যে যত বেশি শিক্ষিত সে তত বেশি নির্লজ্জ !

যে যত বেশি শিক্ষিত সে তত বেশি
নির্লজ্জ ! সে তত বেশি অসভ্য !
** কেন বললাম..??
—–কারণ
** আমি কখনো দেখিনি-গ্রামের একটা
অশিক্ষিত
মেয়ে অর্ধ নগ্ন জামা-কাপড় পড়ে
রাস্তায়
চলাফেরা করতে ।। কিন্তু – আমি অসংখ্য
শিক্ষিত
মেয়েকে দেখেছি অর্ধনগ্ন হয়ে
লোকালয়ে ঘুরতে ।
** আমি কখনো দেখিনি পড়াশোনা
না জানাএকটা ছেলে গার্লফ্রেন্ডের
জামার ভেতরে হাতদিয়ে রাস্তায় হাটতে
।। কিন্তু
অসংখ্য শিক্ষিত ছেলেকে দেখেছি
এইনির্লজ্জ
দৃশ্যে।
** আমি কখনো শোনিনি অশিক্ষিত কোন
ছেলে মেয়ের সেক্স স্ক্যান্ডাল বের
হয়েছে ।। কিন্তু শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের
এই অসভ্যকার্য আমরা প্রতিনিয়ত শোনছি।
** আমি কখনো শোনিনি গ্রামের
অশিক্ষিত ১২-১৩ বছরের ছেলে মেয়ে
হোটেলে রাত কাটাতে গিয়েছে ।।
** আমি কখনোই শোনিনি গ্রামের কোন
অশিক্ষিত কৃষক অসংখ্য মেয়েদের সতিত্ব
নিয়ে
খেলা করতে ।। কিন্তু শিক্ষিত পরিমলের
কথা
আমরা সবাই জানি ।
** আমি কখনো শোনিনি একটি অশিক্ষিত
মেয়ে
তার হাত খরচার জন্য দেহ বিক্রি করেছে
।। কিন্তু –
ইউনিভারসিটি কলেজের বেহায়াদের
কথা আমরা সবাই
শোনেছি ।।
** আমি কখনো শোনিনি গ্রামের কিছু
অশিক্ষিত
ছেলে মেয়ে ল্যাংটা ছবি বানাতে গিয়ে
ধরা
খেয়েছে ।।
* এইবার প্রশ্ন শুধু একটা বলুন অসভ্য এবং
নির্লজ্জ
কারা??
এটার নাম ই কি শিক্ষিত সমাজ?
এটার নাম ই কি সভ্যতা?
কেউ কেউ বলে ‘তাহলে কি দেশ থেকে শিক্ষা তুলে দিলে ভালো হবে?
আমি বলি কেনো শিক্ষা তুলে দিবে?
প্রতিটা স্কুল কলেজে যদি ধর্মিয় শিক্ষা -বোরকা ‘হিজাব বাধ্যতা মূলক করা হতো’আর ছেলে মেয়েদের ওপেন চলাচল বন্ধ করে দেয়।তাহলে হয়তো কিছু কিছু শিক্ষিত অসভ্য মানুষ কিছুটা সভ্য হতো।

আমি কথাগুলো সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলিনি ।
শুধু যারা এই সব করে তাদের বলছি ।

আরে শিক্ষা অর্জন করো ঐ শিক্ষা -যে শিক্ষা মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।
দুনিয়া ও আখিরাত সুন্দর করে-
সমাজের মানুষ তাকে ভালো বলবে।
সবার কাছে সম্মান পাবে।

আর হমম কিছু কিছু মা ও বাবার উদ্দেশ্যে বলছি।
সন্তানের খুজ খবর নেনতো ঠিকঠাক ।কি করে কোথায় যায়?
কি ভাবে চলাফেরা করে?
ও মা ও বাবা তোমরা কি জানোনো -ছেলেমেয়েদের জন্যই তোমরা অপরাধ না করেও অপরাধী হবে।এদের জন্যই তোমাদের কে জাহান্নামে দিবে।
কেনো তোমরা ছেলে মেয়ের জন্য শাস্তি ভোগ করবে?
সময় থাকতে তোমরা তোমাদের ছেলে ‘মেয়েকে
বুঝাও কোন কাজ করলে ভালো হবে -কোনটা করলে খারাপ ।
ভালো কাজের আদেশ এবং খারাপ কাজের নিষেধ করো।
আর ভাই বোনদের উদ্দেশ্যে বলছি ।
তোমরা কি চাও – নিজের কঠিন পরিস্থিতি ও মা বাবার শাস্তি।
আশা করি কোনো ছেলে কিংবা মেয়েরা
নিজের _ এবং মা বাবার খারাপ টা চায় না।

ওকে ‘
পরিশেষে সবাইকে বলতে চাই ।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ো।
হালাল হারাম মেনে চলো’
আল্লাহর আদেশ নিষেধ- নবীর সুন্নত অনুযায়ী জীবন গড়ো'”
তবেইতো জীবন সুন্দর ও সার্থক হবে।

★#বিঃদ্রঃ- পোষ্টটি কেমন লাগল?
আপনার মূল্যবান লাইক ও কমেন্ট দিয়ে জানাতে ভুলবেন না।
পোস্ট ভাল লাগলে #শেয়ার_করবেন

যে ম্যাচের দাম ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি জেনে নিন কিভাবে?


ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা আকর্ষণ ‘ম্যানচেস্টার ডার্বি’ মানে ম্যানচেস্টারের দুই বড় দল ইউনাইটেড ও সিটির লড়াই। সাম্প্রতিক সময়ে প্রিমিয়ারের সেরা এই দুই ক্লাব উপহার দিয়েছে দারুণ উপভোগ্য কিছু লড়াই। এই দুই ক্লাবে আছেন দারুণ কিছু ফুটবলার। দুই ক্লাবের ডাগআউটও আলোকিত করে আছেন এই মুহূর্তে ফুটবল দুনিয়ার অন্যতম সেরা দুই কোচ—হোসে মরিনহো ও পেপ গার্দিওলা। তবে ইউনাইটেড ও সিটির ফুটবলারদের সম্মিলিত মূল্য আপনার চোখ কপালে তুলতেই পারে।

এই মৌসুমে দল ঢেলে সাজাতে গিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি রক্ষণভাগ গড়েছেন পেপ গার্দিওলা। আর মরিনহো তো সব সময়ই খরুচে দল বানাতে সিদ্ধহস্ত। রোববার রাতের ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড়দের মোট বাজারমূল্য ৩০১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড, বাংলাদেশি টাকায় যা ৩ হাজার ৩২২ কোটি টাকা প্রায়। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়দের দাম দাঁড়ায় ৩৫৪.৯ মিলিয়ন পাউন্ড, টাকায় ৩ হাজার ৯১২ কোটি টাকা প্রায়। মানে সেদিন ‘মাত্র’ ৬৫৬.৩ মিলিয়ন পাউন্ডের দল নিয়ে খেলেছে দুই দল। ফুটবল ইতিহাসে এক ম্যাচে দুই দলের মোট মূল্য এতটা এর আগে কখনোই দেখা যায়নি। একটি ম্যাচের দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা প্রায়! ভাবা যায়!

দুই দল মিলিয়ে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড রোমেলু লুকাকু। এই মৌসুমের শুরুতেই ৯০ মিলিয়ন পাউন্ডে এভারটন থেকে ইউনাইটেডে এসেছেন তিনি। ভাগ্যের কী নিদারুণ পরিহাস, ম্যানচেস্টার সিটির দুই গোলেই ‘অবদান’ রয়েছে ম্যাচের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের। তাতে নিজ দলের হারও নিশ্চিত হয়েছে। সবচেয়ে সস্তা খেলোয়াড়ও ইউনাইটেডের, দুই তরুণ তুর্কি মার্কাস রাশফোর্ড ও জেসে লিনগার্ড দুজনই যুব একাডেমি থেকে উঠে আসায় তাঁদের বাজারমূল্য প্রায় শূন্য।

টবলের বাজার হঠাৎ করেই বদলে গেছে ভীষণ। রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে বার্সেলোনা থেকে মাত্র একজন খেলোয়াড়ই (নেইমার) কিনেছে পিএসজি। সে তুলনায় ইউনাইটেডের ৩০১.৪ কিংবা সিটির ৩৫৪.৯ মিলিয়ন পাউন্ডের দল নিশ্চয়ই খুব বেশি নয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ডিফেন্ডার বেঞ্জামিন মেন্ডিকে কিনলেও রোববার তাঁকে বেঞ্চেও জায়গা দেননি গার্দিওলা। তাতে অবশ্য খুব ক্ষতি-বৃদ্ধি হয়নি এই স্প্যানিশ কোচের। ২-১ গোলের জয় নিয়ে ইংলিশ লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বেশ জাঁকিয়ে বসেছে সিটি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউনাইটেডের চেয়ে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে গার্দিওলার শিষ্যরা। সূত্র: সকারওয়ে, ট্রান্সফার মার্কেট।

পজিশন

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

ম্যানচেস্টার সিটি

গোলরক্ষক

ডেভিড ডি গিয়া (২১ মিলিয়ন)

এডারসন (৩৭ মিলিয়ন)

ডিফেন্ডার

ক্রিস স্মলিং (১২ মিলিয়ন)

কাইল ওয়াকার (৫০ মিলিয়ন)

ডিফেন্ডার

মার্কোস রোহো (১৮ মিলিয়ন)

নিকোলাস ওটামেন্ডি (৩৩ মিলিয়ন)

ডিফেন্ডার

অ্যাশলি ইয়াং (১৬ মিলিয়ন)

ভিনসেন্ট কোম্পানি (৬.৭ মিলিয়ন)

ডিফেন্ডার

আন্তোনিও ভ্যালেন্সিয়া (১৮ মিলিয়ন)

ফাবিয়ান ডেলফ (৮ মিলিয়ন)

মিডফিল্ডার

অ্যান্ডার হেরেরা (২৮.৮ মিলিয়ন)

ডেভিড সিলভা (২৪ মিলিয়ন)

মিডফিল্ডার

নেমানিয়া ম্যাটিচ (৪০ মিলিয়ন)

ফার্নান্দিনহো (৩০ মিলিয়ন)

মিডফিল্ডার

জেসে লিনগার্ড (০)

কেভিন ডি ব্রুইনা (৫৪.৫ মিলিয়ন)

ফরোয়ার্ড

মার্কাস রাশফোর্ড (০)

রহিম স্টার্লিং (৪৯ মিলিয়ন)

ফরোয়ার্ড

অ্যান্থনি মার্শিয়াল (৫৭.৬ মিলিয়ন)

লেওর‍্য সানে (৩৭ মিলিয়ন)

ফরোয়ার্ড

রোমেলু লুকাকু (৯০ মিলিয়ন)

গ্যাব্রিয়েল জেসুস (২৮ মিলিয়ন)

মোট

৩০১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড

৩৫৪.৯ মিলিয়ন পাউন্ড

 

জেনে নিন, যে সকল লোকের স্বপ্ন সত্য হয় বেশি

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দিন যত যেতে থাকবে, কিয়ামত নিকটে হবে, মুমিনদের স্বপ্নগুলো তত মিথ্যা হতে দূরে থাকবে। ঈমানদারের স্বপ্ন হল নবুওয়তের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, তোমাদের মধ্যে যে লোক যত বেশী সত্যবাদি হবে তার স্বপ্ন তত বেশী সত্যে পরিণত হবে।

এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম :

এক. মুমিনের জীবনে স্বপ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেয়ামত যত নিকটে আসবে ঈমানদারের স্বপ্ন তত বেশী সত্য হতে থাকবে।

দুই. ঈমানদারের জীবনে স্বপ্ন এত গুরুত্ব রাখে যে, তাকে নবুওয়তের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ বলা হয়েছে।

তিন. মানুষ যত বেশী সততা ও সত্যবাদিতার চর্চা করবে সে ততবেশী সত্য স্বপ্ন দেখতে পাবে।

চার. যদি কেউ চায় সে সত্য স্বপ্ন দেখবে, সে যেন সৎ, সততা ও সত্যবাদিতার সাথে জীবন যাপন করে।

“ ম্যাডাম! ঐখানে যত বেশি ঘষবেন! ঐটা ততই বাড়বে!

