যুল-কিফলের জীবনে পরীক্ষা:ইবলিশ ঐ দিন তার সাথে যা করেছিল

যুল-কিফল’ উক্ত মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন দেখে ইবলীস হিংসায় জ্বলে উঠল। সে তার বাহিনীকে বলল, যেকোন মূল্যে তার পদস্খলন ঘটাতেই হবে। কিন্তু সাঙ্গ-পাঙ্গরা বলল, আমরা ইতিপূর্বে বহুবার তাকে ধোঁকা Continue reading “যুল-কিফলের জীবনে পরীক্ষা:ইবলিশ ঐ দিন তার সাথে যা করেছিল”

একটি ছোট্ট শিশু বয়স ৮ নাম তার আব্দুর রহমান বাড়ি তার আফগানস্থান

ছেলেটির নাম আব্দুর রহমান বাড়ি আফগানস্থানে
আব্দুর রহমানকে তার মা কোরআন শিক্ষা দেয়।
অতপর আব্দুর রহমান Continue reading “একটি ছোট্ট শিশু বয়স ৮ নাম তার আব্দুর রহমান বাড়ি তার আফগানস্থান”

মহানবী (সা:) এর প্রিয় ১২টি খাবার ও তার গুণাবলী

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পছন্দের ১২টি খাবার ও তার গুণাবলী এখানে উল্লেখ করা হলো। দেড় হাজার বছর পর আজকের বিজ্ঞান গবেষণা করে দেখেছে নবীজী (সা.) এর বিভিন্ন খাবারের গুণাগুণ ও উপাদান Continue reading “মহানবী (সা:) এর প্রিয় ১২টি খাবার ও তার গুণাবলী”

নবীজি ও তার নাতি ছোট্ট হোসাইন

একদিন নবীজি (সঃ) তার সাহাবীদের নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এমন সময় তাঁর ছোট নাতি হযরত হোসাইন (রাঃ) সেখানে আসলেন এবং নবীজির কাছে যেতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু নবীজির সাহাবীরা তাঁকে বাধা দিল। তখন Continue reading “নবীজি ও তার নাতি ছোট্ট হোসাইন”

একজন সাহাবী ও তার শেষ কাহিনী

হযরত আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখলাম, জান্নাতে প্রবেশ করেছি। সেখানে কোন পাঠকের পড়ার আওয়াজ শুনতে পেলাম। Continue reading “একজন সাহাবী ও তার শেষ কাহিনী”

এক বৃদ্ধা এবং তার স্বামী

একদিন গরম কালে, এক বৃদ্ধা এবং তার স্বামী একসাথে হেটে যাচ্ছিলেন। কিছুদুর যাবার পর বৃদ্ধার হঠাৎ পানির তৃষ্ণা পেল। তিনি সেই জায়গায় বসে পড়লেন এবং স্বামীকে বললেন একটু পানির ব্যবস্তা করার জন্য। Continue reading “এক বৃদ্ধা এবং তার স্বামী”

এক ব্যক্তি তার নাম ছিল আছাম বিন ইউসূফ

এক ব্যক্তি তার নাম ছিল আছাম বিন ইউসূফ।সে এক আউলিয়ার নিকট আসল।(তার নাম ছিল হাতিমুল আসম।

সে তাকে প্রশ্ন করল আপনি কিভাবে নামাজ পড়েন?তখন সে বলল যখন নামাজের সময় হয় তখন আমি ওযূ করি।বাতেনি ও যাহেরি উভয়টাই।তখন আছেম তাকে জিগ্গাসা করল এটা আবার কেমন?তখন হাতিম বলল যাহেরি ওযূ মানে আমি আমার অন্গগুলো ভালো মত ধুই।আর বাতেনি মানে তার মাধ্যমে আমি 4 জিনিস ধুই 1 তওবা।2 হিংসা।3দুনিয়ার ভালোবাসা ত্যগ।4 আল্লাহর প্রশংসা।অত:পর আমি মসজিদে যাই।তারপর আমার অন্গগুলো বিছিয়ে দেই।

তারপর আমি কা’বাকে দেখতে পাই।এরপর আমি দাড়াই এবং চিন্তা করি আল্লাহ পাক আমাকে দেখতেছেন,জান্নাত আমার ডানে, জাহান্নাম আমার বামে,মালাকুল মউত আমার পিছনে,আর আমি ধারনা করি এই নামাজ আমার জিবনের শেষ নামাজ।অত:পর আমি নিয়্যাত করি,এরপর আমি তাকবির বলি সুন্দরভাবে,পড়ি খুব চিন্তা করে,রুকু ও সিজদা করি বিনয় ও নম্রতার সাথে,তাশাহুদ পড়ি আশা নিয়ে,সালাম ফিরাই ইখলাছের সাথে।এই রকম ভাবে নামাজ আমার 30 বছর যাবৎ চলতেছে।তখন আছেম অনেক কাঁদা কাঁদলেন।এজন্য আমাদের উচিৎ এইভাবে নামাজ পড়া।এরকম আরো ঘটনা পেতে এই পেইজে লাইক দিন।

