঠের অধিকারী নবীর কাছ থেকে সুন্দর স্বরে কুরআন তিলাওয়াত যেমনভাবে শুনেন অন্য কোন বস্ত্তকে সে রকমভাবে শ্রবণ করেন না’’[5] এই দুইটি হাদীসকে একত্রিত করলে বুঝা যায় যে, তিনি ইচ্ছা করেই কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজকে উঁচু ও সুন্দর করতেন। নিছক উট চালানোর জন্য স্বীয় আওয়াজ উঁচু করেন নি। বরং কুরআন তিলাওয়াতে তাঁর অনুসরণ করার জন্যই তা করেছেন। অন্যথায় আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফাফাল (রাঃ) কুরআন তিলাওয়াতে তাঁর আওয়াজ উঁচু ও সুন্দর করার ধরণ বর্ণনা করে দেখাতেন না। কুরআন তিলাওয়াতে আওয়াজ উঁচু ও সুন্দর করা দু’ভাবে হতে পারে।