বাজারে ঢুকছে প্লাস্টিকের প্রলেপ দেয়া তরমুজ

তাও ভাল যে লাউ বা চালকুমড়ার উপর রঙ মেরে তরমুজ কয় নাই, বাঙালির মত বেইমান জাতি মনেহয় আর নাই, খারাপের সব লেভেল ক্রস করে ফেলসে এরা 😡😡😡 Continue reading “বাজারে ঢুকছে প্লাস্টিকের প্রলেপ দেয়া তরমুজ”

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া, মধ্যবর্তী নির্বাচন-কী হতে যাচ্ছে?

মারাত্মক সাংবিধানিক সঙ্কটে ধাবিত দেশ- এ রকম আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিদ্বজ্জনেরা। আশা ছিল, শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সঙ্কটের সফল সমাপ্তি ঘটবে। শাসক দলের নরম-গরম বক্তৃতা এবং পর্দার অন্তরালে আপসরফার প্রয়াস দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল সাংবিধানিক পথেই অগ্রসর হবে উভয়পক্ষ। কিন্তু আকস্মিকভাবেই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার একটি মন্তব্য সর্বোচ্চ কর্তৃত্বকে বেসামাল করে তোলে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি ও গণমাধ্যম বিষয়টিকে উসকানিমূলকভাবে পরিবেশন করে। উদাহরণস্বরূপ সস্তায় বিক্রীত একটি দৈনিকে শিরোনামটা ছিল এরকম ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের কথা অ্যাটর্নি জেনারেলকে স্মরণ করিয়ে দিলেন এস কে সিনহা’।

অথচ বক্তব্যটি এমন ছিল না। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যখন বলেন, চার দিকে ঝড় উঠেছে তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ঝড় তো আপনারাই তুলেছেন। পাকিস্তানে রায়ের পরে তো কোনো ঝড় ওঠেনি। এ বক্তব্যকে বিকৃত করে যখন পরিবেশিত হয়, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তার বক্তব্যের সারাংশ এ রকম : ক. ‘সব সহ্য করা যায়, কিন্তু পাকিস্তানের সাথে তুলনা করলে এটা আমরা কিছুতেই সহ্য করতে পারব না। পাকিস্তানে রায় দিলো দেখে কেউ ধমক দিবে- জনগণের কাছে এর বিচার চাই, … আজকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কেন তুলনা করবে? খ. অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে দেয়া হবে না। যদি কেউ সে অপচেষ্টা চালায়, তাকে সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। গ. সব বিচারপতির স্বাধীন মতামত দেয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ে সব বিচারপতি স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পেরেছেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সুযোগটা বোধ হয় প্রধান বিচারপতি দেননি’।

প্রধানমন্ত্রী প্রধান বিচারপতির নিয়োগ, জাতীয় সংসদ, অবৈধ ক্ষমতা দখল, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয়ে বক্তব্য দেন। এসব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘এ কথাগুলো বলার আগে ওই পদ থেকে তার সরে যাওয়া উচিত ছিল’। সংসদের বৈধতা ও অবৈধতা প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনী আইনে আছে, অন্য কোনো প্রার্থী না থাকলে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। কোনো দল নির্বাচনে অংশ না নিলে যিনি এভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেন সেটা তো তার দোষ না। সে জন্য সংসদের বৈধতা ও অবৈধতার প্রশ্ন আসতে পারে না’।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করলে এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তিনি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ওপর মহা ক্ষিপ্ত হয়েছেন। কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় নিয়মতান্ত্রিকতার যে খানিকটা সুর ধ্বনিত হচ্ছিল, তার তীব্র বাক্যবাণে তা নস্যাৎ হয়ে গেল। তিনি প্রকারান্তরে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। পরবর্তীকালে তার এই আহ্বানকে কার্যকর করার জন্য যে অপকৌশল আওয়ামী লীগ নিয়েছে, তা যেকোনো আইনকানুন, রীতি-রেওয়াজ, ভদ্রতা-সভ্যতা, শিক্ষা-সংস্কৃতির বিরোধী।

আওয়ামী লীগের নেতা, পাতি নেতা, হাইব্রিড নেতা সবাই তারস্বরে চিৎকার করছেন প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের সামনে মানববন্ধন করে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করে এবং এ জন্য পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। আওয়ামী লীগের নেতারা এমন কোনো কুৎসিত মন্তব্য বাকি রাখেননি, যা তারা সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রতি আরোপ করেননি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী তাকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ উল্লেখ করেছেন। অপর দিকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেছেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তাদের রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। এই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বাংলাদেশে বসবাস করলেও অন্তরে তাদের পাকিস্তান’। যেকোনো ব্যক্তি যখন কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে অথবা তাদের স্বার্থের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তখন তারা সেই ব্যক্তিকে স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী বলে চিহ্নিত করে। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তবে ভাগ্যবান সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক। আর তা না হলে ইতোমধ্যে রাজাকার খেতাব পাকাপোক্ত হয়ে যেত। তারা সিনহাকে শান্তি কমিটির লোক বলেও প্রচার করেছে। কিন্তু, নাগরিকসাধারণ যা বোঝার তা-ই বুঝেছেন।

সবচেয়ে মৌলিক আইনগত এবং সাংবিধানিক প্রশ্ন, সরকার পক্ষ কি এটা পারেন? আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না- এ কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কি এ রকম বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে পারে? এখন একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রায় ফেরানোর জন্য কি দেনদরবার করতে পারে? সে যদি তা না পারে তাহলে সরকার, সংসদ ও দল কেউই তা পারে না। তাকে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ায়ই অগ্রসর হতে হবে। স্বাভাবিক ছিল ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যালোচনা চেয়ে আবেদন করা- সরকার তা বলেছিল। কিন্তু তা না করে তারা অবৈধ, অন্যায় ও অনিয়মতান্ত্রিক পথে পা বাড়িয়েছেন। ২০১৪ সালে বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা যখন জাতীয় সংসদ নিজ হাতে তুলে নেয়, তখন সাধারণ নাগরিকেরা বিচলিত ছিল এই ভেবে যে, নাগরিক অধিকারের শেষ আলোটুকু অর্থাৎ উচ্চ আদালতের কাছে আবেদন করার শেষ সুযোগটুকুও বুঝি থাকছে না। স্মরণ করা যেতে পারে, তত দিনে ক্ষমতাসীনেরা আইনসভা বেআইনিভাবে দখল করেছে। প্রশাসনকে দলের অংশে পরিণত করেছে।

‘আইন ও শৃঙ্খলাবাহিনীর গোপালীকরণ’ করেছে। মানুষের দাঁড়ানোর আর কোনো জায়গা নেই। অবশেষে ট্যানেলের শেষে আলোর রেখা দেখা গেল। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের সূত্রে অনেক আশা করে তারা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন সংখ্যালঘু ব্যক্তিত্বকে প্রধান বিচারপতি পদে অধিষ্ঠিত করেন। অনেকে তখন বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেনি। কিন্তু, তারা এখন দেখতে পাচ্ছেন যে একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি কিভাবে শক্তিমত্ততার সাথে লড়াই করে চলছেন। নাগরিকসাধারণ শঙ্কিত। তারা কখন কী করে বসে!

