রম্যঃ আজ রাতটা বড়, কী করবেন

আপনি জানেন আজ ২৩ ডিসেম্বর। বছরের সবচেয়ে বড় রাত? আসুন জেনে নিই এই বড় রাতে কী করবেন।

ফেসবুক লাইভে আসুন
আজ রাতে ফেসবুক লাইভে আসুন। ফেসবুক লাইভে না এলে মান-সম্মান নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যায়। আপনি প্রচণ্ড ব্যস্ততার দরুন লাইভে আসতে পারছেন না। অথচ সবাই মনে করে আপনার চেহারা সুন্দর না বা লাইভ অপশন পাননি কিংবা স্মার্টফোন চালানোর মতো স্মার্ট হননি বলে লাইভে আসছেন না। এবার সারা রাত লাইভে থেকে সবাইকে দেখিয়ে দিন।

বিয়ে করে ফেলুন
আজ ২৩ ডিসেম্বর। আপনি বিয়ে করলে বছরের সবচেয়ে বড় রাত হবে আপনার বাসর রাত। মনের যত কথা আছে সব বলতে পারবেন। সব কথা পূর্বে বলা হয়ে থাকলে রিভিশন দিতে পারেন।

ফেসবুক বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ জমাতে পারেন
ব্যস্ততার দরুন ফেসবুকে হাজার হাজার বন্ধুর সঙ্গে কথা বলা হয়ে ওঠে না। যেহেতু বড় রাত, একে একে সবার সঙ্গে আলাপ সেরে নিতে পারেন।

বন্ধুর ছবিতে লাইক দিয়ে রাত কাটাতে পারেন
সবার লিস্টে এমন বন্ধু আছে যে কাঁচাবাজারে গেলেও কয়েকশ ছবি সেলফি ওঠে এবং সবগুলো ফেসবুকে আপলোড দেয়। আপনি আবার সে ছবিতে লাইক দেন না বলে কিঞ্চিত অভিমান করে আছে। বন্ধুর অভিমান ভাঙানোর মোক্ষম সুযোগ এই ২২ ডিসেম্বর। বড় রাত। সারা রাত ভরে বন্ধুর সেলফিতে লাইক দিন।

নামায যেভাবে আদায় করবেন…

শরীরের পবিত্রতা অর্জনের পর নামাযের সময় হলে নফল অথবা ফরয, যে কোন নামায পড়ার ইচ্ছা করুন না কেন, অন্তরে দৃঢ়সংকল্প নিয়ে কিব্লা অর্থাৎ পবিত্র মক্কায় অবস্থিত কাবা শরীফের দিকে মুখ করে একাগ্রতার সাথে দাঁড়িয়ে যাবেন এবং নিুবর্ণিত কর্মগুলো করবেন:
১। সেজদার জায়গায় দৃষ্টি রেখে তাক্বীরে তাহ্রীমা (আল্লাহু আকবার) বলবেন।
২। তাকবীরের সময় কান বরাবর অথবা কাঁধ বরাবর উভয় হাত উঠাবেন।
৩। তাকবীরের পর নামায শুরুর একটি দু’আ পড়বেন, পড়া সুন্নাত। দু’আটি নিুরূপ:
উচ্চারণ: সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুকা।
অর্থ: “প্রশংসা এবং পবিত্রতা বর্ণনা করছি আপনার হে আল্লাহ! বরকতময় আপনার নাম। অসীম ক্ষমতাধর ও সুমহান আপনি। আপনি ভিন্ন আর কোন উপাস্য নেই”।

ইচ্ছা করলে উক্ত দু’আর পরিবর্তে এই দোআ পড়া যাবে:
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা বাইদ্ বাইনী ওয়া বাইনা খাতাইয়াইয়া কামা বা’আত্তা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিবি, আল্লাহুম্মা নাক্কিনী মিন খাতাইয়াইয়া কামা য়ুনাক্কাছ ছাওবুল আবইয়াযু মিনাদ্দানাসি, আল্লাহুম্মাগ্সিল্নী মিন্ খাতাইয়াইয়া বিল মায়ি ওয়াছ্ ছালজি ওয়াল বারাদি”।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে ও আমার গুনাহের মাঝে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করুন যতটা দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ঠিক ঐভাবে পাপমুক্ত করুন যেভাবে সাদা কাপড় ময়লামুক্ত হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহসমূহকে পানি দিয়ে ও বরফ দিয়ে এবং শিশির দ্বারা ধুয়ে দিন”। (বুখারী ও মুসলিম)

৪। তারপর বলবেন:
উচ্চারণ: “আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম”।
অর্থ: “আমি আশ্রয় চাচ্ছি আল্লাহর নিকট অভিশপ্ত শয়তান থেকে। আরম্ভ করছি দয়াবান কৃপাশীল আল্লাহর নামে।” এর পর সূরা ফাতিহা পড়বেন:

অর্থ: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টিকুলের রব। পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক। আপনারই আমরা ইবাদত করি এবং আপনারই নিকট সাহায্য চাই। আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন। তাদের পথ, যাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন। যাদের উপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয় নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়।”

৫। তারপর কুরআন হতে মুখস্থ ও সহজ সুরা পড়বেন।
৬। তারপর আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সবচেয়ে বড়) বলে দু হাত কাঁধ বরাবর অথবা কান বরাবর উত্তোলন করে দুই হাত হাঁটুর উপর রেখে পিঠ সোজা ও সমান করে রুকু করবেন এবং বলবেন
উচ্চারণ: “সুবহানা রাব্বিয়্যাল আযীম
(পবিত্র মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি) এটি তিনবার অথবা তিনের অধিকবার বলা সুন্নত। তারপর বলবেন:
“সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ”
(আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে শুনলেন যে তাঁর প্রশংসা করল) বলে রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে, ইমাম হোক অথবা একাকী হোক, সোজা দাঁড়িয়ে গিয়ে দু হাত কাঁধ বরাবর অথবা কান বরাবর উত্তোলন করে বলতে হবে:
উচ্চারণ: রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু হামদান কাসীরান তাইয়্যেবান মুবারাকান ফীহ, মিল্ আস্সামাওয়াতি ওয়া মিলআলআরযি, ওয়ামিলআ মা বাইনাহুমা ওয়া মিলআ মা শী’তা মিন শাইয়িন বা’দু”।
অর্থ: “ হে আমার প্রতিপালক! প্রশংসা আপনারই জন্য, প্রচুর প্রশংসা, যে প্রশংসা পবিত্র-বরকতময়, আকাশ ভরে, যমীন ভরে এবং এ উভয়ের মধ্যস্থল ভরে, এমনকি আপনি যা ইচ্ছে করেন তা ভরে পরিপূর্ণরূপে আপনার প্রশংসা”।
আর যদি মুক্তাদী হয় তাহলে রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে উপরোল্লেখিত দু’আ رَبَّنَا ولَكَ الْحَمْد …. (রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদু…) শেষ পর্যন্ত পড়বেন।
৮। তারপর اللهُ أَكْبَرُ (আল্লাহু আকবর) বলে বাহুকে তার পার্শ্বদেশ থেকে এবং ঊরুকে উভয় পায়ের রান থেকে আলাদা রেখে সেজদা করবেন। সেজদা পরিপূর্ণ হয় সাতটি অঙ্গের উপর, কপাল-নাক, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের অঙ্গুলির তলদেশ। সেজদার অবস্থায় তিনবার অথবা তিন বারেরও বেশি এই দুআ পড়বেন।
উচ্চারণঃ সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা (পবিত্রতা ঘোষণা করছি আমার মহান প্রতিপালকের) বলবেন এবং ইচ্ছা মত বেশী করে দু’আ করবেন।
৯। তারপর اللهُ أَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার) বলে মাথা উঠিয়ে পা খাড়া রেখে বাম পায়ের উপর বসে দুই হাত, রান ও হাঁটুর উপর রেখে বলবেন,
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মাগর্ফিলী ওর্য়াহামনী ওয়া আফিনী ওয়ারজুকনী ওয়াহ্দিনী ওয়াজবুরনী”।
অর্থ: “ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, দয়া করুন, নিরাপদে রাখুন, জীবিকা দান করুন, সরল পথ দেখান, শুদ্ধ করুন”।
১০। তারপর اللهُ أَكْبَر (আল্লাহু আকবার) বলে দ্বিতীয় সেজদা করবেন এবং প্রথম সেজদায় যা করেছেন তাই করবেন।
১১। তারপর اللهُ أَكْبَر (আল্লাহু আকবার) বলে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য উঠে দাঁড়াবেন। (এই ভাবে প্রথম রাকাত পূর্ণ হবে।)
১২। তারপর দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও কুরআনের কিছু অংশ পড়ে রুকু করবেন এবং দুই সেজদা করবেন, অর্থাৎ পুরোপুরিভাবে প্রথম রাকাতের মতোই করবেন।
১৩। তারপর দ্বিতীয় রাকাতের দুই সেজ্দা থেকে মাথা উঠানোর পর দুই সাজ্দার মাঝের ন্যায় বসে তাশাহ্হুদের এই দু’আ পড়বেন:
i) সমস্ত তাশাহহুদের সময় ডান হাতের মুঠি প্রায় বন্ধ করে তর্জনী কিবলার দিকে করে স্থির রাখা
অথবা
ii) সমস্ত তাশাহহুদের সময় ডান হাতের মুঠি প্রায় বন্ধ করে তর্জনী কিবলার দিকে করে স্থির না রেখে অল্প একটু উপরে নিচে করে নাড়তে থাকা।
উল্লেখ্য যে, তর্জনী নাড়ানোর এই পদ্ধতিটিও মুস্তাহাব। অর্থাৎ, কেউ একেবারেই তর্জনী না উঠালে গুনাহগার হবে না, কিন্তু কেউ এটা করলে সাওয়াব পাবে ইন শা আল্লাহ্। [৭]

উচ্চারণ:আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্সলাওয়াতু ওয়াত্তাইয়েবাতু, আস্সালামু আলাইকা আইয়ুহান্নাবিয়্যু ওয়া রহ্মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, আস্সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সলেহীন, আশ্হাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ”।
অর্থ : “সকল তাযীম ও সম্মান আল্লাহর জন্য, সকল সালাত আল্লাহর জন্য এবং সকল ভাল কথা ও কর্মও আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপানার প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপরে এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপরে শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল।”

তবে নামায যদি দুই রাকাত বিশিষ্ট হয়। যেমন: ফজর, জুমআ, ঈদ তাহলে আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ….. পড়ার পর একই বৈঠকে এই দরূদ পড়বেন:

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাক্তা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”।
অর্থ: “ হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও তার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপভাবে আপনি ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত সম্মানিত।”


আপনি মুহাম্মাদ ও তার বংশধরদের উপর বরকত বর্ষণ করুন, যেরূপভাবে আপনি ইব্রাহীম ও তার বংশধরদের উপর বরকত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত, সম্মানিত”।

তারপর চারটি জিনিস থেকে এই বলে পানাহ চাইবেন:
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযাবি জাহান্নামা ওয়া মিন আযাবিল্ ক্বাবরি ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল্মামাতি ওয়া মিন ফিত্নাতিল মাসীহিদ্দাজ্জাল”।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি অবশ্যই আপনার নিকট জাহান্নাম ও কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। দজ্জালের ফিত্না এবং জীবন মৃত্যুর ফিত্না থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।”
অথবা
আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসী যুলমান কাছীরাওঁ ওয়ালা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ইনদাকা ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুও রাহীম।

উক্ত দু’আর পর ইচ্ছেমত দুনিয়া ও আখিরতের কল্যাণ কামনার্থে মাস্নুন দু’আ পড়বেন। ফরয নামায হোক অথবা নফল সকল ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি প্রযোজ্য। তারপর ডান দিকে ও বাম দিকে (গর্দান ঘুরিয়ে)
উচ্চারণ: “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ”
বলবেন।


আর নামায যদি তিন রাকাত বিশিষ্ট হয়, যেমন মাগরিব। অথবা চার রাকাত বিশিষ্ট হয়, যেমন যোহর, আসর ও এশা, তাহলে দ্বিতীয় রাকাতের পর (সালাম না ফিরিয়ে) “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি…. পড়ার পর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে দু হাত কাঁধ বরাবর অথবা কান বরাবর উত্তোলন করে সোজা দাঁড়িয়ে গিয়ে শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে প্রথম দু’ রাকাতের মত রুকু ও সাজদা করতে হবে এবং চতুর্থ রাকাতেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। তবে (শেষ তাশাহ্হুদে) বাম পা, ডান পায়ের নীচে রেখে ডান পা খাড়া রেখে মাটিতে নিতম্বের (পাছার) উপর বসে মাগরিবের তৃতীয় রাকাতের শেষে এবং যোহর, আসর ও এশার চতুর্থ রাকাতের শেষে, শেষ তাশাহ্হুদ (আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহ……, ও দরূদ পড়বেন। ইচ্ছে হলে অন্য দু’আও পড়বেন। এরপর ডান দিকে (গর্দান) ঘুরিয়ে (আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ” বলবেন।সাওবান থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে তিনবার ইস্তেগফার করতেন।ইব্ন আজুরা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সালাতের পর কিছু তাসবিহ আছে, যার পাঠকারীরা কখনো বঞ্চিত হয় না, ৩৩বার তাসবিহ, ৩৩বার তাহমিদ ও ৩৪বার তাকবির” অথাৎ সুবহানাল্লাহ ৩৩বার, আল-হামদুলিল্লাহ ৩৩বার, আল্লাহু আকবার ৩৪বার বলবেন।

এভাবেই একশত পুরো হবে, যেমন পূর্বে আবু হুরায়রার হাদিসে রয়েছে।[
আর এভাবেই নামায সম্পন্ন হয়ে যাবে।

জোকসঃ বললে বিশ্বাস করবেন না…

ডাক্তারের চেম্বারে এসই রোগী বেশ চেঁচামেচি জুড়ে দিলেন। কথা বলছেন বেশ জোড় দিয়ে।

ডাক্তার সাহেব, অবস্থা তেমন ভাল না আমার!