ইমাম মাহাদী ও তার আগমন পূর্ব আলামত সমূহ

ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে যে রাসূলে করীম (সাঃ)- এর ইন্তেকালের পর ইমাম মাহদী হওয়ার দাবীদার বহুলোকের আবির্ভাব এই পৃথিবীতে ঘটেছে এবং ঘটছে। প্রকৃত মাহদীর আত্মপ্রকাশের পূর্বে বহুলোক মিথ্যা মাহদী সেজে মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করছে।টএর মধ্যে (১) মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (২) সিরিয়ার এক বিভ্রান্ত যুবক (৩) বাংলাদেশের অন্তর্গত বরিশালের এক ভন্ড মাওলানা (৪) দক্ষিণ ইয়েমেনের একজন বস্ত্র ব্যবসায়ী (৫) ইরানের একজন সিয়া নেতা এবং (৬) ১৪০০ হিজরীর শুভলগ্নে পবিত্র কাবা গৃহ দখলকারী এক মোহাম্মদ নামধারী যুবক ভন্ড মাহদী রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিল।
কিন্তু তাদের কারোরই পরিণাম সুখের হয় নাই। মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী পায়খানায় পড়ে প্রাণ হারায়। সিরিয়ার বিভ্রান্ত যুবকটিকে বিষাক্ত বিচ্ছু কামড়িয়ে হত্যা করে। ভন্ড মাওলানাটি পেশাব পায়খানা চাটতে চাটতে মৃত্যু মুখে পতিত হয়। বস্ত্র ব্যবাসায়ীটি বন্য কুকুরের আক্রমনে মারা যায়। শিয়া নেতাটি গুলীবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে বলে শোনা যায়। অনুরূপভাবে ভন্ড নবী দাবীদারগণের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ ও মর্মন্তুদ হয়েছিল। সুতরাং পৃথিবীর এই ক্রান্তিলগ্নে প্রকৃত মাহদীর পরিচয় জেনে রাখা প্রতিটি মুমীন বান্দার অবশ্য কর্তব্য।

মাহদী শব্দটির মূলধাতু হচ্ছে ‘হাদিউন’ অর্থাৎ ‘হা’ বর্ণ, ‘দাল’ বর্ণ ও ‘ইয়া’ বর্ণ। এর আভিধানিক অর্থ হল সুপথ, মঙ্গল পথ, সোজা পথ, আলোকিত পথ, যে পথে মঞ্জিলে মকছুদে পৌঁছা যায়, যে পথে প্রকৃত সত্তার উপলব্ধি সহজ হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে মাহদী শব্দের ব্যবহারিক অর্থ দাঁড়ায় সুপথ প্রাপ্ত কর্ণধার, হেদায়েত দানকারী ও আল্লাহ পাকের রেজামন্দি লাভকারী। সুতরাং ইমাম মাহদী উচ্ছৃংখল মানব গোষ্ঠি ও সত্যপথ হতে বিচ্যুত মানব সমাজকে হেদায়েতপূর্ণ আলোকে আলোকিত করবেন এবং আলাহর সঙ্গে ও বান্দার সঙ্গে ঈমানের নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করবেন।
(আল মুনজেদ, লেছানুল আরব, মিছবাহ)
ইমাম মাহদী নিয়মিতভাবে কোন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বা অন্য কোথাও লেখাপড়া করবেন না। এমনকি কোন সামরিক প্রশিক্ষণও তিনি কোন সামরিক একাডেমী থেকে গ্রহন করবেন না। তার ‘এলমে লাদুন্নী’ অর্থাৎ আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান- বিজ্ঞান থাকবে। নিয়মিত কোন বিদ্যালয়ে না পড়েও তিনি অগাধ জ্ঞান- গরীমা ও মনীষার অধিকারী হবেন। ভূগোল, দর্শন, ইতিহাস, বিজ্ঞান, শিল্প, কৃষি, সাহিত্য, চারু ও কারুকলা, প্রকৌশল বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি বিজ্ঞান, সমর বিজ্ঞান, অস্ত্রচালনা, সৈন্য পরিচালনা, বক্তৃতা ইত্যাদি বিষয়ে তিনি প্রভৃত জ্ঞান ও বিবেক বিবেচনার অধিকারী হবেন। পৃথিবীর প্রত্যেক বিষয়ের জ্ঞানের আধাররুপে তিনি আবির্ভূত হবেন।
(সারাংশ মেশকাত ও আবু দাউদ শ রীফ)
হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে, ইমাম মাহদী রাসূলুল্লাহ (সাঃ)- এর বংশে এবং খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা জোহরার (রাঃ) আওলাদের মধ্যে থেকে আবির্ভূত হবেন। তার মাতা-পিতার বংশ সূত্র হযরত হাসান (রাঃ)-এর সাথে মিলিত হবে।
তার শারীরিক গঠন অজ্ঞাবয়ব একটু লম্বা ধরনের হবে। যে কোন দলে বা যে কোন কাতারে দাঁড়ালে তাকে সকলের উর্ধে দেখা যাবে। তার গায়ের রং খুবই উজ্জল হবে এবং শরীর হবে নিখুঁত ও ছিমছাম। তার মুখমন্ডলে একটি বিশেষ নূরের জ্যোতি বিকশিত থাকবে। নাক উন্নত ও চেহারা সুগঠিত হবে। তাছাড়া তার চেহারা হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর চেহারার অনুরুপ হবে।
(মুসলিম ও আবু দাউদ শরীফ)
তার নাম হবে মোহাম্মদ। পিতার নাম হবে আব দুল্লাহ এবং মাতার নাম হবে আমেনা। তার মুখে সামান্য তোতলামী জড়তা থাকবে। এইজন্য কথা বলবার সময় তার একটূ কষ্ট হবে এবং কোন কোন কথা বলবার সময় ঐ কষ্টের কারনে বিরক্ত হয়ে নিজের উরুর উপর হাত মারবেন।
(আবু দাউদ শরীফ)
হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন, ট্রাঞ্চ আকছানীয়া হতে হারেছ হাররাছ নামক এক ব্যক্তি বের হবে। তার সম্মুখ ভাগে থাকবে মানসুর নামে এক ব্যক্তি। যেরুপ কোরেশগণ [এখানে কোরেশের অর্থ ঐ কোরেশগণ যারা মসুলমান। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ)- কে বসবাস করতে সাহায্য করেছিল, তদ্রুপ সে মোহাম্মদের (সাঃ) বংশধরগণকেও বসবাস করতে দিবে। তাকে (সর্বতভাবে) সাহায্য করা প্রত্যেক ঈমান দারের অবশ্য কর্তব্য।
(আবু দাউদ শ রীফ)

