জেনে নিন, ৩ বছরে সোনা ও রুপা দিয়ে নিজ হাতে কুরআন লিখলেন এক নারী

প্রায় ৩ বছর সময় নিয়ে ১৬৪ ফুটের স্বচ্ছ কালো সিল্কের ওপর সোনা ও রুপা দিয়ে নিপুণ হাতে কুরআন লিখেছেন আজারবাইজানের নারী শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদে। প্রত্যেকটি অক্ষর নিজের হাতে লিখেছেন ৩৩ বছরের এই শিল্পী। ১১ দশমিক ৪ ফুট বাই ১৩ ফুট সাইজের এই কুরআনের অক্ষরে লেখা হয়েছে সোনা ও রুপা দিয়ে।

এ কুরআনের প্রতিটি পাতায় ফুটে উঠেছে চারুলিপির শৈল্পিক নৈপুণ্য। তুরস্কের প্রেসিডেন্সি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স, দিয়ানেট থেকে প্রকাশ পেয়েছে এ কুরআনের প্রথম সংস্করণ।

জেনে নিন, কুরআন তিলাওয়াত বা অন্যান্য ইবাদাতের সাওয়াব কি মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে?

প্রথম ফতোয়া

প্রশ্ন : সূরা ইখলাস পাঠ করে কেউ যদি মৃত ব্যক্তিকে ঈসালে সাওয়াব করে, তাহলে মৃত ব্যক্তি কি উপকৃত হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কি করতেন, কবরবাসীর জন্য তিনি কি তিলাওয়াত করতেন, না শুধু দোয়া করতেন?

উত্তর :
প্রথমত : কেউ যদি কুরআন তিলাওয়াত করে মৃত ব্যক্তিকে ঈসালে সাওয়াব করে, আলেমদের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী এ সাওয়াব মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছায় না, কারণ এটা মৃত ব্যক্তির আমল নয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
﴿وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَى﴾
{আর এই যে, মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।} {সূরা নাজম: ৩৯}
এ তিলাওয়াত জীবিত ব্যক্তির চেষ্টা বা আমল, এর সাওয়াব সে নিজেই পাবে, অন্য কাউকে সে ঈসালে সাওয়াব করার অধিকার রাখে না। এ সংক্রান্ত সৌদি আরবের “ইলমি গবেষণা ও ফতোয়ার স্থায়ী ওলামা পরিষদ” এর একটি বিস্তারিত ফতোয়া রয়েছে, নিচে তা উল্লেখ করা হলো :

প্রশ্ন : কবর জিয়ারতের সময় সূরা ফাতেহা পাঠ করা, অথবা কুরআনের কোন অংশ পাঠ করা কি বৈধ, আর এর দ্বারা সে কি উপকৃত হবে ?

উত্তর :
বিশুদ্ধ হাদিস থেকে প্রমাণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করতেন এবং কিছু বাক্য দ্বারা তিনি কবরবাসীদের জন্য দু‘আ করতেন, যা তিনি সাহাবাদের শিখিয়েছেন, তারাও তার থেকে শিখে নিয়েছে। যেমন :
‏السلام عليكم اهل الديار من المؤمنين والمسلمين، وانا ان شاء الله بكم لاحقون، نسال الله لنا ولكم العافية‏
হে কবরবাসী মুমিন ও মুসলমানগণ, তোমাদের উপর সালাম, ইনশাআল্লাহ অতিসত্বর আমরা তোমাদের সাথে মিলিত হবো, আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য ও তোমাদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।” [ইবনে মাজাহ : ১৫৩৬]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করার সময় কুরআন বা তার কোন আয়াত তিলাওয়াত করেছেন এমন প্রমাণিত নয়, অথচ তিনি খুব কবর যিয়ারত করতেন। যদি তা বৈধ হত বা মৃতরা তার দ্বারা উপকৃত হত, তাহলে অবশ্যই তিনি তা করতেন এবং সাহাবাদের নির্দেশ দিতেন। বরং নবুওয়তের দায়িত্ব আদায়, উম্মতের প্রতি দয়া ও সাওয়াবের বিবেচনায় এটা তার কর্তব্য ছিল। কারণ, তার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
﴿لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ﴾
{নিশ্চয় তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন, তা তার জন্য কষ্টদায়ক যা তোমাদেরকে পীড়া দেয়। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু।} [সূরা তওবা: ১২৮]
অতএব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে দয়া, উম্মতের কল্যাণ কামনা ও অনুগ্রহ থাকা সত্বেও যেহেতু তিনি তা করেন নি, তাই প্রমাণ করে যে এটা না-জায়েয। সাহাবায়ে কেরাম তাই বুঝেছেন এবং এর উপরই তারা আমল করেছেন, Ñআল্লাহ তাদের সকলের উপর সন্তুষ্ট হোনÑ তারা কবর যিয়ারতের সময় মৃতদের জন্য দু‘আ করতেন ও নিজেরা নসিহত হাসিল করতেন। তারা মৃতদের জন্য কুরআন তিলাওয়াত করেন নি। তাই প্রমাণিত হল যে, কবর যিয়ারতের সময় কুরআন তিলাওয়াত করা পরবর্তীতে আবিষ্কৃত বিদ‘আত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
‏من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد‏‏
“আমাদের এ দ্বীনে যে এমন কিছু আবিষ্কার করল, যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা পরিত্যাক্ত।” [বুখারি: ২৫১২, মুসলিম: ৩২৪৮]

দ্বিতীয় ফতোয়া (প্রথম ফতোয়ার অবশিষ্টাংশ)

প্রশ্ন : আমরা কতক মুসলিম দেশে দেখি, কুরআন তিলাওয়াতের জন্য লোক ভাড়া করা হয়, কুরআন তিলাওয়াত করে বিনিময় গ্রহণ করা কি বৈধ ? বিনিময় দাতা কি এ জন্য গোনাহগার হবে ?

উত্তর :
কুরআন তিলাওয়াত একটি খালেস ইবাদাত। মুসলিমগণ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও সাওয়াবের আশায় তা সম্পাদন করবে, এসব ইবাদাতের মূল নীতিও তাই, এ জন্য কারো থেকে বিনিময় গ্রহণ বা কারো কৃতজ্ঞতা আদায় করা যাবে না। সালাফ তথা আমাদের আদর্শ মনীষীদের থেকে প্রমাণিত নয় যে, তারা মৃত ব্যক্তি, অলিমা অথবা অন্য কোন অনুষ্ঠানে কুরআন তিলাওয়াতের জন্য কাউকে ভাড়া করেছেন, অথবা তারা এর নির্দেশ দিয়েছেন কিংবা এর অনুমতি প্রদান করেছেন, অথবা তারা কেউ কুরআন তিলাওয়াত করে বিনিময় গ্রহণ করেছেন, বরং তারা আল্লাহর নিকট সাওয়াবের আশায় তিলাওয়াত করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন, যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে, সে যেন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে। তিনি মানুষের নিকট প্রার্থনা থেকে সতর্ক করেছেন। সাহাবি ইমরান বিন হাসিন থেকে ইমাম তিরমিযি তার সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেন :
عن عمران بن حصين أنه مر على قاص يقرأ ثم سأل؛ فاسترجع ثم قال‏:‏ سمعت رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ يقول‏:‏ “من قرأ القرآن فليسأل الله به، فإنه سيجيء أقوام يقرؤون القرآن يسألون به الناس”
ইমরান ইবন হুস়াইন এক গল্পকারের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যে তিলাওয়াত করে করে মানুষের নিকট প্রার্থনা করত। তিনি এ দৃশ্য থেকে ইন্নালিল্লাহ পড়লেন। অতঃপর বললেন : আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শোনেছি :
“যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে, সে যেন তার ওসিলা দিয়ে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে, কারণ অতিসত্বর এমন এক দল আভির্ভূত হবে, যারা কুরআন তিলাওয়াত করবে আর তার ওসিলা দিয়ে মানুষের নিকট প্রার্থনা করবে।”