ছোট্র বাচ্চাদের ক্লাসে ঢুকে শিক্ষিকা দেখলেন, ব্লাকবোর্ডে ছোট করে ‘বালের এর ক্লাশ’ এই লাইনটি লেখা।

ভীষণ রেগে গিয়ে, তারাতারি করে সেটা ডাস্টার দিয়ে ঘষে মুছে দিয়ে শিক্ষিকা বললেনঃ ‘কে লিখেছে এটা?’

কিন্তু কেউ উত্তর দিলো না।
পরদিন আবার ক্লাসে একই কান্ড, এবার একই লাইনটি আরেকটু বড় করে লেখা।

আবারও ক্ষেপে গিয়ে শিক্ষিকা বললেনঃ ‘কে লিখেছে এটা?’

এবারো কেউ উত্তর দিলো না।
শিক্ষিকা আবার সেটা ডাস্টার দিয়ে ঘষে মুছে ফেললেন।

পরদিন আবার ক্লাসে সেই একই কান্ড, এবার লাইনটি আরো বড় করে লেখা।
এবার শিক্ষিকা কিছু না বলে শুধু ডাস্টার দিয়ে ঘষে মুছে দিলেন লেখাটা।

তার পরদিন আবারও একই কান্ড, এবার সম্পূর্ন ব্লাকবোর্ড জুড়ে ঐ একই লাইন লেখা।
শিক্ষিকা বহুকষ্টে মেজাজ ঠিক রেখে ডাস্টার ঘষে লেখাটা মুছলেন!

তার পরদিন ক্লাসে এসে শিক্ষিকা দেখলেন, ব্লাকবোর্ডে লেখাঃ ↓ ↓ ↓
.
.
.
.
.
.
. . . . . . . . “ ম্যাডাম! ঐখানে যত বেশি ঘষবেন! ঐটা ততই বাড়বে!

এখন গরুর দুধের চেয়ে, প্রসাবের দাম অনেক বেশি।

 

এখন গরুর দুধের চেয়ে প্রসাবের দাম অনেক বেশি। কারণ গরুর প্রস্রাব খেলে শরীরের অনেক রোগবালাই দূর হয়ে যায় বলে দুনিয়ার অনেক মানুষ এখন বিশ্বাস করছে |
গরুর প্রস্রাবের শরবতের পর গরুর গোবর ও মূত্র দিয়ে তৈরি সাবান, ফেসপ্যাক বাজারে আনতে চলেছে ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস।

জানা গেছে, মথুরার ফারাহ এলাকায় দীনদয়াল ধামের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল ল্যাবে গরুর গোবর, মূত্র থেকে তৈরি করা হচ্ছে ওষুধ, সাবান, ফেসপ্যাক। এখন দীনদয়াল ধাম ও আরএসএস-র ক্যাম্পে এই বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে।

আরএসএস-এর নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে তৈরি এইসব সামগ্রী খুব তাড়াতাড়ি অনলাইনে কিনতে পারবেন দেশটির আগ্রহী ক্রেতারা।

বাতের ব্যথার জন্য রয়েছে তেল, এছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে শ্যাম্পু, সাবান, আই ড্রপ, ছানির ওষুধ, টুথপেস্ট, ধূপ, সর্দিকাশির ওষুধ কাফসুধা ও ফেসপ্যাক। দীন দয়াল ধামের ডেপুটি সেক্রেটারি মণীশ গুপ্ত জানিয়েছেন, এইসব সামগ্রী বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের সঙ্গে কথা চলছে।

আরএসএস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সামগ্রী বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে। অনলাইনে বিক্রি করা শুরু হলে, সারা বিশ্বের লোক এসব সামগ্রী ব্যবহার করে উপকৃত হবেন।

লন্ডনের কিছু দোকানে গো-মূত্র বিক্রি হয়, যার খোঁজ পেয়েছে বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ক।
দক্ষিণ এশিয়ার দোকানুগলোতে ‘গো-মূত্র’ নামেই বিক্রি হয় এটি, যেখান থেকে একটি বোতলও কিনেছেন বিবিসির সংবাদদাতা।
তবে সেসব দোকানে অন্যসব সাধারণ খাবার বিক্রির পাশাপাশি এটি বিক্রি হয়।
একটি দোকানে ঢুকে বিবিসি সংবাদদাতা দেখেছেন যে শেলফে পাউরুটি বিক্রি হচ্ছে সেটিরই নিচের তাকে গো-মূত্র রয়েছে, বোতলে দাম লেখা।
ওই দোকানের একজন কর্মকর্তা বলছেন, “আমরা এটি রাখি কারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে আসেন এটি কিনতে। এটি তাদের ধর্মীয় আচার-আচরণের সাথে জড়িত। একটি হিন্দু পরিবারে একটি শিশু জন্মের পর যে পূজা করা হয়, সেই পূজা অনুষ্ঠানে শিশুটির ‘শুভকামনায়’ অনেকে এই গো-মূত্র ব্যবহার করেন”।
শুধু যে দোকানেই এটি বিক্রি হচ্ছে তা নয়।

