নবীজির চার কন্যা জেনে নিন তাদের সম্পর্কে

মহানবী (সা.) ছিলেন কন্যা অন্তপ্রাণ পিতা। তিনি তাঁর কন্যাদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। মহান আল্লাহও পবিত্র কোরআনে তাঁর কন্যাদের প্রসঙ্গের অবতারণা করে তাদের সম্মানিত করেছেন। এরশাদ হয়েছে : ‘হে নবী! আপনি আপনার পত্নী ও মেয়েদের এবং মোমিনদের স্ত্রীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে নেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা আহজাব : ৫৯)। নবী (সা.) এর কন্যা ছিলেন চারজন। জয়নব (রা.), রুকাইয়া (রা.), উম্মে কুলছুম (রা.) ও ফাতেমা (রা.)। সব মেয়েই তাঁর প্রথম স্ত্রী উম্মুল মোমেনিন খাদিজা (রা.) এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তারা সবাই ইসলাম গ্রহণ এবং হিজরতের গৌরব লাভ করেন।

জয়নব বিনতে মুহাম্মদ (সা.)
তিনি মহানবী (সা.) এর প্রথম মেয়ে। নবুয়তের ১০ বছর আগে তার জন্ম। ইসলামপূর্ব যুগে খালাতো ভাই আবুল আস বিন রবির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তিনি ও তার তিন বোন মা খাদিজা (রা.) এর সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন। নবী (সা.) মদিনায় হিজরত করলে তিনি স্বামীর সঙ্গে মক্কায় থেকে যান। স্বামী ইসলাম গ্রহণ না করায় তিনি মদিনায় বাবার কাছে চলে যান। পরবর্তী সময়ে স্বামী আবুল আসও ইসলাম কবুল করে মদিনায় গিয়ে মিলিত হন। নবী (সা.) তার কাছে নিজ মেয়েকে ফিরিয়ে দেন। স্বামী ইসলাম কবুলের পর জয়নব (রা.) বেশি দিন হায়াত পাননি। হিজরতের অষ্টম বছর তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। আলী নামের ছেলেটি শিশুকালেই মারা যান। উমামা নামের মেয়েটিকে রাসূল (সা.) কাঁধে তুলে নিতেন। তিনি সেজদায় গেলে শিশু উমামা নানার কাঁধে গিয়ে বসে পড়তেন। তিনি নামলে নবী (সা.) সেজদা থেকে মাথা তুলতেন।

রুকাইয়া বিনতে মুহাম্মদ (সা.)
নবুয়তের সাত বছর আগে মক্কায় জন্ম। হাবশা ও মদিনা উভয় জায়গায় হিজরতের সৌভাগ্য লাভ করায় তাকে বলা হয় ‘দুই হিজরতের অধিকারিণী’। তাকে উম্মে আবদুল্লাহ নামেও ডাকা হতো। ১০ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে হয় চাচাতো ভাই উতবা বিন আবি লাহাবের সঙ্গে। বাবার ঘোর শত্রু শ্বশুর আবু লাহাবের বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআনে সূরা নাজিল হলে স্বামী তাকে তালাক দেয়। নবী (সা.) এর কাছে ওসমান বিন আফফান (রা.) তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তার সঙ্গে বিয়ে দেন। মক্কায় পৌত্তলিকদের অত্যাচার সীমা ছাড়ালে তিনি স্বামী ওসমান (রা.) এর সঙ্গে হাবশায় হিজরত করেন। ঈমান রক্ষার্থে যারা ইসলামে প্রথম হিজরত করেন তিনি ও তার স্বামী ওসমান (রা.) ছিলেন তাদের প্রথম কাফেলার সদস্য। হাবশায় আবদুল্লাহ নামে এক ছেলে জন্মলাভ করে। কিছুদিন পর মুহাজির কাফেলার কিছু সদস্য মক্কায় ফিরে আসেন। তারাও ছিলেন সে কাফেলায়। ক’দিন পর তারা সেখান থেকে হিজরত করে মদিনায় চলে যান। মদিনায় মাত্র ছয় বছর বয়সে তার ছেলে আবদুল্লাহ মারা যান। সন্তান শোকে তিনি কাতর হয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় তাকে মারাত্মক জ্বর পেয়ে বসে। মহানবী (সা.) যখন ইসলামের প্রথম যুদ্ধ ঐতিহাসিক গজওয়ায়ে বদর অভিযানে বের হন, অসুস্থ স্ত্রীর শয্যাপাশে থাকায় তার স্বামী ওসমান (রা.) এতে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। তিনি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে অংশ নিতেই পারেননি। রাসূল (সা.) তাকে যুদ্ধে না গিয়ে অসুস্থ জীবন সঙ্গিনীর পাশে থেকে যাওয়ার নির্দেশ দেন। যেদিন জায়েদ বিন হারেস (রা.) বদর যুদ্ধে বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে মদিনায় আসেন, সেদিনই তিনি পরপারে যাত্রা করেন। এটি ছিল দ্বিতীয় হিজরির রমজান মাসের ঘটনা। তাকে মদিনার জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