[আহমদ : ৪/৪৩২Ñ৪৩৩, ৪৩৬Ñ৪৩৭, ৪৩৯, ৪৪৫, তিরমিযি : ৫/১৭৯, হাদিস নং : (২৯১৭), ইবনে আবি শায়বাহ : ১০/৪৮০, তাবরানি : ১৮/১৬৬Ñ১৬৭, হাদিস নং : (৩৭০Ñ৩৭৪), বাগাভী : ৪/৪৪১, হাদিস নং : (১১৮৩)]

তবে যেসব অবস্থায় তিলাওয়াতকারী ব্যতীত অপরের নিকটও কুরআনের উপকারিতা পৌঁছয়, সেসব অবস্থায় বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ, যেমন কুরআন শিক্ষা দেয়া অথবা কুরআনের মাধ্যমে ঝাড়-ফুঁক করা ইত্যাদি। বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত, সাহাবি আবু সাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এক পাল বকরী গ্রহণ করেছিলেন সূরা ফাতিহা দ্বারা এক ব্যক্তিকে ঝাড়-ফূঁক করে, যাকে বিষাক্ত কীট দংশন করে ছিল। সাহাবি সাহল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মেয়েকে জনৈক ব্যক্তির নিকট এ শর্তে বিয়ে দেন যে, সে তার নিকট রক্ষিত কুরআন মেয়েকে শিক্ষা দেবে।

[আহমদ : (৫/৩৩৬), বুখারি : হাদিস নং : (২৩১০), (৫০২৯), (৫০৩০), (৫০৮৭), (৫১২১), (৫১২৬), (৫১৩২), (৫১৩৫), (৫১৪১), (৫৮৭১), (৭৪১৭)] অতএব, শুধু তিলাওয়াতের বিনিময় গ্রহণ করা অথবা তিলাওয়াতের জন্য কোন দল ভাড়া করা আদর্শ মনীষীদের রীতি ও সুন্নতের খিলাফ।

দ্বিতীয়ত : উপদেশ গ্রহণ ও আখেরাত স্মরণ করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করতেন। তিনি নিজ পরিবারের মুসলিমদের জন্য দোয়া ও ইস্তেগফার করতেন, তাদের জন্য ‘আফিয়াত তথা নিরাপত্তা প্রার্থনা করতেন। তিনি সাহাবাদের শিক্ষা দিতেন, যেন তারা কবর যিয়ারতের সময় বলে :
‏السلام عليكم اهل الديار من المؤمنين والمسلمين، وانا ان شاء الله بكم لاحقون، نسال الله لنا ولكم العافية‏
“হে কবরবাসী মুমিন ও মুসলিমগণ, তোমাদের উপর সালাম, ইনশাআল্লাহ আমরা অতিসত্বর তোমাদের সাথে মিলিত হবো, আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য ও তোমাদের জন্য নিরাপত্তার প্রার্থনা করছি।”

[ইবনে মাজাহ: ১৫৩৬] আমাদের জানা মতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন তিলাওয়াত করে মৃত ব্যক্তিদের ঈসালে সাওয়াব করেন নি। অথচ তিনি অধিক কবর যিয়ারত করতেন। তিনি ছিলেন মুমিনদের উপর দয়ালু ও মেহেরবান। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

সূত্র :
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والافتاء
[আল-লাজনাতুদ দায়েমাহ্‌ লিল বুহুসিল ইলমিয়াহ ওয়াল ইফতা]
“ইলমি গবেষণা ও ফতোয়ার স্থায়ী পরিষদ”
সদস্য
ভাইস-চেয়ারম্যান
চেয়ারম্যান
আব্দুল্লাহ ইবন গুদাইয়ান
আব্দুর রাজ্জাক আফিফী
আব্দুল আযিয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায

তৃতীয় ফতোয়া
প্রশ্ন : কুরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদাতের সাওয়াব কি মৃতদের নিকট পৌঁছয়? মৃত ব্যক্তির সন্তান বা যার পক্ষ থেকেই হোক?
উত্তর :
আমরা যতদূর জানি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন তিলাওয়াত করে নিকট আত্মীয় বা অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য ঈসালে সাওয়াব করেন নি। তিলাওয়াতের সাওয়াব যদি মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছত বা এর দ্বারা সে কোনভাবে উপকৃত হত, তাহলে অবশ্যই তিনি তা করতেন, উম্মতকে বাতলে দিতেন, যেন তাদের মৃতরা উপকৃত হয়। তিনি ছিলেন মুমিনদের উপর দয়ালু ও অনুগ্রহশীল। তার পরবর্তীতে খুলাফায়ে রাশেদিন ও সকল সাহাবায়ে কেরাম তার যথাযথ অনুসরণ করেছেন, Ñআল্লাহ তাদের সকলের উপর সন্তুষ্ট হোনÑ আমাদের জানা মতে তারা কেউ কুরআন তিলাওয়াত করে ঈসালে সাওয়াব করেন নি। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবাদের আদর্শ অনুসরণ করাই আমাদের জন্য কল্যাণ। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
‏اياكم ومحدثات الامور فان كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة‏
“খবরদার! তোমরা নতুন আবিষ্কৃত বস্তু থেকে সতর্ক থেকো, কারণ প্রত্যেক নতুন আবিষ্কৃত বস্তু বিদ‘আত, আর প্রত্যেক বিদ‘আত গোমরাহী ও পথভ্রষ্টতা।” [আবু দাউদ: ৩৯৯৩] তিনি অন্যত্র বলেন :
‏من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد‏
“যে আমাদের এ দ্বীনে এমন কিছু আবিষ্কার করল, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা পরিত্যক্ত।”

[বুখারি: ২৫১২, মুসলিম: ৩২৪৮]
তাই আমরা বলি, মৃতদের জন্য কুরআন তিলাওয়াত করা বা করানো জায়েয নয়, এর সাওয়াব তাদের নিকট পৌঁছে না, বরং এটা বিদ‘আত। এ ছাড়া যেসব ইবাদাতের সাওয়াব মৃতদের নিকট পৌঁছে মর্মে বিশুদ্ধ দলিল রয়েছে তা অবশ্য গ্রহণীয়। যেমন মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা ও হজ করা মর্মে বিশুদ্ধ দলিল রয়েছে। আর যে সব বিষয়ে কোন দলিল নেই তা বৈধ নয়। তাই প্রমাণিত হল, কুরআন তিলাওয়াত করে মৃতদের ঈসালে সাওয়াব করা বৈধ নয়, তাদের নিকট এর সাওয়াব পৌঁছায় না, বরং এটা বিদ‘আত। এটাই আলেমদের বিশুদ্ধ অভিমত। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

সূত্র :
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والافتاء
[আল-লাজনাতুদ দায়েমাহ্‌ লিল বুহুসিল ইলমিয়াহ ওয়াল ইফতা]
“ইলমি গবেষণা ও ফতোয়ার স্থায়ী পরিষদ”
সদস্য
ভাইস-চেয়ারম্যান
চেয়ারম্যান
আব্দুল্লাহ ইবন গুদাইয়ান
আব্দুর রাজ্জাক আফিফী
আব্দুল আযিয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায

জেনে নিন , অর্থ না বুঝে কুরআন পড়া জায়েয কিনা?