সরকারি দলের এই অবস্থানের বিপরীত হচ্ছে বিরোধী দলের অবস্থান। এত দিন ধরে নিপীড়ন, নির্যাতন ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অক্ষমতা বিরোধী দলকে নিঃশেষ করে ফেলছিল। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে তাদের বিরুদ্ধে অনেক স্পর্শকাতর মন্তব্য আছে। তবুও হয়তো ‘শেষ ভালো’ হিসেবে তারা রায়টি গ্রহণ করেছে। ষোড়শ সংশোধনীর রায় এবং পর্যালোচনা অবশেষে বিরোধী দল যুক্তি উত্থাপন করেছে- প্রথমত, এ রায়ের মাধ্যমে সরকার শাসন করার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। দ্বিতীয়ত, সংসদ অকার্যকর এ মন্তব্যের ধারাবাহিকতায় সংসদের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তৃতীয়ত, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং দলীয়করণের মাধ্যমে যেভাবে ‘সুশাসনের অভাব’ দৃশ্যমান হয়েছে তাতে শাসক দলের অযোগ্যতা প্রমাণ করেছে।

চতুর্থত, নির্বাচনব্যবস্থাকে বিশেষ করে ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে যেভাবে ‘প্রতিনিধিত্বহীন’ করা হয়েছে তাতে সংসদীয় গণতন্ত্রের অকার্যকারিতা এবং অপরিপক্বতা প্রমাণ হয়েছে। পঞ্চমত, বিগত বছরগুলোতে অনানুষ্ঠানিক যে জনমত দেখা গেছে, তাতে মানুষ তেতিয়ে উঠেছে। ‘বারুদের গন্ধ চারিদিকে’। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের ভাষায় ‘ঝড় উঠেছে’।

সুতরাং বিরোধীদের দাবি, সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। শুধু প্রধান বিরোধী দল নয়, সব বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বামমোর্চা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে যে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা, তাদের সমর্থিত আইনজীবী, মন্ত্রী, এমপিরা যেভাবে এই রায়ের পর্যবেক্ষণ উচ্চ আদালত, এমনকি প্রধান বিচারপতিকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছেন, যা উচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। তাদের বক্তব্য-বিবৃতি শিষ্টাচারের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্মানিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাবেক প্রেসিডেন্ট বি. চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ নেতৃবৃন্দ সরকারের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিচার বিভাগ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় পেশাজীবী তথা সিভিল সোসাইটি সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছে। আইনজীবীদের শীর্ষ সংগঠনগুলো এবং অন্যান্য পেশাজীবী সম্প্রদায় সরকারের শক্তি প্রয়োগের সমালোচনা করেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন মনে করে, বর্তমান সংসদ বহাল রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ষোড়শ সংশোধনী রায়ের ধারাবাহিকতায় এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন হয়। অর্থাৎ সর্বাত্মকভাবে সরকারের পদত্যাগ অথবা সংসদ ভেঙে দেয়া অথবা মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে সর্বত্র জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে।

পদত্যাগ আন্দোলনের প্রতিযোগিতা যখন শুরু হয়েছে, তখন কাউকে না কাউকে হয়তো পদত্যাগ করতে হতে পারে। ক্ষমতাসীন সরকারের জন্য যেহেতু এটি একটি মানসম্মানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তারা হয়তো চাইবে ‘ছলে, বলে, কলে, কৌশলে’ এস কে সিনহাকে পদত্যাগে বাধ্য করতে। এমনকি তারা অসাংবিধানিক পথও বেছে নিতে পারে। সংবিধানে এবং বর্তমান বাস্তবতায় তাকে অপসারণের কোনো অবকাশ নেই। এতদসত্ত্বেও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক সরকারকে অপসারণের কুবুদ্ধি বাতলিয়েছেন। প্রধান বিচারপতিকে সামরিক সরকারের মতো বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে পদত্যাগের আহ্বান হয়তো সম্ভব হবে না। গণমাধ্যম জগতে স্ব-আরোপিত অথবা সরকার আরোপিত সেন্সর কাজ করছে কি না, জানি না।

তবে ইতোমধ্যে ফেসবুকে প্রধান বিচারপতি সিনহার পোস্ট থেকে জানা গেছে, তিনি ‘শির দেগা নেহি দেগা আমামা’। তিনি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না। জেদাজেদি কারোর জন্যই ভালো নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সঙ্কটের ফলে কোনো ‘রাজনৈতিক দুর্যোগ’ নেমে আসুক নাগরিকসাধারণ তা কামনা করে না। এত কিছু সত্ত্বেও সমস্যাটির রাজনৈতিক সমাধানের পথে সংশ্লিষ্ট সবাই অগ্রসর হবেন- এই প্রত্যাশা সবার। ‘শুভস্য শীঘ্রম’।

কুরবানীর ভাগের সাথে কি আকীকা দেয়া যাবে?

ভূমিকাঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। দরূদ ও শান্তির অবিরাম ধারা বর্ষিত হোক নবীকুল শিরোমণী মুহাম্মাদ (সাঃ) এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও সম্মানিত সাথীদের উপর। ইসলাম একটি শান্তিময় জীবন বিধান। নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মৃত্যু বরণ করার পূর্বেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই দ্বীনকে মুসলমানদের জন্য পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। একজন মানুষের জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলাম সুন্দর সুন্দর বিধান প্রদান করেছে। নবজাতক শিশু জন্ম গ্রহণ করার পর সন্তানের পিতা-মাতা বা তার অভিবাবকের উপর আকীকার বিধান ইসলামের সৌন্দর্যময় বিধান সমূহের মধ্য হতে অন্যতম একটি বিধান। আমরা অত্র প্রবন্ধে ইসলামে আকীকার বিধান সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করব, ইনশা-আল্লাহ। আকীকার অর্থঃ تعريف العقيقة ইসলামের পরিভাষায় সন্তান জন্ম গ্রহণ করার পর আল্লাহর শুকরিয়া ও আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যে পশু জবাই করা হয়, তাকে আকীকা বলা হয়।
.
 আকীকার হুকুমঃ অধিকাংশ আলেমের মতে সন্তানের আকীকা করা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। রাসূসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
.
“যে ব্যক্তি তার সন্তানের আকীকা করতে চায়, সে যেন উহা পালন করে”। (আহমাদ ও আবু দাউদ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেনঃ
.
প্রতিটি সন্তানই আকীকার বিনিময়ে আটক থাকে”। (আহমাদ, তিরমিজী ও অন্যান্য সুনান গ্রন্থ) আকীকার বিনিময়ে সন্তান আটক থাকার ব্যাপারে আলেমগণের কয়েক ধরণের বক্তব্য রয়েছে। এ ব্যাপারে ইমাম আহমাদ বিন হান্বালের কথাটি সবচেয়ে সুন্দর ও বিশুদ্ধ। তিনি বলেন, কথাটি শাফাআতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ আকীকা দেওয়া হয়নি, এমন শিশু সন্তান যদি মৃত্যু বরণ করে, কিয়ামতের দিনে সে শিশুর শাফাআত থেকে পিতা-মাতা বঞ্চিত হবে। আর হাদীসে একথা প্রমাণিত আছে যে, মুসলমানদের যে সমস্ত শিশু বাচ্চা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বেই মৃত্যু বরণ করবে, তারা তাদের মুসলিম পিতা-মাতার জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে। উপরের আলোচনা থেকে প্রমাণিত হলো যে, সন্তানের আকীকা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। ওয়াজিব বা ফরজ নয়।
.
 আকীকা করার সময়ঃ
আকীকার জন্য উত্তম সময় হলো সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার সপ্তম দিবস। সপ্তম দিনে আকীকা দিতে না পারলে ১৪ম দিনে, তা করতে না পারলে ২১ম দিনে আকীকা প্রদান করবে। সপ্তম দিনে আকীকা করার সাথে সাথে সন্তানের সুন্দর নাম রাখা, মাথার চুল কামানো এবং চুল এর সমপরিমাণ ওজনের রৌপ্য ছাদকাহ করাও মুস্তাহাব। (তিরমিজী) বিনা কারণে আকীকা দেওয়াতে বিলম্ব করা সুন্নাতের বিরোধীতা করার অন্তর্ভুক্ত। দারিদ্র বা অন্য কোন কারণে যদি উল্লেখিত দিন গুলোতে আকীকা করতে অক্ষম হয়, তবে সন্তান ছোট থাকা অবস্থায় যখনই অভাব দূর হবে, তখনই আকীকা করতে হবে। অভাবের কারণে যদি কোন লোক তার শিশু ছেলে-মেয়েদের আকীকা করতে না পারে, তাহলে সন্তান বড় হওয়ার পর যদি তার আর্থিক অবস্থা ভাল হয়, তখন আকীকা করলেও সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে এবং পিতা- মাতা ছাওয়াব পাবে, ইনশাআল্লাহ। এমন কি কারও পিতা-মাতা যদি আকীকা না করে, সে ব্যক্তি বড় হয়ে নিজের আকীকা নিজে করলেও সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। আনাছ (রাঃ) হতে বর্ণিত,
.
“ নবী (সাঃ) নবুওয়াত পাওয়ার পর নিজের আকীকা নিজে করেছেন”। (বায়হাকী) এ হাদীস থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর নিজের আকীকা নিজে দেওয়া বৈধ হওয়ার উপর সুস্পষ্ট দলীল পাওয়া যায়।
.
 কোন ধরণের পশু দিয়ে আকীকা করতে হবে? সংখ্যা কয়টি?
আকীকার ক্ষেত্রে সুন্নাত হলো, ছেলে সন্তান হলে দু‘টি দুম্বা বা ছাগল আর মেয়ে সন্তান হলে একটি দুম্বা বা ছাগল দিয়ে আকীকা করা। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ
.
“ছেলে সন্তানের পক্ষ থেকে দু‘টি সমবয়সের ছাগল এবং মেয়ে সন্তানের পক্ষ থেকে একটি ছাগল দিয়ে আকীকা দিতে হবে। (আহমাদ ও তিরমিজী) যে ধরণের ও বয়সের ছাগল বা দুম্বা কুরবানীর ক্ষেত্রে বৈধ, তা দিয়ে আকীকা করতে হবে। অর্থাৎ কুরবানীর পশু যেসমস্ত দোষ-ত্রুটি হতে মুক্ত হওয়া শর্ত, আকীকার ছাগল-খাসী বা দুম্বাও সেসমস্ত দোষ-ত্রুটি হতে মুক্ত হতে হবে। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে যদি ছেলে সন্তানের পক্ষ থেকে দু‘টি ছাগল দিয়ে আকীকা দিতে না পারে, তবে একটি দিয়ে আকীকা দিলেও চলবে। কেননা রাসূল (সাঃ) হতে ছেলে সন্তানের পক্ষ থেকে একটি করে দুম্বা দিয়ে আকীকা করার কথাও প্রমাণিত আছে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত,
.
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হাসান এবং হুসাইসের পক্ষ হতে একটি করে দুম্বা আকীকা করেছেন। (আবু দাউদ) তবে সামর্থবান ব্যক্তির পক্ষে একটি ছাগল দিয়ে ছেলে সন্তানের আকীকা করা উচিৎ নয়। মোট কথা, ছেলে সন্তানের আকীকার জন্য দু‘টি ছাগল বা দুম্বা হওয়া জরুরী নয়; বরং মুস্তাহাব।
.
 আকীকার গোশত কি করবে?
আকীকার গোশত কুরবানীর গোশতের মতই। তা নিজে খাবে, আত্মীয় স্বজনকে খাওয়াবে এবং গরীব-মিসকীনকে ছাদকা করবে। তবে যেমনভাবে কুরবানীর গোশত তিন ভাগ করে একভাগ নিজে খাওয়া, একভাগ ছাদকা করা এবং এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনকে হাদীয়া হিসাবে দান করা জরুরী নয়, ঠিক তেমনিভাবে আকীকার গোশতও উক্ত নিয়মে তিন ভাগ করা জরুরী নয়। আকীকার গোশত যদি সম্পূর্ণটাই রান্না করে এবং আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব এবং অন্যান্য মুসলমানদেরকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ায় তাতেও যথেষ্ট হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যে, কোন ক্রমেই যাতে হাদীয়া ও উপহারের আশায় শুধুমাত্র ধনী ও সম্মানী লোকদেরকে দাওয়াত দিয়ে দরিদ্র ও অভাবী ব্যক্তিদেরকে প্রত্যাখ্যান না করা হয়। যা আমাদের দেশে অধিকাংশ সমাজেই বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে হয়ে থাকে। তবে সন্তান জন্ম গ্রহণের দিন কিছু মানুষ যে অনুষ্ঠান করে থাকে বা প্রতি বছর সন্তানের জন্ম দিবস পালন করে থাকে এবং এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান করে থাকে, তা সম্পূর্ণ বিদআত। এ সম্পর্কে ইসলামী শরীয়তে কোন দলীল নাই। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
.
যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মাঝে এমন বিষয় তৈরী করল, যা আমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখাত”। (বুখারী) শুধু বিদআতই নয় বরং তা অমুসলিম ইহুদী-খৃষ্টানদের অনুসরণও বটে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
.
“যে ব্যক্তি কোন জাতির অনুস্মরন করবে, সে উক্ত জাতির অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। (আবু দাউদ)
.
 গরু দিয়ে আকীকা করাঃ
কোন হাদীসেই গরু দিয়ে আকীকা করার কথা উল্লেখ হয়নি। অথচ রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর যুগে সবধরণের পশুই বিদ্যমান ছিল। সুতরাং উত্তম হচ্ছে ছাগল বা দুম্বা দিয়েই আকীকা করা। গরু দিয়ে আকীকা করা হলে একদল আলেমের মতে তা জায়েয হবে। তবে শর্ত হচ্ছে একজন সন্তানের পক্ষ হতে একটি গরু দিয়ে আকীকা করতে হবে। অপর পক্ষে কতিপয় আলেম সাত সন্তানের পক্ষ হতে একটি গরু দিয়ে আকীকা দিলেও জায়েয হবে বলে মত দিয়েছেন,। তবে সাত সন্তানের পক্ষ হতে একটি গরু আকীকা করার কথা হাদীছে পাওয়া যায় না। আকীকা যেহেতু একটি এবাদত, তাই হাদীছে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই পালন করা উচিত। আর এটি মোটেই কঠিন কোন বিষয় নয়।
.
 কোরবানীর সাথে ভাগে আকীকা দেয়াঃ
আমাদের দেশে সাতভাগে গরু দিয়ে কুরবানী করার ক্ষেত্রে আকীকার অংশীদার হওয়ার নিয়ম ব্যপকভাবে প্রচলিত আছে। এটি হাদীছ সম্মত নয়। একটি গরু দিয়ে যদি একজন সন্তানের আকীকা করা যদি ঠিক না হয়, তাহলে কুরবানীর গরুর সাথে ভাগে আকীকা করা সঠিক হওয়ার প্রশ্নই আসে না। সর্বোপরি কতিপয় আলেম কোরবানীর গরুর সাথে ভাগে আকীকা দিলে তা বৈধ হবে বলে মত দিয়েছেন। কিন্তু তা হাদীছ সম্মত নয়।