উম্মে কুলসুম বিনতে মুহাম্মদ (সা.)
মহানবী (সা.) এর তৃতীয় মেয়ে। নবুয়তের ছয় বছর পূর্বে জন্ম। বোন রুকাইয়া (রা.) এর ইন্তেকালের পর শোকবিহ্বল মুহূর্তে রাসূল (রা.) তাকে ওসমান (রা.) এর সঙ্গে বিয়ে দেন। নবী (সা.) এর দুই মেয়ের স্বামী হওয়ার সৌভাগ্যের কারণেই ওসমান (রা.) কে জুন্নুরাইন তথা দুই নূরের অধিকারী উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এ এমন এক সম্মান ও গৌরব, যা অন্য কোনো সাহাবির ললাটে জোটেনি। আল্লাহর নির্দেশেই এ ঘটনা ঘটে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘আমার কাছে জিবরাঈল এসে বললেন, আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন উম্মে কুলসুমকে ওসমানের সঙ্গে রুকাইয়ার সমপরিমাণ মোহরানায় বিয়ে দিতে।’ তিনি তার বোন ফাতেমা (রা.) এর সঙ্গে মহানবী (সা.) প্রেরিত জায়েদ বিন হারেস (রা.) এর নেতৃত্বে ওসমান ও আবু বকর (রা.) এর পরিবারের সঙ্গে মদিনায় হিজরত করেন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। হিজরতের নবম বছর শাবান মাসে তার ইন্তেকাল ঘটে। তাকে তার বোন রুকাইয়া (রা.) এর পাশে জান্নাতুল বাকিতে কবরস্থ করা হয়।

ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ (সা.)
রাসূল (সা.) এর সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে। তার জন্ম নবুয়তের পাঁচ বছর আগে। মদিনায় হিজরতের দুই বছর পর আলী বিন আবি তালেব (রা.) এর সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। তৃতীয় হিজরিতে তার প্রথম সন্তান হাসান (রা.) ভূমিষ্ঠ হন। হিজরতের চতুর্থ বছর শাবান মাসে জন্মলাভ করেন হোসাইন (রা.)। পঞ্চম হিজরিতে প্রথম মেয়ে জয়নব জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের দুই বছর পর দ্বিতীয় মেয়ে উম্মে কুলসুমের মা হওয়ার গৌরব লাভ করেন।
ফাতেমা (রা.) চলনে-বলনে ছিলেন পিতার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। ফাতেমা (রা.) রাসূল (সা.) এর কাছে প্রবেশ করলে তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন। তারপর তাকে চুমু দিয়ে নিজের পাশে বসিয়ে নিতেন। রাসূল (সা.) তাকে এত বেশি ভালোবাসতেন যে, তিনি বলেছেন, ‘ফাতেমা আমার অংশ। যে তাকে কষ্ট দেয় সে যেন আমাকেই কষ্ট দেয়।’ (সহিহ বোখারি)।
আরেক হাদিসে নবী (সা.) তাঁর আদরের দুলালীর মর্যাদা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘জান্নাতের নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতমরা হলেন খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.), ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ, মারইয়াম বিনতে ইমরান ও ফেরাউন-পত্নী আসিয়া বিনতে মুজাহিম।’ (মুসনাদ আহমদ)। রাসূল (রা.) এর ওফাতকালে তাঁর সন্তানদের মধ্যে কেবল তিনিই জীবিত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর মাত্র ছয় মাসের মাথায় দ্বাদশ হিজরির রমজান মাসে তিনিও তাঁর সঙ্গী হন। তাকে মদিনার জান্নাতুল বাকিতে কবরস্থ করা হয়।

জেনে নিন মসজিদে বসে থাকার ফজিলত

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ স্থান মসজিদ আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থান বাজার। এ কারণে মানুষ যতক্ষণ মসজিদে অবস্থান করে অন্তত ততক্ষণ যাবতীয় খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকে। আর যদি নামাজ ও জিকির-আজকারে নিয়োজিত থাকে তবে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক আরো বেশি জোরদার হয়। আর মসজিদে অবস্থানের এ ধারা অব্যাহত থাকলে মানুষের দ্বারা সমাজে সংঘটিত নানবিধ খারাপ কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যায়। আর তাতে শান্তির সমাজ সুপ্রতিষ্ঠা লাভ করে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে মসজিদে অবস্থান বা বসে থাকার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করেছেন। ঘোষণা করেছেন অনেক ফজিলত-

>> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত নামাজ আদায়রত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবে; যতক্ষণ পর্যন্ত নামাজ (নামাজের অপেক্ষায় মসজিদে) তাকে আটকে রাখবে। তাকে তো তার পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে যেতে কেবল নামাজই বারণ করছে। (বুখারি ও মুসলিম) হাদিসের আলোকে বুঝা যায়- যে ব্যক্তি মসজিদে নামাজের অপেক্ষায় থাকবে তাঁর অপেক্ষাকালীন মসজিদে বসে থাকাও নামাজ আদায়ের সাওয়াবে পরিণত হবে। অন্য হাদিসে মসজিদে বসে থাকার ফজিলত বর্ণনায় এসেছে-

>> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোনো বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত নামাজ আদায়ের স্থান (জায়নামাজে) নামাজের অপেক্ষায় থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে পুরো সময়ই নামাজে থাকে। (মসজিদে থেকে) তাঁর প্রত্যাবর্তন না করা অথবা ওজু ছুটে না যাওয়া পর্যন্ত ফেরেশতারা তার জন্য এই বলে দোয়া করতে থাকে-
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাগফির লাহু আল্লাহুম্মারহামহু। অর্থাৎ হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করে দিন; তার প্রতি রহম করুন।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)

মসজিদে অবস্থান করা বা বসে থাকার ফলে একদিকে যেমন নামাজের সাওয়াব পাওয়া যায়; অন্য দিকে ফেরেশতারা তার প্রতি রহমত বর্ষণ ও ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া করে।

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদেরকে মসজিদে বসে থাকার বা নামাজের অপেক্ষায় থেকে তাঁর রহমত লাভ এবং ফেরেশতাদের মাগফেরাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন

পবিত্র কাবা শরিফ সম্পর্কে ১০ টি অজানা তথ্য জেনে নিন ?