হযরত ইছহাক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আলী (রা) তাঁর ছেলে হাছানের (রাঃ) দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, যেমন হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) আমার ছেলে হাছানকে (রাঃ) বলেছিলেন, সেরকমভাবেই; তার বংশ হতে এমন একজন জন্ম গ্রহ্ন করবে যার নাম হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর নাম অনুসারে রাখা হবে। তার শরীর আঁ হযরতের (সাঃ) দেহ মোবারকের মতই হবে। তারপর হযরত আলী (রাঃ) তার সম্পর্কে বিবৃতি দিলেন। তিনি সুবিচার ও ইনসাফ এর মাধ্যমে পৃথিবীকে পরিপূর্ণ করবেন।
হযরত ছাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন, যখন তোমরা খোরাছান হতে কালো পতাকা দেখতে পাবে তখন তাদের সাথে যোগদান করবে। কেননা আল্লাহর খলীফা মাহদী তাদের ভিতরে থাকবেন। (মাছনাদে আহমদ ও বায়হাকী শরীফ) সেই সকল হারেছ হারাছের। যার নাম ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম মাহদী (রাঃ) তাদের মধ্যে থাকবেন।
যখন ইমাম মাহদীর বয়স চল্লিশ বছর পরিপূর্ণ হবে এবং যখন তিনি খেলাফতের গুরুভার বহন করার ক্ষমতা অর্জন করবেন তখন তার আবির্ভাব ঘটবে। তার আবির্ভাবের পূর্ব মুহূর্তে পবিত্র রমজান মাসে চন্দ্র গ্রহন ও সূর্য গ্রহন হবে। যে বছরে এই অলৌকিক কান্ড ঘটবে সেই বছরই ইমাম মাহদীর আবির্ভাব ঘটবে।
(মেশকাত শরীফ)
তার আবির্ভাব নিয়ে অনেকেই অনেক রকম ভবিষ্যতবাণী করেছেন। কিন্তু আমরা এ ধরনের ভবিষ্যত বাণী মেনে নিতে পারিনা। কারন ইসলামের বিধান অনুসারে এই ধরনের ভবিষ্যত বানী মানা হারাম। তবে এই বিষয়ে হাদীস শরীফে যেহেতু সুস্পষ্ট কোন কিছু বলা নাই তাই এই সম্বন্ধে নীরবতা পালন করাই ভাল। কেননা আল্লাহই এ সম্পর্কে ভাল জানেন।
ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশের পূর্বে ও পরে পৃথিবীতে যেসকল বিপদাপদ ও লক্ষণ প্রকাশিত হবে সেসব সম্বন্ধে পবিত্র হাদীস শরীফে সুস্পষ্ট বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। আমি সেসব তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

একের পর এক বিপদ আসা

হযরত হোজায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন, একটি খাটের যেমন একটি তক্তার পর আরেকটি তক্তা হয়, সেরকম বিপদাপদও হৃদয়ের উপর পতিত হবে। যে হৃদয় তা পান করবে তার উপর একটি সাদা চিহ্ন অংকিত হবে। এইভাবে দুটি হৃদয় হবে। একটি শেত পাথরের মত শুভ্র হবে। যে পর্যন্ত জমীন ও আসমান বিদ্যমান থাকবে সে পর্যন্ত কোনও বিপদাপদ তার বিনষ্ট করতে পারবেনা। অন্য হৃদয়টি উলটানো পানির পেয়ালার মত কালো ও অপ রিষ্কার হবে। এটা কোন প্রকার ন্যায় ও মঙ্গল জানবে না এবং অমঙ্গলকেও প রিত্যাগ করবে না। কিন্তু সেচ্ছাকৃত ইচ্ছা দিয়ে পরিচালিত হবে।
(মুসলিম শরীফ)

