দুহাত কাটার পরেও হাতের অবশিষ্টাংশ দিয়ে ইসলামের পতাকা দরছিলেন যে সাহাবী

হযরত মুসআব ধনীর দুলাল ছিলেন। কিন্তু ইসলাম গ্রহন করার পর তাঁর উপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। দীর্ঘদিন বন্দী করে রাখা হয়। একদিন বন্দী জীবনের শৃংখল ভেংগে আবিসিনায় চলে যান। সেখান থেকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন একটি পোশাক পরিধান করে মদীনায় আসেন। হযরত মুসআবের এই দুরবস্থা দেখে আল্লাহর রাসুল (সা) এর চোখ অশ্র“ সিক্ত হয়। কেননা মুসআব খুবই আরাম আয়েশের জীবন যাপন করতো। শুধুমাত্র ইসলাম গ্রহন করার কারণে তার এই দুরবস্থা।

মুসআব মদীনায় আসার পর ওহুদ যুদ্ধ সংগঠিত হয়। উক্ত যুদ্ধে মুসআবের হাতে ছিল ইসলামের পতাকা। যুদ্ধের ময়দানে শত্র“র প্রচন্ড আঘাতে মুসআবের ডান হাত কেটে যায়। এরপর তিনি বাম হাত দিয়ে ইসলামের পতাকা উড্ডীন রাখেন। একটু পরে বাম হাতও কাটা যায়। দুহাত কাটা যাওয়ার পর দুই হাতের অবশিষ্টাংশ দিয়ে ইসলামের পতাকা বুকে ধরে রাখলেন। যতক্ষণ প্রাণ ছিলো ইসলামের পতাকা মাটিতে পড়তে দেন নাই। অবশেষে শত্রু “ পক্ষের তীরের আঘাতে তিনি শহীদ হন।

রিকশাচালককে চাপা দিয়ে ৮ কিলোমিটার টেনে নিলো ট্রাক

চালকসহ একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে চাপা দিয়ে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গেছে একটি ট্রাক। এতে ঘটনাস্থল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সত্যপীর ব্রিজ এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন যাত্রী আসাদুজ্জামান শোভন (২২)। আর ৮ কিলোমিটার দূরে খোঁচাবাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়রা রিকশাচালকের লাশ ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া রিকশাটি উদ্ধার করেছে। শনিবার দুপুরে (০৬ জানুয়ারি) এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

চালকের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। নিহত শোভন শহরের নিশ্চিন্তপুরের গোওসুল আজমের ছেলে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কফিল উদ্দিন জানান, ট্রাকচালক তোয়াবুর রহমানকে (৩৬)আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রিকশাচালকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশের চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে।
খোঁচাবাড়ি এলাকার নুরুল ইসলাম ও জগন্নাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাল মাস্টার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ব্যাটারিচালিত রিকশাটির ভেতরে লাশটি পাওয়া গেছে। তবে তাকে চেনা যাচ্ছে না।
দুর্ঘটনার পর দুপুর ২টা-৩টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে এলাকাবাসী। পরে তারা অবরোধ তুলে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য, সদর উপজেলার সত্যপীর ব্রিজ বিজিবি সেক্টর হেডকোয়ার্টারের গেটের সামনে ট্রাকটি (জি আলম এন্টারপ্রাইজ যশোর-ট-১১২০৪৭) রিকশাটিকে ধাক্কা দিলে যাত্রী শোভন রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন ট্রাকটিকে আটকানোর চেষ্টা করলে ড্রাইভার ট্রাকটিকে আরও জোরে চালিয়ে চলে যান। ফলে চালকসহ রিকশাটি ট্রাকের তলায় আটকা পড়ে যায়। আটকে পড়া রিকশাচালক জীবন বাঁচানোর জন্য চিৎকার করে মিনতি জানালেও ট্রাকচালক নিজের জীবন বাঁচাতে পালাতে থাকে। এভাবে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে খোঁচাবাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা ফোন পেয়ে নছিমন দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে ট্রাকটিকে আটকায়। পরে জনতা ট্রাকচালককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ছিটকে পড়া আরোহী আসাদুজ্জামান শোভনকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।

মুখ দিয়ে যৌনকর্ম : ইসলাম ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান কি বলে জানতে পড়ুন

দয়া করে এড়িয়ে যাবেন না। সচেতনতা জরূরী। আপনি মুখে ও গলায় ক্যান্সারাক্রান্ত হতে চান না নিশ্চয়ই।