হ্যাঁ। অর্থ না বুঝলেও মুমিন নর-নারীর জন্য কুরআন পড়া জায়েয। তবে অর্থ বুঝার জন্য চিন্তা-ভাবনা করা ও বুঝার চেষ্টা করা শরিয়তে গ্রাহ্য। যদি ব্যক্তির বুঝার মত যোগ্যতা থাকে তাহলে সে তাফসির গ্রন্থগুলো পড়তে পারে।

আরবী ভাষার উপর লিখিত গ্রন্থগুলোতে নজর দিতে পারে। যাতে করে সে কুরআন বুঝে উপকৃত হতে পারে। কোন প্রশ্নের উদ্রেক হলে আলেমদেরকে জিজ্ঞেস করতে পারে। মোটকথা, কুরআনকে অনুধাবন করা। কেননা আল্লাহ্ তাআলা বলেছেন, “এক মুবারক কিতাব, এটা আমরা আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহে তাদাব্বুর করে (গভীরভাবে চিন্তা করে) এবং যাতে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।”[সূরা সোয়াদ, আয়াত: ২৯] মুমিন ব্যক্তি কুরআন তাদাব্বুর করবে। অর্থাৎ গুরুত্ব দিয়ে কুরআন পড়বে এবং কুরআনের অর্থ নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে। অর্থ বুঝার চেষ্টা করবে। এভাবে কুরআন থেকে উপকৃত হবে। যদি পরিপূর্ণ অর্থ তার বুঝে নাও আসে; কিন্তু অনেকটুকু সে বুঝতে পারবে। কিন্তু সে বুঝে বুঝে পড়বে। অনুরূপভাবে মুমিন নারীও এটা করবে; যাতে করে সে আল্লাহ্র কালাম থেকে উপকৃত হতে পারে। এবং যাতে করে আল্লাহ্ তাআলার উদ্দেশ্য বুঝতে পারে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে পারে। আল্লাহ্ তাআলা বলেন: “তবে কি তারা কুরআন নিয়ে তাদাব্বুর করে না (গভীর চিন্তা করে না)?

নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা রয়েছে?”[সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ২৪] সুতরাং জানা গেল, আমাদের রব্ব আমাদেরকে তাঁর বাণী বুঝে বুঝে, চিন্তাভাবনা করে পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। তাই মুমিন নর-নারীর জন্য আল্লাহ্র কিতাব চিন্তাভাবনাসহ, বুঝে বুঝে, গুরুত্বসহকারে পড়া শরিয়তে গ্রাহ্য। যাতে করে সে আল্লাহ্র কালাম থেকে উপকৃত হতে পারে, কথাগুলো বুঝতে পারে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি তাফসির গ্রন্থগুলোর সহযোগিতা নিবে; যে গ্রন্থগুলো আলেমগণ রচনা করেছেন। যেমন- তাফসিরে ইবনে কাছির, তাফসিরে ইবনে জারির, তাফসিরে বাগাভী, তাফসিরে শাওকানি ইত্যাদি। এছাড়া আরবী ভাষার উপর লিখিত গ্রন্থগুলোরও সহায়তা নিবে। আর কোন প্রশ্নের উদ্রেক হলে ইলম ও মর্যাদায় খ্যাতিমান আলেমদেরকে জিজ্ঞেস করবে। শাইখ আব্দুল আযিয বিন বায (রহঃ)

৫০০ কেজি ওজনের বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরআন শরীফ

আফগানিস্তানের হস্তলিপিকার মোহাম্মদ সাবির খেদ্রি ৫০০ কেজি ওজনের একটি কোরআন তৈরি করেছেন যা বর্তমানে পৃথিবীর বৃহত্তম কোরআন শরীফ।

দেশটির তাতারস্তান অঞ্চলে নির্মিত ওই কোরআন শরীফটির পৃষ্ঠাগুলোর আয়তন ছিল দৈর্ঘ্যে ২ মিটার ও প্রস্থে ১ দশমিক ৫ মিটার। বৃহত্তম কোরআন শরীফ তৈরির প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে মূল হস্তলিপিকার মোহাম্মদ সাবির খেদ্রির সহযোগী হিসেবে ৯ জন ছাত্রও কাজ করেছেন। সোনালী লিপিগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে বিশালাকার পৃষ্ঠাগুলোর চারধারে প্রতিকী কারুকাজ হিসেবে ছোট ছোট লাখ লাখ রঙিন বিন্দু ব্যবহার করেছেন তারা।
এত পরিশ্রমের পরও যদি অন্য কেউ এর চেয়ে বড় কোরআন শরীফ নির্মাণ করেন তা নিয়ে খেদ থাকবেনা খেদ্রির। বরং হাসিমাখা মুখ নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম কোরআন নির্মাতা বলেছেন, “অন্য কেউ যদি এর চেয়ে বড় কোরআন নির্মাণ করে তবে আমি খুশি হব, এর ফলে ইসলাম রক্ষা পাবে।”

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরআন শরীফের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে ২০১৫ সালের ৫ই মার্চ  কাবুলের হাকিম নাসির খুসরাও বালখি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। আফগানিস্তানে এটি তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করা হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এই কোরআনের উচ্চতা ৭ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ১০ ফুট। এতে মোট পৃষ্ঠার সংখ্যা রয়েছে ২১৮।

৩০ বছরের চলমান যুদ্ধে আফগানিস্তানের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রথা নষ্ট হয়েছে, কিন্তু ধ্বংস হয়নি- তা বিশ্বকে দেখিয়ে দিতেই বৃহত্তম এ কোরআন রচনার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন খেদ্রি।

অর্ধমিলিয়ন ডলার ব্যায়ে নির্মিত কোরআন শরীফটিতে ২১৮ টি পৃষ্ঠা রয়েছে যেগুলো কাপড় ও কাগজের তৈরি এবং পৃষ্ঠাগুলোর আকার দৈর্ঘ্যে ৯০ ইঞ্চি বা ২ দশমিক ২৮ মিটার এবং প্রস্থে ৬১ ইঞ্চি বা ১ দশমিক ৫৫ মিটার।

পৃষ্ঠার প্রান্তগুলো চামড়া দিয়ে কারুকার্যমন্ডিত যা তৈরি করতে ২১ টি ছাগলের চামড়া ব্যবহার করা হয়েছে। কাবুল কালচারাল সেন্টার জানিয়েছে, এই কোরআনটিকে পৃথিবীর বৃহত্তম বলে ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তানের হজ্ব ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। কোরআন শরীফটি এখন ওই কালচারাল সেন্টারেই রয়েছে। এর আগে পৃথিবীর বৃহত্তম কোরআন শরীফ তৈরির কৃতিত্বের দাবিদার ছিল রাশিয়া।

৫ বছর ধরে ক্যালিওগ্রাফার মোহাম্মদ সাবের ইয়াকোতি হোসেন খাদেরি এবং তার শিক্ষার্থীরা ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কোরআন শরীফ লেখার কাজ শুরু করেন এবং ২০০৯ সালে শেষ করেন। তারা জানান, ৩০ পারায় ৩০টি ভিন্ন ধরনের ক্যালিওগ্রাফির ব্যবহার করেছেন তারা। প্রখ্যাত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আলহাজ সৈয়দ মনসুর নাদেরি এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা দেন।

মনসুর নাদেরি অনুষ্ঠানে এটিকে বলেন আফগানিস্তান তথা সারা বিশ্বের মুসলমানদের অর্জন বলে অভিহিত করেন। পাঁচ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম শেষে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরআন শরীফ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন আফগানিস্তানের একটি সংস্থা।। এটির মাধ্যমে তাঁরা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন যে, গত ৩০ বছর ধরে লাগাতার চলে যাওয়া যুদ্ধ দেশটির সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে দুর্বল করে ফেললেও একদম ধ্বংস করে ফেলতে পারে নি।।