পবিত্র কাবা। আল্লাহর ঘর। প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়রাজ্যে বাস করে বাইতুল্লাহ জিয়ারতের স্বপ্ন। কাবার পরিচিতি বিশ্বজোড়া। কিন্তু এই কাবাঘর সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা অনেকই জানেন না। কাবা শরিফ সম্পর্কে অজানা ১০টি তথ্য।

১. কাবা ঘর কয়েকবার নির্মিত হয়েছে: নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধাবস্থার কারণে কাবা ঘর কয়েকবার নির্মাণ করা হয়েছে। অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে কাবা শরিফ মোট ১২ বার নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমান ডিজাইনের নির্মাতা মুসলিম শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ নিজে এই ডিজাইনটি করেননি।

বরং তিনিও ইসলাম পূর্ববর্তী কুরাইশদের ডিজাইন অনুসরণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার কাবা শরিফের সংস্কারের কাজ করা হলেও মূল ডিজাইনে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। সর্বশেষ কাবা শরিফের সংস্কার কাজ করা হয় ১৯৯৬ সালে। তখন বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাবা শরিফের দেয়াল ও প্রাঙ্গনকে দৃঢ় ও মজবুত করা হয়।

২. কাবার গিলাফের রং পরিবর্তন: কাবা শরীফকে গিলাফে আবৃত করার প্রচলন শুরু হয় প্রাচীন জুরহুম গোত্রের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে এ ধারা চলমান থাকে। মহানবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাবা ঘরকে একটি সাদা ইয়েমেনি চাদরে আবৃত করেন।

পরবর্তী খলিফারা কাবা ঘরের গিলাফের ক্ষেত্রে সাদা, লাল এবং সবুজ রং ব্যবহার করেছেন। আব্বাসি খলিফারা কালো গিলাফের প্রচলন করেন। এখনো তা সেই কালো রংয়েই বহাল আছে।

৩. ডিজাইন পরিবর্তন: পবিত্র কাবা ঘর বর্তমানে ঘনকাকৃতির অবয়বে আছে। পূর্বে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এটিকে এই আকৃতিতে তৈরি করেননি। ইসলাম পূর্বযুগে কুরাইশরা কাবা পুনঃনির্মাণ করে। তখন অর্থ সংকটের কারণে কাবার কিছু অংশ নির্মাণের বাইরে থাকে।

এটি মূলত কাবার আভ্যন্তরীণ অংশ। বর্তমানে এটিকে একটি ছোট দেয়াল দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। একে হাতিম হিসেবে অভিহিত করা হয়।

৪. কাবার দরজা মূলত কয়টি? কাবার মূল দরজা ছিল দুটি এবং একটি জানালাও ছিল। বর্তমানে দরজা আছে একটি। জানালা নেই। তবে কাবার অভ্যন্তরে আরেকটি দরজা আছে। যা ছাদে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।

৫. কাবা ঘরের অভ্যন্তর: কাবা ঘরের অভ্যন্তরে কী আছে? এ নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন জাগে। কাবার অভ্যন্তরে তিনটি পিলার মূল ছাদটিকে ধরে রেখেছে। দুই পিলারের মাঝে একটি টেবিলে সুগন্ধি রাখা আছে। দেয়ালের উপরাংশকে একটি সবুজ কাপড়াবৃত করে রেখেছে। কাপড়টিতে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ক্যালিগ্রাফি খচিত।

৬. হাজরে আসওয়াদ ভেঙ্গেছিল: হাজরে আসওয়াদ মূলত একটি বড় পাথর ছিল। তবে বর্তমানে এটি মোট আটটি পাথরখন্ডের সমষ্টি। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাথরটি ভেঙ্গে গেছে। সর্বপ্রথম এর উপর রৌপ্যের ফ্রেম বাঁধাই করেন আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর।

৭. কাবার রক্ষক পরিবার কারা? অবাক করা ব্যাপার হলো- ইসলাম পূর্বযুগ হতে এখন পর্যন্ত একটি গোত্রই কাবার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। গোত্রটির নাম বনু শাইবাহ। বিগত প্রায় ১৫ শতাব্দী ধরে এই গোত্রের হাতেই আছে কাবা ঘরের চাবি।

৮. কাবা ঘর পরিষ্কার কার্যক্রম: কাবা ঘরের রক্ষকগোত্র বনু শাইবাহর তত্ত্বাবধানে বছরে দুইবার কাবা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জমজম কুয়ার পানি, গোলাপজল এবং আরবের বিখ্যাত সুগন্ধি উদের তেলের সমন্বয়ে একটি বিশেষ ক্লিনিং লিকুইড তৈরি করা হয় এবং তা দিয়েই কাবা ঘর পরিষ্কার করা হয়।

৯. উন্মুক্ত দরজা: কাবার দরজা একসময় সবার জন্যই উন্মুক্ত ছিল। পরবর্তীতে লোক সমাগম বেড়ে যাওয়ার কারণে কাবার দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানেও এটি বিশেষ সময়ে খোলা হয়ে থাকে।

১০. বিরতিহীন তাওয়াফ: কাবার আরেকটি অবিশ্বাস্য দিক হলো- সবসময়ই এর চারপাশে তাওয়াফ চলতে থাকে। শুধু নামাজের জামাত যে সময়টুকুতে হয়, তা ছাড়া বাকি পুরো সময় ধরে কাবার চারধারে চলতে থাকে অবিরাম তাওয়াফ।

সন্তানকে নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলার ১০টি কার্যকরী উপায় -জেনে নিন !