আমার এই পোস্টের জন্য আমার কন্যা, বোন ও মায়েদের কাছে শুরুতে ওজর পেশ করছি। কিন্তু জরূরী বলে লিখতে বাধ্য হচ্ছি। এছাড়াও আমার লিস্টের একজন ভাই [সম্ভবত এমদাদুল্লাহ] এ বিষয়ে পোস্ট করেছিলেন। সেখানে কমেন্টে লিখার পরিবর্তে আমি একটা পূর্নাঙ্গ পোস্ট লিখাকে সঙ্গত মনে করেছি।
বিষয়টা হল ওরাল_সেক্স বা মুখ দিয়ে যৌন কর্ম। পশ্চিমা অপঃসংস্কৃতির প্রসারের শিকার আমাদের মুসলিম সংস্কৃতিগুলোও। এমন কিছু বিষয় যা আগে মুসলিম সমাজে প্রচলিত ছিল না এবং সেগুলো নিয়ে কেউ প্রশ্নও উঠাত না তা এখন মহামারী আকারে আমাদের সমাজগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। পর্নোগ্রাফি এ ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা পালন করছে।

আমাদের মুসলিম শুয়ূখগণ পশ্চিমে অবস্থানকারী মুসলিমদের কাছ থেকে প্রথম এ বিষয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হন। এ কথা কিছু কিছু শুয়ুখ ক্লিয়ারলী বলেছেনও যে তাঁরা পশ্চিমে আসার আগে এ ধরণের প্রশ্নের সম্মুখীন হন নি। বিগত শতাব্দীর ৮০-৯০ এর দশক থেকে তারা এই প্রশ্নের মুক্বাবিলা করছেন। আমি নিজে আমার ১০ ও ১১ শ্রেণির ছাত্রদের কাছ থেকে প্রায়ই এ প্রশ্নের মুখোমুখি হই। তাদেরকে এড়িয়ে যাওয়ারও কোন উপায় দেখি না।

তাঁরা যে প্রশ্নের মুক্বাবিলা করছিলেন তা হল, ওরাল সেক্স হালাল কিনা?। এ ক্ষেত্রে কিছু শুয়ুখদের মতামত হল এটা মাকরূহ। আরেক দলের মত হল যদি হারাম এড়ানো যায় তাহলে এটা হালাল, কারণ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর হারাম হবার পক্ষে কোন প্রমান নেই।

আমি বিষয়টা নিয়ে ভেবেছি এবং নিম্নলিখিত ব্যাপারগুলো লক্ষ্য করেছিঃ
1. যৌন উত্তেজনার সময় যৌনাঙ্গ থেকে দু’ধরণের পদার্থ নিসৃত হয়। একটা হল প্রিসেমিনাল ফ্লুইড বা মজ়ী; এটা সর্বসম্মতভাবে নাপাক। আরেকটা হল সিমেন বা মনি; এটা একদল উলামাদের মতে পাক এবং আরেকদলের মতে নাপাক। আরেকটা বিষয় হল মজ়ি ব্যতিরেকে কখনো খালি মনি নির্গত হয় না। এখন কেউ যদি স্ত্রীর মুখে যৌনাঙ্গ প্রবেশ করায় তাহলে সেখানে সে নাপাকি প্রবেশ করাবেই। আর এটা শরীয়ত অনুমোদিত নয়।

2. স্ত্রীর মুখ যৌনাঙ্গ নয়। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, তোমাদের নারীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রের ন্যায়; সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো এবং নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রেরণ কর; আর আল্লাহর অসন্তোষ থেকে বেঁচে থাকো। [২: ২২৩] শস্যক্ষেত্রে বীজ বপন করা হয় যাতে ফসল উৎপাদিত হয় ভবিষ্যতে। আর বীজ বপনের দ্বার হচ্ছে যোনি। সুতরাং বীজ সেখানে বপন করতে হবে; মুখে নয়।

3. স্ত্রীর যৌনাঙ্গে স্বামীর মুখ দিয়ে উত্তেজনা দান করার বিষয়ে কথা হচ্ছে, এটা একটা জঘন্য রুচির বিষয়। আমি একজন ডাক্তারের সেমিনারে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন স্ত্রীর যোনি দ্বার ও পায়ুপথ খুব কাছাকাছি হওয়ায় এখানে নানান ধরণের ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার সমাগম ঘটে। STD এর বিভিন্ন ধরণের জীবাণুর জমা হওয়ার স্থান এটা। আর এটা এখন প্রমাণিত হয়েছে যে পুরুষের মুখের ও গলার ক্যান্সার হওয়ার বড় একটা কারণ হল পুরুষ কর্তৃক নারীর যোনিতে মুখ দিয়ে যৌনকর্ম। HPV ভাইরাসের কারণে এই ক্যান্সার হয় এবং এটা ওরাল সেক্সের কারণে হয় যা এখন প্রমাণিত। এছাড়াও সব ধরণের সেক্সুয়ালী ট্রান্সমিটেড ডিজ়িস (STD) এ কর্মের মাধ্যমে হতে পারে, এইডস সহ। মন্তব্যে এ বিষয়ে গবেষণার লিঙ্ক দেব, ইনশা’আল্লাহ্‌। রোগ জীবানু ছাড়াও স্ত্রীর মজ়ি পুরুষের মুখে ও পেটে যেতে পারে; আর মজ়ি নাপাক তা আমরা আগেই উল্লেখ করেছি।