এই বইটি তৈরির পিছনে নিজেদের সংস্কৃতিকেই মূলত ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁরা। এই পবিত্র কোরআন শরীফের প্রতিটি পাতার দৈর্ঘ্য ২.২৮ মিটার এবং প্রস্থ ১.৫৫ মিটার।। আফগান হজ্জ এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরআন শরীফ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে এবং “কাবুল কালচারাল সেন্টারে” এটি প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।

কুরআন তেলাওয়াতরত অবস্থায় আজানের আগ মুহূর্তে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

কুরআন তেলাওয়াতরত অবস্থায় মৃত্যু

সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত মসজিদ আল-সোলেমানিয়া-এর মুয়াজ্জিন আবদুল হক আল-হালাবি (৬০) কুরআন তেলাওয়াতরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।  (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) তিনি ফজরের নামাজের আজান দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। 

৬০ বছর বয়সী আবদুল হক আল-হালাবি ফজরের আজানের কিছু সময় আগে আজানের ওয়াক্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষ করছিলেন।  এ অপেক্ষার সময়টিতে মসজিদে বসে কুরআন তেলাওয়াত করছিলেন।  কুরআন তেলাওয়াতে বসা অবস্থায় আজানের আগ মুহূর্তে ইন্তেকাল করেন। 

তিনি সিরিয়া বংশোদ্ভূত ছিলেন।  আজ থেকে ৪০ বছর আগে তিনি সৌদি আরব এসে বসবাস শুরু করেন।  তিনি মসজিদেই বেশি সময় অতিবাহিত করতেন এবং কুরআন তেলাওয়াত করতেন।  এ এক সৌভাগ্যের মৃত্যু।  আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাত দান করুন। 

পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।  সবাইকেই আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে।  আর এ মৃত্যুই হচ্ছে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম। 

মসজিদ আল-সোলেমানিয়া-এর মুয়াজ্জিন আবদুল হক আল-হাবিবই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি যিনি আজানের অপেক্ষায় থাকাকালীন সময়ে কুরআন তেলাওয়াতরত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন। 

আসুন! আমরা আমাদের নিজেদের জীবনের দিকে নজর দেই।  নিজেদেরকে জিজ্ঞাসা করি আখেরাতের জন্য আমাদের প্রস্তুতি কী?

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলাম এবং কুরআনের ছায়া তলে আশ্রয় গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন।  মৃত্যুর আগে পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করার তাওফিক দান করুন।  কল্যাণময় মৃত্যু দান করুন।  আমিন

দেখুন | তাবলীগ জামাতের কিতাবে কুরআন ও হাদীস বিরোধী আজগুবি কিসসা-কাহিনী

তাবলীগ জামাতের কিতাব

তাবলীগ জামাতের কিতাব ফাজায়েলে আমলে কবরের আযাব সম্পর্কে কুরআন ও হাদীস বিরোধী আজগুবি কিসসা-কাহিনীঃ

‘’একজন স্ত্রীলোকের মৃত্যু হইয়াছিল। তাহার ভাই দাফনের কাজে শরীক ছিল। ঘটনাক্রমে দাফনের সময় তাহার টাকার থলি কবরে পড়িয়া যায়। তখন খেয়াল হয় নাই। কিন্তু পরে যখন খেয়াল হইল, তখন তাহার খুব আফসোস হইল। চুপে পুপে কবর খুলিয়া উহা বাহির করিতে এরাদা করিল। অতঃপর যখন কবর খুলিল তখন কবর আগুনে পরিপূর্ণ ছিল। সে কাঁদিতে কাঁদিতে মায়ের নিকট আসিল এবং অবস্থা বর্ণনা করিয়া কারন জিজ্ঞাসা করিল। মা, বলিলেন, সে নামাজে অলসতা করিত এবং কাজা করিয়া দিত’’
ফাজায়েলে আমল; ফাজায়েলে নামাজ; মুহাম্মাদ জাকারিয়া ছাহেব কান্ধলভি; অনুবাদক- মুফতি মুহাম্মাদ উবাইদুল্লাহ; নজরে ছানী ও সম্পাদনা হাফেজ মাওলানা মুহাম্মাদ যুবায়ের ছাহেব ও মাওলানা রবিউল হক ছাহেব; কাকরাইল মসজিদ, ঢাকা।

প্রকাশনা- দারুল কিতাব, ৫০ বাংলাবাজার,ঢাকা; অক্টোবর ২০০১ ইং; পৃষ্ঠা নঃ ৬০

উপরোক্ত গল্পের মাধ্যমে আমরা দু’টি বিষয় বুঝতে পারিঃ
# কবরে আযাব হয়।
# কবরের আযাব মানুষ দেখতে পায়।
কবরের আযাব কুরআন ও হাদিস দ্বারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত সত্য। কবরের আযাব সম্পর্কে রাসুল (সাঃ) আমাদেরকে বহু বিষয় জানিয়ে গেছেন। যাই হোক, আমাদের আলোচনার মুল বিষয় রাসুল (সাঃ) ছাড়া কবরের আযাব, যা গায়েবী বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত তা অন্য কেউ দেখেছেন কি না?

কবরের আযাব গায়েবের বিষয়ঃ

যদি কবরের আযাব প্রকাশ্যে হত, তাহলে তার প্রতি ঈমান আনয়নের কোন বিশেষত্ব থাকতো না। কেননা দৃশ্যমান কোন জিনিসকে সাধারনত প্রত্যাখ্যান করা হয় না। যেমন মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেনঃ ‘’অতঃপর যখন তারা আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন বলল, আমরা এক আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনলাম এবং আমরা তাঁর সঙ্গে যাদেরকে শরীক করতাম, তাঁদেরকে প্রত্যাখ্যান করলাম’’  (মুমিনঃ ৮৪)

সুতরাং মানুষ যদি দাফনকৃতদের দেখতে ও তাদের চিৎকার শুনতে পেত, তখন তারা অবশ্যই ঈমান আনত। কবরের আযাব গায়েবী বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। কত মানুষ কবরে আযাব ভোগ করে, কিন্তু আমরা তা অনুভব করতে পারি না। অনুরুপ কত কবরবাসীর জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়, তারা ভোগ করে অফুরন্ত সুখ-শান্তি। অথচ আমরা তা জানতে বা অনুধাবন করতে পারি না। তা কেবল আল্লাহ্‌ জানেন। এবং আল্লাহ্‌ তায়ালা ওয়াহীর মাধ্যমে রাসুল (সাঃ)-কে কবরের আযাব ও সুখ-শান্তির কথা জানিয়েছেন। কবরের আযাব, তার নেয়ামত সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। সুতরাং তার প্রতি যথাযথভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক। তবে কবরের শাস্তি ও নেয়ামতের প্রকৃতি ও স্বরূপ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে তার চেয়ে বেশি কিছু আমরা জানি না।

রাসুল (সাঃ)-কে আল্লাহ্‌ তায়ালা কবরের আযাব দেখিয়েছেন এবং রাসুল (সাঃ) ছাড়া অন্য কেউ কবরের আযাব দেখেননিঃ

আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’বান্দাহকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তাঁকে পিছনে রেখে তার সাথীরা চলে যায় (এতটুকু দূরে যে), তখনও সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়। এমন সময় দু’জন ফেরেশতা তার নিকট এসে তাকে বসিয়ে দেন। অতঃপর তাঁরা প্রশ্ন করেন মুহাম্মাদ (সাঃ) সম্পর্কে তুমি কি বলতে? তখন মুমিন ব্যাক্তি বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহ্‌র বান্দাহ এবং তাঁর রাসুল। তখন তাঁকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থানের জায়গাটি দেখে নাও, যার পরিবর্তে আল্লাহ্‌ তায়ালা তোমার জন্য জান্নাতে একটি স্থান নির্ধারণ করেছেন। নাবী (সাঃ) বলেন, তখন সে দুটি স্থানের দিকেই দৃষ্টি দিবে। আর কাফির বা মুনাফিক ব্যাক্তিকে যখন প্রশ্ন করা হবে, তুমি এই ব্যাক্তি অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সাঃ) সম্পর্কে কি বলতে? সে উত্তরে বলবেঃ আমি জানি না, লোকেরা যা বলত আমি তাই বলতাম। তখন তাঁকে বলা হবেঃ তুমি না নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। অতঃপর তার দু’ কানের মাঝখানে লোহার মুগুর দ্বারা এমনভাবে আঘাত করা হবে, যার ফলে সে এমন বিকট চিৎকার করে উঠবে যে, তার আশেপাশের সকলেই তা শুনতে পাবে, মানুষ ও জ্বিন ছাড়া’’
(বুখারী ১৩৩৮, ১৩৭)

এমনকি সাহাবীরা পর্যন্ত কবরের আযাব দেখেননিঃ

জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবন মুয়ায (রাঃ) যখন মৃত্যুবরণ করেন, আমরা রাসুল (সাঃ)-এর সাথে তাঁর জানাযায় হাজির হলাম। জানাযা পড়ার পর সা’দ (রাঃ)-কে যখন কবরে রাখা হল ও মাটি সমান করে দেয়া হল, তখন রাসুল (সাঃ) সেখানে দীর্ঘ সময় আল্লাহ্‌র তাসবীহ পাঠ করলেন, আমরাও দীর্ঘ তাঁর সাথে তাসবীহ পাঠ করলাম। অতঃপর তিনি তাকবীর বললেন। আমরাও তাঁর সাথে তাকবীর বললাম। এ সময় রাসুল (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলঃ হে আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ)! কেন আপনি এরুপ তাসবীহ ও তাকবীর বললেন? তিনি বললেনঃ তাঁর কবর অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল; অতএব আমি এরুপ করলাম, এতে আল্লাহ্‌ তাঁর কবরকে প্রশস্ত করে দিলেন’’
(আহমাদ; মিশকাত হাদীস নঃ ১৩৫; ইরওয়াউল গালীল ৩/১৬৬; সনদ সহীহ)

ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) এমন দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে কবর দু’টিতে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বললেনঃ ‘’এ দু’ব্যাক্তিকে কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। অথচ বড় কোন পাপের জন্য তাদেরকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব থেকে সতর্কতা অবলম্বন করত না, আর অপরজন চোগলখোরী করে বেড়াত’’
(বুখারী ২১৬, ১৩৬১)

কবরের আযাব যদি মানুষ দেখতে পেত তাহলে কেউ দাফন কর্মে উপস্থিত হত নাঃ

যায়িদ বিন সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’এ উম্মাতকে তাদের কবরের মধ্যে পরীক্ষা করা হবে। তোমরা মৃত ব্যাক্তিকে দাফন করা বর্জন করবে, এ আশংকা না হলে আমি আল্লাহ্‌র নিকট দু’আ করতাম যেন তিনি তোমাদেরকে কবরের আযাব শুনান যা আমি শুনতে পাচ্ছি’’ (মুসলিম ৭১০৫, ৭১০৬)

হে আমার মুসলিম ভাই! এখন তুমি চিন্তা করে দেখ, তাবলীগ জামাতের কিতাবে কিভাবে কুরআন ও হাদীস বিরোধী ভ্রান্ত আকিদাহ পেশ করা হচ্ছে!

আল্লাহ্‌ আমাদেরকে কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী সঠিক আকিদাহ পোষণ করার তৌফিক দান করুন।

পবিত্র কুরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে ব্যর্থ | অবশেষে অধ্যাপক নিজেই ইসলাম গ্রহন করলেন।

পবিত্র কুরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে | অবশেষে কানাডার অধ্যাপক নিজেই ইসলাম গ্রহন করলেন।

ড. গ্যারি মিলার ছিলেন কানাডার একজন খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারক। তিনি পবিত্র কুরআনের ভুল খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন, যাতে ইসলাম ও কুরআন বিরোধী প্রচারণা চালানো সহজ হয়। কিন্তু ফল হয়েছিল বিপরীত। তিনি বলেন, আমি কোন একদিন কুরআন সংগ্রহ করে তা পড়া শুরু করলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম কুরআন নাযিল হয়েছিল আরবের মরুচারীদের মধ্যে। তাই এতে নিশ্চয় মরুভূমি সম্পর্কে কথা থাকবে। কুরআন নাযিল হয়েছিল ১৪০০ বছর আগে। তাই খুব সহজেই এতে অনেক ভুল খুঁজে পাব ও সেসব ভুল মুসলিমদের সামনে তুলে ধরব বলে সংকল্প।

কিন্তু কয়েক ঘণ্টা ধরে কুরআন পড়ার পরে বুঝলাম আমার এসব ধারণা ঠিক নয়, বরং এমন একটা গ্রন্থে অনেক আকর্ষণীয় তথ্য পেলাম। বিশেষ করে সূরা নিসার ৮২ নম্বর আয়াতটি আমাকে গভীর ভাবনায় নিমজ্জিত করে। সেখানে আল্লাহ বলেন, ‘এরা কী লক্ষ্য করে না কুরআনের প্রতি? এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে নাযিল হ’ত, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত’। খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারক গ্যারি মিলার এভাবে ইসলামের দোষ খুঁজতে গিয়ে মুসলিম হয়ে যান।

তিনি বলেছেন, ‘আমি খুব বিস্মিত হয়েছি যে, কুরআনে ঈসা (আঃ)-এর মাতা মরিয়ামের নামে একটি বড় পরিপূর্ণ সূরা রয়েছে। আর এ সূরায় তাঁর এত ব্যাপক প্রশংসা ও সম্মান করা হয়েছে যে, এত প্রশংসা বাইবেলেও দেখা যায় না। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর নাম মাত্র ৫ বার এসেছে। কিন্তু ঈসা (আঃ)-এর নাম এসেছে ২৫ বার। আর এ বিষয়টি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রে আমার ওপর ব্যাপক প্রভাব রেখেছে’।

পবিত্র কুরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে | অবশেষে কানাডার অধ্যাপক নিজেই ইসলাম গ্রহন করলেন।
পবিত্র কুরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে অবশেষে কানাডার অধ্যাপক নিজেই ইসলাম গ্রহন করলেন।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা : ইসলাম মানুষের জীবনকে করে লক্ষ্যপূর্ণ। কারণ এ ধর্মের দৃষ্টিতে মানুষের জীবনের রয়েছে সুনির্দিষ্ট অর্থ ও লক্ষ্য। কিন্তু পশ্চিমা সরকারগুলো ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা মুসলিমদেরকে পাশ্চাত্যের জন্য বিপজ্জনক বলে তুলে ধরছে। আর এই অজুহাত দেখিয়ে পশ্চিমা সমাজে মুসলিমদের উপর আরোপ করা হয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। ইউরোপ-আমেরিকার ক্ষমতাসীন সরকার ও ইসলাম-বিদ্বেষী দল বা সংস্থাগুলো এভাবে মুসলিম ও ইসলামের উপর আঘাত হানার পাশাপাশি নিজেদেরকে পশ্চিমা সভ্যতা এবং পশ্চিমা জনগণের সমর্থক হিসাবে জাহির করার পাশাপাশি জনগণকে বিভ্রান্ত করার মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।

