যে যত বেশি শিক্ষিত সে তত বেশি নির্লজ্জ !

যে যত বেশি শিক্ষিত সে তত বেশি
নির্লজ্জ ! সে তত বেশি অসভ্য !
** কেন বললাম..??
—–কারণ
** আমি কখনো দেখিনি-গ্রামের একটা
অশিক্ষিত
মেয়ে অর্ধ নগ্ন জামা-কাপড় পড়ে
রাস্তায়
চলাফেরা করতে ।। কিন্তু – আমি অসংখ্য
শিক্ষিত
মেয়েকে দেখেছি অর্ধনগ্ন হয়ে
লোকালয়ে ঘুরতে ।
** আমি কখনো দেখিনি পড়াশোনা
না জানাএকটা ছেলে গার্লফ্রেন্ডের
জামার ভেতরে হাতদিয়ে রাস্তায় হাটতে
।। কিন্তু
অসংখ্য শিক্ষিত ছেলেকে দেখেছি
এইনির্লজ্জ
দৃশ্যে।
** আমি কখনো শোনিনি অশিক্ষিত কোন
ছেলে মেয়ের সেক্স স্ক্যান্ডাল বের
হয়েছে ।। কিন্তু শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের
এই অসভ্যকার্য আমরা প্রতিনিয়ত শোনছি।
** আমি কখনো শোনিনি গ্রামের
অশিক্ষিত ১২-১৩ বছরের ছেলে মেয়ে
হোটেলে রাত কাটাতে গিয়েছে ।।
** আমি কখনোই শোনিনি গ্রামের কোন
অশিক্ষিত কৃষক অসংখ্য মেয়েদের সতিত্ব
নিয়ে
খেলা করতে ।। কিন্তু শিক্ষিত পরিমলের
কথা
আমরা সবাই জানি ।
** আমি কখনো শোনিনি একটি অশিক্ষিত
মেয়ে
তার হাত খরচার জন্য দেহ বিক্রি করেছে
।। কিন্তু –
ইউনিভারসিটি কলেজের বেহায়াদের
কথা আমরা সবাই
শোনেছি ।।
** আমি কখনো শোনিনি গ্রামের কিছু
অশিক্ষিত
ছেলে মেয়ে ল্যাংটা ছবি বানাতে গিয়ে
ধরা
খেয়েছে ।।
* এইবার প্রশ্ন শুধু একটা বলুন অসভ্য এবং
নির্লজ্জ
কারা??
এটার নাম ই কি শিক্ষিত সমাজ?
এটার নাম ই কি সভ্যতা?
কেউ কেউ বলে ‘তাহলে কি দেশ থেকে শিক্ষা তুলে দিলে ভালো হবে?
আমি বলি কেনো শিক্ষা তুলে দিবে?
প্রতিটা স্কুল কলেজে যদি ধর্মিয় শিক্ষা -বোরকা ‘হিজাব বাধ্যতা মূলক করা হতো’আর ছেলে মেয়েদের ওপেন চলাচল বন্ধ করে দেয়।তাহলে হয়তো কিছু কিছু শিক্ষিত অসভ্য মানুষ কিছুটা সভ্য হতো।

আমি কথাগুলো সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলিনি ।
শুধু যারা এই সব করে তাদের বলছি ।

আরে শিক্ষা অর্জন করো ঐ শিক্ষা -যে শিক্ষা মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।
দুনিয়া ও আখিরাত সুন্দর করে-
সমাজের মানুষ তাকে ভালো বলবে।
সবার কাছে সম্মান পাবে।

আর হমম কিছু কিছু মা ও বাবার উদ্দেশ্যে বলছি।
সন্তানের খুজ খবর নেনতো ঠিকঠাক ।কি করে কোথায় যায়?
কি ভাবে চলাফেরা করে?
ও মা ও বাবা তোমরা কি জানোনো -ছেলেমেয়েদের জন্যই তোমরা অপরাধ না করেও অপরাধী হবে।এদের জন্যই তোমাদের কে জাহান্নামে দিবে।
কেনো তোমরা ছেলে মেয়ের জন্য শাস্তি ভোগ করবে?
সময় থাকতে তোমরা তোমাদের ছেলে ‘মেয়েকে
বুঝাও কোন কাজ করলে ভালো হবে -কোনটা করলে খারাপ ।
ভালো কাজের আদেশ এবং খারাপ কাজের নিষেধ করো।
আর ভাই বোনদের উদ্দেশ্যে বলছি ।
তোমরা কি চাও – নিজের কঠিন পরিস্থিতি ও মা বাবার শাস্তি।
আশা করি কোনো ছেলে কিংবা মেয়েরা
নিজের _ এবং মা বাবার খারাপ টা চায় না।

ওকে ‘
পরিশেষে সবাইকে বলতে চাই ।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ো।
হালাল হারাম মেনে চলো’
আল্লাহর আদেশ নিষেধ- নবীর সুন্নত অনুযায়ী জীবন গড়ো'”
তবেইতো জীবন সুন্দর ও সার্থক হবে।

★#বিঃদ্রঃ- পোষ্টটি কেমন লাগল?
আপনার মূল্যবান লাইক ও কমেন্ট দিয়ে জানাতে ভুলবেন না।
পোস্ট ভাল লাগলে #শেয়ার_করবেন