4. কুরআনে সঙ্গম কোথায় করতে হবে তার নির্দেশনা আমরা ২:২২৩ আয়াত থেকে পাই। হাদীসে ওরাল সেক্স সম্পর্কে কিছু বলা হয় নি এ কারণে যে রসূলুল্লাহর সময়ে এই প্রশ্নই উঠেনি। মুসলিমরা এধরণের কোন চিন্তাই তখন করেন নি। আমরা আগেই দেখেছি যে এই প্রশ্ন মুসলিম সমাজগুলো থেকেও উত্থিত হয় নি; বরং পশ্চিমে বসবাসরত মুসলিমদের কাছ থেকেই প্রথম উত্থিত হয়েছে। তাই বুঝা যায় এটা ছিল আউট অফ কোয়েশ্চেন।

এই সবগুলো বিষয় চিন্তা করলে আমি যা দেখতে পাই তা হল, এই ধরণের কর্ম শরীয়ত অনুমোদিত হবার মত নয়। আমাদের জন্য শরীয়তের মূলনীতি হলঃ “ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।“ আমি বিষয়টাকে এখানেই রেখে দিতে চাই।

অপরাজিতা সিম দিয়ে HD ডাউনলোড করার অপরাধে আটক দুই যুবতি

কোনো এক অজ্ঞাত এলাকার বাশবাগান থেকে ধরা হয়েছে এই দুই যুবতীকে।
গোপন সূত্রে জানা যায়,

এনাদের দুজনেরই স্বামী বিদেশ।এজন্যই হয়ত ওনাদের HD ডাউনলোড করে দেখতে হয় নিয়মিত।

আর আগে যেখানে ডেইলি একটা HD ডাউনলোড করে দেখতে গেলেই না খেয়ে থাকতে হতো,

সেখানে অপরাজিতা সিমের বিশেষ ৮টাকায় ১ জিবি অফারের কারণে এখন ওনারা ওনাদের চাহিদামতো HD দেখতে পারতেছেন বলে জানিয়েছেন।

ওনারা আমাদের কানে কানে,চুপি চুপি,ফিসফিসিয়ে এটাও বলেছেন যে,
ওনাদের ফেভারিট প্লেয়ার ‘জনি সিন্স’

বিঃদ্রঃ গুজবকে সবসময় এড়িয়ে চলুন।

জেনে নিন, ৩ বছরে সোনা ও রুপা দিয়ে নিজ হাতে কুরআন লিখলেন এক নারী

প্রায় ৩ বছর সময় নিয়ে ১৬৪ ফুটের স্বচ্ছ কালো সিল্কের ওপর সোনা ও রুপা দিয়ে নিপুণ হাতে কুরআন লিখেছেন আজারবাইজানের নারী শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদে। প্রত্যেকটি অক্ষর নিজের হাতে লিখেছেন ৩৩ বছরের এই শিল্পী। ১১ দশমিক ৪ ফুট বাই ১৩ ফুট সাইজের এই কুরআনের অক্ষরে লেখা হয়েছে সোনা ও রুপা দিয়ে।

এ কুরআনের প্রতিটি পাতায় ফুটে উঠেছে চারুলিপির শৈল্পিক নৈপুণ্য। তুরস্কের প্রেসিডেন্সি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স, দিয়ানেট থেকে প্রকাশ পেয়েছে এ কুরআনের প্রথম সংস্করণ।

জীবনের গল্পঃ একটা কৌতুক দিয়ে শুরু করি।

একটা কৌতুক দিয়ে শুরু করি। ৯৫ বছর বয়সের এক বৃদ্ধ ছিলেন, তার স্ত্রীও বেচে ছিলেন, বৃদ্ধ সবসময় তার স্ত্রীকে জান, সোনাপাখি, ময়নাপাখি, ডার্লিং এসব নাম ধরে ডাকতো। এজন্য তারা সেই এলাকায় বেশ পরিচিতও ছিলেন, পেয়েছিলেন বেস্ট কাপল পুরস্কারও।
একদিন কিছু সাংবাদিক এলো সেই বৃদ্ধের বাসায়, সাক্ষাতকার নিবেন তারা। তারা বৃদ্ধকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এত বছর পরেও আপনাদের মধ্যে এত্ত ভালবাসা দেখে আমরা যারপরনাই বিস্মিত। আপনি এখনো আপনার স্ত্রীকে জান, ডার্লিং, বেবি বলে ডাকেন। এর কারন কী?’
বৃদ্ধ জবাব দিলেন, “ইয়ে মানে! সত্যি বলতে আমি গত কয়েকবছর যাবৎ আমার স্ত্রীর নাম মনে করতে পারছিনা তার এসব নাম ধরে ডেকে চালিয়ে নিচ্ছি কোনমতে।”