দুর্বল ঈমান এবং আমানত

হযরত হোজায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) আমাদের কাছে দুইটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তারমধ্যে একটি আমি দেখেছি এবং অন্যটির জন্য অপেক্ষা করছি (অর্থাৎ একটি ঘটনা ঘটে গিয়েছে এবং অন্যটি এখনো ঘটেনি)। ঈমান এবং আমানত মানুষের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যাবে। তিনি আরো বলেন যে মানুষ পবিত্র কোরআন ও হাদীসের শিক্ষা ভুলে যাবে। তিনি আরো বললেন যে, কোন লোক নিদ্রায় যাবে তারপর তার অন্তর থেকে আমানত নিয়ে নেয়া হবে। শুধু একটি বিন্দুর মত দাগ থাকবে। এরপর সে আবার নিদ্রামগ্ন হবে এবং অবশিষ্ট আমানত তুলে নেয়া হবে। তখন মানুষ ব্যবসা করবার জন্য সকালে বাসা থেকে বের হবে কিন্তু কেউই আমানত ফেরত দিবে না। বলা হবে অমুক অমুক ব্যক্তি বিশ্বাসী এবং কোনও কোনও ব্যক্তিকে বলা হবে যে সে অনেক জ্ঞানী! সে কি চতুর! সে কি মার্জিত! কিন্তু সরিষার দানা পরিমাণ ঈমানও তার মধ্যে থাকবে না।
(বোখারী ও মুসলিম শরীফ)

সময় দ্রুত চলে যাওয়া

হযরত আবু হোরায়রা (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এরশাদ করেছেন, সময় নিকটবর্তী হবে (অর্থাৎ যাতায়াত এবং সংবাদ আদান প্রদানে বেশী সময় লাগবে না। এবং ধর্ম বিদ্যার মৃত্যু হবে। বিপদাপদ দেখা দিবে, কৃপণতা দেখা দিবে এবং হারাজ বেড়ে যাবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন ‘হারাজ’ কি? উত্তরে আল্লাহর হাবীব আমাদের প্রিয় নবী হযরত (সাঃ) বললেন, হত্যা।
(বোখারী ও মুসলীম)

বর্তমান যান্ত্রিক যুগে রেল, স্টিমার, বিমান ও গাড়ীর সাহায্যে যাতায়াত অত্যন্ত সহজসাধ্য হয়ে গেছে এবং মোবাইল, ইন্টারনেট, রেডিও, টেলিভিশনের মাধ্যমে দ্রুত সংবাদ আদান প্রদান হচ্ছে এছাড়া বর্তমানে খুন একটি স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে সারা বিশ্ব জুড়ে।

আখিরাতের উপর দুনিয়ার প্রাধান্য

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন, অন্ধকার রজনীর এক অংশ সদৃশ বিপদাপদের মধ্যেও সৎ কাজের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও। কোন লোক সকালে মুমীন হয়ে বের হবে কিন্তু সন্ধ্যাবেলা কাফের হয়ে ফিরবে। আবার সন্ধ্যাবেলা মুমীন হবে কিন্তু সকালে আবার কাফের হবে। এই পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী সহায়- সম্পত্তির বিনিময়ে তারা তাদের ধর্মকে বিক্রি করবে (অর্থাৎ ঈমানের কোনো শক্তিই থাকবে না।
(মুসলিম শরীফ)

জনসাধারনের কাজ পরিত্যাগ

হযরত আবু বাকরাহ (রাঃ) হতে ব র্ণিত আছে যে, রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেছেন, অতি শীঘ্রই বিপদাপদ আপতিত হবে। সাবধান! ক্রমাগত বিপদাপদ ঘটবে। সাবধান! পুনরায় বিপদাপদ নেমে আসবে। তখন বসে থাকা ব্যক্তি পথ চলা ব্যক্তি হতে উত্তম হবে এবং পথ চলা ব্যক্তি দৌড়ে লিপ্ত থাকা ব্যক্তি হতে উত্তম হবে।

সাবধান! যখন এটা ঘটতে থাকবে তখন ছাগল ও মেষের অধিকারী যেন তার নিজের ছাগল এবং মেষের নিকটেই থাকে। আর যার জমি আছে সে যেন তার জমির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! যার উট, মেষ, ছাগল বা জমি নাই তার কি অবস্থা হবে ?