.
 আকীকার ক্ষেত্রে কিছু ভ্রান্ত বিশ্বাসঃ
কিছু লোক বিশ্বাস করে যে, সন্তানের পিতা-মাতা এবং যে সন্তানের আকীকা দেওয়া হলো, সে সন্তান আকীকার গোশত খেতে পারবেনা। এটি একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস। এ মর্মে কোন দলীল-প্রমান নাই। পূর্বেই বলা হয়েছে, আকীকার গোশত কুরবানীর গোশতের মতই। পরিবারেই সবাই খেতে পারবে।
.
 আকীকা দিতে অক্ষম হলেঃ
পূর্বেই বলা হয়েছে, দারিদ্রতার কারণে আকীকা দিতে অক্ষম হলে, আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। যখনই সামর্থবান হবে, তখনই আকীকা করবে। আর যদি আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হয় এবং আকীকা দিতে না পারে, তাহলে কোন গুনাহ হবেনা। আল্লাহ তা‘য়ালা বলেনঃ
.
“আল্লাহ তা‘য়ালা কারও উপর সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেননা। (সূরা বাকারা-২৮৬) আল্লাহ তা‘য়ালা আরও বলেনঃ
.
“আল্লাহ তা‘য়ালা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কঠিন বিষয় চাপিয়ে দেননি। (সূরা হজ্জঃ৭৮) আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ
.
“তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী”। (সূরা তাগাবুন-১৬) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
.
“যখন আমি তোমাদেরকে কোন কাজের আদেশ দেই, তখন সাধ্য অনুযায়ী তোমরা তা পালন কর। আর যখন কোন কাজ হতে নিষেধ করি, তখন তা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাক”। উপরোক্ত দলীল গুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, আকীকাসহ যে কোন আমলই হোক না কেন, অক্ষমতার কারণে পালন করতে না পারলে কোন গুনাহ হবেনা। কিন্তু নিষিদ্ধ বিষয়ের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্নরূপ। সবধরণের নিষেধ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে। কারণ নিষেধ থেকে বিরত থাকতে কোন কষ্ট হয়না বা আর্থিক সচ্ছলতার দরকার পড়ে না।
.
 উপসংহারঃ সন্তানের আকীকা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতে মুহাম্মাদী। তাই এনিয়ে অবহেলা করা ঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যেভাবে ইহা পালন করেছেন, পালন করতে বলেছেন, আমাদেরকেও সেভাবে পালন করতে হবে। পরিশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদেরকে এ গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতটি যথাযথভাবে পালন করার তাওফীক দেন। আমীন!
.
লেখক: আব্দুল্লাহ শাহেদ আল মাদানী
.
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদী আরব।
.
————সমাপ্ত ৷
.
আবদুল হামীদ ফাইযী তার দ্বীনি প্রশ্নোত্তর বইয়ের কুরবানী অধ্যায়ে লিখেছেন –
.
কুরবানীর সাথে একটি ভাগ আকীকার উদ্দেশ্যে দেওয়া যথেষ্ট নয়। যেমন যথেষ্ট নয় একটি পশু কুরবানী ও আকীকার নিয়তে যবেহ করা। কুরবানী আকীকার জন্য পৃথক পৃথক পশু হতে হবে। অবশ্য যদি কোন শিশুর আকীকার দিন কুরবানীর দিনেই পড়ে এবং আকীকা যবেহ করে, তাহলে আর কুরবানী না দিলেও চলে। যেমন, দুটি গোসলের কারণ উপস্থিত হলে একটি গোসল করলেই যথেষ্ট, জুমআর দিনে ঈদের নামায পড়লে আর জুমআহ না পড়লেও চলে, বিদায়ের সময় হজ্জের তওয়াফ না করলেও চলে, যোহরের সময় মসজিদে প্রবেশ করে যোহরের সুন্নত পড়লে পৃথক করে আর তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়তে হয় না এবং তামাত্তু হজ্জের কুরবানী দিলে আর পৃথকভাবে কুরবানী না দিলেও চলে। ৪৬৩ (মানারুস সাবীল ১/ ৩৬৬)
.
আকীকার বিধান কুরবানী মতো হলেও আকীকার পশুতে ভাগাভাগি যথেষ্ট নয়। সুতরাং একটি উট বা গরু ২, ৩, ৪, ৫, ৬ বা ৭ টি শিশুর তরফ থেকে আকীকা যথেষ্ট হবে না। যেহেতু প্রথমতঃ কুরবানীর মতো আকীকার বিধানে ভাগাভাগি বর্ণিত হয়নি। অথচ ইবাদতসমূহ প্রমাণসাপেক্ষ। দ্বিতীয়তঃ আকীকা হল জানের ফিদয়া স্বরূপ। আর ফীদয়াতে ভাগাভাগি হয় না। যেহেতু একটি জানের বিনিময়ে একটি জানই প্রয়োজন। ৪৬৪ (ইবনে উষাইমীন)» কুরবানীর ভাগের সাথে কি আকীকা দেয়া যাবে? «
.
ভূমিকাঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। দরূদ ও শান্তির অবিরাম ধারা বর্ষিত হোক নবীকুল শিরোমণী মুহাম্মাদ (সাঃ) এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও সম্মানিত সাথীদের উপর। ইসলাম একটি শান্তিময় জীবন বিধান। নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মৃত্যু বরণ করার পূর্বেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই দ্বীনকে মুসলমানদের জন্য পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। একজন মানুষের জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলাম সুন্দর সুন্দর বিধান প্রদান করেছে। নবজাতক শিশু জন্ম গ্রহণ করার পর সন্তানের পিতা-মাতা বা তার অভিবাবকের উপর আকীকার বিধান ইসলামের সৌন্দর্যময় বিধান সমূহের মধ্য হতে অন্যতম একটি বিধান। আমরা অত্র প্রবন্ধে ইসলামে আকীকার বিধান সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করব, ইনশা-আল্লাহ। আকীকার অর্থঃ تعريف العقيقة ইসলামের পরিভাষায় সন্তান জন্ম গ্রহণ করার পর আল্লাহর শুকরিয়া ও আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যে পশু জবাই করা হয়, তাকে আকীকা বলা হয়।
.
 আকীকার হুকুমঃ অধিকাংশ আলেমের মতে সন্তানের আকীকা করা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। রাসূসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
.
“যে ব্যক্তি তার সন্তানের আকীকা করতে চায়, সে যেন উহা পালন করে”। (আহমাদ ও আবু দাউদ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেনঃ
.
প্রতিটি সন্তানই আকীকার বিনিময়ে আটক থাকে”। (আহমাদ, তিরমিজী ও অন্যান্য সুনান গ্রন্থ) আকীকার বিনিময়ে সন্তান আটক থাকার ব্যাপারে আলেমগণের কয়েক ধরণের বক্তব্য রয়েছে। এ ব্যাপারে ইমাম আহমাদ বিন হান্বালের কথাটি সবচেয়ে সুন্দর ও বিশুদ্ধ। তিনি বলেন, কথাটি শাফাআতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ আকীকা দেওয়া হয়নি, এমন শিশু সন্তান যদি মৃত্যু বরণ করে, কিয়ামতের দিনে সে শিশুর শাফাআত থেকে পিতা-মাতা বঞ্চিত হবে। আর হাদীসে একথা প্রমাণিত আছে যে, মুসলমানদের যে সমস্ত শিশু বাচ্চা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বেই মৃত্যু বরণ করবে, তারা তাদের মুসলিম পিতা-মাতার জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে। উপরের আলোচনা থেকে প্রমাণিত হলো যে, সন্তানের আকীকা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। ওয়াজিব বা ফরজ নয়।
.
 আকীকা করার সময়ঃ
আকীকার জন্য উত্তম সময় হলো সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার সপ্তম দিবস। সপ্তম দিনে আকীকা দিতে না পারলে ১৪ম দিনে, তা করতে না পারলে ২১ম দিনে আকীকা প্রদান করবে। সপ্তম দিনে আকীকা করার সাথে সাথে সন্তানের সুন্দর নাম রাখা, মাথার চুল কামানো এবং চুল এর সমপরিমাণ ওজনের রৌপ্য ছাদকাহ করাও মুস্তাহাব। (তিরমিজী) বিনা কারণে আকীকা দেওয়াতে বিলম্ব করা সুন্নাতের বিরোধীতা করার অন্তর্ভুক্ত। দারিদ্র বা অন্য কোন কারণে যদি উল্লেখিত দিন গুলোতে আকীকা করতে অক্ষম হয়, তবে সন্তান ছোট থাকা অবস্থায় যখনই অভাব দূর হবে, তখনই আকীকা করতে হবে। অভাবের কারণে যদি কোন লোক তার শিশু ছেলে-মেয়েদের আকীকা করতে না পারে, তাহলে সন্তান বড় হওয়ার পর যদি তার আর্থিক অবস্থা ভাল হয়, তখন আকীকা করলেও সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে এবং পিতা- মাতা ছাওয়াব পাবে, ইনশাআল্লাহ। এমন কি কারও পিতা-মাতা যদি আকীকা না করে, সে ব্যক্তি বড় হয়ে নিজের আকীকা নিজে করলেও সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। আনাছ (রাঃ) হতে বর্ণিত,
.
“ নবী (সাঃ) নবুওয়াত পাওয়ার পর নিজের আকীকা নিজে করেছেন”। (বায়হাকী) এ হাদীস থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর নিজের আকীকা নিজে দেওয়া বৈধ হওয়ার উপর সুস্পষ্ট দলীল পাওয়া যায়।
.
 কোন ধরণের পশু দিয়ে আকীকা করতে হবে? সংখ্যা কয়টি?
আকীকার ক্ষেত্রে সুন্নাত হলো, ছেলে সন্তান হলে দু‘টি দুম্বা বা ছাগল আর মেয়ে সন্তান হলে একটি দুম্বা বা ছাগল দিয়ে আকীকা করা। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ
.
“ছেলে সন্তানের পক্ষ থেকে দু‘টি সমবয়সের ছাগল এবং মেয়ে সন্তানের পক্ষ থেকে একটি ছাগল দিয়ে আকীকা দিতে হবে। (আহমাদ ও তিরমিজী) যে ধরণের ও বয়সের ছাগল বা দুম্বা কুরবানীর ক্ষেত্রে বৈধ, তা দিয়ে আকীকা করতে হবে। অর্থাৎ কুরবানীর পশু যেসমস্ত দোষ-ত্রুটি হতে মুক্ত হওয়া শর্ত, আকীকার ছাগল-খাসী বা দুম্বাও সেসমস্ত দোষ-ত্রুটি হতে মুক্ত হতে হবে। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে যদি ছেলে সন্তানের পক্ষ থেকে দু‘টি ছাগল দিয়ে আকীকা দিতে না পারে, তবে একটি দিয়ে আকীকা দিলেও চলবে। কেননা রাসূল (সাঃ) হতে ছেলে সন্তানের পক্ষ থেকে একটি করে দুম্বা দিয়ে আকীকা করার কথাও প্রমাণিত আছে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত,
.
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হাসান এবং হুসাইসের পক্ষ হতে একটি করে দুম্বা আকীকা করেছেন। (আবু দাউদ) তবে সামর্থবান ব্যক্তির পক্ষে একটি ছাগল দিয়ে ছেলে সন্তানের আকীকা করা উচিৎ নয়। মোট কথা, ছেলে সন্তানের আকীকার জন্য দু‘টি ছাগল বা দুম্বা হওয়া জরুরী নয়; বরং মুস্তাহাব।
.
 আকীকার গোশত কি করবে?
আকীকার গোশত কুরবানীর গোশতের মতই। তা নিজে খাবে, আত্মীয় স্বজনকে খাওয়াবে এবং গরীব-মিসকীনকে ছাদকা করবে। তবে যেমনভাবে কুরবানীর গোশত তিন ভাগ করে একভাগ নিজে খাওয়া, একভাগ ছাদকা করা এবং এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনকে হাদীয়া হিসাবে দান করা জরুরী নয়, ঠিক তেমনিভাবে আকীকার গোশতও উক্ত নিয়মে তিন ভাগ করা জরুরী নয়। আকীকার গোশত যদি সম্পূর্ণটাই রান্না করে এবং আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব এবং অন্যান্য মুসলমানদেরকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ায় তাতেও যথেষ্ট হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যে, কোন ক্রমেই যাতে হাদীয়া ও উপহারের আশায় শুধুমাত্র ধনী ও সম্মানী লোকদেরকে দাওয়াত দিয়ে দরিদ্র ও অভাবী ব্যক্তিদেরকে প্রত্যাখ্যান না করা হয়। যা আমাদের দেশে অধিকাংশ সমাজেই বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে হয়ে থাকে। তবে সন্তান জন্ম গ্রহণের দিন কিছু মানুষ যে অনুষ্ঠান করে থাকে বা প্রতি বছর সন্তানের জন্ম দিবস পালন করে থাকে এবং এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান করে থাকে, তা সম্পূর্ণ বিদআত। এ সম্পর্কে ইসলামী শরীয়তে কোন দলীল নাই। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
.
যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মাঝে এমন বিষয় তৈরী করল, যা আমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখাত”। (বুখারী) শুধু বিদআতই নয় বরং তা অমুসলিম ইহুদী-খৃষ্টানদের অনুসরণও বটে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
.
“যে ব্যক্তি কোন জাতির অনুস্মরন করবে, সে উক্ত জাতির অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। (আবু দাউদ)
.
 গরু দিয়ে আকীকা করাঃ
কোন হাদীসেই গরু দিয়ে আকীকা করার কথা উল্লেখ হয়নি। অথচ রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর যুগে সবধরণের পশুই বিদ্যমান ছিল। সুতরাং উত্তম হচ্ছে ছাগল বা দুম্বা দিয়েই আকীকা করা। গরু দিয়ে আকীকা করা হলে একদল আলেমের মতে তা জায়েয হবে। তবে শর্ত হচ্ছে একজন সন্তানের পক্ষ হতে একটি গরু দিয়ে আকীকা করতে হবে। অপর পক্ষে কতিপয় আলেম সাত সন্তানের পক্ষ হতে একটি গরু দিয়ে আকীকা দিলেও জায়েয হবে বলে মত দিয়েছেন,। তবে সাত সন্তানের পক্ষ হতে একটি গরু আকীকা করার কথা হাদীছে পাওয়া যায় না। আকীকা যেহেতু একটি এবাদত, তাই হাদীছে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই পালন করা উচিত। আর এটি মোটেই কঠিন কোন বিষয় নয়।
.
 কোরবানীর সাথে ভাগে আকীকা দেয়াঃ
আমাদের দেশে সাতভাগে গরু দিয়ে কুরবানী করার ক্ষেত্রে আকীকার অংশীদার হওয়ার নিয়ম ব্যপকভাবে প্রচলিত আছে। এটি হাদীছ সম্মত নয়। একটি গরু দিয়ে যদি একজন সন্তানের আকীকা করা যদি ঠিক না হয়, তাহলে কুরবানীর গরুর সাথে ভাগে আকীকা করা সঠিক হওয়ার প্রশ্নই আসে না। সর্বোপরি কতিপয় আলেম কোরবানীর গরুর সাথে ভাগে আকীকা দিলে তা বৈধ হবে বলে মত দিয়েছেন। কিন্তু তা হাদীছ সম্মত নয়।
.
 আকীকার ক্ষেত্রে কিছু ভ্রান্ত বিশ্বাসঃ
কিছু লোক বিশ্বাস করে যে, সন্তানের পিতা-মাতা এবং যে সন্তানের আকীকা দেওয়া হলো, সে সন্তান আকীকার গোশত খেতে পারবেনা। এটি একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস। এ মর্মে কোন দলীল-প্রমান নাই। পূর্বেই বলা হয়েছে, আকীকার গোশত কুরবানীর গোশতের মতই। পরিবারেই সবাই খেতে পারবে।
.
 আকীকা দিতে অক্ষম হলেঃ
পূর্বেই বলা হয়েছে, দারিদ্রতার কারণে আকীকা দিতে অক্ষম হলে, আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। যখনই সামর্থবান হবে, তখনই আকীকা করবে। আর যদি আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হয় এবং আকীকা দিতে না পারে, তাহলে কোন গুনাহ হবেনা। আল্লাহ তা‘য়ালা বলেনঃ
.
“আল্লাহ তা‘য়ালা কারও উপর সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেননা। (সূরা বাকারা-২৮৬) আল্লাহ তা‘য়ালা আরও বলেনঃ
.
“আল্লাহ তা‘য়ালা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কঠিন বিষয় চাপিয়ে দেননি। (সূরা হজ্জঃ৭৮) আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ
.
“তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী”। (সূরা তাগাবুন-১৬) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
.
“যখন আমি তোমাদেরকে কোন কাজের আদেশ দেই, তখন সাধ্য অনুযায়ী তোমরা তা পালন কর। আর যখন কোন কাজ হতে নিষেধ করি, তখন তা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাক”। উপরোক্ত দলীল গুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, আকীকাসহ যে কোন আমলই হোক না কেন, অক্ষমতার কারণে পালন করতে না পারলে কোন গুনাহ হবেনা। কিন্তু নিষিদ্ধ বিষয়ের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্নরূপ। সবধরণের নিষেধ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে। কারণ নিষেধ থেকে বিরত থাকতে কোন কষ্ট হয়না বা আর্থিক সচ্ছলতার দরকার পড়ে না।
.
 উপসংহারঃ সন্তানের আকীকা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতে মুহাম্মাদী। তাই এনিয়ে অবহেলা করা ঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যেভাবে ইহা পালন করেছেন, পালন করতে বলেছেন, আমাদেরকেও সেভাবে পালন করতে হবে। পরিশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদেরকে এ গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতটি যথাযথভাবে পালন করার তাওফীক দেন। আমীন!
.
লেখক: আব্দুল্লাহ শাহেদ আল মাদানী
.
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদী আরব।
.
————সমাপ্ত ৷
.
আবদুল হামীদ ফাইযী তার দ্বীনি প্রশ্নোত্তর বইয়ের কুরবানী অধ্যায়ে লিখেছেন –
.
কুরবানীর সাথে একটি ভাগ আকীকার উদ্দেশ্যে দেওয়া যথেষ্ট নয়। যেমন যথেষ্ট নয় একটি পশু কুরবানী ও আকীকার নিয়তে যবেহ করা। কুরবানী আকীকার জন্য পৃথক পৃথক পশু হতে হবে। অবশ্য যদি কোন শিশুর আকীকার দিন কুরবানীর দিনেই পড়ে এবং আকীকা যবেহ করে, তাহলে আর কুরবানী না দিলেও চলে। যেমন, দুটি গোসলের কারণ উপস্থিত হলে একটি গোসল করলেই যথেষ্ট, জুমআর দিনে ঈদের নামায পড়লে আর জুমআহ না পড়লেও চলে, বিদায়ের সময় হজ্জের তওয়াফ না করলেও চলে, যোহরের সময় মসজিদে প্রবেশ করে যোহরের সুন্নত পড়লে পৃথক করে আর তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়তে হয় না এবং তামাত্তু হজ্জের কুরবানী দিলে আর পৃথকভাবে কুরবানী না দিলেও চলে। ৪৬৩ (মানারুস সাবীল ১/ ৩৬৬)
.
আকীকার বিধান কুরবানী মতো হলেও আকীকার পশুতে ভাগাভাগি যথেষ্ট নয়। সুতরাং একটি উট বা গরু ২, ৩, ৪, ৫, ৬ বা ৭ টি শিশুর তরফ থেকে আকীকা যথেষ্ট হবে না। যেহেতু প্রথমতঃ কুরবানীর মতো আকীকার বিধানে ভাগাভাগি বর্ণিত হয়নি। অথচ ইবাদতসমূহ প্রমাণসাপেক্ষ। দ্বিতীয়তঃ আকীকা হল জানের ফিদয়া স্বরূপ। আর ফীদয়াতে ভাগাভাগি হয় না। যেহেতু একটি জানের বিনিময়ে একটি জানই প্রয়োজন। ৪৬৪ (ইবনে উষাইমীন)