.
যদি বলেন এই কৌতুকের কারন কী?
বলছি বস! তার আগে কিছু কথা বলে নেই। ইংরেজরা ২০০ বছর আমাদের দেশটা শাসন করেছে, প্রায় লন্ডভন্ড করে দিয়েছে সবকিছু। তাদের ২০০ বছরের শাসনের সাইড ইফেক্ট আমরা আগামী ২০০০ হাজার বছরেও কাটাতে পারবো কিনা জানিনা।
তবে আমাদের কিছু ইতিহাস আছে, গর্ব করার মত ইতিহাস। ইংরেজের মত একটা শক্তিশালী অপশক্তিকে আমরা আমাদের উপমহাদেশ থেকে বিতারিত করেছি, এটা গর্ব করার ইতিহাস। ১৯৭১ এ পাকিস্তানের বর্বর নির্যাতন থেকে নিজেদের মুক্তি করেছি এটা গর্ব করার মত ইতিহাস। ১৯৫২ তে ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি এটা গর্ব করার মত ইতিহাস।
এই সময়গুলোকে আমরা নিজেদের বাচানোর স্বার্থে, নিজের অতিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে জ্বলে উঠেছিলাম, প্রচন্ড শক্তিশালী অপশক্তিগুলোকে আমরা পরাজিত করেছিলাম। তখন জ্বলে উঠার স্পৃহা ছিল, মনোবল ছিল, ভাল কিছু উদ্ধারের স্বার্থে জীবন দেওয়ার মত মেন্টালিটি ছিল, আত্মসম্মানবোধ ছিল, আভিজাত্য ছিল।

এখন কী আছে আমাদের? আপনাদের কি মনে হয়না আমরা দিনদিন নিজেদের একটা জোকার জাতি হিসেবে বারবার উপস্থাপন করছি? খারাপ কাজগুলোকে আমরা বেশি বেশি চর্চা করছি, বিশ্বের দরবারে আমাদের ভালকাজগুলোর কোন চিহ্নই থাকছেনা, অথচ খারাপ কিংবা সম্মানহানীকর কাজগুলো সিএনএন, রয়টার্স কিংবা ফক্স নিউজে প্রচার করা হচ্ছে। এসব দেখে আবার আমরা বুক ফুলিয়ে হাটছি।
৯৫ বছরের বৃদ্ধ যেমন তার স্ত্রীর নাম ভুলে গিয়েছে তেমনি আমরা ভুলে গেছি আমাদের আভিজাত্য, আমাদের ইতিহাস, আমাদের সম্মান।
আজ আমাদের দেশের হিরো আলমকে বিশ্বে কয়েকটি দেশের মানুষ চিনে, তারা মজা নেয়, আমাদের ছোট করে। ইন্ডিয়াতে হিরো আলমকে নিয়ে ইউটিউবাররা ফানি ভিডিও বানায়, ট্রল করে। আমরা চুপচাপ দেখি, হিরো আলমকে সত্যিকার হিরো আখ্যা দেই।
বড় ছেলে টেলিফিল্মটা দেশের অন্যতম ভাল আর হৃদয় ছুয়ে যাওয়া টেলিফিল্মগুলোর মধ্যে রেয়ারেস্ট একটা। কিছুদিন আগে দেখেছিলাম বিকাল বেলার পাখি নামে আরেকটা টেলিফিল্ম। সেটাও অসাধারন ছিল। আমরা জাতী হিসেবে কখনোই ভাল কাজের মুল্যায়ন দিতে জানিনা, আমরা ট্রল করা শুরু করলাম। ইনফ্যাক্ট আমরা সবকিছুতেই ট্রল মিলিয়ে ফেলি।
.
ভাল কাজের ভাল ফলাফল আমরা তখনই পাব যখন আমরা সেটার সঠিক মুল্যায়ন দিবো। আমরা জাফর ইকবাল স্যারের মত একজন মানুষকে শুধু মাত্র নাস্তিক আখ্যা দিয়ে চরম অপমান করি, উনাকে নিয়ে ট্রল বানাই।
আমরা পদ্মা সেতু নিয়ে রাজনীতি করি, আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করি, আমরা রাজনের মত ছোট একটা বাচ্চাকে খাবার চুরি করে খাওয়ার দায়ে পিটিয়ে মেরে ফেলি, আমরা সাড়ে চার হাজার কোটি টাকাকে কিছুই না বলে উড়িয়ে দেই, আমরা ডেস্টিনির মত প্রতিষ্ঠান কয়েকহাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নিয়ে চলে গেলেও চুপ থাকি, আবার আমরা বাসে কন্ট্রাক্টর ভাড়া দুইটাকা বেশি রেখেছে বলে রাস্তায় নামিয়ে পিটুনি দিই। আমরা হুজুগে বাঙ্গালী হয়ে থাকতে বেশি পছন্দ করি। আবার আমরাই দিন শেষে সরকারের কাছে আমেরিকার মত বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি। ছিঃ ।
লজ্জা নেই আমাদের।