দুহাত কাটার পরেও হাতের অবশিষ্টাংশ দিয়ে ইসলামের পতাকা দরছিলেন যে সাহাবী

হযরত মুসআব ধনীর দুলাল ছিলেন। কিন্তু ইসলাম গ্রহন করার পর তাঁর উপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। দীর্ঘদিন বন্দী করে রাখা হয়। একদিন বন্দী জীবনের শৃংখল ভেংগে আবিসিনায় চলে যান। সেখান থেকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন একটি পোশাক পরিধান করে মদীনায় আসেন। হযরত মুসআবের এই দুরবস্থা দেখে আল্লাহর রাসুল (সা) এর চোখ অশ্র“ সিক্ত হয়। কেননা মুসআব খুবই আরাম আয়েশের জীবন যাপন করতো। শুধুমাত্র ইসলাম গ্রহন করার কারণে তার এই দুরবস্থা।

মুসআব মদীনায় আসার পর ওহুদ যুদ্ধ সংগঠিত হয়। উক্ত যুদ্ধে মুসআবের হাতে ছিল ইসলামের পতাকা। যুদ্ধের ময়দানে শত্র“র প্রচন্ড আঘাতে মুসআবের ডান হাত কেটে যায়। এরপর তিনি বাম হাত দিয়ে ইসলামের পতাকা উড্ডীন রাখেন। একটু পরে বাম হাতও কাটা যায়। দুহাত কাটা যাওয়ার পর দুই হাতের অবশিষ্টাংশ দিয়ে ইসলামের পতাকা বুকে ধরে রাখলেন। যতক্ষণ প্রাণ ছিলো ইসলামের পতাকা মাটিতে পড়তে দেন নাই। অবশেষে শত্রু “ পক্ষের তীরের আঘাতে তিনি শহীদ হন।

জিনদের আবাসস্থল

হযরত বিলাল বিন হারিস বলেন , একদা আমি হুজুর (স.)-এর সঙ্গে কোন এক স্থানে ভ্রমনে গেলাম । হুজুর (স.) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে এক স্থানে গমণ করলে আমি পানির পাত্র নিয়ে গেলাম । সেখানে আমি কিছু লোকের শোরগোল শুনতে পেলাম । এ রকম শোরগোল আমি ইতিপূর্বে আর শ্রবন করিনি ।

প্রয়োজন শেষে হুজুর (স.) ফিরে এলে জিজ্ঞেস করলাম -ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি আপনার পাশে মানুষের মতো ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পেলাম । মানুষের এ ধরনের ঝগড়া আমি আগে আর কখনো শুনিনি । হুজুর (স.) তাকে বললেন , ‘‘আমার নিকট মুসলমান ও মুশরিক জিন ঝগড়া করছিল’’ । তারা আমার নিকট তাদের আবাস স্থলের আবেদন করে । আমি মুসলমান জিনকে লোকালয় ও পাহাড় এবং মুশরিক জিনকে খাড়ী, গর্ত এবং সমুদ্রোপকূলে বসবাসের স্থান করে দিলাম ।
সাপের বা ইঁদুরের গর্তে জিনেরা বসবাস করে

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সরজিছ (রা.) থেকে বর্ণিত নবী করিম (স.) গর্তে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন । লোকেরা হযরত কাতাদাহ (রা.)-এর নিকট প্রশ্ন করল যে , গর্তে পেশাব করা নিষেধ কেন ? জবাবে তিনি বলেন , গর্ত হলো জিনদের বসবাসের জায়গা । (আবু দাউদ)

জিনেরা পানিতেও বসবাস করে

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন হযরত হাসান (রা.) ও হযরত হোসাইন (রা.) শুয়েছিলেন । তাঁদের গায়ে চাদরও ছিল । চাদর দিয়ে শয়ন করাকে আমি গুরুত্ব দিলাম । এভাবে শুয়ে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে আমাকে জানানো হলো হে আবু সাঈদ তুমি কি জানো না যে, পানিতেও জিন্নাত বসবাস করে ।

কথিত আছে যে, রাতে জিনেরা পানিতে বসবাস করে । এ জন্য রাতের বেলা পানিতে পেশাব করা ও গোসল করা উচিৎ নয় । কারণ একটি মাখলুকের ( জিন্নাতের) কষ্ট হয়।

পানির ঝোপ ঝাড়ে জিন্নাত বসবাস করে

হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (স.) এরশাদ ফরমান-

অর্থাৎ: নবী করিম (স.) ঝোপ ঝাড়ে স্নান করতে নিষেধ করেছেন । জিজ্ঞেস করা হল কেন ? হুজুর (স.) ফরমালেন- তোমাদের কেউ এমন স্থানে গেল যেখানে কচি ঘাস রয়েছে এবং সেখানে পানি বুগলাতে থাকে, যেহেতু এগুলো তোমাদের ভাই জিনদের বসবাসের স্থান

ইসলাম সম্মত উপায়ে উলঙ্গ হয়ে পুরুষ-মহিলার গোসলের নিয়ম

উলঙ্গ হয়ে গোসল করা জায়েয আছে তবে এটা একেবারে অনুত্তম কাজ , সুন্নতের পরিপন্থী। আল্লাহর রাসুল সা: কখনো এরকম করেনি। মোস্তাহাব ও উত্তম হল লুঙ্গি ইত্যাদি বেঁধে গোসল করা ও মেয়েরা নিচে পায়জামা বা উড়না সাদৃশ্য ও বুকে গামছা সদৃশ্য কিছু রাখবে। কেননা আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ লজ্জাশীল ও পর্দাকারীদের পছন্দ করেন। তাই তোমাদের কেউ যখন গোসল করে তখন সে যেন পর্দা করে নেয়। (তাহতাবী)