ওয়াটফোর্ডে অবস্থিত হরে কৃষ্ণ মন্দির, ভক্তিভেদান্ত মানর – এসব ধর্মীয় স্থাপনাগুলোরও ডেইরি ফার্ম রয়েছে যেখান থেকে তারা এই ‘গো-মূত্র’ উৎপাদন করে যেন পূজা সংশ্লিষ্ট সকল কাজে এটি ব্যবহার করা যায়।
মন্দিরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌরি দাস বলছেন, “আমরা সত্তরের দশক থেকে এই গো-মূত্র প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করে আসছি। দক্ষিণ এশিয়ানদের অনেকের কাছে এর বিরাট একটি চাহিদা রয়েছে। অনেকে এটিকে পূজার কাজে ব্যবহার করে। আবার অনেকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে। এমনকি কোনও জিনিস শুদ্ধ করার কাজেও অনেকে এই গো-মূত্র ব্যবহার করে।
এই মন্দিরেরই একজন সদস্য গো-মূত্র পান করার পর বিবিসি সংবাদদাতা এর স্বাদ জানতে চাইলে প্রদীপ বলেন, “এটি স্বাদে তিতা এবং আমার কাছে এটা ওষুধের মতো মনে হলো”।
দ্য ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সীর একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, “মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য গরুর মূত্র এভাবে বিক্রি করা অবৈধ। কিন্তু যদি বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য এটি ব্যবহৃত হয় যেমন একটি উদাহরণ হলো –ত্বকের ময়লা পরিস্কারে যদি এটি ব্যবহৃত হয় তাহলে অবশ্য একে খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হবেনা এবং খাদ্য আইনের মধ্যেও এটি পড়বেনা। কিন্তু এছাড়া অন্যসবক্ষেত্রেই আইনের ব্যবহার হবে”।
হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে গরুকে একটি পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যেসব দোকানে এই ‘গো-মূত্র’ বিক্রি হয় সেখানে দেখা যাবে বোতলের লেবেলের গায়ে হিন্দি ভাষায় লেখা যে এটি ‘গো-মূত্র’ এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যেই এটি বিক্রি হয়।
গৌরি দাস বলছিলেন “মানুষের খাদ্য হিসেবে আমরা ‘গো-মূত্র’ বিক্রি করিনা। এটা পূজারী এবং ভক্তদের জন্য – তাদের পূজার কাজে ব্যবহারের জন্য”।
মিস দাস এটাও বলেছেন “এটা নিয়ে যে সমালোচনা হচ্ছে সেটা আসলে কপটতাপূর্ণ”।
“আমি বুঝিনা গরুর লেজ ও জিহ্বা খেলে যদি কোনও সমস্যা না হয়, তাহলে মূত্র খেলে সমস্যা কোথায়”
স্থানীয় সরকারের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, ভোক্তারা যেন ক্ষতিকর রোগের শিকার না হন এজন্য খাদ্য বহির্ভূত পশু পণ্যগুলো লন্ডনে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এমনকি আমদানিকৃত পণ্যগুলোও ভালোভাবে যাচাইবাছাই করা হয়।
কিন্তু লন্ডনে গো-মূত্র বিক্রির বিষয়ে কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই ।
কিন্তু শীঘ্রই এ নিয়ে তদন্ত করা হবে বলে জানান সরকারি এই কর্মকর্তা

বেশি-বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে—আত-তাকাছুর

বেশি-বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে। যতক্ষণ না তোমরা কবরে পৌঁছে যাও।
না! তোমরা একদিন জানতে পারবে।
আবারো বলছি, না! তোমরা একদিন জানতে পারবে।
সত্যিই, তোমরা যদি নিশ্চিতভাবে জানতে কী ঘটবে।
তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখতে পাবে। আবারো বলছি, তোমরা অবশ্যই নিজের চোখে তাকে দেখতে পাবে।
তারপর, সেদিন সুযোগ-সুবিধাগুলোর ব্যাপারে তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞেস করা হবে। —আত-তাকাছুর

বেশি-বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে

“বন্ধুবান্ধব সব এতদিনে নিজের বাড়ি-গাড়ি করে ফেলেছে। আমি এখনও ভাড়াটিয়া বলে মানুষের কথা শুনছি। ওদের বাসায় বেড়াতে গেলে নিজেকে ফকির-ফকির মনে হয়। আর না। এবার বাড়ি কেনার ঋণটা নিতেই হবে।”

“অনেক হয়েছে, আর না। পুরনো গাড়িটা ফেলে দিয়ে এবার একটা নতুন গাড়ি কিনবোই। প্রতিবেশির বড় গাড়িটার পাশে আমার গাড়িটাকে একটা টেম্প্যু মনে হয়।”

“আমার পুরনো আমি-ফোনটা মানুষের সামনে বের করতে লজ্জা লাগে। সবাই যেন কেমন-কেমন করে তাকায়। আজকাল সবার হাতে আমি-ফোন ৭। পাশের বাড়ির কাজের মেয়েটার হাতেও আমার থেকে নতুন মডেলের ফোন!”

এই যে লোক দেখানোর প্রতিযোগিতার মানসিকতা—অন্যদের থেকে ভালো বাড়ি, গাড়ি কিনতে হবে। সব দামি ব্রান্ডের জিনিস ব্যবহার করি দেখাতে হবে—বেশি-বেশি পাওয়ার এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা হচ্ছে আত-তাকাছুর (التَّكَاثُر)।[১][৪]

একসময় আমরা অনেক কাটখোর পুড়িয়ে বাড়ি কিনি। মানুষকে গর্ব করে দেখাই নতুন কেনা দামি আসবাবপত্র, ঝকঝকে বাথরুম। কিন্তু কয়েক বছর না যেতেই সেই স্বপ্নের বাড়ির উপর থেকে মন উঠে যায়। বেড়াতে গিয়ে অন্যের বাড়ির আসবাবপত্র, বাথরুম দেখে আফসোস শুরু হয়। আবার হয়তবা একদিন শখের ব্র্যান্ডের গাড়ি কিনি। মানুষকে বলে বেড়াই, “এবার গাড়িটা কিনেই ফেললাম। বেশি না, মাত্র ৩৫ লাখ। সস্তায় পেয়ে গেছি, কী বলেন?” তারপর কয়েক বছর না যেতেই বন্ধুর নতুন গাড়ির সামনে সেটাকে লক্কড় মনে হয়। একসময় সবাইকে গর্ব করে দেখিয়ে বেড়ানো নতুন মোবাইল ফোনটা দুই বছর না যেতেই টেবিল থেকে সরিয়ে পকেটে লুকিয়ে রাখতে হয়। এত চেষ্টা করে এতসব পাওয়ার পরেও বেশিদিন প্রাপ্তির সুখ ধরে রাখা যায় না। শুরু হয় আবার প্রতিযোগিতার দৌড়।