আমরা মুসলিম। আর এই কারণেই নামাজ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এই নামাজের মাধ্যমেই আমরা নিজেদেরকে আল্লাহর সামনে পেশ করতে পারি। তাছাড়াও নামাজ হচ্ছে ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মাঝে দ্বিতীয় স্তম্ভ।

ইসলামের প্রথম স্তম্ভ হচ্ছে কালেমা শাহাদাত। সুতরাং আমারা আমাদের সন্তানদেরকে এই গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভটি আদায়ের প্রতি অনুপ্রেরণা দিতে পারি এবং তাদেরকে নামাজ পড়তে অভ্যস্ত করে তুলতে পারি। আমরা সবাই চাই তারা নিজেরাই নামাজ পড়তে শিখুক এবং দোয়া করতে শিখুক।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন…
এগুলো তারা বাবা-মার জন্য বাধ্য হয়ে করুক এটা কেউই চায় না। একজন সন্তানকে আগে বুঝতে হবে যে ‘ইবাদাত’ হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আরোপিত একটি বিষয় এটা ইচ্ছা বা স্বাধীনভাবে পালন করার কোন বিষয় নয়। নিম্নে এমন কিছু পথ উল্লেখ করছি যার মাধ্যমে আপনি আপনার সন্তানকে নামাজ পড়ার প্রতি উৎসাহিত করতে পারবেন।

১. উদাহরণের মাধ্যমে শেখানো : শিশু সন্তানরা সাধারণত মা-বাবার অনুকরণ করে থাকে। সুতরাং তাদেরকে দেখান যে আজান শুনার সাথে সাথে আপনি অজু করে নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মুসলিম মা-বাবা হিসেবে আপনি আপনার সন্তানের কাছে প্রথম উদাহরণ। আপনি যদি সারা দিন ইবাদত-বন্দেগীকে অগ্রাধিকার দেন এবং এই ক্ষেত্রে কোন অলসতা বা অবহেলা না করেন তাহলেই আপনার সন্তান নামাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। আপনি তাদেরকে বলতে পারেন, নামাজের সময় হয়ে গেছে এখন আমি আর দেরি করতে পারবো না।

২. ছোট থেকেই শুরু করুন : আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে নামাজ শিক্ষা দাও, যখন তাদের বয়স থাকে সাত। আর যখন তারা দশ বছরে পৌঁছে যাবে তখন তোমারা তোমাদের সন্তানদেরকে নামাজের জন্য প্রহার করো। এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও (আবু দাউদ) যদিও সাত বছর বয়সে শিশুরা নামাজ আদায় করতে বাধ্য নয় কিন্তু তারা সাত বছর থেকে নামাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে, তরুণ হওয়ার পরেও নামাজের বিষয়ে অনাগ্রহী হবে না।

৩. সন্তানের জন্য নামাজের জায়গা নির্ধারণ করে দিন : আপনার বাসায় যদি জায়গা থাকে তাহলে নামাজের জন্য একটি রুমকে নির্দিষ্ট করে রাখুন। আর যদি অতিরিক্ত জায়গা না থাকে তাহলে অন্তত একটি রুমের এক কোণায় সামান্য জায়গা নামাজের জন্য নির্ধারণ করে রাখুন। যাতে করে আপনার সন্তান বুঝতে পারে নামাজ পড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। যার কারণে একটা নির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছে। আপনার সন্তানদেরকে শিক্ষা দিন যে, এটা শুধু নামাজের জন্য নির্ধারিত জায়গা। এই জায়গাকে সব সময় পরিষ্কার ও পবিত্র রাখতে হবে।

৪. সন্তানদের চাক্ষুষ বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিন : ছোটরা চক্ষুষ বিষয় ও পুরস্কারের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে থাকে। আপনার বাসায় ইসলামী ক্যালেন্ডার ঝুলিয়ে রাখুন। এটা আপনার সন্তানদের প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করবে। কেননা ইসলামী ক্যালেন্ডারটি আপনার সন্তানের চাক্ষুষ অনুস্মারক হিসাবে কাজ করবে। আর প্রতিটি শুক্রবার তাকে স্মরণ করিয়ে দিন।

৫. টাইম ম্যানটেইন : যখন আপনার সন্তানের বয়স সাত হয়ে যাবে তখন তাদেরকে নামাজের সময় শিক্ষা দিন। তাদের জীবনের এই নতুন অধ্যায়কে উৎসাহিত করার জন্য আপনার সন্তানের বন্ধুদের বাসায় আমন্ত্রণ জানান এবং তাদেরকে হিজাব, তাজবিহ অথবা আজান দেয় এমন এলার্ম ঘড়ি প্রদান করুন যাতে করে তারা নামাজ আদায় করতে পারে।