কী হয়েছে ম্যাডাম? বলুন দেখি…

বিষয়টি একটু অন্যরকম। মানে গত কয়দিন যাবৎ আমার প্রচুর বায়ূত্যাগ হচ্ছে…

হুম… সে তো বুঝতে পারছি। কিন্তু…

না, ডাক্তার সাহেব, আপনি বুঝতে পারছেন না। কারণ, বড় সমস্যা হচ্ছে- এটা যখন ঘটছে তখন কোনো শব্দ হচ্ছে না এবং দুর্গন্ধও পাওয়া যাচ্ছে না। এটা অস্বাভাবিক না!

হুম…

বললে বিশ্বাস করবেন না- আপনার চেম্বারে আসার পর থেকে আমি এ পর্যন্ত দশবার… কিন্তু আপনি টেরও পান নাই- কারণ, দুর্গন্ধও নাই, আওয়াজও নাই…

ডাক্তার ওষুধ লিখে দিয়ে বললেন: নিয়মিত ওষুধ খাবেন আর একসপ্তাহ বাড়ি থেকে বের হবেন না।

এক সপ্তাহ পর রোগী ফের এল: ডাক্তার সাহেব, কী ওষুধ দিলেন! এখন তো বায়ুত্যাগ করলে মনে হচ্ছে বাথরুম করে দিয়েছি- এত দুর্গন্ধ হয়… যে মনে হয়…

আর শব্দ?

না, শব্দ হচ্ছে না।

ভেরি গুড! তার মানে আপনার নাকের সমস্যা দূর হয়েছে। এরপর আজ দেব কানের ওষুধ। দু’দিনেই আশপাশের সব শব্দ শুনতে পাবেন…

অ্যাঁ! তার মানে…

জ্বী, আপনার সমস্যা হচ্ছে নাকে ও কানে, অন্য কোথাও নয় ম্যাডাম…

(২)
মাঝে-মধ্যে স্মার্টনেসে মন্টু তার বাপকেও ছাড়িয়ে যায়। যেমন, সেদিন সকালের ঘটনা-

মন্টু: বাবা বাবা! ফেসবুকে আমার ৫টা ফেক আইডি আছে!

মন্টুর বাপ: চুপ বেয়াদ্দপ! এই কথা আমারে শুনাইতে আইছস ক্যান।

দু’দিনেই আশপাশের সব শব্দ শুনতে পাবেন…
অ্যাঁ! তার মানে…

জ্বী, আপনার সমস্যা হচ্ছে নাকে ও কানে, অন্য কোথাও নয় ম্যাডাম…

(২)
মাঝে-মধ্যে স্মার্টনেসে মন্টু তার বাপকেও ছাড়িয়ে যায়। যেমন, সেদিন সকালের ঘটনা-

মন্টু: বাবা বাবা! ফেসবুকে আমার ৫টা ফেক আইডি আছে!

মন্টুর বাপ: চুপ বেয়াদ্দপ! এই কথা আমারে শুনাইতে আইছস ক্যান। পড়াশোনা নাই নাকি?

মন্টু: আছে বাবা, কিন্তু বলতে চাইছিলাম…

মন্টুর বাপ: আবার বলতে চাইছিলাম কী! বল, বইলা দূর হ তাড়াতাড়ি…

মন্টু: যে রিয়াকে গত এক মাসে দশবার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আর ইনবক্স কইরা পেরেশান করতেছো- হেইটা কইলাম আমি…

মন্টুর বাপ: বাপ আমার! এইদিকে আয়। তুই না ক্রিকেট ব্যাট কিনতে চাইছিলি একটা… কত দাম জানি ওইটার… কালকেই ব্যাট পায়া যাবি…

মন্টু: বাবা, তুমি এত ভাল কেন!

(৩)
মন্টুর বাপ: স্যার, বৌ আমাকে নিয়ে তাজমহল দেখতে যাইতে চায়। এক সপ্তাহের ছুটি মঞ্জুর করতে হইবো।

বস: এক বছরের আগে কোনো ছুটি নাই। কাজে মন দিন গিয়ে।

মন্টুর বাপ: অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা, স্যার। আমি জানতাম- এই মুসিবতের কবল থেইকা একমাত্র আপনিই আমারে বাঁচাইতে পারেন!

জেনে নিন, পৃথিবীতে অবতরণের পর ঈসা (আ.) কী করবেন

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “কিয়ামত সংঘটিত হবে নাÑযতক্ষণ না ঈসা ইবনে মারয়াম ন্যায়পরায়ণ বিচারক ও ইনসাফগার নেতা হিসেবে অবতরণ করবেন। তিনি ক্রুশ ধ্বংশ করবেন এবং শূকর হত্যা করবেন। তিনি জিযিয়ার বিধান উঠিয়ে দিবেন। তিনি এত প্রচুর মাল দান করবেন যে, তা গ্রহণ করার মতো লোক থাকবে না।

(সুনানে ইবনে মাজাহ, ২য় খণ্ড, হাদীস নং ১৩৬৩/ মুসনাদে আহমদ, ২য় খণ্ড, ৪৯৪ পৃষ্ঠা)

ঈসা (আ.) দাজ্জালকে হত্যা করা সম্পর্কে হযরত আবু উমামা বাহেলী (রহ.) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “ফজরের নামায শেষে ঈসা (আ.) বলবেনÑ(মসজিদের) দরজা খোলো। তখন দরজা খোলা হবে। সে সময় দরজার পিছনে থাকবে দাজ্জাল ও তার সঙ্গী ৭০ হাজার ইয়াহুদীÑযারা সবাই চাদর পরিহিত এবং তলোয়ার হাতে ও অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত থাকবে। যখন দাজ্জাল ঈসা (আ.)-এর দিকে তাকাবে, তখন এমনভাবে গলে যাবেÑযেমন পানিতে লবণ গলে যায়। অতঃপর সে পলায়ন করতে চাইবে। তখন ঈসা (আ.) বলবেন, আমি তোমাকে হত্যা করবো, তুমি আমার হাত থেকে রেহাই পাবে না। অতঃপর তার পিছনে ধাওয়া করে ঈসা (আ.) তাকে বাবে লুদ্দ-এর নিকট পাবেন এবং সেখানে তাকে হত্যা করবেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহুদীদেরকে পরাস্ত করবেন। এমনকি যে বস্তুর পিছনে কোন ইয়াহুদী লুকিয়ে থাকবে, আল্লাহ সে বস্তুকে কথা বলার ক্ষমতা দান করবেন, পাথর, গাছ, দেয়াল এবং প্রত্যেক বস্তুকে বাকশক্তি দান করবেন। তবে গরকাদ তথা ঝাউ গাছকে বাকশক্তি দান করবেন না। কেননা, এটা ইয়াহুদীদের বপনকৃত গাছ, তাই এ গাছ কথা বলবে না। এটা ছাড়া অন্য প্রত্যেক বস্তু এভাবে বলবে, হে আল্লাহর বান্দা মুসলমান! এইতো এক ইয়াহুদী আমার পিছনে! এসো, তাকে হত্যা কর। তখন প্রত্যেকে এগিয়ে আসবে এবং বুকের উপর তলোয়ার দ্বারা আঘাত করে ইয়াহুদীকে হত্যা করবে।

(সহীহ বুখারী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৭৫ পৃষ্ঠা/ মুসনাদে আহমদ, ৪র্থ খণ্ড, ২১৬ পৃষ্ঠা/ দুররে মানসুর, ২য় খণ্ড, ২৪৩ পৃষ্ঠা)

ঈসা (আ.) ইসলাম ছাড়া সব ধর্মকে বাতিল করে দিবেন মর্মে হযরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “আল্লাহ তা‘আলা ঈসা (আ.)-এর যামানার সব ধর্মকে নিঃশেষ করে দিবেন। শুধু ইসলাম বাকি থাকবে।”

(ফাতহুল বারী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩৫৭ পৃষ্ঠা)

তেমনি হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “ঈসা (আ.) ‘রাওহা’ নামক স্থানে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে হজ্বের ইহরাম বাঁধবেন।” এরপর আবু হুরাইরা (রা.) নিম্নের আয়াতখানা তিলাওয়াত করেন–

ﻭَﺇِﻥ ﻣِّﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﺇِﻟَّﺎ

ﻟَﻴُﺆْﻣِﻨَﻦَّ ﺑِﻪِ ﻗَﺒْﻞَ ﻣَﻮْﺗِﻪِ ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻳَﻜُﻮﻥُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺷَﻬِﻴﺪًﺍ (অর্থ : আহলে কিতাবদের যারাই থাকবে, তারা তাঁর মৃত্যুর পূর্বে অবশ্যই ঈমান আনবে।)

দুররে মানসুরের বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “ঈসা (আ.) আমার কবরের নিকট তাশরীফ আনবেন এবং আমাকে সালাম দিবেন। আমি তাঁর সালামের জবাব দিবো।”

(সহীহ মুসলিম, ২য় খণ্ড, ২০৪ পৃষ্ঠা/ মুসনাদে আহমদ, ২য় খণ্ড, ২৯০ পৃষ্ঠা/ দুররে মানসুর, ২য় খণ্ড, ২৪৫ পৃষ্ঠা)

অপর বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “হযরত ঈসা (আ.) কিতাবুল্লাহ এবং আমার সুন্নাতের ওপর আমল করবেন। যখন তাঁর ইন্তিকালের সময় হবে, তখন তাঁর হুকুমে বনী তামীরের এক ব্যক্তিকে খলীফা নিযুক্ত করা হবে। তার নাম হবে মুক‘আদ।

ঈসা (আ.) যখন মারা যাবেন, তখন মানুষ তিনবছর সময় সেভাবে অতিবাহিত করবে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা লোকদের সীনা হতে কুরআন ও মাসহাফ উঠিয়ে নিবেন।

(ইশা‘আত, ২৪০ পৃষ্ঠা, হাবী, ২৮৯ পৃষ্ঠা)

জেনে নিন, আপনি কিভাবে জান্নাত লাভ করবেন?

সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জান্নাতের ওয়াদা করেছেন এবং জাহান্নামের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন….. সুতরাং যে ব্যক্তি জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত হলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করলো সে মহা সফলতা অর্জন করলো… আবারো ঐ আল্লাহ পাকের প্রশংসা যিনি আমাদেরকে জান্নাতের পথে আহবান করছেন।

আল্লাহ সুবহানাহু বলেন: ﴿ ﻭَﭐﻟﻠَّﻪُ ﻳَﺪۡﻋُﻮٓﺍْ ﺇِﻟَﻰ ﭐﻟۡﺠَﻨَّﺔِ ﻭَﭐﻟۡﻤَﻐۡﻔِﺮَﺓِ ﺑِﺈِﺫۡﻧِﻪِۦۖ﴾ ‏[ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ﻣﻦ ﺍﻵﻳﺔ 221‏] . ‘‘আল্লাহ তাঁর অনুমতিক্রমে জান্নাত ও মাগফিরাতের দিকে আহবান করছেন’’। [সূরা আল বাক্বারাহ: ২২১]

তিনি জান্নাতের বর্ণনা দিয়েছেন যে, জান্নাতে আছে সুমিষ্ট পানির নহর, দুধের ঝর্ণাধারা যার স্বাদের কোন পরিবর্তন নাই, শরাবের নহর যা পানকারীদের জন্য উপাদেয় এবং খাঁটি মধুর স্রোতস্বিনী। এর তলদেশ দিয়ে বিভিন্ন প্রকার নদী নালা প্রবাহিত। এখানে বাসনা অনুযায়ী, চোখজুড়ানো সকল চাহিদা পূর্ণ হবে। প্রত্যেক মু’মিন তার ঈমানদার সন্তানাদি, সৎকর্মশীল ব্যক্তি এবং শহীদগণের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হবে। আর সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ ও শহীদগণ কতই না উত্তম বন্ধু! বরং মু’মিন ব্যক্তি এর চেয়ে আরো উত্তম বস্তু লাভ করবে। আর তা হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ এবং তাঁর হাওযের পাশে অবস্থান। অধিকন্তু সেখানে সবচেয়ে উত্তম ও উৎকৃষ্ট নেয়ামত প্রাপ্তির যে ওয়াদা আল্লাহ করেছেন তা পূর্ণ হবে যখন মু’মিন ব্যক্তি তার প্রভুকে কোন পর্দা ছাড়াই সরাসরি দেখতে পাবে। হ্যাঁ, এ হচ্ছে জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি দেয়ার কারণেই মানুষ তাদের রবের একত্ববাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। এ কারণেই তারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করে। এ জান্নাত লাভের আশায় মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে বায়‘আত নিয়েছে। এ জান্নাতই শেষ গন্তব্য বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু যার ইন্তেযার করছেন, যেদিন বেলালকে উত্তপ্ত বালুর উপর চিৎ করে শুইয়ে বুকের উপর পাথর চাপা দেয়া হয়েছিল এবং তিনি মুশরিকদের দেয়া এ কষ্টে ধৈর্য্যধারণ করেছিলেন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাসজিদে আযান দেয়া অব্যাহত রেখেছিলেন। এ জান্নাতই হচ্ছে সে বিশাল গনীমত আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু যার জন্য অপেক্ষা করেছেন, যে দিন তাকে আগুন দিয়ে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল, তার পিতা মাতাকে হত্যা করা হয়েছিল – যারা ছিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ।

এ জান্নাত পাওয়ার আশাই উমাইর ইবন হামামকে অহুদ যুদ্ধের দিন কয়েকটি খেজুর খাওয়া থেকে বিরত রেখেছিল; যেহেতু তিনি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য পাগলপারা হয়ে উঠেছিলেন। আল্লাহও প্রতিদানে তাকে দ্রুত শাহাদাত নসীব করেছেন। এ জান্নাতের আশা-ভরসায় আল্লাহর ভয়ে প্রত্যেক আবেদের চোখ থেকে পানি ঝরে। প্রত্যেক মুজাহিদ আল্লাহর জন্য নিজের জান বিক্রি করে দেয়। প্রত্যেক আলেম স্বীয় ইলম অনুযায়ী আমল করে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়। এ কারণেই ঈমানদার ব্যক্তি সালাত ও অন্যান্য ফরযসমূহ আদায় করে, আর মানুষ তার ঈমানের সাক্ষ্য দেয়। সে আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলে। তার অন্তর দ্বীন, মাসজিদ এবং আল্লাহর প্রতিদানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়ে থাকে। তবে হ্যাঁ, এ জান্নাত পাওয়ার কতিপয় কারণ রয়েছে। আর প্রত্যেকে একটি উপায় অবলম্বন করবে যাতে সে জান্নাতের যে কোন একটি দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারে। সুতরাং কোন মু’মিন তার সালাতের কারণে জান্নাতে যাবে, কেউবা রোযা বা যাকাত বা হজ্জ কিংবা উত্তম চরিত্র, কেনাবেচা ও জিহাদের কারণে জান্নাতে যাবে। বরং আল্লাহর রহমাত ও অনুগ্রহ এত প্রশস্ত যে, কোন কোন বান্দাকে তিনি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাত দান করবেন শুধু এ কারণে যে, সে ব্যক্তি দুনিয়াতে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দিয়ে মানুষকে কষ্টমুক্ত করেছে, তৃষ্ণার্ত পা্রণীকে পানি পান করিয়েছে এবং বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছে। সুতরাং জান্নাতে প্রবেশের উপায় যদি চয়ন করতে চান, তাহলে কুরআনের আয়াত ও হাদীসের সুললিত ও সুরভিত বাণী আপনার সমীপে পেশ করা হচ্ছে।

সাধ্যানুযায়ী উপায় আপনি চয়ন করুন। হতে পারে এ কারণে আপনি একাধিক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ লাভ করতে পারবেন। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এমন সুসংবাদ প্রদান করেছিলেন।

জান্নাত লাভের উপায়সমূহ

১. জান্নাতে প্রবেশের প্রথম উপায় হলো: শাহাদাত অর্থাৎ একথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর সত্য কোন ইলাহ নেই, যিনি একক, যার কোন শরীক নেই। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলামের এ সাক্ষ্য প্রদান করবে, এর যাবতীয় আরকান পালন করবে, আর এক অদ্বিতীয় আল্লাহর ইবাদাত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

উবাদাহ ইবন সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন: ‏«ﻣﻦ ﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺣﺪﻩ ﻻ ﺷﺮﻳﻚ ﻟﻪ ﻭﺃﻥ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﻋﺒﺪﻩ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ، ﻭﺃﻥ ﻋﻴﺴﻰ ﻋﺒﺪﻩ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ﻭﻛﻠﻤﺘﻪ ﺃﻟﻘﺎﻫﺎ ﺇﻟﻰ ﻣﺮﻳﻢ ﻭﺭﻭﺡ ﻣﻨﻪ ، ﻭﺍﻟﺠﻨﺔ ﺣﻖ ﻭﺍﻟﻨﺎﺭ ﺣﻖ ﺃﺩﺧﻠﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﻤﻞ ‏» ‏(ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ‏) . ‘‘যে ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য দিবে যে, ‘এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ছাড়া আর কোন প্রকৃত ইলাহ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল, ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং আল্লাহর কালেমা যাকে তিনি মারিয়ামের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে রূহ, আর জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য’। আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল যাই হোক না কেন’’। [বুখারী ও মুসলিম]

আল্লাহ বলেন: ﴿ ﺇِﻥَّ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﺭَﺑُّﻨَﺎ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺛُﻢَّ ﭐﺳۡﺘَﻘَٰﻤُﻮﺍْ ﻓَﻠَﺎ ﺧَﻮۡﻑٌ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢۡ ﻭَﻟَﺎ ﻫُﻢۡ ﻳَﺤۡﺰَﻧُﻮﻥَ ١٣ ﺃُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﺃَﺻۡﺤَٰﺐُ ﭐﻟۡﺠَﻨَّﺔِ ﺧَٰﻠِﺪِﻳﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺟَﺰَﺁﺀَۢ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍْ ﻳَﻌۡﻤَﻠُﻮﻥَ ١٤ َ ﴾ ‏[ ﺍﻷﺣﻘﺎﻑ : 14-13‏] ‘‘নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর এ কথার উপর সুদৃঢ় থাকে। তাদের কোন ভয় ভীতি নেই, তাদের কোন চিন্তা নেই। তারাই জান্নাতবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এ জান্নাত তারা তাদের কৃত কর্মের ফল স্বরূপ লাভ করবে। [সূরা আল আহক্বাফ: ১৩-১৪]

আয়াতে উল্লেখিত ﺍﻻﺳﺘﻘﺎﻣﺔ শব্দটির অর্থ হল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‏« ﻛﻞ ﺃﻣﺘﻲ ﻳﺪﺧﻠﻮﻥ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺇﻻ ﻣﻦ ﺃﺑﻰ، ﻓﻘﺎﻟﻮﺍ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻣﻦ ﺃﺑﻰ؟ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﺃﻃﺎﻋﻨﻲ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻭﻣﻦ ﻋﺼﺎﻧﻲ ﻓﻘﺪ ﺃﺑﻰ ‏» ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ‏) . ‘‘জান্নাত পেতে আগ্রহী নয় এমন ব্যক্তি ছাড়া আমার সকল উম্মাতই জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কে এমন ব্যক্তি আছে যে জান্নাতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করবে সে জান্নাতে যাবে, আর যে আমার নাফরমানী করবে ও অবাধ্য হবে, সেই জান্নাতে যেতে অস্বীকার করে’’। [বুখারী ]

২. আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নামসমূহ মুখস্থ করা এবং এ নামগুলো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা জান্নাতে প্রবেশের একটি উপায়। আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‏« ﺇﻥ ﻟﻠﻪ ﺗﺴﻌﺔ ﻭﺗﺴﻌﻴﻦ ﺍﺳﻤﺎ، ﻣﺎﺋﺔ ﺇﻻ ﻭﺍﺣﺪﺍ، ﻣَﻦ ﺃﺣﺼﺎﻫﺎ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ‏» . ‘‘আল্লাহর নিরানববইটি নাম আছে। যে ব্যক্তি এ নামগুলো গণনা করবে, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে’’। [বুখারী ও মুসলিম]

৩. আল কুরআনের অনুসারীগণ, যারা আল্লাহর আহল ও তাঁর খাস বান্দা, কুরআন তাদের জান্নাতে প্রবেশের উপায় হবে। আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‏«ﻳﻘﺎﻝ ﻟﺼﺎﺣﺐ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ : ﺍﻗﺮﺃ ﻭﺍﺭﺗﻖ، ﻭﺭﺗﻞ ﻛﻤﺎ ﻛﻨﺖ ﺗﺮﺗﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ، ﻓﺈﻥ ﻣﻨﺰﻟﺘﻚ ﻋﻨﺪ ﺁﺧﺮ ﺁﻳﺔ ﺗﻘﺮﺃ ﺑﻬﺎ ‏» ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ‏) . ‘‘আলকুরআনের সঙ্গীকে বলা হবে: কুরআন পাঠ কর, আর মর্যাদার উচ্চশিখরে আরোহণ কর। আর তেলাওয়াত করতে থাক। যেমন দুনিয়াতে তেলাওয়াত করছিলে; কেননা তোমার মর্যাদা হলো কুরআনের শেষ আয়াত পর্যন্ত যা তুমি পাঠ করবে’’। [তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আরো প্রমাণিত রয়েছে যে, কতিপয় সূরা ও আয়াত জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম। আবু উমামা থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‏«ﻣﻦ ﻗﺮﺃ ﺁﻳﺔ ﺍﻟﻜﺮﺳﻲ ﻓﻲ ﺩﺑﺮ ﻛﻞ ﺻﻼﺓ ﻣﻜﺘﻮﺑﺔ ﻟﻢ ﻳﻤﻨﻌﻪ ﻣﻦ ﺩﺧﻮﻝ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺇﻻ ﺃﻥ ﻳﻤﻮﺕ‏» . ‘‘যে ব্যক্তি প্রতি ফরয সালাতের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সে জান্নাতবাসী হবে’’। [নাসায়ী, তাবারানী, ইবনে হিববান এটি বর্ণনা করেছেন ও আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন]

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‏« ﺳﻮﺭﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻣﺎ ﻫﻲ ﺇﻻ ﺛﻼﺛﻮﻥ ﺁﻳﺔ ﺧﺎﺻﻤﺖ ﻋﻦ ﺻﺎﺣﺒﻬﺎ ﺣﺘﻰ ﺃﺩﺧﻠﺘﻪ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻭﻫﻲ ﺗﺒﺎﺭﻙ ‏» . ‘‘৩০ আয়াত বিশিষ্ট কুরআনের একটি সূরা, এর পাঠকের জন্য জান্নাতে না নেয়া পর্যন্ত সুপারিশ করতেই থাকবে। সূরাটি হল তাবারাকা’’ (তথা সূরা মূলক)। [তাবারানী এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী বিশুদ্ধ বলেছেন]

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি মাসজিদে কোবায় আনসার সাহাবীদের ইমামতি করতেন। তিনি প্রতি রাকাতেই ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ সূরাটি পাঠ করতেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কোন কারণে প্রতি রাকাতে এ সূরাটি পাঠ কর? উত্তরে সে সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এ সূরাটি খুব পছন্দ করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন, এ সূরাটি পছন্দ করার কারণেই তুমি জান্নাতে প্রবেশ করবে। [ইমাম বুখারী হাদীসটি সনদবিহীন বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী ও আলবানী হাদীসটিকে উত্তম ও সহীহ বলেছেন]

৪. যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথকে সহজ করে দেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‏«ﻣﻦ ﺳﻠﻚ ﻃﺮﻳﻘﺎ ﻳﻠﺘﻤﺲ ﻓﻴﻪ ﻋﻠﻤﺎ ﺳﻬﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻪ ﺑﻪ ﻃﺮﻳﻘﺎ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺠﻨﺔ ‏» ‏( ﻣﺴﻠﻢ‏) . ‘‘যে ব্যক্তি ইলম হাসিলের উদ্দেশ্যে রাস্তায় বের হয়, এর বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দেন’’। [মুসলিম]