আল-হা أَلْهَا হচ্ছে: কিছু একটা আমাদেরকে এমনভাবে ব্যস্ত রাখে যে, আমাদের যা করার কথা তা করতে আমরা ভুলে যাই। বিনোদন হচ্ছে লাহউ لَهْو , কারণ বিনোদন আমাদেরকে বাস্তবতা ভুলিয়ে রাখে। আমাদের যা করার কথা, তা না করে আমরা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় কাজে বুঁদ হয়ে থাকি। অনেকের বেলায় কাজ হয়ে গেছে লাহউ, কারণ যেটুকু কাজ করলে তার ভালোভাবে চলে যেত, সে তার দ্বিগুণ কাজ করছে তার নিজের বাড়ি, গাড়ি, দামি ফোন, বিদেশ বেড়াতে যাওয়ার জেদ পূরণ করার জন্য। কারও বেলায় লাহউ হয়ে গেছে মাস্টার্স, পিএইচডি ডিগ্রির পেছনে ছোটা। তার অমুক বন্ধু, তমুক আত্মীয় পিএইচডি করে ফেলল। অথচ সে একটা ব্যাচেলর্স ডিগ্রি নিয়ে অশিক্ষিত হয়ে বসে আছে? তাছাড়া এখন যে বেতন পাচ্ছে তা দিয়ে একটা মাত্র বাড়ি হবে। ছেলে-মেয়ের জন্য আলাদা বাড়ি, কয়েকটা জমি রেখে যেতে হবে না? —এই আরও বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতায় তার কাজ, পড়াশুনা তাকে ভুলিয়ে দিয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, তাকে কী ভুলিয়ে দিয়েছে?

আল্লাহ تعالى নির্দিষ্ট করে বলে দেননি তাকে কী ভুলিয়ে দিয়েছে। আরও বেশি পাওয়ার এই প্রতিযোগিতায় আমরা কী ভুলে বসে আছি, তা যেন আমরা নিজেরা চিন্তা করে বের করি।[১] মানুষ যেন দৌড়ানো বন্ধ করে একটু থামে। পেছনে ফিরে তাকায়। তাকিয়ে যেন দেখে সে কী সর্বনাশ করে ফেলেছে। তাহলে সে নিজেই বুঝতে পারবে সে কী ভুলে গেছে।

কেউ যখন আমাদেরকে বলে, “ভাই, চলেন না, নামাজ পড়তে যাই?” অথবা, “ভাই, কালকে আসেন না একসাথে কিছুক্ষণ কুর‘আন পড়ি, ইসলাম নিয়ে একটু পড়াশুনা করি?” অথবা, নামাজের পরে মুসল্লিরা যখন অনুরোধ করেন, “ভাই একটু বসবেন? কিছু জরুরি আলোচনা হবে। আপনার অনেক কাজে লাগবে।” — তখন আমরা বলি, “সরি ভাই, আজকে খুব ব্যস্ত আছি। আরেকদিন হবে।” —আমরা মনে করি যে, আমরা আসলে অনেক ব্যস্ত। আমাদের জরুরি কাজ আছে। অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় যে, এগুলো আসলে আমাদের আসল-কাজ, আসল-দায়িত্ব থেকে ভুলিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছু না। আমরা নিজেরাই এমন সব কৃত্রিম ব্যস্ততা, কৃত্রিম দায়িত্বের মধ্যে নিজেদেরকে জড়িয়ে ফেলেছি যে, খেয়াল করে দেখার সুযোগই পাচ্ছি না, আমাদের আসলে কী নিয়ে এবং কাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা উচিত ছিল। নিজেদের উপর চাপিয়ে দেওয়া এই সব কৃত্রিম মোহ সবার আগে আমাদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে আল্লাহকে تعالى। এগুলো হয়ে গেছে আল্লাহর تعالى থেকে আমাদেরকে দূরে রাখার ফাঁদ মাত্র।

বাবা-মা ভুলে গেছে সন্তানদের কথা। সন্তানেরা বড় আশা নিয়ে তাদের কাছে আসে একটু সময় পাওয়ার জন্য। কিন্তু তারপর, “আমার এখন কাজ আছে”, “আমার সামনে পরীক্ষা, পড়তে হবে” —এই সব শুনে মন খারাপ করে বার বার ফিরে যায়। কারও সন্তানেরা সপ্তাহে একদিন মাত্র বাবাকে দেখতে পায়, কারণ বাকিদিনগুলো বাবা সকালে চলে যায়, গভীর রাতে আসে। আরও বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতা এই বাবা-মা’দেরকে সন্তানদের অধিকার, সন্তানদের সঠিকভাবে বড় করার দায়িত্ব ভুলিয়ে দিয়েছে। এদের সন্তানেরা তাদের জন্য ভবিষ্যতে শান্তি এবং সওয়াবের উৎস না হয়ে, বরং একেটা টাইমবোম-এ পরিণত হচ্ছে। এখন শুধু ফেটে যাওয়ার অপেক্ষা। তখন হাজার কপাল চাপড়িয়েও তাদেরকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। তখন শুধুই আফসোস হবে, “হায়! যদি একটু বাচ্চাদের সময় দিতাম! তাদেরকে ইসলাম শেখাতাম, কুর‘আন পড়াতাম, নামাজ পড়তে ডাকতাম, শালীনতা শেখাতাম!” —তারপর বাকি জীবন শুধু আফসোস করে, মানুষের কটু কথা শোনা থেকে পালিয়ে বেড়াতে হবে।