৬. আল্লাহ সম্পর্কে তাদেরকে শিক্ষা দিন : আল্লাহর বিষয়টি বোঝা ছাড়া, প্রার্থনা শুধু একটি অনুষ্ঠান হয়ে উঠবে এবং পালনকর্তার সাথে আধ্যাত্মিক এবং মানসিক সংযোগের অভাব হয়ে পরবে। শৈশব থেকে, আপনার সন্তানদের আল্লাহর বিষয়ে শিক্ষা দিন। আল্লাহ কীভাবে কীভাবে সবকিছু তৈরি করেছেন। তাদেরকে কি কি দিয়েছেন এবং তাদেরকে কীভাবে রক্ষা করবেন ইত্যাদি বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলুন। এর মাধ্যমে আপনার সন্তানদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি এক গভীর ভালোবাসা তৈরি হবে।

৭. নবীদেরকে তাদের জন্য মডেল হিসাবে তুলে ধরুন : নবীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাসায় কথা বলুন। তাদের জীবনী পাঠ করুন এবং তাদের সিরাত নিয়ে কথা বলুন। এটা আপনার জীবনে দৈনিক একটা রুটিন বানিয়ে নিন। নবীদেরকে তাদের সামনে মডেল হিসেবে তুলে ধরুন। তাহলে তারা তার মতো হতে চেষ্টা করবে। এবং তাদের মতো ইবাদত করতে চেষ্টা করবে।

৮. ছোট ধাপ : এটা একটা নাটকীয় পরিবর্তন হতে পারে, যে একদমই নামাজ পরে না সে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে। তো শুরু হোক এই ছোট পরিবর্তন দিয়ে।

৯. অটুট থাকুক : আমরা সব সময়ই চাই আমাদের সন্তানরা নামাজকে ভালোবাসুক। কিন্তু এমন সময়ও আসবে যে, তারা অলসতা করবে এবং নামাজ পড়তে চাইবে না। মা-বাবা হিসেবে তাদের দায়িত্ব হবে তারা যেন সব সময়ই নামাজ পড়ে সেই ব্যবস্থা করা। বিশেষত তাদের বয়স যখন দশ বছর হয়ে যায়। তখন নামাজ ছেড়ে দেওয়া কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। নামাজ পড়ার বিষয়টা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেলে কঠিন কিছু নয়।

১০. পারিবারিক সময় : নামাজ একটি ইতিবাচক মনোভাব, এটাকে উৎসাহিত করার একটি উপায় হচ্ছে এটি নিয়ে একটি যৌথ অনুশীলন করতে হবে। প্রতিদিন পরিবারিকভাবে কমপক্ষে একবার নামাজ পড়ার চেষ্টা করুন। আপনার সন্তান যদি আজান দিতে সক্ষম হয় তাহলে তাকে আজান দেওয়ার দায়িত্ব দিন। যদি সম্ভব হয় তাহলে শুক্রবারের নামাজে এবং ঈদের নামাজে আপনার সন্তানদের নিয়ে এক সাথে যান। একসঙ্গে নামাজ পড়ার বিষয়টা একটু ভিন্ন বিষয়। এতে নিজেদের মনোবল বৃদ্ধি পায়।

আপনার কি হাত ঘামে, তাহলে সমাধান জেনে নিন

এই সমস্যা বেশ অস্বস্তিকর আর বিরক্তিকরও বটে।

কারও সঙ্গে হাত মেলাতে গেলে, টাইপ করার সময় বা বিভিন্ন কাজে অনেকেরই হাত ঘামার সমস্যা আছে। বার বার হাতের তালু ঘেমে ভিজে পিচ্ছিল হয়ে কাজ করতেও সমস্যা হয়।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে ঘরোয়া পদ্ধতিতে হাতের তালুর ঘাম নিয়ন্ত্রণের উপায় সম্পর্কে জানানো হয়।বেকিং সোডা ও বেবি পাউডার

হাতের তালুতে ঘাম হওয়া কমাতে বেকিং সোডা ও বেবি পাউডার বেশ কার্যকর। এক্ষেত্রে কুসুম গরম পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে ১০ মিনিট হাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। বেকিং সোডার ক্ষারীয় উপাদান তালুর ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে হাত শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বেবি পাউডার দুর্গন্ধ দূর করতে কাজ করে।

টমেটোর রস

টমেটোর রস ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। এটি ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে আর ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন একবার টমেটোর রস পান করুন। এক সপ্তাহ পর খেয়াল করবেন তালুতে ঘাম হওয়া কমে গেছে। সাধারণত খনিজ বা ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে ঘাম বেশি হয়। আর টমেটোতে আছে পটাশিয়াম ও ম্যাগনিসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান। তাই নিয়মিত টমেটোর রস পান করলে হাতের তালু থাকবে সতেজ ও শুষ্ক।

জিঙ্ক

জিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ যা স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া ঘাম এবং দুর্গন্ধ রোধ করতে জিঙ্ক বেশ কার্যকার। এক্ষেত্রে সহায়ক খাবার হিসেবে ডাক্তারের পরামর্শে দিনে ৩০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম জিঙ্ক ট্যাবলেট খেতে পারেন। অথবা প্রতিদিন সকালে জিঙ্ক অক্সাইড পাউডার হাতের তালু ঘষলেও উপকার পাওয়া যাবে।

পাশাপাশি কপার সমৃদ্ধ খাবার খেতে ভুললে চলবে না কারণ জিঙ্ক শরীরে কপারের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