রম্য গল্পঃ ওগো তুমি দেখেছো আমার এ কি হলো, এখন আমি এই দাগ উঠাবো কি দিয়ে

আমার স্ত্রী কুলসুম বানু যথেষ্ঠ রুপবতী। তার রুপ দেখে যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে আমি প্রথম ভুলটি করি।

মনে পড়ে হাজারটা ছন্দ লিখে পাতার পর পাতা ভরে ফেলে ছিলাম। আর চিঠি লিখে তাদের বাড়ির ময়লার ঝুড়ি ভরে ফেলে ছিলাম। হারিকেনের কেরোশিন পুড়ে কি সব কথা-বার্তা লিখতাম!
তখন মোবাইল ফোন ছিলনা, তাই সকাল দুপুর তাদের বাড়ির সামনে ঘুরতে ঘুরতে মহল্লার নেড়ি কুকুরটার সাথে পযন্ত আমার ভাব হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কিছুতেই তৎকালিন সেই রুপসী আলতা বানুর মন জয় করতে পারতে ছিলাম না।
বাড়ির ধান চাল শরিষা এমনকি ঝোপের বাঁশ পযন্ত বিক্রি করে সব ব্যায় করতে ছিলাম আলতাবানুর জন্য।
ভালবাসা মোরে ভিক্ষারী করেছে .. .. তোমারে করেছে মহান.. টাইপের গান গাওয়ার সময় চলে এল। এমন বিদিক অবস্থায়
তাই শেষ ভরসা হিসেবে বন্ধু এরশাদের কাছে গিয়ে দাড়ালাম। ঐ সময় এরশাদ হাফ ডজন ছ্যাকা খেয়ে এই লাইনে তার দক্ষতার প্রমাণ করতে পারছিল মহল্লায়!
এরশাদ আলতাবানুর সার্বিক কাজ কর্ম শখ বিশ্লেষন করে আমারে পরামর্শ দিয়ে বললো, এই মেয়ে রুপচর্চায় দূবর্ল! তুমি ওরে রুপচর্চার সামগ্রী কিনে দাও বস্তায় বস্তায়!
বন্ধুর কথামত তারে রুপচর্চার নানা বিলাসি সামগ্রী গিফট করতে থাকি। এতে একপর্যায় সে আমার উপর মুগ্ধ হয়! না-না বলা উচিৎ সে বুঝতে পারে যে একটু কুলুর বলদ পাওয়া গিলাছে। মনে মনে হয়ত ভাবে আজীবন এই গর্দভটার মাথায় কাঠাল ভেংঙ্গে খাওয়া যাবে! তার ধারণা ঠিক আছে। আমি শুধু ত্যাগ করেই যাচ্ছি!
আম পুরুষকুল অবশ্য এমনি। তারা শুধু দিয়েই যায়!
খেয়াল করুন সম্মাট সাহজাহান আঙ্কেল মমতাজের জন্য কত বড় এক আর্শ্চয্য ইমারত তৈরী করেছিল। কত ধনবান মহিলার স্বামিইতো পৃথিবীতে মারা গেল কৈ কেউতো একটা টিনের ঘরও তৈরী করলো না!
এতে কি প্রমান হয়?
সেই ভাবনা আপনাদের উপরই ছাড়লাম।

আমার স্ত্রী কিছুতেই তার বয়সকে স্বীকার করেনা। সেদিন এক ডাক্তারের কাছে গিয়ে ছিলাম। ডাক্তার বয়স কত জিজ্ঞাসা করতেই কুলসুম বলল তেইশ বছর! গত দশটা বছর তার বয়স এক জায়গায় ঠেকে আছে!

ইদানিং আমার স্ত্রী তার রুপ নিয়ে হঠাৎ একটু টেনশনে পড়েছে।
তার ধারণা একটু যতœাদি করলে সে ঐশীরিয়া জেনিলিয়াদের পেছনে ফেলে দিতে পারবেন। তাই তিনি যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে বাজার থেকে নানান ধরণের কসমেটিকস কিনছেন এবং ব্যাবহার শেষে কোম্পানি ওয়ালাদের গালাগাল দিচ্ছেন।
টিভির বিজ্ঞাপনে অবশ্য প্রমাণ(!!)সহ বলা হয়েছিল, সকল গৌরবর্ণদের সাত দিনে ধবধবে ধবল করবে হাবিজাবি লাভলী ক্রিম!
কথাটা বলেছিল আবার আমাদের আহলাদি টাইপের চেহারার এক টিভি নায়িকা। তিনি বলতে ছিলেন তার সুন্দরী হইবার গোপন রহস্য! গোপন জিনিষ এই ভাবে টিভি পর্দায় বলার পর কেমনে গোপন থাকে এটা অবশ্য গবেষনার ব্যাপার!
যাই হোক ঐ ক্রিম কিনে আমার কল্পনা বিলাসি বউ এখন চরম হতাশ। তার সারা মুখে ব্রনে ভরে গিয়েছে। মুখের ত্বক লাল হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় আলতা বানু কাঁদো কাঁদো গলায় সকালে আমার সামনে এসে দাড়িয়ে বললো,
– ওগো তুমি দেখেছো আমার এ কি হলো? এখন আমি এই দাগ উঠাবো কি দিয়ে?