পাশ্চাত্যে ইসলামের জনপ্রিয়তা ও প্রভাব ক্রমেই বাড়তে থাকায় ইসলাম বিরোধী মহলগুলোর ইসলাম-বিদ্বেষী তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। বর্তমানে মুসলিমদের নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যম ও জনমত ব্যাপক বিতর্কে মেতে রয়েছে। পাশ্চাত্যের উগ্র লেখক ফিলিপ রনডু বলেছেন, ‘মুসলিমরা হচ্ছে বিস্ফোরণের বোমার মত এবং ইসলাম বহু মানুষকে, বিশেষ করে ইউরোপের বহু মানুষকে আকৃষ্ট করছে’। বহুল প্রচারিত এক টাইম ম্যাগাজিনগুলোতে ইউরোপে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধিকে ‘ইউরোপের পরিচিতির সংকট’ বলে অভিহিত করেছে। ২০১০ সালের শেষের দিকে সুইজারল্যান্ডে মসজিদের মিনার নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞার আইন চালু করার লক্ষ্যে এক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এই পদক্ষেপের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল ‘সুইস পিপলস পার্টি’ নামের একটি উগ্র খ্রিষ্টানপন্থী দল। মুসলিমদের ব্যাপারে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই ছিল এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। শেষ পর্যন্ত এই আইন পাশ করতে সফল হয় দলটি। দলটির পক্ষ থেকে সর্ব প্রথম এই আইন চাপিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন সুইস রাজনীতিবিদ ড্যানিয়েল স্ট্রিচ। তিনি পুরো সুইজারল্যান্ডে ইসলাম-বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে দেন এবং জনগণের মধ্যে ইসলাম-অবমাননার বীজ বপন করেন। ফলে সুইস জনগণ মসজিদের মিনার নির্মাণের বিরোধী হয়ে পড়ে এবং মিনার নির্মাণ নিষিদ্ধ হয়।
কিন্তু পরবর্তীতে ইসলাম পাশ্চাত্যে পূর্বের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠে। ফলে এক পর্যায়ে তিনি ইসলামের যৌক্তিক শিক্ষাগুলো ও পবিত্র কুরআন নিয়ে পড়াশুনা শুরু করেন এবং ইসলামের অকাট্য যুক্তি ও বাস্তবতার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এভাবেই সুইজারল্যান্ডে ইসলাম-বিদ্বেষী আন্দোলনের প্রধান নেতা সুইস রাজনীতিবিদ ড্যানিয়েল স্ট্রিচ নিজেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

ড্যানিয়েল স্ট্রিচ এখন একজন সামরিক প্রশিক্ষক এবং পৌরসভার সদস্য ও অঙ্গীকারাবদ্ধ মুসলিম। তিনি নিয়মিত মসজিদে আসেন, কুরআন অধ্যয়ন করেন ও পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করেন। ইসলাম গ্রহণের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘ইসলাম জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর যৌক্তিক জবাব দেয়, যা আমি কখনও খ্রিষ্ট ধর্মে খুঁজে পাইনি। আমি ইসলামের মধ্যেই খুঁজে পেয়ছি জীবনের বাস্তবতা’।

ড্যানিয়েল স্ট্রিচ এখন তার অতীতের কাজের জন্য লজ্জিত। তিনি সুইজারল্যান্ডে ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছেন। দেশটিতে এখন ৪টি মসজিদ সক্রিয় রয়েছে। ড্যানিয়েলের স্বপ্নের মসজিদটি নির্মিত হ’লে সুইজারল্যান্ডে মসজিদের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫টিতে। তিনি দেশটিতে ইসলাম বিরোধী যে তৎপরতা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এভাবেই তার ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। ড্যানিয়েল এখন ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আন্দোলন গড়ে তোলারও চেষ্টা করছেন।

‘ওপিআই’ নামের একটি ইসলামী সংস্থার প্রধান আবদুল মজিদ আদলি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ইউরোপের জনগণ ইসলাম সম্পর্কে জানতে ব্যাপকভাবে আগ্রহী। তাদের অনেকেই সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করতে চান। ঠিক যেভাবে সুইজারল্যান্ডের ড্যানিয়েল এ পথে সচেষ্ট হয়েছিলেন। তিনি ইসলামের মোকাবেলা করতে গিয়ে পবিত্র কুরআনের সঙ্গে পরিচিত হন এবং ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক পড়াশুনা শুরু করেন। তিনি চেয়েছিলেন ইসলামের সঙ্গে খুব কঠোর আচরণ করবেন। কিন্তু এর ফল হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত’।
ড্যানিয়েল বলেন, ‘মহান ধর্ম ইসলামের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হ’ল, যারাই এর মোকাবেলা করতে চায় তাদেরকে এই পবিত্র ধর্ম চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণার মাধ্যমে এ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার আহবান জানায়। ফলে ইসলামের খুঁত বের করার চেষ্টা করতে গিয়ে তারা এ যে খাঁটি আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম. তা বাস্তবতা বুঝতে পারে। কারণ ইসলাম মানুষের প্রকৃতির চাহিদার আলোকে প্রণীত হয়েছে। সত্য অনুসন্ধানের ইচ্ছা নিয়ে যারাই ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা করেন তারা এই আসমানী ধর্মের সত্যতা অস্বীকার করতে পারেন না।

বিশিষ্ট ইংরেজ গবেষক জন ডেভেনপোর্ট বলেছেন, ‘কুরআন ভুল-ত্রুটিমুক্ত হওয়ায় এতে কোন ছোটখাট সংশোধনেরও দরকার নেই। তাই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কুরআন পড়ার পরও সামান্যতম বিরক্তিও সৃষ্টি হবে না কারো মধ্যে। বছরের পর বছর ধরে পাদ্রীরা আমাদেরকে পবিত্র কুরআনের বাস্তবতা ও মহত্ত্ব থেকে দূরে রেখেছেন। কিন্তু আমরা যতই জ্ঞানের পথে এগুচ্ছি ততই অজ্ঞতা ও অযৌক্তিক গোঁড়ামির পর্দা মুছে যাচ্ছে। শিগগিরই এ মহাগ্রন্থ, যার প্রশংসা ভাষায় প্রকাশ করার সাধ্য কারো নেই। বিশ্বকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করবে এবং বিশ্বের উপর গভীর প্রভাব ফেলবে ও শেষ পর্যন্ত বিশ্বের মানুষের চিন্তা-চেতনার প্রধান অক্ষে পরিণত হবে’।

শবে বরাত পালন করা যাবে কিনা | এ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে আসুন জেনে নেই

শবে বরাত পালন করা যাবে কিনা | এ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে আসুন জেনে নেই