উত্তরে রাসূল (সাঃ) বললেন, সে যেন তার তরবারি পাথরের সাহায্যে শান দিতে থাকে এবং সম্ভব হলে জয়ী হয়। হে আল্লাহ! আমি কি আমার সংবাদ পৌঁছে দিয়েছি ? (তিনি তিনবার এই কথা বললেন)

অন্য এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাকে পছন্দ না করা হয় এবং আমাকে কোন পাহাড়ে নিয়ে কেউ যদি তরবারি দিয়ে আমাকে আঘাত করে কিংবা তীর এসে যদি আমাকে হত্যা করে তখন আমার অবস্থা কি হবে? এর উত্তরে রাসূল (সাঃ) বললেন, সে তোমার এবং তার গোনাহর বোঝা করবে এবং জাহান্নামে নীত হবে।
(বোখারী ও মুসলিম শরীফ)

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলে করীম (সাঃ) এরশাদ করেছেন, তখন তোমার কি অবস্থা হবে যখন তুমি দুষ্টু লোকদের ভিতরে পতিত হবে? তাদের সন্ধিনামা ও আমানত নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারা মতবিরোধে লিপ্ত হতে থাকবে। তারা হবে এরকম (এ বলে রাসূল (সাঃ) স্বীয় অজ্ঞুলি সমূহকে আলাদা করে দেখালেন) তখন সে বললো, তখন আপনি আমাকে কি করতে নির্দেশ দেন? এর রাসূল (সাঃ) বললেন, তুমি যা জান তা সম্পাদন করবে এবং যা জান না তা পরিত্যাগ করবে। তুমি নিজের কাজে ব্যস্ত থাকবে এবং জনসাধারনের কাজ পরিত্যাগ করবে এবং তোমার রসনাকে সংযত করবে। তুমি যা জান তা গ্রহন করবে এবং যা জান না তা গ্রহন করবে না।
তুমি তোমার নিজের ব্যাপারে নিবিষ্ট থাকবে এবং জন সাধারনের কাজ পরিত্যাগ করবে।
(তিরমিজী শরীফ)

ঘরে ঘরে বিপদ আপদ

হযরত ওমাছাহ বিন জায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) একবার মদীনা শরীফের উচ্চ স্থানের মধ্যে একটি সুউচ্চ পর্বতে উঠে বললেন, আমি যা দেখছি তোমরা কি তা দেখছো? সাহাবাগণ উত্তরে বললো না। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন আমি বৃষ্টিপাতের ন্যায় তোমাদের ঘরে বিপদ-আপদ নিপতিত হতে দেখছি।
(বোখারী ও মুসলীম শরীফ)

ওবান (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা:) বলেন: তোমাদের রত্ন-ভাণ্ডারের কাছে তিনজন খলীফা-সন্তান যুদ্ধ করতে থাকবে। কেউই দখলে সফল হবে না। প্রাচ্য থেকে তখন একদল কালো ঝাণ্ডা-বাহী লোকের আবির্ভাব হবে। তারা এসে তোমাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করবে। ছাওবান বলেন-অতঃপর নবীজী কি যেন বললেন, আমার ঠিক স্মরণ নেই। এরপর নবীজী বললেন-যখন তোমরা তা দেখতে পাবে, অখন তাঁর কাছে এসে বায়াআত হয়ে যেয়ো! যদিও তা করতে তোমাদের হামাগুড়ি দিয়ে বরফের পাহাড় পাড়ি দিতে হয়…!!

(ইবনে মাজা)

খলীফা-সন্তান: অর্থাৎ তিনজন সেনাপতি। সবাই বাদশার সন্তান হবে। পিতার রাজত্বের দোহাই দিয়ে সবাই ক্ষমতা দাবী করবে।

রত্ন-ভাণ্ডার: কাবা ঘরের নিচে প্রোথিত রত্নও উদ্দেশ্য হতে পারে। নিছক রাজত্বও উদ্দেশ্য হতে পারে। কারো কারো মতে রত্ন বলতে এখানে ফুরাত নদীর উন্মোচিত স্বর্ণ-পর্বত উদ্দেশ্য।

ইবনে কাছীর (রহ:) বলেন: মাহদীকে প্রাচ্যের নিষ্ঠাবান একটি দলের মাধ্যমে শক্তিশালী করা হবে। তারা মাহদীকে সহায়তা করবে এবং মাহদীর রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করবে। তাদের পতাকাও কালো বর্ণের হবে। এটা গাম্ভীর্যের প্রতীক। কারন, নবী করীম (সা:) এর পতাকাও কালো ছিল। নাম ছিল উকাব।

আবু সাঈদ (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা:) বলেন-আমার শেষ উম্মতের মাঝে মাহদী প্রকাশ পাবে। আল্লাহ্‌ তাদের উপর কল্যাণের বারিধারা বর্ষণ করবেন। ভূপৃষ্ঠ থেকে গচ্ছিত সকল খনিজ সম্পদ উন্মোচিত হবে। ধন সম্পদের সুসম বণ্টন নিশ্চিত করবে। সাত বা আট বছর সে রাজ্বত করবে…[মুস্তাদরাকে হাকিম]

অপর বর্ণনায়- তাঁর মৃত্যুর পর আর কোন কল্যাণ থাকবে না…[মুসনাদে আহমদ]

বুঝা গেল মাহদীর মৃত্যুর পর পুনরায় ফেতনা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়বে।