তার চোখ মুখের অভিব্যাক্তি দেখে মনে হল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বুলডেজারটা বুঝি তার মুখের উপর দিয়ে গিয়েছে।
মুখের সারা জমিন জুড়ে ব্রন, কালো রাষ উঠে বিশ্রি অবস্থা ওর।
যদিও আমি ডাক্তার নই, তবু বাঙ্গালী বলে জন্ম সূত্রেই আমি পেয়েছি উপদেশ দেবার এক বিশেষ ক্ষমতা!
তাই তাকে বললাম,
– এক কাজ করো তুমি কাঠ ঘসার শিরিস কাগজ দিয়ে সারা মুখ ঘসে দেখতে পারো। ভাল ফিনিসিং পাবে!

আমার হালকা রসিকতায় সে খুবই উত্তেজিত হয়ে পড়ল।
আগামী তিনদিন বাসায় আমার খানা বন্ধ বলে সে জানিয়ে দিল। হাতে থাকা পত্রিকাটাও সে একটানে ছিড়ে ফেললো। ভ্যাগিস সে আমাকে টেনে ছিড়ে ফেলেনি!
নারী শাষিত সমাজ ব্যাবস্থায় এসব শোষনকে নিয়তি বলেই মেনে নিয়েছি।
ইংরেজ লাট সাহেবরা দেশটাকে ছিবড়ে খেয়ে এক সময় চলে গিয়েছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ওরা আবার ফিরে এসেছে। গরীব রাষ্টের বিপনি-বিতান গুলোর কাঁচের শোকেসে থরে থরে সাজানো বিদেশি ব্যান্ডের কসমেটিকস। ঝকমকে আলো আর বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ফেলে জন্ম সূত্রে কম মস্তিস্ক নিয়ে জন্মানো নারীকুলকে নানা কেমিক্যাল ব্যবহার করিয়ে দেশের টাকাকে নিয়ে যাচ্ছে মোড়ল রাষ্ট্র গুলো। বিভিন্ন টাইপের ক্রিম,সাবান,লোশন এরগায়ে সাদা ধবধবে অর্ধ্বউলংঙ্গ নারীদের ছবি যুক্ত সেই সব পন্য কিনলেই যেন আধুনিক হওয়া যাবে। জাতে উঠা যাবে। ইশ্বর প্রদত্ত চামড়াকে সাদা করতে পারলেই যেন স্বর্গ সুখ! বিজ্ঞাপনে দেখানো হয় নারীর চামড়া সাদা হলেই সে ভাল চাকুরি পাবে! বাবা মায়ের মুখ উজ্জল করতে পারবে। কালো চামড়া যেন সকল ভাল কাজের অন্তরায়। হায় নারীকুল!

আমার অস্থির চরিত্রের স্ত্রী আলতাবানু এখন শসা, পিয়াজ, মুসরির ডাল, কাঁচা হলুদ, গোল আলু সহ কাঁচা সবজির উপর ঝুকে পড়েছে। সবজির মূল্য বৃদ্ধিতে নারীকুলের অবদান যে কম নয় তা বেশ বুঝতে পারছি।
বাজারের থলে হাতে শুকনো মুখে সবজি কিনছি কিন্তু পাতে পড়ছে ডাল! পুরুষ নির্যাতনের কথা নিয়ে সবাই ভারি নিশ্চুব!

চোখের ভ্রু তুলতে গিয়ে আমার স্ত্রী যন্ত্রনায় কেঁদে ফেলেন প্রায়ই। তাই তাকে প্রশ্ন করলাম, কেন তুমি এতো কষ্ট করে ভ্রু তুলে বেড়াল সাজছো?
আমার কথায় তার গরম কড়াইতে যেন তেল পড়লো। তেড়ে এলো সে। তবে সে কিছু ছুড়লো না আজ। প্রায়ই সে হাড়ি পাতিল ছুড়ে মারে আমার টাক মাথায়। আশংকাজনক ভাবে ওর হাতের নিশানা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভাবছি একটা হেলমেট কিনে ফেললে কেমন হয়? ওরে জব্দ করা যাবে। ভয়ে হো-া চালানো শিখিনি। হেলমেট পড়ার শখটা অন্তত মিটবে!