জেনে রাখুন, যে সকল সম্পদের ওপর যাকাত দেয়া ফরজ

যে সকল সম্পদের ওপর যাকাত দেয়া ফরজ

জাকাত সব ধরনের সম্পদের ওপর ফরজ হয় না। শুধু সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, পালিত পশু (নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী) এবং ব্যবসার পণ্যে জাকাত ফরজ হয়।

সোনা-রুপার অলংকার সব সময় বা কালক্রদ্রে ব্যবহৃত হোক কিংবা একেবারেই ব্যবহার না করা হোক, সর্বাবস্থায় তার জাকাত দিতে হবে। (আবু দাউদ শরিফ : ১/২৫৫; নাসায়ি, হাদিস : ২২৫৮)

অলংকার ছাড়া সোনা-রুপার অন্য সামগ্রীর ওপরও জাকাত ফরজ। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৭০৬১)

মৌলিক প্রয়োজন থেকে উদ্বৃত্ত টাকা-পয়সা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর স্থায়ী হলে বছর শেষে তার জাকাত আদায় করা ফরজ। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭০৯১)

ব্যাংক ব্যালান্স, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড, শেয়ার সার্টিফিকেট ইত্যাদিও নগদ টাকা-পয়সার মতোই। এসবের ওপরও জাকাত ফরজ।

হজের উদ্দেশ্যে কিংবা ঘরবাড়ি নির্মাণ, ছেলে-মেয়ের বিয়েশাদি ইত্যাদি প্রয়োজনের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করা হয়, তাতেও জাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ১০৩২৫)

দোকানপাটে যা কিছু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা থাকে, তা বাণিজ্যিক পণ্য। এর মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত আদায় করা ফরজ। (সুনানে আবু দাউদ : ১/২১৮)

ব্যবসার নিয়তে কোনো কিছু ক্রয় করলে তা স্থাবর সম্পত্তি হোক, যেমন—জমিজমা, ফ্ল্যাট কিংবা অস্থাবর সম্পত্তি যেমন—মুদিসামগ্রী, কাপড়-চোপড়, অলংকার, নির্মাণসামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, হার্ডওয়্যার সামগ্রী, বই-পুস্তক ইত্যাদি, তা বাণিজ্যিক পণ্য বলে গণ্য হবে এবং মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭১০৩)

যদি সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্যিক পণ্যের মধ্যে কোনোটি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে সব সম্পদ হিসাব করে জাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭০৮১)