কেউ আবার নিজের স্বাস্থ্যের কথা ভুলে গেছে। কাজের ব্যস্ততায়, পড়াশুনার চাপে কয়েকদিন পর পর ওষুধ খেয়ে নিজেকে কোনোভাবে ঠিক রাখতে হচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে, তত তার শরীর খারাপ হচ্ছে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। দেহ তেল-চর্বিতে ভরে যাচ্ছে। হার্টে কলেস্টরেল জমে ব্লক তৈরি হচ্ছে। আরও বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতা এদেরকে তাদের দেহের অধিকার ভুলিয়ে দিয়েছে। একদিন তাদের দেহ বিদ্রোহ করবে। তারপর তারা বাকি জীবনটা আফসোস করে ধুঁকে ধুঁকে পার করবে। হারানো স্বাস্থ্য ফিরে পাওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকবে না।

আবার কেউ দিনরাত নিজেকে বিনোদনে বুঁদ করে রেখেছে। প্রতিদিন এরা ঘণ্টাখানেক টিভি দেখে। ঘণ্টাখানেক মোবাইলে ফেইসবুক, চ্যাট, গল্প করে। তারপর কম্পিউটারে মুভি, কার্টুন, ভিডিও গেমে বুঁদ হয়ে থাকে। কয়েকদিন পর পর রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়। —এভাবে প্রতিমাসে শত শত ঘণ্টা এরা ব্যয় করে বিনোদনের পেছনে। এই বিপুল পরিমাণের সময় এরা কাজে লাগাতে পারত নতুন কিছু শিখে, নিজের কর্ম দক্ষতা বাড়িয়ে, নতুন যোগ্যতা অর্জন করে, নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিয়ে, আল্লাহর تعالى সাথে সম্পর্ককে সুন্দর করে, পরিবারকে সময় দিয়ে। কিন্তু না, বিনোদন এদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে জীবনে কী করলে আসলেই সত্যিকারের কিছু অর্জন হতো। কী করলে নিজের ভবিষ্যৎ নিরাপদ, সম্মানের এবং সুখের হতো। মাত্রাতিরিক্ত বিনোদন এদের দৃষ্টিকে ঘোলা করে দিয়েছে। এরা দেখতে পাচ্ছে না যে, সামনে এক গভীর খাঁদের দিকে এরা হেঁটে যাচ্ছে। আরেকটু পরেই এর ভেতরে পড়ে যাবে। তারপর বাকি জীবনটা সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য আফসোস করতে থাকবে। “হায়! একটু যদি ঠিকমতো পড়াশুনা করতাম! একটু যদি কাজ শিখতাম! বাবা-মা, সন্তানদের আরো সময় দিতাম! নামাজ পড়তাম, কুর‘আন পড়তাম!” —কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। ফিরে আসার আর কোনো উপায় নেই।

যতক্ষণ না তোমরা কবরে পৌঁছে যাও

কিছু মানুষের চোখ কোনোদিন খোলে না, যতক্ষণ না তারা কবরে পৌঁছে যায়। আবার কিছু মানুষের যখন এক পা কবরে চলে যাওয়ার অবস্থা হয়, তখন তারা উপলব্ধি করে সারাজীবন কী ভীষণ ভুল করে ফেলেছে। তখন আর নিজের জীবনে এবং কাছের মানুষদের জীবনে পরিবর্তন আনার ক্ষমতা অবশিষ্ট থাকে না। নিয়তি মেনে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে কবরে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকে না। তাদের সেই কান্না কেউ দেখতেও পায় না।

এই আয়াতে আল্লাহর تعالى শব্দ চয়ন লক্ষ্য করার মতো। আয়াতটির আরবির অর্থ আসলে “যতক্ষণ না তোমরা কবরে পৌঁছে যাও” নয়, বরং অর্থ হচ্ছে “যতক্ষণ না তোমরা কবরস্থান ঘুরতে যাও”।[১][৫] —কবর আমাদের স্থায়ী ঠিকানা নয়। যদি হতো তাহলে বিচারের দুশ্চিন্তা থাকত না। দুনিয়ার ভুলের মাশুল দেওয়ার দরকার হতো না। বরং কবর হচ্ছে কিছুদিনের জন্য ঘুরতে যাওয়া। তারপর একসময় সেখান থেকে আমাদেরকে বের করে ফেলা হবে। তখন শুরু হবে আসল বাস্তবতা। মানুষ সেদিন জানতে পারবে তার পৃথিবীর জীবনটা আসলে বাস্তবতা ছিল না, শুধুই একটা মায়া ছিল। একটা পরীক্ষা। আসল বাস্তবতা কেবল শুরু হলো বলে!

না! তোমরা একদিন জানতে পারবে। আবারো বলছি, না! তোমরা একদিন জানতে পারবে

সেদিন থেকে শুরু হবে মানুষের সত্যিকারের অস্তিত্ব। যেই অস্তিত্বের জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল। সেই অস্তিত্ব নিয়ে সে চিরকাল থাকবে। পৃথিবীর জীবনটা যে একটা সামান্য সময়ের পরীক্ষা ছিল, সেদিন মানুষ সেটা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করবে। ভীষণ লম্বা সময় ধরে সেই নতুন বাস্তবতা তার চোখের সামনে খুলতে থাকবে। শুরু হবে কঠিন, লম্বা এক বিচার পর্যায়। সেই প্রক্রিয়াটা এত লম্বা সময় ধরে হবে যে, পৃথিবীর ৭০-৮০ বছরের জীবনও তার কাছে তখন একদিন বা কয়েক ঘণ্টার সমান মনে হবে। সেদিন আমরা এক নতুন বিশ্বজগত, মহাবিশ্ব চলার নতুন সব পদ্ধতি, সময়-এর এক নতুন রূপ দেখতে পারবো।