কুলসুম বানু আমাকে টেনে নিয়ে গেল টিভি রুমে। হিন্দি পুরাতন একটা সিনেমা চলছিল, যেখানে নায়ক অনিল কাপুর আর অক্ষয় কুমারের গা ভর্তি কালো লোম। ও চ্যানেল পাল্টে সদ্য মুক্তি পাওয়া একটা সিনেমা দেখালো। বিস্ময়ে হতবাক হলাম।
স্ত্রী বললো
– আমরাতো মাত্র চোখের ভ্রু প্লাগ করছি আর তোমরা পুরুষরা সারা শরীর প্লাগ করছো!
মুখ ঝামটা দিয়ে ও চলে গেল। যার বুকে লোম নাই সে নাকি মায়াদয়াহীন সিমার! তাই আগের দিনের নারী সমাজে লোম ওয়ালা পুরুষের খুব কদর ছিল। আহা পুরুষরাও এখন লোম প্লাগ করছে? আশংকা করছি অচিরেই হয়ত মেয়েদের মত মুখে ডাল মেখে আর চোখে শসার টুকরো দিয়ে পথে নামবে পুরুষ কুল।

পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা: ইসলাম কী বলে?

পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা

পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা জায়েজ কিনা-এ বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। চলমান এ বিতর্ক অবসানের উদ্দেশ্যে কিছু আলোচনা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো। পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো জায়েজ কিনা-এ বিষয়টি বিতর্কপূর্ণ বা মতবিরোধপূর্ণ কোনো বিষয় নয়।

কোরআন, হাদিস ও সালফে-সালিহীনের বক্তব্যে এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক পাওয়া যায় না। তবে বর্তমান বিশ্বে এটি কিছুটা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে পশ্চিম দিকে পা দিয়ে বসা, শোয়া বা ঘুমানোর বিষয়ে বিতর্ক দেখা দেয় কিংবা শোনা যায়। অনেকে এটিকে গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য করেন আবার অনেকে এর মধ্যে অন্যায় কিছু দেখেন না।

কেউ কেউ আবার এ বিষয়ে বিভিন্ন কুসংস্কারেও বিশ্বাস করেন। যেমন সমাজে প্রচলিত আছে যে, পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমালে হায়াত কমে যায় ইত্যাদি।

ইসলামে কোনো বিষয়কে হালাল বা হারাম সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য তার পক্ষে বা বিপক্ষে গ্রহণযোগ্য দলিল থাকা জরুরি। দলিল ছাড়া ইসলামে কোনো কিছু হালালও হয় না এবং হারামও হয়না। তাই পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো জায়েজ কিনা- প্রথমেই এ প্রশ্নের দলিল খুঁজে দেখতে হবে।

ইসলামী আইনের মূলনীতি হচ্ছে- সাধারণভাবে সবকিছু জায়েজ, যতক্ষণ না সেটি হারাম হওয়ার পক্ষে কোনো দলিল পাওয়া যায়। এই মূলনীতি অনুয়ায়ী আমরা যদি উল্লিখিত মাসআলাটি বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখতে পাই যে, পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানোর ব্যাপারে কোনো আদেশ বা নিষেধ কোনটিই নেই।

এমতাবস্থায় পশ্চিম দিকে পা দেওয়া হারাম ঘোষণা করতে হলে-এর বিপক্ষে গ্রহণযোগ্য দলিল পেশ করতে হবে। অথচ আমাদের অনুসন্ধান অনুযায়ী আমরা সাধারণভাবে ‘পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো নিষেধ’ মর্মে কোনো বক্তব্য কোরআন, হাদিস বা ইমামদের বক্তব্য থেকে জানতে পারি না। তাই এটি নিষেধ করার কোনো যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ নেই বলে দাবি করা যায়

অনেকে পশ্চিম দিকে (কিবলার দিকে) মুখ ফিরিয়ে বা পিঠ ফিরিয়ে পায়খানা-প্রশ্রাব করার নিষেধাজ্ঞায় বর্ণিত হাদিসের ওপর কিয়াস করে পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসাকে নাজায়েজ বলে থাকেন। অথচ এমন কিছু ধারণা করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।

খোলা স্থানে কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে বা পিঠ ফিরিয়ে পায়খানা-প্রশ্রাব করা নিষেধ; এ মর্মে স্পষ্ট হাদিস রয়েছে (সুনান আন-নাসাঈ, হাদীস নং-২১, জামি আত-তিরমিযী, হাদীস নং-০৮) কিন্তু কিবলার দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা নিষেধ মর্মে কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি। তাই কিবলার দিকে তথা পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা নাজায়েজ- এ কথাটি অপ্রমাণিত ও ভুল।

সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বাজকে (রহ.) এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। কোনো ব্যক্তি যদি তার দুই পা কিবলার দিকে ফিরিয়ে রাখে তাতে কোনো সমস্যা নেই। এমনকি কেউ যদি মসজিদে হারামে বসেও কাবার দিকে পা ফিরিয়ে রাখে তাতেও কোনো সমস্যা নেই।

শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উছাইমীনও (রহ.) বলেন, কিবলার দিকে পা দিয়ে ঘুমাতে বা বসতে কোনো দোষ নেই।

কিবলা ও কাবা অত্যন্ত মর্যাদাবান দু’টি বিষয়। এগুলো ইসলামের শিআর বা নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। এগুলোকে কোনোভাবে অসম্মান করা, অবজ্ঞা করা বা এগুলোর প্রতি কোনো অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা মহা অন্যায়। তাই কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের  কাজ হলে তা মহা অন্যায় ও কবিরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। পশ্চিম দিকে পা রাখার কারণে গুনাহ হবে কি হবে না-তা নির্ভর করে যে পা রাখছে তার ইনটেনশন বা নিয়তের উপর।

পশ্চিম দিকে পা রাখা যদি হারাম হয় তাহলে বিছানায় বা সমান কোনো স্থানে বসা কোনো মাজুর ব্যক্তি (অসুস্থতা বা কোনো সমস্যার কারণে পা সামনে রেখে নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি) কিভাবে বা কোন দিকে পা রেখে সালাত আদায় করবে? অবশ্যই পশ্চিম দিকে অর্থাৎ কিবলার দিকে পা রেখেই সলাত আদায় করতে হবে।

ফিকহ বিশারদরা বলেন, যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বা বসে নামাজ পড়তে না পারেন, তাহলে কিবলা মুখ করে এক পাশে শুয়ে নামাজ আদায় করবেন। যদি সেটাও না পারেন তাহলে চিত হয়ে শুয়ে কিবলার দিকে পা দিয়ে নামাজ পড়তে হবে। যদি পশ্চিম দিকে পা রাখা হারাম বা নাজায়েজ হতো তাহলে সলাত আদায় কালেও তা হারাম হতো। আর যদি এটি ব্যতিক্রম হিসাবে নাজায়েজ হতো তাহলে তাও ফিকহের কিতাবে ও ফতোয়ায় উল্লেখ থাকতো।

তাই ‘কিবলার দিকে বা পশ্চিম দিকে পা রেখে ঘুমালে হায়াত কমে যায়’ এ ধরনের অপ্রমাণিত ও অগ্রহণযোগ্য কথা বিশ্বাস, প্রচার ও প্রসার থেকে নিজে বিরত থেকে অন্যকেও বিরত রাখতে চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। সুতরাং বলা যায় কথাটি ভিত্তিহীন।

শিশুকে স্তন্যপান করানোর ছবি দিয়ে বিতর্কে কিরগিজ প্রেসিডেন্ট কন্যা

কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্টের কনিষ্ঠ কন্যা আলিয়া শাগিয়েভা অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় তার শিশুকে স্তন্যপান করাচ্ছেন(ব্রেস্টফিডিং), এমন একটি ছবি স্তন্যপান ও সেক্সুয়ালাইজেশন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

তিনি এপ্রিল মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি পোস্ট করেন। তার পোস্টের ক্যাপশন ছিল, ‘আমি আমার সন্তানকে যখনই এবং যেখানেই দরকার সেখানেই  খাওয়াবো।’ তবে ছবিটির কারণে তাকে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাইট থেকে তিনি ছবিটি সরিয়ে নেন।

এ খবর দিয়েছে বিবিসি। বিবিসির সঙ্গে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এতো হৈচৈ হওয়ার পেছনে কাজ করেছে এমন একটি সংস্কৃতি যেটি নারীর গঠনকে অতিমাত্রায় ‘সেক্সুয়ালাইজ’ করে রেখেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাকে যেই শরীরটি দেওয়া হয়েছে সেটি অমার্জিত নয়। এটি কাজ করে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে আমার সন্তানের শরীরবৃত্তিয় প্রয়োজন মেটানো, সেক্সুয়ালাইজ করা নয়।’

এমন নয় যে শুধুমাত্র কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী তার ছবির প্রতি নিন্দা জানিয়েছে। তার বাবা প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতাম্বায়েভ ও মা রাইসাও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শাগিয়েভা বলেন, ‘তারা এটা পছন্দ করেনি। আমি তাদের ক্ষোভ মেনে নিয়েছি, কারণ নতুন প্রজন্ম সবসময় তাদের পিতা-মাতার চেয়ে কম রক্ষণশীল হবে।’ শাগিয়েভা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সক্রিয় থাকেন।

তিনি প্রায়ই তার নিজস্ব চিত্রকর্ম, তার ও তার স্বামীসহ শিশুর পোট্রেইট পোস্ট করে থাকেন। তিনি ব্রেস্টফিডিং নিয়ে বলেন, ‘আমি যখন আমার সন্তানকে স্তন্যপান করাই তখন আমার মনে হয় আমি তাকে আমার সেরাটা দিচ্ছি। নিজের সন্তানের যত্ন নেওয়া আর তার প্রয়োজনে সাড়া দেওয়া আমার কাছে মানুষের কথার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’