রোজমেরি

রোজমেরি একটি ভেষজ উপাদান। যা স্নায়ুতন্ত্রের উপর কার্যকর‌ভাবে প্রভাব ফেলে। আর স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণে থাকলে ঘামের পরিমাণও কম হয়। তাছাড়া রোজমেরি হালকা সেডাটিভ হিসেবেও পরিচিত। সাধারণত উত্তেজিত হলেই ঘাম বেশি হয়। তাই ঘামের সমস্যা কমাতে শান্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।

সাধারনত অ্যারোমাথেরাপির তেল, মোমবাতি, শ্যাম্পু ইত্যাদি পণ্যে রোজমেরি ব্যবহার করা হয়। রোজমেরি ইসেনশল অয়েল সঙ্গে রাখতে পারেন, হাত ঘামা শুরু হলেই এই তেলের গন্ধ নিন, কাজে দেবে।

জেনে নিন ইসুবগুলের ভুষির ১১টি উপকারিতা?

ইসুবগুলের ভুষি তৈরি হয় Plantago Ovate গাছের বীজ থেকে। এটি একটি প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ। প্রতি ১০০ গ্রাম ইসুবগুলের ভুষিতে রয়েছে ৭১ গ্রাম দ্রবণীয় ডাইটারি ফাইবার।
১। কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করেঃ ইসুবগুলের ভুষি পাকস্থলীতে পানির সংস্পর্শে আসা মাত্র জেল তৈরি করে ও স্টুলের ভলিউম বৃদ্ধি করে কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করে।
২। পেটের সমস্যা দূর করেঃ পাকস্থলী ঠাণ্ডা বা শীতল রাখতে ও হজমের সমস্যা দূর করতে ইসুবগুলের তুলনা নেই। পেটব্যথার উপশম করে ইসুবগুলের ভুশির শরবত। এছাড়াও আই বি এস এর সমস্যা সমাধানে ভাল ফল দেয় ইসুবগুলের ভুষি। যারা আমাশয়ে ভুগছেন, তাদের জন্যও ইসবগুল ভালো। যারা আমাশয়ে ভুগছেন, তাদের জন্যও ইসবগুল ভালো।
৩। ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ আহার গ্রহণের ৩০ মিনিট পূর্বে ১০ গ্রাম ইসুবগুলের ভুষি এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খেলে, খাওয়ার সময় অতিরিক্ত খদ্য গ্রহণের ইচ্ছা প্রশমিত করে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রনে থাকে।
৪। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ ইসুবগুলের ভুষি একটি হাইপোকোলেস্টেরলিক ফুড, যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের (HDL) পরিমাণ কমায় ও ভাল কোলেস্টেরলের (HDL) পরিমাণ বাড়ায়। এছাড়াও এটি রক্তে ট্রাই-গ্লিসারাইডের পরিমাণ কমায়। ফলে হৃদরোগ ঝুঁকি কমে।
৬। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখেঃ ইসুবগুলের মাত্রাধিক দ্রবণীয় ডাইটারি ফাইবার আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্রের খাদ্য শোষণ ভিলাইয়ের উপর এক জালকের সৃষ্টি করে ফলে ধীরে ধীরে রক্তে গ্লুকোজ শোষিত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে থাকে।
৭। ডাইরিয়া কমাতেঃ ডাইরিয়ার সময় ইসুবগুলের ভুষি ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে অতিরিক্ত পানি শুষে নেয় ও স্টুলকে ঘন করে ও বারা বার টয়লেটে যাওয়া থেকে বিরত রাখে।
৮। অর্শরোগেঃ কোষ্ঠবদ্ধতা অর্শরোগের প্রধান কারণ। তাই অর্শরোগীরা নিয়মিত ইসুবগুলের ভুষি খেলে ভাল উপকার পাবেন।
৯। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়াঃ যেকোনো কারণে প্রস্রাব হলুদ হয়ে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হলে, ইসবগুলের ভুসি তা সারাতে সাহায্য করে।
১০। যৌনতা বৃদ্ধি করতেঃ প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধের সাথে মধু ও ইসুবগুলের ভুষি মিশিয়ে শরবত তৈরি করে খেলে যৌনতা বৃদ্ধি পায়।
১১। হাত পা জ্বালাপোড়াঃ মাথা ঘোরা বা হাত- পা জ্বালাপোড়া হলে এক গ্লাস আখের গুড়ের শরবতের সাথে ইসবগুলের ভুসি মিশিয়ে খেলে ভাল উপকার পাওয়া যায়।

জেনে নিন বাংলাদেশের শীর্ষ দশ জন ধনী ব্যক্তিত্ব?

যদিও বাংলাদেশ একটি ছোট্ট দেশ তারপরও এই দেশের রয়েছে অনেক ক্ষমতাধর এবং বিপুল ধনী ব্যাক্তিবর্গ। যারা নিজ নিজ কর্ম ক্ষেত্রের দ্বারা এই দেশকে অনেক বড় স্থানে নিয়ে যেতে পেরেছেন। চলুন কয়েকজন শীর্ষ ধনী ব্যাক্তির সাথে পরিচিত হওয়া যাক।

তিনি প্রিন্স মূসা নামে পরিচিত। তাকে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি বাণিজ্যের অগ্রদূত বলা হয়। তিনি ড্যাটকো গ্রুপের এর মালিক। তিনি প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ডলারের মালিক।