সত্যিই, তোমরা যদি নিশ্চিতভাবে জানতে কী ঘটবে

হায়! মানুষ যদি জানত যে সেদিন কী হবে, তাহলে তারা আজকে এইভাবে নিজেদের জীবনটাকে শেষ করত না। কেউ যদি উপলব্ধি করত যে, কীভাবে সেদিন তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে মহাশক্তিমানের সামনে দাঁড় করানো হবে: প্রতিটা কাজের হিসেব দেওয়ার জন্য, তাহলে আজকে সে বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতায় অন্ধের মতো দিনরাত দৌড়াতো না। নিজেকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অর্থহীন কাজে ডুবিয়ে রাখত না। আরও টাকা, আরও সম্মান, আরও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় আল্লাহকে تعالى ভুলে থাকত না।

অবশ্যই তোমরা জাহান্নাম দেখতে পাবে। আবারো বলছি, তোমরা অবশ্যই নিজের চোখে তাকে দেখতে পাবে

প্রতিটি মানুষ জাহান্নামের ভয়ংকর রূপ, সেখানকার প্রচণ্ড শাস্তি নিজের চোখে দেখবে। শুরু হবে বিচার। কিছু মানুষ বিচারে হেরে যাবে। তাদেরকে তখন সেই ভয়ংকর জায়গায় ফেলে দেওয়া হবে। আর কিছু মানুষ বিচারের পর পার পেয়ে যাবে। আল্লাহ تعالى তাদের উপর দয়া করবেন। তাদেরকে ছেড়ে দেবেন।

আল্লাহ تعالى আমাদেরকে কল্পনা করতে বলছেন যে, আমরা প্রত্যেকে জাহান্নামের ভয়ংকর রূপ একদিন নিজের চোখে তাকিয়ে দেখবো। সেই ভীষণ দৃশ্য দেখে আমাদের কেমন লাগবে, সেটা যেন এখনি আমরা কল্পনা করি। কারণ আমরা যত গভীরভাবে কল্পনা করবো, আশা করা যায় আমাদের তত তাড়াতাড়ি হুশ ফিরবে। আমরা বুঝতে পারবো যে, দুনিয়াতে আমরা এমন সব কাজে ডুবে আছি, যেগুলো শুধুই আমাদেরকে সেইদিনের চরম বাস্তবতা থেকে ভুলিয়ে রেখেছে। আমাদের জলদি জেগে ওঠা দরকার।

তারপর, সেদিন তোমাদেরকে সুযোগ-সুবিধাগুলোর ব্যাপারে অবশ্যই জিজ্ঞেস করা হবে

সেদিন আমাদেরকে আন-নাঈম النَّعِيمِ অর্থাৎ যাবতীয় সুখ, আনন্দ, সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। আল্লাহ تعالى কাউকে মেধা দিয়েছেন। কাউকে স্বাস্থ্য দিয়েছেন। কাউকে সম্পদ দিয়েছেন। কাউকে আবার অফুরন্ত সময় দিয়েছেন। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে: যে যা নিয়ামত পেয়েছি জীবনে, সেটাকেই কাজে লাগানো। যাদের মেধা আছে কিন্তু টাকা-পয়সা নেই, তারা তাদের মেধাকেই কাজে লাগাবে ভালো কাজে। ইসলামের জন্য নিজে পড়াশুনা করবে, অন্যদের শেখাবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে, লেখালেখি করবে।

যাদের স্বাস্থ্য আছে, কিন্তু মেধা, টাকা-পয়সা নেই, তারা তাদের স্বাস্থ্য দিয়েই ইসলামের জন্য কাজ করবে। মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা বানাতে বিনামূল্যে পরিশ্রম দেবে। গরিবদের জন্য বাড়ি মেরামত করে দেবে। এলাকার উন্নয়নে কাজ করবে। নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।

যাদেরকে আল্লাহ تعالى অঢেল সম্পদ দিয়েছেন, তারা তাদের সম্পদ দিয়ে ইসলামের চর্চা, প্রসার, প্রচারে অর্থনৈতিকভাবে সবরকম সাহায্য করবে। মসজিদে টাকা দেবে, মাদ্রাসা বানিয়ে দেবে, এতিমখানা তৈরি করবে। গরিব আত্মীয়, এতিমদের ভরণপোষণ দেবে।

আর যাদের মেধা, স্বাস্থ্য, সম্পদ কিছুই নেই, আছে শুধুই সময়, তারা তাদের সময়কে কাজে লাগাবে নিজে ইসলাম শিখে এবং আশেপাশের মানুষকে ইসলামের দিকে ডেকে। তারা হয়ে যাবে সমাজের বিবেক। সমাজে ঘটে যাওয়া নিত্যনতুন অনাচার, অপসংস্কৃতির প্রবেশ, কিশোর-তরুণদের উচ্ছন্নে যাওয়ার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে কাজ করবে। ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে বোঝাবে, ফিরে আসতে বলবে। যেসব জায়গায় গিয়ে মানুষ অপকর্ম করে, সেখানে গিয়ে সশরীরে বাঁধা দেবে।

আল্লাহ تعالى যাকে যতটুকুই সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন, যা কিনা আল্লাহর تعالى আরও কাছে যাওয়ার জন্য সে কোনো না কোনোভাবে কাজে লাগাতে পারত, সেগুলোর ব্যাপারেই তাকে জবাব দিতে বলা হবে। দুনিয়াতে সে যত আরাম-আয়েসের উপকরণ পেয়েছে, যত বিনোদন করে গেছে, যতটুকু সময় সুখে থেকেছে, তার জন্য তাকে সেদিন জিজ্ঞাসা করা হবেই। লাতুসআলুন্না لَتُسْأَلُنَّ —দুই বার জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, জিজ্ঞেস করা হবেই হবে, কোনো ছাড় নেই। মানুষ কি সেগুলো পেয়ে আল্লাহর تعالى প্রতি কৃতজ্ঞ হয়েছিল? তারপর, কৃতজ্ঞতা দেখানোর জন্য কী করেছিল সে?