প্রথমে বলে রাখি শবে বরাত শব্দটা কুরআন ও সহিহ হাদিসে কোথাও উল্লেখ নেই। আমাদের সমাজের আলেম ওলামাগণ শবে বরাতে পক্ষে ওয়াজ করার সময় প্রথমেই নিম্নের এই আয়াতের শেষ অংশ পাঠ করে বলে ‘এই দেখুন শবে বরাত বা বরকতময় রাতের কথা কুরআনে আছে’। কি সুন্দর ভণ্ডামি!! কুরআনের আয়াতকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বাঁকা করে তারপর অর্ধেকটা শুনিয়ে দেয় আর সাথে সাথে মুসল্লিরা বলে ওঠে ‘সোবহানাল্লাহ!’। অথচ তারা পুরোটা পড়ে শোনায় না বা মুসল্লিরা অর্থ বোঝেনা। এখানে উল্লেখ করা আছে, হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমিতো এটা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে। আমি তো সতর্ককারী। এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। (সূরা দুখান, ১-৪) শবে বরাত পন্থী আলেম উলামারা এখানে বরকতময় রাত বলতে ১৫ শাবানের রাতকে বুঝিয়ে থাকেন। আমি এখানে স্পষ্টভাবেই বলব যে, যারা এখানে বরকতময় রাতের অর্থ ১৫ শাবানের রাতকে বুঝিয়ে থাকেন তারা এমন বড় ভুল করেন যা আল্লাহর কালাম বিকৃত করার মত অপরাধ। কারণ : (এক) কুরআন মাজীদের এ আয়াতের তাফসীর বা ব্যাখ্যা সূরা আল-কদর দ্বারা করা হয়। সেই সূরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন : إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ﴿১﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ ﴿২﴾ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ ﴿৩﴾ تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ ﴿৪﴾ سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ ﴿৫﴾অর্থ : আমি এই কুরআন নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি জানেন লাইলাতুল কদর কি? লাইলাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য মালাইকা (ফেরেশ্‌তাগণ) ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশে। এই শান্তি ও নিরাপত্তা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা কাদর, ১-৫) অতএব বরকতময় রাত হল লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল বারায়াত নয়। সূরা দুখানের প্রথম সাত আয়াতের ব্যাখ্যা হল এই সূরা আল-কদর। আর এ ধরনের ব্যাখ্যা অর্থাৎ আল-কুরআনের এক আয়াতের ব্যাখ্যা অন্য আয়াত দ্বারা করা হল সর্বোত্তম ব্যাখ্যা। (দুই) সূরা দুখানের লাইলাতুল মুবারাকার অর্থ যদি শবে বরাত হয় তাহলে এ আয়াতের অর্থ দাড়ায় আল কুরআন শাবান মাসের শবে বরাতে নাযিল হয়েছে। অথচ আমরা সকলে জানি আল-কুরআন নাযিল হয়েছে রামাযান মাসের লাইলাতুল কদরে।

শবে বরাত পালন করা যাবে কিনা | এ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে আসুন জেনে নেই
শবে বরাত পালন করা যাবে কিনা এ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে

যেমন সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন বলেন : شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآَنُ. অর্থ : রামাযান মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে আল-কুরআন। সুতরাং বরতময় রাত্রিটি অবশ্যই রমজান মাসে (যদি আপনি কুরআন বিশ্বাস করেন তবে এটাও মানবেন)। প্রশ্ন থেকে যায় হাদীসে কি লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত নেই? সত্যিই হাদীসের কোথাও আপনি শবে বরাত বা লাইলাতুল বারায়াত নামের কোন রাতের নাম খুজে পাবেন না। যে সকল হাদীসে এ রাতের কথা বলা হয়েছে তার ভাষা হল ‘লাইলাতুন নিস্‌ফ মিন শাবান’ অর্থাৎ মধ্য শাবানের রাত্রি। শবে বরাত বা লাইলাতুল বারায়াত শব্দ আল-কুরআনে নেই, হাদীসে রাসূলেও নেই। এটা মানুষের বানানো একটা শব্দ। ভাবলে অবাক লাগে যে, একটি প্রথা ইসলামের নামে শত শত বছর ধরে পালন করা হচ্ছে অথচ এর আলোচনা আল-কুরআনে নেই। সহীহ হাদীসেও নেই। অথচ আপনি দেখতে পাবেন যে, সামান্য নফল ‘আমলের ব্যাপারেও হাদীসের কিতাবে এক একটি অধ্যায় বা শিরোনাম লেখা হয়েছে। শবেবরাত সম্পর্কে যেসব জাল হাদিস বর্ননা তার মধ্যে এই জাল হাদিস্টা খুবই প্রচলিত আলী ইবনে আবী তালেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন তোমরা রাত জেগে সালাত আদায় করবে আর দিবসে সিয়াম পালন করবে। কেননা আল্লাহ তা’আলা সূর্যাস্তের পর দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করে বলেন : আছে কি কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কোন রিয্‌ক প্রার্থনাকারী আমি রিয্‌ক দান করব। আছে কি কোন বিপদে নিপতিত ব্যক্তি আমি তাকে সুস্থ্যতা দান করব। এভাবে ফজর পর্যন্ত বলা হয়ে থাকে। (ইবনে মাজাহ ও বাইহাকী) প্রথমতঃ এ হাদীসটি জাল। কেননা এ হাদীসের সনদে (সূত্রে) ইবনে আবি সাবুরাহ নামে এক ব্যক্তি আছেন, যিনি অধিকাংশ হাদীস বিশারদের নিকট হাদীস জালকারী হিসাবে পরিচিত।ইমাম বুখারি তাকে খুবই দুর্বল বলেছেন।ইমাম বুখারির উস্তাদ আহমদ তাকে জাল বলেছেন। এ যুগের বিখ্যাত মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দীন আল-বানী (রহঃ) বলেছেন, হাদীসটি সনদের দিক দিয়ে একেবারেই জাল। দ্বিতীয়তঃ অপর একটি সহীহ হাদীসের বিরোধী হওয়ার কারণে এ হাদীসটি গ্রহণযোগ্য নয়। সে সহীহ হাদীসটি হাদীসে নুযুল নামে পরিচিত, যা ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাদের কিতাবে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি হল : অর্থ : আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : আমাদের রব আল্লাহ তা’আলা প্রতি রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকী থাকতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন ও বলতে থাকেন : কে আছ আমার কাছে দু’আ করবে আমি কবুল করব। কে আছ আমার কাছে চাইবে আমি দান করব। কে আছ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করব। (বুখারী ও মুসলিম) আর উল্লিখিত হাদীসের বক্তব্য হল আল্লাহ তা’আলা মধ্য শাবানের রাতে নিকটতম আকাশে আসেন ও বান্দাদের দু’আ কবুলের ঘোষণা দিতে থাকেন। কিন্তু বুখারী ও মুসলিম বর্ণিত এই সহীহ হাদীসের বক্তব্য হল আল্লাহ তা’আলা প্রতি রাতের শেষের দিকে নিকটতম আকাশে অবতরণ করে দু’আ কবুলের ঘোষণা দিতে থাকেন। আর এ হাদীসটি সর্বমোট ৩০ জন সাহাবী বর্ণনা করেছেন এবং বুখারী এবং মুসলিম ও সুনানের প্রায় সকল কিতাবে এসেছে। তাই হাদীসটি প্রসিদ্ধ। অতএব এই মশহুর হাদীসের বিরোধী হওয়ার কারণে হাদীসটি পরিত্যাজ্য হবে। যারা বাপদাদার দেখানো পথের পূজা করেনা, যারা আল্লাহকে ভয় করে কুরআনের কাছে মাথা নত করে দেয় সেইসব মুমিনদের জন্য এটুকু দৃষ্টান্তই যথেষ্ট যে ইসলামে আলাদা কোন শবে বরাতের স্থান নেই। এক্ষেত্রে আর কোন যুক্তি দিতে হবে বলে মনে করিনা। অবশ্য যারা সত্যটা মানতে দ্বিধা করে তারা মুসলমান নয়। তারা হিন্দু পরিবারে জন্ম নিলে কট্টোর হিন্দুই হতো, তারা সত্যটা খুঁজেও দেখেনা। কুরআন কোথাও বলেনি ‘আমাকে না যাচাই করেই বিশ্বাস করো’ বরং বারবার বলেছে ‘যাচাই করো, চিন্তা করো, উপলব্ধি করো, প্রচার করো।’ আল্লাহ্‌ যুক্তি দিয়ে কথা বলতে বলেছে (সুরা জুমার, ১৮) তাই যুক্তি দিয়েই প্রমান করা হল যে শবে বরাত একটি বিদআত এবং কুফরি। কারন আল্লাহ্‌ যেখানে বলছে রমজান মাসে কুরআন নাজিল করেছেন এবং সেটাই বরকতময় রাত সেখানে নিজেদের তৈরি বানোয়াট রাতকে বরকতময় রাত ঘোষনা করাটা আল্লাহ্‌র সাথে মশকরা করা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর আল্লাহ্‌র বাণীকে অস্বীকার করাই কুফরি এবং সে সঙ্গে সঙ্গে কাফির হয়ে যায়। আল্লাহ্‌ আমাদের রক্ষা করুন।এবার আসুন দেখি আমাদের সমাজে প্রচলিত শবে বরাত মানক বিদআতটির ভণ্ডামি। ভণ্ডদের ফতোয়ামতে শবে বরাত একটি পুন্যের রাত বা বরকতময় রাত। অনেক ওলামায়ে কেরামগন বিশ্বাস করেন যে, এই রাত্রিতে মানুষের ভাগ্য লিখা বা বন্টন করা হয়। অথচ আল্লাহ্‌ পাক ইরশাদ করছেন ‘এটা ছিল সেই রাত যে রাতে আমার নির্দেশে প্রতিটি বিষয়ে বিজ্ঞোচিত ফায়সালা দেয়া হয়ে থাকে৷’ (সুরা দুখান, ০৪)। সুতরাং ভাগ্য বন্টন করা হয় কেবল লাইলাতুল কদরেই, শবে বরাতে নয়। তাই এইধরনের আকিদাহ তে বিশ্বাসীরা কাফির হয়ে যাবে। এ রাতে মানুষ আল্লাহকে খুশি করার জন্য সারারাত নফল নামাজ আদায় করে। হাজার রাকাতের নামাজ খ্যাত সালাতুল মুবারক আদায় করে, অথচ এই সালাতের কোন দলিল নেই এটা ভুয়া এবং বিদআত। কোন সহিহ হাদিসে এটা নেই। এবার আসুন রুটি ও হালুয়ার ভণ্ডামি পেশ করি। শবে বরাতে বাড়িতে বাড়িতে হালুয়া ও রুটি তৈরি করে খাওয়া হয়। কারন জানতে চাইলে তারা বলে ‘উহুদের যুদ্ধে রাসুল সাঃ এর দাঁত শহিদ হওয়াতে তিনি শক্ত গোসত রুটি খেতে পারেন নি তাই হালুয়া রুটি খেয়েছিলেন।’ বাহবা কত সুন্দর ভণ্ডামি। কিন্তু শয়তানের বুদ্ধি মুমিনের চেয়ে উত্তম নয়। উহুদের যুদ্ধ হয়েছিল কবে? উহুদের যুদ্ধ হয়েছিল শাউয়াল মাসের ১১ তারিখ রোজ শনিবার সকাল ১১ টায়। আর শবে বরাত পালিত হয় শাবান মাসের ১৫ তারিখ। কত সুন্দর যুক্তি বিদআতের! শাউয়াল মাসে দাঁত শহিদ হয়ে রাসুল সাঃ রুটি খেয়েছিলান শাবান মাসে?? এটা কি মেনে নেওয়ার মত কোন যুক্তি? রুটি হালুয়া আরেকটি বিদআত। হ্যাঁ আপনি খাওয়ার জন্য তৈরি করুন, প্রতিবেশীদের বণ্টন করুন, গরীব দুঃখীদের বণ্টন করুন এতে সওয়াব আছে কিন্তু শবে বরাতের উদ্দেশে তা পালিন করে হালুয়া রুটি খাওয়া সম্পুর্ন বিদআত ও কুফরি।