১। মূসা ইবনে সমসেরঃ

তিনি প্রিন্স মূসা নামে পরিচিত। তাকে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি বাণিজ্যের অগ্রদূত বলা হয়। তিনি ড্যাটকো গ্রুপের এর মালিক। তিনি প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ডলারের মালিক।

২। সালমান এফ রহমানঃ

বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মালিক। তিনি প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক ।

৩। আহমেদ আকবর সোবহানঃ

তিনি হচ্ছেন বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মালিক। তিনি প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক ।

৪। এম এ হাশেমঃ

তিনি পারটেক্স গ্রুপ ও ইউসিবিএল ব্যাংকের চেয়ারম্যান । তিনি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক ।

৫।আজম জে চৌধুরীঃ

তিনি ইস্ট-কোস্ট গ্রুপের মালিক, প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টের সোল এজেন্ট । তিনি প্রায় ৪১০ মিলিয়ন ডলারের মালিক ।

৬। গিয়াস উদ্দিন আল মামুনঃ

তিনি তারেক জিয়ার বন্ধু। তিনি রিয়েল স্টেট, হোটেল ও মিডিয়া ব্যবসায়ী।

৭। রাগিব আলীঃ

তিনি চা উৎপাদন ব্যাবসায় সফল একজন ব্যাবসায়ী।তিনি সাউথ ইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান। তিনি প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক ।

৮। শামসুদ্দিন খানঃ

তিনি একে খান এন্ড কোম্পানি লিঃ-এর চেয়ারম্যান এবং ডিরেক্টর । তিনিও প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক ।

৯। ঈকবাল আহমেদঃ

তিনি সিলেটের একজন ব্যাবসায়ী। সামুদ্রিক খাবার ব্যবসায় তিনি সফল। তিনি সীমার্ক গ্রুপ লিবকো ব্রাদার লিঃ-এর চেয়ারম্যান এবং ডিরেক্টর । তিনি প্রায় ২৫০-২৯০ মিলিয়ন ডলারের মালিক ।

১০। সাইফুল ইসলাম কামালঃ

তিনি নাভানা লিঃ ও নাভানা সিএনজি লিঃ-এর চেয়ারম্যান এবং ডিরেক্টর । তিনিও প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ডলারের মালিক ।

লম্বা হওয়ার জন্য ৭টি খাবার দরকার জেনে নিন কি?

মানুষের লম্বা হওয়ার ব্যপারটা পুরোপুরি জিনগত। চিকিৎসকদের মতে, একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত আমাদের দেহের বৃদ্ধি ঘটে। তবে এ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে খাবার। পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক বৃদ্ধি ঘটে না। কোন খাবার দেহের বৃদ্ধি অর্থাৎ লম্বা হতে সহায়তা করে, আসুন জেনে নিই-
১. আপেল: আপেলে প্রচুর পরিমান ফাইবার ও পানি থাকে, যা বাচ্চাদের লম্বা হতে সাহায্য করে।
২. স্যুপ: স্যুপ স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগী খাবার। এর মধ্যে থাকা ক্যালোরি ক্ষুধাবর্ধক। স্যুপ খেলে তাই খাবার খাওয়ার প্রবনতা বেড়ে। যা দেহের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে।

৩. ডার্ক চকোলেট: বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের জন্য সাধারণ চকলেট ক্ষতিকর। তবে ডার্ক চকোলেট তাদের লম্বা হতে সহায়তা করে।

৪. ডিম: ডিম একটি সুষম খাদ্য। এতে প্রচুর পরিমান প্রোটিন ও ভিটামিন রয়েছে, যা শিশুর বৃদ্ধিতে সহায়ক।

৫. মটরশুটি, ছোলা ও মুসুর ডাল: ডাল-জাতীয় এ তিন খাবারে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, লৌহ, অ্যান্টি অক্সিডেন্টস ও ভিটামিন বি রয়েছে, যা কোষের বিভাজন ঘটিয়ে শরীরের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে।

৬. বাদাম: বাদাম স্বাস্থ্যের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। বাদামে থাকা বিভিন্ন প্রোটিন ও ভিটামিন দেহে বিভিন্ন পুষ্টি যোগায় ও লম্বা হতে সহায়তা করে।

৭. আভাকাডো: আভাকাডো দেহে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে, যা লম্বা হওয়ার জন্য সহায়ক। সূত্র: হেলথ.কম।

প্রাকৃতিক উপায়ে দূর করুন গ্যাস্ট্রিক জেনে নিন কিভাবে?

কমবেশি সকলেই গ্যাস্ট্রিকের সাথে পুরিচিত। একেবারে ‘চিরতরে গ্যাস্ট্রিকের যন্ত্রণার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে শুধু খাদ্যাভাস নয়, দৈনন্দিন জীবনেও ছোট-খাটো কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। ‘আমার গ্যাস্ট্রিক বা গ্যাস্ট্রাইটিসের সমস্যা নেই’ এ কথা কেউ বলতে পারবেন। কেউ কেউ নিয়মিত, কেউ বা মাঝে মধ্যে এ সমস্যায় ভোগেন৷

কেন এই সমস্যা হয় এবং খাওয়ার পর গ্যাস বা অম্বলকে কীভাবে এড়ানো যায় তার জন্য কার্যকরী কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। কোলনের ইন্টারনাল মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়োর্গেন স্ল্যুইটারের পরামর্শ অনুযায়ী