৫. আল্লাহ তা’লার যিক্র: আল্লাহর তাসবীহ (স্তুতি), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এবং তাকবীরের ফযীলত সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‏« ﻟﻘﻴﺖُ ﻟﻴﻠﺔ ﺃﺳﺮﻱ ﺑﻲ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢَ، ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ، ﺃﻗﺮﺉ ﺃﻣﺘﻚ ﻣﻨﻲ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺃﺧﺒﺮﻫﻢ ﺃﻥ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻃﻴﺒﺔ ﺍﻟﺘﺮﺑﺔ، ﻋﺬﺑﺔ ﺍﻟﻤﺎﺀ، ﻭﺃﻧﻬﺎ ﻗﻴﻌﺎﻥ ﻭﺃﻥ ﻏﺮﺍﺳﻬﺎ ﺳﺒﺤﺎﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﺤﻤﺪ ﻟﻠﻪ ﻭﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ ‏» . ‘‘মেরাজের রাতে ইবরাহীম আলাইহিস্ সালামের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ! তোমার উম্মাতকে আমার সালাম বলো এবং তাদেরকে এ সংবাদ দাও যে, জান্নাতের মাটি সুন্দর, পানি মিষ্টি, আর জান্নাত সমতল এবং এর বৃক্ষরাজি সুবহানাল্লাহ, আলহামদুল্লিাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার’’। [তিরমিযী এটি রেওয়ায়েত করেছেন এবং আলবানী তাকে উত্তম বলেছেন]

৬. জান্নাতে প্রবেশের উপায়সমূহের মধ্যে আরো একটি হল প্রতি সালাতের পর আল্লাহর যিক্র পাঠ: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, গরীব মুহাজিরগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললেন. ধনী ও বিত্তবান লোকেরা তো আল্লাহর নিকট সুউচ্চ মর্যাদা এবং নানাবিধ নেয়ামত লাভে ধন্য হয়ে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কীভাবে? তারা জবাব দিলেন যে, আমরা যেমন সালাত আদায় করি তারাও সালাত আদায় করে। আমরা যেমন রোযা পালন করি তারাও রোযা পালন করে। কিন্তু তারা দান সদকা করে আমরা তা করতে পারি না। তারা গোলাম আযাদ করে আমরা তা করি না। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু শিক্ষা দেব, যার দ্বারা তোমরা তোমাদের অগ্রবর্তীদের সমকক্ষ হবে, আর তোমাদের পরবর্তীদের চেয়ে অগ্রগামী হবে? আর তোমাদের চেয়ে উত্তম কেউ হবে না, সে ব্যক্তি ছাড়া যে তোমাদের মতই এ কাজগুলো করবে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে সে কাজ শিক্ষা দিন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সালাতের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার, আর ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করবে’’। [মুসলিম]

৭. অনুরূপভাবে অযুর পর কালিমায়ে শাহাদাত পাঠও জান্নাতে যাওয়ার উপায়। উকবাহ ইবন আমের বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ সুন্দর করে অযু করার পর যদি বলে: ‏« ﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺣﺪﻩ ﻻ ﺷﺮﻳﻚ ﻟﻪ ﻭﺃﻥ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﻋﺒﺪﻩ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ‏» . তার জন্য জান্নাতের ৮টি দরজাই উন্মুক্ত করে দেয়া হবে, সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করবে। [মুসলিম]

৮. ﻻ ﺣﻮﻝ ﻭﻻ ﻗﻮﺓ ﺇﻻ ﺑﺎﻟﻠﻪ এ দো‘আ হল জান্নাতের ভান্ডার: আবু মুসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: আমি কি তোমাকে জান্নাতের ভান্ডার সমূহের একটি ভান্ডার সম্পর্কে অবহিত করব? আমি বললাম: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বলেন, বলো: ﻻ ﺣﻮﻝ ﻭﻻ ﻗﻮﺓ ﺇﻻ ﺑﺎﻟﻠﻪ অর্থ্যাৎ: ‘‘আল্লাহর আশ্রয় ও শক্তি ছাড়া আর কারো কোন ক্ষমতা নাই’’। [বুখারী, মুসলিম]

৯. আল্লাহর নিকট জান্নাত চেয়ে দো‘আ করলে জান্নাত তখন আমীন আমীন বলে সমর্থন করে। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যাক্তি ৩ বার আল্লাহর নিকট জান্নাত চায়, জান্নাত তখন বলে: হে আল্লাহ্! ঐ ব্যাক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ৩ বার জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চেয়ে দো‘আ করে, জাহান্নাম বলে: হে আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তিকে দোযখের আগুন থেকে মুক্তি দাও। [তিরমিযি, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন]।

১০. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাগফেরাত কামনার দো‘আকে সাইয়্যেদুল্ ইসস্তিগফার বা গুনাহ মাফ চাওয়ার প্রধান দো‘আ বলে অভিহিত করেছেন এবং জান্নাতে প্রবেশের কারণ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সুতরাং প্রিয় পাঠক! দো‘আটি মুখস্থ করুন এবং সকাল সন্ধ্যা পাঠ করুন। শাদ্দাদ ইবন আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ননা করেন তিনি বলেন, ইস্তেগফারের প্রধান দো‘আ হলো: ‏« ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺃﻧﺖ ﺭﺑﻲ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺃﻧﺖ ﺧﻠﻘﺘﻨﻲ ﻭﺃﻧﺎ ﻋﺒﺪﻙ ﻭﺃﻧﺎ ﻋﻠﻰ ﻋﻬﺪﻙ ﻭﻭﻋﺪﻙ ﻣﺎ ﺍﺳﺘﻄﻌﺖ، ﺃﻋﻮﺫ ﺑﻚ ﻣﻦ ﺷﺮ ﻣﺎ ﺻﻨﻌﺖ، ﺃﺑﻮﺀ ﻟﻚ ﺑﻨﻌﻤﺘﻚ ﻋﻠﻲَّ ﻭﺃﺑﻮﺀ ﻟﻚ ﺑﺬﻧﺒﻲ ﻓﺎﻏﻔﺮ ﻟﻲ ﻓﺈﻧﻪ ﻻ ﻳﻐﻔﺮ ﺍﻟﺬﻧﻮﺏ ﺇﻻ ﺃﻧﺖ ‏» . ‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমার রব। তুমি ছাড়া আর কোন সত্য মা’বুদ নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার বান্দা। আমি তোমার ওয়াদা ও অঙ্গিকারের উপর সাধ্যানুযায়ী প্রতিষ্ঠিত। আমি অনিষ্টকর যা কিছু করেছি তা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমার উপর তোমার যে নেয়ামত আছে তার স্বীকৃতি দিচ্ছি। তোমার নিকট আমার গুনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও; কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না’’। যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সাথে দিনে এ দো‘আ পাঠ করে, সন্ধ্যা হওয়ার পূর্বেই যদি তার মৃত্যু হয়, তাহলে সে জান্নাতবাসী হবে। আর যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সাথে রাতে পাঠ করে এবং সকাল হওয়ার পূর্বেই মারা যায়, সে জান্নাতবাসী হয়’’। [বুখারী]

১১. সালাত হলো দ্বীনের খূঁটি। আল্লাহ আমাদের উপর দিন রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। আল্লাহর নিকট প্রিয় ইবাদাত হলো তাঁর ফরয কাজসমূহ। যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ফরয কাজসমূহ আদায় করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ওবাদা ইবন সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি সালাতসমূহের হকে কোন প্রকার কমতি ও তাচ্ছিল্য না করে সঠিকভাবে সেগুলো আদায় করে, তার জন্য আল্লাহর এ অঙ্গিকার যে, তিনি তাকে জান্নাত দান করবেন। আর যে এগুলোর ব্যাপারে কমতি ও তাচ্ছিল্য করে তা আদায় করবে, তার প্রতি আল্লাহর কোন অঙ্গিকার নেই। তিনি চাইলে তাকে শাস্তিও দিতে পারেন, আবার ক্ষমাও করতে পারেন’’। [হাদীসটি মোয়াত্তায়ে মালিক, মুসনাদে আহমাদ, সুনানে আবু দাউদ, নাসায়ী ও ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছে। আর আলবানী একে সহীহ বলেছেন]। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজর ও আসরের দু’ ওয়াক্ত সালাতের পৃথক মর্যাদা দিয়ে এগুলোর নাম দিয়েছেন ‘বারাদাইন’ অর্থাৎ দু’টি শীতল ওয়াক্তের সালাত। আবু মূসা আশআ’রী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‏«ﻣﻦ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﺒﺮﺩﻳﻦ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ‏» অর্থাৎ ‘‘যে ব্যক্তি শীতল ওয়াক্তের দুই সালাত (ফজর -আসর) আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’’। [বুখারী ও মুসলিম]

১২. কতিপয় সুন্নাত ও নিয়মিত সালাত আছে যেগুলো দ্বারা ফরয সালাতগুলোর কমতি পূরণ করা হয় এবং এগুলোর পুরস্কার স্বরূপ আল্লাহ আপনার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন। সুতরাং সেগুলো আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হোন, তাহলে আল্লাহ আপনাকে হেফাযত করবেন। উম্মে হাবীবা রাদি আল্লাহ আনহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন: ‘‘যে মুসলিম ব্যক্তিই ফরযের অতিরিক্ত প্রতিদিন ১২ রাকাত সুন্নাত সালাত আল্লাহর জন্য আদায় করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি ঘর নির্মাণ করবেন’’। [মুসলিম]

এ সুন্নাত সালাতগুলোর বর্ণনা এভাবে এসেছে: ‘‘যোহরের পূর্বে ৪ রাকাআত, পরে ২ রাকাআত, মাগরিবের পরে ২ রাকাআত, ইশার পর ২ রাকাআত এবং ফজরের পূর্বে ২ রাকাআত’’।

১৩. কোন ব্যক্তি যখন অযু করে, তখন তার জন্য ২ রাকাআত সালাত আদায় করা সুন্নাত। এ সালাত যখন সে নিষ্ঠার সাথে ও একাগ্রচিত্তে আল্লাহর উদ্দেশ্যে আদায় করে, তখন তার জন্য জান্নাত অপরিহার্য হয়ে যায়। উকবাহ ইবন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‏«ﻣﺎ ﻣﻦ ﺃﺣﺪ ﻳﺘﻮﺿﺄ ﻓﻴﺤﺴﻦ ﺍﻟﻮﺿﻮﺀ ﻭﻳﺼﻠﻲ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﻳﻘﺒﻞ ﺑﻘﻠﺒﻪ ﻭﻭﺟﻬﻪ ﻋﻠﻴﻬﻤﺎ ﺇﻻ ﻭﺟﺒﺖ ﻟﻪ ﺍﻟﺠﻨﺔ ‏» ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ‏) . ‘‘ যে ব্যক্তিই সুন্দর করে অযু করে উপস্থিত মন নিয়ে ও একাগ্রচিত্তে দু’ রাকাআত সালাত আদায় করবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে’’। [মুসলিম]

১৪. দ্বীন ইসলামের উত্তম দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে: সালামের প্রসার করা, খাদ্য দান করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। আর সত্যবাদীদের গুণাবলীর মধ্যে রয়েছে তারা হল রাতের নফল সালাত আদায়কারী। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ﴿ ﻛَﺎﻧُﻮﺍْ ﻗَﻠِﻴﻠٗﺎ ﻣِّﻦَ ﭐﻟَّﻴۡﻞِ ﻣَﺎ ﻳَﻬۡﺠَﻌُﻮﻥَ ١٧ ﻭَﺑِﭑﻟۡﺄَﺳۡﺤَﺎﺭِ ﻫُﻢۡ ﻳَﺴۡﺘَﻐۡﻔِﺮُﻭﻥَ ١٨ َ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺬﺍﺭﻳﺎﺕ : 18-17‏] ‘‘তারা রাতের কম অংশই নিদ্রায় মগ্ন থাকে। আর শেষ রাতে তারা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে’’। [সূরা আযযারিয়াত: ১৭-১৮]

যারা উপরোক্ত কাজগুলো করবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। আবদুল্লাহ ইবন সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‏«ﻳﺎ ﺃﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺃﻓﺸﻮﺍ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺃﻃﻌﻤﻮﺍ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻭﺻﻠﻮﺍ ﺍﻷﺭﺣﺎﻡ ﻭﺻﻠﻮﺍ ﺑﺎﻟﻠﻴﻞ ﻭﺍﻟﻨﺎﺱ ﻧﻴﺎﻡ ﺗﺪﺧﻠﻮﺍ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺑﺴﻼﻡ ‏» . ‘‘ হে মানব সকল! সালামের প্রসার কর। খাদ্য দান কর। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ। লোকেরা ঘুমিয়ে গেলে রাতে নফল সালাত আদায় কর। তাহলে শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে’’। [তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন]।