দোকানের ডেকোরেশন, আলমারি, তাক ইত্যাদি মূল্যের ওপর জাকাত ফরজ নয়, বরং সেল বা বিক্রি করার জন্য যেসব পণ্য বিদ্যমান, তার মূল্য যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে তাতে জাকাত ফরজ হবে। জাকাত হিসাব করার পদ্ধতি হলো—বছরের একটা সময় দিন-তারিখ নির্ধারণ করে দোকানে বিদ্যমান পণ্যের মূল্যের হিসাব করে দেখা গেল, পাঁচ লাখ টাকার পণ্য আছে। অতঃপর ওই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আবার আনুমানিক পণ্যের মূল্য ধরে দেখা গেল, শুরুতে যেই পরিমাণ সম্পদ ছিল, তা নিসাব পরিমাণ। আবার এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর যে পণ্য আছে, তা-ও নিসাব পরিমাণ, তাহলে সমুদয় সম্পদের আড়াই শতাংশ জাকাত দিতে হবে। (তাতারখানিয়া : ৩/১৬৯, হিন্দিয়া : ১/১৮০, দুররুল মুখতার : ৩/১৮২)

কোনো ব্যক্তি সঞ্চয়ের জন্য যদি ব্যাংকে টাকা জমা রাখে, তাহলে ঋণমুক্ত অবস্থায় যেদিন তার জমাকৃত টাকা নিসাব পরিমাণ হবে, সেদিন থেকে এক বছর পূর্ণ হলে ওই টাকার ওপর জাকাত দিতে হবে। (ফাতাওয়া আলমগিরী : ১/২৭০; মাহমুদিয়া : ৩/৫৭)

বর্তমানে গাড়ি বা দোকান ভাড়া নেওয়ার সময় মোটা অঙ্কের টাকা অ্যাডভান্স রাখতে হয়, অ্যাডভান্সের এই টাকা গাড়ি বা দোকানের মালিকের হয়ে যায় না। বরং যিনি ভাড়া নিচ্ছেন, তার মালিকানায় এ টাকা রয়ে যায়। তাই নিসাবের পরিমাণ হলে ওই টাকাসহ জাকাত দিতে হবে। দোকান বা বাড়ি ভাড়া গ্রহণকারী ব্যক্তির জন্য ওই টাকার জাকাত আদায় করা জরুরি। (আদদুররুল মুখতার : ৩/১৮৪; ফাতাওয়া দারুল উলুম : ৬/৭৭, আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/২৬১)

রণবীরের দেয়া আঘাতটা এখনও আছে ক্যাটরিনার…

রণবীরের দেয়া আঘাতটা এখনও আছে ক্যাটরিনার

সাবেক প্রেমিক সালমান খানের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলেও ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ ছবিতে অভিনয়টা উপভোগই করেছেন ক্যাটরিনা কাইফ। তবে বলিউড অভিনেত্রী জানিয়েছেন দিয়েছেন, সাবেক আরেক প্রেমিক রণবীর কাপুরের সঙ্গে তিনি আর কোনো দিন কাজ করবেন না। জাগ্গা জাসুস ছবির প্রমোশনে তাঁরা নিজেদের মধ্যে লোক দেখাতে যতই হাসিঠাট্টা করুন, ভেতরের বরফ যে গলেনি মোটেই তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে এমন অভিমানি কথাতেই।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, গত বছর জানুয়ারিতে সম্পর্কে বিচ্ছেদের আগে রণবীরের সঙ্গে লিভ টুগেদার করতেন ক্যাটরিনা, ঘনিষ্ঠতা এমন জায়গায় পৌঁছেছিল, যে বিয়ের কথাও ভেবেছিলেন। প্রেম ভেঙে যাওয়ার পরেও দু’জনে জাগ্গা জাসুসের কাজ শুরু করায় বলিউড ভেবেছিল, পেশাদারি দিকটা এভাবেই বজায় রাখবেন তাঁরা। কিন্তু ক্যাটরিনাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, আর নয়।

রণবীরের দেয়া আঘাতটা এখনও আছে ক্যাটরিনার
রণবীরের দেয়া আঘাতটা এখনও আছে ক্যাটরিনার

তাঁর কথায়, রণবীরের সঙ্গে আবার কাজ করা অত্যন্ত কঠিন। সকলে জানেন, রণবীরের সঙ্গে বারবার কাজ করা হয়েছে। সেও আমাকে ইঙ্গিত দিয়েছে, এক সঙ্গে আর ছবি না করার ব্যাপারে। অতএব, এটা আর হবে না। তবে ক্যাটরিনার এমন মন্তব্যের পর অবশ্য এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেননি রণবীর।

এক ফোঁটা রক্ত থাকতে এদেশে ইন্ডিয়ান ছবি চলতে দেয়া হবে না: ডিপজল

চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের ডাকা সমাবেশ

শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে আর এদেশে ইন্ডিয়ান ছবি চলতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি করেছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল। একই সঙ্গে দেশবাসীকে ইন্ডিয়ান ছবি বর্জনেরও আহ্বান জানান তিনি।

চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের ডাকা সমাবেশে যোগ দিয়ে রবিবার দুপুরে সেন্সর বোর্ড ঘেরাও করার সময় কথাগুলো বলেন তিনি। 

চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের ডাকা সমাবেশ
চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের ডাকা সমাবেশ

দেশবাসীকে ইন্ডিয়ান ছবি বর্জনের আহ্বান জানিয়ে ডিপজল বলেন, ”আমাদের দেশের কোনো স্যাটেলাইট চ্যানেল, সিনেমা ইন্ডিয়াতে চলে না। তাহলে এদেশে ইন্ডিয়ান চ্যানেল, ছবি কেন চলবে? আমাদের দেশে যারা ইন্ডিয়ান ছবি দেখেন তারা এটা বর্জন করুন। ” 

তিনি হুশিয়ারি করে বলেন, ‘যদি এদেশে যৌথ প্রযোজনার নামে প্রতারণার ছবি চলে তবে সিনেমা হল সিলগালা করা হবে। ’

সেন্সর বোর্ডের কড়া সমালোচনা করে জনপ্রিয় এই অভিনেতা বলেন, ‘সেন্সর বোর্ডে যারা আছেন তারা আমাদেরই মানুষ। তারা যে কাজ করছেন সেটা খুব একটা ভালো কাজ করছেন না। এর দায় তাদের নিতেই হবে। ’

ভারতের কেরালার ১৭ মসজিদে আজান দেয়া হবে একবার

ভারতের কেরালার ১৭ মসজিদে আজান দেয়া হবে একবার

ভারতের কেরালা রাজ্যের ১৭টি মসজিদ শুধু একবার আজান দেয়ার বিষয়ে চুক্তি সাক্ষর করেছে। কেরালার মল্লাপুরমের জেলার ভাজাক্কাড় এলাকার ওইসব মসজিদে এখন থেকে শুধু একটি আজান দেয়া হবে।  

ওই এলাকার সবথেকে বড় মসজিদ বালিয়া জুমা মসজিদ থেকেই একটি মাত্র আজান দেয়া হবে। চুক্তি অনুযায়ী গত রবিবার থেকে লাউডস্পিকারের ব্যবহারও বন্ধ করে দিয়েছে ওই ১৭টি মসজিদ। মসজিদে অনুষ্ঠিত মুসলিমদের অন্য যে কোন উৎসবেও লাউডস্পিকার ব্যবহার করা হবে না।

ভারতের কেরালার ১৭ মসজিদে আজান দেয়া হবে একবার
ভারতের কেরালার ১৭ মসজিদে আজান দেয়া হবে একবার

স্থানীয় কাউন্সিল মহলের প্রেসিডেন্ট টি.পি.আবদুল আজিজ দাবি করেন, মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন স্কুল, ব্যবসায়ী, এমনকি একাধিক সংগঠনের তরফে জনসভা করার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। তাই সবদিক ভেবেই লাউডস্পিকার ব্যবহার বন্ধ করা উচিত বলে মনে হয়েছে।  