বিন বায (রহ:) বলেন: মাহদী প্রকাশের বিষয়টি স্বতঃসিদ্ধ। এ ব্যাপারে নবী কারীম (সা:) থেকে প্রচুর হাদিস প্রমাণিত রয়েছে। একাধিক সাহাবী থেকে পরস্পর বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ্‌র অপার রহমতে তিনি শেষ জামানায় ইমাম হবেন। ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন। অন্যায়-অবিচার দমন করবেন। শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হবেন। তার আত্মপ্রকাশে উম্মতের মধ্যে জিহাদের চেতনা ফিরে আসবে। সকলেই এক কালেমার পতাকা তলে একত্রিত হয়ে যাবে।

আবু সাঈদ (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- আমি তোমাদেরকে মাহদীর সুসংবাদ দিচ্ছি। ভূ-কম্পন ও মানুষের বিভেব কালে তার আগমন ঘটবে। ন্যায় নিষ্ঠায় পৃথিবী ভরে দেবে, ঠিক যেমন অন্যায় অবিচার ভরে গিয়েছিল। আসমান জমিনের অধিবাসীগণ তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। ধন সম্পদের সুসম বণ্টন নিশ্চিত করবে। ‘সুসম কি’ জিজ্ঞাসা করা হলে বলেছেন- সমান ভাবে। আল্লাহ্‌ ন্যায়ের মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মদীকে পূর্ণ করে দিবেন। এমনকি একজন ঘোষক ঘোষণা করবে- কারো কি সম্পদের প্রয়োজন আছে? একজন দাড়িয়ে বলবে-দায়িত্বশীলকে বল- মাহদী আমাকে সম্পদ দিতে বলেছে। দায়িত্বশীল বলবে- উঠাও যা পার! আঁচল ভরে স্বর্ণ রৌপ্য উঠাতে চাইলে লজ্জিত হয়ে বলবে- আমি নিজেকে সবার চেয়ে শক্তিশালী মনে করতাম, কিন্তু আজ এগুলো বহন করতে অপারগ হয়ে গেছি। এ কথা বলে সবকিছু আবার দায়িত্বশীলকে ফিরিয়ে দিতে চাইলে দায়িত্বশীল বলবে- এখানে প্রদত্ত মাল ফেরৎ নেয়া হয় না। এভাবেই মাহদীর রাজত্ব সাত, আট বা নয় বছর পর্যন্ত থাকবে। মাহদীর পর জীবনে আর কোন কল্যাণ থাকবে না…
[আল মুসনাদ]

আলী (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- মাহদী আমার বংশধর। এক রাত্রিতে আল্লাহ্‌ পাক তাকে নেতৃত্বের যোগ্য বানিয়ে দেবেন।

বুঝা গেল ইমাম মাহদী (মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ) নিজেও জানবেন না যে, হাদিসে উল্লেখিত ব্যক্তিটি তিনিই। আগেভাগে গিয়ে খিলাফতও কামনা করবেন না। নম্রতা বসত নিজেকে তিনি নেতৃত্বের অযোগ্য মনে করবেন। আর তাই প্রবল অনিচ্ছা সত্তেও মানুষ জোর করে তার হাতে বায়াআত হয়ে যাবে।

উম্মে সালামা (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- মাহদী আমার বংশে ফাতেমার সন্তানদের মধ্যে হবে…[আবু দাউদ]

জাবের (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- মরিয়ম তনয় ঈসা (আ:) আসমান হতে অবতরণ করবেন। মুসলমানদের সেনা প্রধান মাহদী তাকে স্বাগত জানিয়ে বলবে- আসুন! নামাযের ইমামতি করুন! ঈসা (আ:) বলবেন না! (বরং তুমিই ইমামতি করো!) তোমাদের একজন অপরজনের নেতা। এই উম্মতের জন্য আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে এ এক মহা সম্মান।

বুঝা গেল মাহদীর সময়ই দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। অতঃপর দাজ্জালকে হত্যা করতে আসমান থেকে ঈসা বিন মারিয়াম (আ:) আবতরন করবেন। ইমাম মাহদীই তখন মুসলিম সেনা প্রধান থাকবেন। ঈসা (আ:) এবং অন্য সকল মুমিন ইমাম মাহদীর পেছনে ফজরের নামায আদায় করবেন।

আবু সাঈদ (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন, মরিয়ম তনয় ঈসা যার পেছনে নামায আদায় করবেন, সে আমার উম্মতেরই একজন সদস্য।

অর্থাৎ মাহদী নামাযের ইমামতি করবেন। মুসল্লিদের কাতারে ঈসা (আ:) শামিল থাকবেন।

জাবের (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- অচিরেই ইরাক বাসীর কাছে খাদ্যদ্রব্য ও রৌপ্যমুদ্রা সরবরাহের নিষেধাজ্ঞা জারী করা হবে। আমরা বললাম- কাদের পক্ষ থেকে এরকম করা হবে? উত্তরে বললেন- অনারব। অতঃপর বললেন- অচিরেই শাম-বাসীর কাছে খাদ্যদ্রব্য ও স্বর্ণমুদ্রা সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হবে। কাদের পক্ষ থেকে করা হবে- প্রশ্নের উত্তরে বললেন- রোমান (খৃষ্টান)। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন- আমার শেষ উম্মতের মাঝে একজন খলীফার আবির্ভাব ঘটবে, বে-হিসাব মানুষের মাঝে সে সম্পদ বিলি করবে।