১৫. ফজরের সালাতসহ অন্যান্য সালাতের উদ্দেশ্যে মাসজিদে গমন করার কারণে আল্লাহ তা’লা আপনার জন্য জান্নাতে মেহমানদারীর ব্যবস্থা করবেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‏«ﻣﻦ ﻏﺪﺍ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺃﻭ ﺭﺍﺡ ﺃﻋﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻧﺰﻻ ﻛﻠﻤﺎ ﻏﺪﺍ ﺃﻭ ﺭﺍﺡ ‏» . ‘‘যে ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যা মাসজিদে যায়, তার জন্য আল্লাহ সকাল বিকাল যখনই সে গমন করে জান্নাতের মধ্যে মেহমানদারীর ব্যবস্থা করেন’’। [বুখারী ও মুসলিম]

১৬. সালাতের কাতারে মুসল্লীদের মাঝে যে ফাঁক দেখা যায় তা আপনি পূরণ করলে আপনার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করা হয়। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‏«ﻣﻦ ﺳﺪ ﻓﺮﺟﺔ ﻓﻲ ﺻﻒ ﺭﻓﻌﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻬﺎ ﺩﺭﺟﺔ ﻭﺑﻨﻰ ﻟﻪ ﺑﻴﺘًﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ‏» . ‘‘যে ব্যক্তি সালাতের কাতারের ফাঁকা জায়গা পূরণ করলো, এর দরূন আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন এবং তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন’’। [তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন]।

১৭. আপনি যদি মাসজিদ নির্মাণ করেন অথবা মাসজিদ নির্মাণে সহযোগিতা করেন, তাহলে আল্লাহ আপনার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। উসমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন: ‏«ﻣﻦ ﺑﻨﻰ ﻣﺴﺠﺪﺍ ﻟﻠﻪ ﺑﻨﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﺜﻠﻪ ‏» ‏(ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ‏) . ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মাসজিদ তৈরী করলো, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরী করবেন’’। [বুখারী ও মুসলিম]

১৮. দিনরাতে পাঁচবার মুয়াযযিনের আযানের জবাব দেয়া জান্নাতে প্রবেশের আরো একটি কারণ। উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘মুয়াযযিন যখন আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার (২বার) বলে, তখন তার উত্তরে কেউ যদি অনুরূপ বলে; অতঃপর মুয়াযযিন ( ﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ) বললে সে তার মতো ( ﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ) বলে। মুয়াযযিন যখন ( ﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ) বলে, সেও তাই বলে। তারপর ( ﺣﻲ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺼﻼﺓ ) বললে সে (ﻻ ﺣﻮﻝ ﻭﻻ ﻗﻮﺓ ﺇﻻ ﺑﺎﻟﻠﻪ ) বলে এবং ( ﺣﻲ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻔﻼﺡ) বললেও সে ( ﻻ ﺣﻮﻝ ﻭﻻ ﻗﻮﺓ ﺇﻻ ﺑﺎﻟﻠﻪ ) বলে। তারপর মুয়াযযিন আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার বললে সেও আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার বলে। এরপর মুয়াযযিন যখন বলে ( ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ) তখন সেও ( ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ) আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে বললে জান্নাতে প্রবেশ করবে’’। [মুসলিম]

১৯. প্রিয় পাঠক! আপনি যদি আল্লাহর আদেশ পালন ও নিষেধের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী হিসাবে মেনে নেন, তাহলে আপনার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে। আবু সাইদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘ হে আবু সাইদ! যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী হিসাবে গ্রহণ করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে’’। [মুসলিম]

২০. রোযাদারদের জন্য জান্নাতে একটি দরজা আছে যার নাম ‘রাইয়ান’, রোযাদার ছাড়া এ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। সাহল ইবন সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘জান্নাতের ভেতর ‘রাইয়ান’ নামে একটি দরজা আছে। কিয়ামতের দিন এখান দিয়ে রোযাদারগণ ঢুকবে। তারা ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশাধিকার পাবে না। বলা হবে: কোথায় রোযাদারগণ? তখন তারা সেখান দিয়ে ঢুকবে। তারা ছাড়া সেখান দিয়ে আর কেউ ঢুকবে না। তারা প্রবেশ করার পর তা বন্ধ করে দেয়া হবে। তারপর আর কেউ ঢুকতে পারবে না’’। [বুখারী ও মুসলিম]

২১. ইসলামের পঞ্চম রুকন হল আল্লাহর ঘরের হজ্জ করা। এ হজ্জের প্রতিদান হলো জান্নাত। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‏« ﺍﻟﻌﻤﺮﺓ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻌﻤﺮﺓ ﻛﻔﺎﺭﺓ ﻟﻤﺎ ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ، ﻭﺍﻟﺤﺞ ﺍﻟﻤﺒﺮﻭﺭ ﻟﻴﺲ ﻟﻪ ﺟﺰﺍﺀ ﺇﻻ ﺍﻟﺠﻨﺔ ‏» . ‘‘এক ওমরাহ থেকে আরেক ওমরাহ মধ্যবর্তী সকল গুনাহের জন্য কাফ্ফারা স্বরূপ। আর পূণ্যময় হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়’’। [বুখারী ও মুসলিম]

২২. যার মাধ্যমে আল্লাহ তা’লা দ্বীন ইসলামকে বুলন্দ এবং সুউচ্চ করেছেন তা হলো আল্লাহর পথে জিহাদ। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে জিহাদ করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর দায়িত্ব নিয়েছেন যে ব্যক্তি শুধুমাত্র আল্লাহর পথে জিহাদ করা এবং তাঁর কথাকে সত্য বলে প্রমাণিত করার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়। অথবা তাকে জিহাদের সাওয়াব ও গণীমত লাভে ধন্য করে গাজী হিসাবে ঘরে ফিরিয়ে আনেন’’। [বুখারী ও মুসলিম]

২৩. আল্লাহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর মুত্তাকী বান্দাদেরকে এ বলে আখ্যায়িত করেছেন যে, তারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে। হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান খয়রাত করে, এর দরূন তাকে জান্নাতে দেয়া হবে’’। [আহমাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন]

২৪. যে সকল মহান কাজ মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করায় তন্মধ্যে একটি হল: কোন ব্যক্তিকে অর্থ ঋণ দিয়ে তাকে তা স্বচ্ছলতার সাথে আদায় করার সুযোগ করে দেয়া। হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন: ‘‘এক ব্যক্তি মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ার পর জান্নাতে প্রবেশ করলো। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: তুমি কি আমল করেছ? উত্তরে লোকটি বললো: আমি মানুষের সাথে কেনাবেচা করতাম। বিপদগ্রস্ত দরিদ্রদেরকে ঋণ পরিশোধের সময় দিতাম এবং কিছু টাকা পয়সা মাফ করে দিতাম। ফলে আল্লাহ তাকেও মাফ করে দিয়েছেন’’। [মুসলিম]

যে সকল সহজ আমল জান্নাতে প্রবেশের কারণ ও উপায়, তন্মধ্যে রয়েছে:

১. রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক কিছু সরিয়ে দেয়া, জন্তু জানোয়ারের প্রতি করুণা করা, উত্তম চরিত্র, কথা ও কাজে সততা, ক্রোধ সংবরণ করা এবং রাগ না করা, রোগী দেখতে যাওয়া ও সেবা করা, মুসলিম ভাইদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করা, বেচাকেনার ক্ষেত্রে উদার হওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির মানদন্ডে কথা বলা।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: ‏«ﻟﻘﺪ ﺭﺃﻳﺖ ﺭﺟﻼ ﻳﺘﻘﻠﺐ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻓﻲ ﺷﺠﺮﺓ ﻗﻄﻌﻬﺎ ﻣﻦ ﻇﻬﺮ ﺍﻟﻄﺮﻳﻖ ﻛﺎﻧﺖ ﺗﺆﺫﻱ ﺍﻟﻨﺎﺱ‏» . ‘‘আমি একজন লোককে জান্নাতে এপাশ ওপাশ করতে দেখেছি রাস্তার উপর থেকে একটি গাছ কেটে ফেলার কারণে যার দরূন মানুষের চলাফেরায় কষ্ট হতো’’। [মুসলিম]

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন: ‏« ﺃﻥ ﺭﺟﻼ ﺭﺃﻯ ﻛﻠﺒﺎ ﻳﺄﻛﻞ ﺍﻟﺜﺮﻯ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﻄﺲ، ﻓﺄﺧﺬ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺧﻔﻪ ﻓﺠﻌﻞ ﻳﻐﺮﻑ ﻟﻪ ﺑﻪ ﺣﺘﻰ ﺃﺭﻭﺍﻩ، ﻓﺸﻜﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻪ ﻓﺄﺩﺧﻠﻪ ﺍﻟﺠﻨﺔ‏» . ‘‘এক ব্যক্তি একটি কুকুরকে পিপাসায় মাটি চাটতে দেখে। অতঃপর লোকটি নিজের মোজার সাহায্যে কুকুরটিকে পানি পান করালো। ফলে আল্লাহ তাকে প্রতিদান দিলেন এবং জান্নাত দান করলেন’’। [বুখারী]

আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘আমি জান্নাতের আঙ্গিনায় এমন একটি ঘরের গ্যারান্টিদাতা, যে ঘরটি ঐ ব্যক্তির জন্য হবে, হকদার হওয়া সত্ত্বেও যে ঝগড়া করে না। অনুরূপভাবে আমি জান্নাতের মাঝে ঐ ঘরেরও গ্যারান্টিদাতা, যে ঘরটি ঐ ব্যক্তির জন্য, যে ঠাট্টা করেও মিথ্যা বলে না। তদুপরি জান্নাতের উপরিভাগের ঐ ঘরেরও আমি জামিনদার, যে ঘরটি হবে উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তির জন্য’’। [আবু দাউদ এ হাদীস রেওয়ায়েত করেছেন এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন]

আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‏« ﺇﻥ ﺍﻟﺼﺪﻕ ﻳﻬﺪﻱ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺒﺮ ﻭﺇﻥ ﺍﻟﺒﺮ ﻳﻬﺪﻱ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺠﻨﺔ، ﻭﺇﻥ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻟﻴﺼﺪﻕ ﺣﺘﻰ ﻳﻜﻮﻥ ﺻﺪﻳﻘﺎ، ﻭﺇﻥ ﺍﻟﻜﺬﺏ ﻳﻬﺪﻱ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻔﺠﻮﺭ، ﻭﺇﻥ ﺍﻟﻔﺠﻮﺭ ﻳﻬﺪﻱ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻨﺎﺭ، ﻭﺇﻥ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻟﻴﻜﺬﺏ ﺣﺘﻰ ﻳﻜﺘﺐ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻛﺬﺍﺑﺎ ‏» . ‘‘নিঃসন্দেহে সততা পূণ্যের দিকে পথ দেখায়। আর পূণ্য জান্নাতের দিশা দেয়। একজন ব্যক্তি সত্য বলতে বলতে সত্যবাদী হয়ে যায়। পক্ষান্তরে মিথ্যা কথা খারাপ ও গুনাহের দিকে ঠেলে দেয়। আর গুনাহ ও পাপ দোযখের দিকে নিয়ে যায়। একজন ব্যক্তি মিথ্যা বলতে থাকে। এভাবে সে আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদী বলে লিখিত হয়ে যায়’’। [বুখারী ও মুসলিম]

আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন: ‏« ﺩُﻟَّﻨِﻲ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻤَﻞٍ ﻳُﺪْﺧِﻠُﻨِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ، ﻗَﺎﻝَ ”: ﻻ ﺗَﻐْﻀَﺐْ، ﻭَﻟَﻚَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔ ‏» ‘‘আমাকে এমন একটি আমল শিক্ষা দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ক্রোধান্বিত হয়ো না, তাহলে জান্নাতে যাবে।’’ [তাবারানী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী সহীহ বলেছেন]

সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‏«ﻣَﻦْ ﻋَﺎﺩَ ﻣَﺮِﻳﻀًﺎ ﻟَﻢْ ﻳَﺰَﻝْ ﻓِﻰ ﺧُﺮْﻓَﺔِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺮْﺟِﻊَ ‏» ‘‘যে ব্যক্তি কোন রুগীকে দেখতে গেল, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত জান্নাতের ফল কুড়ানো অবস্থায় থাকে’’। [মুসলিম]