গোসলখানায় যদি কোনো পর্দাহীনতা না হয় তাহলে উলঙ্গ হয়ে গোসল করা জায়েয আছে। তবে এটা না করাই উত্তম। কেননা শয়তান তখন ধোকা দেয়। এটা নিন্দনীয় কাজ। ( ফতুয়ায়ে মাহমুদিয়া ৪/৩৮৭)

(এমনিভাবে পর্দার ক্রটি না হলে খোলাস্থানেও উলঙ্গ হয়ে গোসল করা জায়েয আছে তবে এটা ঠিক নয়। সর্ব অবস্থায় আল্লাহকে ভয় করা এবং গোসলের অযুতে নামায জায়েয)

পর্দার মধ্যে কাপড় খোলে গোসল করা জায়েয আছে তবে না করাই উত্তম। এমনিভাবে খোলা মাঠে পুরুষের নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত কাপড় বেঁধে বাকী অংশ খোলা রেখে গোসল করা জায়েয আছে। তাঁর নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত (যা পুরুষের সতর) কারো সামনে খোলা হারাম। (আপকে মাসায়েল : উন কা হল) দ্বিতীয় খন্ড, পৃঃ৮১)

মেয়েরা পেন্টি পরে ও পুরুষেরা জাঙ্গিয়া পরে গোসল করলে যদি কাপড়ের নিচে পানি পৌঁছে যায় এবং শরীরের ঢাকা অংশও ধোয়ে ফেলা যায়, তাহলে গোসল ছহীহ হবে। (আপকে মাসায়েল ২য় খন্ডঃ পৃঃ ৮১)

হযরত মুয়াবিয়া ইবনে হাইদা রা: বলেন রাসুল সা : বলিয়াছেন তুমি তোমার স্ত্রী ও হালালকৃত দাসি ব্যাতিত কারো সামনে নিজের সতর খুলবে না। তিনি প্রশ্ন করলেন তাহলে যখন আমরা নির্জনে একাকিত হয় তখনো কি সতর খুলব ( উলঙ্গ) হব না? রাসুল সা : বলেন তখনো আল্লাহকে লজ্জা কর। কেননা তিনি দেখছেন তোমরা কি অবস্থায় আছ। (জামে তিরমিযী, হাদিসে সহিহ ৭২৬৯)

রাসুল সা: জনৈক সাহাবীকে আদেশ দিলেন যে যখন তোমরা স্বামী স্ত্রী একত্রে সহবাস করবে তখন তোমাদের উপরে একটি লম্বা চাদর দিয়ে দুইজনের শরীর ঢেকে নিবে।

ধর্ষকের হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য লড়াই করা কি নারীর জন্য ওয়াজিব?

প্রশ্ন: কেউ যদি কোন নারীকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয় তখন সেই নারীর উপর আত্মরক্ষা করা কি ওয়াজিব? আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র ব্যবহার করা জায়েয হবে কি?

উত্তর:
যে নারীর সাথে জোরপূর্বক যেনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে সে নারীর উপর আত্মরক্ষা করা ফরজ। তিনি কিছুতেই দুর্বৃত্তের কাছে হার মানবেন না। এজন্য যদি দুর্বৃত্তকে হত্যা করে নিজেকে বাঁচাতে হয় সেটা করবেন। এই আত্মরক্ষা ফরজ। ধর্ষণ করতে উদ্যত ব্যক্তিকে হত্যা করার কারণে তিনি দায়ী হবেন না। এর সপক্ষে দলিল হচ্ছে- ইমাম আহমাদ ও ইবনে হিব্বান কর্তৃক সংকলিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস,
“যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার জীবন রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার ধর্ম রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ।”
এ হাদিসের ব্যাখ্যায় এসেছে- “যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ” অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার স্ত্রী অথবা অন্য কোন নিকটাত্মীয় নারীর ইজ্জত রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল (সে শহীদ)।