জাবের বিন ছামুরা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- একদা আলীকে নিয়ে আমি নবী করীম (সা:) এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি তখন বলছিলেন- পৃথিবী সমাপ্তির পূর্বে অবশ্যই বারোজন নিষ্ঠাবান খলীফা অতিবাহিত হবেন। অতঃপত কি যেন বললেন- ঠিক বুঝিনি! আব্বুকে জিজ্ঞেস করলে- সবাই কুরায়েশ বংশের বললেন…[মুসলিম]

ইবনে কাছীর (রহ:) বলেন- বুঝা গেল মুসলমানদের খলীফা হিসেবে বারোজন নিষ্ঠা পূর্ণ ব্যক্তির আগমন ঘটবে। তবে শিয়া সম্প্রদায়ের ধারনা কৃত বারোজন নয়; কারন, তাদের অধিকাংশেরই খেলাফত সংক্রান্ত কোন কর্তৃত্ব ছিল না। পক্ষান্তরে প্রকৃত বারোজন খলীফা সবাই কুরায়েশ বংশীয় হবেন এবং মুসলমানদের একচ্ছত্র নেতা হিসেবে আভিভূত হবেন…[তাফছীর ইবনে কাছীর]

উম্মুল মুমেনীন উম্মে সালামা (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- জনৈক খলীফার মৃত্যুকে কেন্দ্র বিরোধ সৃষ্টি হবে। মদিনার একজন লোক তখন পালিয়ে মক্কায় চলে আসবে। মক্কার লোকেরা তাকে খুঁজে বের করে অনিচ্ছা সত্তেও রুকন এবং মাক্কামে ইবরাহীমের মাঝামাঝি স্থানে বায়াআত গ্রহণ করবে। বায়াআতের খবর শুনে শামের দিক থেকে এক বিশাল বাহিনী প্রেরিত হবে। মক্কা-মদিনার মাঝামাঝি বায়দা প্রান্তরে তাদেরকে মাটির নিচে ধ্বসে দেয়া হবে। বাহিনী ধ্বসের সংবাদ শুনে শাম ও ইরাকের শ্রেষ্ঠ মুসলমানগণ মক্কায় এসে রুকন ও মাক্কামে ইবরাহীমের মাঝামাঝি তাঁর হাতে বায়াআত গ্রহণ করবে। অতঃপর বনু কালব সম্বন্ধীয় এক কুরায়শীর আবির্ভাব হবে। শামের দিকে থেকে সে বাহিনী প্রেরণ করবে। মক্কার নব উত্থিত মুসলিম বাহিনী তাদের উপর বিজয়ী হয়ে প্রচুর যুদ্ধলদ্ধ সম্পদ অর্জন করবে। সেদিন বনু কালবের সর্বনাশ ঘটবে। যে বনু কালব থেকে অর্জিত সম্পদ প্রত্যক্ষ করেনি, সেই প্রকৃত বঞ্চিত। অতঃপর মানুষের মাঝে তিনি সম্পদ বণ্টন করবেন। নববী আদর্শের বাস্তবায়ন ঘটাবেন। উট যেমন প্রশান্তচিত্তে গলা বিছিয়ে আরাম পায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইসলামও সেদিন ভূ-পৃষ্ঠে প্রশান্তচিত্তে স্থির পাবে। সাত বৎসর এভাবে রাজত্ব করে তিনি ইন্তেকাল করবেন, মুসলমানগণ তার জানায়ায় শরীক হবে…[আবু দাউদ]

ত্রিশোর্ধ-জন সাহাবী থেকে মাহদী সংক্রান্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। প্রখ্যাত হাদিস গবেষকগণ শক্তিশালী বর্ণনা-সূত্রে এগুলো বর্ণনা করেছেন। আহলে সুন্নাত সকল উলামা মাহদী প্রকাশের বিষয়ে একমত।

একদেশে এক রাজা ছিল , ছিল তার সিংহাসন

অনেক বছর আগে এমন একটা দেশ ছিল যে দেশের জনগণ প্রত্যেক বছরের জন্যে তাদের একজন রাজা নির্বাচন করে নিত। যে ব্যাক্তিটিই রাজা হবে তাকে তার রাজত্বকালের এক বছর পরই একটা দ্বীপে চলে যাওয়ার চুক্তিতে সম্মত হতে হয়।একজন রাজার যখনই রাজত্বকাল শেষ হয় তখনই তার দ্বীপে যাওয়ার ও সেখানে বাস করার সময় এসে যায়।জনগণ তাদের বিদায়ী রাজাকে মূল্যবান সাজে সজ্জিত করে হাতির পিঠে চড়িয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য তৈরী করে।এটি প্রত্যেক বিদায়ী রাজার জন্যেই বেদনাজনক মুহূর্ত। উৎসব শেষে জনগণ রাজাকে নৌকায় করে দ্বীপে নিয়ে যায় এবং সেখানে রেখে চলে আসে।এমনিভাবে একদিন জনগণ ফিরে আসার সময় দেখল দূরের ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি জাহাজ থেকে এক যুবক কাঠের টুকরাতে ভেসে আসছে।তারা যুবককে নৌকায় তুলে দেশে নিয়ে গেল।