এলাকার প্রতিটি মসজিদ থেকেই একযোগে আজানের সময়সীমা স্থির করা নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি প্যানেলও গঠন করা হয়েছে। শিগগির ওই প্যানেলের সদস্যরা মুসলিম লীগ প্রধান হায়দার আলি সিহাব থাঙ্গাল এবং মুসলিম গ্রুপের সদস্যের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। সেখানেই সর্বসম্মতভাবে আজানের সময় ঠিক করা হবে।  

লাউডস্পিকারের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য ২০১৫ সালেই স্থানীয় সব মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন মুসলিম লীগ প্রধান হায়দার আলি সিহাব থাঙ্গাল। মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীসহ অন্যদের অনেক অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে চিঠি লিখে সেসময় জানিয়েছিলেন থাঙ্গাল।

সাইকেল চুরি, কপালে লিখে দেয়া হলো ‘আমি চোর’

সাইকেল চুরি, কপালে লিখে দেয়া হলো ‘আমি চোর’

ঘটনাটি ব্রাজিলের। একটি সাইকেল চুরিকে কেন্দ্র করে ১৭ বছরের কিশোরের কপালে উল্কিতে লেখে দেয়া হয়েছে ‘আমি একজন চোর’।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি করেছে। এদিকে পুলিশ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ বলছে, লোক দুটির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্কি এঁকে দেবার ঘটনাটি ভিডিও করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে সাও পাওলো রাজ্যের সাও বার্নার্দো দো কাম্পো শহরে।

ওই দুই ব্যক্তি বলছে, ছেলেটি একটি সাইকেল চুরি করার চেষ্টা করেছিল। তবে ছেলেটি এ কথা অস্বীকার করেছে।

লোক দুটি ওই কিশোরের কপালে উল্কি এঁকে পর্তুগীজ ভাষায় ‘আমি একজন চোর’ কথাটি লিখে দেবার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য. চুরির শাস্তি হিসেবেই তারা এটা করেছে।

সাইকেল চুরি, কপালে লিখে দেয়া হলো ‘আমি চোর’
সাইকেল চুরি, কপালে লিখে দেয়া হলো ‘আমি চোর’

কিন্তু ছেলেটি বলছে, সে মাতাল অবস্থায় সাইকেলটির ওপর পড়ে গিয়েছিল – কিন্তু তা চুরির চেষ্টা করছিল না। তার কথায়, লোক দুটি তার হাত-পা বেঁধে ফেললে সে অনুনয় করে যে উল্কিটি যেন তার হাতে দেয়া হয়. বা শাস্তি হিসেবে হাত-পা ভেঙে দেয়া হয়। কিন্তু তারা বলে, উল্কি তার কপালেই আঁকা হবে। এ কথা বলে তারা হাসতে থাকে।

এর পর তাকে চেয়ারে বসিয়ে একটি ট্যাটু মেশিন দিয়ে কপালে ‘আমি চোর লিখে দেয়া হয়। ঘটনাটির ভিডিও করছিল যে লোকটি, সে-ও তখন হাসছিল।

এর পর ছেলেটি যাতে মাথার চুল দিয়ে উল্কিটি ঢেকে রাখতে না পারে – সে জন্য তার চুলও ছোট করে ছেঁটে দেয়া হয়।

কিশোরটির পরিবার বলছে, ছেলেটির মানসিক সমস্যা রয়েছে এবং সে মাদক সেবনও করে থাকে। শুক্রবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখে তারা ছেলেকে চিনতে পারে।

এখন এই উল্কি মুছে ফেলার জন্য ব্রাজিলে অনলাইনে চাঁদা তোলার জন্য প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে। তারা ইতিমধ্যেই ৫ হাজার ৮০০ ডলার তুলেছে।

রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়

রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়

পবিত্র মাহে রমজানের আজ ষোঢ়শ দিবস। মাগফিরাত বা ক্ষমার দশকের ষষ্ঠ দিন। মহান আল্লাহর ক্ষমা লাভ করতে পারলেই বান্দা জান্নাত প্রাপ্ত হবে। তাই আজ আমরা আলোচনা করবো সিয়াম বা রোজা পালন কিভাবে একজন বান্দাকে জান্নাত পাওয়ার জন্য যোগ্য করে তোলে।

মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন শরীফে বলেছেন, মানুষ যাতে পরহেজদারী অর্জন করতে পারে সে জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে। অর্থাৎ রোজার মাধ্যমে মানুষ তাকওয়া অর্জন করতে পারবে এবং তাকওয়া হলো জান্নাত লাভের মাধ্যম। সুরা আহযাবের ৩৫ আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন , নিশ্চয়ই মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, সবরকারী (ধের্যশীল) পুরুষ ও সবরকারী নারী , বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোজাদার পুরুুষ ও রোজাদার নারী, লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী নারী, লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী পুরুষ এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও অধিক স্মরণকারী নারীদের জন্য আল্লাহ তায়ালা মাগফিরাত ও বিরাট পুরস্কার রেখেছেন।

এগুলোই হচ্ছে জান্নাত লাভের জন্য মহান আল্লাহ নির্ধারিত গুণাবলী। মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও বিভিন্ন সময় জান্নাত লাভের যোগ্যতা সম্পর্কে বলেছেন। সকল হাদীস গ্রন্থেই এই বর্ণনা স্থান পেয়েছে। রোজা রাখবে, নিজের সম্ভ্রম হেফাজত করবে এবং যে স্ত্রী লোক নিজের স্বামীকে মান্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়
রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়

তিরমিজি শরীফে রয়েছে, যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তাঁর গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারলো না সে দুর্ভাগা অর্থাৎ সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না – হজরত জিবরাইল আলাইহিস সাল্লামের এমন প্রস্তাবে রসলুুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম আমীন বলে সায় দিয়েছেন। ইবনে হিকাম গ্রন্থে রয়েছে, এক ব্যক্তি রসুলুল্লাহ (সা:)কে জিজ্ঞেস করলেন, আমি আল্লাহর ইবাদত করি এবং হজরত মুসা (আ:) এর প্রতি বিশ্বাস পোষণ করি।

নামাজ আদায় করি, যাকাত দিই এবং রমজান মাসে রোজা রাখি। তাহলে আমি কার সঙ্গী হব? আমার প্রতিদান কি হবে? মহানবী (সা:) বললেন, তুমি নবী রসুল ও শহীদদের সঙ্গী হবে অর্থাৎ তুমি জান্নাতে প্রবেশ করবে। সুনানে তিরমিজী শরীফের কিতাবুল ঈমান গ্রন্থে রয়েছে, আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখা, তার সাথে কাউকে শরীক না করা, তার রসুলের প্রতি ঈমান আনা, দিনে পাঁচ বার নামাজ আদায় করা, যাকাত আদায় করা, রমজান মাসে রোজা পালন করা জান্নাতে প্রবেশের পূর্বশর্ত।

সুনানে নাসায়ী গ্রন্থে রয়েছে, হজরত আবু উমামা রসুলের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি কাজ করলে জান্নাতে যেতে পারবো ? আল্লাহর রসুল জবাব দিলেন, তুমি রোজা রাখ এর মতো অন্য কিছু নাই। সহী বুখারী শরিফের কিতাবুস সিয়ামে বলা হয়েছে, রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়।

অপর এক হাদীসে রয়েছে, জান্নাতে রাইয়ান নামে একটি দরজা রয়েছে। শুধু মাত্র রোজাদাররা এই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যারা রোজা পালন করেনি তাদের জন্য এ দরজা খোলা হবে না। আল্লাহ আমাদেরকে রাইয়ান দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জনের তওফীক দিন।