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‏«ﻣَﻦْ ﻋَﺎﺩَ ﻣَﺮِﻳﻀًﺎ ﺃَﻭْ ﺯَﺍﺭَ ﺃَﺧًﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﻠﻪِ ، ﻧَﺎﺩَﻯ ﻣُﻨَﺎﺩٍ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ : ﻃِﺒْﺖَ ، ﻭَﻃَﺎﺏَ ﻣَﻤْﺸَﺎﻙَ ، ﻭَﺗَﺒَﻮَّﺃْﺕَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻣَﻨْﺰِﻻً ‏» ‘‘যে ব্যক্তি কোন রুগীকে দেখতে গেল অথবা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোন ভাইকে দেখতে গেল, তখন একজন আহবানকারী তাকে ডেকে বলে: তোমার ও তোমার চলার পথ কল্যাণময় হোক, সুন্দর হোক। তুমি জান্নাতে তোমার বাসস্থান করে নিয়েছ’’। [ইবনে মাজাহ, তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী অন্যান্য হাদীসের সমর্থনে একে সহীহ বলেছেন]

উসমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‏«ﺃﺩﺧﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭ ﺟﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺭﺟﻼ ﻛﺎﻥ ﺳﻬﻼ ﻣﺸﺘﺮﻳﺎ ﻭﺑﺎﺋﻌﺎ ﻭﻗﺎﺿﻴﺎ ﻭﻣﻘﺘﻀﻴﺎ ‏» ‘‘আল্লাহ তা’লা এমন এক ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যে বেচাকেনায়, বিচার ফয়সালা করায় এবং বিচার চাওয়ায় সরলতা অবলম্বন করেছে’’। [ইমাম আহমাদ ও নাসায়ী হাদীসটি রেওয়ায়েত করেছেন এবং আলবানী একে উত্তম বলেছেন। আর আহমাদ শাকির এর সনদকে সহীহ বলেছেন]

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘যে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টির মানদন্ডে কথা বলে, এ ব্যাপারে কোন ভ্রূক্ষেপ করে না। একথার দরূন আল্লাহ তার মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। অন্যদিকে যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক কথা বলে অথচ এ ব্যাপারে ভ্রূক্ষেপও করে না, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন’’। [বুখারী]

২. জান্নাতের মধ্যে মুসলিম ব্যক্তির সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও সুন্দর স্থান হলো যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথী হবে। আর কন্যাদের সঠিক শিক্ষাদান ও লালন পালন করা এবং ইয়াতীমের দায়িত্ব গ্রহণ করা জান্নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সান্নিধ্য পাওয়া ও তাঁর প্রতিবেশী হওয়ার সুনিশ্চিত কারণ। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‏«ﻣﻦ ﻋﺎﻝ ﺟﺎﺭﻳﺘﻴﻦ ﺣﺘﻰ ﺗﺒﻠﻐﺎ ﺟﺎﺀ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﺃﻧﺎ ﻭﻫﻮ، ﻭﺿﻢ ﺃﺻﺎﺑﻌﻪ ‏» . ‘‘ যে ব্যক্তি দু’ কন্যাকে সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত লালন পালন করে, কিয়ামতের দিন আমি ও সে একত্রে থাকব’’ , এই বলে তিনি তাঁর দু’ আঙ্গুলকে একত্র করে দেখালেন। [মুসলিম]

সহল ইবন সা’দ থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‏«ﺃَﻧَﺎ ﻭَﻛَﺎﻓِﻞُ ﺍﻟْﻴَﺘِﻴﻢِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻫَﻜَﺬَﺍ ﻭَﺃَﺷَﺎﺭَ ﺑِﺎﻟﺴَّﺒَّﺎﺑَﺔِ ﻭَﺍﻟْﻮُﺳْﻄَﻰ ﻭَﻓَﺮَّﺝَ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻤَﺎ ﺷَﻴْﺌًﺎ ‏» ‘‘আমি এবং ইয়াতিমের অভিভাবক জান্নাতে এভাবে থাকব’’। এ কথা বলে তিনি শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুল দু’টোকে একত্রে মিলিয়ে দু’টোর মাঝে একটু ফাঁক রাখলেন’’। [বুখারী]

৩. পিতামাতা উভয়ের প্রতি অথবা যে কোন একজনের প্রতি সদ্ব্যবহার করাও জান্নাতে যাওয়ার উপায়। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: ‏« ﺭَﻏِﻢَ ﺃَﻧْﻒُ ﺛُﻢَّ ﺭَﻏِﻢَ ﺃَﻧْﻒُ ﺛُﻢَّ ﺭَﻏِﻢَ ﺃَﻧْﻒُ . ﻗِﻴﻞَ ﻣَﻦْ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﺃَﺩْﺭَﻙَ ﺃَﺑَﻮَﻳْﻪِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﻜِﺒَﺮِ ﺃَﺣَﺪَﻫُﻤَﺎ ﺃَﻭْ ﻛِﻠَﻴْﻬِﻤَﺎ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺪْﺧُﻞِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ‏» ‘‘ঐ ব্যক্তির নাক ধুলো মলিন হোক (৩ বার) অর্থাৎ সে ধ্বংস হোক। প্রশ্ন করা হলো: হে আললাহর রাসূল! কোন ব্যক্তির? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সা

ল্লাম) জবাব দিলেন: ‘‘যে ব্যক্তি পিতামাতাকে অথবা তাদের যে কোন একজনকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেল, তারপরও জান্নাতে যেতে পারলো না’’। [মুসলিম]

আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: ‘‘পিতা হলো জান্নাতের মাঝের দরজা। তুমি চাইলে এ দরজার হেফাযত করতে পার অথবা হারাতে পার’’। [তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন]

জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তার মা আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলো। লোকটি বললো: জী, আমার মা আছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘তুমি সার্বক্ষণিক তার দেখাশুনা কর, কেননা তার পায়ের নিকটেই জান্নাত রয়েছে’’। [আহমাদ, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ এ হাদীস রেওয়ায়েত করেছেন এবং আলবানী একে উত্তম ও সহীহ বলেছেন]

৪. মানুষের সবচেয়ে বড় কাজ হল তার জিহবা ও লজ্জাস্থানের হেফাযত করা। সুতরাং যে ব্যক্তি এ দু’টো হেফাযতের দায়িত্ব নিবে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জান্নাতের ব্যাপারে দায়িত্ব নিবেন। সহল ইবন সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‏«ﻣﻦ ﻳﻀﻤﻦ ﻟﻲ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﻟﺤﻴﻴﻪ ﻭﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺭﺟﻠﻴﻪ ﺃﺿﻤﻦ ﻟﻪ ﺍﻟﺠﻨﺔ ‏» . ‘‘যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহবা) এবং দু’ পায়ের মধ্যখানের (লজ্জাস্থান) হেফাযতের গ্যারান্টি দিবে, আমি তার জান্নাতের ব্যাপারে গ্যারান্টি দেব’’। [বুখারী]

৫. মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাক্ষীস্বরূপ। সুতরাং মানুষ যার পক্ষে ভাল সাক্ষ্য দেয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা একটি লাশের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তার ভাল প্রশংসা করা হল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘‘ওয়াজিব হলো, ওয়াজিব হলো, ওয়াজিব হলো’’। অনুরূপভাবে আরো একটি লাশের পাশ দিয়ে অতিক্রম করা হল। এটি সম্পর্কে খারাপ বর্ণনা করা হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন, ‘‘ওয়াজিব হলো’’ (৩ বার)। এরপর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন: ‘‘তোমরা যার ভাল প্রশংসা কর, তার জন্য জান্নাত অপরিহার্য হয়ে যায়। আর তোমরা যার খারাপ বর্ণনা কর, তার জন্য জাহান্নাম অপরিহার্য হয়ে যায়। তোমরা পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী’’ (৩ বার বললেন)। [বুখারী ও মুসলিম]

৬. আল্লাহ তা’লা এরশাদ করেন: ﴿ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻳُﻮَﻓَّﻰ ﭐﻟﺼَّٰﺒِﺮُﻭﻥَ ﺃَﺟۡﺮَﻫُﻢ ﺑِﻐَﻴۡﺮِ ﺣِﺴَﺎﺏٖ ١٠﴾ ‏[ ﺍﻟﺰﻣﺮ 10:‏] ‘‘নিশ্চয় সবরকারীগণকে বেহিসাবী প্রতিদান দেয়া হয়’’। [সূরা আযযুমার: ১০] তাই সবর হলো আল্লাহর প্রতি বান্দার ঈমান এবং তাঁর নৈকট্যের আলামতসমূহের একটি আলামত। সুতরাং যে ব্যক্তি তার প্রিয়জন যথা: সন্তান, ভাই-বেরাদার ইত্যাদির মৃত্যুতে ধৈর্য্য ধারণ করে, সে জান্নাতী। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‏«ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻣَﺎ ﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦِ ﻋِﻨْﺪِﻱ ﺟَﺰَﺍﺀٌ ﺇِﺫَﺍ ﻗَﺒَﻀْﺖُ ﺻَﻔِﻴَّﻪُ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﺛُﻢَّ ﺍﺣْﺘَﺴَﺒَﻪُ ﺇِﻻَّ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔ ‏» ‘‘আল্লাহ তা’লা বলেন, আমার মু’মিন বান্দার নিকট থেকে যখন তার অতি প্রিয়জনের জান কবয করা হয়, আর সে আল্লাহর নিকট সাওয়াবের আশা করে ধৈর্য্যধারণ করে, তার প্রতিদান আমার নিকট জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়’’। [বুখারী]

আবু মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘যখন কোন বান্দার সন্তান মারা যায়, তখন আল্লাহ তাঁর ফেরেস্তাদের জিজ্ঞাসা করেন: তোমরা কি আমার বান্দার সন্তানের জান কবজ করেছো? তারা বলেন, হ্যাঁ। আল্লাহ বলেন, তোমরা কি তার কলিজার টুকরার জান কবজ করেছো? তারা বলেন, হ্যাঁ। আল্লাহ আবার বলেন, আমার বান্দা কি বললো? ফেরেস্তারা জবাব দেন, সে আল্লাহর প্রশংসা করেছে এবং বলেছে: ( ﺇﻧﺎ ﻟﻠﻪ ﻭﺇﻧﺎ ﺇﻟﻴﻪ ﺭﺍﺟﻌﻮﻥ ) ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহর দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে’। আল্লাহ তখন বলেন: তোমরা আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ কর এবং এ ঘরটির নাম দাও ‘বায়তুল হামদ’ বা প্রশংসার ঘর’’। [তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী উত্তম বলেছেন]

৭. যে ব্যক্তি অন্ধ হয়েও ধৈর্য্যধারণ করে সে জান্নাতে যাবে। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: ‘‘আল্লাহ তা’লা বলেন, ‘আমার বান্দাকে তার দু’টি প্রিয় বস্তু (অর্থাৎ চোখ) কেড়ে নিয়ে পরীক্ষা করি। অতঃপর সে ধৈর্য্যধারণ করে। আমি এ দু’টোর পরিবর্তে তাকে জান্নাত দান করি’’। [বুখারী]

৮. যে মুসলিম নারী সৎ কাজে তার স্বামীর আনুগত্য করে এবং আল্লাহর হুকুম আহকাম পালন করে, সে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘‘যদি কোন মহিলা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, রমযানের রোযা পালন করে, লজ্জাস্থানের হেফাযত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে, সে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে’’। [ইবনু হিববান এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন]

৯. মুসলিম মহিলা প্রসবের সময় মারা গেলে তার সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সাথে সাথে তার প্রসব বেদনা তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। রাশেদ ইবন হুবাইশ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘‘আল্লাহর পথে নিহত ব্যক্তি শহীদ, প্লেগরোগে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহীদ, ডুবে মরে যাওয়া ব্যক্তি শহীদ, পেটের পীড়ায় মারা যাওয়া ব্যক্তি শহীদ, আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহীদ, অসুস্থ অবস্থায় মৃত ব্যক্তি শহীদ এবং সন্তান প্রসবের পর নেফাস অবস্থায় মৃত মহিলা, তার সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার কারণে সে জান্নাতে চলে যায়’’। [আহমাদ হাদীসটি বর্ননা করেছেন, আলবানী একে উত্তম বলেছেন]

১০. যে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বিরত থাকলো আল্লাহর রাসূল তাকে জান্নাতে নেয়ার জামিন হলো। সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‏«ﻣﻦ ﺗﻜﻔﻞ ﻟﻲ ﺃﻥ ﻻ ﻳﺴﺄﻝ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺷﻴﺌﺎ ﺃﺗﻜﻔﻞ ﻟﻪ ﺑﺎﻟﺠﻨﺔ ‏» . ‘‘যে ব্যক্তি মানুষের নিকট হাত না পাতার দায়িত্ব নিবে, আমি তাকে জান্নাতে নেয়ার দায়িত্ব নেব’’। [আহমাদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ ও আবু দাউদ হাদীসটি রেওয়ায়েত করেছেন এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন]