যদি স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষা করার জন্য লড়াই করা ও ধর্ষকের হাত থেকে স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হওয়া স্বামীর জন্য বৈধ হয় তাহলে কোন নারী নিজের ইজ্জত নিজে রক্ষা করার জন্য প্রাণান্তকর লড়াই করা; এই ধর্ষক, জালিম ও দুর্বৃত্তের হাতে নিজেকে তুলে না দিয়ে নিহত হওয়া সে নারীর জন্য বৈধ হওয়া অধিক যুক্তিপূর্ণ। কেননা তিনি যদি নিহত হন তাহলে তিনি শহীদ। যেমনিভাবে কোন নারীর স্বামী তার স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষা করতে গিয়ে যদি নিহত হন তিনি শহীদ। শহীদি মৃত্যুর মর্যাদা অনেক বড়। আল্লাহর আনুগত্যের পথে, তাঁর পছন্দনীয় পথে মারা না গেলে এ মর্যাদা লাভ করা যায় না। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা এ ধরনের প্রতিরোধকে তথা কোন ব্যক্তির তার স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষার জন্য লড়াই করাকে এবং কোন নারীর তার নিজের ইজ্জত রক্ষার জন্য লড়াই করাকে পছন্দ করেন। আর যদি কোন নারী আত্মরক্ষা করতে সমর্থ্ না হন, পাপিষ্ঠ ও দুশ্চরিত্র লোকটি যদি তাকে পরাস্ত করে তার সাথে যেনাতে লিপ্ত হয় তাহলে এ নারীর উপর হদ্দ (যেনার দণ্ড) অথবা এর চেয়ে লঘু কোন শাস্তি কার্যকর করা হবে না। কারণ হদ্দ কায়েম করা হয় সীমালঙ্ঘনকারী, পাপী ও দুশ্চরিত্র ব্যক্তির উপর।
http://bdpromoters.com/wp-content/uploads/2016/06/image.jpg
ইবনে কুদামা হাম্বলির “মুগনী” নামক গ্রন্থে এসেছে- যে নারীকে কোন পুরুষ ভোগ করতে উদ্যত হয়েছে ইমাম আহমাদ এমন নারীর ব্যাপারে বলেন: আত্মরক্ষা করতে গিয়ে সে নারী যদি তাকে মেরে ফেলে… ইমাম আহমাদ বলেন: যদি সে নারী জানতে পারেন যে, এ ব্যক্তি তাকে উপভোগ করতে চাচ্ছে এবং আত্মরক্ষার্থে তিনি তাকে মেরে ফেলেন তাহলে সে নারীর উপর কোন দায় আসবে না। এ প্রসঙ্গে ইমাম আহমাদ একটি হাদিস উল্লেখ করেন যে হাদিসটি যুহরি বর্ণনা করেছেন কাসেম বিন মুহাম্মদ থেকে তিনি উবাইদ বিন উমাইর থেকে। তাতে রয়েছে- এক ব্যক্তি হুযাইল গোত্রের কিছু লোককে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করল। সে ব্যক্তি মেহমানদের মধ্য থেকে এক মহিলাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছিল। তখন সে মহিলা তাকে পাথর ছুড়ে মারেন। যার ফলে লোকটি মারা যায়। সে মহিলার ব্যাপারে উমর (রাঃ) বলেন: আল্লাহর শপথ, কখনই পরিশোধ করা হবে না অর্থাৎ কখনোই এই নারীর পক্ষ থেকে দিয়ত (রক্তমূল্য) পরিশোধ করা হবে না। কারণ যদি সম্পদ রক্ষার্থে লড়াই করা জায়েয হয় যে সম্পদ খরচ করা, ব্যবহার করা জায়েয তাহলে কোন নারীর তার আত্মরক্ষার্থে, খারাপ কাজ থেকে নিজেকে হেফাযত করতে গিয়ে, যেনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে- যে গুনাহ কোন অবস্থায় বৈধ নয়- লড়াই করা সম্পদ রক্ষার লড়াই এর চেয়ে অধিক যুক্তিপূর্ণ। এইটুকু যখন সাব্যস্ত হল সুতরাং সে নারীর যদি আত্মরক্ষা করার সামর্থ্য থাকে তাহলে সেটা করা তার উপর ওয়াজিব। কেননা দুর্বৃত্তকে সুযোগ দেয়া হারাম। এক্ষেত্রে আত্মরক্ষা না করাটাই তো সুযোগ দেয়া।[আল-মুগনি (৮/৩৩১)] আল্লাহ ভাল জানেন।[আল-মুফাসসাল ফি আহকামিল মারআ (৫/৪২-৪৩)]

দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পিছনের গল্প আপনি জানেন কি ?

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (পূর্বনাম: দেলোয়ার শিকদার;[১] ইংরেজি: Delwar Hossain Sayeedi) একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য; যাকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসাবে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী কার্যক্রমে সাহায্য করার| অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে-আমির বা ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার এবং ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

২০১১ সালে সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার বিরূদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটতরাজ ও সংখ্যালঘু হিন্দুদের জোড়পূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ২০ দফা অভিযোগ আনা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০টি অভিযোগের মধ্যে প্রদত্ত বিচারের রায়ে আটটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং দু’টি অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।। তার ফাঁসির রায় ঘোষণা হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রতিবাদ ও সহিংসতা শুরু করেছিল। এই রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। ১৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিলের রায় পর্যবেক্ষণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির সাজা কমিয়ে সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদন্ড প্রদাণ করে।
প্রারম্ভিক জীবন
দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর জন্ম পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী গ্রামে, ১লা ফেব্রুয়ারি, ১৯৪০ সালে। তার বাবা ইউসুফ সাঈদী একজন ইসলাম ধর্মে পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]। ছোটবেলায় তিনি স্থানীয় লোকদের কাছে দেলোয়ার শিকদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি তার প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় একটি মাদ্রাসায়।

তিনি ১৯৬২ সালে ছারছিনা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন ও পরবর্তিতে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসায় স্থানান্তরিত হন। ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের পর সাঈদী স্থানীয় গ্রামে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি মুসলমান আলেম বা মওলানা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ৩০ বছর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিচারে তাকে ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে মানবাতাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করে।[১৮] যাইহোক, তার পুত্র মাসঊদ সাঈদীর মতে তিনি ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে ছিলেন না এবং ১৯৬৯ সাল থেকে তিনি যশোরে বসবাস করছিলেন।[১৭]