যেহেতু নতুন রাজা দরকার তারা এক বছরের জন্য যুবকটিকে রাজা হওয়ার আবেদন করলে যুবকটি প্রথমে প্রত্যাখ্যান করে, কিন্তু পরে তাতে সম্মত হয়।জনগন তাকে দেশের নিয়মকানুন বুঝিয়ে বলে এমনকি এক বছরের জন্য রাজা নির্বাচন ও দ্বীপে নির্বাসনের কথাও।রাজা হওয়ার তিনদিন পরেইযুবকটি পূর্ববর্তী রাজাদের যে দ্বীপে নির্বাসন দেয়া হয়েছিল, তা পরিদর্শনে যান। দ্বীপটি জঙ্গলে ভরপুর ছিল এবং নানা রকমের জন্তু জানোয়ারদের ডাক শোনা যাচ্ছিল। রাজা যাচাই করার জন্যে ভেতরে গেলে অতীত রাজাদের মৃতদেহ দেখতে পেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, খুব দ্রূতই তাকে এখানে আসতে হবে ও অনুরূপ পরিণতি বরণ করতে হবে।

রাজা তার রাজ্যে ফিরে আসার পরএকদল শক্ত সামর্থ্য ব্যাক্তিকে বাছাই করে ঐ দ্বীপে পাঠিয়ে দিলেন। রাজা তাদেরকে ঐ স্বীপের জঙ্গল পরিস্কার,মারাত্মক ও বিপদজনক জন্তুগূলোকে তাড়ানো এবং অতিরিক্ত গাছগুলো কেটে ফেলার জন্যে বললেন।রাজা প্রত্যেক মাসেই কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে দ্বীপে যেতেন।দুই মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ দ্বীপটিকে পরিস্কার করে ফেলা হয় এবং বিপদজনক প্রানীগুলোকে তাড়িয়ে হয়।তারপর রাজার নির্দেশে দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে বাগান করা হয় এবন দ্বীপে নানা উপকারী প্রাণী যেমন মোরগ, হাস, গরু,ছাগল প্রভৃতি নিয়ে যাওয়া হয়।তৃতীয় মাসে রাজা শ্রমিকদের আদেশ করলেন দ্বীপে একটি বড় প্রাসাদ ও জাহাজের জন্যে বন্দর নির্মাণ করার জন্যে।মাস শেষে দ্বীপটি একটি সুন্দর জায়গায় পরিণত হল।যুবক রাজা একজন রাজা হিসেবে খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন ও সাধারণ জামাকাপড় পরিধান করতেন।

তিনি তার আয়ের প্রায় সবটুকুই দ্বীপে জমা করতে লাগলেন।নয় মাস অতিক্রান্ত হলে রাজাতার মন্ত্রীদের ডেকে বললেন যে, ‘আমি জানি এক বছর অতিক্রান্ত হলে আমাকে দ্বীপে পাঠিয়ে দেয়া হবে, কিন্তু আমি এখনই সেখানে যেতে চাই।মন্ত্রীগণ তার কথায় সমর্থন দিল না এবং বলল তাকে অবশ্যই বাকি তিন মাস সময় কাটিয়ে এক বছর পূর্ণ করতে হবে।বছর পূর্ণ হলে জনগণ রাজাকে মূল্যবান জামা কাপড় পরিধান করাল এবং হাতির পিঠে উঠিয়ে বিদায় দেয়ার জন্যে প্রস্তুত করল।

রাজা এসময় বেশ হাসিখুশি ছিলেন। জনগণ প্রশ্ন করল, সকল রাজাই এ বিদায়ের সময় কান্না করেছে, কিন্তু আপনি হাসছেন কেন? বিদায়ী যুবক রাজা বললেন, তোমারা কি জাননা জ্ঞানী লোকেরা কি বলে? তারা বলে যে
যখন তুমি এসেছিলে ভবে কেঁদেছিলে তুমি হেসেছে সবে
এমন জীবন তুমি করিবে যাপন মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন আমি তেমনিভাবে জীবন যাপন করেছি।যেখানে আগের সব রাজার রাজ্য নিয়ে মশগুল ছিল,আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেছি এবং তার জন্যে পরিকল্পনা তৈরী করেছি।আমি বিপদসংকুল দ্বীপকে একটি সুন্দর জায়গায় রূপান্তর করেছি যাতে আমি সেখানে আরাম আয়েশে বসবাস করতে পারি।
আমরা আমাদের জীবনকে কীভাবে পরিচালনা করা দরকার তা এখান থেকেই শিক্ষা নিতে পারি।
আল্লাহ সুবহানাওয়াতা’লা বলেন