১১. যে ব্যক্তি নিজের সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সেও জান্নাতী। আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‏«ﻣﻦ ﻗﺘﻞ ﺩﻭﻥ ﻣﺎﻟﻪ ﻣﻈﻠﻮﻣﺎ ﻓﻠﻪ ﺍﻟﺠﻨﺔ ‏» . ‘‘যে ব্যক্তি সম্পদ রক্ষার নিমিত্তে নিপীড়িত হয়ে মারা যায়, তার জন্য রয়েছে জান্নাত’’। [নাসায়ী এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী সহীহ বলেছেন]

১২. প্রিয় পাঠক! আপনার জন্য রয়েছে জান্নাত, যদি আপনি সালাম প্রচার করেন, অন্যকে খাদ্য দান করেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং রাতের বেলা মানুষ ঘুমিয়ে গেলে সালাত আদায় করেন। আবদুল্লাহ ইবন সালাম থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘হে মানব সকল! তোমরা সালামের প্রসার কর, খাদ্য প্রদান কর, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ এবং মানুষ ঘুমিয়ে গেলে রাতের সালাত আদায় কর। তাহলে নিরাপদে জান্নাতে যেতে পারবে’’। [তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ ও হাকেম হাদীসটি রেওয়ায়েত করেছেন এবং আলবানী সহীহ বলেছেন] শুরাইহ ইবন হানী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: ‘‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন বিষয়ে অবহিত করুন যা আমার জান্নাতে যাওয়াকে নিশ্চিত করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন:তুমি সর্বদা উত্তম কথা বলবে এবং খাদ্য দান করবে’’। [বুখারী আদাবুল মুফরাদে এবং হাকেম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী সহীহ বলেছেন]

১৩. যে ব্যক্তি অহংকার, ঋণ ও যুদ্ধে লব্ধ গণীমতের মালের খেয়ানত থেকে মুক্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে যাবে। সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি অহংকার, গণীমতের সম্পদে খেয়ানত করা এবং ঋণ থেকে মুক্ত অবস্থায় মারা গেল, সে জান্নাতে প্রবেশ করলো’’। [তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ এটি রেওয়ায়েত করেছেন এবং আলবানী সহীহ বলেছেন]

১৪. আল্লাহর কিতাব ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতকে অবলম্বন করে যারা মুসলিম জামায়াতকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে থাকবে, তারা জান্নাতের মধ্যবর্তী স্থানে প্রবেশ করবে। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘তোমাদের জন্য ইসলামী জামায়াতকে আঁকড়ে ধরা অপরিহার্য। আর বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে বেঁচে থাক। কেননা একা একা থাকলে শয়তান তার সঙ্গী হয়। আর জামায়াতবদ্ধ দু’ ব্যক্তি থেকে শয়তান অনেক দূরে অবস্থান করে। যে ব্যক্তি জান্নাতের মধ্যবর্তী স্থান পাওয়ার আশা করে, সে যেন অবশ্যই ইসলামী জামায়াতকে আঁকড়ে ধরে’’। [তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী সহীহ বলেছেন]

১৫. ন্যায়পরায়ণ শাসক, কোমল হৃদয়ের অধিকারী দয়ালু ব্যক্তি এবং চরিত্রবান ও সুরুচিপূর্ণ পরিবার প্রধান জান্নাতবাসীদের অন্তর্গত। ইয়ায ইবন হিমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘‘তিনশ্রেণীর লোকেরা জান্নাতবাসী হবে। এক: ন্যায়পরায়ণ, দাতা ও আল্লাহর তাওফীকপ্রাপ্ত শাসক, দুই: দয়ালু ব্যক্তি যার অন্তর প্রতিটি আত্মীয় ও মুসলিমের জন্য কোমল, এবং তিন: সুরুচিপূর্ণ চরিত্রবান পরিবার প্রধান’’। [মুসলিম]

১৬. যে বিচারক ন্যায় ও ইনসাফের সাথে মানুষের বিচার ফয়সালা করে, সে জান্নাতী। বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: ‘‘বিচারকগণ তিন প্রকার। দুই শ্রেণীর বিচারক হবে জাহান্নামী আর এক শ্রেণীর বিচারক হবে জান্নাতী। যে ব্যক্তি সত্য জেনে সে অনুযায়ী ফয়সালা করলো, সে জান্নাতী। অন্য দিকে যে ব্যক্তি না জেনে মূর্খতাবশতঃ ফয়সালা দেয়, সে জাহান্নামী। আর যে ব্যক্তি সত্য জানার পরও যুল্ম করলো, সে জাহান্নামী’’। [আবু দাউদ, তিরমিযী,নাসায়ী, ইবনে মাজাহ ও হাকেম হাদীসটি রেওয়ায়েত করেছেন এবং আলবানী সহীহ বলেছেন]

১৭. সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা হল যারা কারো নিকট ঝাড়ফুঁক চায়নি, পাখি দ্বারা ভাগ্য নির্ণয় করেনি এবং কারো নিকট বিশেষ চিকিৎসা চায়নি। ইমরান ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘আমার উম্মাতের মধ্যে ৭০ হাজার হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তারা হলো যারা কারো নিকট ঝাড়ফুঁক চায়না, পাখির সাহায্যে ভাগ্য নির্ধারণ করে না, কারো নিকট বিশেষ চিকিৎসার জন্য যায় না। বস্তুতঃ তারা তাদের প্রতিপালকের উপর ভরসা করে’’। [বোখারী ও মুসলিম] লক্ষ্যণীয় যে, শরীয়তসম্মত ঝাড়ফুঁক এবং বিশেষ চিকিৎসা করা শরীয়তে নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ ভরসা করা উত্তম।

১৮. কতগুলো গুণ ও বৈশিষ্ট্য কোন মুসলিম ব্যক্তির মধ্যে অর্জিত হলে এগুলোর কারণে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভূক্ত হবে। উবাদাহ ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘তোমরা তোমাদের নিজেদের মধ্যে ৬টি গুণ অর্জনের জামিন হও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের জামিন হবো। এক: কথা বলার সময় সত্য বলবে, দুই: ওয়াদা করে তা পূরণ করবে, তিন: তোমাদের নিকট আমানাত রাখা হলে সে আমানাত আদায় করবে, চার: লজ্জাস্থানের হেফাযত করবে, পাঁচ: দৃষ্টিকে সংযত রাখবে, ছয়: তোমদের হাতকে অন্যায় করা থেকে বিরত রাখবে’’। [আহমাদ, ইবনু হিববান ও হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী সহীহ বলেছেন]

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘‘তোমাদের মধ্যে আজ কে রোযা রেখেছো? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তোমাদের মধ্যে আজ কে জানাযার অনুসরণ করেছো? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তোমাদের কে আজ মিসকীনকে খাদ্য দান করেছো? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় বললেন: তোমাদের মধ্যে কে আজ রুগীর সেবা করেছো? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি। অতঃপর রাসূল সাল্ল­ ল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: উপরোক্ত গুণাবলী যে ব্যক্তির মধ্যে একত্রিত হবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে’’। [বুখারী ও মুসলিম]

প্রিয় পাঠক! পরিশেষে আপনাকে তাওবার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। বস্তুতঃ গুনাহ থেকে তাওবাকারী নিষ্পাপ, যার কোন গুনাহ নেই। আল্লাহর নিকট খাঁটি তাওবাকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে। মহান আল্লাহ তা’লা বলেন: ﴿ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﺗُﻮﺑُﻮٓﺍْ ﺇِﻟَﻰ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺗَﻮۡﺑَﺔٗ ﻧَّﺼُﻮﺣًﺎ ﻋَﺴَﻰٰ ﺭَﺑُّﻜُﻢۡ ﺃَﻥ ﻳُﻜَﻔِّﺮَ ﻋَﻨﻜُﻢۡ ﺳَﻴَِّٔﺎﺗِﻜُﻢۡ ﻭَﻳُﺪۡﺧِﻠَﻜُﻢۡ ﺟَﻨَّٰﺖٖ ﺗَﺠۡﺮِﻱ ﻣِﻦ ﺗَﺤۡﺘِﻬَﺎ ﭐﻟۡﺄَﻧۡﻬَٰﺮُ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺘﺤﺮﻳﻢ 8: ‏] ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট নিষ্ঠাপূর্ণ খাঁটি তাওবা কর। আশা করা যায় তোমাদের প্রতিপালক তোমদের সকল ত্রুটি বিচ্যুতি মিটিয়ে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত’’। [সূরা আত তাহরীম: ৮]

প্রিয় পাঠক! আপনি আপনার নিজের ভেতরে ঈমানে পরিপূর্ণ একটি মন আর আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের আকাংখায় ভরপুর একটি আত্মার অধিকারী। আপনার সুখ ও আনন্দ হলো – নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে আপনি নবী, সত্যবাদী শহীদ এবং সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণের সঙ্গী হতে চান, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন। বস্তুতঃ জান্নাত প্রস্তুত ও নিকটবর্তী। দয়ালু ও করুণাময় আল্লাহই এর দিকে আহবান করছেন। আপনার প্রিয় নবী মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে আপনাকে ডাকছেন – ‘হে মু’মিন! আস, জান্নাতবাসী হও’। অতএব জান্নাত আপনার জন্য দুনিয়ার জীবনে, মৃত্যুর সময় এবং হিসাব- নিকাশের সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ। মহান আল্লাহ আপনাকে জান্নাতের ফল এবং এর অসংখ্য নেয়ামত দ্রুত অর্জনের জন্য আদেশ করছেন। আর আল্লাহ ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। মহান প্রতিপালক জান্নাতের অতি সুন্দর ও উত্তম বর্ণনা দিয়েছেন এবং একে মানুষের কল্পনাতীত বস্তু দিয়ে সুসজ্জিত করেছেন। যাতে আপনি সেখানে চিরস্থায়ী সুখ ও ভোগের সাথে জীবন যাপন করতে পারেন। সুতরাং আপনি জান্নাতে প্রবেশের জন্য অগ্রসর হোন। আপনার প্রতি আল্লাহ তা’লার ভালবাসা ও খুশীর বহিঃপ্রকাশ এটাই। এসব কিছুই প্রতিফলিত হবে স্বল্প আমল করার মাধ্যমে, যে আমল করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ আমলগুলো করার পর আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত আপনার জন্য প্রশস্ত হবে। সুতরাং আসুন এবং এ দিকে অগ্রসর হোন। মহান আল্লাহর ঘোষণা: ﴿ﻭَﺳَﺎﺭِﻋُﻮٓﺍْ ﺇِﻟَﻰٰ ﻣَﻐۡﻔِﺮَﺓٖ ﻣِّﻦ ﺭَّﺑِّﻜُﻢۡ ﻭَﺟَﻨَّﺔٍ ﻋَﺮۡﺿُﻬَﺎ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕُ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽُ ﺃُﻋِﺪَّﺕۡ ﻟِﻠۡﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ١٣٣ ﴾ ‏[ ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ 133:‏] ‘‘তোমার রবের মাগফিরাত এবং ঐ জান্নাতের দিকে ধাবিত হও যার প্রশস্ততা আসমানসমূহ ও যমীনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য তৈরী করা হয়েছে’’। [সূরা আল ইমরান: ১৩৩]

বন্ধুগণ! মুত্তাকীরাই হলো আল্লাহর অলী ও বন্ধু। তারাই দুনিয়া ও আখিরাতের সুসংবাদের হকদার। তাদের আমলই গ্রহণযোগ্য। তারাই জান্নাতে আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন। আর মুত্তাকীগণ এ তত্ত্বগুলো ভাল করেই জানে। কেননা তারা আল্লাহ তা’লার একত্ববাদে বিশ্বাসী। তাঁর সাথে কোন কিছুকে তারা শরীক করেনি। তারা আল্লাহ সুবহানাহু ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথার উপর অন্য কারো কথাকে প্রধান্য দেয় না। তারা সকল আমলকে কুরআন কারীম ও সহীহ হাদীস থেকে গ্রহণ করে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বাদ দিয়ে তারা কোন অলী, শায়খ কিংবা আলেম উলামার কথাকে গুরুত্ব দেয় না। অহী থেকে প্রাপ্ত কুরআন ও সুন্নাহই হলো সত্য – এটা গ্রহণ করাই তাদের স্বভাব। এছাড়া অন্য কিছুকে তারা মানে না। মুত্তাকীগণ আল্লাহর মর্যাদার হকদার। কেননা তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠার সাথে সকল কাজ সম্পন্ন করে। এর দ্বারা মানুষের কোন প্রশংসা, স্তুতি ও কৃতজ্ঞতা পাওয়ার আশা তারা করে না। বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন মুক্তিই তাদের লক্ষ্য। মুত্তাকীরাই জান্নাতী। কেননা তারা সরল সঠিক মনের অধিকারী। তাদের পাকস্থলীতে হালাল খাদ্য রয়েছে। তাছাড়াও তারা সর্বদা তাদের মাওলা ও মনিবের নিকট তাদের আমলগুলো কবুল হওয়ার জন্য কাতরভাবে দো‘আ করে। মুত্তাকীগণই তাদের রবের জান্নাত, তাঁর সন্তুষ্টি, সম্মান ও মর্যাদা লাভে ধন্য হবে। তাদেরকেই ফেরেস্তাগণ জান্নাতের দিকে দলে দলে নিয়ে যাবে। ফেরেস্তাগণ তাদেরকে স্বাগতম জানাবে, সালাম বলবে। তাদের প্রতিপালক তাদের আনন্দ ও স্বচ্ছন্দের জন্য তাদের উদ্দেশ্যে সাক্ষাৎ দেবেন। বন্ধুগণ! এ হলো জান্নাত। উপরোক্ত আমলগুলো হলো জান্নাতীদের আমল। সুতরাং উক্ত আমলগুলো করুন এবং জান্নাতের খোশখবরী গ্রহণ করুন। আর নিরাশ হবেন না। কেননা আল্লাহর রহমত নেককারদের অতি নিকটে।

জেনে নিন, নাপাক শরীর-কাপড় ও বিভিন্ন বস্তু পবিত্র করবেন কীভাবে?