বিয়ের জন্য দ্বীনদার পাত্রী

বিয়ে জন্য দ্বীনদার পাত্রী

বিয়ে জন্য দ্বীনদার পাত্রী
                                                   বিয়ে জন্য দ্বীনদার পাত্রী

যুবক বিয়ে করার জন্য হন্যে হয়ে পাত্রী খুঁজে চলছে। পাত্রী হতে হবে দ্বীনদার। একজায়গায় এক দ্বীনদার পাত্রীর সন্ধান পেল। শর’য়ীভাবে পাত্রীকে দেখতে পাত্রীর বাড়ি গেল। পাত্রীর সাথে কথাবার্তা চলার একপর্যায়ে পাত্রী যুবককে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করল- ‘আপনি কুরআনের কতটুকু মুখস্ত করেছেন?

– একটুওনা। তবে সর্বদা চেষ্টা করি, যেন আল্লাহর
একজন সৎকর্মশীল বান্দা হতে পারি। যুবক পাল্টা
প্রশ্ন করে বসল- ‘আপনি কতটুকু মুখস্ত
করেছেন?’
– আমপারা মুখস্ত করেছি।

উভয় ফ্যামিলির গার্জিয়ানদের উদ্দোগে এ – পাত্রীর সাথেই যুবকের বিয়ে হয়ে গেল। তারা হয়ে গেল স্বামী-স্ত্রী কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামী অনুভব করল যে, সে দুনিয়াতেই যেন একটুকরো জান্নাতের মালিক বনে গেছে। স্ত্রী- ও অনুভব করল যে, তার স্বামী তখন সত্য বলেছে। সত্যিই সে একজন সৎকর্মশীল বান্দা।

একদিন স্ত্রী স্বামীকে বলল- ‘এই, আসুন না আমাকে কিছু কুরআন মুখস্ত করিয়ে দেবেন? স্বামী বলল- ‘হ্যাঁ, চলো, আমরা উভয়েই মুখস্ত করব। একে অপরকে মুখস্ত করিয়ে দেবো। যেই কথা সেই কাজ। তারা একে অপরকে কুরআন মুখস্ত করিয়ে দিতে শুরু করল।

উভয়ে একেরপর এক সুরা মুখস্ত করতে থাকল একে অপরকে শোনানোর মাধ্যমে। এভাবে একদিন তারা উভয়েই কুরআনের হাফেজ ও হাফেজা হয়ে গেল! শুধু তাই নয়; একটি প্রতিষ্টান থেকে সার্টিফিকেটও নিয়ে নিল।

কিছুদিন পর স্বামী তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে শ্বশুরালয়ে গেল। গিয়েই শ্বশুরকে অতি আহ্লাদে খবর দিল- ‘আব্বু, আপনার মেয়ে হাফেজা হয়ে গেছে! খবরটি শুনে শ্বশুর যারপরনাই আশ্চর্য হয়ে গেলেন! তিনি মেয়েজামাইকে কিছু না বলে উঠে মেয়ের রুমে গিয়ে কিছু কাগজপত্র নিয়ে আসলেন। কাগজপত্রগুলো দেখে যুবকের চোখ তো ছানাবড়া! এ যে তার স্ত্রীর কুরআন হিফজের প্রাতিষ্টানিক সার্টিফিকেট!

তার মানে তার স্ত্রী বিয়ের আগে থেকেই কুরআনের হাফেজা ছিল! এইবার যুবক আসল ব্যাপার বুঝতে পারল। আসলে তার স্ত্রী কুরান মুখস্ত করিয়ে দেয়ার ভান করে মূলত: তাকেই হাফেজ বানানোর কৌশল অবলম্বন করেছিল! স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতায় যুবকের দিল ভরে গেল।তার দু’চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল ক’ফোটা আনন্দাশ্রু।