উপসংহার

সম্মান, সম্পদ, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি অর্জনে চেষ্টা করা দোষের কিছু নয়। দোষ হচ্ছে যখন তা আমাদেরকে আল্লাহর تعالى কথা ভুলিয়ে দেয়। আল্লাহর تعالى প্রতি অকৃতজ্ঞ করে দেয়। যখন সেগুলোর পেছনে ছুটতে গিয়ে ইসলাম ভুলে যাই। পরিবারকে ভুলে যাই। সন্তানদের ঠিকভাবে সময় দেই না। বাবা-মা’র সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখি না। সময়মত নামাজ পড়তে ভুলে যাই। সমাজের অন্যায়-অনাচার দেখে পাশ কাটিয়ে চলে যাই। নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকি। এলাকার এতিম, গরিবদের দিকে তাকাই না। আত্মীয়দের আবেদন উপেক্ষা করি। যখন আমাদের যাবতীয় চেষ্টা হয়ে যায় মানুষকে দেখানোর জন্য প্রতিযোগিতা। অন্যের থেকে নিজেকে সম্পদশালী বলে জাহির করার মানসিকতা। তখনি তা আমাদেরকে এক ভয়ংকর পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।

একারণে আমাদের লক্ষ্য হতে হবে: আমাদের এখন যা কিছুই আছে এবং যা কিছুই আমরা পাওয়ার চেষ্টা করছি, তার সবকিছুই আল্লাহকে تعالى খুশি করার জন্য পাওয়ার চেষ্টা করা। তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমাদের চেষ্টা এবং যোগ্যতাগুলো পরিবার, বাবা-মা, আত্মীয়, এতিমদের উপকারে লাগবে। ইসলামের প্রচার এবং প্রসারে অবদান রাখবে। তখনি আমরা বলতে পারবো যে, সেগুলো পেয়ে আমরা সত্যিই আল্লাহর تعالى প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখিয়েছিলা

মেকআপ করলে নম্বর বেশি পায় ছাত্রীরা!

মেকআপ করলে নম্বর বেশি পায় ছাত্রীরা!

পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেতে এবার সাহায্য করবে লিপস্টিক! এমনটাই দাবী করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা।  তারা এটিকে, ‘লিপস্টিক এফেক্ট’ নামে চিহ্নিত করেছেন।  তারা বলেছেন, এর প্রভাবে আত্মবিশ্বাস, আচরণ ও ব্যক্তিত্ব উন্নত হয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাময়িক পত্রিকায় এই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে এমন খবর।  গবেষকরা বলেছেন, মেকআপ করলে সংশ্লিষ্ট মহিলার মনের উপর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া 

 দেখা যায়।  তারা নিজেদের আরও আকর্ষণীয় মনে করেন।  এর ফলে তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।  একইসঙ্গে তাদের পড়াশোনাও ভালো হয়।  এবং পড়ায় মনোযোগী হওয়া যায়। 

আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্সের তিনটি দলে বিভক্ত করা হয়।  এবং তাদেরকে গবেষকরা, সাধারণ মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছিলেন।  এই পরীক্ষার আগে প্রথম দল ছাত্রীদের মেকআপ করতে বলা হয়, দ্বিতীয় দল ছাত্রীদের ভালো গান শোনানো হয় এবং তৃতীয় দলকে বলা হয় মানুষের মুখ আঁকতে।  যে দলের সদস্যরা গান শুনেছিলেন, তাদের পরীক্ষার ফল ভালো হয়।  তবে সেরা ফল করেন মেকআপ করা ছাত্রীরা। 

পকেটে দশ টাকার বেশি থাকলেই গ্রেফতার!

পকেটে দশ টাকার বেশি থাকলেই গ্রেফতার!

ভারতের বেশকিছু প্রাচীন আইন বাতিল হতে চলেছে। প্রাচীনই বটে। কারণ তাদের ব্যবহার এখন প্রায় অচল। ভারতের আধুনিকীকরণের পথে যা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নরেন্দ্র মোদি সরকার আইন সংস্কারের পথে হাঁটতে চাইছে। আর তাই বাতিল হতে চলেছে প্রায় ১২০০টি আইন। এছাড়াও তালিকায় যোগ হয়েছে আরও ১৮২৪টি আইন, যেগুলি বাতিলের খাতায় তোলা হয়েছে।  

দেশটির প্রশাসনের কাজ সুষ্ঠু ভাবে চালানোর জন্য যে মসৃণ ও বাধাহীন আইনের প্রয়োজন, এগুলির সবকটাই সে পথে অন্তরায়। তাই আইন বাতিল করার পথে খুব তাড়াতাড়িই হাঁটতে চলেছে মোদি সরকার। এরকম অসংখ্য আইনের মধ্যে একটি আইন বলছে, গঙ্গায় ফেরি চলাচলের ভাড়া কখনোই দুই আনার বেশি হতে পারবে না। আবার ১৮৭৮ সালের একটি আইন অনুযায়ী রাজস্ব দপ্তরকে না জানিয়ে যদি কোন নাগরিকের কাছে ১০ টাকার বেশি পাওয়া যায়, তাঁকে গ্রেফতার করতে হবে।

ভারতে কাজের সুবিধার্থে প্রায় ১০৩১টি আইনকে অচল বলে ঘোষণা করা হয়। বর্তমান সরকার এই কাজের উপর আরো জোর দিয়ে আইন বিভাগের আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরজন্য প্রয়োজনীয় বিলও তৈরি হয়েছে।

সৌদিতে দুইশর বেশি বাংলাদেশির দোকান পুড়ে ছাই

সৌদিতে দুইশর বেশি বাংলাদেশির দোকান পুড়ে ছাই

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাথা মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ ওই আগুনে দুইশর বেশি বাংলাদেশির দোকান পুড়ে গেছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে বাথা মার্কেটে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে বলে জানিয়েছেন সেখানকার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী হাসান তালুকদার। তিনি জানান, আগুন লাগার দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে মার্কেটের অধিকাংশ দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

হাসান তালুকদার আরো জানান, পবিত্র রমজান মাস ও আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ীরা। ভয়াবহ আগুনে দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অনেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী তাঁদের শেষ সম্বল রক্ষা করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বলে জানান এই প্রত্যক্ষদর্শী।