সাঈদী বাংলা, উর্দু, আরবি ও পাঞ্জাবি ভাষায় দক্ষ এবং ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায়ও তার দক্ষতা রয়েছে
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) স্বাধীনতা-যুদ্ধ শুরু হয়। ২৫শে মার্চ, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে হাজার হাজার নিরীহ বাংলাদেশীকে সেই রাতে হত্যা করে যা ইতিহাসে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা পায়।[১৯][২০] দেলওয়ার হোসেন সাঈদী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেন।[২১][২২] তিনি সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করার দায়ে অভিযুক্ত।[২৩] পাকিস্তান সেনাবাহিনী সাহায্যার্থে সে সময় বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনী গঠন করা হয়, আধাসামরিক বাহিনী রাজাকারের সক্রিয় সদস্য হিসেবে সাঈদীর বিরোদ্ধে হত্যা, লুণ্ঠন, নির্যাতন ও জোড়পূর্বক সংখ্যালঘু হিন্দুদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় স্থানীয়ভাবে ‘দেইল্যা রাজাকার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যাই হোক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার আইনজীবী তার পক্ষে বলেন, ১৯৭১ সালের দেলওয়ার হোসাইন শিকদার ওরফে ‘দেইল্যা রাজাকার’ এক ব্যক্তি নন; কুখ্যাত ‘দেইল্যা রাজাকারকে’ স্বাধীনতা যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধারা আটক করেন ও হত্যা করেন। এর পূর্বে যুদ্ধাপরাধের অপর একটি মামলায় তার দল জামায়াতে ইসলামীর আরেক নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার পক্ষেও একই কথা বলা হয়েছিল যে, কাদের মোল্লা ও ‘কসাই কাদের’ একই ব্যক্তি নন। উল্লেখ্য যে, আদালতের রায়ে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৮০’র দশকের প্রথমদিকে সাঈদী সাড়াদেশব্যাপী ইসলামী ওয়াজ-মাহফিল ও তাফসির করা শুরু করেন এবং তার সুন্দর বক্তব্য দানের ক্ষমতার জন্য দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন; এ সময়ই তিনি রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনী জোট গঠন করে এবং তিনি এই নির্বাচনে পুনরায় জাতীয় সংসদ-এর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন
বিদেশভ্রমণ বিতর্ক
২০০৬ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদনের পর সাঈদী যুক্তরাজ্যে যান লন্ডন ও লুটনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখার জন্য। [২৮] অনেক ব্রিটিশ সংসদ সদস্য তার এই ভ্রমণকে বিতর্কিত হিসেবে গণ্য করে। কিছু ফাঁস হওয়া ইমেইল নিয়ে দি টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখান থেকে জানা যায় যে একজন উপদেষ্টা, এরিক টেইলর বলেছেন, “যুক্তরাজ্যে সাঈদীর পূর্ববর্তী ভ্রমণেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে তার অনুসারীদের আক্রমণাত্নক আচরণের জন্য।” [২৯]

২০০৬ সালের ১৩ই জুলাই ব্রিটিশ সাংবাদিক একটি ডকুমেন্টরি প্রকাশ করেন যার শিরোনাম ছিল “হু স্পিকস ফর মুসলিম? (Who speaks for Muslim?)” এখানে সাঈদীকেও যুক্ত করা হয় এবং তাকে চরমপন্থী মতবাদ-দাতা বলে উল্লেখ করা হয়। ব্রিটিশ বাংলাদেশী সম্প্রদায়ে সাঈদীর বড় একটি অনুসারী অংশ রয়েছে। তিনি ১৪ই জুলাই, ২০০৬ সালে পূর্ব লন্ডন মসজিদে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রিত হন; পরবর্তিতে ব্রিটেনে মুসলিম কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আব্দুল বারী তারা এই আমন্ত্রন সমর্থন করেন।

২০০৯ সালের ২৪শে জুলাই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা সাঈদীকে বিদেশ ভ্রমণে বাধা দেন। তার বিদেশ ভ্রমণের উপর সরকারের এই বিধিনিষেধ আরোপকে অস্বীকার করে সাঈদী হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন ফাইল করেন ২৭শে জুলাই। চেম্বার জজের সামনে অ্যাটর্নি জেনারেল বিধিনিষেধের সপক্ষে যুক্তি দেখান যে, ১৯৭১ সালে সাঈদী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলেন এবং সাঈদীকে যদি বিদেশ যেতে বাধা না দেওয়া হয় তাহলে তিনি যুদ্ধাপরাধীদেরকে আদালতে অভিযুক্ত করার সরকারের যে উদ্যোগ, এর বিরূদ্ধে বিদেশে প্রচারণা চালাতে পারেন
ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগ
বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও আহমদিয়াদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচার ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে বৃটিশ মিডিয়া যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সাঈদীর ভিসা বাতিলের জন্যে অনুরোধ জানায়।

গ্রেফতার[সম্পাদনা]
“ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতিতে আঘাত করেছে” মর্মে অভিযোগে ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ২১ মার্চ তারিখে দায়েরকৃত বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর মামলার প্রেক্ষিতে ঐ বছর ২৯ জুন তারিখে রাজধানীর শাহীনবাগের বাসা থেকে পুলিশ দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে গ্রেপ্তার করে।[৩৩]

যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য অভিযোগ[সম্পাদনা]
অভিযোগ রয়েছে যে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী তৎকালীন সাবডিভিশনাল পুলিশ অফিসার ফায়জুর রহমান কে হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন।
১৯৯৪ সালে প্রকাশিত একটি গণতদন্ত প্রতিবেদনে সাঈদী কে আল বদর বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের সাথে যুক্ত থাকার জন্য অভিযুক্ত করা হয়।[৩৫] মানিক পশারী নামে একজন ২০০৯ সালের ১২ই আগস্ট পিরোজপুরে সাঈদী সহ আরও চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মানিক পশারী অভিযোগ করেন যে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছিল এবং বাড়ির তত্বাবধায়ক কে হত্যা করা হয়েছিল।আরও একটি মামলা পিরোজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তার নামে দায়ের করা হয়। এ মামলা দায়ের করেন মহিউদ্দীন আলম হাওলাদার নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা।
দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী দাবী করেন আদালত ফতোয়া (ধর্মীয় অনুশাসন) নিয়ন্ত্রণ করবে না, বরং ফতোয়াই আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করবে।.
তাবলিগি কর্মকান্ডের আড়ালে তিনি বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য প্রদান করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সাঈদীর ভূমিকার কথা লেখার কারনে তিনি বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার পিরোজপুরের স্থানীয় সাংবাদদাতাদের হুমকি দেন
মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির রায়[সম্পাদনা]
তাঁর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন, ধর্মান্তর করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।[৪৩] এর মধ্যে দুটি অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, বৃহস্পতিবার বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় দেন।[৪৬] সাঈদীর বিরুদ্ধে থাকা ২০টি অভিযোগের মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে ৬, ৭, ৮, ১০, ১১, ১৪, ১৬, ১৯ নম্বর অভিযোগ। এর মধ্যে ৮ ও ১০ নম্বর অভিযোগে তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়। এই জন্য ৬, ৭, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৯নং অভিযোগ প্রমাণিত হলেও এতে কোনো সাজার কথা ঘোষণা করেননি ট্রাইব্যুনাল। তবে,তার বিরুদ্ধে আনা অন্য ১২টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে সেগুলো থেকে খালাস দেওয়া হয়
সূত্র : উইকিপিডিয়া

এক চাষী ও তার ক্ষেত

একদিন এক চাষী জমিতে হাল চাষ
করতেছিল।সে এতটাই গরিব ছিল যে নিজের
জমি ছিল না তাই অন্যের জমি মানে বর্গা
চাষ করত।সে জমি খুড়ার সময় ২ টি পুরাতন
অামলের কলসি পেল এবং অনেক ওজন অনুভব করে
ভাবল এতে অনেক গুপ্ত ধন অাছে অার যাতে
অামার সব অভাব দূর হবে অার দুনিয়াতে ক্ষমতাধর অার কামিয়াবি হইয়া যাব কিন্তু যখন
কলসির মুখ খুলল তখন দেখল ছোট ছোট পাথরে
ভরা। তা দেখে হতাশ হইয়া গেল অার বলল
অামার পরিশ্রম টাই বৃথা।অাবার ভাবল এই
পাথর গুলো অামি ফসল পাকলে পাঁখি তাড়াবো।

যখন ফসল পাকল তখন জমির এক কোনায় ছোট
একটি ছাউনি বানাইয়া তাতে বইসা বইসা ঐ
পাথর গুলো দিয়া পাখি তাড়াইতো ও নদীর
পানি তে ঢিল ছুড়ে পানির শব্দ শুনে মজা নিত
অার এদিক সেদিক ও মানুষ কে ঢিল ছুড়ত মজা করে।
তেমনি একদিন এক লোক জমির পাস দিয়া
যাচ্ছিল অার প্রতিদিনের মত গরিব কৃষকটিও
ঢিল ছুড়ল অার ঐ লোকটির ঘাড়ে লাগল।ঐ
লোকটি ছিল পাথর ব্যবসায়ী। একজন ডাক্তার
যেমন কোথাও গেলে ঐ এলাকার
হাসপাতালের অবস্তা দেখেন,শিক্ষক যেমন
স্কুল/কলেজ দেখে,তেমনি ঐ পাথর ব্যবসায়ী
পাথর ভাল করে দেখে ঢিল যে দিক হতে
এসেছে সেই দিকে গিয়ে লোকটিকে
জিজ্ঞাসা করল এই পাথর দিয়ে কি অাপনি
ঢিল ছুড়ছেন?কৃষকটি বলল হ্যাঁ।ব্যবসায়ী বলল অার
কয়টা অাছে, কৃষক বলল অাপনার হাতে একটা
অার অামার হাতে একটা এই দুইটাই।তখন
ব্যবসায়ী বলল অামি কিনতে চাই সেই জন্য
অাপনাকে ৬০০০ দিরহাম দিব(তৎকালীন সময় ১
দিরহাম ১.৫ ভরি ছিল যার বর্তমান মূল্য প্রতি
দিরহাম ৭৫০০০ টাকা)কৃষকটি এই কথা শুনে
কেদে দিল, ব্যবসায়ী মনে করল তার বুঝি দাম
পছন্দ হয় নি তাই বলল অামি ৮০০০দিরহামের
বেশি অার দিতে পারব না এই কথা শুনার পর
গরিব কৃষক কান্না থামিয়ে বলল অামি দামের
জন্য কান্না করছি না, অামি কান্না করছি এই
জন্য যে এই রকম দুই কলসি পাথর অামার কাছে
ছিল অার এর মূল্য বুঝতে পারলাম তখন যখন
অামার কাছে মাএ ২টাই অাছে।
তাই ভাই অামাদের জীবনের প্রতিটা মিনিট
খুবই দামি।যদি অামরা সময়ের দাম বুঝতাম
তাহলে কখনও অযথা ব্যয় করতাম না।এই
ক্ষনস্থায়ী জীবনে প্রতিটি মুহূর্ত ও কাজ যেন
হয় মহান আল্লাহ্ তায়ালার ইবাদত।কেউ বলতে
পারবে না কখন সে মারা যাবে তাই
অামাদের উচিত সময় কে মূল্যহীন না করে অার
শেষ বয়সের অাশা না করে এখন থেকেই মহান
আল্লাহর হুকুম ও নবী মুহাম্মাদ (স:)এর সুন্নত মেনে
চলা,
পরে যাতে অাফসোস করতে না হয়। আমিন