শরীরে নাজাসাতে হাকীকী (বড় নাপাকি) লাগলে তিনবার ধুয়ে দিলেই ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে পবিত্র হয়ে যায়। শরীরে নাপাক তেল অথবা অন্য কোনো তৈলাক্ত কিছু মালিশ করা হলে, শুধু তিনবার ধুয়ে ফেললেই শরীর পবিত্র হয়ে যাবে। তৈলাক্ততা দূর করা অবশ্যক নয়। যদি নাপাক রক্তে শরীর বা চুল রাঙানো হয়, তাহলে এতটুকু ধুয়ে ফেললে যথেষ্ট হবে যাতে পরিষ্কার পানি বের হয়। রঙ তুলে ফেলার দরকার নেই। [তাফসিরে বায়যাবি, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৯]

মোজা, জুতা অথবা চামড়ার তৈরী অন্যান্য জিনিস যদি নাপাক হয়ে যায় আর নাপাকি জমাটবাঁধা ঘন হয় (যেমন গোবর, পায়খানা, রক্ত, বীর্য প্রভৃতি) তাহরে নাপাকি ঘষে তুললে পবিত্র হয়ে যাবে। আর নাপাকি যদি তরল হয় এবং শুকিয়ে যায় দেখা না যায়, তাহলে না ধোয়া পর্যন্ত পবিত্র হবে না। ধৌত করার নিয়ম এই যে, প্রত্যেক বার ধোয়ার পর এতটা বিলম্ব করতে হবে যেন পানি টপকানো বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে তিনবার ধুতে হবে। [ফতওয়ায়ে আলমগিরি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৪; হিদায়া, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭২]
কাপড়ে নাপাকি লাগলে তিনবার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং প্রত্যেকবার ভালো করে চাপ দিয়ে নিংড়াতে হবে। ভালো করে নিংড়িয়ে ধোয়ার পরও যদি দুর্গন্ধ থেকে যায় কিংবা দাগ থাকে তাতে কোনো দোষ নেই। এতেই কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। নাপাকি যদি এমন জিনিসে লাগে যা নিংড়ানো যায় না (যেমন খাট, পালং, মাদুর, পাটি, চাটাই, মাটির পাত্র, কলস, বাসন, চীনা মাটির বরতন, পেয়ালা, বোতল ইত্যাদি) তবে তা পবিত্র করা নিয়ম হলো, একবার ধুয়ে এমনভাবে রাখতে হবে যেন সমস্ত পানি ঝরে যায়। পানি ঝরা বন্ধ হলে আবার ধুবে। এরূপ তিনবার ধুয়ে নিলে পবিত্র হয়ে যাবে। [বেহেশতি জিওর, উর্দূ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৭]

দুই পাল্লা বিশিষ্ট কাপড়ের এক পাল্লা যদি পবিত্র ও অপর পাল্লা অপবিত্র হয়, আর ঐ পবিত্র পাল্লার উপর নামাজ আদায় করলে নামাজ আদায় করা জায়িজ হবে। [বেহেশতি জিওর, উর্দূ, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৮০]

অপবিত্র মাটি শুকিয়ে গেলেই তা পবিত্র হয়ে যাবে। এমন মাটিতে নামাজ আদায় করা যাবে, তবে তা দিয়ে তায়াম্মুম করা জায়িজ হবে না। [ফতওয়ায়ে আলমগিরি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৪; হিদায়া, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৪]

মাটি থেকে উদগত ধান, শস্য গাছের চারা নাপাক হওয়ার পর তা শুকিয়ে গেলে তা পবিত্র হয়ে যায়। চুনসুরকী বা সিমেন্ট, বালি দিয়ে গাঁথা ইট নাপাক হলে তা শুকিয়ে গেলে পবিত্র হয়ে যাবে। [ফতওয়ায়ে আলমগিরি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৪] আর গাঁধুনি ছাড়া বিছানো আলগা ইট নাপাক হলে তা ধুয়ে পবিত্র করতে হবে।

নাপাক মাটি দ্বারা হাঁড়ি পাতিল বানালে কাঁচা থাকা পর্যন্ত নাপাক থাকবে তবে আগুনে পোড়াবার সাথে সাথে তা পবিত্র হয়ে যাবে। [ফতওয়ায়ে আলমগিরি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৪]
যে জমিন গোবর দ্বারা লেপা হয় তা নাপাক। তার উপর পবিত্র বিছানা না বিছালে নামাজ হবে না। তবে লেপা গোবর ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে তার উপর এমনকি ভিজা কাপড় বিছিয়ে নামাজ আদায় করাও জায়িজ। অবশ্য কাপড় যদি এত বেশি ভিজা হয় যে এতে গোবর লেগে যাবার সম্ভাবনা থাকে তাহলে নামাজ হবে না। [বেহেশতি জিওর, উর্দূ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৮৯]

জেনে নিন, শয়তানের ধোঁকায় কত রাকাত নামাজ পড়া হল তা ভুলে গেলে কি করবেন?

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ)থেকে বর্ণিত,,
তিনি বলেন, নবী করিম (সাঃ)বলেছেন,,
যখন নামাজের আহবান জানানো হয়
(অর্থাৎ আযান দেয়া হয়)তখন শয়তান পৃষ্ঠ
প্রদর্শন করে এমনভাবে পালাতে থাকে যে,
তাতে তার বায়ু নিঃসরনের আওয়াজ হতে থাকে ।
যাতে সে আযানের শব্দ শুনতে না পায়।
আযান শেষ হলে সে ফিরে আসে।
আবার যখন একামত বলা হয় তখনও সে
পালিয়ে যায়।
আর একামত শেষ হলে সে ফিরে এসে (নামাজরত)মানুষের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি
করতে থাকে।
যা সাধারণতঃ স্বরন হওয়ার বিষয় নয়।
সে সম্পর্কে সে বলে,অমুক অমুক বিষয়ে স্বরন কর। শেষ পর্যন্ত লোকটি এমন হয়ে যায় যে,,
সে কত রাকাআত নামাজ পড়েছে তা আর স্বরণ করতে পারে না।তোমাদের কেউ এরূপ অবস্থার সম্মুখীন হলে বসেই দু’টি (সোহু) সিজদা করে নিবে।
(সহীহ বুখারী হাদীস ১১৫১)

নায়ক ইমরান হাশমি, তাই ছবি করবেন না নুসরাত ফারিয়া

নায়ক ইমরান হাশমি, তাই ছবি করবেন না নুসরাত ফারিয়া

বাংলাদেশের প্রথম অভিনেত্রী হিসেবে বলিউড অভিষেক নিয়ে বেশ উচ্চসিত ছিলেন নুসরাত ফারিয়া। ছবির নাম কমবেশি সব সিনেমাপ্রেমীদের মুখস্থ হয়ে গেছে ‘গাওয়াহ-দ্য উইটনেস’।

নায়ক ইমরান হাশমি। দীর্ঘ সময় পর নুসরাত ফারিয়া জানিয়েছেন, ছবিটি তিনি করছেন না। কারণ ইমরান হাশমির সঙ্গে জুটি হয়ে তিনি সমালোচিত হতে চান না।

বলিউডে ছবিতে নুসরাত ফারিয়ার কাজ করা নিয়ে অনেক গুঞ্জন উঠেছিল। অনেকে এও বলেছিলেন, আলোচনায় আসতেই ভুয়া গল্প ফেঁদেছেন নায়িকা। সেসব নুসরাত ফারিয়া এখনো স্বীকার করতে রাজি নন। জানিয়েছেন আগামী জানুয়ারিতে ছবিটির শ্যুটিং শুরু হচ্ছে। তবে গত ঈদের আগেই ছবিটি করবেন বলে নির্মাতাদের জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।  

নুসরাত এখন ভারতীয় অভিনেতা জিতের সঙ্গে নতুন ছবির শ্যুটিং শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ছবির নাম ‘ইন্সপেক্টর নটি.কে’। এটা নুসরাত-জিৎ জুটির তৃতীয় ছবি। এর আগে ‘বাদশা : দ্য ডন’ ও ‘বস টু’ ছবিতে দেখা গেছে তাদের।  

জেনে নিন | জান্নাতে আল্লাহ যাদের মেহমানদারি করবেন

জান্নাতে আল্লাহ যাদের মেহমানদারি করবেন

আল্লাহ তাআলার সঙ্গে বান্দার মধুর সম্পর্ক তৈরি হয় নামাজের মাধ্যমে। এ কারণেই নামাজকে মুমিনের মেরাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর নামাজে পরিপূর্ণ এতমিনান তথা প্রশান্তি লাভ হয় মসজিদে জামাআতে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে।

ব্যস্ততম সময় সন্ধ্যা এবং আরামের সময় সকালে জামাআতে নামাজ আদায় করা সবার জন্যই কষ্টকর। এ কষ্টকর ও গুরুত্বপূর্ণ সময় সকাল এবং সন্ধ্যায় যারা মসজিদে গিয়ে জামাআতে সঙ্গে নামাজ আদায় করবেন, তাদের জন্য প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতে মেহমান হওয়ার সুসংবাদ প্রদান করেছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা মসজিদে যাবে; আল্লাহ তাআলা তার (ওই বান্দার) প্রতিবারের (মসজিদে যাওয়ার) জন্য জান্নাতের মেহমানদারির ব্যবস্থা করবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

একজন বান্দার জন্য জান্নাতের মেহমান হওয়ার চেয়ে সৌভাগ্য আর কি হতে পারে! এ হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য সে সুসংবাদই প্রদান করেছেন।

তাছাড়া যারা সকাল এবং সন্ধ্যায় নিয়মিত মসজিদে গিয়ে জামাআতে নামাজ আদায় করবে; এক সময় তাদের মাঝে ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতে আদায়ের অভ্যাস গড়ে ওঠবে।

জান্নাতে আল্লাহ যাদের মেহমানদারি করবেন
জান্নাতে আল্লাহ যাদের মেহমানদারি করবেন

যারা নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতে আদায় করবেন। হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী ওই ব্যক্তির প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত হবে জান্নাতে। সে হবে জান্নাতের স্থায়ী মেহমান। যার ঘোষণা দিয়েছেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

পরিশেষে…
প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য অন্য হাদিসে জামাআতে নামাজ পড়ার ২৭গুণ ছাওয়াব লাভের সুসংবাদ বর্ণনা করেছেন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জামাআতে সঙ্গে নামাজ আদায় করা একাকি নামাজ আদায়ের চেয়ে ২৭গুন বেশি ছাওয়াব।’ (বুখারি ও মুসলিম) তাই প্রিয়নবি ঘোষিত সুসংবাদ গ্রহণ করা তাঁর উম্মতের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সকাল-সন্ধ্যায় মসজিদে গমনের মাধ্যমে ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে হাদিসে ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত ও মর্যাদা দান করুন। চিরস্থায়ী শান্তির স্থান জান্নাতের সার্বক্ষণিক মেহমান হওয়ার সৌভাগ্য নসিব করুন। আমিন।