খাবার ৬ বেলায় খান: আপনি তিন বেলার খাবারকে ভাগ করে ছয়বার খান৷ তেলে ভাজা খাবার, অতিরিক্ত ঝাল, চর্বি, মসলা, মিষ্টি, অর্থাৎ যেসব খাবার হজম করতে সমস্যা হয়, সেগুলো খাবার তালিকা থেকে আস্তে আস্তে কমিয়ে দিয়ে হালকা খাবার খান৷ যেমন আপনার খাবারের তালিকায় থাকতে পারে মাছ, অল্প মাংস, সবজি, আলু ইত্যাদি৷ এছাড়া খালি পেটে ফলের রস বা টক জাতীয় খাবার একেবারেই নয়৷

খাবার উপভোগ করুন: পরিমাণে অল্প খাবার একটু ধীরে ধীরে ভালো করে চিবিয়ে খান৷ দুপুরে খাওয়ার পর পরই ঘুমানো উচিত নয়, কারণ এতে খাবার আবার পাকস্থলীতে ফিরে আসতে পারে৷ বরং হাতে সময় থাকলে খাবার পর একটু হাঁটা যেতে পারে, যা খাবার হজম এবং মলত্যাগে সহায়তা করে থাকে৷

বুঝে পান করুন: পিপাসা মেটাতে পানি এবং হালকা চা পান করতে পারেন৷ তবে দিনে কম পক্ষে দুই লিটার পানি পান করা উচিত, যাতে খাবার পাকস্থলীতে ভালো করে মিশে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারে৷ কফি বা অ্যালকোহল যতটা সম্ভব কম পান করলেই ভালো৷ তবে শুধু খাবার নয়, জল পান করার দিকেও কিছুটা গুরুত্ব দিতে হবে৷

ঢিলেঢালা পোশাক: খুব টাইট জিন্স বা কোমরের বেল্ট বেশি টাইট করে বাঁধবেন না৷ কারণ টাইট বেল্ট পেটে চাপ দেয়, যার ফলে টক ঢেকুর উঠতে পারে৷ কাজেই একটু আরামদায়ক বা একটু ঢিলে কাপড়-চোপড় পরাই স্রেয়৷

নিয়মিত হাঁটাচলা করুন: হাঁটা-চলার কোনো বিকল্প নেই’ এ কথা কম-বেশি আমরা সকলেই জানি৷ অতিরিক্ত ওজনের কারণে পেটে চাপ পড়ে এবং হাঁটাচলা না করায় মলত্যাগ করার পথে বাঁধা সৃষ্টি হয়৷ তাছাড়া পেটে খাবার জমে থাকা মানেই অস্বস্তি বোধ এবং সে কারণে ওজন কমানো বা ওজন ঠিক রাখাও সম্ভব হয় না৷ ব্যায়াম এবং হাঁটাচলা করলে শরীর থাকে হালকা থাকে, অন্ত্রও থাকে সক্রিয় আর গ্যাসও হয় কম৷

বালিশটা একটু উঁচু করে ঘুমাবেন: গ্যাসট্রিক বা অম্বলের সমস্যা সাধারণত রাতে বেলায় হয়৷ তাই বালিশটা একটু উঁচু করে এবং শরীরের ওপরের দিকটাও একটু উঁচুতে তুলে ঘুমাবেন৷ এতে গ্যাসট্রিক অ্যাসিড ওপরে উঠতে পারে না৷ বাঁদিকে কাত হয়ে ঘুমালেও পেটে চাপ কম পড়ে৷ তাছাড়া রাতের খাবার ঘুমাতে যাওয়ার তিন ঘণ্টা আগে খেলে খাবার হজম করতে আর কোনো সমস্যা হয় না৷

আঁশযুক্ত খাবার: ডাক্তারি ভাষায় টক খাবার বলতে বোঝায় মুরগির মাংস, মাছ, ভাত, মসুরের ডাল ইত্যাদি৷ এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর এসিড হতে পারে৷ তাই আলু, রুটি, সিম, মটরশুটি, মুগের ডাল, কলাইয়ের ডাল ইত্যাদি খাবার ‘টক’ খাবারের সাথে মিশিয়ে খেলে অম্বলের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়৷ এছাড়া প্রতিদিন খাবারের তালিকায় সামান্য আলু সেদ্ধ বা আলুর তরকারি থাকতে পারে৷ আঁশযুক্ত খাবারের কথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে৷

স্ট্রেসকে দূরে রাখুন: স্ট্রেস বা মানসিক চাপের সঙ্গে রয়েছে পেটের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক৷ তাই যে কোনো সংঘাত এড়িয়ে যতটা সম্ভব স্ট্রেস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন৷ হালকা খাবার, যথেষ্ট হাঁটাচলা, কিছুটা বিশ্রাম – এভাবেই পেট বা অন্ত্রকে রক্ষা করতে, গ্যাসট্রিককে প্রতিরোধ করতে পারেন৷

ধূমপান পরিহার করুন: স্ট্রেস বা মানসিক চাপের ফলে পেটে অ্যাসিড প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় – সে কথা আমরা অনেকেই জানি৷ স্ট্রেসের কারণে অনেকে ধূমপান করেন৷ কিন্তু নিকোটিন অন্ত্রের খাবার মলদ্বারের রাস্তায় যে পথ দিয়ে যায়, সেটিকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে৷

এছাড়া স্ট্রেস হরমোন হজম শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় অসুবিধার কারণে পেটে অ্যাসিড উৎপাদন হয়, কাজেই আর ধূমপান নয়!