খলিফা হারুনুর রশীদ ও এক নাস্তিকের গল্প

একবার খলিফা হারুনুর রশীদের নিকট এক নাস্তিক এসে বললেন যে, “আপনার সাম্রাজ্যে এমন কোন জ্ঞানী ব্যক্তিকে ডাকুন, আমি তাকে তর্ক করে প্রমান করে দেব যে এই পৃথিবীর কোন স্রষ্টা নেই । এগুলো নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছে এবং আপনা থেকেই চলে ।” খলিফা হারুনুর রশীদ কিছুক্ষন ভেবে একটি চিরকুট মারফত ইমাম আবু হানিফাকে ডাকলেন ও এই নাস্তিকের সাথে বিতর্কে অংশ নিতে অনুরোধ করলেন । ইমাম আবু হানিফা খবর পাঠালেন যে, তিনি আগামীকাল যোহরের সময় আসবেন, খলিফার প্রাসাদে নামায পড়ে তারপর বির্তকে অংশ নেবেন ।

পরদিন যোহরের নামাযের সময় খলিফা, তার সভাসদবর্গ ও নাস্তিকটি অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু যোহরের নামায তো দূরের কথা আসর শেষ হয়ে গেল তিনি মাগরীবের নামাযের সময় আসলেন । নাস্তিকটি তাঁর কাছে এত দেরীতে আসার কারন জানতে চাইল। তিনি বললেন, “আমি দজলা নদীর ওপারে বাস করি । আমি খলীফার দাওয়াত পেয়ে নদীতে এসে দেখি কোন নৌকা নেই । অনেকক্ষন অপেক্ষা করেও কোন নৌকা পেলাম না । সহসা আমি দেখলাম একটি গাছ আপনা-আপনি উপড়ে পড়ল । তারপর সেটি নিজ থেকেই তক্তায় পরিনত হল । তারপর এটি নিজে নিজে একটি নৌকায় পরিনত হল ।

অত:পর আমি এটায় চড়ে বসলাম । নৌকাটি নিজে নিজে চলতে চলতে আমাকে এপারে পৌছিয়ে দিল । নাস্তিকটি একথা শুনে হো হো করে হেসে ফেলল । তারপর বলল, “ইমাম সাহেব আমাকে কি বোকা পেয়েছেন যে আমি এমন গাজাখুরি গল্প বিশ্বাস করব ? একটা গাছ আপনা থেকে নৌকায় পরিনত হবে এটা কি করে সম্ভব ?” ইমাম আবু হানিফা বললেন, “ওহে নাস্তিক সাহেব ! একটা গাছ যদি আপনা থেকে নৌকায় পরিনত না হতে পারে এবং নদী পরাপার না হতে পারে, তাহলে কিভাবে এই বিশাল আকাশ, চন্দ্র- সূর্য-নক্ষত্র আপনা-আপনি তৈরী হতে এবং চালু থাকতে পারে ?” নাস্তিকটি লা-জওয়াব হয়ে মুখ কাচুমাচু করে বিদায় নিল । খলিফা হারুনুর রশীদ তাঁর তাৎক্ষনিক জবাবে মুগ্ধ হয়ে ইমাম সাহেব কে সসম্মানে বিদায় দিলেন। সুবহানাল্লাহ । ৮ নভেম্বর, ২০১৫/এমটিনিউজ২৪/রাসেল/মাহমুদ

একশতটি কবীরা গুনাহ

একশতটি কবীরা গুনাহ
.
1. আল্লাহর সাথে শিরক করা
2. নামায পরিত্যাগ কর
3. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া
4. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা
5. পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা
6. যাদু-টোনা করা
7. এতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা
8. জিহাদের ময়দান
থেকে থেকে পলায়ন
9. সতী-সাধ্বী মু‘মিন নারীর
প্রতি অপবাদ
10. রোযা না রাখা
11. যাকাত আদায় না করা
12. ক্ষমতা থাকা সত্যেও হজ্জ আদায়
না করা
13. যাদুর বৈধতায় বিশ্বাস করা
14. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া
15. অহংকার করা
16. চুগলখোরি করা (ঝগড়া লাগানোর
উদ্দেশ্যে একজনের কথা আরেকজনের
নিকট লাগোনো)
17. আত্মহত্যা করা
18. আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করা
19. অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ ভক্ষণ
করা
20. উপকার করে খোটা দান করা
21. মদ বা নেশা দ্রব্য গ্রহণ করা
22. মদ প্রস্তুত ও প্রচারে অংশ গ্রহণ
করা
23. জুয়া খেলা
24. তকদীর অস্বীকার করা
25. অদৃশ্যের খবর জানার দাবী করা
26. গণকের
কাছে ধর্না দেয়া বা গণকের
কাছে অদৃশ্যের খবর জানতে চাওয়া
27. পেশাব থেকে পবিত্র না থাকা
28. রাসূল (সাল্লালাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর
নামে মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করা
29. মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করা
30. মিথ্যা কথা বলা
31. মিথ্যা কসম খাওয়া
32. মিথ্যা কসমের মাধ্যমে পণ্য
বিক্রয় করা

33. জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া
34. সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া
35. মানুষের গোপন
কথা চুপিসারে শোনার চেষ্টা করা
36. হিল্লা তথা চুক্তি ভিত্তিক
বিয়ে করা।
37. যার জন্যে হিলা করা হয়
38. মানুষের বংশ মর্যাদায় আঘাত
হানা
39. মৃতের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে ক্রন্দন
করা
40. মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন
থাকা
41. মুসলিমকে গালি দেয়া অথবা তার
সাথে লড়ায়ে লিপ্ত হওয়া
42. খেলার ছলে কোন
প্রাণীকে নিক্ষেপ যোগ্য অস্ত্রের
লক্ষ্য বস্তু বানানো
43. কোন অপরাধীকে আশ্রয় দান করা
44. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু
জবেহ করা

45. ওজনে কম দেয়া
46. ঝগড়া-বিবাদে অশ্লীল
ভাষা প্রয়োগ করা
47. ইসলামী আইনানুসারে বিচার
বা শাসনকার্য পরিচালনা না করা
48. জমিনের সীমানা পরিবর্তন
করা বা পরের জমি জবর দখল করা
49. গীবত তথা অসাক্ষাতে কারো দোষ
চর্চা করা
50. দাঁত চিকন করা
51. সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে মুখ মণ্ডলের
চুল তুলে ফেলা বা চুল উঠিয়ে ভ্রু চিকন
করা
52. অতিরিক্ত চুল সংযোগ করা
53. পুরুষের নারী বেশ ধারণ করা
54. নারীর পুরুষ বেশ ধারণ করা
55. বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কামনার
দৃষ্টিতে তাকানো
56. কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ
করা
57. পথিককে নিজের কাছে অতিরিক্ত
পানি থাকার পরেও না দেয়া
58. পুরুষের টাখনুর
নিচে ঝুলিয়ে পোশাক পরিধান করা
59. মুসলিম শাসকের সাথে কৃত বাইআত
বা আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করা
60. ডাকাতি করা
61. চুরি করা
62. সুদ লেন-দেন করা, সুদ
লেখা বা তাতে সাক্ষী থাকা
63. ঘুষ লেন-দেন করা
64. গনিমত তথা জিহাদের
মাধ্যমে কাফেরদের নিকট
থেকে প্রাপ্ত সম্পদ বণ্টনের
পূর্বে আত্মসাৎ করা
65. স্ত্রীর পায়ু পথে যৌন ক্রিয়া করা
66. জুলুম-অত্যাচার করা
67. অস্ত্র দ্বারা ভয়
দেখানো বা তা দ্বারা কাউকে ইঙ্গিত
করা
68. প্রতারণা বা ঠগ বাজী করা
69. রিয়া বা লোক দেখানোর
উদ্দেশ্যে সৎ আমল করা
70. স্বর্ণ বা রৌপ্যের তৈরি পাত্র
ব্যবহার করা

71. পুরুষের রেশমি পোশাক এবং স্বর্ণ
ও রৌপ্য পরিধান করা
72. সাহাবীদের গালি দেয়া
73. নামাযরত অবস্থায় মুসল্লির
সামনে দিয়ে গমন করা
74. মনিবের নিকট থেকে কৃতদাসের
পলায়ন
75. ভ্রান্ত মতবাদ
জাহেলী রীতিনীতি অথবা বিদআতের
প্রতি আহবান করা
76. পবিত্র মক্কা ও মদীনায় কোন
অপকর্ম বা দুষ্কৃতি করা
77. কোন দুষ্কৃতিকারীকে প্রশ্রয় দেয়া
78. আল্লাহর ব্যাপারে অনধিকার
চর্চা করা
79. বিনা প্রয়োজনে তালাক চাওয়া
80. যে নারীর প্রতি তার
স্বামী অসন্তুষ্ট
81. স্বামীর অবাধ্য হওয়া
82. স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর অবদান
অস্বীকার করা
83. স্বামী-স্ত্রীর মিলনের
কথা জনসম্মুখে প্রকাশ করা
84. স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিবাদ
সৃষ্টি করা
85. বেশী বেশী অভিশাপ দেয়া
86. বিশ্বাস ঘাতকতা করা
87. অঙ্গীকার পূরণ না করা
88. আমানতের খিয়ানত করা
89. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া
90. ঋণ পরিশোধ না করা
91. বদ মেজাজি ও এমন
অহংকারী যে উপদেশ গ্রহণ করে না
92. তাবিজ-কবজ, রিং,
সুতা ইত্যাদি ঝুলানো
93. পরীক্ষায় নকল করা
94. ভেজাল পণ্য বিক্রয় করা
95. ইচ্ছাকৃত ভাবে জেনে শুনে অন্যায়
বিচার করা
96. আল্লাহ বিধান
ব্যতিরেকে বিচার-ফয়সালা করা
97. দুনিয়া কামানোর
উদ্দেশ্যে দীনী ইলম অর্জন করা
98. কোন ইলম
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জানা সত্য
তা গোপন করা
99. নিজের
পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী ক
100. আল্লাহর রাস্তায় বাধা দেয়া
পোস্টটা আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার
করুন মুসলিম ভাই ।
যাতে করে আপনার সকল বন্ধুরা আপনার
কাছে থেকে শিখতে পাড়ে ও
জানতে পাড়ে ।
রাসুল (সাঃ) বলেনঃ “তোমাদের
উপরে দায়িত্ব দিচ্ছি– তোমরা আমার
পক্ষ থেকে একটি হাদিস হলেও
তা প্রচার কর। তবে,
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত আমার
নামে মিথ্যা বলবে, তার আবাসস্থল
হবে জাহান্নাম।”
[বুখারী]